যাত্রা শুরু হলো গাঙচিলের
২২আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:যাত্রা শুরু হলো গাঙচিলের। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যোগ হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে গাঙচিলের বাণিজ্যিক যাত্রার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী উপস্থিত ছিলেন। গত ২৫শে জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে আনা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে এর নামকরণ করা হয়েছে গাঙচিল। এটি যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে। ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ফ্লাইট নিয়ে যাত্রা করবে বিকালে। সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে যাত্রা করবে গাঙচিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। অন্যান্য উড়োজাহাজের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম। ড্রিমলাইনার গাঙচিলে ২৭১ আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন রয়েছে। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধা সম্বলিত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা দেবে যাত্রীদের। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউস করতে পারবেন এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
কারা হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন আইনজীবী পলাশ
২১আগস্ট,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কারা হেফাজতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যাওয়া আইনজীবী পলাশ কুমার রায় (৩৬) আত্মহত্যা করেছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচারিক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে আদালত বলেন,আপাতভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতে প্রতিবেদনের অংশবিশেষ পড়ে শোনান রিট আবেদনকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। শুনানিতে প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আইনজীবী বলেন, পলাশের গায়ে আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টা পর তার চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়। দাপ্তরিক ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য অনেকটা সময় যায়। তিনি আরও বলেন,আদালত বলেছেন যে, যদি ২৪ ঘণ্টার কমে তার চিকিৎসা শুরু করা যেত আমরা জানিনা সে বাঁচতো কিনা কিন্তু উচিত ছিল আগুনে পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করানোর দরকার ছিল। আগে চিকিৎসা পরে দাপ্তরিক কাজ। শুনানি নিয়ে এই বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি প্রিজন বরাবর পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পঞ্চগড় কারাগারে নিরাপত্তা ও কারা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে যে অভিযোগ বিচারিক প্রতিবেদনে এসেছে, সে ব্যাপারে এই দুই কর্মকর্তাকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পঞ্চগড় কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে আইনজীবী পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৬ মে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৮ মে হাইকোর্ট পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
খালেদা জিয়া ২১ আগস্টের দায় অস্বীকার করতে পারেন না: প্রধানমন্ত্রী
২১আগস্ট,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় অস্বীকার করতে পারেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনে শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন, যে গ্রেনেড যুদ্ধে ব্যবহার হয়, সে গ্রেনেড ব্যবহার হয়েছে রাজনৈতিক ময়দানে। জামাত-বিএনপির মদদ ছাড়া ২১ আগষ্টের ঘটনা ঘটতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাসটাই যেন আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত। তিনি বলেন, অন্য যে কোন সময় আওয়ামী লীগের সমাবেশে পুলিশ থাকলেও, ২১ আগস্ট কোন ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি তৎকালীন সরকার। হামলায় বিএনপি জামাতের সরাসরি মদদের অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যে কাজ শেষ করতে পারেননি, সে কাজ শেষ করার লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের লক্ষ্য।
জাহালমের মামলা কাণ্ড: সব তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
২১আগস্ট,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগকারী জাহালমের মামলা তদন্তে অবহেলার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। হাইকোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে দুদক। আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দুপুর ২টায় শুনানির জন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। জানুয়ারির শেষ দিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত আদালতের নজরে আনলে দুদকের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কারাগারে থাকা ভুল আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত একটি রুলও জারি করা হয়। এর পর দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।
শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় ২০ বার
২১আগস্ট,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জাতির জনকের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা দেশে না থাকায় সেই সময় প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। ১৯৮১ সালে ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০ বার হামলা চালায় ঘাতকরা। এসব মামলার মধ্যে বোমা ও গুলিবর্ষণের ১৪টি ঘটনা রয়েছে। তবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা পেলেও নিহত হন ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন চার শতাধিক নেতাকর্মী। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রথম সশস্ত্র হামলা হয় ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে। সেদিন তার গাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি করা হয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচিকালে ওই হামলা হয়। ওই দিন গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন। দ্বিতীয় হামলা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাক মিছিলে। ওই সময় তিনি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তখন পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে ২৪ জন নিহত হন। যাদের মধ্যে ৯ জন শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন। পরের হামলাটি হয় ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের গড়া দল ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন। ওই ঘটনার দুটি মামলায় ২৮ বছর পর বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ আসামির যাবজ্জীবন এবং অপর দণ্ডবিধি আইনের মামলায় একই আসামিদের ২০ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এর পর ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চতুর্থ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানম-ির গ্রিন রোডের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গাড়িতে গুলি লাগলেও তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। একই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিমসহ অন্যরা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরের হত্যাচেষ্টা হয় ১৯৯৪ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে। এ সময় শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। অসংখ্য গুলি লাগে বগিটিতে। ১৯৯৫ সালের মার্চে রাজধানীর পান্থপথে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর শেখ রাসেল স্কয়ারের কাছে সমাবেশে ভাষণদানরত অবস্থায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরের হত্যাচেষ্টা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায়। ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ২০ জন আহত হন। ২০০০ সালের ২০ জুলাই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জঙ্গিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয় মাঠের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। ২২ জুলাই সেখানে জনসভায় শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু বোমাটি আগেই অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার মামলায় ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ১০ আসামিকে গুলিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- এবং তিন আসামির ১৪ বছর করে কারাদ-ের রায় দেওয়া হয়। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভা করতে সিলেটে গেলে সেখানে বোমা পুঁতে রেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু হামলার পরিকল্পনার আগের দিন জনসভাস্থলের অদূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হলে ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্য মাসুদ আহমেদ শাকিল ও আবু ওবায়দা হারুন আহত হয়। ওই ঘটনার মামলায় হুজির আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা আবু সাইদ ওরফে আবু জাফর ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর আদালতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরের হত্যাচেষ্টা হয় ২০০১ সালের ৩০ মে। ওই দিন খুলনায় রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্র সেখানে শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখলে তা বিস্ফোরণের আগেই গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়। ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএনপি অফিসের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ওই দিন তার গাড়িবহরে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে তার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে ওই হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, লুটতরাজের ঘটনায় প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে উল্টো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করে মামলা দেয় পুলিশ। পরে ওই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়। এর পর সবচেয়ে বড় হত্যাচেষ্টা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে চালানো হয় গ্রেনেড হামলা। ওই ঘটনায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান। নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন। ওই ঘটনার দুই মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মামলা দুটিতে রায় ঘোষণা হতে পারে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে রাখা হয়েছিল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে। সেই সময় খাবারে ক্রমাগত বিষ মিশিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। ২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের শত্রুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সে জন্য আগাম টাকাও প্রদান করা হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়। সবশেষ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরানবাজারে তার গাড়িবহরে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় জেএমবি।-আলোকিত বাংলাদেশ
শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি
২০আগস্ট,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতে মোদির আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম তিনি জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। মোদির এ আমন্ত্রণে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন এস জয়শঙ্কর। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের আমন্ত্রণে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল বুধবার ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।
নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশে বাধা নেই: আপিল বিভাগ
২০আগস্ট,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গঠিত নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে এই বিষয়ে গতকাল সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও মো. ইউসুফ আলী। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন,সাংবাদিক ছাড়া মালিক পক্ষের অস্তিত্ব নেই।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন,সরকার হলো এক্ষেত্রে আম্পায়ারের মতো। সাংবাদিক ও মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থই সরকার দেখবে।এসময় নোয়াবের আইনজীবী বলেন, সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্র সাদা কাগজ। পরে সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষ করা হয়। এরপর আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার আদেশের দিন ধার্য করেন। গত ৬ আগস্ট সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত নবম ওয়েজবোর্ডের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রুল জারি করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ কমিটির আহ্বায়ক, তথ্য সচিব, শ্রম সচিব, নবম ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৭ আগস্ট সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) পক্ষে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন।
বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু
২০আগস্ট,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। বেলা ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দুপুরে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে। ভারতের বিজেপি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর। তিনদিনের সফর শেষে আগামী বুধবার ঢাকা ত্যাগ করবেন জয়শঙ্কর।
কমলাপুরে ট্রেনের বগি থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার
১৯আগস্ট,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে এক তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে রেল পুলিশ জানায়। তার বাড়ি পঞ্চগড়। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম আসমা বেগম (১৮)। তিনি পঞ্চগড় জেলার সিনপাড়ায় কৃষিজীবী আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তিনি বাড়ির কাউকে না বলে ঢাকায় চলে এসেছিলেন বলে তার বাবা জানিয়েছেন। সোমবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের বলাকা ট্রেনের একটি বগিতে আসমার লাশ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, রোববার রাত ৮টায় এই ট্রেনটি কমলাপুরে আসে। পরে এই ট্রেনের একটি বগি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সকাল বেলা এই ট্রেন বগিটি রেখে চলে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বগিটি বুঝে নেয়ার সময় বাথরুমে আসমার লাশ পায়। ওই তরুণীর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগের মধ্যে জন্ম সনদ দেখে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। আসমার বাবা রাজ্জাক জানান, আসমা রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়িতে ছোট বোনের সঙ্গে খেলা করার ফাঁকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যান। আসমাকে এলাকায় খোঁজাখুজি করেও পায়নি তার পরিবার। সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান রাজ্জাক। তিনি বলেন, পাশের গ্রামের বাদল নামে একটি ছেলের সঙ্গে তার মেয়ের সম্পর্ক ছিল। রোববার আসমা বাসা থেকে বের হওয়ার পর বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু সে কোথায় আছে, কিছুই ঠিকমতো বলছিল না। পরে সে তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। রাজ্জাকের অভিযোগ, বাদলই তার মেয়েকে কৌশলে বাড়ি থেকে বের করে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। আসমা এবার পঞ্চগড় খান বাহাদুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪ পেয়েছে।