সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১
প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সর্বমহলে অভিনন্দিত হয়েছে
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অর্থনৈতিক প্যাকেজে ভিক্ষুক থেকে শিল্পপতি সবার জীবন ও জীবিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর রোববার দুপুরে ঢাকায় মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যে ঐতিহাসিক ও সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন, এটি আশপাশের দেশ এমনকি ভারতের তুলনায় আনুপাতিক হারে অনেক বড় প্যাকেজ। ভারতে তারা তাদের জিডিপির ০.৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আর বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তা আমাদের মোট জিডিপির ২.৫২ শতাংশ। ঘোষিত অর্থনৈতিক প্যাকেজের বিশেষত্ব বিশ্লেষণ করে ড. হাছান বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি প্যাকেজ রিভলভিং যা থেকে প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থায়ন সম্ভব। তথ্যমন্ত্রী জানান, এই প্যাকেজের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েক মিলিয়ন পরিবারের জন্য ৬৮০ কোটি টাকা নগদ বরাদ্দ ও অপেক্ষাকৃত অধিক দারিদ্র্যপীড়িত ১০০ উপজেলার সকল বয়স্ক ও বিধবাকে ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাবসহ সমস্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় এনে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ- ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবাইকে এই প্যাকেজের আওতায় এনে তিনি (শেখ হাসিনা) যে ঘোষণা দিয়েছেন, যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্ত সর্বমহলে অভিনন্দিত হয়েছে।
আগামীকাল গণভবনে বসছে মন্ত্রিসভার বৈঠক
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে মন্ত্রিসভার গত সোমবারের নিয়মিত বৈঠকটি হয়নি। তবে আগামীকালকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সকাল ১১টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বৈঠক শুরু হবে। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।একুশে টেলিভিশন । মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে খুব একটা এজেন্ডা নেই। তাই এই বৈঠকে খুব বেশি মন্ত্রীও অংশ নেবেন না। আর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চত করেই বৈঠকে মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতি সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয় না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোনো সময় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ২২-২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করায় ২৩ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকের সূচি রাখা হয়নি। এরপর করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে ৩০ মার্চ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হয়নি।
ঢাকায় আসা যাওয়া বন্ধ করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকার ভেতরে প্রবেশ এবং ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকে হাইওয়ে পুলিশ ও রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ ঢাকায় আসা যাওয়া বন্ধ করতে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রবেশ করতে চাচ্ছে ও ঢাকা থেকে বের হতে চাচ্ছে এমন অনেককে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তদারকি করা হচ্ছে। তবে মানুষের আসা যাওয়ায় বাধা থাকলেও জরুরি সেবা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা বা কড়াকড়ি নেই। সেগুলো আগের মতই চলবে। আজ থেকে পোশাক কারখানা চালু হচ্ছে এমন খবরে শনিবার হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক ঢাকায় এসে ভীড় করে। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও শ্রমিকরা সেটির তোয়াক্কা না করে ঝঁকি নিয়ে ঢাকায় ভীড় জমান। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। যদিও মালিক সংগঠন সিদ্ধান্ত বদলে ছুটি আরো বাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকে শ্রমিকরা নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেন। পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শ্রমিকরা শনিবার যেভাবে দলে দলে ঢাকায় এসে জনসমাগম করছিলো তাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতো। আমরা চাচ্ছি কোথাও যেন জনসমাগম না হয়। তাই শ্রমিকদের জনসমাগমের খবর পেয়ে পুলিশ ঢাকায় আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত সরকারের নির্দেশে সামাজিক দূরত্ব মানার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে এমনটা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ না মানলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, তবে মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরণের পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ বিমানের সকল ফ্লাইট ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সকল ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ১ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪ হাজার ৭২০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৪ জন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৫৭। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৪৫২ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয়স্থানে স্পেন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৯৪৭ জন। মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। সেখানে মারা গেছেন ১৫ হাজার ৩৬২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে জার্মানি ও ফ্রান্স। আক্রান্তের সংখ্যা হিসাবে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে নেই চীন। এই সংখ্যার হিসাবে তাদের অবস্থান এখন ছয়ে।
বাংলাদেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ১৮ জন, মোট ৮৮
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ জনে।রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এদিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ১ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪ হাজার ৭২০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৪ জন।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৫৭। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৪৫২ জন।আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয়স্থানে স্পেন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৯৪৭ জন। মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। সেখানে মারা গেছেন ১৫ হাজার ৩৬২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন।আক্রান্তের সংখ্যায় এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে জার্মানি ও ফ্রান্স। আক্রান্তের সংখ্যা হিসাবে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে নেই চীন। এই সংখ্যার হিসাবে তাদের অবস্থান এখন ছয়ে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আশা করি, তা দ্রুত কেটে যাবে
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রভাবে অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আজ সকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তার সুবিধা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পাবে। কৃষক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতীসহ সব পেশার মানুষকে এর আওতায় আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে সারা বিশ্ব আজ আক্রান্ত। এটি কতো দিন থাকে আমরা জানি না। শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব রয়েছে। তাছাড়া এখন বিশ্বের এক প্রান্তে কিছু ঘটলে তা অপর প্রান্তের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও এটি প্রভাব ফেলবে। তবে এই পরিস্থিতিতে আমরা প্রত্যেক মানুষের পাশে আছি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, আশা করি, তা দ্রুত কেটে যাবে। তখন আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত মাসেও আমাদের ৮.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। রপ্তানি খাত বিশেষ করে রেমিটেন্স থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ আসে। এবার করোনার কারণে কিছুটা কমলেও অপরাপর দেশের থেকে আমরা ভালো অবস্থানে থাকবো। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নিজের লক্ষ থেকে সরবেন না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
আমি চাই না সাংবাদিকরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হোক
0৫এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হোক।রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। কারণ আমি চাই না সাংবাদিকরা ঘোরাঘুরি করে সংক্রমিত হোক।এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস ঠেকাতে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা সময় মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েনি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
0৫এপ্রিল,রবিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প রক্ষা, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ৭২৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এই প্যাকেজের আওতায় শিল্প প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে চলমান কার্যক্রমে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা হবে। গণভবনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এসময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবিরসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা কার্যক্রম চলমান থাকায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন না। করোনার প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী সরকারের আশু করনীয়, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরেন।তিনি বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কর্মসৃজন নির্ভর কাজে বেশি করা হবে। এছাড়া বিদেশ সফরকে নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় কতিপয় ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেয়া হবে। ক্ষুদ্র মাঝারি প্রতিষ্ঠান এ ঋণ পাবে ৯ শতাংশ সুদে। তবে এই সুদের পাঁচ শতাংশ সরকার ভর্তুকি দেবে। এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়া হবে। তিনি বলেন, এই আর্থিক প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে চলমান অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে। দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃত সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো- ক) আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থবছর শেষে এই হ্রাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খ) চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংক সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গ) সার্ভিস সেক্টর বিশেষত হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ঘ) বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ঙ) বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়েছে; যার বিরূপ প্রভাব পড়বে প্রবাসী-আয়ের উপর। চ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে মর্মে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রাক্কলন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ছ) দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লক-ডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্পআয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। জ) চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হবে। এরফলে অর্থবছর শেষে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ঝ) বিগত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। সামষ্টিক চলকসমূহের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

জাতীয় পাতার আরো খবর