রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। অথচ খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাচ্ছেন, সঙ্গে কাজের মেয়েও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন আমি কারাগারেই মারা যাই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ছিলেন। তার স্ত্রী হিসেবে তিনিও সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু উনি গোঁ ধরে বসে আছেন তার ইচ্ছে অনুযায়ী চিকিৎসা নেবেন। এটা কখনোই হতে পারে না। এ সময় মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ারকে সমর্থন করেন এরশাদ। বলেন, মাদক দমন করতে গিয়ে কিছু লোক যদি মারা যায় তা গ্রহণ করা উচিত। যদিও আমি বিনা বিচারে মৃত্যু সমর্থন করি না। তারপরেও যারা মাদক ব্যবসা করে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে তাদের মৃত্যুতে আমাদের কোনও শোক নেই। আসন্ন গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এরশাদ। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়ী।
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংলাপ নয়
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংলাপ নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে; কিন্তু বিএনপি কি চায় তা তারা নিজেও জানে না। আজ শুক্রবার সকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অহেতুক রঙিন স্বপ্ন দেখতে চায় তা সফল হবে না। এসময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীকাল শনিবার দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বর্ধিত সভা করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিন সিটি নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ বর্ধিত সভার। এতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আপনারা নির্বাচন থেকে পালাবেন না,বিএনপিকে হাছান মাহমুদ
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির দেশ ছেড়ে পালাতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপিই বরং নিজেদের পরাজয়ের কথা বুঝতে পেরে নির্বাচন থেকে পালাতে চাচ্ছে। আপনারা নির্বাচন থেকে পালাবেন না। গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছেন এবার তা করবেন না। হয়তো আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির দেশ ছেড়ে পালাতে হতে পারে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে অনেকেই রাজনৈতিক কারণে কারাগারে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কারণে কারাগারে যাননি। বিএনপি নেত্রী দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের নেত্রী নন। তিনি হলেন সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর ঘৃণার নেত্রী।
বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত
ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও ত্রিশালে পুলিশের সাথে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মাদক ব্যবসায়ী ছিল। এসময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে। নিহতরা হলো- তারাকান্দা উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী আলী হোসেন (৪৩) ও ত্রিশাল উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া (৪০)। আলী হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি-ডাকাতি ও মাদকসহ কমপক্ষে ২৫টি মামলা এবং স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানায়, রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সদরের ফুলপুর সড়কের পাশে কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ী মাদকের চালান নিয়ে ভাগাভাগি করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল এবং তারাকান্দা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুঁলি ছুঁড়লে এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশীকালে আলী হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলী হোসেনের নামে ডাকাতি চুরি পুলিশের উপর আক্রমণসহ ২৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা, ২টি বড় ছোড়া উদ্ধার করে। অপরদিকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সড়কের একটি পরিত্যক্ত ঘরে কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ীর অবস্থান টের পেয়ে ঘেরাও করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্বপন মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউল ইসলাম জানান, নিহত স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে আহত জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই সেলিম এবং তারাকান্দা থানার এসআই খন্দকার মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরকারের আর মাত্র ৯৯ দিন, মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন শেখ হাসিনা
বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ৯৯ দিন। এরপর অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। সে মন্ত্রিসভার আকার খুব ছোট হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকালীন সরকার নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত বা উন্নয়নমূলক কাজেও হাত দেবে না। তারা নিয়মিত কাজ পরিচালনা করবেন। সে কারণে এই ৯৯ দিনের উন্নয়ন কাজ ও দলকে সুসংগঠিত করার মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিসাব মতে, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যাবে। এ অবস্থায় সরকারি মহলে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২৭ ডিসেম্বরকে ভোট গ্রহণের দিন হিসেবেও বেছে নেওয়া হতে পারে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে নভেম্বরে। গত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। গেলবারের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা হবে। তবে এ বিষয়ে সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেবে। সেভাবেই ঠিক হবে নির্বাচনী মূল স্লোগান। নির্বাচনী ইশতেহারও সেভাবে ঠিক করা হচ্ছে। দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে আবারও মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যেসব জেলায় তিনি এখনো যাননি, সেসব জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগ ও জেলা সফরের শিডিউল মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাস্টার প্ল্যানকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিন তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের কথা শুনবেন। এ জন্য আগামী শনিবার গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের মতামত শুনবেন। সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এরপর ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে কমপক্ষে ২০টি জেলায় নির্বাচনী জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী ৩০ দিনে জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং দলীয় প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে মাঠে নামানো হবে। তরুণ ও নারী ভোটারদের কাছে টানতে যুগোপযোগী ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। ১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি এবং নির্বাচনী সব ধরনের প্রস্তুতি সারতে চায় এই সময়েই। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেবেন। প্রার্থী যেই হোক, নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেবেন তিনি। এতে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতা যারা এমপি বা মন্ত্রী নন, তারা জুলাই মাসজুড়ে ব্যস্ত থাকবেন সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে। আর যারা এমপি-মন্ত্রী রয়েছেন, তারা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় সাংগঠনিক সফরে ব্যস্ত সময় পার করবেন। অক্টোবরের আগেই জরিপ, মাঠ পর্যালোচনা ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে, এমন প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। জানা গেছে, জুলাই থেকে শুরু হবে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণের কাজ। এ কাজের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অক্টোবরের আগেই তা পূর্ণাঙ্গ করার টার্গেট রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যেই ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন বণ্টন শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
সোমবার থেকে লাগাতার অনশন
সরকার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি পূরণের সুর্নিষ্ট ঘোষণা না দিলে আগামী সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। অবস্থান কর্মসূচি পালনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ সকল সংসদ সদস্যকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম আজকালের খবরকে বলেন, ‘২০১০ সালে এমপিওভুক্তির সময় কোনো নীতিমালা ছিল না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ নীতিমালা জারি করেছে। আমাদের দাবি সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। রবিবারের মধ্যে সুর্নিষ্ট ঘোষণা না পেলে সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নন-এমপিও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে। ফলাফলও হয়তো খারাপ হয়েছে। শিক্ষকরা বেতন পেলে এমন অবস্থা হতো না। ১০০০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলে অন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।’ সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, পাঠদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গতকাল সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি দিয়েছেন। ফেডারেশনের সহসভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে আজ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি পৌঁছে দিয়েছেন। শুক্রবার রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিবেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন করবেন। সরকারের প্রতিশ্রæতি আদায় করতে রবিবার পর্যন্ত শিক্ষকরা অপেক্ষা করবেন। ইতিবাচক সাড়া না পেলে সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। আজ ননএমপিও শিক্ষকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সুশান্ত কুমার দাস, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল বাশার হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক ড. সদরুল আমীন প্রমুখ। তারা শিক্ষকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
একনেকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি নতুন প্রকল্পও রয়েছে। এর জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকসভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক সভাশেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আজকের সভায় ১৫টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ১১ হাজার ২২৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হবে ৫৮৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ছয় হাজার ৫৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ডুবোচর জেগে ওঠায় এক হাজার ১৬২ দশমকি ৬৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন দেশের ৯০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি ১০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সরকারি দলের আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম)’র অপর এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের বিতরণ লাইনের পরিমাণ ৪ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার, সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ১১ হাজার ৬০ সার্কিট কিলোমিটার এবং গ্রিড উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ৩৫ হাজার ৪০ এমভিএ। তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) এবং প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক সংযুক্ত করার মাধ্যমে আগামী অর্থ-বছরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার দক্ষতা ও সুরক্ষা বাড়াতে সরকার এক দশকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছে।
জনগণের কল্যাণের জন্যই জনপ্রশাসন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেছেন, জনগণের কল্যাণের জন্যই জনপ্রশাসন। তাদের আস্থা অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহের সঙ্গে অ্যানুয়েল পারফরমেন্স এগ্রিম্যান্ট (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিমান ও পর্যটন সচিবের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাইম হাসান, বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক মোসাদ্দিক আহমেদ, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজজামান খান কবির ও বাংলাদেশের ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান।