সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেবেন মোদী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসিনা-মোদী ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই নন লিথাল উইপেন (সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ইস্যু তুলেছেন বলেও জানান তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে ড. মোমেন বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ইস্যু তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া অভিন্ন ছয়টি নদীর সীমানা নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র নিজেই জানিয়েছেন, নন লিথাল উইপেন (সীমান্তে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশনা তিনি নিজে দেবেন। আমরা কোনো সীমান্ত হত্যা চাই না। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে সীমান্তে ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি রয়েছে। আমাদের লোকজনও সেসব অ্যাক্টিভিটির সঙ্গেও জড়িত। এসব বন্ধ করতে হবে। তবে আমরা হতাশ নই। আমরা আশাবাদী। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্পর্ককে সোনালি অধ্যায় হিসেবে অবহিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, বৈঠকে ব্রিকস ব্যাংকে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসেন তারা। এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক নির্ভরতায় সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দ্বিপাক্ষিক ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ভার্চ্যুয়াল এ বৈঠকে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। এছাড়া আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে, আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন করেছি। বাংলাদেশে আমরা বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করবো। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা নিজ দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে থাকে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চলমান যোগাযোগের উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগ পুনরায় চালু করা- যা আমরা আজ উদ্বোধন করছি। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বিশ্ব এক মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং মানবজাতি কীভাবে এ অজানা শত্রুর মোকাবিলা করে, সে পরীক্ষার মুখোমুখি। লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে, জীবন-জীবিকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অর্থনীতি হয়েছে শ্লথ, বিঘ্নিত হয়েছে সমাজ ব্যবস্থা। সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারির সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। তবু আমাদের গত শীর্ষ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ক্রান্তিকালে উভয় পক্ষের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য। করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ও জনবহুল অঞ্চলে কোভিড-১৯ যেভাবে আপনার সরকার মোকাবিলা করেছে, তার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজগুলো ছাড়াও, আত্মনির্ভর ভারত- এর উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলোও প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার নেওয়া নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যোগ করেন শেখ হাসিনা। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশেও আমরা এ মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। মার্চের গোড়ার দিকে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরে আমরা আড়াই কোটিরও বেশি মানুষকে সহায়তা দিতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটা এবং ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। দুই দেশের যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সাল জুড়ে রেলরুট দিয়ে বাণিজ্য, উচ্চ-পর্যায়ের পরিদর্শন ও সভা, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় পণ্যের প্রথম পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো এবং অবশ্যই, কোভিড-১৯ বিষয়ে সহযোগিতার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। গেল বছর নিজের ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। ২০১৯ সালের অক্টোবরে নয়াদিল্লীর গ্র্যান্ড হায়দ্রাবাদ হাউসে আপনার সঙ্গে আমার শেষ বৈঠক এবং আপনার অপূর্ব আতিথেয়তা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি। তারপর অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে আগামী ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে উপস্থিতি প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ার জন্য আপনাকে এবং আপনার সরকারের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র স্মরণে আমরা বিশ্বব্যাপী বাছাই করা কিছু শহরে আগামী বছর জুড়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় আপনার উপস্থিতি আমাদের যৌথ উদযাপনের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখবে। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যাঁর গতিশীল নেতৃত্বে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং নির্যাতনের শিকার দুই লাখ মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।
সোনার বাংলা গড়তে পাশে থাকবে চীন
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, সোনার বাংলা গড়তে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতিটি প্রচেষ্টাতে পাশে থাকবে চীন। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাঙালি জাতির এই গৌরবময় দিনে, আমি সরকার এবং চীন জনগণের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে চাই। শুভ বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আশ্চর্যজনকভাবে দাঁড়িয়েছিল, যেটা কেবল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বারা সম্ভব হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু, ৪ জাতীয় নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, এবং একাত্তরের সব শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি আজ আপনাদের সঙ্গে যোগদান করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহান নেতৃত্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে বাংলাদেশ এখনও একটি আশ্চর্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যিনি তার পিতার মতো একের পর এক জাতীয় অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছেন, যা অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা ও তার নেতৃত্ব এতটাই অসাধারণ এবং দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সময়োচিত পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরকাল বেঁচে থাকুক।
তথাকথিত ফতোয়াবাজদের প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করব: নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথাকথিত ফতোয়াবাজদের শুধু প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তথাকথিত ফতোয়াবাজরা আবার মাঠে নেমেছে, তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে। তারা বিভ্রান্তিমূলক ফতোয়া দিয়ে বাংলাদেশকে বিপথগামি করতে চান। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেন। তাদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে পারেনি বলে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা অনেকভাবে চেষ্টা করেছে ইতিহাসকে পাল্টে দেওয়ার। তারা পাকিস্তানের ভাবধারায় দেশ পরিচালিত করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের নায়কের জায়গায় খলনায়ককে বসানোর চেষ্টা করেছে। স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত দিয়েছিল। ইতিহাসকে অন্য ধারায় পাল্টে দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেন নাই। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারিতেও উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়নি। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। সব ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেশকে বিশ্বের কাছে মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন। মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চারলেন-ছয়লেনের মহাসড়ক, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম দেশরত্ন শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে : তাপস
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, বিজয়ের এই দিনে জাতিগতভাবে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিতে হবে। তিনি আজ বুধবার বিজয়ের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে পৃথকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। ডিএসসিসি মেয়র বলেন, জাতিগতভাবে আমরা এখনো সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারিনি। তাই বিজয়ের এই দিনে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদেরকে নতুন করে প্রত্যয় নিতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত এই প্রজন্ম এই দেশ থেকে সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন না করা যায়, আমাদেরকে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন যে, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্তির পথে এগিয়ে চলেছি। কিন্তু এখনো সেই সংগ্রামে বিপক্ষে যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা ছিল তারা এখনো রয়েছে। তাদেরকে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর পর হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছি, যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করতে পেরেছি। দেশবাসীকে বিজয়েরে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আজ ৪৯তম বিজয় দিবস। বিজয়ের এই দিনে আমি সবাইকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই দিনটি আমাদের গর্বের দিন, এই দিনটি আনন্দের। বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মর্যাদাশীল দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা নিজ অর্থায়নে যেমনি পদ্মাসেতু করছি, তার সাথে সাথে একটি গর্বিত জাতি হিসেবেও মাথা উঁচু করে দাঁডাচ্ছি। বিজয়ের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতাসহ সকল শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। পরে ডিএসসিসি মেয়র শেখ তাপস ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে এবং নগর ভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, ডিএসসিসি’র সচিব আকরামুজ্জামান, ২৬ নম্বর ওযার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি আইজিপির শ্রদ্ধা
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এই শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব আনার প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের সামরিক সচিবরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।
আজ বিজয়ের দিন
১৬,ডিসেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করবে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হবে। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। থাকছে না অন্যান্য বারের মতো আড়ম্বর আয়োজন। এছাড়া বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিন বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর কাছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়। স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল, সেখানেও বাঙালিদের ওপর নেমে এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতন। তবে প্রথম আঘাত এসেছিল মাতৃভাষার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে বাংলা মায়ের সন্তানেরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কালক্রমে তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। স্বাধীনতার ঠিক আগে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ঘটে এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ। তারা বেছে বেছে অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার এই নীলনকশা প্রণয়ন করে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। পাকবাহিনীর অস্ত্র সহায়তা নিয়ে তাদেরই ছত্রচ্ছায়ায় আধাসামরিক বাহিনী আলবদরের ক্যাডাররা এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে। মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। আজ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সাজানো হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন শীর্ষক অনলাইনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পসংখ্যক দর্শনার্থীকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হবে। এছাড়া ডাকযোগে, ই-মেইলে, অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা প্রতিযোগিতা ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রসহ এমন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আলেমরা আন্দোলন করবেন না, আলোচনায় সমাধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে আলেমরা আর আন্দোলন করবেন না দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, তাদের পাঁচটি প্রস্তাবনা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। সরকার কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবে না এবং সংবিধানের বাইরেও যাবে না। সোমবার রাতে ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান মন্ত্রী। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম মতবিনিময় করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর সারাদেশে শীর্ষস্থানীয় আলেমরা দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির বিষয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য আমার কাছে গিয়েছিলেন। ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। আমরা যে সমস্ত আলাপ করেছি, আরো আলাপ হবে। আমরা মনে করি আলাপের মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করতে পারবো। আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। আলাপ-আলোচনার মধ্যে যে সমস্ত কথাবার্তা বেরিয়ে এসেছে সে বিষয়ে আমরা ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারাও হৃদয় দিয়ে ধারণ করেন বাঙালির জাতির পিতাকে। তারাও স্বীকার করেন যে প্রধানমন্ত্রী একজন খাঁটি মুসলমান, তার ঈমানি দায়িত্ব তিনি পালন করে যাচ্ছেন। আলাপের মাধ্যমে ঐক্য যেটুকু হয়েছে, যে সমস্ত প্রশ্ন আছে সেগুলো আরো আলাপের মাধ্যমে শেষ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে- প্রম্নে তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনা যে শুরু হয়েছে, এটা চলবে। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পরিবর্তে মুজিব মিনার করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তারা কী এখনও সেই অবস্থানে আছেন- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন। সবকিছুই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবো। তারা এই আবেদন রেখেছেন, কেউ যাতে রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর না করেন। কেউ যেন এসে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, এ ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ঐকমত্যে এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের উত্তেজনা ছড়ানোর যে প্রয়াস চলছে, সেইগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলেছেন। তারা বলেছেন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। কোথাও যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন কেউ না করেন সেই আহ্বানও তারা রেখেছেন। তিনি বলেন, পাঁচটি প্রস্তাবনা তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই শেষ কতে চান। আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা করতে পারব। এর মানে তাদের দাবিই শেষ পর্যন্ত মানতে হচ্ছে- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেটা আমি বলিনি। বলেছি আলোচনার মাধ্যমে আমরা শেষ করবো। সরকার কী নতজানু নীতি নিয়েছে- জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নই আসে না। সরকার কখনও নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। ‘আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। আমরা কারো ধর্মীয় সেন্টিমেন্টেও আঘাত করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চাই। যারা জাতির পিতার ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিতে বলেছে, যারা ভেঙেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা সরকারের নতজানু নীতি কিনা- প্রশ্নে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও নতজানু রাজনীতি করে না। আমাদের সরকার সবকিছু স্পষ্টভাবে সবকিছু জানিয়ে দিয়ে করে। আমরা সংবিধানের বাইরে কোনো কিছুই করবো না। তার মানে এই নয় যে আমরা কোনো ধর্মকে অবজ্ঞা করবো। আমরা ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে, ধর্মীয় বিধান মেনেই চলছি এবং আলেম-ওলামারা এটাও স্বীকার করে গেছেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করেন, তাহাজ্জুদের নামাজটাও পড়েন। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন করেছেন তা আলোচনার মাধ্যমে শেষ হবে। আমরা আলোচনা শুরু করেছি, আলোচনার নিশ্চই একটা ফলপ্রসূ রেজাল্ট আপনারা দেখবেন। ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সরকার দোটানায় আছে কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দেবো না। ভাস্কর্য যেখানে যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে কি থাকবে না, আমরা সবগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। তিনি বলেন, স্পষ্ট কথা হলো- ভাস্কর্য কেন করা হয়? এটাকে কিন্তু পূজা করা হয় না। এটা মূর্তি নয়। আমরা বলছি জন্ম জন্মান্তরে বঙ্গবন্ধু কে ছিলেন, হৃদয়ে ধারণ করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে চাচ্ছি। তারা বলেছেন মূল ভাস্কর্যের জায়গায় একটি মুজিব মিনার করার জন্য, আমরা বলেছি আলোচনার মাধ্যমে শেষ করবো। ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে সরকার নমনীয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নমনীয়ের কথা আমি বলিনি। সেখানে ভাস্কর্য থাকবে না- এটা আমি কখনও বলিনি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে ভাস্কর্য ওখানে থাকবে না, ওখান থেকে সরিয়ে দেবো। কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এই জায়গায় অন্য কিছু হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করতে চেয়েছেন, আমরা প্রস্তাব দেবো। তিনি রাজি হলে দেখা করবেন। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রাখাও আমাদের কর্তব্য। উনি যদি দেখা করতে ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে নিশ্চয়ই দেখা হবে। দেখা করার বিষয়ে আপনাকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাকে দায়িত্ব দেবেন কেন। অনেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছে। যেহেতু শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়টি আসছে সেহেতু আমি সামনে চলে এসেছি। এই পরিস্থিতিতে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ কি চলমান থাকবে- প্রশ্নে তিনি বলেন, চলমান তো আছেই। সেগুলো সবই আপনারা দেখছেন। বিকল্প প্রস্তাবে মিনার ও ভাস্কর্য কি একসঙ্গে থাকবে- প্রশ্নে তিনি বলেন, না। আমরা বলছি কোনোটাই সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে আরো আলোচনা হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা বড় পরিসরে আলাপ করবেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর