রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন
গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার উপকমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘গাজীপুরে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ বাস করেন, যাঁরা টাঙ্গাইলে বাড়ি, ময়মনসিংহে বাড়ি, কিশোরগঞ্জে বাড়ি এবং অন্যান্য অঞ্চলের আশপাশে। এগুলো সবগুলোই আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকা। আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে ওই এলাকায় জনপ্রিয়। সেখানে আমাদের কোনো কাউকে গ্রেপ্তার করার, কাউকে হয়রানি করার কোনো রকম প্রশ্নই ওঠে না। এগুলো আমরা কিছুই করছি না। এগুলো সবই অপপ্রচার, মিথ্যা কথা।’ আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৪ প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ এবং নারী ভোটার পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৮ মোহাম্মদ শামীম আলম সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানকে দেয়া এক ডিও লেটারের বরাত দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার উপসচিব এ জেড এম শারজিল হাসান ২০ জুন ওই চিঠিটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানকে দেয়া ডিও লেটারে লিখেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এক অনন্য মাইল ফলক। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নির্দেশনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর পক্ষ থেকে প্রকল্প গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ ও সফল উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণ পরবর্তী, বিক্রয়, বিপণন, পরিচালক ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) গঠন করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশ ও জাতির গৌরবময় এ অর্জনে আপনি অংশীদার। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বৈদেশিক স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ হ্রাস করা, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অাপদকালীন মুহূর্তে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখা ও দেশের অার্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রাখা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের অন্যতম উদ্দেশ্যে। দেশের একটি গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগ হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সেবাগ্রহণ করে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগেকে সফল করার জন্য আপনার বিভাগ/মন্ত্রণালয় অবদান রাখতে পারে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে আপনার মন্ত্রণালয়/বিভাগের জরুরি প্রয়োজন সময়ে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব। চিঠিতে জানানো হয়, স্যাটেলাইট কোম্পানির কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়/বিভাগে যোগাযোগ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে এ সেবাগ্রহণের জন্য সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু ২৪ জুলাই
তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আগামী মাসের ২৪ জুলাই ঢাকায় শুরু হবে। এই সম্মেলন ২৬ জুলাই শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের প্রশাসনকে চাঙ্গা রাখা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতি আনা, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও দর্শনের বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা, ভুলভ্রান্তি সংশোধন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিবছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সপ্তাহেই সম্মেলনের তারিখ জানিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরকারের নীতি, দর্শন, প্রাধিকার—এগুলো নিয়ে প্রতিবছর এ বৈঠক হয়। এবারও এটা হবে। তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। কিছু প্রোগ্রামও চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রোগ্রাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এখানে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় শোনেন এবং নির্দেশনা দেন। এবারও সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা অংশ নেবেন। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
ই-পাসপোর্ট চালু হচ্ছে
ডেস্ক রিপোর্ট :দেশের নাগরিকরা এবার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের সুবিধা নিতে পারবেন। নাগরিকদের হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি এ বছরই বাস্তবায়ন শুরু করে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করবে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। আজকের বেঠকে মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্য মতে, বহির্বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিক ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এই পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যেকোনো স্থান হতে ওই পাসপোর্ট ধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় দশ আঙ্গুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। এর ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভব করে সরকার। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রাজধানীতে যোগ প্রেমীদের মিলনমেলা
সামঞ্জস্য ও শান্তির জন্য যোগ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বসেছিলো যোগ প্রেমীদের মিলনমেলা। ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে এ আয়োজন। রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যোগ প্রশিক্ষক মাম্পী দে’র পরিচালনায় যোগ সেশন শুরু হয় সকাল সাতটায়। এতে অংশ নেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। ২১ জুন বছরের সবচেয়ে বড় দিন। আর এদিনেই পালিত হয় যোগ দিবস। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে যোগ দিবস পালন করে আসছে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষসহ প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এই যোগ দিবসে যোগ দেন। স্টেডিয়ামে প্রবেশের প্রতিটি গেটেই ছিল দীর্ঘ লাইন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতেও দেখা যায়। তাছাড়া গ্যালারিতে বসেও অনেকে যোগব্যায়ামের কলাকৌশল উপভোগ করেন। এই অনুষ্ঠানে অনেকেই অটিজমে আক্রান্ত অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আসেন। একজন অটেস্টিক শিশুর বাবা আহমেদ হুমায়ূন বলেন, ‘জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই আমার মেয়ের অটিজম ধরা পরে। ওর শরীরের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ পেতে এবং ওকে মানসিক শান্তিতে রাখতে যোগব্যায়াম খুব ভালো কাজ করছে। এখন সে নিজেই অনেকটা করতে পারে।’ উত্তরা থেকে এসেছিল শিশু তন্ময় ও তার মা। তারা যোগব্যায়ামে অংশ নেন। তন্ময়ের মা জানান, তার আগে ঘুমের সমস্যা ছিল। পায়ে ব্যথাও ছিল। যোগব্যায়ামের ফলে তিনি এখন সুস্থ আছেন। যোগ সেশনে অংশগ্রহণকারী সকলকে বিনামূল্যে যোগ ম্যাট, টি-শার্ট, উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার দেয়া হয়। এসব পুরস্কারের মধ্যে ছিল একটি টাটা টিয়াগো গাড়ি, একটি বাজাজ মোটরসাইকেল,ভারতে ভ্রমণ প্যাকেজ, দু’জনের দিল্লি ট্রিপ, ঢাকায় পাঁচ তারকা হোটেলে দু’জনের থাকার সুযোগ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণা দেয়। ভারতের দেওয়া এই প্রস্তাবটি ১৭৫টি রাষ্ট্রের সমর্থনের মধ্য দিয়ে এ দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে এখন পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের কোনো প্রস্তাবের প্রতি এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্রের সমর্থনদানের রেকর্ড।
চীনের কাছ থেকে জেট বিমান কিনছে বাংলাদেশ
জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও চীনের মধ্যে কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বুধবার (২০ জুন) বিমান বাহিনীর সদর দফতরে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক এবং চীনের পক্ষে চায়না ন্যাশনাল এ্যারো টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএটিআইসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ জিয়ানহাই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু ও সিএটিআইসির প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুনরায় কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমানের সংযোজন বিমান বাহিনীর বিমান প্রশিক্ষণ সক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে। বিমান বাহিনীতে চীনের তৈরি কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজনের এই চুক্তিটি ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হলো।
২০২০ সালের মধ্যে ৯৯ লাখ কর্মসংস্থান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে দেশের জনশক্তি খাতে প্রায় ৯৯ লাখ নতুন কর্মী যুক্ত হবে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাবেন। বাকিটা হবে দেশের শ্রমবাজারে। আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত এক প্রশ্নের জবাবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) লক্ষ্য ধরা হয়েছে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ; যেটা ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বেকার যুবদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে বিগত ৯ বছরে ২২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬ জন যুবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত যুবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিগত ৯ বছরে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ জনকে ৮১৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯১ জন যুব সফল স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের ১০টি সুনির্দিষ্ট মডিউলে ৩ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পর জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত ৭ পর্বে মোট ৩৭ জেলার ১২৮টি উপজেলা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতাভুক্ত হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এ যাবত মোট ১ হাজার ৭২১ কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩২ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৭ জন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় ২ বছরের অস্থায়ী কর্মে নিযুক্ত হয়েছে। অস্থায়ী কর্ম শেষে এদের মধ্যে মোট ৩৭ হাজার ৪২৩জন স্বাবলম্বী হয়েছে। এছাড়া ২ বছরের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সমাপ্তকারী ৮৫ হাজার ৩২৪ জনের প্রত্যেককে ৪৮ হাজার টাকা করে মোট ৪০৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয় ফেরত দেয়া হয়েছে। এর ফলে তারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/ কর্তৃত্বে/ অধিকারে মাদকদ্রব্য পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ কম। তাই মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টার মাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হবে। তাছাড়া এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার জন্য মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজা দেয়া হচ্ছে। মাদক অপরাধ-সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোনো আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। তিনি জানান, গত ১৮ মে’ ২০১৮ হতে এ পর্যন্ত চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং এগুলো পরিবহনের বাহন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট মোট ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ২০ হাজার ৭৬৭ জনকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যানবাহন ও মাদক স্পটগুলোতে তল্লাশি চলছে। তাছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে এতে আকৃষ্ট না হয় সেজন্য এর কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায় ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা
চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা সাময়িক রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। রাজস্ব আদায় গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, শূন্য থেকে ২৫ শতাংশ হার বিশিষ্ট পণ্যসমূহের আমদানি তথ্য বিশেষ করে পরিমাণ ও মূল্য পর্যালোচনা করে স্টেশনভিত্তিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া পাওনার নিমিত্তে আধা সরকারি পত্র প্রেরণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইট ভাটা ও ব্যবসায়ী ভ্যাট আহরণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক চালুও হওয়ার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর মাধ্যমে ৮৭৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মূল্যমানের ইএফটিএ ক্রেডিট লেনদেন এবং ৭৯ বিলিয়ন মূল্যমানের শূন্য দশমিক ৭ বিলিয়ন ডেবিট লেনদেন হয়েছে। তিনি বলেন, ই-কমার্স চালু করার ফলে গ্রাহকের হিসাব হতে প্রাপকের হিসাব ইউটিলিটি বিল প্রদান, একই ব্যাংকের একজন গ্রাহক ভিন্ন হিসাবের মধ্যে টাকা স্থানান্তর এবং ক্রেতার হিসাব হতে বিক্রেতার হিসাবে টাকা স্থানান্তর করা যায়।