মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১
বহুবার ফেল করেছি কিন্তু নকল করিনি : রাষ্ট্রপতি
১১জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, তিনি জীবনে অনেক পরীক্ষায় ফেল করেছেন, তবে কখনো পাস করার জন্য নকলের মতো অনৈতিক পথ অবলম্বন করেননি। এমনকি পাশের কাউকে জিজ্ঞেসও করেননি। এটা তার জীবনের অহংকার এবং এটা নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন। আজ শনিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা জানান। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে এই সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়। এ সময় আক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন প্রায়ই শুনি শিক্ষকরা ছাত্রদের কাছে নকল সাপ্লাই করে। অনেক জায়গায় শোনা যায় অভিভাবকরা নকল সাপ্লাই করে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? পরীক্ষায় নকল প্রবণতা ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের কারণে দেশ ও জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান। নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে আমি ছিলাম গোটা পাকিস্তানে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। সত্তরের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যেতে পারিনি। আবদুল হামিদ বলেন, রাজনীতির কারণে যথাসময়ে ডিগ্রি পাস করতে পারিনি। ১৯৬৯ সালে ডিগ্রি পাস করি। ৭১ সালে ল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীনের পর ৭২ সালে ল পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। চার পেপারে পরীক্ষা। তখন সারাদেশের পরীক্ষা হয়েছিল জগন্নাথ কলেজে। আমিও সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতি বলেন, পরীক্ষা যখন দিতে গেলাম দেখলাম সবাই মোটা মোটা বই দেখে লিখে যাচ্ছে। বই সামনে ছাড়া খুব কমই দেখেছি। আমি তখন বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য। ভাবলাম, আমি যদি এই কাজটি করি তাহলে কেমন হয়! মাঝে মাঝে সাংবাদিকরাও আসছে। তারা যদি কিছু লেখে! পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, কপালে যা আছে হবে কিন্তু বই দেখব না। যা পারি তাই লেখলাম। ফলাফলে চার সাবজেক্টের মধ্যে দুই সাবজেক্টে পাস করি আর দুই সাবজেক্টে ফেল করি। পরে অবশ্য ১৯৭৪ সালে ভালোভাবে পড়াশোনা করে ল পরীক্ষা দিয়ে পাস করি।
অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও পরিবেশের ক্ষতি করছে: তথ্যমন্ত্রী
১১জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। বললেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবী ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা উচিত। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এসব খেয়াল করে না। তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, রাস্তা করার জন্য সিডিএর মতো একটি প্রতিষ্ঠান ৩০০ ফুট পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলেছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি না করে কিভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে সচেতন থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরিন আখতার, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আমু-তোফায়েল নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না: সিইসি
১১জানুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন সিইসি। সিইসি বলেন, তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এবং আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ইসির পক্ষ থেকে সিইসি, কমিশনার মাহবুব তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম ও বেগম কবিতা খানম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব ইজতেমায় আরও ৬ মুসল্লির মৃত্যু
১১জানুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মারা গেছেন আরও পাঁচজন মুসল্লি। শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এই পাঁচজন মারা যান। এ নিয়ে ইজতেমায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জনে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন-রাজশাহীর চারগাছ থানার বনকিশোর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক (৬৭)। তিনি শুক্রবার বিকেলে মারা যান। আর রাতে মারা যান-কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ডিমলা এলাকার তমিজ উদ্দিন (৬৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার বড়তোল্লা এলাকার মো. শাহজাহান (৬০)। শনিবার সকালে মারা গেছেন-বরিশালের গৌরনদী থানার খালিজপুর এলাকার আলী আজগর (৭০) ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার দক্ষিণ কলাবাগান এলাকার মো. ইউসুফ আলী মেম্বার (৪৫)। ইজতেমা ময়দানে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মিডিয়া সেন্টারে দায়িত্বপালনরত গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মনজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তারা মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ফজরের নামাজের পর দুজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে ও রাতে ইজতেমা ময়দানে আরও চারজন মারা যান। তাদের তিনজন হলেন-সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার পাটগ্রাম এলাকার বাসিন্দা খোকা মিয়া (৬০), চট্টগ্রামের পটিয়া থানার খৈগ্রাম এলাকার মোহাম্মদ আলী (৭০) ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া লাখীরপাড় এলাকার ইয়াকুব আলী সিকদার। প্রসঙ্গত, শুক্রবার বাদ ফজরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে এই ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি, শেষ হবে ১৯ জানুয়ারি। এবার প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নেবেন দ্বিতীয় পর্বে।
১০ টাকার টিকিটে চোখ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী
১১জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১০ টাকার টিকিট কেটে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করান তিনি। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তাফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী নিজে টিকিট কাটেন। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মোদাচ্ছির আলী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কাজী দীন মোহাম্মদ নুরুল হক ও তিনিসহ তিন চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রীর চোখ পরীক্ষা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন এ বি এম আব্দুল্লাহ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকিট কেটে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।
বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি মোজাম্মেল হোসেন আর নেই
১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এমপি মোজাম্মেলের পারিবারিক সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ হলে ছয় দিন আগে মোজাম্মেল হোসেনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাগেরহাট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর বাগেরহাট-৪ আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে গঠন করা আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাগেরহাটে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাঙালির বিজয় ছিলো অসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মধ্য দিয়ে সেই বিজয় পূর্ণতা পেয়েছে। তাই এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।পরে আওয়ামী সভাপতি হিসেবে ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রদায়িকতার প্রধান অন্তরায়। আর এর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছে বিএনপি। আর সাম্প্রদায়িকতার এই বিষ বৃক্ষের মূল উৎপাটন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত আর আদর্শিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা গড়তে একটি সহযোগী ভূমিকা পালনই হবে আজকের দিনের শপথ।
৭ দিনের রিমান্ডে মজনু
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (০৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালত এই অনুমতি দেন। এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিতে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুনানি শেষে আদালত ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত মঙ্গলবার ঢাবি শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ভোরে মজনুকে রাজধানীর শেওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।পরে কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে Rab জানায়, অভিযুক্ত ধর্ষক মজনু মাদকাসক্ত, ভিক্ষুক এবং প্রতিবন্ধী নারীদের ধর্ষণ করা তার নেশা। মজনুর কাছ থেকে এ সময় উদ্ধার হয় ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক আর ব্যাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে Rabর কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে। Rab আরো জানান, ধর্ষক মজনু সিরিয়াল রেপিস্ট, মানসিক প্রতিবন্ধী আর ভিক্ষুকদের টার্গেট করে চালাত নির্যাতন। এদিকে, ধর্ষকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ। সকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ধর্ষককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান আয়োজকরা।
পুলিশের হাত থেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর সবুজবাগ থানার সোর্স মো. তুষার এবং মাদকাসক্ত যুবক রিফাত ও সজীবের বিরুদ্ধে। তাদের তিনজনই গ্রেপ্তারের পর এখন কারাগারে আছে। এর মধ্যে অভিযুুক্ত রিফাত আদালতে ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। সে কোনো পুরুষ দেখলেই এখন আঁতকে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ১ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাতে হত্যার হুমকি দিয়ে সবুজবাগের পূর্ব রাজারবাগ হিন্দুপাড়ায় কাদিরের বাড়িতে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন মেয়েটির স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা থানায় মামলা করতে গেলে তাদের ২৪ ঘণ্টা সেখানে বসিয়ে রাখার পর মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি করেছেন কিশোরীর মা। ভুক্তভোগী মেয়েটির বরাত দিয়ে তার মা জানান, সবুজবাগের দক্ষিণ মাদারটেক বাজার রোড এলাকার একটি বাড়িতে সপরিবারে থাকেন তারা। তার স্বামী পেশায় রিকশাচালক। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে মেয়েটি। ফল আনতে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যায় ওই কিশোরী। বেলা সাড়ে ১১টায় কম্পিউটারের দোকান থেকে পরীক্ষার ফল উঠিয়ে সে বাসায় ফিরছিল। পথে পূর্বপরিচিত তরুণ রিফাত তার ফল দেখতে চায়। কার্ড হাতে পেয়েই রিফাত মেয়েটিকে শর্ত দেয়- তার সঙ্গে ঘুরতে গেলে তবেই ফেরত দেওয়া হবে রেজাল্ট কার্ড। অনেক অনুরোধ করেও কাজ না হওয়ায় রিফাতের শর্তে রাজি হয় মেয়েটি। মাদারটেকের আদর্শপাড়ায় গিয়ে মেয়েটিকে সেভেন-আপ দেয় রিফাত। গ্লাসে দেওয়া ওই পানীয় পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মেয়েটি। প্রায় অচেতন অবস্থায় সেখানে একটি বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় রিফাত। এরপর আর কিছু মনে নেই তার। রাত ৮টার দিকে কিছুটা চেতনা ফিরে এলে মেয়েটি নিজেকে আবিষ্কার করে মাদারটেকের নতুনপাড়ার একটি মাঠে। সেখান থেকে মেয়েটিকে ওই এলাকারই আরেকটি বাসায় রেখে চলে যায় রিফাত। ওই বাসার এক তরুণী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে বলে- রিফাত ভালো না, তোমার আরও সর্বনাশ হবে, তুমি পালিয়ে যাও। ওই তরুণী তার বোরকা পরিয়ে মেয়েটিকে তার বাসা থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু পানীয়তে মেশানো নেশাজাতীয় দ্রব্যের ঘোর না কাটায় বেশিদূর যেতে পারেনি মেয়েটি। এরই মধ্যে রাস্তায় হঠাৎ পেছন থেকে তাকে টেনে ধরে রিফাত। ছেড়ে দেওয়ার অনেক অনুরোধ করা হলেও রিফাতের হাত থেকে রেহাই মেলে না। প্রায় অচেতন অবস্থাতেই তাকে ফের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে নতুনপাড়া পাওয়ার হাউসের মাঠের কাছে টহল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রিফাত ও মেয়েটি। এ সময়ও ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু করছিল তার। মেয়েটির মা আরও জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই সোর্স তুষার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কিছু একটা বলে। এরপর পুলিশ মেয়েটিকে থানায় না নিয়ে অথবা অভিভাবকদের জিম্মায় না দিয়ে তুলে দেয় তুষারের হাতে। পুলিশের হাত থেকে মেয়েটিকে ছাড়িয়ে সোর্স তুষার অন্ধকারাচ্ছন্ন ঝিলের পাশে চলে যায় রিফাত ও মেয়েটিকে নিয়ে। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে প্রায় অচেতন মেয়েটি হাত জোড় করে অনুনয় বিনয় করে। কিন্তু এর পরও রেহাই পায়নি। তুষারের কথায় রাজি না হলে গলা কেটে ঝিলে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে পার্শ্ববর্তী হিন্দুপাড়ার একটি টিনের ঘরে নিয়ে যায় তুষার, রিফাত ও সজীব। সেখানে পালাক্রমে চালানো ধর্ষণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। ভোরে নিজেকে সে আবিষ্কার করে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি মাঠে, একা। একপর্যায়ে স্থানীয় এক নারী তার বিধ্বস্ত অবস্থা দেখতে পেয়ে নিয়ে যায় নিজ বাসায়। এ দিকে মেয়ে রাতে না ফেরায় দিশেহারা হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা-বাবা। না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়দেরও জানানো হয়। ভুক্তভোগীর এক বান্ধবী জানায়, মেয়েটিকে ১ জানুয়ারি দুপুরে তিনি রিফাতের সঙ্গে যেতে দেখেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয়রা। প্রথমে সে অস্বীকার করলেও মারধর শুরু হলে সে সব কাণ্ড বলে দেয়। তাকে সঙ্গে নিয়েই হিন্দুপাড়ার ওই নারীর বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এর পর মেয়েটিকে নিয়ে ওর মা সবুজবাগ থানায় যান আইনি পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্তু ভুক্তভোগী ও তার মাকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে মেয়েটিকে ওসিসিতে পাঠায় পুলিশ; রিফাতের দেওয়া তথ্যানুসারে সোর্স তুষার ও মাদকাসক্ত যুবক সজীবকে আটক করা হয়। এর আগে, পুলিশ রাতে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে গেলে অথবা তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দিলে সে গণধর্ষণের শিকার হতো না। সোর্সের হাতে তুলে দেওয়ার অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে মেয়েটির সর্বনাশ হয়ে গেল। এই যখন অবস্থা, তখন মামলার বাদী মেয়েটির মা বলছেন, সুন্দর তদন্তের কথা বলেও পুলিশের একজন তাদের কাছে টাকা চেয়েছেন। এ দিকে বাদী তার মেয়েকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ করলেও মামলায় একজনকে ধর্ষক (তুষার) ও অন্য দুজনকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। কেন? এ প্রশ্নে মেয়েটির মা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না, পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত বলেছি। তারাই এজাহার লিখেছেন। আমাকে সই করতে বলেছে, আমি শুধু সই করছি। এজাহারে পুরো ঘটনার উল্লেখ নেই জেনে অবাক হন তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই মো. বোরহান মিয়া বলেন, তুষার পুলিশের লিস্টেড সোর্স না। তবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করত বলে জানতে পেরেছি। ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিফাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা, তা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। ঢামেক হাসপাতালের ওসিসি থেকে মেয়েটিকে দুতিন দিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে, জানান তিনি।- আলোকিত বাংলাদেশ

জাতীয় পাতার আরো খবর