শুক্রবার, মার্চ ২২, ২০১৯
আজ বসছে পদ্মাসেতুর ষষ্ঠ স্প্যান
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ৬ মাস পর আজ বুধবার (২৩ জানুয়ারি) বসছে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর ষষ্ঠ স্প্যান। আগের ৫টির সঙ্গেই জাজিরা প্রান্তে বসানো হবে এটি। স্প্যানটি মাওয়ার ইয়ার্ড থেকে মঙ্গলবার সকালে রওয়ানা হয়ে বিকেলে জাজিরা প্রান্তের নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায়। এটি বসানো হলে একসঙ্গে দৃশ্যমান হবে প্রায় এক কিলোমিটার সেতু। এদিকে সব কিছু প্রস্তুত থাকলেও শুকনো মৌসুমে নদীর নাব্য সঙ্কটের কারণে স্প্যান বসাতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। নদীর জাজিরা প্রান্তে আগের ৫টি স্প্যান মিলে বর্তমানে দৃশ্যমান ৭৫০ মিটার পদ্মা সেতু। কাজ শুরুর পর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নদীতে ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হয়েছিলো প্রথম স্প্যান। এরপর ক্রমান্বয়ে জাজিরা প্রান্তের দিকে এগিয়ে গত বছরের জুন মাসে সবশেষ ৪২ নম্বর পিলারে ৫ম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পাড়ের সাথে সংযোগ ঘটে পদ্মা সেতুর। ফলে ৬টি পিলার মিলে একটি মডিউলের কাজ পুরো শেষ হয়। প্রথম স্প্যানটির সাথে এখন ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের মধ্যে বসানো হবে ৬ষ্ঠ স্প্যান। এ দুটো পিলারে যে স্প্যানটি বসবে মাসখানেক আগ থেকেই ধূসর রং করা শেষে সেটি অপেক্ষমাণ রাখা হয় মাওয়া ইয়ার্ডের বাইরে। মঙ্গলবার সকালে শুরু হয় এটিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরের জাজিরা প্রান্তে নির্ধারিত পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজ। প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন ওজনের, ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি পরিবহন করছে ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ওজন বহনে সক্ষম বিশ্বের সর্বাধুনিক ক্রেন। নদীতে পলি জমে তলদেশের গভীরতা কমে যাওয়ায় ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বাড়াতে হয়েছে বলে স্প্যান বসানোর এ বিলম্ব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ ভাগ। সেতুতে ৬ষ্ঠ স্প্যান যোগ হলে সেখানে আরও একধাপ অগ্রগতি হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ঢাকা উত্তর সিটিতে
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং দুই সিটির সম্প্রসারিত অংশের ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ৩০ জানুয়ারি, বাছাই ২ ফেব্রুয়ারি ও প্রত্যাহার ৯ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সাধারণ নির্বাচনের জন্য ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সভা শেষে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ দুই নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্বাচন হবে। এবার ৫টি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম ধাপে ৮ অথবা ৯ মার্চ উপজেলা নির্বাচন শুরু হবে।
প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ গুণগত মান বজায় রেখে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে গুণগত মান বজায় রেখে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন করার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম একনেক সভা। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারে ধারাবাহিকতা থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গত দু মেয়াদে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে। অনেকগুলো নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বিশেষ করে গত মেয়াদের শেষের দিকে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্পগুলোর গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আপনাদের সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। কেননা দেশের ওই সাধারণ মানুষগুলোই গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দ্রুততার সাথে দারিদ্র্য দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। টানা তৃতীয়বার ও চতুর্থবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবার পরই তার মন্ত্রিসভাকে সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। ইতিমধ্যে ৭.৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামীতেও উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নজরদারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।-ইউএনবি
পৌনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস প্রথম একনেকে
অনলাইন ডেস্ক: নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারে ধারাবাহিকতা থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গত দু মেয়াদে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে। এসব প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একনেক সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আজকের সভায় ৮ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। ব্যয়ের পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে করা হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের সদস্য ড. শামসুল ইসলাম প্রমুখ।
ইজতেমা নিয়ে কোর্টে আসা লজ্জাজনক : হাইকোর্ট
অনলাইন ডেস্ক: পৃথকভাবে ইজতেমা করার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার (২৭ জানুয়ারি)। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানি শেষে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে কোর্টে আসা লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। এর আগে সোমবার (২১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়। রিট আবেদনটি দায়ের করেন ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা ইউনূস মোল্লা। রিট আবেদনে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে বলা হয়, পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ তাবলীগের মেহনত সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় পাঁচদিন পরই ওই পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। যার ফলে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি জনপদে হামলা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন নতুন মাত্রা লাভ করে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর দাওয়াতে তাবলীগের কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলরূপে পরিচালনার জন্য পরিপত্র জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
জনগণের আস্থার মর্যাদা রাখব : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জনগণ ভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা আমরা ধরে রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা আমরা ধরে রাখব। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে নতুন সরকারের প্রথম একনেক (জতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) বৈঠকে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা। এগুলোর কাজের গতি ধরে রাখতে হবে, মান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কাজের প্রতি নজরদারিও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে এবং আরও বাড়াতে হবে। এজন্য প্রকল্প বাছাই ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নবান হতে হবে। এভাবেই আমরা উন্নয়নের পথে যাব। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নত দেশের কাতারে যেতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যও পূরণ করতে সক্ষম হব। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জনগণ বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করে যে গুরু দায়িত্ব দিয়েছে, সেই বিশ্বাসের সম্মান আমরা রাখব। তিনি বলেন, একদম গ্রামের তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের জীবনমান ও ভাগ্য যেন উন্নত হয়, তারা যেন উন্নয়নের সুফল পায়, সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মিলে কাজ করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতাও চান।
প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই
অনলাইন ডেস্ক: প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই। আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর আফতাবনগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ব্যক্তিগত সহকারী রোজেন বলেন, ভোর ৪টার দিকে স্যার আমাকে ফোন দিয়ে জানান, তাড়াতাড়ি বাসায় আসো, আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এরপর ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আমি স্যারের বাসায় যাই। কিন্তু কোনো পালস পাইনি। পরে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে (বর্তমান নাম ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নিয়ে যাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাঁকে সাড়ে ৫টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হৃৎপিণ্ডে আটটি ব্লক ধরা পড়ে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বুলবুলকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা বুলবুলের বাইপাস সার্জারি না করে শরীরে রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন। এর পরে তাঁর শরীরে দুটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন তিনি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃতদেহ বর্তমানে আফতাবনগরে নিজ বাসায় রাখা হয়েছে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কাল বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭০ দশকের শেষলগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীতশিল্পে সক্রিয় ছিলেন। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৪তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল নিয়মিত গান করেন ১৯৭৬ সাল থেকে। ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলী বাদল ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। এরপর তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমটি ছিল ২০০১ সালে প্রেমের তাজমহল আর দ্বিতীয়টি ছিল ২০০৫ সালে হাজার বছর ধরে ছবির জন্য। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, রাষ্ট্রপতির পুরস্কার, ১১ বার বাচসাস পুরস্কার, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক-২০১৪সহ অন্যান্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। চিরদিন বাজবে মানুষের বুকে: অসংখ্য গানে সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, যার অধিকাংশ গানই তাঁর নিজের রচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো : দেশাত্মবোধক গান : সব কটা জানালা খুলে দাও না, ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, সেই রেললাইনের ধারে, সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য, ও আমার আট কোটি ফুল দেখ গো মালি, মাগো আর তোমাকে ঘুমপাড়ানি মাসি হতে দেব না, একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না, মাগো আর নয় চুপি চুপি আসা, সালাম বাংলাদেশ, জাগো বাংলাদেশ জাগো, জীর্ণ দেহের এক বৃদ্ধা নারী, I am a war child ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা। বুলবুলের সুরারোপ করা উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের গান হলো : আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি (নয়নের আলো), আমার বুকের মধ্যিখানে (নয়নের আলো), আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন (নয়নের আলো), আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকব (নয়নের আলো), আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি, (চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা), ও আমার মন কান্দে, ও আমার প্রাণ কান্দে (চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা), আমার গরুর গাড়িতে বৌ সাজিয়ে (আঁখি মিলন), তোমায় দেখলে মনে হয়, হাজার বছর আগেও বুঝি ছিল পরিচয় (বিয়ের ফুল), ঐ চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ (বিয়ের ফুল), কত মানুষ ভবের বাজারে (লাভস্টোরি), বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম (তোমাকে চাই), আম্মাজান আম্মাজান (আম্মাজান), স্বামী আর স্ত্রী বানায় যে জন মিস্ত্রি (আম্মাজান), তোমার আমার প্রেম এক জনমের নয় (আম্মাজান), আমার জানের জান আমার আব্বাজান (আব্বাজান), ঈশ্বর আল্লাহ বিধাতা জানে (আব্বাজান), এই বুকে বইছে যমুনা (প্রেমের তাজমহল), আমি জীবন্ত একটা লাশ (ইতিহাস), প্রেম কখনো মধুর, কখনো সে বেদনাবিধুর (মহৎ), পড়ে না চোখের পলক (প্রাণের চেয়ে প্রিয়), যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে (প্রাণের চেয়ে প্রিয়), অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে (লুটতরাজ), তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন (অবুঝ হৃদয়), তুমি হাজার ফুলের মাঝে একটি গোলাপ (মন মানে না), জীবনে বসন্ত এসেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে মন (নারীর মন), ঘুমিয়ে থাকো গো সজনী (নারীর মন), আমার হৃদয় একটা আয়না (ফুল নেব না অশ্রু নেব), বিধি তুমি বলে দাও আমি কার (ফুল নেব না অশ্রু নেব), তুমি মোর জীবনের ভাবনা, হৃদয়ে সুখের দোলা (আনন্দ অশ্রু), তুমি আমার এমনই একজন, যারে এক জনমে ভালোবেসে ভরবে না এ মন (আনন্দ অশ্রু), একাত্তরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল (বিক্ষোভ), বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় এখানে সভ্যতারই ফুল ফোটানো হয় (বিক্ষোভ), এই জগৎ সংসারে তুমি এমনই একজন (তেজী), জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে (বিদ্রোহ চারিদিকে), পৃথিবী তো দুদিনেরই বাসা, দুদিনেই ভাঙে খেলাঘর (মরণের পরে), অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন (ভালবাসি তোমাকে), ওগো সাথি আমার তুমি কেন চলে যাও (আমার অন্তরে তুমি), তুমি সুতোয় বেঁধেছ শাপলার ফুল নাকি তোমার মন (হাজার বছর ধরে), একদিন দুইদিন তিনদিন পর, তোমারি ঘর হবে আমারি ঘর (মহামিলন), গানে গানে চেনা হলো (না বোলো না), নদী চায় চলতে, তারা যায় জ্বলতে (না বোলো না)। এ ছাড়া বুলবুল অনেক আধুনিক গানে সুরারোপ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ও ডাক্তার,ও ডাক্তার, আমার তুমি ছাড়া কেউ নেই আর, তুমি কত লিটার দুধ করেছ পান, আপামর জনতার ধারণা, যোজন যোজন দূর, শেষ ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে আবার কেন পিছু ডাকো, চিঠি লিখেছে বউ আমার, আট আনার জীবন, বুকটা আমার ভাঙা বাড়ি, আম্মা ভিক্ষা দেন নইলে ভিক্ষা নেন, আমার দুই চোখে দুই নদী, আমি জায়গা কিনবো।
১২ বছরের সাজার রায় বহাল সাবেক বন সংরক্ষক ওসমান গণির
অনলাইন ডেস্ক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণিকে ১২ বছরের সাজা দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর আগে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণিকে ১২ বছরের সাজা দিয়ে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওসমান গণি। ২০০৮ সালের ৫ জুন সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ জজের আদালত সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণিকে দুর্নীতির দায়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। একই আদালত স্বামীকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার অপরাধে ওসমান গণির স্ত্রী মহসিন আরা গণিকে তিন বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওসমানি গণি। কিন্তু ওসমান গণির স্ত্রী পলাতক থাকায় তিনি আপিল করেননি। ওসমান গণি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পেনশনের আওতায় আনার দাবিতে হাইকোর্টে রিট
অনলাইন ডেস্ক: সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সরকারের পেনশন সুবিধার আওতায় আনার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার আইনজীবী মো. মোজাম্মেল হক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে। ওই রিট আবেদনে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ফান্ড বরাদ্দ দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সরকারের পেনশন সুবিধার আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, এজন্য পর্যাপ্ত ফান্ড বরাদ্দ দিতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় এ ব্যাপারে এক মাসের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনটির আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন খান লার্জ জানান, রিট আবেদনটির ওপর মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চে শুনানি হতে পারে। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের তিনটি সাংবিধানিক অঙ্গের বাইরে আইনজীবীরা একটি সাংবিধানিক অঙ্গ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, একই ভাবে কিছু হলুদ সাংবাদিক বাদে দেশের সাংবাদিকরাও তাদের সংবাদ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, যাতে করে নির্বাহী বিভাগ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, প্রাইভেট সেক্টর এবং সকল নাগরিক লাভবান হচ্ছে। কিন্তু আইনজীবী ও সাংবাদিকরা সব ক্ষেত্রে অবহেলিত এবং তাদের ন্যূনতম স্বার্থ রক্ষায় মামলার বাদী সংক্ষুব্ধ হিসেবে হাইকোর্টের সামনে হাজির হয়েছেন। রিট আবেদনে আরো বলা হয়েছে, সরকার সংবিধানের অধীনে প্রজাতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। অথচ সাংবাদিক ও আইনজীবীদের অবসরের পর কোনো নগদ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই, এমনকি সরকারের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত। অথচ রাষ্ট্রের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা গ্রাচ্যুইটি হিসেবে এবং লাইফ টাইম প্রিমিয়াম বোনাস পাচ্ছেন। রিটে বলা হয়েছে, এখানে সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রের অন্য চাকরিজীবীদের প্রাপ্ত সুবিধা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু একজন সাংবাদিক ও একজন আইনজীবী যারা দারিদ্রসীমার নিচে জীবন-যাপন করছে এবং অনৈতিক সুবিধা ছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করতে সামর্থ্য নেই, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে অবশ্যই আলোচনার প্রয়োজন। অনৈতিক দিকে গেলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে যার কারণে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর