রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
তিন বিচারপতির রক্ত দান শোক দিবসে
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় শোক দিবসে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির রক্তদানের মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি রক্তদাতাদেরকে নিজ হাতে জুস পান করান। প্রথমেই রক্তদান করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়াসহ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রক্তদান করবেন। রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতির পিতা যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের দায়িত্ব হবে সে লক্ষে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা। তাহলেই তার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রক্তদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ।
শোকাবহ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস আজ
অনলাইন ডেস্ক: শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ। জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি। দিবসটিকে এরইমধ্যে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার পরিবারের শাহাদত বরণকারী সদস্য ও অন্য শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া করবেন। সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশে মসজিদসমূহে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপিত হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক বক্তৃতার আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে তারা কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে এবং ঢাকায় ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করবে। দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য জাতীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করবে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থা ও দপ্তরের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিরীক্ষা, নবারুণ, সচিত্র বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কোয়ার্টারলির বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, স্মরণিকা ও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করবে। গণযোগযোগ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শব্দযন্ত্র সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ দুটির পাঠ আগস্টে মাসব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করবে এবং কিউরেটর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৩০মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শোকদিবসের পরের দিন বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে বিচারকাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই দিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদ্বণ্ড প্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার -আপত্তিকর কন্টেন্ট-বিশ্লেষণে পৃথক ইউনিট
অনলাইন ডেস্ক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে আপত্তিকর কন্টেন্টের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক ইউনিট করা হবে।’ মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তারানা হালিম বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ে আমরা ছোট একটি ইউনিট করতে চাইছি। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করবো যেন কোনোরকম গুজব, নেতিবাচক প্রচারণা, নারীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য, নারীর সম্মানহানীকর বক্তব্য যাচাই করে বিটিআরসিকে জানিয়ে দিতে পারি, এই কন্টেন্টগুলো সত্য নয়, ভিত্তিহীন কিংবা মানহানিকর, নারীর জন্য অবমাননাকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিটিআরসি তো সারাক্ষণ এটা করতে পারবে না। এটা তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ, অন্তত কন্টেন্টগুলো অ্যানালাইসিস করে বিটিআরসিকে জানানো।’ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে জানানো যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে, এর গর্বিত অংশীদার তারা। এই আইডিয়াটিকে সামনে রেখে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। গণযোগাযোগ অধিদফতর থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে শুধু জেলাতেই নয়, দেশের চার হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়নে উন্নয়ন বার্তা জনগণের সামনে পৌঁছে দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন—এই বার্তাগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা ইউনিয়নভিত্তিক কাজ শুরু করবো। সেখানে পিকআপ ভ্যান থাকবে, টিভি স্ক্রিন থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা প্রচার কার্যক্রম করবো।’ দ্বিতীয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে সেই বিষয়টি গণযোগাযোগ অধিদফতরের একটি সেলের মাধ্যমে টেলিটকের সঙ্গে চুক্তির করে ২০টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাছে মেসেজের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েদিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারে টিভিসি ও মাদক গ্রহণের কুফল দেখানো হবে। আলোকিত বাংলাদেশ
১১ দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ !
অনলাইন ডেস্ক: আগামী ২২ আগস্ট পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট, মোট তিন তিনদিন। তবে এর আগে-পিছে বেশ কয়েকদিন সরকারি ছুটি থাকায় টানা ১১ দিন থাকবে ঈদের ছুটির আমেজ। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে সরকারি ছুটি। এরপর একদিন কর্মদিবস বৃহস্পতিবার। এরপর শুক্র-শনি সরকারি ছুটি। দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির পর রবি ও সোমবার আরও দুদিন অফিস খোলা রয়েছে। এরপর ২১ আগস্ট থেকে শুরু হবে ঈদ-উল-আজহার ছুটি। ধর্মীয় এই উৎসবের কারণে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে অফিস আদালত। ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে আর দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এই সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আগামী ২৬ আগস্ট রোববার শেষে পুনরায় অফিস আদালত শুরু হবে। মাঝখানে কর্মদিবসগুলোতে অনেকেই ছুটি নিয়ে রেখেছেন। ফলে ঈদে আগে পরে টানা ১১ দিন ছুটির আমেজে থাকবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।
শহিদুলের মুক্তির দাবিতে নোবেলজয়ী স্টিগলিজসহ ১৩ জনের খোলাচিঠি
অনলাইন ডেস্ক: কারাগারে আটক খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও অ্যাকটিভিস্ট শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে এবার খোলাচিঠি লিখেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিসসহ ১৩ জন বরেণ্য ব্যক্তি। প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে লেখা ওই চিঠিতে শহিদুলের গ্রেফতারকে বিধিবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে তারা বলেছেন, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শহিদুলের গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিধি ও মানবাধিকারের বৈশ্বিক ঘোষণা, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক বিধি, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন তারা। চিঠিতে একটি অনলাইনের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট উসকানির অভিযোগে শহিদুল আলমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন পর তাকে আদালতে নেওয়া হয় এবং জাতির সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, শহিদুল তার জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আদালতে নেওয়ার সময় তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছিলেন। সে সময় তিনি বলেছেন, আমি একজন আইনজীবী চেয়েও পাইনি। লাঞ্ছিত করা হয়েছে আমাকে। আমার রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে তা আবার পড়ানো হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাদের কথামতো না চললে আবার আমাকে ... (অস্পষ্ট)। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সরকারের দমনপীড়ন নিয়ে আল-জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং ফেসবুকে এ সংক্রান্ত কঠোর বিবৃতি দেওয়ার কারণে শহিদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের ঘটনাকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ও এর সমর্থক বাহিনীর চলমান বেআইনি ও সহিংস কর্মকাণ্ডের নজির আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাবার বুলেট ব্যবহারের সমালোচনাও করা হয়েছে এতে। এ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে চিঠিতে। মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে যে কোনও ধারার গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান আখ্যা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনভাবেই সংবাদমাধ্যমের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। শহিদুলের ঘটনাকে তার ওপর নিষ্ঠুর আচরণ আখ্যা দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এই ধারার কর্মকাণ্ড মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অধিকারকে নস্যাৎ করে। তারা বলেছেন,আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এর নিন্দা জানাই। খোলাচিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিস ছাড়াও ভারতের পিপলস সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বিনায়ক সেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুডিথ বাটলার ও অ্যাঙ্গেলা ডেভিস রয়েছেন। এর আগে মার্কিন ভাষাবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক নোম চমস্কি, ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা লেখক-সাংবাদিক-শিল্পীরা তাকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকতার সুরক্ষা, মানবাধিকার ও আলোকচিত্র সংশ্লিষ্ট বেশকিছু সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শীর্ষনিউজ
২২ আগস্ট ঈদুল আজহা
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের আকাশে রোববার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসেবে ২২ আগস্ট (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। আজ সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এই তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান। হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন মুসলিমরা। সেই হিসাবে আগামীকাল সোমবার থেকে ১৪৩৯ হিজরি সনের জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সেদিন পশু কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রোববার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৩৯ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। ২২ আগস্ট (১০ জিলকদ) বুধবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। এদিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
২৭১টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি আদেশ জারি হয়েছে
অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়েছে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাসিমা খানম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশটি জারি হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর আজ আদেশ জারি করা হলো। সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারয়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সীগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ির ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জে ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলে ৮টি, জামালপুরে ৩টি, শেরপুরে ৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, কক্সবাজারে ৫টি, রাঙামাটি ৪টি, খাগড়াছড়িতে ৬টি, বান্দরবানে ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতে একটি করে, কুমিল্লায় ১০টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬টি, চাঁদপুরে ৭টি, সিলেটে ৯টি, হবিগঞ্জে ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি, নাটোরে ৩টি, পাবনায় ৭টি, সিরাজগঞ্জে ৩টি, নওগাঁ জেলায় ৬টি, বগুড়ায় ৬টি, জয়পুরেহাটে একটি, রংপুরে ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে ৭টি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১টি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় ২টি, চুয়াডাঙ্গায় ২টি, সাতক্ষীরায় ২টি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীতে ৬টি, বরগুনায় তিনটি করে কলেজ রয়েছে। এই ২৭১টি বেসরকারি কলেজ সরকারি হওয়ার পর পর দেশে মোট সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮টি। এ ২৭১টি কলেজে রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। আজ থেকেই তারা সরকারি বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ২০১০ সালে সরকারি স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে ৩২৯টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ জাতীয়করণে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) কর্মকর্তারা সরজমিন পরিদর্শন করে স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনের সব সম্পত্তি সরকারকে ডিড অব গিফট (দানপত্র) দলিল করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। স্কুলগুলো ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতির চাপে আটকে যায় কলেজ সরকারিকরণ। এর আগে মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিপ্রাপ্ত ২৯৩টি কলেজ সরকারি করতে অর্থ ছাড়ের সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি বছর ১০০ কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব দিয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছিল। তিন ধাপে জাতীয়করণ হলে অসম প্রতিযোগিতা ও ঘুষ দুর্নীতির আশঙ্কায় একসঙ্গে জাতীয়করণ করতে পাল্টা চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়ালে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো বরাদ্দ রাখেনি। জাতীয়করণসহ চার হাজার ৯৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দ চেয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখেন সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। চিঠিতে তিনি লেখেন, ৩২৯টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে সরকারিকরণ কার্যক্রমের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নতুন সরকারিকরণকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ শুরু হচ্ছে। এজন্য আগামী অর্থবছরে সরকারিকরণকৃত ৩২৭টি স্কুলের জন্য ৩৪৯ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার এবং ২৯৯টি কলেজের জন্য ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে ৩৩৫টি সরকারি কলেজ রয়েছে। ৩১৫টি উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ নেই।
আকাঙ্ক্ষা পূরণের আহ্বান আগামী প্রজন্মের: প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ঢাকা বিমান বন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে সরকারি কর্মচারীদের তাদের দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষানুযায়ী পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের শিশুরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, বিবেককে জাগ্রত করেছে। তাই আমি আশা করবো জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষানুযায়ী সকলেই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ড্রাইভার ও হেলপারদেরও আইন মানতে হবে। ওভারটেকিং না করে লাইন দিয়ে বাস চালাতে হবে। ওভারটেক করতে গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। খবর বাসসর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ মহাপরিদর্শকের উদ্দেশ্যে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে নির্দেশ দিতে হবে যেন কোনরকম অনিয়ম না হয়। সড়কে ট্রাফিক সম্পর্কিত অপরাধ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী অনেক সময় সনাক্ত করতে পারে না এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সকল সড়কে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন ও ডিজিটাল নম্বর প্লেট ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে লেজার সিগন্যাল দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনিয়ম সনাক্ত করা যাবে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের অহেতুক বিলম্ব পরিহারের আহবান জানিয়ে বলেন, এই আন্ডারপাস প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে দুটি অমূল্য প্রাণ হয়তো এভাবে ঝড়ে যেত না। তিনি শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম এবং আব্দুল করিম রাজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। মীম এবং রাজিব ২৯ জুলাই বিমান বন্দর সড়কে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল ও কলেজের কাছেই জাবালে নূর পরিবহণের বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় এবং এ দুর্ঘটনায় আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বক্তৃতা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ এবং জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপস্থাপনায় জানান, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং বিগ্রেড ৪৩ মিটার দীর্ঘ এই মাল্টিপারপাস অত্যাধুনিক আন্ডারপাসটির নির্মাণ কাজ ১ বছরের মধ্যে শেষ করবে। সরকারের অর্থায়নে এর ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল ও কলেজের সামনে নির্মাণাধীন আন্ডারপাস প্রকল্পে বিলম্বে উস্মা প্রকাশ করে বলেন, এই আন্ডারপাস আগেই ডিজাইন করা হলেও এতে একটি সামান্য সমস্যা ছিল এবং এটি জানার পর তিনি তা দূর করার উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন নির্মাণ কাজ করতে গেলেই জমির মালিকানা নিয়ে যে সমস্যায় পড়তে হয় সে সমস্যা এখানেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা কার, জায়গা কার, জমি কার, লেক থাকলে পানি কার এগুলো নিয়ে একটা বিতর্ক থাকে, আমি আশাকারি এই সমস্যাগুলো আর হওয়া উচিত নয়। এরজন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তিনি বলেন, টাকা কে দেবে এজন্য দীর্ঘদিন এই আন্ডারপাসের প্লান করেও বসে থাকা হয়েছে। এখানে যখন রেডিসন হোটেল হলো, মেডিকেল কলেজ হলো, তারপরে স্কুল এবং ফ্লাইওভার করার পর থেকেই এই নকশা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের এখানে বড় বড় আমলারা আছেন-তাদেরকে বলবো আপনারা যদি কোন সমস্যা সমাধান করতে না পারেন, আমিতো রয়েছিই। আমাকে জানানো হলে সেই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি।এজন্য প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব মোবাইল ফোনে বা অফিসে যোগাযোগের অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সকলকে যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহবান জানান। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় অন্তত দাঁড়িয়ে একবার ডানে ও একবার বামে দেখে নিতে হবে কোন গাড়ি আসছে কিনা। আর রাস্তা পারাপারের জন্য যে জায়গাটি নির্দিষ্ট করা রয়েছে- কোথাও ফুটওভার ব্রিজ, কোথাও জেব্রা ক্রসিং, কোথাও আন্ডার পাস আছে- ঠিক সেইসব জায়গা দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে হবে। এর বাইরে দিয়ে রাস্তা পার হওয়া মোটেই ঠিক নয়। আর কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি সড়কে চলতে পারবে না। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং যেখানে বেশি মানুষের চলাচল রয়েছে সেখানে ফুটওভার ব্রীজ বা আন্ডারপাস করে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। বক্তৃতায় সরকার প্রধান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং শিক্ষিত জাতি গঠনে তাঁর সরকারের বৃত্তি-উপবৃত্তিসহ নানা সহায়তা প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করার জন্য সরকার চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও অনেক চালক এতেও ফাঁকি দেয়। তারা নিজেরা ভালোভাবে ট্রেইনিং করে না। আবার হেলপারদের হাতেও গাড়ি দিয়ে দেয়। তারপরও সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। দুর্ঘটনার দিন বিমানবন্দর সড়কে রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া বাসের চালক নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ ক্ষমা পাবে না। দায়ী চালকদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীসহ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি সুশিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার জন্য। অশ্লীল কথা বা গুজবের জন্য নয়। তিনি বলেন, ‘এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনেকে গুজব ছড়িয়েছে। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। তিনি এ সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর আহ্বানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। ২৯ জুলাই দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে তাদের দাবি-দাওয়া সরকার মেনে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে যখন দেখলাম স্কুলের ইউনিফর্ম বানিয়ে অনেকে ঢুকে পড়ছে, বুঝলাম তৃতীয় পক্ষ, যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এটা দেখার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তারা সময় মতো ঘরে ফিরে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমাদের (ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়) অফিস আক্রান্ত হলো, তখন সেখান থেকে ফোন আসছিল, বলা হচ্ছিলো- আমরা তো টিকতে পারছি না, শুধু পাথর ছোড়া হচ্ছে। তখন বলেছি শুধু ধৈর্য ধরতে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারা করলো এটা? সেসময় ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন দর্জি দোকানে ইউনিফর্ম বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে, এসব কারা করেছে? শিশু কিশোরদের আন্দোলনের সময় সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার পুরনো বিশৃঙ্খলা ফিরে আসায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যতদিন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ছিল, তারা ট্রাফিক কন্ট্রোল করছিল এবং সবাই কিন্তু তাদের কথা মেনে নিয়েছিল, এটা ঠিক। কিন্তু যখনই সবাই ফিরে গেল স্বাভাবিক হলো যানবাহন চলাচল, তারপর কী দেখি? রাস্তার পাশেই ফুটওভার ব্রিজ, আমরা দেখলাম ইয়ং ছেলে মেয়ে সামান্য কয়েক কদম হাঁটলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে পারে, সেটা না করে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে হাত দেখিয়ে দেখিয়ে। হাত দেখিয়ে দেখিয়ে বেআইনিভাবে রাস্তা পার হওয়া, সেটাও কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয় সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। এমনকি বাসেও বিন থাকতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকেও নির্দেশনা প্রদান করেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে থাকতে পারে বলেও অভিমত দেন প্রধানমন্ত্রী।
২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু রমনা লেকে ডুবে
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর রমনা উদ্যানের লেকে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- কাকরাইল উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদনান (১৫) ও মাহফুজ (১৫)। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসাইন জানান, বেলা ২টা ৫৭ মিনিটে জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের সংবাদ দেয়া হয়। এর এক মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। অচেতন অবস্থায় ঢামেকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর