শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০
দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নির্যাতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন
০৯,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং সহিংসতা বাড়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সেভ আওয়ার ওমেন, বাংলাদেশ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদ করেন এবং তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মানববন্ধনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাধীন একটি রাষ্ট্রে ধর্ষণের বিচার চাওয়াটা লজ্জাজনক। ধর্ষকরা এ সমাজের কিট এবং ধর্ষণ বর্তমানে বাংলাদেশের মূল ব্যাধি। প্রতিদিন নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আমরা ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর বুক থেকে ধর্ষণ নামের শব্দটি চিরতরে বিদায় হোক। মানববন্ধনে থেকে বক্তারা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
ধর্ষণের সাজায় পরিবর্তন আসছে
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান আইনে ধর্ষণের সাজায় পরিবর্তন এনে তা মৃত্যুদণ্ড করা হচ্ছে। এ সম্পর্কিত একটি সংশোধিত আইনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এই প্রস্তাব উত্থাপিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদির সাজা সম্পর্কে বলা আছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। বাংলাদেশের আইনে বর্তমানে ধর্ষণের সাজা হিসেবে যেসব শাস্তির উল্লেখ আছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো। ৯(১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তা হলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তা হলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে- (ক) ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন; (খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। (৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষিতা হন, তা হলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। উল্লেখ্য সম্প্রতি নোয়াখালী সিলেটে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি ওঠে। ধর্ষণ এবং নারী নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, এখন আইনে ধর্ষণের যে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা রয়েছে, তা অপরাধ দমনে কঠিন কোন বার্তা দিতে পারছে না। এছাড়া বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই সাজাও হয় না। সেজন্য তারা মৃত্যুদণ্ডের দাবিকে সামনে আনছেন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড হলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে- এমনটা মনে করে না মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন এবং নির্যাতিতা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এই বিষয়গুলোতে বড় সমস্যা রয়েছে। সে কারণে ধর্ষণের অভিযোগ বিচারের পর্যায়ে যেতেই অনেক সময় লেগে যায়। আবার নিম্ন আদালতে বিচার হওয়ার পর উচ্চ আদালতে মামলার জটে পড়ে যাচ্ছে।
শীতে করোনা বাড়ার আশঙ্কায় জেলা হাসপাতাল প্রস্তুত করছে সরকার
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী শীতে করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়তে পারে। সেটা মাথায় রেখে সরকার জেলা হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে হাওরের বিস্ময় কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাস আগামী শীতকালে বাড়তে পারে সেটা মাথায় রেখে প্রত্যেকটা জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নির্মাণ থেকে শুরু করে অক্সিজেনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার ডাক্তার, ৩ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি, টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কাজই হচ্ছে জনগণের কাজ করা, জনগণের কল্যাণ করা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না, কলেজে যেতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও আমরা চাচ্ছি তাদের পড়াশোনাটা যাতে চলমান থাকে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতি, টেলিভিশনে ক্লাস নেওয়াসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার দিকেও নজর দিতে হবে। খোলা বাতাস, রোদে থাকতে হবে। করোনা ভাইরাস দূর করার জন্য এটা একান্তভাবে প্রয়োজন। আপনারা সেটা মেনে চলবেন। আপনারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন যাতে এই করোনা ভাইরাসে আর কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সারা বাংলাদেশে একটা সড়কের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। নৌপথগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। রেলপথ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে এবং আরো নতুন নতুন অঞ্চলে রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেলে যোগাযোগের সুযোগটা বাড়াচ্ছি। তিনি বলেন, যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে, মানুষের পণ্য পরিবহনের সুবিধা হবে। সেখানে মানুষের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর হাওরের বিস্ময় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইশ! কবে যে যাবো। এ সড়কে (দেখতে) কবে যে যাবো। আমার মনটা পড়ে থাকলো। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাবো। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাবো। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাবো। এসময় গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রান্তে ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি এখন আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। এরইমধ্যে হাওরের নৈসর্গিক রূপ দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছে মানুষ। বর্ষায় মাইলের পর মাইল বিস্তীর্ণ জলরাশি, বর্ষা শেষে জলকাদা আর শুকনো মৌসুমে ফসলি জমি। বর্ষায় নৌকা আর অন্য ঋতুতে পায়ে হাঁটা ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না হাওরবাসীর। যোগাযোগে এখানকার মানুষের কষ্ট লাঘবে বিশাল হাওরের মধ্যে এ সড়ক নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন ‘ভাটির শার্দুল’ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার মধ্যে সারা বছর চলাচলের জন্য নির্মিত হয় হাওরের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক। সড়কটি নির্মাণের ফলে শুধু হাওরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ দূর হয়েছে তা নয়, নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণ করেছে। হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া ২৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অলওয়েদার সড়কে ৫৯০.৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯.৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৬১.৮১ মিটার দীর্ঘ ভাতশালা সেতু, ১৭১.৯৬৪ মিটার ঢাকী সেতু ও ১৫৬.৭২ মিটার দীর্ঘ ছিলনী সেতু সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্ষায় ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় ৭.৬০ লাখ বর্গমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।
হাওরের বিস্ময় ইটনা-মিঠামইন অষ্টগ্রাম সড়ক উদ্বোধন
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাওরের বিস্ময় কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সড়কটির উদ্বোধন করেন তিনি। বর্ষায় মাইলের পর মাইল বিস্তির্ণ জলরাশি, বর্ষা শেষে জলকাদা আর শুকনো মৌসুমে ফসলি জমি। বর্ষায় নৌকা আর অন্য ঋতুতে পায়ে হাঁটা ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না হাওরবাসীর। যোগাযোগে এখানকার মানুষের কষ্ট লাঘবে বিশাল হাওরের মধ্যে সড়ক নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন 'ভাটির শার্দুল' রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার মধ্যে সারা বছর চলাচলের জন্য নির্মিত হয় হাওরের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক। সড়কটি নির্মাণের ফলে শুধু হাওরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ দূর হয়েছে তা নয়, নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এরইমধ্যে হাওরের নৈসর্গিক রূপ দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছে মানুষ। হাওরের বিশাল জলরাশির বুক চিরে চলে গেছে ২৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি। বর্ষায় সড়কের দুপাশে অথৈ জলরাশি, নির্মল বাতাস আর মনকাড়া ঢেউ। শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, যেখানে সবুজ আর সোনালি রং মিলেমিশে একাকার। হাওরের বুকে বিশাল খোলা আকাশের রূপে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা। কখনো ঝকঝকে নীল আকাশ, কখনো আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। ভোরের সূর্য আর গোধূলীতে ভিন্ন রূপে সাজে হাওরের আকাশ। ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণ করেছে। হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া ২৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অলওয়েদার সড়কে ৫৯০.৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯.৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৬১.৮১ মিটার দীর্ঘ ভাতশালা সেতু, ১৭১.৯৬৪ মিটার ঢাকী সেতু ও ১৫৬.৭২ মিটার দীর্ঘ ছিলনী সেতু সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্ষায় ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় ৭.৬০ লাখ বর্গমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।
সরকার আত্মনির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে: পলক
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পলিসি সাপোর্ট, সক্ষমতা তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন একটি আত্মনির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের দ্বারপ্রান্তে। এ তিনটি খাতে অগ্রগতির কারণেই কোভিড-১৯ মহামারিকালে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অনলাইনে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে বিসিসি মিলনায়তনে এলআইসিটি প্রকল্প এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইটি-আইটিইএস খাতের ব্যবস্থাপনা পেশাজীবিদের জন্য অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেশন ফর ম্যানেজমেন্ট প্রোফেশনাল (এসিএমপি) ৪.০ গ্রীষ্মকালিন ২০২০ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। পলক বলেন, পলিসি সাপোর্টের কারণেই আজ দেশে আইসিটি শিল্পের প্রসার ঘটছে। দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে ল্যাপটপ. মোবাইল ফোন। সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে দেশেই। যার প্রমাণ আজকের এই এসিএমপি ৪.০ কোর্সে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ। বিদেশ গিয়ে এই প্রশিক্ষণ নিতে ১০ গুণ বেশি খরচ হতো, কিন্তু সে প্রশিক্ষণ আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় দেশেই করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এর দিকনির্দেশনায় একটি শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো তৈরি হয়েছিল বলেই আজ কোভিড-১৯ মহামারিকালে প্রায় সকল কার্যক্রমই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে আইসিটি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্প ও আইবিএ যৌথভাবে এসিএমপি ৪.০ কোর্স চলমান রেখে ২০৭ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশ থেকে ম্যানেজার পর্যায়ের লোক এনে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়। অথচ এসব কাজে দেশেই প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। পলক বলেন, একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশী বিনিয়োগ আনায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শীর্ষ এবং মধ্যম স্তরের কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের জন্য যদি বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় তারা নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ ঘটাবে। এমনি চিন্তা থেকেই এসিএমপি ৪.০ কোর্স চালু করা হয় বলে তিনি জানান। আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ারের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম ও আইটি-আইটিইএস পলিসি অ্যাডভাইজার সামি আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ, অগমেডিক্স এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ নোমান, আইবিএর এমডিপি সমন্বয়ক ড. শাকিলা ইয়াসমিন। এলআইসিটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে তিন মাস ব্যাপী এসিএমপি ৪.০ কোর্স চালু করা হয়। এ প্রশিক্ষণ কোর্সে এ পর্যন্ত মোট ৮৪৩ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পরে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারি ২০৭ জনকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়াল সৌদি সরকার
০৭,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে আটকেপড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) ভিসা বাড়ানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সব প্রবাসী কর্মীকে ছুটিতে যাওয়ার সময় এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা বা পুনরায় প্রবেশের ভিসা নিয়ে যেতে হয়। ছুটির মেয়াদ অনুযায়ী এই ভিসারও মেয়াদ থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরে যেতে হয়। এছাড়া নিয়োগকর্তা (কফিল) ছুটি বাড়ালে ভিসার মেয়াদও বেড়ে যায়। কারও যদি ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বাড়িয়ে নিতে হয়। কফিল এসব কাজ অনলাইনে করতে পারেন। কিন্তু করোনার জন্য বিভিন্ন দেশের লাখো কর্মী আটকা পড়েছেন। তাঁদের সবারই ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার কফিলের পক্ষ হয়ে এর আগে সৌদি সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এবার তা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হল। প্রবাসীরা বলছেন, উড়োজাহাজের টিকিট না পাওয়ায় অনেকেরই নির্ধারিত সময়ে যাওয়া হয়নি। অনেকে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেও কেউ কেউ হতাশ হয়ে পড়েন। সবার কফিল ভালো না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল তারা। এখন সরকারের পক্ষ থেকে সবার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হল। প্রসঙ্গত, প্রবাসী কর্মীরা এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজের টিকিট ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি সরকারকে চিঠি দেয়। এরপর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে আলাদা করে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার কথা বলা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেলেন সেই প্রতিবন্ধী প্রসূতি ও তার আশ্রয়দাতা
০৭,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ সহযোগিতা পেলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী, তার সদ্যজাত শিশু ও তাদের আশ্রয়দাতা। আজ বুধবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পৌঁছে দেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণা রানী সাহা, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গত সপ্তাহে কালীগঞ্জের মায়াধরপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে প্রতিবন্ধী অন্তঃস্বত্বা নারীকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন ওই গ্রামের দিনমজুর আমজাদ আলী। গত শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই নারী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। আশ্রয় দেয়া ও সন্তান প্রসবের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রচার হলে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে তার সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশ দেন। আশ্রয়দাতা আমজাদ আলী একজন প্রান্তিক চাষী। তার মাঠে কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। বর্গাচাষ ও কৃষিশ্রমিকের কাজ করে সংসাল চালান তিনি। এক মেয়ে আর এক ছেলের মধ্যে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছেলে ছয় মাস ধরে শয্যাশায়ী। ফলে সংসারে এখন আমজাদ একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। অভাবের সংসারের মধ্যেও আমজাদ আলীর এই অনন্য মানকিবতার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিগলিত করেছে। তার নির্দেশেই ওই প্রতিবন্ধী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২ অক্টোবর দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে তিনি সন্তান প্রসব করেন। জানা গেছে, মা ও মেয়ে উভয়েই বর্তমানে সুস্থ আছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমজাদ আলীর ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী নারীটিকে করে দেয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী কার্ড। প্রসূতি ও সদ্যজাতকে দেখভালের জন্য আমজাদের হাতে দেয়া হয়েছে নগদ ৫৫ হাজার টাকা।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
০৭,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আগে অসমাপ্ত আত্মজীবনী-এর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাঠকদের কথা বিবেচনা করে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটির ব্রেইল সংস্করণ প্রকাশে উদ্যোগ নেয়। প্রথম ধাপে অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ১০০ সেট (প্রতিটি ৬ খণ্ড) ব্রেইল সংস্করণ মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণে মোড়ক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্রেইলে প্রকাশ করা হয়েছে যাতে আমাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও পড়তে পারে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অনেকে পড়াশোনা করে, তারাও যেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে। তারাও ইতিহাসটা জানার সুযোগ পাবে। বঙ্গবন্ধুকে আত্মজীবনী লেখায় বঙ্গমাতা সব সময় উদ্বুদ্ধ করতেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মা সব সময় অনুপ্রেরণা দিতেন তিনি যেন তার জীবনীটা লিখে রাখেন। সেই থেকে তিনি কিন্তু লিখতে শুরু করেন। বাবা যতবার কারাগার থেকে মুক্তি পেতেন আমার মা জেলগেটে আর কিছু না হোক লেখার খাতাগুলো সংগ্রহ করে রাখতেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ১৯৭১ সালে এই খাতাগুলো আমরা প্রায় হারাতে বসেছিলাম। কিন্তু সে সময় আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। যদিও আমাদের ধানমন্ডির বাসা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুটপাট করে। অনেকগুলো খাতা সেগুলোর ওদের কাছে মূল্য ছিল না। যাই হোক এক সময় সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসি। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অসমাপ্ত আত্মজীবনী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী। ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকাকালে বঙ্গবন্ধু এটি লেখা শুরু করেছিলেন। ২০১২ সালের ১২ জুন বইটি প্রকাশিত হয়। অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের পর থেকেই দেশি-বিদেশি পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীটি ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, তুর্কি, স্প্যানিশসহ ১৪টি ভাষায় অনূদিত হয়।
ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড, গণধর্ষণে প্রকাশ্য ফাঁসিসহ ৭ দফা দাবি
০৭,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে যে কোনো ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং গণধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ফাঁসিসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবেশবাদী ছাত্র-যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস এবং নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিটি বহ্নিশিখা। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজায় (আসাদ গেট) আড়ংয়ের নিচে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আমাদের মা-বোনেরা পাহাড় থেকে সমতল কোথাও নিরাপদ নয়। খুন, ডাকাতি, অপহরণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়েই চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। এটি এখন বড় ভাবনার বিষয়। প্রশাসনে, রাজনীতিতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীর যোগদানের ক্ষেত্র বাড়ছে। অর্থনীতি উন্মুক্ত বাজারে নারীর যোগ্যতা ও দক্ষতার মর্যাদা দিতে এগিয়ে আসছে। সেই সময়টায় নারীর ওপর এমন পীড়ন কেন বাড়লো তা নিয়ে আলোচনা হলে যাদের গাত্রদাহ হয়, যারা সব কিছুতে রাজনীতি দেখেন, কিংবা যারা নারীর চাল-চলন ও পোশাকের দোষ খোঁজেন তারা ধর্ষকের সহযোগী হয়ে উঠছেন। টেলিফোনে সংহতি জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ধর্ষকের কোনো মা-বাবা নেই, জাত-ধর্ম নেই, তার একমাত্র পরিচয় সে ধর্ষক। ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদে আসুন সবাই ধর্ষকের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলি। আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদে চলা-ফেরা করুক, সন্তানেরা নিরাপদে বেড়ে উঠুক। গ্রীন ভয়েসরের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে গত নয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী, যা গড়ে প্রতিদিন তিন জনেরও বেশি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৮ নারী। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৩ জন আর আত্মহত্যা করেছেন ১২ নারী। গত নয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানরি কারণে ১২ নারী আত্মহত্যা করেছেন। আর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিন নারী ও নয় পুরুষ নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন নারী ধর্ষিত হন। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, ধর্ষণের সব ঘটনা থানা-পুলিশ পর্যন্ত যায় না। যারা সাহস করে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানা পর্যন্ত আসতে পারেন, তাদের বেশিরভাগই আদালত পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া টেনে নিতে পারেন না। অথবা সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ধর্ষক খালাস পেয়ে যায়। একই ঘটনায় ধর্ষক বুক ফুলিয়ে হাঁটে! আর ধর্ষিতা যার বিন্দুমাত্র দোষ নেই, সে লজ্জায় মুখ লুকায়। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এ রাষ্ট্র কারও জন্যই নিরাপদ থাকবে না। এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ এর সাজা মৃত্যুদণ্ড হবার পর এটা কমে গেছে। ধর্ষণের সাজাটাও মৃত্যদণ্ড হোক। সমাবেশে থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবিগুলো হলো- ধর্ষণের বিচারের জন্য দ্রুত আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে, সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে যে কোনো ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং গণধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ফাঁসি দিতে হবে, ১৮ বছরের নিচে কোনো কিশোর-কিশোরী ধর্ষিত হলে তার সব দায়ভার রাষ্ট্রকে নিতে হবে, ধর্ষণ মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি ও রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে, ধর্ষণকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করতে হবে, আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্বে সংগঠিত সব ধর্ষণ মামলার বিচারের কাজ নিষ্পত্তি করতে হবে এবং কোনো ধর্ষণ মামলায় গাফিলতি ধরা পড়লে অথবা টাকা নিয়ে নিষ্পত্তি করতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- গ্রীন ভয়েজেন কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন, সাবেক ছাত্র নেতা রোস্তম আলী খোকন, সাবেক ছাত্র নেতা জহুরুল ইসলাম মিন্টু, গ্রীন ভয়েসের কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলাম রাতুল, আরিফুল ইসলাম, সাচিনু মারমা, আব্দুস সাত্তার, শাকিল কবির, রায়হান পারভেজ, গ্রীন ভয়েস কুড়িগ্রাম জেলার সমন্বয়ক মুনসেফা তৃপ্তি প্রমুখ।