রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
শেষ মুহূর্তে ঘরমুখী মানুষের ঢল
আজ শুক্রবার (১৫ জুন) চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর ঈদের আগের দিন ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। প্রতিটি প্লাটফর্মেই নির্দিষ্ট ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজার হাজার মানুষ। যেসব ট্রেন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে সেসব ট্রেনের ছাদেও রয়েছে হাজারো মানুষ। যেনো ঈদের আগে যুদ্ধ করে বাড়ি ফেরা। শুক্রবার সকাল থেকেই বাড়তে থাকে জনতার ঢল। কেউ কেউ আগেই স্টেশনে এসে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। কেউবা বসে বসেই ঝিমাচ্ছেন। শরিফুল নামে এক ট্রেন যাত্রী বলেন, আমাদের ট্রেন অাসবে আরও পরে। সিট পেতে বেগ পাওয়ার ভয়ে আগেই স্টেশনে এসেছি। যেহেতু ট্রেন ছাড়তে এখনও দেরি আছে তাই একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছি। সাব্বির নামে আরেক যাত্রী বলেন, গতকাল আমাদের কার্যালয় ছুটি হলেও কিছু কেনাকাটা করার কারণে আজ বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বাড়ি যাবো এই ভেবে খুব ভালো লাগছে, তবে ট্রেন ঠিকঠাক ছাড়লে হয়। রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন রুটে ৬৯টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩২টি আন্তঃনগর, ৫টি স্পেশাল বাকিগুলো মেইল ট্রেন। তিনি আরও জানান, আজ যেহেতু যাত্রীদের চাপ বেশি তাই আজ আমাদেরও নানা উদ্যোগ আছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য রেল পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। আমরা চাই সবাই নিরাপদে ঘরে ফিরুক।
রাজধানীর ঈদ জামাত
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন শনিবার সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়ার মুহতামিম শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। দেশের রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপিসহ বিশিষ্টজনেরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। প্রথম জামাতে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী ইমামতি করবেন, দ্বিতীয় জামাতে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ ইমামতি করবেন। ঢাকার মসজিদগুলোতে ঈদ জামায়াতের সময়সূচি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ৪০৯টি স্থানে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতসহ ঈদুল ফিতরের ২শ ২৯টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ১শ ৮০টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মসজিদে স্থানীয়দের সুবিধা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এসব ঈদ জামাতের সময়সূচি দেওয়া হলো— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টা ও পরেরটি ৯টায়। এছাড়া সকাল ৮টায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেট সংলগ্ন মাঠ ও শহীদুল্লাহ হল লনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদে পৌনে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদে সকাল পৌনে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী হাই স্কুল জামে মসজিদে ঈদের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জামাত হবে ৭টায়, দ্বিতীয় ৮টা ৪৫ মিনিটে, তৃতীয়টি ৮টা ১৫ মিনিটে। কামরাঙ্গীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধানমন্ডি ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধানমন্ডি কলাবাগান বশিরউদ্দিন সড়ক জামে মসজিদে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়। দেওয়ানবাগ শরীফে ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৯টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। মিরপুর ফুরফুরা দরবারের মারকাজে ইশাআতে ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্সে জামাত ৮টা ৩০ মিনিটে। চিশতীয়া সাইদিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদে জামাত সকাল ৮টায়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মী বাজার ঐতিহ্যবাহী মিয়া সাহেবের ময়দান খানকা শরীফ জামে মসজিদে জামাত সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। সোনারগাঁও রোড হাতিরপুলের ৩টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। বসুন্ধরা সিটির দক্ষিণ পার্শ্বে এবং সোনারগাঁও হোটেলের পশ্চিম পার্শ্বে সামারাই কনভেনশন সেন্টারে (পান্থপথ)। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৯টায়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মী বাজার নূরানী জামে মসজিদে জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়। আম্বর শাহ শাহী মসজিদে ২টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত ৯টায়। মোহাম্মদপুর জয়েন্ট কোয়ার্টার মসজিদ এ তৈয়্যেবিয়ায় দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত ৮টায়, দ্বিতীয় জামাত ৯টায়। পল্লীমা সংসদ ময়দানে জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে। নারী ও পুরুষদের পৃথক ব্যবস্থায়। পশ্চিম আগারগাঁও দরুল ঈমান জামে মসজিদে জামাত সকাল ৮টায়। এলিফেন্ট রোডের এরোপ্লেন মসজিদে জামাত সকাল ৮টায়। মালিবাগ আবুজর গিফারী কলেজ মাঠে জামাত সকাল ৮টায়, মহিলাদের পৃথক ব্যবস্থা আছে। যাত্রাবাড়ী, ধলপুর নারিকেল বাগান বড় জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত ৮টায়। মিরপুর ১২ নম্বরে হারুণ মোল্লা ঈদগাহ পার্ক ও খেলার মাঠে জামাত সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে। রশিদ বেপারী বাজার জামে মসজিদে জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট জামে মসজিদে জামাত ৮টায়। মিরপুর, মীরবাড়ি (মাদবর বাড়ী) আদি জামে মসজিদে জামাত ৭টা ৩০ মিনিটে। সোবহানবাগ জামে মসজিদে জামাত ৮টা ৩০ মিনিটে। মগবাজার বিটিসিএল (টিএনটি) জামে মসজিদে জামাত ৮টায়। ডেমরা, উত্তর কুতুবখালী জামে মসজিদে প্রথম জামাত ৭টা ৩০ মিনিটে, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।
ঈদকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
ঈদে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রায় জনশূন্য হয়েপড়া রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই র্যাব আর পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। চেকপোস্টের পাশাপাশি সিভিল টিম মাঠে থাকবে। আর ঈদকে সামনে রেখে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের সময় রাজধানীর কয়েক লাখ বাড়ি খালি হবে। বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকবে। ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে মানুষের মধ্যে আরো সচেতনতা বেড়েছে উল্লে­খ করে র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, র্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বিশেষ দিবস নয় বরং ৩৬৫ দিনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চিন্তা করি, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ঈদ যাত্রায় রেলের প্লাটফর্ম কেন্দ্রিক সমস্যাগুলো গত ৫-৬ বছরে কমে এসেছে। এখন চোরাকারবারী, পকেটমার, অজ্ঞানপার্টির দৌরাত্ম্য নেই। অগ্রিম টিকিট বিক্রি নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নগরীর বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাটে র্যাবের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নগরীজুড়ে পেট্রোল টিম, মোটরসাইকেল পেট্রোল, সাদা পোশাকে পেট্রোল টিম বাড়ানো হয়েছে। সবাই ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি, শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সব মিলে সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এ নেটওয়ার্কের অধীনে থানা পুলিশ দেখবে অপরাধ অর্থাত্ টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি হচ্ছে কিনা। থানার বাইরে যারা আছেন তাদের দায়িত্ব থাকবে হাইওয়ে তদারকি করা। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাস স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি। ঢাকা থেকে বাইরে বেরোনোর এক্সিট রুট আছে ১৩টি। এর মধ্যে গাবতলী সায়েদাবাদ ও আব্দুল­াহপুরে আমরা বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি। ঈদে মানুষের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করার বিষয়টিও পুলিশের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। ব্যাংকপাড়া ও বিপণি বিতানগুলোতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নারী ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নারী পুলিশও রয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন, শহর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। বেড়ে যায় চুরি-ডাকাতির প্রবণতা। তাই এ সময় টহল ও গোয়েন্দা পুলিশ থাকবে। এসময় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন বিমান বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর মতো বিশ্বমানের যোগ্যতা অর্জনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে (বিএএফ) সক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নতুন বিমান বাহিনী প্রধানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নতুন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বাসসকে জানান, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যগণ সর্বোচ্চ দক্ষতার সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিমান বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার সাথে দেশে বিদেশে দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। রাষ্ট্রপতি আগামী দিনগুলোতে নতুন বিমান বাহিনীর নেতৃত্বে বিএএফ এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। নতুন বিমান বাহিনী প্রধান তাঁর দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বাসস
শতভাগ শ্রমিক বেতন-ভাতা পেয়েছে : বিজিএমইএ
শতভাগ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মে মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস (উৎসব ভাতা) পেয়েছেন বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাদের বক্তব্য বেতন-ভাতা পরিশোধের পাশাপাশি ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকী ১০ শতাংশ কারখানা আজকের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করবে। ঈদ সামনে রেখে বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ তথ্য এবং শ্রম পরিস্থিতির বিষয়ে জানাতে বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে শতভাগ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের গত মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়া হয়েছে।এর মধ্যে ৯০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেয়া হয়েছে। আজকের মধ্যে বাকি কারখানাগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হবে।শ্রমিকরা অনেকেই বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদের আগে বেতন ভাতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এমন কিছু কারখানার তালিকা বিজিএমইএ বিভিন্ন উৎস থেকে পেয়েছিল।এজন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত এবং বিজিএমইএ এর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের তথ্য মোতাবেক মোট ১২০০ কারখানাকে নজরদারির মধ্যে আনা হয়। সিদ্দিকুর রহমান জানান,বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এসব কারখানা পরিদর্শন করা হয়।সংগঠনের সরাসরি হস্তক্ষেপে সমস্যাপূর্ণ ৩৫ টি কারখানার শ্রমিকদের বেতনভাতাদি নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের হাতে বেতন ভাতা পরিশোধ বিষয়ে সমাধান করা হয়নি, এ রকম একটি কারখানাও নেই।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, কিছু কারখানায় বেতন-ভাতা ও ছুটি দেয়ার পরও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এজন্য মে মাসের পুরো বেতন দেয়ার পরও কোন কোন কারখানায় জুনের ১০ দিনের বেতনও দেয়া হয়েছে, যাতে কোন অস্থিরতা তৈরি না হয়।বাসস
৬টি প্রকল্পে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান
জাপান সরকার তাদের ৩৯তম সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতার (ওডিএ) ঋণ প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন ৬টি বড় প্রকল্পে প্রায় ১৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা অর্থ সহযোগিতা প্রদান করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজম ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি বাস্তবায়নাধীন ৬টি প্রকল্পে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি’র সচিব ও ঢাকায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান নির্বাহী তাকাতোশি নিশিকাতা এই ঋণতে চুক্তি সই করেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ২০৩ কোটি টাকা, যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ২ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে (লাইন ৫) ৫৬২ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (৩য় পর্যায়) ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (৪র্থ পর্যায়) ৫ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্পে ৫০১ কোটি টাকা অর্থ সহযোগিতা রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপান নির্মাণ কাজে বছরে শতকরা ১ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে বছরে শতকরা ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্রকৌশল সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে বছরে শতকরা ০ দশমিক ০১ শতাংশ হারে সুদ নিবে। ঋণ প্রাপ্তির প্রাথমিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে শতকরা ০ দশমিক ২ শতাংশ। এতে ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ড ধরে ঋণ পরিশোধের সময়কাল ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে একটি নতুন বাণিজ্য বন্দর স্থাপন করা। মোট ৩ হাজার ৫১১ মিলিয়ন ইয়েন ব্যয়ের এই প্রকল্পটিতে জাইকা ২ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ইয়েন অর্থ মূল্যের প্রকৌশল সহযোগিতা প্রদান করবে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।বাসস
পরাজিত বিএনপি মিথ্যাচারের রাজনীতিতে : তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আগুন যুদ্ধে পরাজিত বিএনপি মিথ্যাচারের রাজনীতি করছে। আজ বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে সাংবাদিক সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘গত সাড়ে নয় বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিএনপি’র লাগাতার নাশকতা, অন্তর্ঘাত ও আগুন সন্ত্রাসের মধ্যেই বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধন করে তাদের পরাজিত করেছেন।’ ‘পরাজিত বিএনপি এখনো জনগণের কাছে ক্ষমা না চেয়ে, আত্মসমর্পণ না করে মিথ্যাচারের রাজনীতি বেছে নিয়েছে, যা গণতন্ত্রের সাথে যায় না’ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সহায়তা শুধু অনুদানের চেকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান, সন্তানদের শিক্ষা, ঋণ প্রভৃতি খাতেও বিস্তৃৃত হবে বলে তিনি জানান। এই ট্রাস্টকে ‘সাংবাদিকদের জন্য শেখ হাসিনার তৈরি একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা’ বলে তিনি বর্ণনা করেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্যসচিব আবদুল মালেক বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথম সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী যে নজির স্থাপন করেছেন, তা গণমাধ্যমের প্রতি তার মমতা ও আন্তরিকতার পরিচয়ই বহন করে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মন্ত্রী এবং সচিব এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানান। পিআইবি মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ৫১ জন সাংবাদিকের হাতে চেক তুলে দেয়া হয়।বাসস
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, এখানে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মেয়র বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শনিবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কম-বেশি এক লাখ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে পাঁচ হাজার নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ঈদগাহে মাঠে পর্যাপ্ত অযুর ব্যবস্থা থাকবে। পানযোগ্য পানিসহ থাকবে পর্যাপ্ত টয়লেট। ঈদগাহে মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবাদানে মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জেনারেটরও প্রস্তুত থাকবে। ঈদগাহে সার্বিক নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা থাকবে। এজন্য র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে। তিনি আরো বলেন, যদি আবহাওয়াজনিত কারণে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি হয় তাহলে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঈদ জামাত চলাকালীন আবহাওয়াজনিত কারণে বজ্রপাত ঠেকাতে ঈদগাহে বজ্র প্রতিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে।