আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: মনিরুল
নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের পাতালপথে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ দেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে বোমা হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর ও তিনজন পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর আগে আকায়েদ নিউইয়র্কে আসেন। ব্রুকলিনে থাকেন তিনি। আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসেছিলেন।
জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ঐক্য জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ডে আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবো কারণ, জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছে। জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার তিনদিনের সরকারি সফরে এখানে এসেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের দলকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সকলে একতাবদ্ধ থাকলে সে সুযোগ তারা পাবে না। আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবো ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রায় ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় যোগ দেয়।
নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
সন্তান প্রসবের সময় রোগীর পেটে গজ রেখেই অপারেশন শেষ করার দায়ে পটুয়াখালীর বাউফলের কথিত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আজকে আবেদনের শুনানি শেষে কথিত চিকিৎসককে পাঁচ লাখ টাকা এবং নিরাময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে রোগীকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগ গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনকারী কথিত চিকিৎসক রাজন দাসকে (অর্জুন চক্রবর্তী) আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৬ নভেম্বর ওই ডাক্তারের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন হাইকোর্ট। এর আগে আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে ডাক্তার নামধারী রাজন দাসের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হয়। গত ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২২ জুলাই সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ! শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা আদালতের নজরে আনার পর রুলসহ হাইকোর্ট আদেশ দেন। ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিন মাস পর বরিশালে মাকসুদা বেগম (২৫) নামের এক নারীর পেট থেকে গজ বের করা হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় খাদ্যনালীতে অনেকগুলো ছিদ্র হয়ে গেছে। মাকসুদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মাকসুদা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী। গত মার্চে অস্ত্রোপচার করে মাকসুদা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তখন তাঁর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন চিকিৎসক। মাকসুদার মা রোকেয়া বেগম বলেন, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল মেডিকেলের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আলট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়ে না। এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁর পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।
জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ৯৯৯ উদ্বোধন করলেন জয়
ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ৯৯৯ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের সম্প্রসারিত ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশি সেবা নিয়ে ৯৯৯-এই সম্প্রসারিত নম্বরের উদ্বোধন করা হয়। এই সেবার মাধ্যমে উন্নত দেশের মতো নাগরিকরা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি কল করে জরুরি পুলিশি সেবা, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক-এর সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন।
বাংলাদেশের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন : আইনমন্ত্রী
নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধিতে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হয়নি বরং বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার রাতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭এর গেজেট প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করলেন। বিধিমালার সমালোচনা করে বলা হচ্ছে, এই বিধিমালার মাধ্যমে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নয়, সরকার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের সঙ্গে আলাপ-আলাচনা করেই এটা (বিধিমালা) করেছি। সুপ্রিম কোর্টও বলবে না যে, ইয়ে করা হয়নি। আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা যখন এটা অ্যাপ্রুভ করেছেন, তখন আমরা এগ্রি করেছি। তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার করে বলা আছে, এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে আচরণ বিধি তৈরি করবেন। তিনি সব ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। আমরা যে আচরণ বিধি করেছি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে শিরোধার্য মনে করে সেটাকে রক্ষা করার জন্য যা যা করণীয় এখানে করেছি। এখানে রুল-২৯ এ পরিষ্কার করে বলা আছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধান অনুযায়ী কাজ করব, পরিষ্কার কথা। আমার এখন পর্যন্ত মনে হয় না যে সংবিধানের বাইরে আমরা কোনো কাজ করছি। জুডিশিয়ারির জন্য যেখানে স্পেশাল প্রভিশন রাখার দরকার সেখানে রুল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার মনে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কোথাও ক্ষুণ্ন করা হয়নি বরং একটু বাড়ানো হয়েছে। বিএনপি বলছে, বিধিমালায় বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির বিষয় এমনভাবে রাখা হয়েছে যে তারা স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবেন না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, আশঙ্কা নেই। সংবিধানে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যখন জুডিশিয়ারির ব্যাপারে কোনো কাজ করেন তিনি আইন মন্ত্রণালয়টাকে তার সেক্রেটারিয়েট হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা তার কাছে নথি চালাচালির জন্য একটা অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হই। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু পরামর্শের কথা বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ। যেখানে রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের মধ্যে ভিন্নতা থাকবে, সেই ভিন্নতা থাকলে সুপ্রিম কোর্টের যে পরামর্শ সেটা প্রাধান্য পাবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা তো সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করিনি। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আমরা সব সময়ই বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ আমাদের গাইডলাইন হিসেবে গ্রহণ করেছি। তার কারণ হচ্ছে বলাই আছে বাংলাদেশের সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। তবে বিধিমালা নিয়ে কেন সমালোচনা হচ্ছে, জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, শোনেন, তারা কেন (সমালোচনা) করছেন, দুই-তিনটা জিনিস তাদের। সেটা হচ্ছে তারা বুঝুক আর না বুঝুক সমালোচনার জন্য তাদের সমালোচনা করতে হবে। তাদের যে ওয়াইডার পরিকল্পনা ছিল তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খড়কুটো ধরে তারা সমালোচনা করছেন। তাদেরকে আমি এটুকুই বলব- দ্যাখেন, কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিজম (গঠনমূলক সমালোচনা) গ্রহণ করতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কনস্ট্রাকটিভ ক্রিটিসিমজ গ্রহণ করার জন্য উনাদেরকে পড়াশোনা করতে হবে। আমি উনাদেরকে বলব আপনারা সংবিধান দ্যাখেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আরেকটা কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই- উনাদের ইচ্ছা মত, উনারা যে রকম ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে ৯৬ সাল পর্যন্ত কনস্টিটিউশন (সংবিধান) নিয়ে ফুটবল খেলেছেন, আমরা এই কনস্টিটিউশনকে নিয়ে আর ফুটবল খেলতে দিব না। পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কারণে শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে দেরি হওয়ার কথা বলছেন, তিনি কীভাবে বাধা দিয়েছিলেন- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, যেসব জিনিস চলে গেছে আমি এগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই না।
আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাস টার্মিনালে কথিত আত্মঘাতী হামলার চেষ্টাকারী বাংলদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে তাদের ঢাকার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জিগাতলার মনেশ্বর রোডের বাসা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটি) ওই ৩ জনকে নিয়ে যায় বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে। সিটির উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ৩ জনকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। জানা যায়, মনেশ্বর রোডের বাড়িটিতে ৬ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। চট্টগ্রামের আকায়েদ ৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছেন। প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি একটি আবাসন কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিটি কর্মকর্তা সাইফুল বলেন, আকায়েদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আকায়েদের নাম প্রকাশের পর বাংলাদেশে তার স্বজনের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঠে নামে। সিটির এক কর্মকর্তা বলেন, তারা দুপুরের দিকে আকায়েদের শ্বশুড় বাড়ির ঠিকানা পান। ওই বাড়িতে আকায়েদের শ্বশুর জুলফিকার হায়দার, শাশুড়ি মাহফুজা আকতার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভাড়া থাকেন। প্রসঙ্গত সোমবার নিউ ইয়ার্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আকায়েদকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তাদের দাবি।
ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে ইস্তাম্বুল পৌঁছেছে। বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতি কনরাড ইস্তাম্বুল বসফরাস হোটেলে যান। এই সফরে তিনি এ হোটেলেই থাকবেন। ওআইসির বিশেষ সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে তুরস্কে স্বাগত জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। এর আগে, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওআইসির বর্তমান সভাপতি রিসেপ তাইপে এরদোয়ান সংস্থার জরুরি বিশেষ সম্মেলন ডাকেন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
প্যারিসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) প্যারিসের চার্লস দ্যাগল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ফ্রান্সের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে ইন্টারন্যাশনাল প্যারিস লি গ্রাভ (অপেরা)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরকালে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন। প্যারিস যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইতে দেড় ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইং কিমের আমন্ত্রণে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। শীর্ষ সম্মেলনে প্রায় একশ বিশ্ব নেতার পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২ হাজার প্রতিনিধি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লা সেইন মিউজিক্যালে ওয়ান প্লানেট সামিটের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেবেন। শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আবাসস্থলে এক কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এলিসি প্যালেসে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের জন্য ফরাসী প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তিনি এলিসি প্যালেসে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন। শেখ হাসিনার বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস ত্যাগ ও বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে পৌঁছার কথা রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর