অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা তদন্ত করবে ডিবি
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই, এই মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখন ডিবিই পরিচালনা করবে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গতকাল মঙ্গলবার অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। মামলায় আসামি করা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিন্নাত আরা ও শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন তালুকদার। পরে আজ বিকেলে এ মামলার এফআইআর ( প্রাথমিক তথ্য বিবরনী ) এসে পৌঁছালে, বিচারকের নিকট উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। গত রোববার পরীক্ষার হলে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন পান এক শিক্ষিকা। মোবাইল ফোনটি রেখে দিয়ে তিনি অরিত্রীর বাবা মাকে নিয়ে পরদিন আসতে বলেন। পরির দিন, সোমবার বাবা মাকে নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন বাবা দিলীপ অধিকারী। পরে, বাসায় গিয়ে অরিত্রীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তাদের ওই অভিযোগ শুনি। জোর হাত করে ক্ষমা চাই। মেয়েও পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু তাঁরা কোনো কিছুই শুনতে না চেয়ে বের হয়ে যেতে বলেন। বলেন, বের হয়ে যান, কাল এসে টিসি নিয়ে যাবেন। এ সময় দ্রুত বাসায় চলে যায় অরিত্রী। পেছনে পেছনে আমরাও যাই। বাসায় গিয়ে দেখি সে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি।পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক দায়ী।
নির্বাচন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ করলে বিচার হবে: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আজ নির্বাচন তদন্ত কমিটির (ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি) বিচারকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না পেনাল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে, যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে পেনাল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউর এর ১৯০৮-এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য ২৪৪জন যুগ্ম জেলা জজ ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। কে এম নুরুল বলেন, আপনাদেরকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে যখন আস্থা রাখবে, আপনাদেরকে যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের উপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেকদিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কি করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো। প্রজাতন্ত্রের যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের প্রত্যেকের উপরে কোনো না কোনোভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটা ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যদের প্রো-অ্যাকটিভ ও ভাইব্রেন্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন,ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রেন্ট হতে হবে এবং আপনাদেরকে জানাতে হবে যে, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন। তারা যেনো সমস্যার সমাধান পায় এটা আপনাদেরকে দেখতে হবে। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, বিচারকদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যাদের নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনসহ অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে হবে। প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য বিচারকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের করণীয় যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মানুষের অভিযোগ শুনবেন; আমলে নেবেন। যেনো অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত না আসে, এলাকায় বসে সমাধান পেতে হবে। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘরে শিশুর লাশ বাংলামোটরে,ঘাতক পিতা আটক
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার বাংলামোটরের লিংক রোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়ির ভেতর থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ওই শিশুর পিতা নুরুজ্জামান কাজলকে আটক করে শাহবাগ থানার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ির ভেতরে তিন বছরের ছেলেকে মেরে কাফনের কাপড় পরিয়ে টি টেবিলের ওপর রেখেছেন। আর বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে রামদা নিয়ে বসা বাবা নুরুজ্জামান কাজল। এ অবস্থায় পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। আর মাধ্যমে অবসান ঘটল ৬ ঘণ্টা পর পিতা কর্তৃক সন্তানদের জিম্মি নাটকের অবসান। এর আগে সকালে জানা যায়, বাংলামোটর এলাকার একটি বাসায় সাফায়েত নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এলেও বাসার ভেতরে এখনো ঢুকতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ ভেতরে মরদেহের পাশে ধারালো দা হাতে বসে ছিলেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল। তিনিই কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেননি। অন্যদিকে কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের দাবি, শিশুটিকে তার বাবাই খুন করেছে। নুরুল হুদা উজ্জ্বল বলেন, কাজলের দুই সন্তান। একজন সাফায়েত, তার বড় আরেকজন আছে সুরায়েত। আমরা সাফায়েতের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। সকালে বাসায় ঢুকতে গিয়েও পারিনি। কাজলকে মাদকাসক্ত দাবি করে উজ্জ্বল বলেন, বাবাই খুন করেছেন সাফায়েতকে। কারণ কাজল মাদকাসক্ত। আর আমরা যখন বাসায় ঢুকতে গেছি, তখন কাজল আমাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসেন। সুরায়েত বাবার কাছেই আছে। ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেছিলেন, একটা বাচ্চার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। কিন্তু আমরা বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছি না। ভেতরে রয়েছেন শিশুটির বাবা কাজল। তাকে বুঝিয়েও বাসায় ঢুকতে পারিনি। তিনি জানান, শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেলেও পাঠানো হয়। র;্যাব-২ এর এসআই শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আমি ভেতরে ঢুকে দেখেছি, নুরুজ্জামান কাজল তার ছোট শিশুকে কাফনের কাপড় পরিয়ে টেবিলের ওপর রেখেছেন। এ ছাড়া বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় দা নিয়ে বসে আছেন। শিশুটির বাবাকে কোনো সাহায্য লাগবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান। দুপুর ১টার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। স্থানীয় একজন বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী চলে গেছেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল। ঘটনা শুনে নুরুজ্জামান কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে এসেছেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান। এখনো তিনি ভেতরে আটকা আছেন। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তার বড় ছেলে সুরায়েত (৪) আছে। নুরুল হুদা উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, তার ভাই নুরুজ্জামান কাজল দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে হত্যা করেছেন। তার হাতে দা ছিল।
আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী
অনলাইন ডেস্ক: গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ ও এদঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশে সারাজীবন কাজ করেছেন। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে এ মহান নেতার জীবন ও আদর্শ আমাদের প্রেরণা জোগায়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ হাইকোর্ট সংলগ্ন মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আকতারুজ্জামান এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পূণ্য স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ভিকারুননিসার ছাত্রীদের
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসের আন্দোলনরত ছাত্রীরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কাল বুধবার সকাল থেকে কলেজের ফটকে অবস্থান নেওয়া হবে বলে ছাত্রীরা জানায়। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত ছাত্রীরা বুধবার ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে কলেজের ফটকে অবস্থান নিবে তারা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো তিনটি দাবি হলো- স্কুলটির প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরার স্থায়ী বহিষ্কার, গভর্নিং বডি বাতিল করা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের উপযুক্ত আইনে বিচার করা। শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস তিন দিনের মধ্যে বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানায়। এদিকে, মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষত জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া আত্মহত্যার কারণ নির্ণয়ে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, সোমবার শান্তিনগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে নকলের অভিযোগে অপমানের জের ধরে সে আত্মহত্যা করেছে। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন,অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি দেয়ার) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয় অরিত্রী।
নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে নির্বাচনে: কবিতা খানম
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে-পরে নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্যও তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে। মঙ্গলবার রাজশাহীতে ইউএনডিপি আয়োজিত দুদিনব্যাপী জেন্ডার অ্যান্ড ইলেকশন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার। তাই নির্বাচনকালীন সময়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে নির্বাচন কমিশন। নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা সাহিদুল নবী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ,ভিকারুননিসায় কান্না
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রীরা। এতে যোগ দেন অভিভাবকরাও। ছাত্রীরা পরীক্ষা বর্জন করে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরূপ আচরণের প্রতিবাদ জানায়। অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্কুলের তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট পাওয়ার পর তা আমলে নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এদিকে অভিমান নিয়ে বন্ধু অরিত্রী অধিকারীর চলে যাওয়া কোনোভাবেই মানতে পারছে না তার সহপাঠীরা। অরিত্রীর কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছে তারা। অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ। তারা অভিযোগ করে, স্কুল কর্তৃপক্ষের অযাচিত আচরণের কারণেই অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে বিক্ষোভরত এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, অবশ্যই তার (অরিত্রী) জন্য যদি পরীক্ষা বর্জন করতে হয় আমি করব। কিন্তু তবু আমি তার এ রকম অবস্থার বিচার চাই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান অভিভাবকরা। বিক্ষোভরত আরেক শিক্ষার্থী বলে, আমরা স্টুডেন্ট আমরা কেন নিয়ম মানব না, আমরা সব নিয়ম মানব, যখনই প্রিন্সিপাল-ভাইস প্রিন্সিপাল আর গভর্নিং বডির উনারা উনাদের ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন, সঙ্গে সঙ্গে এখনই আমরা মেয়েরা পরীক্ষার হলে ফিরে যাব। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্কুলের এক ছাত্রীর বাবা বলেন, এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক, কে দোষী সেটা চিহ্নিত হোক, তার বিচার হোক, এই মুহূর্তে এটাই আমাদের দাবি। এক নারী অভিভাবক বলেন, যেখানে মরে গেলেও কিছুই বিচার হয় না। আর আমাকে বকা দিয়েছে, আমি তো প্রমাণই করতে পারব না, আপা আমাকে এগুলো বলেছে, তুমি কি চাও আমি স্কুলে যাই। তুমি যদি আমাকে স্কুলে পাঠাও, তুমি কি চাও আমি সুইসাইড করি? ঘটনা সম্পর্কে জানতে সকালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় করে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্কুল গেটের বাইরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মৌন প্রতিবাদ করায় দুই পথচারীকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোপের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল সোমবার পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে অরিত্রীর বাবাকে স্কুলে ডেকে অপমান করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাবার অপমান সইতে না পেরে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী।
নবম শ্রেণির ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় দুই কমিটি
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করা দুই কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে এই ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। সোমবার ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার সকালে ভিকারুননিসা ক্যাম্পাসে আসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেখানে তিনি স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েন। পরে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা শুনেছি। তাদের বলেছি, কেউ অপরাধী হলে অবশ্যই শাস্তি পাবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়? যে ঘটনাগুলো আমরা শুনছি, এর পেছনের কথা শুনছি, ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এদিকে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ঘটনায় দুটি কমিটি হয়েছে। স্কুলের পক্ষ থেকে করা কমিটিতে আছেন শিক্ষক খুরশিদ জাহানা মালা, ফেরদৌসি বেগম ও আতাউর রহমান। অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ঢাকাটাইমসকে জানান, গতরাতে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকদের একটি সভায় এই কমিটি করা হয়। অভিভাবক প্রতিনিধি সিদ্দিকী নাসির উদ্দিন জানান, রাত তিনটায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক জিন্নাত আরাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে এই কমিটি করা হয়।
প্রকাশিত হলো ৯ম জাতীয় সংসদ বক্তৃতা সমগ্র
অনলাইন ডেস্ক :নবম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বক্তৃতা সমগ্র নিয়ে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হলো ৯ম জাতীয় সংসদ: বক্তৃতা সমগ্র।সংকলন দুটিতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংকলনটির প্রধান সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। এটি গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সংকলন দুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন এবং সহযোগিতায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম. এম. ইমরুল কায়েস, সহকারী পরিচালক (সংযুক্ত) শাওন চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (সংযুক্ত) গুল শাহানা উর্মি। সংকলন দুটি প্রকাশ করেছেন স. ম. ইফতেখার মাহমুদ, গৌরব প্রকাশন, ৩৮, বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০।

জাতীয় পাতার আরো খবর