চট্টগ্রামে৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ এবং সদা প্রস্তুত থাকতে সেনাবাহিনীর নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) গতকাল বুধবার ৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে রাখবে, অনেক রক্ত আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। কাজেই এ দায়িত্ব পালনে তোমাদের সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজ থেকে তোমাদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তোমাদের জীবনের প্রথম ও প্রধান ব্রত। নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের জনগণের পাশে থাকার এবং দেশ সেবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের পাশে থাকবে এবং দেশের সেবা করবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুগত এবং অধীনস্থদের প্রতি সহমর্মী হতে হবে তোমাদের। তোমাদের জন্য রইল আমার শুভকামনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাঁকে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, ২৪ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি এবং চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং অব আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড লে. জেনারেল আবদুল আজিজ ও বিএমএর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাইফুল আলম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে করে সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, নৌবাহিনী প্রধান, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ৩৫০ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন বাংলাদেশি। বাকি সাতজনের পাঁচজন ফিলিস্তিনের এবং দুজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক। ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার সাদমানুর রহমান ৭৫তম বিএমএ লং কোর্সে বেস্ট অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সোর্ড অব অনারলাভ করেন। তিনি মিলিটারি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করায় আর্মি চিফ গোল্ড মেডেলও লাভ করেন।
১৬ হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ প্রকল্পের অনুমোদন একনেকে
ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও যাত্রী সুবিধা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২০টি রেলইঞ্জিন ও ১৫০টি কোচ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমেটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় এগুলো কেনা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা। রেলইঞ্জিন ক্রয় সংক্রান্ত এই প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা,বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন,বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটার গেজ ক্যারেজ রয়েছে। যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে, ১৩৫টির মেয়াদ ৩১-৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচসমূহ ব্যবহার করা হলেও তা আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। চাহিদা ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় অনেক আগেই পুরাতন কোচসমূহ বহর হতে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন,কোচ স্বল্পতার কারণে সেটি করা সম্ভব হয়নি।এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ,নিরাপদ ও উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন লোকোমোটিভ এবং যাত্রীবাহী ক্যারেজ সরবরাহ; যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন,রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়, রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতিত) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প,কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ,কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন,সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়), চক্ষু স্বাস্থ্যর উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ প্রকল্প, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রীজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন; ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল (কানুরামপুর) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ,মিরসরাই ১৫০ মে:ও: ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিরতা, ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনষ্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।
৪ জানুয়ারি দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন আগামী ৪ জানুয়ারি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উড়ালসেতু উদ্বোধন করবেন। সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উড়ালসেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উড়ালসেতু ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ থাকলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণ কাজ ৬ মাস আগেই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সার্ভিস রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৭০ মিটার, সার্ভিস রোডের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৬০ মিটার, ১১টি স্প্যান, ফুটপাতের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২১০ মিটার, পিসি গার্ডার ১৩২টি। পরিদর্শন কালে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রধান মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবেশষে অনশন ভাঙলেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজারের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না পেলেও নেতাদের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন 'বেতনবৈষম্য' নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনার পর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি পানি ও ফলের রস খাইয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের নেতা মো. শামসুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, 'মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলাম। আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাব।' সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন পান সেখানে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে ঢোকা সহকারী শিক্ষকরা পান চতুর্দশ গ্রেডে। এই 'বৈষম্য' কমিয়ে দ্বাদশ গ্রেডে বেতনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরম্ন করেন সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকরা। জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ নামে তিনটি সংগঠনসহ সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন। অনশনে গত তিন দিনে অন্ত্মত ৬০ জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরের পর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তার মিন্টো রোডের বাসায় প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি। বৈঠকের পর সরকারি শিক্ষক মহাজোটের প্রতিনিধি মো. শামসুদ্দীন বলেন, 'মন্ত্রী সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে যাবেন। আলোচনায় নেয়া সিদ্ধান্ত্মগুলো অনশনরত শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালাবেন। মন্ত্রীর কথা শুনে শিক্ষকরাই সিদ্ধান্ত্ম নেবেন- তারা অনশন ভাঙবেন কি না।' সে অনুযায়ী সন্ধ্যার আগে আগে শহীদ মিনারে গিয়ে অনশনরত শিক্ষকদের মুখোমুখি হন মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি বলেন, 'প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যকার বেতনবৈষম্য রয়েছে কি না- এটা আমরা খতিয়ে দেখব। তবে পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আলোচনা না করে এবং যৌক্তিকতা বিবেচনা না করে এখনই আমি আপনাদের কাগজপত্র দিয়ে দিতে পারব না।' আন্দোলনরত শিক্ষকরা এ সময় চিৎকার করে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। শিক্ষক মহাজোটের নেতারা তখন তাদের শান্ত্ম করার চেষ্টা করেন। মো. শামসুদ্দীন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, 'আমার আহ্বানে আপনারা অনশনে এসেছিলেন। আমরা এখন এই কর্মসূচি স্থগিত করতে চাই। আপনারা আমাকে এক মাস সময় দেন। এর মধ্যে আমি দাবি আদায় করে ছাড়ব।' এরপর একপর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা শান্ত্ম হন। আমাকে আমার কাজ করতে দেন।' এরপর মন্ত্রীর হাত থেকে ফলের রস ও পানি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক নেতা অনশন ভাঙলে বাকিরাও অনশনের সমাপ্তি টানেন।
বড়দিন উপলক্ষ্যে চলছে সাজ সাজ রব
খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। তাই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সারা বিশ্বে পালিত হবে দিনটি। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশেই খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষ্যে চলছে সাজ সাজ রব। যীশুর গোয়াল ঘর, ক্রিসমাস ট্রি থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘর আকর্ষণীয় সাজে সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি গির্জাগুলোতেও চলছে এক রকম উৎসবমুখর। তাই এ উপলক্ষে নগরীর হোটেলগুলোতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। উৎসবের আলোয় নিজেদের রাঙিয়ে তুলতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। বেথেলহেমের গোয়াল ঘরে জরাজীর্ণ পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যীশু। আর তারই আদলে প্রতিটি খ্রিস্টান পরিবারে সাজানো হচ্ছে গোয়াল ঘর। এছাড়া বড়দিনের যে মূল আকর্ষণ ক্রিসমাস ট্রি তাও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ও কার্ডের মাধ্যমে সাজানো হচ্ছে। সেই সাথে প্রতিটি ঘরই বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাড়তি আনন্দ। যে কোন উৎসবেই সবচেয়ে বেশি আনন্দের ঢেউ লাগে তাদের মনে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকে তারা। বড়দিনে তাদেরও রয়েছে নানান ধরনের পরিকল্পনা। বড়দিনে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে নগরীর নামিদামী তারকা হোটেলগুলোতে নেয়া হয়েছে নানা ধরনের ব্যবস্থা। ক’দিন ধরেই নাচে-গানে চলছে গ্রাহকদের আকর্ষণ করার প্রস্ততি। চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হোটেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিন এডওয়ার্ডস বলেন, 'বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে। ক্রিসমাসকে চিন্তা করে আমরা ডিনার বুফের আয়োজন করেছি। সাথে থাকছে বিশেষ মিষ্টান্ন।' বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি কামনায় ও দেশের সকল মানুষ যাতে সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের আর্চ বিশপ। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯ টায় প্রথম ও ১২টায় দ্বিতীয় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় আরো একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। আর যে কোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে :আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মেয়েকে ন্যূনতম স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিন। ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। রোববার রাজধানীর মিরপুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অর্থায়নে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত ৩০১৯ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রধান অতিথি ছিলেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম সাহাবুদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদের মেধা বিকাশে সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক সরকারের এ চেষ্টায় সহযোগিতা করছে। মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। এ মহতি কার্যক্রম ডাচ-বাংলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত এবং দেশ ও জাতি গঠনে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, আধুনিক যুগোপযোগী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সিলেবাস প্রণয়ন, উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও মাদরাসা শিক্ষা আধুনিকায়নসহ সরকার নানা কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মেয়েকে ন্যূনতম স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিন। ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। সরকারের একার পক্ষে এ বিশাল দায়িত্ব পালন করা দুরূহ ব্যাপার। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি বিশেষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সবাই মিলে কাজ করলে মাদক সমস্যার সমাধান হবে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধে কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের জন্য দুটি জাহাজ মোংলা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে। আর বিজিবিতে ১৫ হাজার লোকবল বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ রবিবার পিলখানায় 'সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে করণীয়' বিষয়ক সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সভায় সীমান্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও টেকনাফ থেকে মাদকদ্রব্য আসে। দেশে যাতে কোনো মাদক না ঢুকতে পারে, সে জন্য বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও রযাবকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা কমেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৮ জন, ২০১৭ সালে তা নেমে এসেছে ২১ জনে। এতে প্রমাণ করে বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে আগের চেয়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। আমাদের আশা সীমান্ত হত্যা জিরোতে চলে আসবে। আমরা চাই না একজন মানুষও সীমান্তে খুন হোক। সভায় আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামালউদ্দীন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, রযাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই :ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসলে বিএনপি আন্দোলন করতে ব্যর্থ, এখন ছোটখাটো ভায়োলেন্সের ঘটনা দেখিয়ে তারা বাংলাদেশে আছে, একশনে আছে। এটা কর্মীদেরকে বোঝাতে চায়। এটা হচ্ছে মূল কথা। আজ রবিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়াবাজার বিশ্বরোড রেলওয়ে ওভারপাস পরিদর্শনে এসে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সেতুমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি যখনই আদালতে যান তখনই তার লোকেরা মারামারিতে লিপ্ত হয়। পুলিশকে তারা উসকানি দেয়, রাস্তা দখল করে তারা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ তখন কী করবে? পুলিশকে বাধ্য হয়ে একশনে যেতে হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এমন কোনো খারাপ কাজ করেনি, যে ইস্যু দেখিয়ে বিএনপি আন্দোলন করবে। ক্ষমতা কি মামার বাড়ির আবদার নাকি, যে মানুষের কাছে চাইলে দিয়ে দিবে। এখন আর মিথ্যাচারের ভাঙা ঢোল বাজিয়ে কোনো লাভ নেই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সওজ কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাব উদ্দিন খান, সওজ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক অরুণ আলো চাকমা ও সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হায়দার।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারকে শান্তনা প্রধানমন্ত্রীর
চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও তিন তিনবার নির্বাচিত সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলশহর চশমা হিলের বাসায় পৌছছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার বিকেল ৪টা ০৫ মিনিটের সময় প্রধামসন্ত্রীর গাড়ীবহর মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় পৌছেন।সদ্য প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারকে শান্তনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাসায় যান। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, ছেলে ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান নওফেলসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এদিকে মহিউদ্দিনের চশমাহিলের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন শৃংখলা বাহিনী। এ কারণে এলাকার দোকান পাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে নগরীর আগ্রাবাদ থেকে ষোলশহর দুই নম্বার গেইট এলাকা পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের দুইপার্শ্বে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ ও অন্যন্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে অবস্থান নেয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে।

জাতীয় পাতার আরো খবর