প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসির ফল হস্তান্তর
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সব বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। আজ দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা নিজ স্কুল, মোবাইল এসএমএস ও ওয়েবসাইটের (www.educationboardresults.gov.bd) মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। এবার সারাদেশে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল জানা যাবে যেভাবে : আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইসএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। মাদরাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
অনলাইন ডেস্ক :আজ বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বাংলাদেশে নানা অনুষ্ঠানে তার ভক্ত-শুভার্থীরা কামনা করেছিলেন তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন প্রিয় বাংলাদেশে। মানুষের সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি। তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। সেই শোক আজো কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের হৃদয় থেকে। হুমায়ূন নেই কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে। তাকে নিয়ে বইমেলায় আসছে বই। পাঠক পরম মমতায় সংগ্রহ করছেন সেইসব বই। হুমায়ূন আহমেদ যে হারিয়ে যাননি তা বইমেলায় গেলে বোঝা যায়। মানুষের মন থেকে তাঁকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আর সব জায়গা থেকে হয়তো তিনি হারিয়ে যাবেন। কিন্তু পাঠকের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন। তিনি নেই এটা বাস্তবতা কিন্তু তার বইয়ের ভেতর দিয়ে তিনি সবসময় বেঁচে থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে নুহাশপল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে স্যারের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও হুমায়ূন আহমেদের সন্তান নুহাশ, নিষাদ, নিনিত নুহাশ পল্লীতে আসবেন। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। নুহাশপল্লীতে কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। নুহাশপল্লীর আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ুন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লেখকসহ প্রায় ৬শ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে। নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা নুহাশপল্লীতে কোরআন তেলাওয়াত করবে। পরে তারা কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেবে। ইতিমধ্যে প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী নুহাশপল্লীতে আসছেন। বিশেষ করে হুমায়ূন ভক্ত তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীরা নুহাশপল্লীতে ভিড় করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকও আসছেন নূহাশ পল্লীতে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। বলা হয়, তার লেখা পছন্দ করেন না এমন মানুষও তার নতুন লেখাটি ‘গোপনে’ পড়ে ফেলেন। দেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়, যারা তার অন্তত একটি নাটক দেখেননি কিংবা তার কোনো বই পড়েননি। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি একক ও অনন্য। তিনিই তরুণ-তরুণীদের করেছেন বইমুখী। প্রত্যেক বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে হামলে পড়ে তার ভক্ত-অনুরাগীরা। হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। সে অবস্থাতেই ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্ক থেকে ২০১২ সালের ২৩ জুন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। এরপরের দিন তাকে সমাহিত করা হয় তার গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়। সেখানেই অসীম ঘুমে শায়িত হয়ে আছেন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোটভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন। চলচ্চিত্রটি এ বছর অস্কার পুরস্কারে বিদেশি চলচ্চিত্র বিভাগে প্রাথমিক মনোনয়নও পেয়েছে। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। তার হাসির নাটক ‘বহুব্রীহি’ এবং ঐতিহাসিক নাটক ‘অয়োময়’ বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। নাগরিক ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে।
কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি: সামিনা লুৎফা
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেছেন, কোনো ধরনের ইন্ধন নয়, বরং কোটা ব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যখন ছাত্রলীগের আক্রমণের শিকার হলো তখন তাদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে সামিনা লুৎফা বলেন, কোটা ব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছামতোই করেছেন। কিন্তু যখন তারা ছাত্রলীগের আক্রমণের শিকার হলো, তখন শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। কোটা ব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা হয়েছে, তখন আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আমরাও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। আমাদেরকে বিভিন্ন ব্লেম দেওয়া হয়েছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরাই শুধু নয়, আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ফাহমিদুল হক বলেন, শহীদ মিনারে সমাবেশের পরে হামলার বিষয়ে আমরা যখন প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তখন আমাদেরকে বলা হলো আমরা কেন সমাবেশ করার আগে অনুমতি নিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩’র অধ্যাদেশের কোথাও ক্যাম্পাসে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নিতে হবে? এমনটা বলা আছে বলে মনে হয় না। তানজীম উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাধীন। তাই তারা ইচ্ছে মতো ক্লাস করবে, যার ইচ্ছা হবে না, সে করবে না। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। তাদের ক্লাস বর্জনে আমরা কোনো সমর্থন বা ইন্ধন দিচ্ছি না। সংবাদ সম্মেলনে ড. সামিনা লুৎফা নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এগুলো- আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষকদের সংহতি সমাবেশ, ২৩ জুলাই কলাভবনের সামনের বটতলায় নিপীড়নবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কাছে শিক্ষক লাঞ্ছনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবিলম্বে পত্র প্রেরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতা রক্ষা, অ্যাকাডেমিক মান সমুন্নত রাখা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের উদ্যোগে শিগগিরই স্মারকলিপি পেশ করা। আলোকিত বাংলাদেশ
বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না বলে দাবি করছে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সাথে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? -সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তৈরি করা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা কমন পড়ছে তাদের ধরা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। সে জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একরামের পরিবারের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আর র‌্যাব সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে বিদেশ চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারো কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছে খবর আসে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আইনমন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। সেখানে আমি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য। কে কোথায় সেসব দেশের আইন ও দেশীয় আইন মিলে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ যায় না। ভুলে যান কেন? কারা কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবনে হামলা করেছে। ভাঙচুর হয়েছে। ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরা হচ্ছে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, যে অন্যায় করবে তার বিচার হতেই হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেজন্য সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এ কথা বলতে পারি, তদন্তের রুট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যদি বিচারিক ব্যবস্থারও প্রয়োজন হয় খুব শিগগিরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে জোর গলায় বলতে পারি, কোউকে ছাড় দিচ্ছি না। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হয়েছে। এমন কোনো নতুন রোগে আক্রান্ত হননি যে জন্য তিনি গুরুতর অবস্থায় আছেন। জেলকোড অনুযায়ী যদি আরও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে তা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চাইলে সে ব্যবস্থা করা কঠিন। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আগের অসুস্থতার চিকিৎসা চলছে। তিনি নতুন কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন না। সুতরাং তিনি গুরুতর অসুস্থ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সে অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি আর সেখানে যাবেন না। পরে আমরা সিএমএইচে নেয়ার কথা বলেছি, তিনি সেখানেও যাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রীও অসুস্থবোধ করলে সিএমএইচে যান, সেখানেও (সিএমএইচ) যদি তিনি না যান, তবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নেয়াটা কঠিন। সরকারিভাবে তার জন্য যা যা করার আমরা তা গ্রহণ করেছি। তার যেসব ডাক্তারা সেবা দিয়ে থাকেন তারা সার্বক্ষণিক দেখছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার দেখবেন।’ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামনে নির্বাচন, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসব, নয়তো আসব না। এটা জনগণের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দেন। মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফান্সের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন সুবিধাভোগীদের ভাতাসমূহ ইলেক্ট্রনিক উপায়ে বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি ভাতা দেওয়ার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। যাতে হতদরিদ্রদের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি ভাতার টাকা এখন আর কেউ মেরে খেতে পারবে না। এই ভাতার টাকা এখন আর কেউ মেরে খেতে পারবে না। মাঝখান থেকে কেউ আর টাকা নিতে পারবে না, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় সে জন্য আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। পুরো সংসারের দায়িত্ব আমরা নেব না। মানুষ যাতে পুরোপুরি ভাতার ওপর নিভর্রশীল না হয়, কর্মবিমুখ না হয়। সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে কর্মবিমুখ না হতে হতদরিদ্রদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির লক্ষ্য ছিল, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করা। মানুষের জন্যই কাজ করি আমরা। মানুষের জন্যই তো রাজনীতি আমাদের, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের আমলে দুঃস্থ মানুষ সেবার বদলে বারবার নিগৃহিত হয়েছে। তখন সামাজিক ভাতা ১০০ টাকা দিলে মাঝখান থেকে ৫/১০ টাকা নিয়ে নিতো। এখানেও দুর্নীতি ছিলো। এমন ব্যবস্থা চালু করে যাচ্ছি যাতে মানুষকে আর ভোগান্তি পোহাতে না হয়। নরসিংদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোপালগঞ্জের প্রান্তিক এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালে ১৩ শতাংশ হতদরিদ্র মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকলেও, ২০১৮ সালে তা বেড়ে ২৮ শতাংশ প্রান্তিক মানুষ এখন সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বয়স্ক-বিধবা-স্বামী নিগৃহিতা এবং প্রতিবন্ধীসহ অসহায় মানুষকে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার সহায়তা। বর্তমানে ৬৬ লাখ ১৬ হাজার প্রান্তিক মানুষ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সেবা পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ভাতাভোগী মানুষের মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে এসএমএস এর মাধ্যমে টাকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। মধুমতি, এনআরবি, ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে এই টাকা তোলা যাবে। সমাজের অবহেলিত-পশ্চাৎপদ মানুষের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা।
আবারও পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন
অনলাইন ডেস্ক: মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে দিল আদালত। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল হক ফের তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৬ বছরে ৫৯ বার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি র‌্যাব। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পত্তি। ঘটনার ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়। ওইদিনই আরও দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা ছাড়া গত ৬ বছরে মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নাই। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় কয়েক আসামি ইতোমধ্যেই জামিনে পেয়েছেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর সাগর-রুনির মরদেহ কবরস্থান থেকে তোলার আবেদন করে র‌্যাব। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির মরদেহ তোলা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৭ জুন থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জব্দকৃত আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়ের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। মূলত এরপরই মামলার তদন্তে স্থবিরতা নেমে আসে।
মৌলভীবাজারের ৪ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৌলভীবাজারের রাজনগরের মো. আকমল আলী তালুকদারসহ (৭৬) চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগই সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরটিতে সবাইকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। গত ১৬ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করেছিলেন আদালত। ২৭ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামান রাখেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আব্দুর নুর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া (৬২), মো. আনিছ মিয়া (৭৬) ও মো. আব্দুল মোছাব্বির মিয়া। আকমল ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন- সৈয়দ হায়দার আলী, শেখ মুশফিক কবীর ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আসামি আকমল আলীর পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান ছিলেন। ২০১৬ সালের ৩০ মে এই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২৩ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে আনুমানিক ১০২টি পরিবারের ১৩২টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ছয়জনকে ধর্ষণ, সাতজনকে অপহরণ ও ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
২৭ জুলাইয়ের পর তিন সিটিতে বহিরাগতদের অবস্থান নয়
অনলাইন ডেস্ক: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বহিরাগতদের ভোটার এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে হবে। আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো এলাকার বাসিন্দা করপোরেশনের সীমানার ভেতরে অবস্থান নিতে পারবেন না। বহিরাগতদের ভোট এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা ইতিমধ্যে প্রচার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে বেশকিছু বিষয় নিশ্চিত করার জন্যও বলেছে সংস্থাটি। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বগিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও যারা কর্মজীবী তাদের এলাকায় অবস্থান করতে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে বাইরে চলাফেরার জন্য প্রয়োজন হলে তাদের কাজের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা শিথিলযোগ্য হবে। ইসির নির্দেশনাটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বহিরাগতরা ১ আগস্ট থেকে আবার নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচন আইন অনুযায়ী সকল নির্বাচনেই বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিশন শুধু সময় বেঁধে দেয়। ভোটের দিন ৩০ জুলাই (সোমবার) সাধারণ ছুটি থাকবে। আর ২৭ জুলাই শুক্রবার। এক্ষেত্রে ২৮ ও ২৯ জুলাই (শনিবার ও রোববার) অনেককেই ‍অফিস করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কর্মজীবীদের এলাকায় থাকতে অসুবিধা নেই। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও নির্বাচনী এলাকায় থাকতে অসুবিধা নেই। বহিরাগতদের অবস্থানের নির্দেশনা এজন্যই দেওয়া হয়, যেন অন্য এলাকার লোক এসে কোনো অনিয়মে জড়িয়ে যেতে না পারে। তার অর্থ এই নয় যে, মানুষ তার প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে না। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ এলে এবং তা নিয়ে অসন্তুষ্টি হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাতে যাওয়া-আসা করতে পারেন, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমগুলোকে সার্বক্ষণিক টহলে রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো যাতে যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম না হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সদা সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে মোটরযান বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রচারের জন্যও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মটরসাইকেল চলাচল ২৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। অন্যান্য মটরযান বন্ধ থাকবে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। ইসি কর্তৃক নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত মেজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে অবশ্যই প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টকে খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে সিল করার পর ভোটগ্রহণ শুরু করতে হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিতরা মানসিক অসুস্থতা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সনদ দিলে তাদের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিধান রেখে মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (১৬ জুলাই) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ১৯১২ সালের একটি আইনকে হালনাগাদ করে নতুনভাবে বাংলায় রূপান্তর করে এ আইন করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সংক্রান্ত নাগরিকদের মর্যাদা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, সম্পত্তির অধিকার ও নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে আইনটি করা হচ্ছে। জিয়াউল বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সব কার্যক্রম পরিচালনা, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত সংক্ষুব্ধতায় প্রতিকারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার বিষয়েও খসড়া আইনে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি মানসিক অসুসস্থতা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সনদ দিলে তিন লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে অবহেলা বা আদালতের কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন না করলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি এ আইনের কোনো বিধান না মানলে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও জানান তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি অধিদপ্তর গঠনের বিধান রেখে গত ৩ জানুয়ারি মানসিক স্বাস্থ্য আইন এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

জাতীয় পাতার আরো খবর