অ্যাপসের জন্য দু:খ প্রকাশ করলেন রেলমন্ত্রী
২২মে,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন ঈদুল ফিতরে রেলের অগ্রিম টিকেট রেল সেবা অ্যাপ-এর মাধ্যমে বাসায় বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিনতে পারবেন টিকিট প্রত্যাশীরা- এমনটিই জানিয়েছিল রেল মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে টিকিট প্রত্যাশীরা এই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বুধবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা এই অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। মন্ত্রী বলেন, অ্যাপসে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের সঙ্গে ২০০৭ সাল থেকে চুক্তি। এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর বাড়ানো হবে না। সিএনএসের ব্যর্থতার দায় আমরা এড়াতে পারি না। তাই অবশ্যই সিএনএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, এবার কার্যক্রমে ভিন্নতা রয়েছে। অ্যাপসে ৫০ শতাংশ টিকিট দেওয়া হয়েছে। অনেক অভিযোগ করেছেন, যে সেবা পাওয়ার কথা, সেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এটা দুঃখজনক। যাতে ভবিষ্যতে বিড়ম্বনা না হয়, ঈদের পর আমরা ব্যবস্থা নেবো। জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৭০০০ হাজার অগ্রিম টিকিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অর্ধেক দেওয়া হবে রেল সেবা অ্যাপের মাধ্যমে। কিন্তু রেল সেবা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারছেন না টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা। অ্যাপের মাধ্যমে সব টিকিট বিক্রি না করা গেলে সেসব টিকিট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি আজ থেকে শুরু হয়েছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি বুধবার থেকে থেকে শুরু হয়ে ২৬ মে পর্যন্ত চলবে। কমলাপুরের পাশাপাশি এবারই প্রথম অগ্রিম টিকেট ঢাকা স্টেশন, বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁও স্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া থেকে বিক্রয় করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষার পর টিকিট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কনক। টিকিট পেয়ে যেন চাঁদকেই হাতে পেয়েছেন তিনি। কনক জানালো, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে তিনি এবার ঈদে পঞ্চগড়ে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। চারটি টিকিট কিনেছেন কনক। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে তিনি কমলাপুরে এসে লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় টিকিট হাতে পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন তিনি। এদিকে, কমলাপুরে সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তৎপর রয়েছে পুলিশ, আনসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যিক হওয়ায় এবার কিছুটা হলেও টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য কমেছে। রেলওয়ের তথ্য মতে, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে। আজ দেওয়া হবে ৩১ মে'র টিকিট। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারছেন। কমলাপুর ছাড়াও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেন, তেজগাঁও স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সব আন্তঃনগর ট্রেন, বনানী স্টেশন থেকে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি একই সময়ে শুরু হয়েছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে দেওয়া হবে ১ জুনের টিকিট, ২৪ মে দেওয়া হবে ২ জুনের টিকিট, ২৫ মে দেওয়া হবে ৩ জুনের টিকিট এবং ২৬ মে দেওয়া হবে ৪ জুনের টিকিট। ফেরত যাত্রীদের জন্য ২৯ মে দেওয়া হবে ৭ জুনের টিকিট, একইভাবে ৩০ ও ৩১ মে এবং ১ ও ২ জুন দেওয়া হবে যথাক্রমে ৮, ৯, ১০ ও ১১ জুনের টিকিট।
দুই লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে। একইসাথে স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রায় ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার এডিপিও অনুমোদন দেয়া মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ অন্যান্য গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী অর্থবছরে জন্য খাত ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিহন খাতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা,যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা,পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা,যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। অন্যান্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে-শিক্ষার প্রসার ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩ ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য,পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জনে কৃষিখাতে খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম দশ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা,রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬টি, জেডিসিএফ প্রকল্প ১টি এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে ৮৯ টি। অন্যদিকে সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২টি।বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২টি এবং বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এছাড়া বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৪১টি। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের নামে অহেতুক ও অতিরিক্ত জমি নেওয়া যাবে না।ফসলী জমিতে হাত দেয়া যাবেনা। যেসব প্রকল্প সমাপ্ত হচ্ছেনা, সেগুলো কেন হচ্ছেনা প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।প্রয়োজনে সহায়তা দিয়ে হলেও শেষ করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জানান, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন (জুলাই-থেকে) ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৭ হাজার ৩০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ,ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।
সংবাদ প্রকাশের বিষয় স্পষ্ট করলেন সুপ্রিম কোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং বিচারকাজকে প্রভাবিত করে- এমন সংবাদ পরিবেশন ও প্রচার প্রত্যাশিত নয় বলে নতুন এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। বিচারাধীন মামলার সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. জাকির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সবসময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এবং বিচারকাজ প্রভাবিত হয়- এমন সংবাদ পরিবেশন ও প্রচার প্রত্যাশিত নয়। এ অবস্থায় গত ১৬ মে জারি করা ২৪৭/২০১৯ নম্বর বিজ্ঞপ্তিটি স্পষ্ট করা হলো এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হলো। বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ নয়- সুপ্রিম কোর্টের এমন নির্দেশনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ব্যাখা দিয়েছেন। গত রোববার (১৯ মে) তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় পরিষ্কার বলতে চাই, সাব-জুডিস (বিচারাধীন মামলা) কথাটার একটা অর্থ আছে। সাব-জুডিস হচ্ছে- এমন মামলা, যেটা বিচারাধীন আছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না। মামলা যেটা বিচারাধীন আছে, কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না- এমন মামলার ব্যাপারে মতামত দেয়ার বিষয়টিই বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তারা বলেছেন, এই ব্যাপারে মতামত না দিতে। তিনি আরও বলেন, একটা মামলা চলছে, সেটার ব্যাপারে রিপোর্টিং বন্ধ করতে- আমরা মনে হয় না, সুপ্রিম কোর্ট এ কথা বলেছে। আপনারা মামলার রিপোর্টিং করতে পারেন, তবে যে মামলাটা বিচারধীন আছে সেই মামলা নিয়ে আপনারা মতামত দেন তাহলে যেটা হবে সেটা হচ্ছে- মিডিয়াতেই একটা ট্রায়াল হয়ে যাবে। বিজ্ঞ বিচারক বা বিচারপতির এই ব্যাপারে একটু চাপ সৃষ্টি হয়, সে জন্য তারা এই কথাটা বলেছেন।
কুড়িয়ে পাওয়া সেই রাজকুমারীর মূল্য ২০ লাখ টাকা
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘ ৫০ দিন আইনি লড়াই শেষে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। জামালপুরের পারিবারিক সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা আক্তার রাজকুমারীর (শিশু) নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংক রশিদ জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। আর এই শর্ত মেনে নেওয়ায় বকশীগঞ্জের সুমন দম্পতিকে ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী অভিভাবক মনোনীত করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার এই রায় দেন আদালত। জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ বকশীগঞ্জ পৌর শহরের শ্মশান ঘাটে কে বা কারা দুইদিন বয়সী এক কন্যা শিশুকে রেখে পালিয়ে যায়। কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশী আছর আলীর স্ত্রী সন্ধ্যি বেগম শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা করেন। খবর পেয়ে কশীগঞ্জ থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকটির নাম রাখা হয় রাজকুমারী। এই নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পরই ভ্যানচালক থেকে হাই সোসাইটির একাধিক ব্যক্তি রাজকুমারীর সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। সর্বশেষ রাজকুমারীকে পেতে জামালপুরের পারিবারিক আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপা। অপর মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কামারপট্টি মোড়ের ভ্যানচালক সুমন মিয়া। উভয় বাদী রাজকুমারীর অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলায় ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়। আর ভ্যানচালক সুমন মিয়ার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুমান, বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা। দীর্ঘ ৫০ দিন আইন লড়াইয়ের পর ২০ মে জামালপুরের পারিবারিক আদালতের বিজ্ঞ সহকারী জজ ফারহানা আক্তার রাজকুমারী মামলার রায় দেন। রায়ে সিটি ব্যাংকে রাজকুমারীর নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটসহ তিনটি বিশেষ শর্তে সুমন দম্পতিকে অভিভাবক মনোনীত করা হয়। টাকা জমা দেওয়াসহ ব্যাংকের যাবতীয় কাজ শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৪৫ দিন। মামলায় ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জামালপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী। সুমন দম্পতির পক্ষে ছিলেন সাবেক পিপি মাহফুজুর রহমান মন্টু ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান। বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেন, ২০ লাখ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করার শর্তে আদালত সুমন দম্পতির পক্ষে রায় দেন।-আলোকিত বাংলাদেশ
দুধে ভেজাল: অভিযুক্তদের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে পাস্তুরিত (তরল) দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ২৩ মে দুধে ভেজালকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ল্যাবের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর আদালতে দেওয়া বক্তব্য লিখিতভাবে এক মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান ( মামুন)। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। এর আগে ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) করা গবেষণার পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে ল্যাবটির প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসী মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন। তার ব্যাখ্যা শোনা শেষে সারা দেশের বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্য ও পশুর খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে তালিকা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করেতে পুনরায় নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রসঙ্গত, গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে এবার মিলেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। ১০ ফেব্রুয়ারি এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সরকারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়,গরুর খোলা দুধে অণুজীবের সহনীয় মাত্রা সর্বোচ্চ ৪ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৭.৬৬ পর্যন্ত।এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। যার ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের নির্দেশের পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবিরকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এরপর ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
জুলাই থেকে ১০ বছর মেয়াদী ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী জুলাই থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) বদলে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ১০ বছর মেয়াদী ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। মঙ্গলবার (২১ মে) এই উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর হবে বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের ফি হবে দ্বিগুণ। পাশাপাশি ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টও প্রদান কর হবে। বর্তমানে সাধারণ পাসপোর্টের ফি ৩৪৫০ টাকা ও জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৬৯০০ টাকা রয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিজরুরি সেবা যোগ করার প্রস্তাব করেছে। যদিও ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ এর জন্যও গুণতে হবে আলাদা ফি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে এমআরপি ইস্যু করা হচ্ছে। তবে জুলাইয়ে চালু হতে যাওয়া ই-পাসপোর্ট আরও বেশি আধুনিক। এতে একটি চিপের মধ্যে একজন নাগরিকের পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকবে। কম্পিউটারে পাঞ্চ করেই পড়া যাবে এর তথ্য। এটি একজন নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণের অত্যাধুনিক পদ্ধতি। তবে চিপের পাশাপাশি এতে কাগজের অংশও থাকবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাধারণ নাগরিকরা জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের সুবিধা পাবেন। নাগরিকদের হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। যা শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে। তিনি জানান, এটা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টের ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে একজন পাসপোর্টধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমআরপি ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির দশ আঙুলের ছাপ ডেটাবেসে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভব করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ই-পাসপোর্ট চালুর।
রাজধানীর কোনো গণপরিবহনে টিকিট ছাড়া যাতায়াত করা যাবে না: সাঈদ খোকন
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কোনো গণপরিবহনে টিকিট ছাড়া যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে টিকিট ব্যবস্থা চালু করার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে বিদ্যমান গণপরিবহনসমূহ টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রী চলাচল করতে পারবে না। আসন্ন ঈদের পর থেকে এটা কার্যকর হবে। সোমবার (২০ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সভাকক্ষে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেসন সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা জানান তিনি। মেয়র বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ঢাকার শহরের কোথাও টিকিট ছাড়া গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল করতে পারবেন না। এতে করে বিদ্যমান যে বাস সংকট এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ সেটির পরিত্রাণ হবে। তাই ডিটিসি, বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিএসসিসি এবং ডিএনসিসি এবং পরিবহন মালিকদের সমন্বয়ে বাসের টিকিট এবং কাউন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ঈদের পর পরই যাতে এটি কার্যকর করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেয়র আরও বলেন, বেঠকে আমরা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ২৭ মে থেকে রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হবে। ইতোমধ্যে এই সেবা চালু হয়েছে ধানমন্ডি এলাকায়। তাই উত্তরায় চালু হবার পর মতিঝিল ও সদরঘাট এলাকায়ও চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে সভায় ডিএমপি প্রতিনিধি, বিআরটিসি,রাজউক, বিআরটিএ কর্মকর্তাসহ মহানগরীর বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
সব ধর্মই শান্তির কথা বলে : প্রধানমন্ত্রী
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়, সব ধর্মই শান্তির কথা বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশে বসবাসকারী সবাই সম্মানের সাথে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এটাই তার সরকারের চাওয়া। বৌদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সোমবার গণভবনে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। এটাই বিশ্বাস করি যে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এবং এভাবেই বাংলাদেশে উৎসবগুলো পালন করা হয়। যে ধর্মের উৎসবই হোক, সবাই মিলেই কিন্তু সেটা উদযাপন করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,সহনশীলতা ও এই ভাতৃত্ববোধ সবার মাঝে থাকুক। যেকোনো সম্প্রদায় যেন নিজেদের অবহেলিত মনে না করে। এ সময় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন,সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এগুলো এখন সারা বিশ্বে সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আসলে জঙ্গি জঙ্গিই, তাদের কোনো ধর্ম নাই, দেশ নাই, সমাজ নাই। তারা জঙ্গিই এটাই হলো বাস্তবতা। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রেখে আমরা অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে চাই। উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন,দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষেরই জীবনমান উন্নত হোক সেটাই আমরা চাই। দেশকে পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রূপপুরের বালিশসহ আসবাব ক্রয়ের তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশসহ আসবাবপত্র কেলেঙ্কারির বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২০ মে) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সরওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। এর আগে রবিবার (১৯ মে) জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। উল্লেখ্য, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশসহ আসবাবপত্র ক্রয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা! এছাড়াও প্রকল্পের ১১০ ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে উঠানোর ব্যয় করা হয়েছে। শুধু একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা। একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা। খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। বালিশ ও আসবাবপত্রের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা ঝড় বইছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর