সিলটে প্রধানমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফর সঙ্গীরা । সিলেটে পৌঁছেই হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১২টায় তিনি হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে জিয়ারত শেষে জোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী আসেন সিলেট সার্কিট হাউজে। বিকেল ৩টার দিকে তিনি আলিয়া মাদরাসা মাঠের এসে পৌঁছেছেন।এখানে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নতুন ১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলার সরকারি আলিয় মাদরাসা মাঠ থেকে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনকৃত ২০ টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে আছে : হযরত গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার উন্নয়ন, মহিলা ইবাদতখানা নির্মাণ, মাজারের সৌন্দর্য বর্ধন এবং মাজারের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা ২ কি.মি. প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬তলা ভিত বিশিষ্ট ও ৪তলা নতুন একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন, সিলেট জেলার পিরোজপুরে ১টি সার পরীক্ষাগার ও গবেষণাগার ভবন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভাগীয় জেলা অফিস, সিলেট বিভাগীয় ও জেলা এনএসআই কার্যালয় ভবন, সিলেট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জাকিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১২তলা ভিত্তি বিশিষ্ট নগর ভবনের বেজমেন্ট ফ্লোরসহ ৫ম তলা পর্যন্ত ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাবুছড়ায় আরসিসি ইউ টাইপ ড্রেন নির্মাণ কাজ, জালালাবাদ রাস্তা সম্প্রসারণ ও এসফল্ট দ্বারা উন্নয়ন কাজ, সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক উন্নয়ন, মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চগঞ্জ-সিলেট সড়ক এবং রশিদপুর-বিশ্বনাথ-লামাকাজী সড়কে ওভারলে কাজ, সিলেট-গোপালগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ সড়কে এবং দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহাবাগ সড়কে মজবুতীকরণসহ ওভারলে কাজ, ঢাকা (কাঁচপুর)- ভৈরব-জগদীশপুর-শায়েস্তাগঞ্জ-সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের (সিলেট-শেরপুর অংশ) মজবুতীকরণসহ সার্বিক কাজ এবং সড়কের শেরপুর টোল প্লাজা অংশে রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ, দক্ষিণ জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত কানাইঘাট সড়ক, কুইটুকে তিন তলা বিশিষ্ট প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সেন্টার ভবন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। যে ১৮ টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তার মধ্যে আছে : হজরত শাহজালার (রহ.) মাজারের মহিলা এবাদতখানা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব হল নির্মাণ, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ ভবন ও হলরুম নির্মাণ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেল ভবন নির্মাণ, সিলেট এম এ জি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবন নির্মাণ, সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মাণ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে ১টি নার্সিং হোস্টেল নির্মাণ, সিলেট পুলিশ লাইনে ১টি এসএমপি ব্যারাক ভবন নির্মাণ, সিলেট পুলিশ লাইনে ১টি অস্ত্রাগার নির্মাণ, এসএমপির কোতয়ালী মডেল থানার কম্পাউন্ডে ডরমেটরি (১০-তলা ভিত বিশিষ্ট ৪-তলা) ভবন নির্মাণ, সিলেট জেলাধীন তামাবিল ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট (টাইপ-২ অনুযায়ী (৬-তলা ভিতবিশিষ্ট ৩তলা) ভবন নির্মাণ, সিলেটস্থ লালবাজারে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) পুলিশ লাইন নির্মাণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ (বালিকা-০৬ ইউনিট, বালক ০৫ ইউনিট এবং সম্প্রসারণ-২০ ইউনিট)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সিলেটে হোস্টেল ভবন নির্মাণ বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বিভাগীয় পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা, সিলেট এর অফিস ভবন নির্মাণ, সিলেট-গোপালগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার উন্নয়ন, গোলাপগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর মহাসড়ক ও চারখাই-শেওলা-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম মহাসড়কের ৯.৬০ কি মি উন্নয়ন, সিলেট এম এ জি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন ৪তলা থেকে ১০তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সফর সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত
দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? রাজনীতির মাঠে এখন চলছে এ নিয়ে জোর আলোচনা। আলোচনায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের নামই উচ্চারিত হচ্ছে সব মহলে। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আগামীকাল বুধবারই দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারী বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে মনোয়নপত্র দাখিল করতে হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, যাচাই-বাছাই ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী শুধু সংসদ সদস্যরাই সংসদ অধিবেশনে ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এদিকে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের আলোচনা। নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। সবেচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের নাম। সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়াদের শেষ এবং নির্বাচনী বছরে আওয়ামী লীগ কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে বিশ্বস্ততা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সর্বোপরি যে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকেই দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের সম্ভাবনায় প্রবল। দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য অপর যে আওয়ামী লীগ নেতার নাম উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার বড় ধরনের কোন চমক আসবে কি না, এ বিষয়টি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কোন নেতা নিশ্চিত নন। দলের অনেক সিনিয়র নেতাও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাঁর পক্ষে গ্রীন সিগন্যাল দেবেন, তিনিই হবেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৪ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয়ে স্পীকারের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈঠক শেষে স্পীকার সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংসদ সরবরাহ করেছে। ওই তালিকায় ভোটার হিসেবে ৩৪৮ জন এমপির তালিকা দেয়া হয়েছে। দুইজন এমপির মৃত্যুর কারণে তালিকায় নেই। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি শপথ নেন মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত এ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। স্পীকার জানান, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন এমপিরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বিলুপ্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে অপব্যবহার রোধে নতুন আইনে ৫৭ ধারাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৮ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন আইন পাস হলে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বিলুপ্ত হবে। তার বদলে এসব ধারার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। প্রস্তাবিত এই আইনে জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য বেশকিছু ধারা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পায়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে বা তাতে মদদ দিলে যাবজ্জীবন কারাদ- ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য খসড়ায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর জেল এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারায় শাস্তির বিধান আছে, কিন্তু সেগুলো অপর্যাপ্ত। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন আছে। পাশের দেশ ভারতেও একটি বিস্তারিত আইন আছে, তার আদলেই বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদ- এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদন্দের বিধান রয়েছে বিদ্যমান আইনে। তদন্ত কীভাবে করা হবে সেটা ডিটেইল (বিস্তারিত) করা হয়েছে, যেটা আগে ছিল না বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় হওয়া মামলাগুলোর কী হবে- জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, সেই মামলাগুলো চলতেই থাকবে, যেন ধারাটি বাতিল করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহার বিশেষ করে এ ধারায় সাংবাদিকদের নামে মামলার কারণে এ ধারাটির বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠে। ধারাটি বাতিলের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। ২০১৬ সালের বছরের ২২ আগস্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিলেও খসড়াটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যারা কনসার্ন স্টেক হোল্ডার (সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী) তাদের নিয়ে বৈঠক করে এটাকে (খসড়া আইন) আরেকটু পরিশীলিত করবেন। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কয়েক দফা সভা করার পর গত বছরের ২৯ নবেম্বর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। এর পরই খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনটি অধীনে একটি কর্র্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এটি ২২টি মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজ করবে। এই কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরপিও সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত
নির্বাচনী আইন "গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ" বা আরপিও সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন। আইনে আনা হয়েছে ৩৪টি সংশোধনী। আইনে বাড়ানো হচ্ছে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ। তবে বিচারিক ক্ষমতা বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না সেনাবাহিনীকে। যদিও কমিশন বলছে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি চাইলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা বাহিনীকে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক। এমন অনেক স্ট্রেক হোল্ডারের সঙ্গে টানা তিনমাসব্যাপী সংলাপ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সংলাপে পাওয়া ৪ শতাধিক প্রস্তাবনা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছে কমিশনের আইন সংশোধন কমিটি। অবশেষে এসব প্রস্তাবনা থেকে বাছাই করে নির্বাচনী আইনে ৩৪টি সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রস্তুত হয়ে গেছে আইন সংস্কারের খসড়াও। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, 'কতগুলো প্রস্তাব কমন আছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত আছেন আমরা চাচ্ছি তাদের আর একটু জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে। যে প্রস্তাবগুলো আনতে চাচ্ছি, সেগুলো সব আলোচনা হয়েছে।' নির্বাচন দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাদের আগাম ভোটগ্রহণ, প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার, কেন্দ্র পোলিং এজেন্টদের বের হওয়া এবং ফিরে আসায় স্বাক্ষরের বিধান, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাজার বাড়ানো বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে আইনে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা সেনা বাহিনীকে। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, 'আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী ছিলনা। আইন সংস্কার কমিটি সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাবও করছে না।' ইসির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত সাবেক নির্বাচন কমিশনারও। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে ২০ তম কমিশন সভায়। ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যেই সংশোধিত আইন পাসের পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে ছাত্র ধর্মঘট। সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিভাগেই ক্লাস বন্ধ থাকতে দেখা যায়। কোন কোন বিভাগে ক্লাস হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হামলার সাথে জড়িত নেতা কর্মীদের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নিপীড়ন বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে রাজধানীর অন্যান্য সরকারি কলেজগুলোতে ধর্মঘটের পক্ষে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের। সকাল থেকে যথারীতি শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল অন্যান্য দিনের মতই।
মঙ্গলবার সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনের সফরে মঙ্গলবার সিলেট যাচ্ছেন। এসময় তিনি হযরত শাহজালাল, হযরত শাহপরান এবং হযরত গাজী বোরহান উদ্দিনের মাজার জেয়ারত ছাড়াও সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন। তিনি বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আওয়ামী লীগ প্রধানের সিলেট সফর নির্বাচনী সফরের শুভ সূচনা বলে মনে করছেন দলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তাই সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভাকে সফল করার জন্য বিভাগ জুড়ে চলছে লাগাতার সভা-সমাবেশ। প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত সিলেট। আগামী জাতীয় সংসদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশিসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিশাল বিশাল বিলবোর্ডের ছেঁয়ে গেছে গোটা নগরী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, 'নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সিলেট আসবেন। সিলেটবাসী তাকে সাদরে গ্রহণ করবে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বলে মনে করছেন নেতারা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো করেছেন সেগুলো তুলে ধরবেন। সব কিছু মিলিয়ে বলা যেতে পারে এটা নির্বাচনের আগে প্রাথমিক পর্যায়।' এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর নির্বিঘ্ন রাখতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর আগমনের উপলক্ষে আমাদের যে নিরাপত্তা আছে ম্যানুয়ালি সেসব কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।' প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
আজ রবিবার দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের নব্বই ভাগ মানুষ আজ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যত বাড়ছে, তত বিদ্যুৎতের চাহিদা বাড়ছে। কাজেই চাহিদার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। চাহিদা মেটানোর জন্য যা যা করণীয় আমরা তাই করছি। বিদ্যুৎ দিলেই মানুষের জীবন-জীবিকার পথ খুলে যায়। আজকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি মনে করি বিদ্যুৎ অপরিহার্য। উন্নয়ন পরিকল্পনায় আমরা সব সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলকে অর্থাৎ গ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। প্রকৃতির খেয়াল-খুশিতে এই এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা চলে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। মহেশখালীর মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে যে রোহিঙ্গারা এসেছে, আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি মানবিক কারণে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছি দ্রুত সময়ে যেন তারা ফিরে যেতে পারে। এ ছাড়াও আমরা ভাসান চরে জায়গা করে দিয়েছি। রোহিঙ্গারা চলে গেলে সেখানে স্থানীয় মানুষের কাজে লাগবে। এটা সাময়িক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমরা করে দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখলাম, এ কাজ সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে নতুন কিছু করতে গেলে নানা রকম বাধা আসে। নতুন নতুন তাত্ত্বিক আসে। কেউ কেউ হতাশায় ভোগে। কেউ কেউ বলে, গেল গেল সব গেল, সব গেল। শেখ হাসিনা বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে আছে। হলি আর্টিসানে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি কক্সবাজারের প্রশাসন, আমাদের দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানাবো, এই মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যারা কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আপনারা খেয়াল রাখবেন। কারণ তারা আমাদের অতিথি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। অনুষ্ঠানে জাপানী উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি অংশ না নিলেও আগামী নির্বাচন সময়মতই হবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি অংশ না নিলেও আগামী নির্বাচন সময়মতই হবে। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি মনে করেছে এবারও তারা ইলেকশনে (নির্বাচন) না গেলে আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি হবে। আর এটা যদি তারা ভেবে থাকেন তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এবারের নির্বাচনে অনেকে আসবেই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইলেকশন (নির্বাচন) এবার হবে না।' তিনি আরও বলেন, 'কী রায় হবে তার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আদালতকে হুমকি দিচ্ছেন। এটা তারা পারে না। তার মানে তারা আদালত অবমাননা করেছে। এটারও আদালতের নজরে আসা উচিত।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা রাখবে আন্দোনেশিয়া
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জোট- আসিয়ান এর ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ সফর, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। এ সময়, দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ৫টি সমঝোতা সই হয়। এর আগে, জোকো উইদোদো সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরও পরিদর্শন করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও তাদের বাস্তুচ্যুত জীবনধারণ নিজ চোখে দেখতে বাংলাদেশ সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় উইদোদো'কে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূচি অনুযায়ী বেলা ১০টায় একান্ত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যু ছাড়াও, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন তারা। এরপর, শেখ হাসিনা ও উইদোদো নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং মৎস্য সম্পদ আহরণ সংক্রান্ত ইস্যুতে সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে ৫টি সমঝোতা ও সম্মতিপত্রে সই করেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মতিপত্র, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে যৌথ সম্মতিপত্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ এলএনজি আমদানি ও গ্যাস খাতের অবকাঠামো উন্নয়নেও সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন দুদেশের প্রতিনিধিরা। পরে ব্রিফিং এ পররাষ্ট্র সচিব জানান- জোকো উইদোদো'র এই সফর মিয়ানমারের জন্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কারণ হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে দুই দেশ 'পিটিএফ' করবে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে শান্তিপূর্ণ রেজুলেশন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আসিয়ান ভুক্ত দেশের সরকার প্রধান বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার বিষয়টি অনেক বড় ইস্যু' এর আগে, ধানমন্ডিতে জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা জানান উইদোদো। ফার্স্ট লেডি ইরিয়ানা জোকোকে নিয়ে পরিদর্শন করেন পুরো ভবনটি। দিনের শুরুতেই সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান জোকো উইদোদো। তিন দিনের সফর শেষে সোমবার তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর