আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকেই গণভবনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা যায়, আজ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার ধানমণ্ডির কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে জায়গা সংকুলানের কথা চিন্তা করে সকালে ভেন্যু পরিবর্তন করে গণভবনে নেয়া হয়েছে। ফরম সংগ্রহ করা নেতাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানা গেছে। এর আগে নির্বাচনের প্রথম তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (৯ নভেম্বর) থেকে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। টানা ৪ দিন যাবত ৮ বিভাগের জন্য পৃথক পৃথক ৮টি বুথ থেকে সর্বমোট ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শেষ দিনে ঢাকা বিভাগে ৯০টি, রাজশাহী বিভাগে ২৯টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮টি, রংপুর বিভাগে ২৬টি, সিলেট বিভাগে ৭টি, বরিশাল বিভাগে ৩০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৬টি ও খুলনা বিভাগে ৪৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছে
চুলচেরা বিশ্লষণ করেই প্রার্থী চুড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে এই কার্যক্রম। আজ বুধবার (১৪ নভেম্বর) দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নেবে দলের মনোনয়ন বোর্ড। এ পর্যন্ত সর্বমোট চার হাজার ২৩টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বর্তমানে সংসদে থাকা এমপি ছাড়াও সাবেক এমপি, ছাত্রনেতা ও স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও আছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নেবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। আগে থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতারা বলে আসছিলেন বিএনপি ভোটে অংশ নেবে। সে কারণে এবার আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। সেক্ষেত্রে শতাধিক এমপির কপাল পুড়তে পারে। দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ৯ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন বিক্রি করছেন ক্ষমতাসীন এ দলটি। আজ বুধবার (১৪ নভেম্বর) মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলের মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হতে হবে। এবার চুলচেরা বিশ্লষণ করেই প্রার্থী চুড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, কয়েক দফা জরিপের ফলাফলে যিনি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হবেন, যাকে দিয়ে নৌকার বিজয় সম্ভব তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। নিজ কর্মকান্ডে বির্তকিত হয়েছেন বা সরকার ও দলকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন এমন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। এদিকে, এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় জমেছিল দলের সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে। একটি আসনে কমপক্ষে ৩ জন, কোথায় কোথায় ডজন ছাড়িয়ে ১৮ জনও মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। বিষয়টিকে দলের নেতাকর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে বড় দল। অনেকেই মনোনয়ন চাইবে। যিনি যোগ্য, জনপ্রিয় এবং জেতার সামর্থ্য রাখেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। কেননা নির্বাচনে প্রতিটি আসন খুব গুরুত্বপূর্ণ। মনোনয়ন বোর্ড সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জনগণের কাছে জিতবে পারে, গ্রহণযোগ্যদের নমিনেশন দেয়া হবে। নিজেদের অগ্রহণযোগ্যদেরও বাদ দেয়া হবে। ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির বিপক্ষে এবার ক্ষমতাসীনদের লড়তে হবে। তাদের তো দুর্বল মনে করলে চলবে না। উইনেবল, গ্রহণযোগ্যদের বিষয়ে অনেকগুলো সার্ভে করা হয়েছে। এছাড়া নৌকা প্রতীকে যেসব দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করবে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সেই তালিকা জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদের কাছে এ তালিকা জমা দেন। তবে কোন কোন দল নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘নৌকা প্রতীকে কারা ভোট করবে আমরা সে তথ্য কমিশনে দিয়েছি। তবে দলগুলোর নাম বলতে আমি অথরিটি নই।’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক দল নির্বাচন কমিশনে আলাদা চিঠি দিয়ে নৌকা ও তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট করতে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। নিবন্ধনহীন বাংলাদেশ জাসদও নৌকা প্রতীকে ভোট করতে চেয়ে এ ধরনের একটি চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ
অনলাইন ডেস্ক :আজ বুধবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিসহ (বাডাস) বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী ডায়াবেটিস সম্পর্কিত সচেতনতামূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ছাড়াও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১২টায় সেগুন বাগিচাস্থ বারডেম হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
প্রতিটি আসনেই জাতীয় পার্টির রিজার্ভ ভোট আছে
অনলাইন : জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, প্রতিটি আসনেই জাতীয় পার্টির রিজার্ভ ভোট আছে, তারাই প্রতিটি আসনের জয়পরাজয়ে মূল ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি থাকলে প্রতিটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীর বিজয়ের পথ সহজ হবে। মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই শতশত নেতা-কর্মী মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করছেন। তাদের কথা বিবেচনা করে ১৪ ও ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র বিতরণ করা হবে। যতদ্রুত সম্ভব মহাজোটের আসন বন্টন শেষ হবে। চুলচেরা বিশ্লেষণে চুড়ান্ত হবে প্রার্থী তালিকা। দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে মনোনয়নপত্র বিতরণ পরিদর্শনে এসে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, জাতীয় পার্টি মহাজেটে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবে। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই দু একদিনের মধ্যেই মহাজোটের আসন বন্টন চুড়ান্ত। আশা করছি শরিক দলগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন পাবে। তবে, সব কিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চুড়ান্ত হবে। আশা করছি সবার অংশ গ্রহণে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হবে। নির্বাচনের পরিবেশ দেশে-বিদেশে সমাদৃত হবে। এসময় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান :স্পিকার
অনলাইন :জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বে অনন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই ১৯৭২সালে জাতিকে এই সংবিধান উপহার দেন। কোন অনুকম্পা কিংবা সমঝোতা নয়, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ ও গৌরবময় সংবিধান। স্পিকার মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনমেন্টস্থ ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে পার্লামেন্ট: রোল, ফাংশন এ্যান্ড পার্লামেন্টারী প্র্যাকটিসেস ইন দ্যা কনটেক্সট অব পার্লামেন্টারী ডেমোক্রেসি শীর্ষক সেশনে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। স্পিকার সংবিধানের আলোকে সংসদীয় গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, শোষণ-বৈষম্যহীন আইনের শাসন, সংসদীয় চর্চা ও রীতিনীতির উপর বিশদ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দেশের সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ, আর সংসদ হচ্ছে সেই ক্ষমতার প্রতীক। সংসদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয় সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি ও সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে। সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন। সংসদ সদস্যগণ সংবিধানের সাথে কোন সাংঘর্ষিক আইন প্রণয়ন করে না। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সরকারের জবাদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটিগুলো কাজ করে থাকে। সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অবদান সংসদকে কার্যকর করতে সহায়তা করে। সেক্ষেত্রে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় দশম জাতীয় সংসদ ছিল অনন্য। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ- নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। প্রত্যেকটি বিভাগ সংবিধান এর আওতায় নিজ সীমারেখায় সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে থাকে। প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র সচল থাকে। এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং সুসম্পর্ক বজায় থাকলে রাষ্ট্র স্বাভাবিক গতিতে চলে। বক্তব্য শেষে প্রশ্নপর্ব সেশনে স্পিকার অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ডিএসসিএসসি কোর্সে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ১৭০ জনসহ বিশ্বের ১৯টি দেশের ৪৫জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এ সময় ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট কমোডর এম. রাশেদ আলী, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস. এম মাহবুব উল আলমসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য কি নির্বাচন বসে থাকবে ?ওবায়দুল কাদের
অনলাইন :নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রাখায় বিএনপি যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তাকে অযৌক্তিক বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, কোনো কারণে যদি বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে না পারে, সেজন্য কি নির্বাচন পেছাতে হবে? ঐক্যফ্রন্টের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে আপত্তি তুলে ভোট এক মাস পেছানোর দাবিতে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন। এরপর ইংরেজি নববর্ষ। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনীতিবিদরা অনেকেই এ সময় ছুটিতে থাকেন। তাদের দৃষ্টির অন্তরালে একটা বড় ভোট চুরির নির্বাচন করতে সরকারের কৌশলী নির্দেশে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করছে ইসি। বিএনপির ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য কি নির্বাচন বসে থাকবে? তিনি বলেন, দেশটাকে ছোট ভাববেন না, দেশটাক উপরে তুলে দিন। আমাদের দেশ সবার উপরে। আমরা কারো চেয়ে ছোট না। বন্ধু দেশ আমাদের অসংখ্য আছে। কিন্তু মর্যাদায় আমরা কারো চেয়ে ছোট না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, যারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাদের সাক্ষাৎকার হবে আগামীকাল বুধবার। মনোনয়ন বোর্ডে সভাপতি হিসেবে থাকবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারের পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস দিনটি বিশেষভাবে গর্বের :রাষ্ট্রপতি
অনলাইন :রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। আগামীকাল ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি বলেন, এব্যপারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে গর্বের। কারণ আজ থেকে এগারো বছর আগে বাংলাদেশের উদ্যোগেই দিবসটি জাতিসংঘ দিবসের মর্যাদা লাভ করে। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তির প্রসার ও নগরায়ণের প্রভাবে মানুষের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। অতিমাত্রায় ফাস্টফুড, কোমল পানীয়র মতো ক্যালরিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের ফলে বাড়ছে স্থুলতার ঝুঁকি। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে পরিবর্তিত জীবনধারণসহ জিনগত এবং অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণেও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডায়াবেটিস এখন উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এ প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস এর প্রতিপাদ্য ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ যথাযথ হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করতে হলে এ রোগের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। পরিবারের মধ্য থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি শুরু করতে হবে ।বাসস
জিরো টলারেন্সে থাকবে ইসি
অনলাইন :ত্রিশ ডিসেম্বরের পর সংসদ নির্বাচনের তারিখ আর পেছাবে না জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ নেই। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রার্থী বা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সন্দেহ'র উর্ধ্বে উঠে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন কমিশনাররা। ৩০ ডিসেম্বরের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আর সুযোগ নেই। সকালে আগাঁরগাওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, 'সব ভোটার, ভোটকেন্দ্রে বিনা বাঁধায় স্বাধীনভাবে, স্বাধীনচিত্তে আনন্দঘন পরিবেশে ভোট দিবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিবেন। ৩০ তারিখের পরে আমাদের আর পিছানোর কোন সুযোগ নেই। সেটাকে আপনাকে সামনে রেখেই এই প্রস্তুতি নিতে হবে।' নির্বাচনের আগে সবকিছু নিয়ন্ত্রনে রাখা কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ উল্লেখ্য করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স থাকবে ইসি। মাহবুব তালুকদার বলেন, 'নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোন প্রকার শিথিলতা আমরা বরদাস্ত করবো না। নির্বাচনে গাফেলতির জন্য যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্তা রয়েছে তা প্রয়োগ করতে আমরা দ্বিধাবোধ করবো না।' অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসারদের ব্যর্থতার দায় যেন ইস্র উপর না আসে সে ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন নির্বাচন কমিশনাররা। কবিতা খানম বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আপনারা আপনাদের কাজ করবেন, যেন কোন পক্ষ থেকে আপনাকে কোন মন্তব্য করতে না পারে।
দ্রুত গতিতেই জাপানে প্রস্তুত হচ্ছে ট্রেন সিমুলেটর
অনলাইন ডেস্ক: বেশ দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের কাজ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উড়ালপথ এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সে লক্ষ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শুধু বাংলাদেশে নয়, কাজ জাপানেও হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম রোলিং স্টক (কোচ) ও ট্রেন সিমুলেটর। জাপানে এগুলো প্রস্তুতের পরে পানিপথে বাক্সবন্দী হয়ে বাংলাদেশে আসবে এই রেল কোচ। কোচ শতভাগ প্রস্তুতির পর ঢাকায় শুধুমাত্র মেট্রোরেল ট্র্যাকের উপরে বসিয়ে দেয়া হবে। কোচগুলো সরবরাহ করবে জাপানের কাওয়াসাকি-মিটসুবিসি কনসোর্টিয়াম। কোচে লাল-সবুজের প্রাধান্য রয়েছে, যা তৈরির আর্থিক অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাংলাদেশে ট্র্যাক নির্মাণের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোচগুলো পানিপথে দেশে আসবে। এসব কথা বিবেচনা করেই এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের কোচ তৈরির কাজ। সূত্র আরো জানায়, প্যাকেজ-০৩ ও ০৪ এর আওতায় উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। উভয় প্যাকেজের কাজ ২০১৭ সালের ১ আগস্ট শুরু হয়েছে। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। টেস্ট পাইল, চেক বোরিং এবং মোট ৭৬৬ টি পাইল ক্যাপের মধ্যে ২৩৫টির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মোট ৪৪৮ টি পিয়ার হেডের মধ্যে ৮৮টি এবং ৪,৫৭৭ টি প্রিকাস্ট সেগম্যান্টের মধ্যে ৬১৭টি সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে ৩০০ মিটার ভায়াডাক্ট। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ শে জুন ২০১৯ তারিখ এ প্যাকেজের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর বাস্তব অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রসঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) খান মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কাজের গতি বাড়াতেই বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ ভাগ করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, জাপানেও হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ। আমাদের দেশে ট্র্যাক নির্মাণ হলেই জাপান থেকে কোচ এনে বসিয়ে দেবো। বাক্সের মোড়ক খুলে রেডিমেট কোচগুলো বসিয়ে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ করা। আমাদের কাজ সম্পূর্ণ হলেই কোচগুলো জাপান থেকে আনতে পারবো। তিনি বলেন, কোচগুলো হবে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী। প্রতিটি কোচ হবে ট্রেনেস্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ছয়টি বগি থাকবে, যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৭৩৮। বগির উভয় পাশে থাকবে চারটি দরজা। ট্রেনে সিটের ধরন হবে লম্বালম্বি এবং প্রতি ট্রেনে ২টি হুইল চেয়ার থাকবে। এছাড়া থাকবে স্টার্টকার্ড টিকেটিং পদ্ধতি। মিজানুল বলেন, ২৪ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে ঢাকায়। উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেইট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে মেট্রো রেল, সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। প্যাকেজ ৮-এ রেল কোচ প্রস্তুতে ব্যায় হবে চার হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এছাড়া রোলিং স্টক পরিচালনা সংরক্ষণের জন্য ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে এই প্যাকেজে। ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার মেট্রোরেলের বাকি অংশের (মতিঝিল পর্যন্ত) কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে। মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা-নেওয়া করবে। মেট্রোরেলের সার্বিক বাস্তব গড় অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সার্বিক আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও অংশের আর্থিক বেশি। অন্যান্য প্যাকেজ ভিত্তিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির মধ্যে প্যাকেজ-০১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) বাস্তব কাজ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়ে নির্ধারিত সময় ০৯ (নয়) মাসে সমাপ্ত হয়েছে। প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্যাকেজের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে বাস্তব অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। প্যাকেজ- ৫ হলো আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ৩.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৩ টি স্টেশন নির্মাণকাজ। এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। বর্তমানে এ অংশে স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং এবং পরিসেবা স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ। প্যাকেজ- ৬ কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪.৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪ টি স্টেশন নির্মাণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এই প্যাকেজের কাজ শুরু করে। স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বর্তমানে এ অংশে পরিসেবা স্থানান্তর শেষে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ। প্যাকেজ-৭ অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ১১ জুলাই শুরু হয়। বর্তমানে হাই ভোল্টেজ ফিডার ক্যাবল রাউট সার্ভে ও আন্তঃপ্যাকেজ সমন্বয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

জাতীয় পাতার আরো খবর