সরকারের আর মাত্র ৯৯ দিন, মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন শেখ হাসিনা
বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ৯৯ দিন। এরপর অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। সে মন্ত্রিসভার আকার খুব ছোট হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকালীন সরকার নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত বা উন্নয়নমূলক কাজেও হাত দেবে না। তারা নিয়মিত কাজ পরিচালনা করবেন। সে কারণে এই ৯৯ দিনের উন্নয়ন কাজ ও দলকে সুসংগঠিত করার মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিসাব মতে, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যাবে। এ অবস্থায় সরকারি মহলে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২৭ ডিসেম্বরকে ভোট গ্রহণের দিন হিসেবেও বেছে নেওয়া হতে পারে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে নভেম্বরে। গত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। গেলবারের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা হবে। তবে এ বিষয়ে সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেবে। সেভাবেই ঠিক হবে নির্বাচনী মূল স্লোগান। নির্বাচনী ইশতেহারও সেভাবে ঠিক করা হচ্ছে। দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে আবারও মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যেসব জেলায় তিনি এখনো যাননি, সেসব জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগ ও জেলা সফরের শিডিউল মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাস্টার প্ল্যানকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিন তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের কথা শুনবেন। এ জন্য আগামী শনিবার গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের মতামত শুনবেন। সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এরপর ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে কমপক্ষে ২০টি জেলায় নির্বাচনী জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী ৩০ দিনে জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং দলীয় প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে মাঠে নামানো হবে। তরুণ ও নারী ভোটারদের কাছে টানতে যুগোপযোগী ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। ১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি এবং নির্বাচনী সব ধরনের প্রস্তুতি সারতে চায় এই সময়েই। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেবেন। প্রার্থী যেই হোক, নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেবেন তিনি। এতে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতা যারা এমপি বা মন্ত্রী নন, তারা জুলাই মাসজুড়ে ব্যস্ত থাকবেন সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে। আর যারা এমপি-মন্ত্রী রয়েছেন, তারা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় সাংগঠনিক সফরে ব্যস্ত সময় পার করবেন। অক্টোবরের আগেই জরিপ, মাঠ পর্যালোচনা ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে, এমন প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। জানা গেছে, জুলাই থেকে শুরু হবে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণের কাজ। এ কাজের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অক্টোবরের আগেই তা পূর্ণাঙ্গ করার টার্গেট রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যেই ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন বণ্টন শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
সোমবার থেকে লাগাতার অনশন
সরকার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি পূরণের সুর্নিষ্ট ঘোষণা না দিলে আগামী সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। অবস্থান কর্মসূচি পালনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ সকল সংসদ সদস্যকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম আজকালের খবরকে বলেন, ‘২০১০ সালে এমপিওভুক্তির সময় কোনো নীতিমালা ছিল না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ নীতিমালা জারি করেছে। আমাদের দাবি সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। রবিবারের মধ্যে সুর্নিষ্ট ঘোষণা না পেলে সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বহু বছর ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নন-এমপিও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমেছে। ফলাফলও হয়তো খারাপ হয়েছে। শিক্ষকরা বেতন পেলে এমন অবস্থা হতো না। ১০০০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলে অন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।’ সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, পাঠদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গতকাল সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি দিয়েছেন। ফেডারেশনের সহসভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে আজ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি পৌঁছে দিয়েছেন। শুক্রবার রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিবেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন করবেন। সরকারের প্রতিশ্রæতি আদায় করতে রবিবার পর্যন্ত শিক্ষকরা অপেক্ষা করবেন। ইতিবাচক সাড়া না পেলে সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। আজ ননএমপিও শিক্ষকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সুশান্ত কুমার দাস, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল বাশার হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক ড. সদরুল আমীন প্রমুখ। তারা শিক্ষকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
একনেকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি নতুন প্রকল্পও রয়েছে। এর জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকসভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক সভাশেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আজকের সভায় ১৫টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ১১ হাজার ২২৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হবে ৫৮৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ছয় হাজার ৫৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ডুবোচর জেগে ওঠায় এক হাজার ১৬২ দশমকি ৬৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন দেশের ৯০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি ১০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সরকারি দলের আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন (নাছিম)’র অপর এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের বিতরণ লাইনের পরিমাণ ৪ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার, সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ১১ হাজার ৬০ সার্কিট কিলোমিটার এবং গ্রিড উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ৩৫ হাজার ৪০ এমভিএ। তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে (নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) এবং প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক সংযুক্ত করার মাধ্যমে আগামী অর্থ-বছরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার দক্ষতা ও সুরক্ষা বাড়াতে সরকার এক দশকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছে।
জনগণের কল্যাণের জন্যই জনপ্রশাসন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেছেন, জনগণের কল্যাণের জন্যই জনপ্রশাসন। তাদের আস্থা অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহের সঙ্গে অ্যানুয়েল পারফরমেন্স এগ্রিম্যান্ট (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিমান ও পর্যটন সচিবের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাইম হাসান, বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক মোসাদ্দিক আহমেদ, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজজামান খান কবির ও বাংলাদেশের ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান।
মওদুদ আহমেদের গুছিয়ে মিথ্যা কথা বলার গুণ আছে
বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের গুছিয়ে সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলার বিশেষ গুণ আছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, তিনি (মওদুদ আহমেদ) মিথ্যা বলার পারদর্শিতার কারণেই জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সরকারের খুব প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মওদুদ আহমেদ জিয়াউর রহমানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরশাদ সাহেবেরও প্রধানমন্ত্রী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জিয়াউর রহমানের পতনের মুহূর্তেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এবং এরশাদের সময় তার দুর্নীতির শাস্তি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তখনও দুর্নীতির অভিযোগে তার শাস্তি হয়েছিল। কিন্তু পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের মেয়ের জামাতা হিসেবে পল্লী কবির অনুরোধের প্রেক্ষিতে তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছিল। সুতরাং তিনি বহু আগে থেকেই একজন বিতর্কিত মানুষ। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন
গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার উপকমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘গাজীপুরে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ বাস করেন, যাঁরা টাঙ্গাইলে বাড়ি, ময়মনসিংহে বাড়ি, কিশোরগঞ্জে বাড়ি এবং অন্যান্য অঞ্চলের আশপাশে। এগুলো সবগুলোই আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকা। আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে ওই এলাকায় জনপ্রিয়। সেখানে আমাদের কোনো কাউকে গ্রেপ্তার করার, কাউকে হয়রানি করার কোনো রকম প্রশ্নই ওঠে না। এগুলো আমরা কিছুই করছি না। এগুলো সবই অপপ্রচার, মিথ্যা কথা।’ আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৪ প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ এবং নারী ভোটার পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৮ মোহাম্মদ শামীম আলম সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানকে দেয়া এক ডিও লেটারের বরাত দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার উপসচিব এ জেড এম শারজিল হাসান ২০ জুন ওই চিঠিটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানকে দেয়া ডিও লেটারে লিখেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এক অনন্য মাইল ফলক। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নির্দেশনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর পক্ষ থেকে প্রকল্প গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ ও সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণ পরবর্তী, বিক্রয়, বিপণন, পরিচালক ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) গঠন করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশ ও জাতির গৌরবময় এ অর্জনে আপনি অংশীদার। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বৈদেশিক স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ হ্রাস করা, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অাপদকালীন মুহূর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখা ও দেশের অার্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের অন্যতম উদ্দেশ্যে। দেশের একটি গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সেবাগ্রহণ করে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগেকে সফল করার জন্য আপনার বিভাগ/মন্ত্রণালয় অবদান রাখতে পারে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে আপনার মন্ত্রণালয়/বিভাগের জরুরি প্রয়োজন সময়ে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব। চিঠিতে জানানো হয়, স্যাটেলাইট কোম্পানির কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়/বিভাগে যোগাযোগ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে এ সেবাগ্রহণের জন্য সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু ২৪ জুলাই
তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আগামী মাসের ২৪ জুলাই ঢাকায় শুরু হবে। এই সম্মেলন ২৬ জুলাই শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের প্রশাসনকে চাঙ্গা রাখা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতি আনা, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও দর্শনের বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা, ভুলভ্রান্তি সংশোধন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিবছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সপ্তাহেই সম্মেলনের তারিখ জানিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরকারের নীতি, দর্শন, প্রাধিকার—এগুলো নিয়ে প্রতিবছর এ বৈঠক হয়। এবারও এটা হবে। তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। কিছু প্রোগ্রামও চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রোগ্রাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এখানে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় শোনেন এবং নির্দেশনা দেন। এবারও সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা অংশ নেবেন। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জাতীয় পাতার আরো খবর