বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯
শবে কদরের ছুটি ২ জুনের পরিবর্তে ১৩ জুন নির্ধারণ
আসছে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করেছে সরকার। শবে কদরের ছুটি ছিল ১২ জুন। ১২ জুনের পরিবর্তে ছুটি থাকবে ১৩ জুন। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শবে কদরের নতুন ছুটির তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে মঙ্গলবার এই আদেশ জারি করে। সরকারি ওই আদেশে বলা হয়, দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট- ১৮৮১ এর ২৫ ধারার বিশ্লেষণে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাহী আদেশে শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হলো। আদেশে আরো বলা হয়, যে সকল অফিসের সময় সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে সে সকল অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক চাকরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে এ ছুটি ঘোষণা করবে। সরকারি ওই আদেশে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৭ মে থেকে রোজা শুরু হবে এমনটা ধরে ১২ জুন নির্বাহী আদেশে শবে কদরের সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু গত ১৮ মে থেকে রোজা শুরু হওয়ায় ১২ জুন শবে কদরের রাতে ইবাদত বন্দেগী করবেন ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা। এজন্য শবে কদরের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করে ১৩ জুন করা হয়েছে।
১৫ জুন চাঁদ দেখা না গেলে চাঁদপুর রুটের ট্রেন ছাড়বে পরদিন
আগামী ১৫ জুন ঈদের চাঁদ দেখা না গেলে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের বিশেষ ট্রেন ছাড়বে পরদিন বেলা সাড়ে ১১টায়। বুধবার (০৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে বুধবার (৬ জুন) আগামী ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকিট দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ১২টি ট্রেনের ৯ হাজার ৫২২৫টি টিকিটের মধ্যে কাউন্টারে আছে ৬ হাজার ৬৩৬টি। বাকিগুলো অনলাইনে এবং কোটায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের দুইটি বিশেষ ট্রেনের ৬০০ টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়েছে। ওই বিশেষ ট্রেনে টিকিট ছিল ৮৯০টি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চিফ ইন্সপেক্টর সত্যজিৎ দাশ বলেন, এবার টিকিট নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। টিকিট নিতে আসা সবাইকে বিনামূল্যে একটি ছোট ফরম দেওয়া হয়েছে। যাতে টিকিট ক্রয়কারীর নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর, ক্রয় ও যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, শ্রেণি, টিকিট সংখ্যা, ভ্রমণকারীর বয়স ইত্যাদি লিখতে হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কাউন্টারে অপারেটরের পেছনে একজন কর্মকর্তা বসে সবকিছু নজরদারি করছেন। সন্দেহ হলেই টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংগীতশিল্পী আসিফ গ্রেপ্তার
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, তেজগাঁও থানায় গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতে তোলা হতে পারে। তিনি আরও জানান, সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের করা মামলায় আসিফ ছাড়াও অজ্ঞাত চার পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪ এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শফিক তুহিন জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়া তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানা যায়, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাদুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এজাহারে তিনি বলেন, এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। এছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। খবর বাসস’র আজ ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভিড মিলিব্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে সাক্ষাত করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইআরসি প্রধানের মধ্যে মূলতঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি মিলিব্যান্ডকে জানান, যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে এবং এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ স্থানে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের স্থানান্তরের লক্ষ্যে ভাষাণচর নামের একটি দ্বীপের উন্নয়ন কাজ চলছে। আইআরসি প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে তিনি একটি টিম নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতিক মিলিব্যান্ড ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় মিলিব্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া হচ্ছে তাৎপর্যপূর্ণ এক মানবিক দৃষ্টান্ত এবং যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সংকেত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্যে আইআরসি’র একটি টিম বাংলাদেশে কাজ করছে এবং তাদের এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই কার্যক্রমে আমরা বাংলাদেশ থেকে ১শ’ স্টাফ নিয়োগ করবো। প্রধানমন্ত্রী ও আইআরসি প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে আসন্ন বর্ষায় ভূমিধস হবে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রধান সমস্যা। মিলিব্যান্ড রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৩৩ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের অনুরোধে প্রতিষ্ঠিত আইআরসি শরণার্থী এবং যুদ্ধ, নিপীড়ন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তায় কাজ করছে। সংস্থা বর্তমানে শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করতে ৪০টিরও বেশি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি সিটিতে কাজ করছে।
নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক না কোনো কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মঙ্গলবার (০৫ জুন) সকালে রাজধানীর পল্টনে ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা নির্দেশনার আলোকে ঢাকা মহানগরীতে প্রত্যেকটি মাদকের আখড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি, দেব এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আজকেও রমনা, নয়াটোলা এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকায় যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের কাজ চলমান রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, যারা মাদকের ব্যবসা করে, অর্থলগ্নি করে, ঘর ভাড়া দেয়, আস্তানার জায়গা দেয় তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা শহরের কোনো মাদকের আস্তানা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের মধ্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে সে যত বড় পদেই থাকুক না কেন, তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে হুড়হুড় করে টেনে নিয়ে আসা হবে। এসময় মাদক বিরোধী অভিযানে নিরীহ কাউকে হয়রানির অভিযোগ পেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
মাদক সম্রাজ্ঞী বা মাদকের গডমাদার এখনো অধরা
রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড়শ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বন্দুকযুদ্ধে। তবে অভিযোগ আছে এদের মধ্যে নেই কোনো রাঘববোয়াল। শীর্ষ পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি রাজধানীতে আছেন নারী মাদক ব্যবসায়ীও। যারা মাদক সম্রাজ্ঞী বা মাদকের গডমাদার নামে পরিচিত। শুধু মাদক নয় অস্ত্রও আছে এসব মাদক সম্রাজ্ঞীর হাতে। চলমান অভিযানে কিছু সংখ্যক নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক হলেও মাদক সম্রাজ্ঞীদের কেউই এখনো আটক হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নারী মাদক ব্যসায়ীরাও রয়েছে তাদের নজরদারিতে। রাজধানীতে কত সংখ্যক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছেন এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে এই সংখ্যা শতাধিক বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। এসব মাদক সম্রাজ্ঞীর অধিকাংশই এখন কোটিপতি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে মাদকের অন্তত ৩শ ডিলার পর্যায়ের ব্যবসায়ী রয়েছেন। এই গডফাদারের তালিকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা রয়েছে নাজমা বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা খিলক্ষেত থানায় ১৮টি ও কদমতলী থানায় একটিসহ মোট ১৯টি। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। মাদক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, একসময় দেশে হেরোইন ব্যবসার সিংহভাগের নেতৃত্বে ছিল নারী। হেরোইনের ব্যবহার কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও। কিন্তু ইয়াবার প্রভাব বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। নারীরা তাদের দেহের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশে সহজেই ইয়াবা বহন করতে পারে। পুলিশের পক্ষেও সবসময় তাদের দেহ তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে তারা। তিনি জানান, সাধারণত পরিবারের হাত ধরেই নারীরা মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়। এ রকম অনেককে তারা হাতেনাতে ধরেছেন, যেখানে বাবার মাদক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে মেয়ে কিংবা তার স্ত্রী। আবার পরিবারের পুরুষ সদস্যটি আটক হওয়ার পর তার মাদক ব্যবসার হাল ধরে স্ত্রী। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রামপুরায় মাদক ব্যবসায়ী রিয়াদের স্ত্রী শিলা অন্যতম একজন নারী মাদক ব্যবসায়ী। মিরপুরে জেসমিন মাদক ব্যবসায় আসে তার স্বামী শহিদুলের হাত ধরে। আলোচিত নারী মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন যাত্রাবাড়ীর রহিমা বেগম (মামলার সংখ্যা-৭টি) ও সুফিয়া আক্তার সুফি (মামলার সংখ্যা-৬টি), কমলাপুরে জমিলা খাতুন, সবুজবাগে সামসুন্নাহার চম্পা (মামলা-১৬টি) ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম এবং তানিয়ার স্বামী আরমান (মামলা ৭টি), সবুজবাগের ওহাব কলোনির সুফিয়া আক্তার শোভা (মামলা-১৪টি), ভাসানটেকের মোর্শেদা ও স্বপ্না, কামরাঙ্গীরচরে শাহিনুর (মামলা-১৫টি), কাঁঠালবাগানে শাহনাজ, মিরপুরে খুরশীদা বেগম খুশী (মামলা-১৫টি), নিউমার্কেটে হাসি বেগম (মামলা-১৫টি), হাজারীবাগে বীনা (মামলা-১১টি), গুলশানে মৌ, বারিধারায় নাদিয়া ও যূথী, বনানী সাততলা বস্তিতে সীমা, লালবাগে মনোয়ারা, উত্তরায় গুলবাহার ও মুক্তা, ইসলামবাগে ছাফি, কড়াইল বস্তিতে রীনা, জোসনা ও বিউটি, আনন্দবাজার বস্তিতে বানু, গণকটুলিতে মনেয়ারা বেগম ও নাছিমা, শ্যামপুরে ফজিলা, রানী বেগম ও পারুলী, শাহীনবাগে পারভীন, পাইন্যা সর্দার বস্তিতে রেনু, নিমতলী বস্তিতে সাবিনা ও পারুল, মিরপুরে জেসমিন, রামপুরায় শিলা, বনানীতে আইরিন ওরফে ইভা, হাজারীবাগে স্বপ্না, মহাখালীতে জাকিয়া ওরফে ইভা ও রওশন আরা বানু, কলাবাগানে ফারহানা ইসলাম তুলি, শাজাহানপুরে মুক্তা, চানখারপুলে পারুল, বাড্ডায় সুমি এবং রামপুরায় সীমা, কারওয়ান বাজার বস্তিতে পারভীন, খোদেজা বেগম ওরফে খুদি, শিল্পী (মামলা-৭টি), মরিয়ম বেগম ও পুঁটি, কদমতলীর বৌবাজারে জাহানারা ওরফে পাগলনি। মোহাম্মদপুরে মাদক সম্রাজ্ঞী পাপিয়া আক্তার (মামলা-৪টি)। ইয়াবা সুন্দরী নামে পরিচিত পাপিয়া ও তার স্বামী জয়নাল আবেদিন ওরফে পাঁচু। পাপিয়ার সঙ্গে রয়েছেন এক ঝাঁক নারী। এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- সীমা, নার্গিস, সয়রা, গান্নী, কালী রানী, বেচনি, সকিনা, কুলসুম ও রেশমা ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় পাপিয়াকে। এ সময় তার বাসা থেকে একটি পিস্তল ও লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবাও জব্দ করা হয়। নারী মাদক ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কৃষ্ণ পদ রায় মানবকণ্ঠকে বলেন, নারী-পুরুষ সব মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটকও করা হয়েছে এবং হচ্ছে। সব মাদক ব্যবসায়ীকেই আইনের আওতায় আনা হবে।সুত্র:মানবকন্ঠ
বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান
এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়ে, এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, জিডি(পি)-কে এয়ার মার্শাল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এ আদেশ আগামী ১২ জুন অপরাহ্ন থেকে কার্যকর হবে। গতকাল সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রাণ হারালো ৪ কিশোর
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পৌরসভাধীন ১১ নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া শুকু কাউন্সিলারের বাড়িতে পানিতে পড়ে একই বাড়ির সহোদর ভাইসহ চার কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ওই বৈষ্ণব বাড়ির দিঘীতে লাশ ভেসে থাকতে দেখে শুকু কাউন্সিলার বাড়ির ইউসুপের ছেলে ফজর নামাজের অজু করতে গিয়ে মৃতদেহ পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখে চিৎকার করেন। চিৎকার শোনে বাড়ির লোকজন জড়ো হয়ে পুকুর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করেন। নিহতেরা হলো-ওয়াসিমের ছেলে রাহুল (১১), শামিম (১০), আহসান হাবিবের ছেলে রায়হান (১০), শাহরাস্তির নজরুল ইসলাম নাজির ছেলে লিয়ন (০৯)। লিয়ন নানার বাড়িতে থাকতো। নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চার কিশোর দিঘিতে গোসল করতে নামে। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের মৃতদেহ বাড়ির পুকুরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। তারা আরো জানান, নিহতেরা সবাই সাঁতার জানতো। প্রত্যেকদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে ৪ কিশোর ওই পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। তাই অনেকের ধারণা ছিল, গোসল করে তারা অন্য কোথাও চলে গেছে। তাই বাজারে মাইকিং করা হয়েছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শুকু মিয়া জানান, ৪ কিশোর হাজীগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন সময় হকারী কাজ করতো। সোমবার দুপুর থেকে তারা নিখোঁজ হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ স ম মাহবুব উল আলম লিপন। তিনি নিহতের পরিবারদের সহমর্মিতা জানান। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর দ্রুত ঘটনা স্থলে যাই। ৪ কিশোরই পানিতে পড়ে নিহত হয়েছে।
ঈদের বিশেষ নৌ-সার্ভিস শুরু ১৩ জুন
আগামী ১৩ জুন থেকে ঈদুল ফিতরের বিশেষ সার্ভিস শুরু করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। রাষ্ট্রীয় এ সংস্থার চারটি নিয়মিত জাহাজের সঙ্গে আরো ২টি যুক্ত হয়ে মোট ৬টি জাহাজ নিয়ে এবারের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের পৌঁছে দিবে। বিশেষ এ নৌ-সার্ভিস চলবে ২৪ জুন পর্যন্ত। তবে যাত্রী চাপ বেশি থাকলে সময় আরো বাড়ানো হবে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ আজ মঙ্গলবার বলেন, আগামী ১৩ জুন বুধবার ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিসির পিএস মাহসুদ ও লেপচা জাহাজ ছাড়ার মাধ্যমে ঈদের বিশেষ যাত্রা শুরু করা হবে। এছাড়া জাহাজ টার্ন, মধুমতী, এমভি বাঙালি ও অষ্ট্রিচ ঈদে যাত্রী পরিবহন করবে। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে জাহাজের ৫০ ভাগ টিকেটর আবেদন ১৫ রমজান থেকে অনলাইনে দেয়া হয়েছে। এসব জাহাজ বরিশাল-ঢাকা-চাঁদপুর, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, হুলারহাট ও মোরলগঞ্জ রুটে চলাচল করবে। সরকারের সংস্থা হওয়ায় জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই বলেও জানান আবুল কালাম আজাদ। বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, বরিশাল অঞ্চলের আভ্যন্তরীন নৌ-রুটে বিআইডব্লিউটিসির ৫টি সি-ট্রাক নিয়মিত চলাচল করবে। এগুলো হলো- বরিশাল-মজু চৌধুরীর হাট রুটে খিজির-৮। ইলিশা-মজু চৌধুরীর হাট সুকান্ত বাবু, খিজির-৫ চলাচল করবে। খিজির-৭ এর সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া মনপুরা থেকে শশিগঞ্জ রুটে শেখ কামাল যাত্রী পরিবহনে নিয়জিত থাকবে। বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর