দুর্নীতিবাজদের কেউ ছাড় পাবে না : খাদ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের কেউ ছাড় পাবে না। সোমবার বিকেলে সাভারের আমিনবাজারে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অর্থ আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজদের আগামী নির্বাচনে বয়কট করারও আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী। কামরুল হাসান বলেন, 'যারা এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করে, দুর্নীতি করে, তাদেরকে কোন অবস্থাতেই সরকারে আসতে দেয়া হবে না। তাদেরকে নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দেন তারা ঠিক আসবেন নির্বাচনে। তারা তাদের নেত্রীর মুক্তি চায়, দায়মুক্তি চায়। কিন্তু দায়মুক্তি আওয়ামীলীগ দেয় না। আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ইনডেমনিটি দেয়নি। আজকে হলমার্ক দুর্নীতি, ডেসটিনি কেলেঙ্কারির বিচার হচ্ছে, দশট্রাক মামলার বিচার হচ্ছে। আজকে বিশ্বের সেরা সৎ পাঁচ নেত্রীর মধ্যে আমাদের নেত্রী তিন নম্বরে আছেন।'
২০১৮ সালের হজ ও ওমরাহ প্যাকেজ অনুমোদন
মন্ত্রিসভায় ২০১৮ সালের হজ ও ওমরাহ প্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে। এ বছর মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এ কথা বলেন। এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন হজব্রত পালন করতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম প্যাকেজে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা ব্যয় হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়ি ভাড়া ছাড়া ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৭ টাকা। এবার সব হজযাত্রীকে মেসিন রিডএ্যাবল পাসপোর্ট বহন করতে হবে। একটি হজ এজেন্সি কমপক্ষে ১৫০ জন ও সর্বোচ্চ তিনশ জন হজযাত্রী প্রেরণ করতে পারবে। একটি বিমানে ৩টি হজ্ব এজেন্সির হজযাত্রী ও ৩ জন মোয়াল্লেম নেয়া যাবে। বেসরকারি হজযাত্রীদের কোরবানীর টাকা কুপনের মাধ্যমে সৌদি আরবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে। মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, হজব্রত পালনে অনলাইনে প্রথমে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে, যা সেন্ট্রাল এনআইডি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে এবং এরপর হজযাত্রী আইডি পেতে তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন ২ বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হবে না কারণ পাসপোর্ট ইস্যুর সময়েই ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীরা এনআইডির পরিবর্তে তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মৃত্যু অথবা গুরুতর অসুস্থতা ছাড়া প্রাক-নিবন্ধন পরিবর্তন করা যাবে না। তবে পরিবর্তনের এই হার মোট নিবন্ধনের ৪ শতাংশের বেশি হবে না। এ বছর বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে ধর্মবিষয়ক সচিব আনিসুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান হ্রাস ও আরো কিছু কারণে বিমান ভাড়া বেড়েছে। মন্ত্রি পরিষদ সচিব বলেন, বিগত বছরগুলোর মত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজীদেরকে বাড়ি ভাড়া হিসাবে এক শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মমন্ত্রনালয় সরকারি হাজীদের পক্ষে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসাবে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়কে ১৫২০ টাকা দিবে। বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় একজন হাজীর জন্য সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি এই টাকা পরিশোধ করবে। আলম বলেন, মক্কা থেকে দুই কিলোমিটার দুরে অবস্থানকারী হাজীরা পরিবহন সুবিধা পাবেন। তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সাল থেকে গত তিন বছরে যারা হজ পালন করেছেন, তারাও এ সময়ে হজ ভিসা পাবেন তবে, এ বছরে হজ পালনের জন্য তাদেরকে অতিরিক্ত ২১০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রতি ৪৫ জন হাজির জন্য একজন করে গাইড যাবে সৌদি আরবে এবং বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরুর দুমাস আগে ফরম পূরণ করার পর হজ ব্যবস্থাপনা তথ্য সিস্টেমে তাকে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, হজ যাত্রীদেরকে তাদের নিজ দায়িত্বে তার ট্রলি ব্যাগ কিনতে হবে। অতীতে সরকার ও হজ এজেন্সিগুলো হাজীদেরকে এই ব্যাগ সরবরাহ করত। ৪ টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের ৪ সীমান্তরক্ষীকে আটকের পর হস্তান্তর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের ৪ বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)সদস্যকে আটকের পর ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দুপুরে টেকনাফের উঞ্চিপ্রাং থেকে তাদের অস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার বর্ডার গার্ড অব পুলিশ (বিজিপি) ৪ সদস্য সোমবার দুপুরে উঞ্চিপ্রাং দিয়ে মিয়ানমারের তা চোং বিজিপি কমান্ডার লেফটেনেন্ট সোং ওয়েসহ ৪ মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী সাদা পোশাকে অস্ত্রসহ বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এসময় টহলররত বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করে উঞ্চিপ্রাং ফাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহাদ্যপূর্ণ বৈঠক শেষে আটক বিজিপি সদস্যদের হস্তান্তর করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন সিদ্দিক জানিয়েছেন, অনধিকার প্রবেশের দায়ের বিজিবির হাতে আটক বিজিপি সদস্যদের সোমবার সন্ধ্যায় দুদেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে বৈঠকের শেষে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সেতুমন্ত্রীর মা আর নেই
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন)। কাল (সোমবার) রাত সাড়ে দশটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থান মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর। হার্টের চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ জোহর নামাজের পর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ সরকারী মুজিব কলেজ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি ৪ পুত্র, ৬ কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে জনাব ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলেন এবং মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। রোববার বিকালে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায়ও ওবায়দুল কাদের মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়ে তার মন ভালো না থাকার কথা বলেছিলেন।
প্রতিটি রেল স্টেশনে স্ক্যানার মেশিন বসানোর সুপারিশ
ট্রেন ও ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রতিটি রেল স্টেশনে স্ক্যানার মেশিন বসানোর সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার অনুষ্ঠিত কমিটির ৪১তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য কমিটি সুপারিশ করে। কমিটি ভারতের রেলওয়ের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে বাংলাদেশে একটি রেলওয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সুপারিশ করে। এছাড়া চলন্ত ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো, প্রয়োজনে চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের সন্দেহজনক মালামাল পরীক্ষাকরাসহ নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রেলওয়ের ক্যাটারিং সার্ভিসের মান বাড়ানোর সুপারিশ এসেছে বৈঠকে। কমিটির সভাপতি এ. বি. এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, মোসলিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মোহাম্মদ নোমান, ইয়াসিন আলী এবং ফাতেমা জোহরা রানী বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়াও বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী রোববার ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের ওপর আবারো জোর দিয়েছেন। ঢাকায় মিয়ানমারের নতুন রাষ্ট্রদূত লোইন উ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় নিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রত্যাবাসন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপায় খুঁজতে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সম্পৃক্ত করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের গ্রামগুলো ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত লোইন মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা ৮ হাজার ৩২ জন মিয়ানমার নাগরিকের তালিকা নিয়ে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় নিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্রদূত রাখাইন রাজ্যে হাসপাতালের জন্য ৩টি এ্যাম্বুলেন্স দান এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো সংহত করতে রাষ্ট্রদূত কাজ করবেন। রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে: দুদক চেয়ারম্যান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একার পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।আমি চাই আপনারা সবাই একসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করুন। সত্য বলতে হবে, সত্য কী? সত্য হলো দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে। দুর্নীতি সুশাসনের অন্তরায়। আমরা যদি একতাবদ্ধ হয়ে কথা বলতে না পারি তাহলে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব না। সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সনাক-স্বজন, ইয়েস ইয়েস ফ্রেণ্ডস, ওয়াইপ্যাক জাতীয় সম্মেলন-২০১৮ অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কথা বলেন। ইকবাল মাহমুদ বলেন, নতুন প্রজন্ম দুর্নীতিকে ঘৃণা করে। আমি বিশ্বাস করি, দুর্নীতি দমন কমিশন যদি এসব সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে তাহলে অনেকাংশেই দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব। আপনারা আমাদের (দুদক) কাজের সমালোচনা করবেন। সমালোচনা না করলে আমরা বুঝতে পারব না আমাদের ভুল কোথায়। তিনি বলেন, আমি আপনাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো সরকারে হয়ে কাজ করে না। এ প্রতিষ্ঠান জনগণের, আপনাদের। আমি বিশ্বাস করি, কমিশনের শক্তি হলো নতুন প্রজন্ম। আপনারাই (নতুন প্রজন্ম) পারেন এ দেশের দুর্নীতি বন্ধ করতে। আমরা বিদেশ থেকে আসিনি, আমরা এ দেশের সন্তান। টিআইবির প্রতিবেদন সম্পর্কে দুদক চেয়াম্যান বলেন, টিআইবি গত দুই বছরে যে রিপোর্ট দিয়েছে আমরা কমিশন থেকে কোনো কথা বলিনি। কারণ, বলার মতো কিছু ছিল না। টিআইবির কোনো সমালোচনায় আমি কখনো বিব্রত হইনি। আমি চাই আপনারা সবাই সমালোচনা করবেন। শুধু টিআইবি নয়, অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোও সমালোচনা করুক। সমালোচনা না করলে বুঝতে পারব না। সমালোচনাই হচ্ছে আমাদের এগিয়ে চলার পাথেয়। তিনি বলেন, কমিশনের একার পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ করা অসম্ভব। আমি চাই আপনারা সবাই একসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করুন। কমিশনের একার সে ক্ষমতা নেই, জনবলও নেই।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন
আজ রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা বিষয়ে কথা বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, 'আজকের নতুন প্রজন্মই আগামীর ভবিষ্যত। তারাই দেশকে এগিয়ে নেবে। বয়স হয়ে গেছে, বুড়ো হয়ে গেছি, তোমরা কি পারবা না, দেশকে এগিয়ে নিতে?' দেশের মেধাবী ২৬৫ শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে এসব পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আয়োজনে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বর্ণপদক বিতরণ করা হয়।
আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসেই বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ উৎক্ষেপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসেই বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। অর্থাৎ আমাদের আকাশ থেকে একেবারে সাগরের তলদেশ (নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন) পর্যন্ত সব জায়গাতেই বাংলাদেশ বিচরণ করবে। সেভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলে যাচ্ছি। আজ রোববার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৫ ও ২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে এ বছর ২৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের জন্য ১২৪ জন ও ২০১৬ সালের জন্য ১৪১ শিক্ষার্থী এ পদক লাভ করেন। নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ পদক দেওয়া হয়। বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বর্ণপদক বিজয়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে মেধাবী বলে আমি বিশ্বাস করি। শুধু এখানে মেধার বিকাশে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া দরকার। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অনেক দক্ষ জনবল দরকার। সেই জন্যই শিক্ষাটা একান্তভাবে প্রয়োজন। যে বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছি, তা এগিয়ে নিয়ে যাবে আজকের প্রজন্ম। আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর কর্ণধার গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে এ বছর ২৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ পদক দেওয়া হয়।ছবি: ফোকাস বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে এ বছর ২৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ পদক দেওয়া হয়।ছবি: ফোকাস বাংলা দেশে শিক্ষার বিস্তারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমরা চাই, বাংলাদেশে একটি মানুষও নিরক্ষর থাকবে না। তিনি বলেন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাসহ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধী জাতি কোনদিনও ক্ষমা করবে না : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, জাতি কোনদিনও তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী যাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার হয়ে সাজা হয়েছে, সাজা কার্যকর হয়েছে তাদের কে যারা মন্ত্রী বানিয়েছিল এবং লাখো শহীদের রক্ত রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল জাতি যেন কোনদিন তাদের ক্ষমা না করে, ক্ষমা করবে না। সেটাই আমার জাতির কাছে আবেদন। শেখ হাসিনা বলেন, যারা আমার মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ-লুটপাট করেছে- সেসব যুদ্ধাপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাদের বিচারের রায় আমরা কার্যকর করেছি। যারা এদেরকে মর্যাদা দিয়েছিল, এদের হাতে পতাকা তুলেছিল তাদের ব্যাপারে জাতিকে সচেতন থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইসস্টিটিউশন মিলনায়তনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি এর আগের ৭৫ পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় দেখেছি অনেকেই নিজে মুক্তিযোদ্ধা তা বলার সাহস পেতেন না। সরকারী চাকরি পাবার জন্য তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা কথাটা লিখতে সাহস পেতেন না, কারণ তাহলে চাকরি পাবে না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের, ৭৫ এ জাতির পিতাকে হারাবার পর এই অবস্থা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল। তখন ছিল রাজাকারদের দাপট। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনে তাঁর দল জয়ী হয়েছে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের জয় অগ্নিসন্ত্রাস করেও বিএনপি-জামায়াত ঠেকাতে পারে নি। এই দীর্ঘ ৯ বছর সরকারে থাকার ফলেই অন্তত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে মানুষ গর্ববোধ করে। আর ভীত সন্তস্ত্র হয় না। তাঁর সরকারের শাসনেই দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আবার সামনে এসেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, মানুষ অন্তত তা বলার সুযোগ পাচ্ছে, লেখার সুযোগ পাচ্ছে। সেই আত্মবিশ্বাসটা ফিরে এসেছে। এই আত্মবিশ্বাসটা যেন হারিয়ে না যায়, এমন কোন অন্ধকারে আমরা যেন আবার না পড়ি যাতে করে আবার আমাদেরকে অন্ধকারে চলে যেতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হতে হবে সেই পরিবেশ যেন ভবিষ্যতে আর কোনদিনও বাংলার মাটিতে ফিরে না আসে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আব্দুল মতিন খসরু এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, এমিরেটাস অধ্যাপক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন বক্তৃতা করেন। সংগঠনের প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ আলোচনা সভা পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সহ দলের সভাপতিমন্ডলী এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদসবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কাহিনীগুলো মানুষের কাছে বলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। যাদের হৃদয়ে পাকিস্তান কিন্তুু থাকে বাংলাদেশে, সববরকম আরাম আয়েশ ফল ভোগ করবে এই দেশের আর অন্তরাত্মা পড়ে থাকবে পাকিস্তানে সেই পাকিস্তান ওয়ালাদের থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সতর্ক থাকার ও আহবান জানান তিনি। ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের খুনীদের ভোট চুরি করে সংসদে বসানো হয়েছিল। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে। বাঙালি জাতি আজ মর্যাদা পেয়েছে। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। শেখ হাসিনা বলেন, শহীদদের প্রতি আমাদের আজকের অঙ্গীকার, এই অগ্রযাত্রাকে আমরা অব্যাহত রাখবো। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার চর্চা এবং সর্বস্তরে বাংলাভাষার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি সেই ভাষার চর্চাটা আমাদের থাকতে হবে। সেটা পরিবার থেকেও উৎসাহিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সময়ে অনার্সে সাবসিডিয়ারী হিসেবে বাংলা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন নেই বিষয়টি সম্পর্কে অনুষ্ঠানে জানতে পেরে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সঙ্গে তিনি আলাপ করবেন বলে জানান। দেশে বাংলাভাষা শিক্ষায় এক ধরণের অনীহা থাকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রচুর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষা এবং সাহিত্য চর্চার কোন ব্যবস্থা থাকবে না, এটা কেমন কথা। এ সময় বিয়ের কার্ড, সাইন বোর্ড-বিলবোর্ড বাংলা ভাষায় লিখিত না হওয়ারও সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা মনে হয় যেন একটা ব্যাধির মত ছড়িয়ে গেছে। এই দৈন্যতাটা কেন থাকবে, আমি বুঝতে পারিনা। অন্য ভাষা শিক্ষার বিপক্ষে তিনি নন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিশ্বটা কিন্তুু এক হয়ে গেছে সেজন্য বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে গেলে অন্য ভাষা আমাকে শিখতেই হবে। তিনি বলেন, যে যত ভাষা শিখতে পারবে তার মেধার ততই উৎকর্ষ সাধিত হবে । কিন্তুু অন্যভাষা শিখতে না পারলে দেশ যে উন্নত হতে পারবে না সেটা তিনি বিশ্বাস করেন না। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাপানের উদাহারণ টেনে বলেন, জাপানের জনগণ কিন্তুু নিজেদের ভাষায় কথা বলেই এক সময় সমগ্র বিশ্বে নিজেদের উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ইংরেজী আমরা শিখবো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য কিন্তুু দেশের অভ্যন্তরে যে ভাষার জন্য ভাষাসৈনিকরা জীবন দিয়ে গেছেন সেটা আমরা কেন শিখবো না,সেটার চর্চা আমরা কেন করবো না। সেটাই হচ্ছে মূল কথা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা হত্যার পর ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারার কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর এবং শেখ রেহানার সন্তানরা বিদেশে পড়া লেখা করতে বাধ্য হলেও তাঁরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন তাঁদের সন্তানরা যেন বাংলাটা চর্চা করতে পারে যেটি দেশে থেকেও অনেকে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। ভাষার আদান প্রদানে এক ভাষার শব্দ অন্যভাষায় চলে গিয়ে সে ভাষাকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইংরেজী উচ্চারণে বাংলা বলার প্রবণতার সমালোচনা করেন। এ সময় নিন্ম আদালতে এখন বাংলাভাষায় রায় লেখা হচ্ছে উল্লেখ করে ক্রমান্বয়ে উচ্চ আদালতের রায় লেখার ক্ষেত্রেও বাংলার ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেন, এতে করে বিচার প্রত্যাশীদের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে। তিনি বলেন, উচ্চআদালতের রায়টা ইংরেজীতে লেখা হয় কিন্তুু আমাদের দেশের অনেক সাধারণ মানুষ আছে যারা ইংরেজী জানেন না,তাই রায় পড়ে উকিল সাহেব যা বোঝায় সেটাই তাঁকে বুঝতে হয়। সেখানে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবার অবকাশ থেকে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উকিল সাহেবদের কিছু মনে না করারও আহবান জানিয়ে বলেন,এটাই দেশের বাস্তবতা। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে ইংরেজীতে রায় লেখাটা দীর্ঘদিনের একটি পদ্ধতি। চট করেই এটার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবু, আমরা আশাকরি ধীরে ধীরে এটাও চালু হবে, কারণ বিচার প্রত্যাশী সাধারণ জনগকে রায়টাতো পড়ে বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ে সেটা ইংরেজীতে অনুবাদ হোক। আমরা ইংরেজীর বিপক্ষে নই তবে সেই চর্চাটা বাংলায় থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশকে পকিস্তানীকরণে৭৫ পরবর্তী সামরিক সরকার গুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিণি বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবেও ঘোষনা দিয়েছিল কিন্তু এক পর্যায়ে যখন বুঝতে পারলো- মানুষ এটা গ্রহণ করবে না তখন আর দ্বিতীয়বার সে কথা উচ্চারণ হয়নি। অর্থাৎ এটাকে পরিকস্তানের একটি প্রদেশ বানাবারই যেন একটা প্রচেষ্টা হয়েছিল এবং জেনারেল আইয়ুব খানের পদাংক অনুসরণ করেই তারা ক্ষমতায় এসেছিল। বাংলাদেশ যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী ছিল সেই বিজয়ী মনোভাবটাই তারা ধ্বংস করে দিতে সচেষ্ট ছিল। তিনি বলেন, যে শক্তিকে আমরা পরাজিত করেছিলাম তাদের প্রতিই এদের খোষামোদী, তোষামোদী, চাটুকারিতা আমরা দেখেছি। যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন সেই বিচার মার্শাল লঅর্ডিন্যান্সে দিয়ে বন্ধ করে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে তাদের রাজনীতি করার অধিকার তারা দিয়েছিল। তিনি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে যুদ্ধপরাধীদের দল করার সুযোগ করে দেয়া উল্লেখ করে বলেন, এই জিয়াই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সে জারি করে জাতির পিতার বিচারের পথকে যেমন রুদ্ধ করেন তেমনি খুনীদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। পোল্যান্ড সরকার সে সময় বঙ্গবন্ধুর এক খুনীকে চাকরি দিয়ে সেখানে পাঠানোর পর তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, কাজই আমরা দেখেছি দেশের ভাবমূর্তিকে কিভাবে বিশ্বে নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী কানাডা প্রবাসী সালাম, রফিক এবং ভালবাসি মাতৃভাষানামের সংগঠনের উদ্যোগে এবং ৯৬ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কোর ঘোষণার প্রেক্ষাপট অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন । পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া সব মাতৃভাষা গবেষণার জন্য তাঁর সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন,জাতিসংঘের তৎকালিন মহাসচিব কফি আনানকে নিয়ে এটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেও ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারায় বিএনপি এটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরই তিনি সেটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন মাতৃভাষা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ভাষা জাদুঘরও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সমূহকে সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের ওপরই আজকে দায়িত্ব পড়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর