আরও ৩১৭১ করোনা রোগী শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৪৫
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৭১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও ৭৭৭ জন। এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে যে সংখ্যক রোগী মারা গেছেন এবং শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে এ দুটোই সর্বোচ্চ; রেকর্ড। মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি ল্যাবের মধ্যে ৫৫টি গত ২৪ ঘণ্টা করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৬৪টি টেস্ট করা হয়েছে। যাতে শনাক্ত প্রথমবারের মতো তিন হাজার ছাড়িয়ে ৩১৭১ জন হয়েছেন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
সংসদের ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত
৯জুন,মঙ্গলবার নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদের কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় ৪৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরেই তেমন কোনও উপসর্গ নেই। করোনা পজিটিভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ভিআইপি দফতরে অবাধে যাতায়াত করেন। আর অধিবেশন চলাকালীন এদের অনেকের সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। সংসদ সচিবালয়ে সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদে দায়িত্বরত ৩০০ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২ জুন থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়। সোমবার (৮ জুন) তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন এমন সংসদ সদস্যদের করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। করোনা পজিটিভের বিষয়ে সংসদ মেডিক্যাল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার আরিফুল হক জানান, সংসদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ৪৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সোমবার ১১ জনের শরীরে, রবিবার ১৬ জনের শরীরে আর শনিবার ৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। বাকিদের শরীরে এর আগে পাওয়া গেছে। পজিটিভ হওয়া কয়েকজন মেডিক্যাল সেন্টারের বাইরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বলেও তিনি জানান। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, আক্রান্তদের মোবাইলে করোনা পজিটিভ জানিয়ে মেসেজ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস তাদের তালিকা ধরে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন। সংসদে না যাওয়ার জন্য বলছেন। জানা গেছে, সোমবার সংসদ সচিবালয়ের ৩১তম কমিশন বৈঠকে উপস্থিত থাকার ছিল এমন কয়েকজন কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। পরে তারা বৈঠকে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‍ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, করোনা পরীক্ষার জন্য সংসদ সদস্য মেম্বারস ক্লাবে একটি বুথ তৈরি করা হয়। সেখানে নমুনা নিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অধিবেশনে অংশ নেওয়া এমপিদের করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। তিনি জানান, যাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার দরকার ছিল তাদের করানো হচ্ছে। এছাড়া অনেকে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েছেন। এমপিদের পরীক্ষার ব্যাপারে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে আমাদের কোনও নির্দেশনা নেই। কারণ, আজকে টেস্ট করলাম কালকে যে পজিটিভ হবে না তার কোনও গ্যারান্টি আছে? তবে চাইলে তারা নিজেরা টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন। এদিকে এমপিদের করোনা পরীক্ষা না করায় সংসদে কর্মরতদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, এ পর্যন্ত সাত জন এমপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর বাসায় কর্মরত চার জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সংসদীয় কমিটির একজন সভাপতির পিএস এবং একাধিক মন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তার কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। এজন্য সংসদে যোগ দেবেন এমন এমপিদেরও করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। এ বিষয়ে সংসদের উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, কেবল তাদের পরীক্ষা করালে কী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে? সংসদ সদস্যদেরও করোনা পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ, তাদের জনসাধারণের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করতে হয়। আগামী ১০ জুন শুরু হচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। অধিবেশন শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ১১ জুন বাজেট উত্থাপন হবে। এটি পাস হবে ৩০ জুন। বাজেট অধিবেশন ঘিরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। করোনা সংকটকালে অনুষ্ঠেয় এ বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। রোস্টারভিত্তিক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন উপস্থিতি ৮০/৯০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। অধিবেশন চলাকালে কক্ষে স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। এক্ষেত্রে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরও এক সারি পেছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরও কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। আসন বিন্যাস এবং তালিকা করে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান হুইপের নেতৃত্বে হুইপরা একদফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কোন দিন কোন কোন সদস্যরা অংশ নেবেন তার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন প্রক্রিয়া শুরু
৯জুন,মঙ্গলবার নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকায় শুরু হয়েছে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন। সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে কর্মপন্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে বেশি সেসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ঢাকায় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজারে শুরু হচ্ছে লকডাউন। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ ঢাকার রেড জোনগুলো লকডাউন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই। তথ্য সরবরাহ করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর ও আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেড জোন পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে। এ জোনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ যেসব জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন শুরু হয়েছে। আর ইয়োলো ও গ্রিন জোনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত: সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করোনা মানচিত্র আপডেট করা হবে। আক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র রেড, ইয়োলো ও গ্রিন রঙের। রাজধানীতে এই প্রক্রিয়ার শুরুতে লকডাউন শুরু হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ব রাজাবাজার লাল এলাকায়। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমনের জন্য রেড জোন হিসেবে ঘোষিত ওই এলাকা মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। গতকাল বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান জানান, ইতিমধ্যে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দাদের অবগত করা হয়েছে। এজন্য মাইকিং করা হয়েছে। মসজিদে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রবেশ পথ আটটি। মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে সাতটি পথ বন্ধ থাকবে। একটি খোলা থাকবে। সেখানে সার্বক্ষণিক পাহারা থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে গ্রীণ রোড সংলগ্ন ওই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করা যাবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ও অনুমতি ছাড়া কেউ আসা যাওয়া করতে পারবেন না। ওই এলাকার লোকজনকে যাতে বাইরে যেতে না হয় এজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দাদের সুবিধার্তে সেখানে করোনা টেস্টের বুথ থেকে শুরু করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়েছে। এখানে বসবাস করছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। প্রাথমিকভাবে লকডাউনের তালিকায় রাজধানীর ওয়ারির একটি জায়গাও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ অন্যান্য এলাকায় লকডাউন করা হবে। করোনা সংক্রমণ বিবেচনা করে চিহ্নিত করা ঢাকার লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা পরিচালনার বিষয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্ব্বে পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে রেড মানচিত্রের এলাকাগুলোতে লকডাউন কার্যকর করা হবে। লকডাউন হতে পারে ১৪-২১ দিনের জন্য। লকডাউন করা এলাকায় আরোপ করা হবে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি। এসব এলাকায় চলাচল করতে দেয়া হবে না। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৪০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। তিন জনের বেশি কিন্তু ৪০ জনের কম থাকলে ওই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে। অ্যাপের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক জোন চিহ্নিত করা থাকবে। আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রেড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে। রেড জোনে শুধু ফার্মেসি, হাসপাতাল, নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে। কাঁচাবাজার, রেষ্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, শপিংমলসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে রাখাও নিশ্চিত করা হবে। রেড জোনে জনসমাগম রুখতে কাঁচাবাজার বন্ধ রেখে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ও মাথায় ঢুলি নিয়ে চলা ফেরিওয়ালাদের পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে। লকডাউন নিশ্চিত হচ্ছে কি না তার জন্য পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি করা হবে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে। ইয়েলো জোনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। এক্ষত্রে পুরো এলাকা লকডাউন না করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি কড়াভাবে পালন করতে হবে বাসিন্দাদের। যেকোনো ধরনের জনসমাগম রোধে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বা ওয়ার্ড কমিটি পর্যায়ক্রমে টহল দেবে। প্রয়োজনে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এখানে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও অন্য সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গ্রীন জোনে কিছু বিষয়ে কঠোরতা বজায় রাখা হবে। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী এই এলাকায় ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এখানে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হবে। যাতে এই এলাকায় ভাইরাসের সংক্রমন না বাড়ে। করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর গত ৩১শে মে থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু হয়েছে। এরমধ্যেই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। সংক্রমন ঠেকাতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রেড জোনগুলোতে লকডাউনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: করোনা ভাইরাসের অধিক সংক্রমণ এলাকাকে ‘জোনভিত্তিক’ লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিব জানান, কোনো এলাকায় যদি অধিক সংক্রমণ থাকে সেই এলাকাকে যদি স্পেশালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়, সে বিষয়ে মাননীয়? প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সেটা এডমিনিস্ট্রিটিভ ওয়েতে করে ফেলতে পারবে আগামীকালই (মঙ্গলবার)। আমাদের যে সংক্রামক ব্যাধি আইন আছে, এটা সেই আইনের মধ্যে দেয়া আছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অথরাইজড।
খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির আহবান
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। জনগণের নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বিএবি খাদ্যখাতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষ্যে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) উদ্যোগে বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২০ উদযাপিত হতে যাচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে আবদুল হামিদ বলেন,বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড জাতীয় মান অবকাঠামো ও সাযুজ্য নিরুপণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য ও সেবার মনোন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মান ও গাইডলাইন অনুযায়ি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব দিয়ে এ বছর বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অ্যাক্রেডিটেশন ইমপ্রুভিং ফুড সেফটি বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড -১৯&র বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির এবছরের প্িরতপাদ্য যথার্থ বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন। আবদুল হামিদ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২০উদযাপনের সাফল্য কামনা করেন।
মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে ৬৫ বছরের উর্ধ্বের কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা যাবে না সংক্রান্ত অনুবিধিটি বিলুপ্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস অর্ডার নম্বর ১২৭, ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি ৫ এর বিধান অনুযায়ী গভর্নরের কার্যকাল বা মেয়াদ চার বছর এবং তাকে পুনঃনিয়োগ করা যাবে। তবে, উক্ত অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশে উল্লেখ রয়েছে যে, ৬৫ বছর বয়স পূর্তির পর কোনো ব্যক্তি গভর্নর পদে আসীন থাকতে পারবেন না বলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকায় আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে ৬৫ বছরের পর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও ৬৫ বছরের পরে পুনঃনিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ ( প্রেসিন্ডেন্টস অর্ডার নং : ১২৭ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশ জনস্বার্থে বিলুপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যোগ করেন তিনি। খন্দকার আনোয়ার বলেন, আমাদের পাশ^বর্তী দেশ ভারত এবং শ্রীলংকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমার উল্লেখ নেই। এছাড়া এদিন, আদালত কতৃর্ক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন এবং সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারী ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড (নবায়নযোগ্য) নামে কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব এবং উহা গঠনের লক্ষ্যে এতদসংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। একইসঙ্গে প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখকে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রের খ ক্রমিকে উহা অন্তর্ভূক্তকরণের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।
আগামী অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী (২০২০-২০২১) অর্থবছরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রাক্কলিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতবছরের তুলনায় এ বাজেট ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কমিশন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩১তম সভায় আজ এ অনুমোদন দেয়া হয়। সংসদ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সভায় অংশগ্রহণ করেন। চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করেন। সভায় এছাড়াও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ও ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৩৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন করা হয়। সভায় ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুলিশ প্রটেকশনের জন্য ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ১টি এ্যাম্বুলেন্স টিওএন্ডই এ অন্তর্ভুক্তকরণ, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১১ (এগার)টি নতুন পদ সৃষ্টিসহ পদোন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯৪ সংশোধন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিগণের কার্যালয়ে ২১ ইঞ্চি বক্স টেলিভিশনের পরিবর্তে ৪০ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন সরবরাহ অনুমোদন, সংসদ সচিবালয়ের সমন্বয় সভা এবং অধিবেশন প্রস্তুতিমূলক সভায় সরবরাহকৃত নাস্তার জনপ্রতি বরাদ্দ ও সংখ্যা বৃদ্ধি,সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে কমিটি। সভার শুরুতে বিগত ৩০ তম সংসদ সচিবালয় কমিশন বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করার পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করা হয়। সভায় আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকারসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
দুর্দিনে শ্রমিক ছাঁটাই মরার ওপর খাড়ার ঘা : ওবায়দুল কাদের
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের এই দুর্দিনে শ্রমিক ছাঁটাই মরার ওপর খাড়ার ঘা। মন্ত্রী আজ তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোন থেকে নয়, অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মি হয়ে ছাঁটাই না করার জন্য মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, শ্রমিকরা সুদিনে মালিকদের মুনাফা এনে দিয়েছে, আজ দেশের এই দুর্দিনে তাদের দূরে ঠেলে দেবেন না। তিনি বিজিএমইএ সহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয়ের আহবান জানান। সেতুমন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে দূরপাল্লায় অভিযোগ না থাকলেও শহর এলাকায় ভাড়া বৃদ্ধির কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মালিক শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং যাত্রীদেও থেকে বাড়তি ভাড়া না নিতে মালিক শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘরে-ঘরে সুরক্ষা ও সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। এ সংকট মোকাবিলা করে আমরা চিরচেনা সজীবতায় ফিরে আসবো এবং সংকটের মেঘ অচিরেই কেটে যাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরতদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, করোনা এবং অন্যান্য রোগীদেও সেবায় মানবিক হোন, ইতিমধ্যে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ঘুরে-ঘুরে অনেকের মৃত্যুবরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মানবিক আচরণ ও সহানুভূতিশীল হতে হবে।
এডিসের লার্ভা পাওয়ায় বাড়ি মালিকদের ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরীর ৫৪টি ওয়ার্ডে চলমান বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) তৃতীয় দিনে আজ ১৪ হাজার ৫৩টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ১৭৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ৯ হাজার ৫৬৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ অর্থাৎ বিভিন্ন স্থানে ৩ দিনের বেশি জমা পানি পাওয়া যায়। এসকল স্থান ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার করেন এবং মশকনিধন কর্মীগণ মশার কীটনাশক প্রয়োগ করেন। এছাড়া এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৯টি মামলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানকালে পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফুলের টব, বোতল, পানির মিটার, গ্যারেজ, পানির হাউজ, মাটির পাত্র, ভাঙ্গা মগ, বাড়ির মেঝে, পানির ট্যাংক, প্লাস্টিকের পাত্র, ছাদের ড্রেন, দইয়ের পাত্র, পরিত্যক্ত কমোড, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা পাতিল, দুই বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান, বেইজমেন্ট ইত্যাদি স্থানের জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। গত ৬ জুন থেকে আজ পর্যন্ত ৩ দিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ৩৯ হাজার ৮৩৭ টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৫৩৯ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এবং ২৭ হাজার ৮০৩ টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া এ ৩ দিনে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। চিরুনি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি সাবসেক্টরে ডিএনসিসির ৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১ জন মশক নিধনকর্মী, অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ জন মশককর্মী ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা, কিংবা কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে আছে কিনা, কিংবা ময়লা-আবর্জনা আছে কিনা, যা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক, তা পরীক্ষা করছে। চলমান এই চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৯ জন কীটতত্ববিদ, ডিএনসিসির ৩ জন কীটতত্ববিদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাগণ প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানসহ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সমগ্র ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান সম্পন্ন করা হবে। চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদেরকে মনিটর করা সহজ হবে।
যারা ইতিহাসকে অস্বীকার করে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় : তথ্যমন্ত্রী
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, যারা ইতিহাসকে অস্বীকার করে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। িিতনি আজ দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিএনপি কেন ৭ জুন ৬ দফা দিবস পালন করে না- এ প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ৭ জুন আমাদের ইতিহাসের অংশ, ৬ দফা আমাদের মুক্তির সনদ। এটি যারা পালন করে না, তারা প্রকৃতপক্ষে ইতিহাসকে অস্বীকার করে। কারণ ৭ জুন পালন করলে তো যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাকে স্বীকার করা হয়। সেটিকে অস্বীকার করার জন্যই তারা সচেতনভাবে ৭ জুন পালন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ ইতিহাস বিকৃত করে তারা বলতে চায়, একজন শিঙ্গা ফুঁকেছিল, সেটি শুনে সবাই যুদ্ধে গিয়েছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু বিষয়টি তা নয়, বলেন তথ্যমন্ত্রী। বহু আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৫১ সালে বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন, তখন কমরেড মনি সিংহকে চিঠি লিখেছিলেন যে, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করছি, আপনার এতে সমর্থন আছে কি না?অর্থাৎ ১৯৫১ সালের আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন। ড. হাছান বলেন, এই ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে বিএনপি পালন করে না ইতিহাসকে অস্বীকার করার জন্য। কিন্তু যারা ইতিহাসকে অস্বীকার করে, তারা ইতিহাসের আস্তকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। বিএনপিও ইতিহাসকে অস্বীকার করলে একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন তা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে বাঙালির মনন তৈরি করার জন্যই ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন। সেটির ভিত্তিতেই ১৯৭০ সালে নির্বাচন হয়েছিল এবং এই নির্বাচনে জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল এবং তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণমাধ্যমবান্ধব সরকার উল্লেখ করে ড. হাছান জানান, প্রধানমন্ত্রী এ দুর্যোগের সময় বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহে আমরা সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবো বলে আশা করছি। মন্ত্রী এসময় করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের দ্রুত আরোগ্য এবং করোনা ও এর উপসর্গে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের এসময় চাকুরিচ্যুতি না করার অনুরোধ জানিয়ে সকল পত্র-পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহামারির এ পরিস্থিতিতে মানুষ অত্যন্ত অসহায়। যারা বিভিন্ন কাজ করছেন, চাকুরি করছেন তারাও অসহায়। আমি আগেও অনুরোধ জানিয়েছি, আবারও অনুরোধ জানাই, এ পরিস্থিতিতে কাউকে যেন চাকুরিচ্যুত না করা হয়। সেই সাথে সবার বেতন-ভাতাও যেন নিয়মিত পরিশোধ করা হয়। কারণ এসময়ে চাকুরিচ্যুতি অত্যন্ত অমানবিক। আমি সেটি না করার জন্য অনুরোধ জানাই। বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু ও উপস্থিত সীমিতসংখ্যক গণমাধ্যম প্রতিনিধি এসময় গণমাধ্যমে ছাঁটাই বন্ধে মালিকদের প্রতি আহ্বানের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর