বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
রোহিঙ্গাদের প্রথম তালিকা হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ
মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রথম তালিকা হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য ৮০০০ রোহিঙ্গার একটি তালিকা বার্মার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে। ঢাকায় দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই তালিকা হস্তান্তর করা হয়। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল চ সোয়ের সাথে বৈঠকের পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সীমান্তের জিরো-লাইনে যে ৬৫০০-এর মতো রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসার জন্যে অপেক্ষা করছে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ সময় বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা হস্তান্তরের প্রশ্নে মি. খান জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন এবং পুরনো মিলিয়ে এপর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় মিয়ানমারকে দেওয়া হলো ১৬৭৩টি পরিবারের ৮০৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা। 'মিয়ানমার পরিবার এলাকা ভিত্তিক তালিকা চেয়েছিল। আমরা সেভাবেই তালিকাটি তৈরি করে তা হস্তান্তর করেছি। তারা বলেছে, এই তালিকা তারা যাচাই করে রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।' রোহিঙ্গা গ্রামে হামলা করে ফিরে আসছেন অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারিরা। দেশে ফেরত যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তের জিরো-লাইনে মিয়ানমার অংশে এখনও যে ৬৫০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে, তাদেরও ফেরত নেওয়ার কথা বাংলাদেশ বৈঠকে তুলেছে বলে মি. খান জানান। তিনি বলেন, 'সীমান্তের জিরো-লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আমি তাদের বলেছি, এরাতো আমাদের দেশে প্রবেশ করেনি। তোমাদের দেশেই আছে। সেটা তারা স্বীকার করেছেন এবং এদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেছেন। মি. খান আরো এলন, জিরো-লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে ২০শে ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের একটি জেলায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই বৈঠকে জিরো-লাইনের ৬৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করা হবে। মিয়ানমারে নির্যাতন এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫শে অগাস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে যে আশ্রয় নেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করছে। সংখ্যায় কম হলেও এখনও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। কিন্তু এখনও সংখ্যায় কম হলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বন্ধ হয়নি। এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ মিয়ানমারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ করার ব্যাপারে মিয়ানমার আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করাসহ মৌলিক অধিকারগুলোর ব্যাপারে মিয়ানমার কতটা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. খান বলেছেন, গত অক্টোবরে তিনি যখন মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, তখন কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে দুই দেশ দশটি পয়েন্টে একমত হয়েছিল। সে অনুযায়ীই এখন আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মি. খান উল্লেখ করেন। 'তারা তিনটি ধাপে প্রক্রিয়া চালানোর কথা বলেছে। প্রথমে তাদের যাওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করা, দ্বিতীয় তাদের থাকার ব্যবস্থা এবং তৃতীয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ সৃষ্টি করা, এসব তারা ধাপে ধাপে করছে।আমাদের যেটা নিশ্চিত করেছে।' মিয়ানমার আলোচনা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ কতটুকু নিচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে তাদের ইচ্ছাই বা কতটা আছে, এসব প্রশ্নও রয়েছে। আসাদুজ্জামান খানের বক্তব্য হচ্ছে, এখন মিয়ানমারের সাথে আলোচনার ওপর তারা বিশ্বাস রাখতে চান। আজকের বৈঠকেও তারা যেভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যেভাবে তারা আমাদের সাথে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন। যদি এগুলো পর্যালোচনা করেন, তাহলে আস্থা তৈরি হচ্ছে যে হয়তো তারা নিয়ে যাবে। দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে বৈঠকের পর সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের পাশ দিয়েই মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চ শোয়ে চলে যান। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্নও করেছিলেন। কিন্তু তিনি কোন কথা বলেননি।
ধীরে ধীরে সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে ধীরে ধীরে মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ২০ ফেব্রুয়ারি বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। সচিবালয়ে দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। শুক্রবার বেলা ৩ টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুদেশের সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আর মিয়ানমারের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও শোয়ে। তিন ঘণ্টা ব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি বৈঠকে প্রাধান্য পায়। অপরদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে দেয়া তালিকা অনুযায়ী আরাকান স্যালভেশন আর্মি-আরসা সদস্যদের আটক ও হস্তান্তরের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মিয়ানমার সফরকালীন চুক্তি ছাড়াও যে ১০ টি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়েছিল সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষিবান্ধব নীতির প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রপতি
সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বর্তমানে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিশনে কৃষি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিগত দুই বছরে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য দুইটি প্রতিষ্ঠান ও ৯ জন ব্যক্তির হাতে কৃষি পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এসময় তিনি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে-কৃষিবিদদের নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগাদা দেন। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করতে সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
আজ রাতে দেশের পথে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ইতালী ও ভ্যাটিকান সিটিতে তাঁর ৪ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ রাতে দেশের উদ্দেশ্যে রোম ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা) রোমের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ফিউমিসিনো বিমানবন্দর থেকে আবুধাবীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। ইতালীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাবেন। দেশে ফেরার পথে শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে একদিনের যাত্রাবিরতি করবেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় তিনি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবেন । প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) ৪১তম পরিচালনা পর্ষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার রোম পৌঁছেন। শেখ হাসিনা পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে পোপের সঙ্গে বৈঠক করতে হলি সি (ভ্যাটিকান সিটি) সফর করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো : আইজি
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বক্তব্য দিচ্ছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। জঙ্গিবাদ নির্মূলে নানা পদক্ষেপ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি আরও বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো। তাই বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আজ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, দেশের নিরাপদ ব্যবস্থা বিদেশিদের আকৃষ্ট করেছে। এ জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ছুটে আসছেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে, তাতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান, চাঁদপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটোয়ারী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নইম পাটোয়ারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এ সময় সাংবাদিকেরা জেলার থানা পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের অনিয়ম ও জটিলতা তুলে ধরেন। এর জবাবে আইজিপি বলেন, আমি আইজিপির দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে সারা দেশের থানাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছি। যাতে করে থানা থেকে সাধারণ মানুষ সেবা নিয়ে খুশি মনে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। পরে আইজিপি চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশের সমাবেশে যোগ দেন।
শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
প্রাথমিক সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট, এসএসসি ও এইচএসসিসহ সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধে ব্যর্থতার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে নোটিশ এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীকে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। নোটিশ বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ। তাই তার পদে থাকার অধিকার নেই। তাকে অপসারণ করে সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যিনি সংসদ সদস্য নন এমন একজন শিক্ষায় অসামান্য দক্ষ উচ্চশিক্ষিত নাগরিককে শিক্ষামন্ত্রী করার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে আরো বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৮(১) (ক) (গ)(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বা প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করবেন বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাবার পরামর্শ দান করে ঐ মন্ত্রীর নিয়োগ অবসান ঘটাবেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে
অপরাধে কেউ পার পাবে না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার সময় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মী জেলে। দুজন মন্ত্রী দুদকের মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। সিরাজগঞ্জের মেয়র ও টাঙ্গাইলের এমপি কারাগারে। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, শেখ হাসিনার হাত থেকে পার পাওয়ার উপায় নেই কারও। আজ বুধবার ধামরাইয়ের বালি এলাকায় বংশী নদীর ওপর একটি সেতু উদ্বোধনের পর এক জনসমাবেশে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সেতুটি করা হয়েছে চৌহাট-আমতাবালিয়া-মির্জাপুর সড়কের বংশী নদীর ওপরে। সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে জনসমাবেশের আয়োজন করে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের সঙ্গে আচরণ ভালো করবেন। যতই উন্নয়ন করুন না কেন, আচরণ ভালো না করলে উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। জনগণকে খুশি রাখতে হবে। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা চিরদিন থাকবে না। জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন, তাঁদের জন্য কাজ করবেন। এমপির পিএস, এপিএস কমিশন খান, কিন্তু এমপি ভালো। আপনি যতই ভালো হন, আপনার পাশের লোক যদি খারাপ কাজ করে তার দায় এড়াতে পারবেন না। নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন আর বেশি দূরে নয়। দলকে সংগঠিত করুন। এখনই সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে এখন থেকে নির্বাচনী কমিটি করতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতে হবে। কয়জন আওয়ামী লীগ করে আর কয়জন অন্য দল করে, খাতা-কলমে তা হিসাব করতে হবে। দল ভারী করার জন্য কোনো খারাপ লোককে দলে টানবেন না। দাগি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন দলে না ঢোকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। জনসমাবেশ উপলক্ষে রাস্তায় তোরণ, বিলবোর্ড বসানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এগুলো কিছুই থাকবে না। হৃদয়ে নাম লিখতে হবে। নেতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন দুটি উদ্বেগের বিষয়। একটি, একশ্রেণির দুর্বৃত্ত প্রশ্ন ফাঁস করে চলেছে। আরেকটি হচ্ছে গ্রামে গ্রামে মাদক ছড়িয়ে যাওয়া। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের দ্রুত বিচার আদালতে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে মামলা করেছে, তা হয়েছে ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ মামলা সাজিয়েছে। তারা বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলে। আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিনেমা দেখে। বিএনপি ভেবেছিল, খালেদা জিয়া জেলে গেলে লাখ লাখ মানুষ প্রতিবাদ করবে, রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু কেউ আসেনি। মরা গাঙে জোয়ার আসে না। এখন বিএনপি দেশের বিষয়ে বিদেশিদের ডেকে এনে নালিশ করছে। জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সংসদ এম এ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগেরআহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার সকালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এর ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য দানকালে এই আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা যাবে না। তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে উন্নয়ন সহযোগীদের আরো একটু উদার হতে হবে। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ফ্রাজিলিটি টু লং টার্ম রেসিলেন্স : ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনোমি। এসময় তিনি বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে বলেন, অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ইফাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইফাদ-এর সহায়তার ও সহযোগিতার মডেলটি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক ভিন্ন। ইফাদ-এর এই মডেলটি মানবতায় এখনকার মতে অনাগত দিনগুলোতেও কাজ করে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা স্থাপন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না। গ্রামীণ সামাজিক ও জলবায়ুগত স্থিতিশীলতার উন্নয়নে একটি ব্যাপকভিত্তিক টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি প্রয়োজন। শেখ হাসিনা টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদীভাবে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে সুশাসন থাকায় বাংলাদেশ ভাগ্যবান। তিনি বলেন, আমরা সতর্কতার সাথে চার বছরের আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধি হিসেব করে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করেছি এবং গত নয় বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনা করে চাহিদা ও প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এবং এর অর্ধেক হবে মধ্যবিত্ত। এর ফলে বিশ্বের আবাদী জমি, বনভূমি এবং পানির ওপর প্রবন্ড চাপ পড়বে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক দেশের আবাদী জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ছাড়াই আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো। শেখ হাসিনা বলেন, ২০৫০ সালে বিশ্বের খাদ্য চাহিদা ২০০৬ সালের অবস্থান থেকে অন্তত ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, আমরা কিভাবে এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করবো? আমি আপনাদের আমার দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষি প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরবো, যা আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে মানব উন্নয়নের জন্য অন্যান্য দেশ গ্রহণ করতে পারে অথবা আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি বলেন, আমরা আরেকটি ১৯৮১ সালের মুখোমুখি হতে চাই না, তখন আমরা বুঝতে পারি কৃষি প্রবৃদ্ধিকে উপেক্ষা করা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রথমে আমি আপনাদের বলবো, প্রতিবছর জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারণে দেশে খাদ্য সংকট এবং খাদ্য উৎপাদন হ্রাসের যে কোন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশী জনগণ স্বাভাবিকভাবে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের মোকাবেলায় বাংলাদেশীরা আস্থার সঙ্গে শক্তভাবে লড়াই করে সমস্যার সমাধান এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উপায় গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং চলতি বছর অসময়ে বার বার বন্যার কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিলো। শেখ হাসিনা বলেন, এই ঘাটতি মোকাবেলায় গ্রাহকদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাথে সাথেই খাদ্য আমদানি নীতি গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, আপনারা নোট রাখতে পারেন যে, আমরা খাদ্য উৎপাদন ১৯৭১ সালের ১১ মিলিয়ন টন থেকে ২০১৭ সালে ৩৯ মিলিয়ন টনে উন্নীত করেছি। যদিও এসময় এক-তৃতীয়াংশ আবাদী জমি হারিয়েছি। ২০০৮ সালে খাদ্য উৎপাদন ৯ মিলিয়ন টন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সম্ভব হয়েছে সরকার কৃষকদের বিপুল ভর্তুকি, সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদানসহ কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ পৌঁছানের কারণে। তিনি বলেন, সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা আইসিটির সকল সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। বর্তমানে দক্ষতা উন্নয়নে এবং গবেষণায় বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর ব্যাপারে আইসিটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপগ্রহের মাধ্যমে নতুন ম্যাপিং কৌশল এবং জিআইএস জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছে। এটি নতুন উদ্ভাবিত শস্যজাতের জন্য কার্যকরভাবে পানি সংরক্ষণ, এলাকা চি্িহ্নতকরণ, উপযুক্ত মানচিত্র তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে আমরা এখন খাদ্য ও কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি কিছু বাড়তি খাদ্য রফতানির সক্ষমতা অর্জন করেছি। শেখ হাসিনা বলেন,টেকসই উন্ন্য়ন এজেন্ডা- ২০৩০ গ্রহণের পর কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না এ লক্ষ্যে আমাদের দেশে সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য আমাদের লক্ষ্য একই এবং তা পরবর্তী পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর এবং সবার জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন,প্রাগঐতিহাসিক কাল থেকে বাংলাদেশ উর্বর ভুখন্ড হিসেবে পরিচিত যেখানে সব ধরনের কৃষিপণ্য সহজেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্টাকালে দেশ কঠিন খাদ্য ঘাটতির মুখে পড়ে। তখন দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন হতো মাত্র এক কোটি দশ লাখ টন।স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশেকৃষি উৎপাদন কৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং দেশে সবুজ বিপ্লব-এর ডাক দেন। শেখ হাসিনা বলেন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু ভুমি সংস্কার,খাজনা কমানো,গবেষনা প্রতিষ্টান গড়ে তোলা,সেচ পাম্প স্থাপন,কৃষি উপকরন বিনামূল্যে বিতরনসহ কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামাঞ্চলে কাউকে পিছনে ফেলে রাখা যাবে না- এই চ্যালেঞ্জই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ৭২ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে এবং ৪৩ শতাংশ কৃষি খাতে শ্রমজীবী হিসেবে কাজ করে, যারা দেশের জিডিপিতে ১৫ শতাংশ অবদান রাখছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ অকৃষি খাতের কর্মীর সংখ্যা শতকরা ৪০ শতাংশ যারা গ্রামীণ আয়ের ৫০ শতাংশের বেশি আয় করে। কাজেই অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং টেকসই গ্রামীণ রূপান্তরই দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা দূর করা এবং কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার লক্ষ্য অর্জনের মূলশক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের আগেই এটি ভালভাবে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তÍুুত। ২০২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র নির্মূল হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অন্যান্য চরম চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ, ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র ৬৫ সে.মি. বাড়লেই বাংলাদেশকে তাঁর ৪০ শতাংশ উৎপাদনশীল ভূমি হারাতে হবে। তিনি বলেন, উপরন্তুু, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ফসল উৎপাদনে পরিবর্তন দারিদ্রের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। কাজেই উন্নত অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং স্থিতিস্থাপক কৃষি পদ্ধতি নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এই জন্যই সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় লবণাক্ততা, বন্যা এবং শীত সহিষ্ণ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষিক্ষেত্রে গবেষণায় সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং বিনিয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলির চিহ্নিতকরণ, যেমন স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি সমস্যার সমাধান, কৃষি কর্মসূচি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসের বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে, বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, চলমান গ্রামীণ রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা হবে, যার মাধ্যমে অকৃষিখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ গতিশীলতা এবং গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, মৎস্যবান্ধব নীতির কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট মাছের উৎপাদন ৪১ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছে গেছে। এটি মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ আমাদের পণ্য হিসেবে জিওলজিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন সার্টিফিকেট পেয়েছে। আমরা মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বের ৪র্থ স্থানে রয়েছি। সরকার প্রধান বলেন, সরকারের দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যের বন্দোবস্থো করার কর্মসূচিও চালু রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে মাসে ৩০ কেজি করে খাবার চাল অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে ৫ মাস ধরে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খাদ্য ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচিতে সরকার ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও তাঁর সরকার ৭৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলা বাজারে চাল বিক্রীতে বরাদ্দ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করে, যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক জীবিকা এবং পরিবারিক খামারের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে। তিনি বলেন, মোট ১১ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১০ লাখ সুবিধা ভোগীকে নিয়ে ১৭ হাজার ৩শটি গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা গঠন করা হয়েছে যারা প্রায় ৭ লাখ ছোট ছোট খামার স্থাপন করেছে। তাঁর সরকার জনগণের পুুষ্টি সমস্যার সমাধানের সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে যেখানে বাংলাদেশের জনগণের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ অপুষ্টির শিকার ছিল সেখানে এই হার ২০১৬ সাল নাগাদ ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি দারিদ্রের হার যেখানে ২০০৫-০৬ সালে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল সেখান থেকে বর্তমানে তা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এই ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ-ইফাদ বড় অংকের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৬টি জেলার দুস্থ মানুষের অবকাঠামো ও বাজার উন্নয়নে ৯২.০৩ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ইফাদ সদর দফতরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং ইফাদ প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হুয়াংবো চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীও উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৬টি জেলার দুস্থ জনগণের অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং তথ্য সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও জামালপুর। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের কাজ এ বছর শুরু হবে। এতে এই জেলাগুলোর ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। শহিদুল হক বলেন, প্রকল্পের মূল ব্যয়ের ৬৩.২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ১.২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে ইফাদ প্রদান করবে। বাকি ২৭.৯ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ সরকার প্রদান করবে। পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, আজ রোমে ইফাদ গভার্নিং কাউন্সিলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশ ইফাদকে অর্থ দেয়ার অঙ্গিকার করে। তিনি বলেন, এই অর্থ ইফাদ অনুদান ও ঋণ হিসেবে ব্যবহার করবে। বৈঠকে চীন সর্বাধিক ৯০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশ ১.৫ মিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গিকার করে। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রকল্পটি এলজিআরডি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আরেকটি প্রকল্প বাংলাদেশ ও ইফাদের মধ্যে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ১১৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়সম্বলিত প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়ন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এ ব্যাপারে আজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। কারণ এ বিষয়ে আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, শিগগিরই এ প্রকল্পের ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে দু’টি বড় প্রকল্পে ইফাদ অর্থায়ন করতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অতীতে কৃষিখাতে এত বড় প্রকল্প কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এর আগে ইফাদ প্রেসিডেন্ট সংস্থার সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে। শহিদুল হক বলেন, ইফাদ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত এবং এদেশ সম্পর্কে তার পরিস্কার ধারণা রয়েছে। কারণ তিনি দু’বার বাংলাদেশ সফর করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইফাদ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর