রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের এগারো বছর
২৫ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের ১১ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। আবারও ফিরে এসেছে শোকাবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি, দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় এক অধ্যায়। ২০০৯ সালের আজকের এই দিনে পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে (বর্তমান বিজিবি) ঘটে মর্মান্তিক ও নৃশংস এক ঘটনা। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সরকারিভাবে এ দিনটিকে পিলখানা হত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ২০০৯ সালের ওইদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বিডিআর দরবার হলে চলমান বার্ষিক (দরবার) নির্ধারিত সভায় একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক তাদের মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মহাপরিচালকসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যা ও তাদের পরিবারকে জিম্মি করে। পিলখানার চারটি মূল ফটকই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে। জন্ম নেয় ইতিহাসের এক বীভৎস ঘটনার। টানা ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান ঘটলেও ততক্ষণে বিদ্রোহী সৈনিকরা কেড়ে নেন ৫৭ জন দক্ষ সেনা কর্মকর্তার জীবন। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। ঘটনার পর পিলখানায় আবিষ্কৃত হয় গণকবর। যেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে যায় সারাদেশের মানুষ। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, নয় জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এদিকে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় (ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর) চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মামলার ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ আসে এ মামলার রায়ে। বিশ্বে আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে আসামির দিক থেকে এবং রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে বড় মামলা এটি। বিচারিক আদালতে রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে রায়ও ঘোষণা হয়। দীর্ঘদিন দেশি-বিদেশি মামলার রায় পর্যালোচনার পর হাইকোর্টের রায় লেখা শেষ হয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
২৫ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১১তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে সকাল ৯টায় শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। এছাড়াও আজ সকলে সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকল স্তরের সেনাসদস্যের উপস্থিতিতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
সততা-আনুগত্য ও শৃঙ্খলা একটি বাহিনীর পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি- রাষ্ট্রপতি
২৪ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নবীন সৈনিকদের ভালো গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সততা, আনুগত্য ও শৃঙ্খলা একটি বাহিনীর পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সৈনিকদের বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্দীপনা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ তোমরা যারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পরিবারভুক্ত হলে- তোমাদের চরিত্রে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটবে এবং লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। অনুষ্ঠানে ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকস স্থান অধিকারী মঈন উদ্দিন এবং অন্যান্য বিষয়ে সেরা সৈনিকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এর আগে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মাজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বেলা ১১টায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। আজ তোমরা দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা রেখে বাহিনীর সুনাম-সুখ্যাতি আরও বৃদ্ধি করবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমাড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর যাহিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেনাবাহিনী ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবার, নবীন সৈনিকদের অভিভাবকরা। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ প্যারেড কমান্ডার হিসেবে মনোজ্ঞ এ প্যারেড পরিচালনা করেন ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের অফিসার ইনচার্জ মেজর কাজী মনজুরুল ইসলাম এবং প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক বেগ আব্দুল্লাহ আল মাসুম। ৯৪তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে শুরু হয়। এ ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেয়া মোট ৫৪৪ জন রিক্রুটের ৪৯৫ জন পুরুষ এবং ৪৯ জন নারী রিক্রুট ছিলেন। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে সোমবার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন তারা।
মন্ত্রিসভায় হজ প্যাকেজের অনুমোদন
২৪ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি প্যাকেজ রেখে হজ প্যাকেজ ১৪৪১ হিজরি/২০২০ খ্রিস্টাব্দ এর খসরার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এবার চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৯ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ জুলাই ২০২০ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জনসহ মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। হজযাত্রীর বিমান ভাড়া, সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, মোয়াল্লেম ফি, জমজমের পানি, খাবার এবং অন্যান্য খরচবাবদ সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি হজ প্যাকেজ এবং বেসরকারি ব্যবস্থপানায় এজেন্সিগুলোর জন্য একটি প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই প্রস্তাব আজ কেবিনেট বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর আওতায় সর্বমোট চার লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা বেশি। প্যাকেজ-২ এর আওতায় সর্বমোট তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ হাজার টাকা বেশি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবারই প্রথম তৃতীয় প্যাকেজ সরকার প্রবর্তন করেছে। এর আওতায় সর্বমোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। কেবিনেট সবিচ বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর জন্য ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সিগুলো সরকারি প্যাকেজ-১, প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৩ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। কেবিনেট সচিব আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজযাত্রীরা মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ মিটার, প্যাকেজ-২ এর হজ যাত্রীরা ১৫০০ মিটার এবং প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীরা ১৫০০ মিটারের অধিক দূরত্বে অবস্থান করবেন। প্রত্যেক হজ এজেন্সি কমপক্ষে ১০০ জন, সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজযাত্রী পাঠাতে পারবেন। হজ এজেন্সিগুলো কোনও অবস্থায় ৩০০ এর বেশি টিকিট দিতে পারবে না। যারা পবিত্র হজ পালন করতে যাবেন তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তমেয়াদ থাকতে হবে। প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন গাইড নিয়োগ করা হবে। হজযাত্রীদের কোরবানির ব্যয়ের টাকা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে এবং এর জন্য প্যাকেজ ছাড়া অতিরিক্ত ৫২৫ সোদি রিয়ালের সমপরিমাণ ১২ হাজার ৭৫ টাকা সঙ্গে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
২৪ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশের উদারতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। চিঠিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি জরুরি। এ জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২০ সালের যৌথ পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে অর্থায়ন পেতে সহায়তা করবে। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি । তখন প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বাসস।
বাকি ১ হাজার কোটি টাকা দিতে তিন মাস পেল গ্রামীণফোন
২৪ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবির আরও ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে তিন মাস সময় পেয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, ওই সময়ের মধ্যে গ্রামীণফোন টাকা না দিলে বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির নোটিশের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যাবে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণফোনের কাছে তাদের নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা আছে। বিষয়টি আদালতে গড়ালে গ্রামীণফোনকে আপাতত দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালতের নির্দেশের পর গতকাল রোববার প্রথম কিস্তিতে ১ হাজার কোটি টাকার পে অর্ডার বিটিআরসির কাছে হস্তান্তর করে গ্রামীণফোন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসিকে আজকের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপরই গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা রোববার বিটিআরসিকে ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করবে। পরে শুক্রবার গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের আইনি পদ্ধতিকে সম্মান করে। তবে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করেছে, তারা সে বিষয়ে আদালতের সুরক্ষা প্রত্যাশা করছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ নভেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগের এই আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গ্রামীণফোন আবেদন করে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা একে অপরের পরিপূরক হতে হবে
২৩ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে একটি অপরটির পরিপূরক হতে পারে। তিনি বলেন, একবার পরিকল্পনা (উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর) গৃহীত হলে সেগুলো সংহত করা এবং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর কার্যালয়ে (পিএমও) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট-এর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা অবলোকনকালে একথা বলেন। উপস্থাপনাটি অবলোকনের পর প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে নকশা করা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নকশায় তাঁর সম্মতি প্রদান করেন, যা পলাশিকে কাঁটাবন হয়ে বিয়াম (বিআইএএম) ভবনের দক্ষিণ অংশে হাতির ঝিল লেকের প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক আছে। আপনি এটা বাস্তবায়ন করতে পারেন (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট)। পূর্ববর্তী প্রস্তাবে, হাতির ঝিল লেক এবং পান্থকুঞ্জের মাঝামাঝি বরাবর এই লিংকের অ্যালাইনমেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লেক (হাতির ঝিল) এবং পান্থকুঞ্জকে সুরক্ষা করে নতুনভাবে নকশা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশ দেন। এই সংযোগের ফলে পুরাতন ঢাকা ও ধানমন্ডির বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং এটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ যানবাহন প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, একদা মতিঝিলে একটি বড় ঝিল (জলাশয়)ছিল, তবে পাকিস্তানী শাসক আইয়ুব খান তা ধ্বংস করেন। তিনি এ সময় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টদের জলাশয় বিশেষ করে পুকুর রক্ষা করে পরিকল্পনা প্রণয়নেরও নির্দেশ দেন। ঢাকা শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে আমরা নগরীর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রামে দিচ্ছি। কাজেই গ্রামের মানুষের রাজধানী মুখী প্রবণতা কমে আসছে। সরকারী কর্মকর্তাদের শহরে বসবাসের মানসিকতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারী কর্মকর্তারা এখন শহরে থাকতে চান। তাদের বদলী করা হলে তাদের পরিবারকে শহরে রেখে নিজেরাই কেবল কর্মস্থলে যান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে জেলার স্কুল,কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়েছে কেননা মন্ত্রী,সংসদ সদস্য এবং সরকারী কর্মকর্তাগণ জেলায় থাকতেন। জনগণের ট্রাফিক আইন মেনে না চলার মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহবান জানান। ফুটওভার ব্রীজ বা আন্ডারপাস থাকার পরেও জনগণ রাস্তা দিয়ে পারাপার হচ্ছে,পথচারি এবং চালক কেউই জেব্রা ক্রসিং মানছেন না,বলেন তিনি। ৪৬ দশমিক ৭৩ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৯৪০ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের সার্বিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ শতাংশ। তিনটি ধাপে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে-হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত। যোগাযোগবিদ এবং বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মো.শামসুল হক অনুষ্ঠানে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট প্রকল্পের প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। প্রকল্প বিশেষজ্ঞ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং প্রকল্পের স্থপতি সদস্য ইকবাল হাবিব এ সময় প্রকল্প সম্পর্কে তাঁদের অভিমত দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিএমওর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, পিএমও সচিব মো.তোফজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জয়িতা টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ভবনের সংশোধিত স্থাপত্য নকশা প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। নকশা প্রত্যক্ষকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও প্রদান করেন। নকশা উপস্থাপন করেন জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আরা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।বাসস
জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন
২৩ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন। তিনি আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রাপ্তি- শ্রদ্ধা,ভালবাসার এক অমলিন স্মৃতি শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপোষহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বাঙালির সব প্রাপ্তিই এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। স্পিকার বলেন, বাঙালির মহাজাগরণের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অকুতোভয়। তিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ধারন করে এগিয়ে গেছেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এমপি। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে গভীরভাবে ভালবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ৬৯ এর ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু উপাধি এবং ৭২ এর ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির জন্য দুইটি মাইলফলক। এ সময় স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির পরম বন্ধু। জাতির পিতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে জীবন্ত কিংবদন্তী তোফায়েল আহমেদ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান একরাম আহমেদ, অভিনেতা মাসুম আজিজ, চিত্র নায়ক রিয়াজ, নাট্যকার এনামুল হক, সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিল্পী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বাসস
জাতির জন্য সেনা সদস্যদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২৩ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ আজ জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নগরীর হালিশহর আর্টিলাটি সেন্টার ও স্কুলে এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের চার আর্টিলারির জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। তাই পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। এই পতাকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে তাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি জরুরি পরিস্থিতির পাশাপাশি মাতৃভূমির অস্তিÍত্ব রক্ষায় যে কোন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। ১, ২, ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি ও ৩৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট আর্টিলারির জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, দেশ ও জাতীর প্রয়োজনে জনকল্যাণমূলক কাজেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান রাখতে হবে। এ বিষয়ে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি সকল সদস্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও ও পেশাগত জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, একটি আধুনিক, সময় উপযোগী ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যে কোন দেশের জন্য অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ,ফোর্স গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বর্তমান সরকার আধুনিক সমরাস্ত্র, আর্টিলারি গান ও আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গ্যাজেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতিগঠনমূলক কর্মকা-ে অসধারণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়, ভোটার ডাটাবেজ তৈরি ও জরুরি মুহূর্তে বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। রাষ্ট্রপতি প্যারেড গ্রাউন্ডে কুঁচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলেন এবং দর্শনার্থীদের বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে, রাষ্ট্রপতি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছুলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর