বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি মোজাম্মেল হোসেন আর নেই
১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এমপি মোজাম্মেলের পারিবারিক সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ হলে ছয় দিন আগে মোজাম্মেল হোসেনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাগেরহাট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর বাগেরহাট-৪ আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে গঠন করা আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাগেরহাটে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা
১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাঙালির বিজয় ছিলো অসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মধ্য দিয়ে সেই বিজয় পূর্ণতা পেয়েছে। তাই এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।পরে আওয়ামী সভাপতি হিসেবে ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রদায়িকতার প্রধান অন্তরায়। আর এর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছে বিএনপি। আর সাম্প্রদায়িকতার এই বিষ বৃক্ষের মূল উৎপাটন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত আর আদর্শিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা গড়তে একটি সহযোগী ভূমিকা পালনই হবে আজকের দিনের শপথ।
৭ দিনের রিমান্ডে মজনু
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (০৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালত এই অনুমতি দেন। এর আগে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিতে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুনানি শেষে আদালত ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত মঙ্গলবার ঢাবি শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ভোরে মজনুকে রাজধানীর শেওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।পরে কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে Rab জানায়, অভিযুক্ত ধর্ষক মজনু মাদকাসক্ত, ভিক্ষুক এবং প্রতিবন্ধী নারীদের ধর্ষণ করা তার নেশা। মজনুর কাছ থেকে এ সময় উদ্ধার হয় ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক আর ব্যাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে Rabর কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে সে। Rab আরো জানান, ধর্ষক মজনু সিরিয়াল রেপিস্ট, মানসিক প্রতিবন্ধী আর ভিক্ষুকদের টার্গেট করে চালাত নির্যাতন। এদিকে, ধর্ষকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ। সকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ধর্ষককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান আয়োজকরা।
পুলিশের হাত থেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর সবুজবাগ থানার সোর্স মো. তুষার এবং মাদকাসক্ত যুবক রিফাত ও সজীবের বিরুদ্ধে। তাদের তিনজনই গ্রেপ্তারের পর এখন কারাগারে আছে। এর মধ্যে অভিযুুক্ত রিফাত আদালতে ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। সে কোনো পুরুষ দেখলেই এখন আঁতকে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ১ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাতে হত্যার হুমকি দিয়ে সবুজবাগের পূর্ব রাজারবাগ হিন্দুপাড়ায় কাদিরের বাড়িতে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন মেয়েটির স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা থানায় মামলা করতে গেলে তাদের ২৪ ঘণ্টা সেখানে বসিয়ে রাখার পর মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি করেছেন কিশোরীর মা। ভুক্তভোগী মেয়েটির বরাত দিয়ে তার মা জানান, সবুজবাগের দক্ষিণ মাদারটেক বাজার রোড এলাকার একটি বাড়িতে সপরিবারে থাকেন তারা। তার স্বামী পেশায় রিকশাচালক। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে মেয়েটি। ফল আনতে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যায় ওই কিশোরী। বেলা সাড়ে ১১টায় কম্পিউটারের দোকান থেকে পরীক্ষার ফল উঠিয়ে সে বাসায় ফিরছিল। পথে পূর্বপরিচিত তরুণ রিফাত তার ফল দেখতে চায়। কার্ড হাতে পেয়েই রিফাত মেয়েটিকে শর্ত দেয়- তার সঙ্গে ঘুরতে গেলে তবেই ফেরত দেওয়া হবে রেজাল্ট কার্ড। অনেক অনুরোধ করেও কাজ না হওয়ায় রিফাতের শর্তে রাজি হয় মেয়েটি। মাদারটেকের আদর্শপাড়ায় গিয়ে মেয়েটিকে সেভেন-আপ দেয় রিফাত। গ্লাসে দেওয়া ওই পানীয় পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মেয়েটি। প্রায় অচেতন অবস্থায় সেখানে একটি বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় রিফাত। এরপর আর কিছু মনে নেই তার। রাত ৮টার দিকে কিছুটা চেতনা ফিরে এলে মেয়েটি নিজেকে আবিষ্কার করে মাদারটেকের নতুনপাড়ার একটি মাঠে। সেখান থেকে মেয়েটিকে ওই এলাকারই আরেকটি বাসায় রেখে চলে যায় রিফাত। ওই বাসার এক তরুণী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে বলে- রিফাত ভালো না, তোমার আরও সর্বনাশ হবে, তুমি পালিয়ে যাও। ওই তরুণী তার বোরকা পরিয়ে মেয়েটিকে তার বাসা থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু পানীয়তে মেশানো নেশাজাতীয় দ্রব্যের ঘোর না কাটায় বেশিদূর যেতে পারেনি মেয়েটি। এরই মধ্যে রাস্তায় হঠাৎ পেছন থেকে তাকে টেনে ধরে রিফাত। ছেড়ে দেওয়ার অনেক অনুরোধ করা হলেও রিফাতের হাত থেকে রেহাই মেলে না। প্রায় অচেতন অবস্থাতেই তাকে ফের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে নতুনপাড়া পাওয়ার হাউসের মাঠের কাছে টহল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রিফাত ও মেয়েটি। এ সময়ও ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু করছিল তার। মেয়েটির মা আরও জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই সোর্স তুষার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কিছু একটা বলে। এরপর পুলিশ মেয়েটিকে থানায় না নিয়ে অথবা অভিভাবকদের জিম্মায় না দিয়ে তুলে দেয় তুষারের হাতে। পুলিশের হাত থেকে মেয়েটিকে ছাড়িয়ে সোর্স তুষার অন্ধকারাচ্ছন্ন ঝিলের পাশে চলে যায় রিফাত ও মেয়েটিকে নিয়ে। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে প্রায় অচেতন মেয়েটি হাত জোড় করে অনুনয় বিনয় করে। কিন্তু এর পরও রেহাই পায়নি। তুষারের কথায় রাজি না হলে গলা কেটে ঝিলে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে পার্শ্ববর্তী হিন্দুপাড়ার একটি টিনের ঘরে নিয়ে যায় তুষার, রিফাত ও সজীব। সেখানে পালাক্রমে চালানো ধর্ষণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। ভোরে নিজেকে সে আবিষ্কার করে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি মাঠে, একা। একপর্যায়ে স্থানীয় এক নারী তার বিধ্বস্ত অবস্থা দেখতে পেয়ে নিয়ে যায় নিজ বাসায়। এ দিকে মেয়ে রাতে না ফেরায় দিশেহারা হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা-বাবা। না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়দেরও জানানো হয়। ভুক্তভোগীর এক বান্ধবী জানায়, মেয়েটিকে ১ জানুয়ারি দুপুরে তিনি রিফাতের সঙ্গে যেতে দেখেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয়রা। প্রথমে সে অস্বীকার করলেও মারধর শুরু হলে সে সব কাণ্ড বলে দেয়। তাকে সঙ্গে নিয়েই হিন্দুপাড়ার ওই নারীর বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এর পর মেয়েটিকে নিয়ে ওর মা সবুজবাগ থানায় যান আইনি পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্তু ভুক্তভোগী ও তার মাকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে মেয়েটিকে ওসিসিতে পাঠায় পুলিশ; রিফাতের দেওয়া তথ্যানুসারে সোর্স তুষার ও মাদকাসক্ত যুবক সজীবকে আটক করা হয়। এর আগে, পুলিশ রাতে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে গেলে অথবা তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দিলে সে গণধর্ষণের শিকার হতো না। সোর্সের হাতে তুলে দেওয়ার অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে মেয়েটির সর্বনাশ হয়ে গেল। এই যখন অবস্থা, তখন মামলার বাদী মেয়েটির মা বলছেন, সুন্দর তদন্তের কথা বলেও পুলিশের একজন তাদের কাছে টাকা চেয়েছেন। এ দিকে বাদী তার মেয়েকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ করলেও মামলায় একজনকে ধর্ষক (তুষার) ও অন্য দুজনকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। কেন? এ প্রশ্নে মেয়েটির মা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না, পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত বলেছি। তারাই এজাহার লিখেছেন। আমাকে সই করতে বলেছে, আমি শুধু সই করছি। এজাহারে পুরো ঘটনার উল্লেখ নেই জেনে অবাক হন তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই মো. বোরহান মিয়া বলেন, তুষার পুলিশের লিস্টেড সোর্স না। তবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করত বলে জানতে পেরেছি। ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিফাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা, তা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। ঢামেক হাসপাতালের ওসিসি থেকে মেয়েটিকে দুতিন দিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে, জানান তিনি।- আলোকিত বাংলাদেশ
আগামীকাল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীকাল ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লি হয়ে ঢাকা ফেরেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালনের ব্যাপক প্রস্তুতিকে সামনে রেখে এবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। বাংলাদেশ এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এদিন থেকেই মুজিববর্ষ উদযাপন শুরু হবে। আর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই দিনে সারাদেশে শতবর্ষ উদযাপনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়াও দুপুর ৩টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। জাতির পিতা পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসেবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লীতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। পরের দিন দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এভাবেই লিখা হয়- স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নামলো তার দু চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস। জনগণ নন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি বক্তৃতায় বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। সূত্র : বাসস
বস্ত্র শিল্পের পাশাপাশি কৃষিকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে সার্বিকভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে আমারা কাজ করছি। বস্ত্র খাতের পাশাপাশি কৃষিকেও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় বস্ত্র দিবস- ২০১৯ উদযাপন এবং জাতীয় বস্ত্র পণ্য মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি এই প্রথম আমরা শুরু করেছি। কাজেই বস্ত্র খাতের উন্নয়ন, বিকাশ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে এ জাতিয় অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ কি পরিমান এগিয়েছে তা আপনারা সবাই জানেন। আজ আমাদের জিডিপির আকার ২০০৯ এ ছিল ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অপরদিকে আমাদের রপ্তানি আয় সেই বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে যা ছিল তার তুলোনায় তিন গুণ বেড়ে ২০১৮-১৯ সালের অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৬.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তিনি বলেন, আমার দেশের কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ সবাই উন্নত জীবনযাপন করবে। আমরা যে ডেল্টা প্লান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে করে একদিন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। আগামী প্রজন্ম যাতে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পায় সে লক্ষেই আমরা কাজ করছি। শেখ হাসিনা বলেন, মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নিত হয়েছে। আমাদের জিডিপি ৮.১৫ হারে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রবৃদ্ধি যেমন অর্জন করেছি, তার সঙ্গে মূল্যস্ফিতি আমরা ৫ ভাগে নামিয়ে রাখতে সক্ষম হই। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর আমাদের যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন সেখানে অর্থনীতিক ক্ষেত্রে তিনি সরকারের সাথে সাথে বেসরকারি এবং সমবায়, এই তিনটি খাতকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর আমরা সরকার গঠন করার পর প্রথমবার থেকেই বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দিচ্ছি, অনেক খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যার শুভ ফল দেশবাসী পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানিমুখি শিল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পপুলিশ গঠন করে দিয়েছি। যাতে নিরাপদে সব কাজ করতে পারেন সবাই। যাতে নিরাপদ কারখান গড়ে উঠতে পারে সে জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা করে দিয়েছি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন পোশাক শিল্পে যারা শ্রমিক রয়েছেন তাদের মজুরি ছিল মাত্র ১৬০০ টাকা। আজ তা ৮ হাজার টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। আমি জানি না, পৃথিবীর কোন দেশ কখনও এতো টাকা এক সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধি করেছে কিনা! শুধু পোশাক শিল্পে নয়, আমরা সকলেরই বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেছি।
চাকরির জন্য মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির
০৮জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি চাকরি বা অন্য চাকরির পেছনে মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় শাবি বাংলাদেশে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক সুনাম বয়ে এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের সুনাম সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যা আমাদের জন্য গৌরবের। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশে কর্মক্ষেত্রে শাবির গ্র্যাজুয়েটরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে আনছে। এ সময় গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি উপস্থিত অতিথিবৃন্দের কাছে ফরমালিনমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফরমালিনের কারণে বর্তমানে দেশে ক্যান্সারসহ অন্যান্য মরণঘাতী রোগ বেড়ে যাচ্ছে, যার দায়ভার আমরা কেউই এড়াতে পারি না। মো. আবদুল হামিদ বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাই সরকারি চাকরির বা অন্য চাকরির পেছনে মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান, পিএইচডি প্রদান ও স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০০০-০১ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ৬ হাজার ৭৫০ জন গ্র্যাজুয়েটের ডিগ্রি ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের মধ্যে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২০ জন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। বিকাল সাড়ে ৪টার পর রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মজনু একজন- সিরিয়াল রেপিস্ট
০৮জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট বলে জানিয়েছে Rab। আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে Rabর মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে RAbর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। মজনু জানিয়েছে, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নিজের খারাপ অবস্থার কারণে তিনি আর বিয়ে করতে পারেনি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধী নারী এবং ভিক্ষুককে ধর্ষণ করেছেন। সারোয়ার বলেন, মজনু তার আগের অপকর্মগুলোর কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। Rab জানায়, মজনু মূলত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের টার্গেট করতেন এবং সুযোগ বুঝে তাদের ধর্ষণ করতেন। মজনু জানিয়েছে, এই প্রথম তিনি প্রতিবন্ধী নয়-এমন কাউকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি নিজে সেদিন গিয়েছিলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এরপর ওঁৎ পেতে ছিলেন। সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, মজনু ছিল মাদকাসক্ত। এ ধরনের মাদকাসক্তরা তাদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর তখন এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এর আগে বুধবার রাতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আটকের পর মজনুকে গ্রেফতার দেখিয়েছে Rab। গ্রেফতার যুবকের কাছ থেকে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন, চার্জার ও ব্যাগ পাওয়া গেছে।
সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৮জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাইবার ক্রাইমের কারণে ছেলেমেয়েরা বিপথে যায়, তাই সাইবার ক্রাইম যেগুলো হচ্ছে সেসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ সম্মাননা পদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট ছোট শিশুদের থেকে শুরু করে তরুণ সমাজকেও সচেতন করা একান্ত দরকার। সাইবার ক্রাইম যেগুলো হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ অনেক সময় এটার জন্য ছেলেমেয়ে বিপথে চলে যায়; অনেক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়; অনেক ধরনের ক্রাইমের সঙ্গে তারা জড়িয়ে পড়ে। তাই এটা যেন না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আপনারা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন আর তারা কী দেখছে সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরাই এ দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। সেভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বহুমুখী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার যে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করেছি, তাতে জনগণ লাভবান হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অন্তত আমরা এতটুকু দাবি করতে পারি যে আজকের বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা এখন বলতে পারি যে, আমাদের দেশের মানুষের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং আমি আজকে যে পুরস্কার দিলাম, যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এ রকম পুরস্কার যেন প্রতিবার আরও বেশি বেশি করে দিতে পারি। সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পালন করে যাচ্ছি। বর্তমানে বাংলাদেশে কানেকটিভিটি, দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ঘিরে কাজ করে যাচ্ছি। এর ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশকে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্বও তিনি নিয়েছিলেন ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসার পর। আমাদের যে সংবিধান তিনি দিয়ে গেছেন এর সঙ্গে সঙ্গে আজকে আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি- তার ভিত্তিটাও তিনি রচনা করে দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে ইন্টারন্যাশনার টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নের সদস্য পদ বাংলাদেশ অর্জন করে। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আমাদের প্রতিটি অর্জনের ভিত্তিটা তিনি রচনা করে গেছেন। যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যাই, তখন প্রতিটা ক্ষেত্রেই দেখি তার সেই অবদান রয়েছে। এক দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলা, অপরদিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বহুমুখী সেবা আমরা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার যে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করেছি, তাতে জনগণ লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি এখন বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম হয়ে থাকে। মানুষ যেন তাৎক্ষণিক সেবা পেতে পারে, তার জন্য ৯৯৯, ৩৩৩, ১০৯- এসব জায়গায় ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা পায়। তাতে সাধারণ মানুষের ভেতর আস্থা-বিশ্বাস যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তৈরি হয়েছে, তেমনি সরকারের ওপরও এসেছে যে কোনও সমস্যা হলে তার একটা সমাধান পাওয়া যায় বা নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, আমরা ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে দিচ্ছি। আমাদের যে রফতানি খাত আছে- যেমন আমাদের সব থেকে বড় রফতানি খাতটা হচ্ছে পোশাক শিল্প। ধীরে ধীরে এটাকে আমরা বহুমুখী করতে চাচ্ছি। আর সেখানে আমরা আইটি খাতটাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি। কারণ আইটি খাতে আমরা রফতানি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারব।

জাতীয় পাতার আরো খবর