শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০
আজ থেকে অধস্তন আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু
০৫আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ প্রায় চারমাস বন্ধ থাকার পর আজ বুধবার থেকে দেশের অধস্তন আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে প্রাঙ্গণে আসা প্রত্যেককে মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সকলকে মানতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব প্রতিপালন করতে হবে। এজলাস, সাক্ষী ডক এবং কাঠগড়ায় প্রয়োজনীয় অংশে গ্লাস দিয়ে পৃথক-পৃথক প্রতিরোধক প্রকোষ্ঠ প্রস্তুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ দ্বারে হাত ধোঁয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। আরও বলা হয়, প্রত্যেককে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে আসা থেকে বিরত থাকতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে প্রবেশের পূর্বে প্রত্যেকের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক আদালতের কার্যক্রমের সময় এমনভাবে নির্ধারণ করবেন যেন অতিরিক্ত সমাগম না হয়। একটি মামলায় দুই জনের বেশি আইনজীবী থাকা যাবে না। মামলার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট আসামীর এজলাস কক্ষে হাজিরের আবশ্যকতা নেই। কোভিড-১৯ রোধকল্পে অধস্তন আদালতের জন্য স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশাসনের নির্দেশনার বিস্তারিত সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ছিল। ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুললেও দেশের আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন প্রণীত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত বিধানের অধীনে দেশের অধস্তন আদালতে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পর আজ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে দেশের অধস্তন আদালত অঙ্গন। সরেজমিন দেখা যায়, আজ সকাল থেকে দেশের অধস্তন আদালতে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত হচ্ছেন। সূত্র: বাসস
শেখ কামাল ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও ছিলেন অতি সাধারণ: কাদের
০৫আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শহীদ শেখ কামাল ছিলেন দূরদর্শী ও গভীর চিন্তাবোধের অধিকারী এবং নির্লোভ, নির্মোহ। যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও ছিলেন অতি সাধারণ। বুধবার (০৫ আগস্ট) শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমে আবাহনী ক্লাব ও বনানী কবরস্থানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংসদ ভবন এলাকার বাসভবন থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো আদর্শবাদী রাজনীতি মজবুত করার নিখাদ বুনিয়াদ। তাই শেখ কামাল রাজনীতির সংস্কৃতিকে টেকসই করার জন্য সংস্কৃতির রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উৎকর্ষ সাধনে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির নিগূঢ় শক্তিতে বলীয়ান হতে পারলে সবকিছুই কল্যাণমূখী হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বোধ শেখ কামালের মধ্যে প্রবলভাবে জেগে উঠেছিল। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সফল ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসএসএফের সাবেক কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির স্বপ্নের হাওর ঘুরে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৫আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওর এবং ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তিনি একদিনের সফরে কিশোরগঞ্জ হাওরে আসেন। হাওর ছাড়াও তিনি হাওর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। এর আগে, ঢাকা থেকে সড়ক পথে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি নৌ-পথে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে যান। সেখানে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার হারুন অর রশীদের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন তিনি। এরপর তিনি পুলিশের গাড়িতে চড়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের স্বপ্নের ৩৫ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক ও ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেতু পরিদর্শনে অষ্টগ্রাম যান। বিকেলে গার্ড অব অনারের আগে মিঠামইন সরকারি ডাক বাংলোয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বৈষ্ণব, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোবারক আলম বাচ্চু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাইনুদ্দিন খান্দকার প্রমুখ। হাওর পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রভাংশু সোম মহান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাতে রাষ্ট্রপতির সদ্য প্রয়াত ছোট ভাই ও একান্ত সহকারী সচিব আবদুল হাইয়ের কবর জিয়ারত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে কামালপুরে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির বাড়িতে নৈশ ভোজের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। নৈশ ভোজ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকার উদ্দেশে মিঠামইন ত্যাগ করেন।- বাংলা নিউজ
শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী আজ
৫আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে শাহাদাতবরণ করেন শেখ কামাল। দিনটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন সকাল ৯ টায় ধানমন্ডিস্থ আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সকাল ১০ টায় বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পরে অনুষ্ঠিত হবে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সহ সহযোগী সংগঠন গুলো এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করবে। বহুমাত্রিক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি এ অনার্স পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ছায়ানট-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধূলায় প্রচন্ড উৎসাহ ছিল তার। শেখ কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণের সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এদিকে শহীদ শেখ কামলের ৭১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আবাহনী লিমিটেড ক্লাব প্রাঙ্গনে সারাদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে সকল অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২ টা ১ মিনিটে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বিকেল ৫ টায় শহীদদের বর্নাঢ্য কর্মবহুল জীবনের উপর ভার্চুয়াল আলোচনা ও স্মৃতি চারণ ও বাদ আসর ক্লাব ভবনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে তারুণ্যের জেগে উঠার নাম শেখ কামাল শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন-সিআরআই। সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক হারুন-উর-রশিদ, সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক অঘোর মন্ডল এবং সিনিয়র ফটো সাংবাদিক পাভেল রহমান। ওয়েবিনারটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামীকাল শহীদ শেখ কামালের ৭১ তম জন্মবার্ষিকী স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাবেক মেজর হত্যার যথাযথ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের পর বিচারের সম্মুখীন করা হবে। তিনি আজ নিহত রাশেদের মায়ের সঙ্গে ফোনে আলাপকাল একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম নিউজ একাত্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ রাশেদের পরিবারকে হত্যার যথাযথ তদন্ত এবং দায়ি ব্যক্তিদের (হত্যার জন্য) বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাশেদের মাকে সান্তনা জানান এবং তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন। প্রেস সচিব বলেন, রাশেদের মা তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে রাশেদ নিহত হন। তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) এজেন্ট হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা চেক-পোস্ট ইনচার্জসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে এই হত্যাকান্ডের তদন্ত করছে।
পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট প্রথম শহীদ শেখ কামাল
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রধান লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেও এ দিনের ঘটনায় প্রথম শহীদ হন শেখ কামাল। বজলুল হুদা তার স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালকে হত্যা করে। আদালতে দেয়া বঙ্গবন্ধু বাড়ির অন্যতম পাহারাদার হাবিলদার কুদ্দুস সিকদারের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথম ঢুকে মেজর বজলুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী। সঙ্গে আরো কয়েকজন। বাড়িতে ঢুকেই তারা শেখ কামালকে দেখতে পায়। সাথে সাথে বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে তাকে গুলি করে। শেখ কামাল বারান্দা থেকে ছিটকে গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষের মধ্যে পড়ে যান। সেখানে তাকে আবার গুলি করে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ভবনের আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী এবং হত্যা মামলার বাদী মুহিতুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মধ্যেও এ বর্ণনার কথা রয়েছে। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকে বাড়ি আক্রমণের পর বঙ্গবন্ধু টেলিফোনে যা বলেছিলেন তাতেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। ১৯৮৭ এবং ১৯৯৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে দুটি সাক্ষাৎকারে শফিউল্লাহ বলেছেন, বাড়ি আক্রমণের পর বঙ্গবন্ধু জলদি ফোর্স পঠানোর জন্য তাগিদ দিয়ে তাকে ফোন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি এ্যাটাক করেছে। কামালকে বোধ হয় মাইরা ফেলছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় অবস্থান করা তার ব্যক্তিগত সহকারি আব্দুর রহমান শেখ রমাও এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন পনেরই আগস্ট হতাকান্ডের। ভোর রাতে ধানমন্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু যে ঘরে ছিলেন তাঁর বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়েছিলেন শেখ রমা।আব্দুর রহমান শেখ রমা ঊনসত্তর সাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারে কাজ করতেন, একাত্তরের ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে যে মামলা করা হয় তার দ্বিতীয় সাক্ষি এই রমা। সেদিন ভোর রাতে বাড়িটির দিকে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়। একটু পরেই বঙ্গবন্ধু তার ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। বেগম মুজিবের কথায় আমি নিচে নেমে মেইন গেটের বাইরে এসে দেখি সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগুচ্ছে। তখন আমি বাড়ির ভেতরে ফিরে দেখি, লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় নামছেন। বলেন রমা। পরে রমা দ্রুত দোতলায় গিয়ে দেখেন, বেগম মুজিব আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন। রমা সেখানে দাঁড়িয়ে না থেকে তিনতলায় চলে যান এবং শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামালকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। তখন দ্রুত শার্ট-প্যান্ট পরে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। সুলতানা কামাল চলে যান দোতলায়। পরে শেখ জামাল ও তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুললে তারা দ্রুত জামা-কাপড় পরে বেগম মুজিবের কক্ষে যান। রমা বলেন, গোলাগুলির মধ্যে অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন মহিতুল ইসলাম। পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জে চেষ্টার এক পর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি। বঙ্গবন্ধু তাঁর কথা শেষ করতে পারেননি। একঝাঁক গুলি জানালার কাঁচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। বঙ্গবন্ধু তখন টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন। এর মধ্যেই গৃহকর্মী আব্দুলকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে তাঁর পাঞ্জাবি ও চশমা পাঠিয়ে দেন বেগম মুজিব। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে আব্দুলের হাত থেকে পাঞ্জাবি আর চশমা নিয়ে পরেন। নিচতলার এই ঘর থেকে বারান্দায় বের হয়ে বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, এতো গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছ? এ কথা বলেই বঙ্গবন্ধু উপরে চলে যান। বঙ্গবন্ধু উপরে উঠতে না উঠতেই শেখ কামাল নিচে নেমে বারান্দায় দাঁড়ান। তখন কোনো কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করে বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। বলতে থাকেন, &আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে শেখ কামালকে লক্ষ্য করে বজলুল হুদা তার হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ব্রাশফায়ার করে। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল। প্রবাসী লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর গ্রন্থে এ বিষয়ে বিষদ বিবরণ দিয়েছেন। শেখ কামাল নিহত হওয়ার পর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গীরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে মুজিবকে খুঁজতে থাকে। শেষে তাঁর দেখা পায় সামনের বারান্দায়। সাহসের প্রতিমূর্তি মুজিব দাঁড়িয়ে আছেন প্রশান্তভাবে হাতে পাইপ। তাঁকে দেখে খুনী মহিউদ্দিন পর্যন্ত ভড়কে যায়। বঙ্গবন্ধুকে গুলি করতে পারেনি। কেবল বলে স্যার, আপনে আসেন। শেষে যখন তাঁকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামাতে আরম্ভ করে তখন বঙ্গবন্ধু চিৎকার করে বলেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস? এ সময় মহিউদ্দিনকে এক পাশে সরতে বলে হুদা আর নূর স্টেনগান দিয়ে গুলি করে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর ওপর। ভোর পাঁচটা চল্লিশে বঙ্গবন্ধু মুখ থুবড়ে লুটিয়ে পড়েন সিঁড়িতে। তখনো তাঁর ডান হাতে ধরা পাইপ। কয়েকটা গুলি তাঁর বুকের ডান দিকে এবং পেটে লেগেছিলো। ফলে যখন সূর্য ওঠার কথা, সেই সূর্য ওঠার সময় বঙ্গের গৌরব-রবি গেলো অস্তাচলে।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্লোগান- আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হলেই প্রধানমন্ত্রীর এ স্লোগানের স্বপ্নের দেশ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নয়নে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের অবস্থা গণমাধ্যমে তুলে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংশ্লিষ্ট এলাকাকে জাতির সামনে উপস্থাপন করে। তাই নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের প্রতিও মন্ত্রী আহবান জানান। সোমবার (০৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসাসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব মন্তব্য করেন। ধনবাড়ী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ২য় তলায় ওই কার্যালয় উদ্বোধন হয়। সংগঠনের সভাপতি রবিউল আলম সাহীন এতে সভাপতিত্ব করেন। একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুর রউফ সংগ্রামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধনবাড়ী পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, ধনবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান, মুশুদ্দি রিজিয়া কলেজের অধ্যক্ষ কেশব চন্দ্র দাশ, উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বেলাল, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেব উন নাহার লিনা, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন তালুকদার, যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান বকল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান সুমন। এসময় অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব খন্দকার আলমগীর, এটিএন বাংলার ভাইসচেয়ারম্যান মোকাদ্দেম বাবু, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র সাব এডিটর আবু মো. মাসানী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আপন আহসান, কবি ও সাংবাদিক চপল মাহমুদ ।

জাতীয় পাতার আরো খবর