নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী নির্বাচন উনুষ্ঠিত হবে
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করার কোন সম্ভাবনা নাই বিএন‌পির। তাই তারা (বিএনপি) ১/১১ কুশিলবদের সাথে নিয়ে দেশের পানি ঘোলা করতে চায় ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত 'জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস' উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‌তি‌নি ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১/১১ কুশিলবদের সাথে নিয়ে দেশে আবারও ষড়য‌ন্ত্রের বীজ বুনছে। এবং তারা (বিএনপি) তা‌দের পরম বন্ধু পা‌কিস্তান‌কে নি‌য়ে ব‌হির্বি‌শ্বের নেতাদের কা‌ছে না‌লিশ কর‌ছে। কারণ আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করার কোনও সম্ভাবনা তা‌দের নেই। সাম্প্রতিক বিএনপির ভারত সফর প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অতীতের রাজনীতির ভুলের ক্ষমা চাওয়ার জন্যই ভারত গিয়েছিল বিএনপি। তিনি ব‌লেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী নির্বাচন উনুষ্ঠিত হবে, এর কোন ব্যত্যয় হবে না। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ গ্রহণ করবে। আর য‌দি তারা (বিএন‌পি) ২০১৪ সালের মত আগামী নির্বাচ‌নে অংশগ্রহণ না ক‌রে তাহলে তারা (বিএনপি) অাত্মহননের পথ বেচে নেবে। তাই ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানান তি‌নি। বিএনপি ‌বেগম খা‌লেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নি‌য়ে নোংরা রাজনী‌তি কর‌ছে দা‌বি ক‌রে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ব‌লেন, জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যথা নেই। তাঁদের মাথাব্যথা শুধুমাত্র বেগম জিয়ার হাঁটু আর কোমরের ব্যথা নিয়ে। তাই এই নোংরা রাজনী‌তি থে‌কে বিএন‌পি‌কে বেড়িয়ে আসারও আহ্বান জানান। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু দিন আগে বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছে এখন কেন যাবে না? এখন কেন ইউনাই‌টেট হাসপাতালে তাকে নিতে হবে? এর উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করা হোক। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. বলরাম পোদ্দার, কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আলম, জোট নেত্রী রেহানা পারভীন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানাসহ প্রমুখ।
ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে যারা রাতে যাত্রা করবেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে। এ জন্য রাস্তায় পোশাকে ও সিভিল পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে। ঈদে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিরুদ্ধেও আইনশৃখলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু গ্যাং ধরা পড়েছে। তিনি যাত্রীদের রাস্তাঘাটে অপরিচিত কারো কাছ থেকে কোন কিছু গ্রহণ না করার জন্য অনুরোধ জানান। বুধবার দুপুরে মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি এবং মহাসড়কে বেশ কয়েকটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনকালে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত পুরো রাস্তার অর্ধেক ড্রেনের নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে। ড্রেনেজ সিস্টেমটা আরো ভাল করা দরকার বলে মনে হয়। অবশ্য কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছেন। তবে সেখানেও একটা ধারণ ক্ষমতা আছে। যখন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয় তখন এ ড্রেনেজ সিস্টেমটা ঠিক মতো কাজ করতে পারে না বলে মনে হচ্ছে। এনফোর্সমেন্টের দায়িত্বে থাকা সবগুলো সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে আর পানি যদি দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যেতে পারে তাহলে রাস্তাটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাবে। পরিদর্শনকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সবাই সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার বিষয়ে কারাকর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রস্তাবে এখনও সম্মতি জানাননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সম্মতি জানালেই কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া অপশনগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বুধবার দুপুরে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বশেষ কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘দেখুন আমরা কী করতে যাচ্ছি। খালেদা জিয়াকে যারা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন, যাদের চিকিৎসা তিনি নেন, সেই বিশেষজ্ঞ চারজনকে আমরা নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটা আপনারা জানেন। তিনি বলেন, আমাদের সিভিল সার্জন, কারাগারের ডাক্তার সবাই একসঙ্গে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাদের সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তার পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আমরা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা কোথায় নিয়ে যাবো। এখন তারা যদি সম্মতি প্রকাশ করেন, তাহলেই আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। আমাদের আইজি প্রিজনস কিছুক্ষণ আগে জানিয়েছেন যে, খালেদা জিয়া এখনও কোনও সম্মতি দেননি। আমরা আশা করি, যেকোনও সময়েই তিনি সম্মতি প্রকাশ করবেন। তখনই আমরা আমাদের যে অপশনগুলো ছিল, সেসব অপশনে নিয়ে যাবো।’ ঈদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনও হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনোক্রমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেবো না। ২৮ রোজা চলে এসেছে। আজ পর্যন্ত কোনও ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। আশা করি, কিছু হবে না। এপর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট হুমকি নাই। সবাই সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। সারাদেশের মানুষ যে প্রত্যাশা করেন, সবাইকে নিয়ে তাদের আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে তারা ঈদ উদযাপন করবেন। আমরা মনে করি, তারা সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।
রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ২৮ জুন পর্যন্ত। তফসিল অনুযায়ী, ২৮ জুন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাইয়ের তারিখ ১-২ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জুলাই। এরপর ভোট ৩০ জুলাই। এই তিন সিটির আগে ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। গত ১৫ মে খুলনা সিটির সঙ্গে গাজীপুরে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের আদেশে তা আটকে গিয়েছিল। খুলনা ও গাজীপুরের মতো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটেও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে। এই সিটি নির্বাচনের পর চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হবে ইসিকে।
শুক্রবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা
ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ ও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিচের টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। টেলিফোন নম্বর: ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর: ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।
বেগম জিয়া কি চিকিৎসা চান ?
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসলেই চিকিৎসা চান কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) কি চিকিৎসা চান, নাকি চিকিৎসার নামে রাজনীতি করছেন? বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভিজিলেন্স টিমের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি ও তার দল (বিএনপি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিতে চান না। বাংলাদেশে সিএমএইচ-এর উপরে চিকিৎসাসেবা নেই। তিনি বলেন, তিনি যেহেতু একটি বড় দলের নেত্রী, তাই তার চিকিৎসায় সরকার শুরু থেকেই গুরুত্বে সঙ্গে বিবেচনা করে আসছে। বিএসএমএমইউ-তে রাজি না হওয়ায় সিএমএইচ’র কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি ও তার দল সেখানেও চিকিৎসা নিতে রাজি না। তাহলে কি তিনি চিকিৎসা চান না? নাকি চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছেন? তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই তারা খালেদা জিয়ার অসুস্থের কথা বলে আসছে। বলছে, সরকার তার চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু আপনারা দেখছেন, সরকার তাকে বিএসএমএমইউ ও সিএমএইচ-তে চিকিৎসার কথা বলছে, তারা রাজি হচ্ছে না। খালেদা জিয়া যদি না চান তাহলে আমাদের কী করার আছে? বিএনপির ভারত সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দেশ ও জনগণের রাজনীতি করে। আর বিএনপি করে নালিশ, অভিযোগ ও স্বার্থের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ ভারত সফরে দেশের সমস্যা, রোহিঙ্গ ইস্যু, তিস্তার পানিসহ দেশের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু বিএনপি ভারত গেছে তাদের সাপোর্ট চাইতে। তারা দেশের জন্য যায়নি। তিনি এও বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে সাপোর্ট করতো তাহলে আওয়ামী লীগই তা পেতে। কারণ, আওয়ামী লীগের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালো। সাপোর্টই যদি পেত তবে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যেত না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন নালিশ ছাড়া কিছু করতে পারে না। দেশে বসে নালিশ, দেশের বাইরে গিয়েও নালিশ। প্রত্যেকটি বিদেশি দূতাবাসকে রীতিমতো তটস্থ রেখেছে তারা। নালিশ করে রেজাল্ট কী হবে জনগণ তা জানে। অনুরোধ করব, জনগণের আস্থা রাখার জন্য কাজ করুন, কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে নালিশ করা বন্ধ করুন। এটা কোনো দলের দায়িত্বজ্ঞান হতে পারে না।
আজ থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চালু
আজ বুধবার থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চালু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে প্রতিবছরের মতো এবারো এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদের প্রথম বিশেষ ট্রেনটি সকাল পৌনে ৯টায় দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটেও বিশেষ ট্রেন চলছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল সোয়া ৯টায় কমলাপুর থেকে লালমনিরহাটের উদ্দেশে একটি এবং রাত ১২টা ৫ মিনিটে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে একটি বিশেষ ট্রেন। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে পার্বতীপুরের উদ্দেশে একটি এবং রাত সোয়া ৯টায় রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে একটি বিশেষ ট্রেন। খুলনা রুট ছাড়া বাকি রুটগুলোর বিশেষ ট্রেন ঈদের পর সাত দিন চলাচল করবে। ট্রেনগুলো ক্ষেত্র বিশেষে কয়েকটি স্টেশনে থামবে। সূত্র আরো জানায়, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সব সময় ঈদ স্পেশাল সার্ভিস চালু করে। এর অংশ হিসেবে এবারের ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলছে আজ থেকে। গত ১০ জুন থেকে স্পেশাল ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান। ঈদের পর সাতদিন ধরে এই ট্রেন চলবে। এসব ট্রেনের ফিরতি টিকিট নিজ নিজ স্টেশনে পাওয়া যাবে।
দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিমানবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্ব নেন। মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বিবিপি, এনডিসি, এসিএসসির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এ উপলক্ষে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বেলা দুইটায় দায়িত্বভার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে নবনিযুক্ত বিমানবাহিনী প্রধান বিদায়ী বিমানবাহিনী প্রধানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্ব নেন। এ অনুষ্ঠানে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)। এর আগে সকালে বিদায়ী বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সেখানে দর্শনার্থী বইয়েও স্বাক্ষর করেন। বিমান সদর ত্যাগ করার আগে বিমানবাহিনীর একটি চৌকস কন্টিনজেন্ট তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। বিদায়ী বিমানবাহিনী প্রধান গার্ড পরিদর্শন ও সালাম নেন। এ ছাড়া তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
যথাযথ পবিত্রতা, মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে লাইলাতুল কদর পালন
যথাযথ পবিত্রতা, মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা লাইলাতুল কদর পালন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ রমজানের দিবাগত রাত ছিল লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ও পূর্ণময় এ রজনীতে ইবাদত বন্দেগীর জন্য ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মসজিদে জমায়েত হতে শুরু করেন। মুসলিম নারীরা ঘরে ঘরে এ রাতে ইবাদতে মশগুল থাকেন। মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ রহমত এবং অনুগ্রহের রজনী হচ্ছে লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের এ রজনীতেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম এর প্রতি পবিত্র কুরআন নাযিল শুরু হয়েছিল। এ রাতের ইবাদত বন্দেগীকে নাজাতের উছিলা এবং হাজার মাসের ইবাদতের চাইতে উত্তম বলে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম এ রাতে নিজে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং তাঁর সাহাবীদেরও বেশি বেশি ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। রমজান মাসের ২১ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে বেজোড় সংখ্যার রাতেই পবিত্র লাইলাতুল কদর। তবে ২৭ রমজান অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতকেই কদরের রাত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জমায়েত হয়ে রাতভর ইবাদত বন্দেগী করেন। কবরস্থানে জিয়ারতকারীদের ভিড় ছিল সারারাতই। রাতভর ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে ছিল কোরআন খানি, নামাজ, জিকির, দোয়া মাহফিল, দান খয়রাত, বয়ান ও বিশেষ দোয়া। রোজাদার মুসলমানগণ ক্ষমার শেষ সুযোগ মনে করে এ রাতে মুনাজাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দেশের প্রতিটি মসজিদে ও মুসলিমদের ঘরে ঘরে এশা ও তারাবী নামাজ শেষে শুরু হয় কদরের বিশেষ ইবাদত-বন্দেগী। ফজর নামাজের শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে চোখের পানিতে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র রজনীর সমাপ্তি ঘটান। বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদেই আখেরি মুনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি কামনা করা হয়।