রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান হাসিনার
অনলাইন ডেস্ক: জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) সহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে সুনির্দিষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় আইডিবির ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, মিয়ানমারকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুনির্দিষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইডিবি চুপ থাকতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, তখন আইডিবি চুপ থাকতে পারে না। কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য আইডিবিকে আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে একটি মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত উম্মুক্ত করে দিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। নিজস্ব সম্পদ, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করতে দিয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এখন আমরা তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে চাই। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আইডিবির সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সেক্টরে বিনিয়োগের চাহিদা, বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি পর্যালোচনা করার জন্য কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (২০১৬-২০২১) গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগ পরিকল্পনা মতে সম্পূর্ণ মেয়াদে মোট ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ আরও ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন এবং অভিযোজন করার জন্য ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা’র আওতায় বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্য ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে কোনো ইস্যুতে বাংলাদেশ অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, অবকাঠামো, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম. এইচ. হাজ্জার।
সংসদের শেষ অধিবেশন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আজ রবিবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ অধিবেশন বসছে। বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হবে এ অধিবেশন। এর আগে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ অন্য সদস্যরা এতে উপস্থিত থাকবেন। এ বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৯ আগস্ট সংসদের ২২তম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগে গত ১২ জুলাই সংসদের ২১তম অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশন ২৫ কার্যদিবস চলেছে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে। সে হিসেবে জরুরি কোনো প্রয়োজন না পড়লে এ অধিবেশনই হতে পারে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। এ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮। সাজার মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ইভিএম যুক্ত করার জন্য সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হতে পারে এই অধিবেশনে।
সুবর্ণা নদী হত্যা: আসামি মিলন গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক: সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তার নদী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শামসুজ্জামান মিলনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতরাতের কোনও এক সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মিলন পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি সুবর্ণা নদীর সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনের মালিকানাধীন ইড্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল (ইউনানি)-এর ব্যবস্থাপক। নদী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি মিলন। র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ দুপুর ১২টায় র‌্যাব পাবনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মিলনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান র‌্যাব কমান্ডার। গত ২৮ আগস্ট রাতে শহর থেকে ভাড়াবাসায় প্রবেশের মুহূর্তে আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় সুবর্ণা নদীর মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে নদীর সাবেক স্বামী-শ্বশুরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শীর্ষ নিউজ
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে: ভারতীয় হাইকমিশনার
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা বলেছেন, সুসময়ে ও দুঃসময়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ চরমপন্থীদের প্রত্যাখ্যান করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। শনিবার শেষ বিকেলে বরিশাল শেরবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় মিলনায়তনে ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা এসব কথা বলেন। ভারতীয় দূতাবাস এবং মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োাজিত এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, পংকজ দেবনাথ এমপি, বরিশালের নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় উপ-দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার রাজীব রায়না, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোশারফ হোসেন, বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান এবং ভারতীয় দূতাবাসের মিডিয়া অ্যাটাসে রঞ্জন মন্ডল। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১২০ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
শুধু সার্টিফিকেট নয়, আলোকিত মানুষ হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে
অনলাইন ডেস্ক: প্রধান বিচাপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তির সব শাখায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা নয়, আলোকিত মানুষ হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেকে ড. বশির আহমেদ কলেজের গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, নবীণ বরণ ও কলেজের দ্বিতল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান বিচাপতি তার বক্তব্যে আরো বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষা তথা জ্ঞানবিজ্ঞানের ওপর। শিক্ষা উন্মোচন ঘটনায় নবদিগন্তের, মানুষকে সচেতন করায় তার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে। শিক্ষা মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, জ্ঞানের পরিধিকে বাড়িয়ে দেয়। স্কুল-কলেজ হচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণের আলোকবর্তিকা। আর শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাদের গভীর জ্ঞান, আদর্শ ও জীবনযাত্রা শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল। শিক্ষাজীবনের শুরুতে একজন শিক্ষার্থী যদি ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, কর্মনৈপুণ্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে, সে শিক্ষার্থী হয়ে উঠতে পারে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়ার কারিগর। গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা ও বৃত্তিপ্রদান শেষে কলেজের দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। এর আগে তিনি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করেন। কলেজের অধ্যক্ষ ব্যারিস্টার শাহীন মিরাজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিচারপতি আশরাফুল কামাল, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম অহিদুজ্জামান, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. প্রফেসর আবদুল হান্নান, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম (বাবলী), সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশির আহমেদ, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদুল্যা খান সোহেল, নোয়াখালী বারের সভাপতি অ্যাড. আবদুর রহমান, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আবুল খায়ের, অ্যাড. ওমর ফারুক, অ্যাড. আমিরুল ইসলাম বুুলবুল প্রমুখ। এর আগে তিনি নোয়াখালী জেলা জজ কোর্টে জজ ও বিচারক এবং বারের জিপি-পিপি নেতৃবৃন্দ সাথে মতবিনিময় করেন। বিকেলে তিনি তার নানার বাড়ি সোনাইমুড়ি উপজেলা বারগাঁও কবর জিয়ারত করেন।
কোন ধরনের নাশকতা বরদাস্ত করা হবে না: আইজিপি
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অরাজকতা, নাশকতা, আন্দোলনের নামে হুমকি ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, পুলিশ সে জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান ২০১৮ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আন্দোলনের হুমকি, অরাজকতা কিংবা অপচেষ্টা রোধে পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ যথেষ্ট সক্ষম। যেকোনো ধরনের নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও দমাতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আন্দোলনের নামে হুমকি ও শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে দেয়া হবে না। নির্বাচনেরর আগে গ্রেপ্তার আতঙ্ক, গণগ্রেপ্তার সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কখনও কোনো দলের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করি না। শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করি যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, ওয়ারেন্ট আছে। সেক্ষেত্রে তাদের কী পরিচয় সেটা আমরা দেখি না। গ্রেপ্তারের সঙ্গে নির্বাচন কিংবা কোনো দলের নেতাকর্মীদের সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক জরিপে উঠে এসেছে- দেশের বিদ্যমান সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন দেখার সুযোগ হয়নি। তবে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখেছি। টিআইবির ওই গবেষণা রিপোর্টটি পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কীভাবে এই গবেষণা করা হয়েছে, কারা ছিল, কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কী উত্তর তারা পেয়েছেন তা বিস্তারিত জেনে মন্তব্য করা যাবে। এর আগে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মো. মহসিন হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য পুলিশ পরিবারের ৩৬১ কৃতি শিক্ষার্থী বৃত্তি প্রদান করেন আইজিপি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বহিষ্কার: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। শনিবার ট্রেনে করে উত্তরবঙ্গ সফরে যাবার পথে বেলা পৌনে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এক পথসভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। এর আগে সকাল ৮টার দিকে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর’ এক্সপ্রেসে করে উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফর শুরু করেন ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এসে নামেন এবং সেখানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দেন তা রক্ষা করেন। আগামীতে ক্ষমতায় এলে শতভাগ উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনুন, দেশে শতভাগ উন্নয়ন হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাবেন। এ সময় দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে, দলের আদেশ অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, কেউ কোন্দলে জড়াবেন না, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে শোকজ পাঠানো হবে। মন্ত্রী বলেন, এই সরকার ডিজিটাল সরকার। দেশকে ডিজিটাল করতেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার সুফল আমরা পাচ্ছি। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্ট টিভিতে পাচ্ছি। ‘বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির মূল শক্তি গুজব-সন্ত্রাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা আবারো ২০১৪ সালের মতো আগুন সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছে। জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের এই অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’ মন্ত্রী বলেন, গত নয় বছরে বিএনপি নয় মিনিটও রাস্তায় আন্দোলনে নামতে পারেনি। বরং তারা কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। তারা দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আগুন সন্ত্রাস করে তারা বিদেশিদের কাছে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়েছি। বিএনপি গুজবের রাজনীতি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ গুজবে বিশ্বাস করে না। জনগণ আর বিএনপির দুঃশাসনে ফিরে যেতে চায় না। দেশে যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে তা জনগণকে জানাতে হবে। তাতে জনগণ আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে। বক্তব্যের শুরুতেই টাঙ্গাইলবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমরা ট্রেনে করে এসেছি। ট্রেনে করেই যাচ্ছি। এতে করে বোঝা যায় আপনারও ট্রেনে যেতে পারবেন। আমরা ঢাকা থেকে ট্রেনে এসে ইঙ্গিত দিলাম যে ঢাকা থেকে আপনাদের জন্য ট্রেন আসছে। একটু অপেক্ষা করেন, আপনারা ঢাকা-টাঙ্গাইল ট্রেন পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা কথা দেন, সেটা পালন করেন। তিনি টাঙ্গাইলবাসীদের ট্রেন দিতে চেয়েছেন। আপনারা ট্রেন পাবেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন আপনারা মেডিক্যাল কলেজ পাবেন, পেয়েছেনও। পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাংসদ ছানোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। পথসভা শেষে ওবায়দুল কাদের সফর সঙ্গীদেরসহ বেলা ১১টার দিকে ফের ট্রেনযোগে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দলকে শক্তিশালী করতেই উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ট্রেন সফর: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতেই উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ট্রেন সফর। ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও সফর করা হবে। শনিবার সকালে নির্বাচনী ট্রেন যাত্রার শুরুতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উদ্বাধনী বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি জামায়াতের গুজবের রাজনীতির নিয়ে সচেতন হয়, সে বিষয়ে দলের এই সাংগঠিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরে উত্তরের বিভিন্ন স্টেশনে ১১টিরও বেশি পথসভা করার কথা রয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এই ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নির্বাচনী সফর করবে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর সড়ক পথে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। কিছুদিন আগে আমরা রাজশাহীতে নির্বাচনী সফর করে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার জন্যই আমাদের এই সফর। এর মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কিছু বার্তা দিতে চাই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সামনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে। ট্রেন যাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সফর নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার শান্তাহার, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করা হবে। সফররত আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি তিন থেকে চার মিনিট হলেও পথসভা উপলক্ষে নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি হবে ১০ মিনিট। এই বিরতির ফাঁকেই উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী বক্তব্য রাখবেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী এই ট্রেন সফরে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে আছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি. এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দপ্তর সম্পাদিক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর