রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২০
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ইজতেমা
১৯জানুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো। বেলা ১১টার পর দিল্লির মাওলানা জমশেদ মোনাজাত পরিচালনা করেন। রোববার ফজর নামাজের পর বয়ান করেন মাওলানা ইকবাল হাফিজ। বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা ওয়াসেকুল ইসলাম। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন অন্তত কয়েক লাখ মুসল্লি। এ কারণে ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে মুসল্লিদের ময়দানমুখী স্রোত দেখা যায়। লাখ লাখ মুসল্লি বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে মুসল্লিদের ভিড়। মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দানের আশপাশের অলিগলি, বাড়ি ও কলকারখানার ছাদ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও খালি জায়গায় পলিথিন, পত্রিকা, পাটি ও জায়নামাজ বিছিয়ে অবস্থান নেন অনেকেই। এদিকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে লাখো মুসল্লির সমাগম নির্বিঘ্ন করতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ইজতেমায় মুসল্লিদের আসা-যাওয়া নিবিঘ্ন করতে শনিবার দিবাগত ভোর ৪টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তায় এবং ঢাকার মহাখালী থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ইজতেমার প্রথম পর্ব। আর ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। যা আজ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো। মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জায়গা সংকট হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা তিন দিন করে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০১৮ সালে মুসল্লিদের দুই পক্ষের মারামারি ও হতাহতের ঘটনার পর আলাদাভাবে দুই গ্রুপ ইজতেমার আয়োজন করছে। ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে এ মহা ধর্মীয় সমাবেশ হয়ে আসছে। বাদ মাগরিব ভারতের মওলানা ইব্রাহিম দেওলার আমবয়ানের মধ্যে দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়। এরপর শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বাদ ফজর আমবয়ান করেন পাকিস্তানি মওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশিদ। রোববার (১২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতে শেষ হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এরপর বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) প্রাক-বয়ানে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। যা রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
দুই সিটির ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
১৯জানুয়ারী,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৮টি। দুই সিটির মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৭ এর উপ-বিধি ২ অনুসারে ঢাকা দুই সিটির চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন ভোটারের বিপরীতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৩১৮টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৪৬টি। আর অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নেই, তবে অস্থায়ী ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৫৪টি। এ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড সংখা ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ১৮টি। ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৭৫টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৮টি। অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নেই, তবে অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৭৬টি। এই সিটিতে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪। তার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন। উল্লেখ্য, ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা থাকায় বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে তা পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন। এতে আসন্ন নির্বাচন ও এসএসসি পরীক্ষা দুইই পিছিয়েছে। ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ করা হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি আর এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ১ ফেব্রুয়ারি
১৮জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরস্বতী পূজার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে একথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এর আগে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে বিকাল সোয়া ৪টা থেকে সব কমিশনার ও দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন সিইসি। দীর্ঘ সময় বৈঠক শেষে ভোটগ্রহণের নতুন এই তারিখ ঘোষণা করেন সিইসি। এদিকে, সরস্বতী পূজার দিনে সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে ঢাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশনে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। প্রসঙ্গত, গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি।
জাতির জনকের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী
১৮জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, নিজের স্বার্থ চারিতার্থের জন্য রাজনীতি করলে দেশের উন্নয়ন হয় না। রাজনীতি করতে হবে জনগণের জন্য, দেশের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। জাতির জনকের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব ও জাতির জনকের আদর্শ ব্যতীত রাজনীতিবিদ হওয়া সম্বব নয়। মন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের উদ্বোধন শেষে অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার জন্য সরকারের সব ধরণের প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য সরকার বন্ধপরিকর। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই সফল হবে যখন রাষ্ট্রের জনগণ তাদের নিজ নিজ অধিকার সহজলভ্য মনে করবেন। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। দক্ষ নেতৃত্ব ব্যতীত অধিকার বাস্তবায়ন হয় না। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এখন প্রশংসারযোগ্য। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ডলার। এখন গড় আয়ু বেড়েছে। শিল্পয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, নগরায়ণসহ উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মানও বেড়েছে। তিনি বলেন, জাতির জনককে এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করছে বলে নয় মাসে দেশ স্বাধীন হয়েছে। খাদ্য খাটতির দেশ, খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিনত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের জন্য। শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্বের জন্য দেশের প্রতি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। এখন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিনত করতে হবে। তাজুল বলেন, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপোষহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। তাজুল ইসলাম বলেন, শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রী আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ অর্জন করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা। বাংলাদেশ পেয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর শাসনামলে আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জণ করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতায় আজ দেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এসময় বঙ্গবন্ধু পাঠাগার ও শিশু পার্কের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান দেয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলুল কবির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌকল অধিদপ্তর এর প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর চন্দ্র আচার্য, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভিন তিবরীজিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নাটোরে ১৪তম মহিলা বিশ্ব ইজতেমা শুরু ২৬ জানুয়ারি
১৮জানুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বড়াইগ্রাম উপজেলার মৌখাড়া ইসলামিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারী ১৪তম মহিলা বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি, রবিবার সকাল ৯টায় আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হবে। ইজতেমার আয়োজক আলহাজ্ব শের আলী শেখ জানান, প্রথম দিন প্রধান আলোচক হিসাবে বয়ান করবেন ঢাকার মাওলানা মাহমুদুল হাসান শাহীন। দ্বিতীয় দিন পাবনার মাওলানা আমজাদ হোসেন জিহাদী এবং শেষ দিন নাটোরের মাওলানা রুহুল আমিন জিহাদী প্রধান আলোচক হিসাবে ইজতেমায় আগত নারীদের উদ্দেশ্যে বয়ান করবেন। এছাড়া তিনদিনই তাদের পাশাপাশি ধারাবাহিক ভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার বক্তারা আলোচনা রাখবেন। শেষ দিন বিকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা সমাপ্ত হবে। জানা গেছে, দূরাগত নারীদের জন্য কলেজের মহিলা হোস্টেলে নিরাপদ পরিবেশে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সমাপনী দিনে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও ইজতেমার নিরাপত্তা বিধানে পুরুষসহ পর্যাপ্ত নারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
১৮জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে এক বার্তায় এ শোক জানানো হয়। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম আব্দুল মান্নানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অনুরূপ এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আব্দুল মান্নান ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদেও জয় হন তিনি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান।
চীন সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে মুজিববর্ষ উদযাপন করবে: রাষ্ট্রদূত
১৮জানুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, চলতি বছর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে চীন তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। এ বছর একই সঙ্গে উদযাপিত হবে ঢাকা-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর। তিনি বলেন, গোটা বাংলাদেশ এ বছরটি মুজিববর্ষ হিসাবে উদযাপন করবে এবং এই মহামানবের প্রতি চীনা জনগণের সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য চীনা দূতাবাস আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান উদযাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। লি জিমিং গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় থিয়েটারে হ্যাপি চাইনিজ নিউ ইয়ার গালা ২০২০, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ৪৫তম বার্ষিকী ও মুজিববর্ষ-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়ন কৌশল এবং বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মধ্যে যৌথ সহযোগিতা বাড়াতে ৪৫তম বার্ষিকীকে একটা বিরাট সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে হাত বাড়াতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুবিধা নীতির ভিত্তিতে গত ৪৫ বছর চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সময় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের গতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছে। তিনি আরো বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভাল সময়ে রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০১৯ সালে চীন-বাংলাদেশ জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের চমৎকার উন্নয়ন ঘটেছে। এ সময় ৩৭ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি পর্যটক চীন ভ্রমণ করেছে এবং ৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশুনা করছে। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৫০ ও ১৯৬০ সালে তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী চু এনলাই দু দফা ঢাকা সফর করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও দুবার চীন সফর করেছিলেন। লি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অনেক আগেই আমাদের দুই দেশের প্রবীণ নেতারা বন্ধুত্বের বীজ রোপণ করেছিলেন। এটি এখন গভীর শিকড় গেড়েছে এবং সমৃদ্ধ ফলসহ একটি বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছিলেন যে, চীনা জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শুভেচ্ছাসহ চাইনিজ নববর্ষের বার্তা পেয়েছে। বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শতবর্ষ ধরে চীন ও বাংলাদেশের সম্মানজনক বন্ধুত্বের উল্লেখ এবং এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। শেখ হাসিনা চীনা জনগণ ও সরকারকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং নতুন বছরে চীনা জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং সুখী জীবন কামনা করেছেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা এটির অত্যন্ত প্রশংসা করি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। অনুষ্ঠানে জিনজিয়াং আর্ট থিয়েটারের পরিচালক লি ইওং এবং বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের এম দেলোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। পরে, চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে আগত একদল শিল্পী বর্ণাঢ্য পরিবেশনা উপস্থাপন করে। চীনা নববর্ষ সাধারণত গুও নিয়ান (অর্থাৎ নববর্ষ উদযাপন) হিসাবে পরিচিত। এটি চীনা সংস্কৃতিতে সর্বাধিক আনুষ্ঠানিক এবং আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত উৎসব। ঢাকায় চীনা দূতাবাস বিগত টানা দশ বছর ধরে বাংলাদেশে হ্যাপি চায়নিজ নববর্ষ অনুষ্ঠান করে আসছে। এতে বাংলাদেশীরা চীনা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
সোমবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি মান্নানের জানাজা
১৮জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের প্রথম জানাজা সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কিছুক্ষণ রাখা হবে। পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ সোনাতলা নেয়া হবে। সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি সারিয়াকান্দিতে দাফন করা হবে। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আব্দুল মান্নানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ওবায়দুল কাদের ল্যাবএইড হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, আব্দুল মান্নানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আছেন। সেখান থেকে আগামীকাল (রোববার) রাতে তিনি দেশে ফিরবেন। সে পর্যন্ত আব্দুল মান্নানের মরদেহ বারডেমের মরচুয়ারিতে রাখা হবে। আজ (শনিবার) সকাল সোয়া ৮টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান। পরে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদে জয় পান তিনি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল মান্নান।

জাতীয় পাতার আরো খবর