সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে- ফৌজদারি অপরাধ: হাইকোর্ট
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাকালে রেগীদের ফিরিয়ে দেওয়া, অবহেলায় মৃত্যু, আইসিইউ বণ্টন, বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ, অক্সিজেন সরবরাহ ও ঢাকা সিটি লকডাউন নিয়ে ১১টি নির্দেশনা ও অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাঁচটি রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল আদালতে শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন। সার্বিক বিবেচনায় আদালতের নির্দেশনা ও অভিমত: এক. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জারি করা নির্দেশনা (সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ফিরিয়ে না দেওয়া সংক্রান্ত) যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুনের আগে আদালতে দাখিলের জন্য সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। দুই: নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করতে হবে। তিন: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২৪ মে জারি করা নির্দেশনা অনুসারে ওই তারিখের পর ৫০ শয্যর অধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১৫ জুন পর্যন্ত কতজন কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসার দেওয়া হয়েছে সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ৩০ জুনের আগে জমা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যার অধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের একটি তালিকা পাঠাতে হবে। চার: বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পরপর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। ওইসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৫ দিন পরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। পাঁচ: বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের, বিশেষত ঢাকা মহানগর ও জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলাসহ বিভাগীয় শহরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক যাতে কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীকে পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেয় সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। ছয়: কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে অনিহা দেখালে এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে তা অবহেলাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা যথাযথভাবে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। সাত: কেন্দ্রীয়ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অধিকতর জবাবদিহিমূলক ও বিস্তৃত করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে এ সেবা দ্রুত ও সহজভাবে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। কোন হাসপাতালে আইসিইউতে কতজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিইউ শয্যা কী অবস্থায় আছে তার আপডেট প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন এবং অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য আলাদাভাবে আইসিইউ হটলাইন নামে হটলাইন চালু এবং হটলাইন নম্বরগুলো প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষত টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আট: আইসিইউ-এ চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগী চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নয়: অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য প্রতিষ্ঠান/দোকানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃত্রিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর পরিচয়পত্র ব্যতীত অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থা মনিটরিং জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। দশ: সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে বিভক্ত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় বর্তমান পর্যায়ে লকডাউনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া সঙ্গত হবে না মর্মে আদালত মনে করে। এগারো: দেশে বিদ্যমান সামগ্রিক পরিস্থিতি অর্থাৎ বর্তমানে দেশে বিরাজমান করোনা পরিস্থিতি একটি দুর্যোগ বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-২০১২ এর ধারা-১৪ অনুসারে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অরডিনেশন গ্রুপ এর কার্যক্রমকে সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। ওই কমিটি কার্যকর হলে ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে উপরোক্ত আইনের ধারা-২৬ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক রিকুইজিশন করা যেতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এসব আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব রিট আবেদনের পর এসব আদেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: রিট-১: ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-২০১২ এর ধারা ২৫ ও ২৬ এর বিধান মতে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রিকুইজিশন ও সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো স্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে রোগীদের জরুরি সেবা ও শয্যা সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা প্রার্থনা করে রিট করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন। রিট-২,৩,৪: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিভাগ জারি করা ১১ মের দুটি স্মারকের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্পর্কিত এবং ২৪ মে জারি করা স্মারক যাতে ৫০ শয্যা ও তদূর্ধ্ব শয্যা বিশিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড এবং নন-কোভিড রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা বাস্তবায়িত না করার নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ এবং ওই জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রার্থনা করে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এএম জামিউল হক, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা এবং জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। রিট-৫: রাজধানী ঢাকায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা এবং লকডাউন করা এলাকার জনগণকে সব ধরনের লজেস্টিক সাপোর্ট ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাই প্রোনেজাল ক্যানোলা সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রার্থনাকরে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুল ইসলাম।
রাত ৮টার পর বাইরে যাওয়া নিষেধ
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সোমবার (১৫ জুন) এ সংক্রান্ত ১৮ দফার একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে রাত ৮টা থেকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আর জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১৫ জুনের পর শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলী এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় বেচা-কেনা, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাতি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। তবে সর্বাবস্থায় বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত এবং ১ জুন থেকে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়। ১৫ দিনের জন্য এ নির্দেশনা শেষে নতুন নির্দেশনা দেয় সরকার।
সীমিত যাত্রী নিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে প্লেন-ট্রেন-গণপরিবহন
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও প্লেন চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরতে হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১৫ জুনের পর ৩০ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলী এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এ নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়, অনুমোদিত অঞ্চলে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও প্লেন চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য বিভাগ জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও নৌপথে সব প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। এর আগে ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত ১ জুন থেকে গণপরিবহন চালু করা হয়।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি মোকাব্বির খান
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। সোমবার (১৫ জুন) মোকাব্বির খানের এপিএস মো. জুবের খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জুবের খান জানান, স্যার কয়েকদিন যাবত অসুস্থ বোধ করছিলেন। তিনি ঢাকায় সংসদ এলাকায় বাসায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার শ্বাসকষ্ট বাড়ায় বিকেল তিনটার দিকে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত কি-না এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, শুনেছি তিনি অসুস্থ, সিএমএইচে গেছেন। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে নির্বাচিত হন মোকাব্বির খান।
শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান কাদেরের
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার এই দুঃসময়ে সংকটের সাহসী নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ইস্পাতকঠিন ঐক্য ও সচেতনতার প্রাচীর গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আমরা আবার ফিরে পাবো চিরচেনা জগত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফুল ফল ফসল হাসি আনন্দের বাংলাদেশ, উদ্বেগহীন গোধূলি আর আশা জাগানিয়া সূবর্ণ প্রভাত আবারও ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ। ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। ভালো থাকার মূলে সচেতনতা, আর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে সার্বজনীন ঐক্য, সম্মিলিত এবং সমন্বিত প্রয়াসের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসুন আমরা সরকারের নিরলস প্রয়াসে একে অপরকে সহযোগিতা করি প্রকারান্তরে যা নিজেকে নিজে সহযোগিতা করি। এ মহামারিতে নিজের জন্য নিজে সচেতন না হলে কেউ পথ দেখাতে পারবে না বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সংক্রমণ না লুকিয়ে রেখে সাথে সাথে নিজ উদ্যোগে টেস্ট এবং আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে নিজেসহ পরিবার ও সমাজকে বাঁচানোই হবে মূল কাজ। মন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ ও বিস্তার দিন দিন বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। ইতিমধ্যে জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ, সাবেক মেয়র বদরুদ্দীন কামরানসহ অনেক নেতা, দেশবরেণ্য শিক্ষাবীদ, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের সবার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং গভীর শোক জানাচ্ছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে। তিনি বলেন, বিপদের গভীরতা ও মাত্রা বুঝেও যদি সচেতন না হই তাহলে তা হবে জেনেশুনে আগুনে ঝাপ দেয়ার সামিল।
সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আজ ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সিলেটের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে আজ এক শোক বার্তায় বলেন, তার মৃত্যুতে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটলো। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কর্ণধার হিসেবে তিনি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের স্টোরের আগুন নেভানো হয়েছে
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের অস্ত্রাগার সংলগ্ন স্টোর রুমের আগুন নেভানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১১টি ইউনিট প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আজ ভোর রাতে আগুন পুরোপুরি ভাবে নেভাতে সক্ষম হয়। অগ্নিকান্ডে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি ও স্টোর রুমের পাশে থাকা ডিএমপির অস্ত্রাগারেরও ক্ষতি সাধিত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার আজ বাসসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পুরাতন মালামালের স্টোর রুমে আগুন লাগে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস হেডকোয়ার্টার, খিলগাঁওসহ মোট ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সোমবার ভোর ৪ টা ৫০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি ভাবে নির্বাপন করতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকান্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছে। এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন গনমাধ্যমকে বলেন, রাজারবাগের ওই স্টোর রুমটি এমন জায়গায় ছিল যেখানে পাশেই অস্ত্রাগার ছিল। এছাড়া পাশে আরেকটি ব্যারাক ছিল। ব্যারাকে অনেক পুলিশ সদস্য ঘুমাচ্ছিলেন। আগুনে আশপাশের কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। কিভাবে আগুনের সুত্রপাত হয় জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুনের সুত্রপাত আগে থেকে বলা যাবে না। এলাকাটি সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। কমিটির রিপোর্টের পর আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা যাবে। আজই ৩ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আস্থা রাখুন, বাংলাদেশ হার মানবে না : প্রধানমন্ত্রী
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতি জনগণকে আস্থা ও বিশ্বাসে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ কোন কিছুর কাছেই হার মানবে না, এমনকি করোনা ভাইরাসের কাছেও নয়। শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই আমাদের মানুষের মধ্যে যেন একটা আস্থা থাকে, বিশ্বাস থাকে, সেই বিশ্বাস-আস্থাটা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা হার মানবো না, মৃত্যু তো হবেই, মৃত্যু যেকোনো সময় যেকোনো কারণে হতে পারে। কিন্তু তার জন্য ভীত হয়ে হার মানতে হবে? এ ধরনের একটা অদৃশ্য শক্তির কাছে, এটাতো হতে পারে না। সেজন্য আমাদেরও সেভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। দেশ ডিজিটাইজেশনের সুবাদে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের কারণে জনসমাগমে না গিয়েও সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুবিধার উল্লেখ কওে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ডিজিটাল পদ্ধতি আছে বলে আমি মানুষের কাছে যেতে পারছি, কথা বলতে পারছি এবং বার বার যাচ্ছি। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যা যা নির্দেশনা আছে, সেগুলো মেনে চলে নিজের জীবনকে চালাতে হবে। কারণ, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা মানেই অপরকেও সুরক্ষিত রাখা। সেটাও মাথায় রাখতে হবে, সেটা যেন সবাই করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এসএসএফ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাহিনী আমাদের সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনী এবং আনসার ও ভিডিপি সকলের মিলিত একটি সংগঠন। যেহেতু, সকলের মিলিত একটি সংগঠন, তাই, এখানে একে অপরকে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে, কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমি মনে করি, এটা একটা চমৎকার কম্বিনেশন। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এই বাহিনীর সদস্যদের সন্তানতুল্য আখ্যায়িত করে তাঁদের হমাখা কন্ঠে সরকার প্রধান তাঁদের তুমি সম্বোধন করেন এবং বলেন, তোমরা যেমন আমার নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করো আমিও ঠিক তোামাদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় চিন্তা করি। তিনি বলেন, তোমরা সুরক্ষিত থাক, সেটাই আমি চাই। কারণ, তোমাদের জীবনের মূল্যটা অনেক বেশি, তোমাদেরতো ভবিষ্যত সামনে পড়ে রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তোমরা নিরাপদ থাক, সেজন্য সব সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি। কারণ, তোমরা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করো তাতে তোমাদের কর্ম দক্ষতায় সবাই মুগ্ধ। করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে যেভাবে পালন করতে সেভাবে হয়তো করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মটা মেনে যতটুকু উৎসব করা যায় তোমরা করবে। সেটাই চাই, কারণ, জীবন মৃত্যু খুব পাশাপাশি। তিনি সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহাম্মদ কামরানের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বলেন, একদিকে যেমন আমরা মুত্যুর খবর পাই অন্যদিকে অন্য কাজও করতে হয়। এটাই আমাদের জীবন। অতীতে দু বার গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন কামরান-সেকথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাতও কামনা করেন। যেকোন পরিস্থিতিতেই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মহাপরিচালক এসএসএফকে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণটা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, নিজেকে সুরক্ষিত করতে হলে অথবা ভিআইপিদের সুরক্ষিত রাখতে হলে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখাটা সবসময় জরুরী, সেজন্য যা যা করার আমি করে দিয়েছি। নিজেদের শারিরীকভাবে সুস্থ রাখা, ফিট রাখা এবং এক একজন আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে তৈরী হবে, সেটাই আমি আশা রাখি,যোগ করেন তিনি। এসএসএফর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, অনুষ্ঠানে এসএসএফ-এর মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ এবং কল্যাণ তহবিলের জন্য সকল এসএসএফ সদস্যদের পক্ষ থেকে তাঁদের একদিনের বেতনের সমপরিমান এক কোটির টাকার একটি চেক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর