পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন:প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ। এমনটাই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভাষণ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দেয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায়, সেজন্য নিঃশর্ত-ভাবে দেশের কল্যাণে সবার আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতার এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি বলেন,' বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গেছেন। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে উন্নত করতে পেরেছি।' এ সময় গলা ভারী হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। চোখে অশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় আজকে যে বাংলাদেশের মানুষের অর্জন, তিনি কি বেহেস্তে থেকে দেখতে পাবেন! তিনি কি জানতে পারবেন! আমি এখানে আসার আগে আমার ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। যে আব্বা যেটা চেয়েছিলেন তার বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে। আজকে সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। আমরা একটা ধাপ এগিয়ে গেছি।' শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'যদি তিনি বেঁচে থাকতেন হয়তো দশ বছরের মধ্যে আমরা এই অর্জন করতের পারতাম। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের বহু বছর লেগে গেল। অনেক সময় লেগে গেলো। ৪৭ বছর হলো আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আগামী ২৬ তারিখ আমাদের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্ণ হবে। দীর্ঘ সময় পরে আমাদের এই অর্জন। নিশ্চয়ই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কেন আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।' এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরণ অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয়।
কিডনি ফাংশন কমে আসছে পাইলট আবিদের স্ত্রী'র
নেপালের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপির অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক। তার মস্তিষ্ক এখনো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না এবং শারীরিক অবস্থাও খারাপের দিকে। কৃত্রিম শ্বাস যন্ত্রের মাধ্যমে তার শ্বাস প্রশ্বাস চলছে বলেও জানান চিকিৎসক। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সের যুগ্ম পরিচালক ডা. বদরুল আলম বলেন, 'গত কয়দিনের তুলনায় খারাপের দিকে। বিশেষ করে কিডনি ফাংশন কমে আসছে। অন্যান্য কার্যক্রমও কমে আসছে। আমরা আমাদের সব দিয়ে চেষ্টা করব।' পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান নিহত হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেন তিনি। গত রোববার ভোরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আবিদ সুলতানের স্ত্রীকে। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
জনগণ ও গণমানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই রাজনীতি করি:প্রধানমন্ত্রী
যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মেনে নিতে পারেনি , তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি জানান, জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও গণমানুষের রাজনীতির জন্যই রাজনীতি করি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভাষণ শুরু আগে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। তিনি বলেন, 'উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম গ্রাম থেকে উন্নয়ন। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেয়েছি। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারেনা। তাই আমরা শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে বই প্রদান শুরু করলাম এবং উপবৃত্তি চালু করেছিলাম।' প্রধানমন্ত্রী বলেন,'আজকের যা কিছু অর্জন তা সবকিছুই জনগণের অর্জন। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পন্নোত স্বাধীন একটা দেশ রেখে গিয়েছিলেন আর আমরা সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।' এসময় তিনি বলেন, আমরা বেসকারি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায়। এই অগ্রযাত্রা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলন, বাঙ্গালি জাতিকে যে দাবিয়ে রাখা যাবে না তা আবারো আমরা প্রমাণ হয়েছে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতার এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এর আগে সকালে উত্তরণ অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শুভেচ্ছা। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এদিকে বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে সাংস্কৃতিক ও আলোক উৎসব। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সমবেত হবেন সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তর ও সংগঠনের ব্যক্তিরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, বাংলা একাডেমি ও দোয়েল চত্বর থেকে জিপিও হয়ে শোভাযাত্রা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। এছাড়া শিল্পকলা, মৎস্য ভবনের সামনে দিয়ে কদম ফোয়ারা হয়ে প্রেসক্লাব ও বায়তুল মোকারম মসজিদের সামনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শিল্পভবন, নগর ভবন ও গোলাপশাহ মাজার দিয়ে আসা শোভাযাত্রা প্রবেশ করবে স্টেডিয়ামের পূর্ব গেইট দিয়ে। এখানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অফিসের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রকার দাহ্যবস্তু বহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিশ্বের উন্নত ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে'৪১ সালের মধ্যে
২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ২০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশকে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাথমিক স্বীকৃতি দেয়া উপলক্ষে বুধবার সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন চলতি বছরেই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ২ থেকে ৩ টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট ভাল উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন দেশে ধনী শ্রেণি যত বাড়বে অর্থনীতি তত বড় হবে। এছাড়া এমডিজির মত এসডিজি অর্জনেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, 'ধনী মানুষ যত বেশি হবে, যত মধ্যম শ্রেণির মানুষ শক্তিশালী হবে আমাদের অর্থনীতির বুনিয়াদ আরো শক্তিশালী হবে। আমরা যদি ৯ বছরে ১৫টি দেশকে পিছনে ফেলে আজকে ৪৩ আসতে পারি, তাহলে ৪১ সালে ২০ টি দেশের মধ্যেও আসতে পারব।'
আজ প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নশীল দেশের সংবর্ধনা দেয়া হবে
সল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্যে আজ বৃহস্পতিবার আনন্দ শোভাযাত্রা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া হবে সংবর্ধনা। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে, বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উদযাপনের উদ্বোধনী পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে সাংস্কৃতিক ও আলোক উৎসব। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সমবেত হবেন সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তর ও সংগঠনের ব্যক্তিরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, বাংলা একাডেমি ও দোয়েল চত্বর থেকে জিপিও হয়ে শোভাযাত্রা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। এছাড়া শিল্পকলা, মৎস্য ভবনের সামনে দিয়ে কদম ফোয়ারা হয়ে প্রেসক্লাব ও বায়তুল মোকারম মসজিদের সামনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শিল্পভবন, নগর ভবন ও গোলাপশাহ মাজার দিয়ে আসা শোভাযাত্রা প্রবেশ করবে স্টেডিয়ামের পূর্ব গেইট দিয়ে। এখানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অফিসের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রকার দাহ্যবস্তু বহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি আর নেই
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়া বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি আর নেই। বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বার্ধক্য জনিত নানা জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কাকন বিবি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা অবশেষে হার মানলেন মৃত্যুর কাছে। চিকিৎসকরা জানান, প্রায় বছর খানেক ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদফা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও গত ১৯ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে আবারো ভর্তি হন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে কাকন বিবিকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। কাকন বিবির মেয়ে বলেন, 'এই অসুখ অবস্থায় আমার মা ঢাকা গেল। গ্যাজেট পেল না। সরকারের কাছে গ্যাজেটের দাবি জানায় আমরা।' ১৯১৫ সালে মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীর একটি গারো পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাকন বিবি। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে তিনি বসবাস শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মাত্র তিনদিন বয়সী কন্যাসন্তান সখিনাকে রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেন। টেংরাটিলা, আমবাড়ি, বাংলাবাজার ও মহব্বতপুরসহ প্রায় নয়টি সম্মুখযুদ্ধ অংশ নেয়াসহ দেশের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিও করেন এই বীরাঙ্গনা। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে এই মহিয়সী নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে সরকার।
ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠক হয় বঙ্গবন্ধুর :একাত্তরের এই দিনে
একাত্তরের আজকের দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলীর ভুট্টোর বৈঠক হয়। এদিন, অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ২২ই মার্চ। ১৯৭১। এদিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাথে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো। শত শত আন্দোলনকারী, বঙ্গবন্ধুর বাসার সামনে জড়ো হন। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, চব্বিশ বছর বাঙালি শুধু অবহেলিত থেকেছে। সবাইকে আরো বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথাও বলেন তিনি। ঢাকায় দলীয় উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠক, প্রেসিডেন্ট ভবনে ছোটাছুটি এবং এসবের আড়ালে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। ২৫ মার্চের নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের বৈঠক অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিষদে অধিবেশনে আমরা যোগ দেব না।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় ভোট চাই: শেখ হাসিনা
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকায় আবারো ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আরো জানান,আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ আরো উন্নত হবে।' বুধবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় আওয়ামী লীগের জনসভায় এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় তিনি বলেন, 'দেশের মাটিতে দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধদের বিশাল আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমাদের এই দেশ। তাই তাঁদের অধিকার সবার আগে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এছাড়া তিনি বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মা-বোনের হাতে উপবৃত্তি পৌঁছে যাচ্ছে। সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়ে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া। এই আগে আজ (বুধবার) সকালে চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমিতে সদ্য নির্মিত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উন্মোচন করেন কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে নির্মিত জাতির জনকের বৃহৎ আবক্ষ মূর্তি। এসময় সরকার প্রধানকে রেওয়াজ অনুযায়ী সালাম জানায় বাহিনীর পতাকাবাহী দল। এরপর প্রধানমন্ত্রী যান যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রক্ষাবেক্ষন ও পরিচালনার হাব চট্টগ্রামের নৌবাহিনী ডক- ইয়ার্ডে। সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পেশাগত নানা কৃতিত্বের স্বীকৃতি ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড তুলে দেন বিভাগটিকে। সেখানে বাহিনীর উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর অনিয়ম ও দু: শাসন কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসলে দেশের প্রতিটি বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করে তার সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগ ৯৬ সালে সরকার গঠন করে। এরপরেই বাংলাদেশ কিভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই ব্যবস্থা করেছিলাম। আমাদের সেনাবাহিনী নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী সহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন আরও উন্নত হয় সমৃদ্ধশালী হয় সেই ব্যবস্থা করেছিলাম।' উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রারই স্বীকৃতি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা যে বক্তব্য রেখেছেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি ঘোষণা করেছিলেন বাঙালি জাতি সম্পর্কে সেই উক্তি 'কেউ দাবায় রাখতে পারবে না'। বাংলাদেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারে নাই। পারবেও না। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পরে সেটাই প্রমাণ করেছি।'
হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দুদকে তলব
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি এ কে আজাদকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, আজাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার কর-ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে তাকে আগামী ৩ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী সই করা চিঠিতে নিজে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানপূর্বক অনুসন্ধান কাজে সহযোগিতা করার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর