বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন বিএনপি দেখেও দেখেনা: তথ্যমন্ত্রী
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত একযুগে দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন মির্জা ফখরুল সাহেবরা দেখেও দেখেননা। মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্যভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ আয়োজিত প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে একথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিএনপি মহাসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিজয় মিললেও মুক্তি মিলেনি এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসলে তারা (বিএনপি) সবসময় বিভ্রান্তির মধ্যে ভোগেন এবং তা থেকে মানুষকেও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালান। উন্নয়নের বিষয়ে তাদেরকে আমি আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরিসংখ্যান দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে- এগুলো পড়লে বিভ্রান্তি কেটে যাবে। অবশ্যই সমালোচনা করবেন কিন্তু নিজের বিভ্রান্তি থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা কখনই দেশ ও জাতির জন্য শুভ নয়। বিএনপি মহাসচিবের অপর বক্তব্য বিএনপি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এর প্রেক্ষিতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রতিদিন সকালবেলা ফখরুল সাহেব একবার কথা বলেন, বিকেল বেলা রিজভী সাহেব আবার কথা বলেন। আর গয়েশ্বর বাবুও মাঝে মধ্যে কথা বলেন। তারা দিনে তিনবার সমালোচনা করেন আর বলেন যে, তাদের কথা বলার কোনো অধিকার নাই। মন্ত্রী বলেন, আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, একটি মিছিল বের করতে চাইলে আমাদের ওপর লাঠিপেটা করা হতো। বহু লাঠির বাড়ি আমার ঘাড়ে-পিঠে আছে, পল্টু ভাইয়েরও আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত আছে। বিএনপি এই গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে ২০১৩-১৪-১৫ সালে আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল, নির্বাচন বর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েও নেয়নি, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশকে আরো এগিয়ে নিতে, ২০৪১ সাল নাগাদ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষের মনন তৈরিতে, তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে এবং দায়িত্বশীলদেরকে আরো দায়িত্ববান করার ক্ষেত্রে, সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তাই আপনাদেরকে অনুরোধ জানাবো যারা আজকে দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায় এবং তাদেরকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, সেই বিএনপিসহ তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে কলম ধরতে হবে, লিখতে হবে। ড. হাছান বলেন, যারা রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টির ওপর আঘাত হানে, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দেশ জেগেছে। কারণ ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি আর দু:শাসনে তারা বাংলাদেশের অগ্রগতির চাকাটাকে ঘুর্ণায়মান চাকায় পরিণত করেছিল। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে তা ধাবমান চাকায় পরিণত করেছেন। ধাবমান এই উন্নতির চাকার গতিবেগ আরো বৃদ্ধি করে আমরা দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে চাই। এসময় দেশে গণমাধ্যমের বিকাশের ওপর আলোকপাত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১২ বছর আগে দৈনিক সংবাদপত্র ছিল ৪৫০টি, এখন সাড়ে ১২শ’। অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। টেলিভিশন ছিল ১০টি এখন ৩৫টি, একইভাবে অনলাইন মাধ্যম আইপিটিভি থেকে শুরু করে সমস্ত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিপ্লব ঘটেছে। এটির পাশাপাশি কিছু সমস্যাও যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যাগুলো আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সংবাদপত্রের মান, সংবাদের গুণগতমান ধরে রাখা এবং যে কারো হাতে যেন সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র না যায়, সে নিয়েও আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার বক্তৃতায় সংবাদপত্র তথা সমগ্র গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরেন। বিএসপি সভাপতি মো: শাহজালালের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স.ম. গোলাম কিবরিয়া, বিএসপির সাধারণ সম্পাদক এমজি কিবরিয়া চৌধুরী ও যুগ্মসম্পাদক শেখ মঞ্জুর বারী মঞ্জু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম ইউনুস প্রমুখ। এর আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিজয় দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। পরে তিনি প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়াসহ অতিথিদের সাথে নিয়ে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।
জুনের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এটি মোট জনগণের ৯৮ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ পাহাড় বা চর এলাকায় বাকি। আগামী জুনের মধ্যেই দেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। মাতারবাড়িতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের কাজ চলছে অথচ আমাদের জনবল সেখানে নেই। সেখানকার প্রায় প্রতিটি জনবল জাপান ও ফিলিপিনের। আমাদের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন খুব বেশি। ভালো ম্যানেজমেন্টের অভাব রয়েছে। আমাদের পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ শেষ হলেও সেটি চালানোর মতো দক্ষ জনশক্তি নেই। সব কর্মী দেশের বাইরে থেকে আসা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করবো রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কারিগরি কাজে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করবে। আবাসন খাতে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহক টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরেও প্লট বা ফ্ল্যাট বুঝে পাচ্ছেন না। গ্রাহকের এ হয়রানি দূর করতে দেশের আবাসন খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এ কাজে মূল ভূমিকা রাখতে পারে রিহ্যাব। এতে গ্রাহকদের হয়রানি কমবে আবার শৃঙ্খলাও তৈরি হবে। রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজলের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রিহ্যাব সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন্নবি চৌধুরী শাওন, সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ প্রমুখ।
সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেবেন মোদী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসিনা-মোদী ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই নন লিথাল উইপেন (সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ইস্যু তুলেছেন বলেও জানান তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে ড. মোমেন বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ইস্যু তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া অভিন্ন ছয়টি নদীর সীমানা নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র নিজেই জানিয়েছেন, নন লিথাল উইপেন (সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশনা তিনি নিজে দেবেন। আমরা কোনো সীমান্ত হত্যা চাই না। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে সীমান্তে ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি রয়েছে। আমাদের লোকজনও সেসব অ্যাক্টিভিটির সঙ্গেও জড়িত। এসব বন্ধ করতে হবে। তবে আমরা হতাশ নই। আমরা আশাবাদী। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্পর্ককে সোনালি অধ্যায় হিসেবে অবহিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, বৈঠকে ব্রিকস ব্যাংকে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসেন তারা। এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক নির্ভরতায় সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দ্বিপাক্ষিক ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ভার্চ্যুয়াল এ বৈঠকে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। এছাড়া আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে, আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন করেছি। বাংলাদেশে আমরা বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করবো। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা নিজ দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে থাকে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চলমান যোগাযোগের উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগ পুনরায় চালু করা- যা আমরা আজ উদ্বোধন করছি। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বিশ্ব এক মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং মানবজাতি কীভাবে এ অজানা শত্রুর মোকাবিলা করে, সে পরীক্ষার মুখোমুখি। লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, জীবন-জীবিকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অর্থনীতি হয়েছে শ্লথ, বিঘ্নিত হয়েছে সমাজ ব্যবস্থা। সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারির সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। তবু আমাদের গত শীর্ষ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ক্রান্তিকালে উভয় পক্ষের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য। করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ও জনবহুল অঞ্চলে কোভিড-১৯ যেভাবে আপনার সরকার মোকাবিলা করেছে, তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজগুলো ছাড়াও, আত্মনির্ভর ভারত- এর উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলোও প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার নেওয়া নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যোগ করেন শেখ হাসিনা। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশেও আমরা এ মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। মার্চের গোড়ার দিকে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরে আমরা আড়াই কোটিরও বেশি মানুষকে সহায়তা দিতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটা এবং ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। দুই দেশের যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সাল জুড়ে রেলরুট দিয়ে বাণিজ্য, উচ্চ-পর্যায়ের পরিদর্শন ও সভা, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় পণ্যের প্রথম পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো এবং অবশ্যই, কোভিড-১৯ বিষয়ে সহযোগিতার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। গেল বছর নিজের ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ২০১৯ সালের অক্টোবরে নয়াদিল্লীর গ্র্যান্ড হায়দ্রাবাদ হাউসে আপনার সঙ্গে আমার শেষ বৈঠক এবং আপনার অপূর্ব আতিথেয়তা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি। তারপর অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে আগামী ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে উপস্থিতি প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ার জন্য আপনাকে এবং আপনার সরকারের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র স্মরণে আমরা বিশ্বব্যাপী বাছাই করা কিছু শহরে আগামী বছর জুড়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় আপনার উপস্থিতি আমাদের যৌথ উদযাপনের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখবে। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যাঁর গতিশীল নেতৃত্বে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং নির্যাতনের শিকার দুই লাখ মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।
সোনার বাংলা গড়তে পাশে থাকবে চীন
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, সোনার বাংলা গড়তে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রচেষ্টাতে পাশে থাকবে চীন। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাঙালি জাতির এই গৌরবময় দিনে, আমি সরকার এবং চীন জনগণের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে চাই। শুভ বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আশ্চর্যজনকভাবে দাঁড়িয়েছিল, যেটা কেবল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বারা সম্ভব হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু, ৪ জাতীয় নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, এবং একাত্তরের সব শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি আজ আপনাদের সঙ্গে যোগদান করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহান নেতৃত্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে বাংলাদেশ এখনও একটি আশ্চর্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যিনি তার পিতার মতো একের পর এক জাতীয় অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছেন, যা অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা ও তার নেতৃত্ব এতটাই অসাধারণ এবং দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সময়োচিত পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরকাল বেঁচে থাকুক।
তথাকথিত ফতোয়াবাজদের প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করব: নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথাকথিত ফতোয়াবাজদের শুধু প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তথাকথিত ফতোয়াবাজরা আবার মাঠে নেমেছে, তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে। তারা বিভ্রান্তিমূলক ফতোয়া দিয়ে বাংলাদেশকে বিপথগামি করতে চান। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেন। তাদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে পারেনি বলে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা অনেকভাবে চেষ্টা করেছে ইতিহাসকে পাল্টে দেওয়ার। তারা পাকিস্তানের ভাবধারায় দেশ পরিচালিত করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের নায়কের জায়গায় খলনায়ককে বসানোর চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত দিয়েছিল। ইতিহাসকে অন্য ধারায় পাল্টে দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেন নাই। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারিতেও উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়নি। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। সব ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেশকে বিশ্বের কাছে মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন। মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চারলেন-ছয়লেনের মহাসড়ক, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম দেশরত্ন শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে : তাপস
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, বিজয়ের এই দিনে জাতিগতভাবে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে। তিনি আজ বুধবার বিজয়ের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে পৃথকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। ডিএসসিসি মেয়র বলেন, জাতিগতভাবে আমরা এখনো সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারিনি। তাই বিজয়ের এই দিনে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদেরকে নতুন করে প্রত্যয় নিতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত এই প্রজন্ম এই দেশ থেকে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন না করা যায়, আমাদেরকে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন যে, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্তির পথে এগিয়ে চলেছি। কিন্তু এখনো সেই সংগ্রামে বিপক্ষে যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা ছিল তারা এখনো রয়েছে। তাদেরকে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর পর হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছি, যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করতে পেরেছি। দেশবাসীকে বিজয়েরে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আজ ৪৯তম বিজয় দিবস। বিজয়ের এই দিনে আমি সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই দিনটি আমাদের গর্বের দিন, এই দিনটি আনন্দের। বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মর্যাদাশীল দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা নিজ অর্থায়নে যেমনি পদ্মাসেতু করছি, তার সাথে সাথে একটি গর্বিত জাতি হিসেবেও মাথা উঁচু করে দাঁডাচ্ছি। বিজয়ের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতাসহ সকল শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। পরে ডিএসসিসি মেয়র শেখ তাপস ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে এবং নগর ভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, ডিএসসিসি’র সচিব আকরামুজ্জামান, ২৬ নম্বর ওযার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি আইজিপির শ্রদ্ধা
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এই শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব আনার প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের সামরিক সচিবরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর