ভাসানচরে রোহিঙ্গারা
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে পৌঁছে রোহিঙ্গারা। এর আগে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে জাহাজে করে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের বহন করা জাহাজগুলো শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, দুপুর দুইটার দিকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে রোহিঙ্গাদের বহনকারী জাহাজগুলো। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পতেঙ্গা এলাকার বোট ক্লাব ঘাট, কোস্টগার্ড ঘাট ও রেডি রেসপন্স বার্থে রাখা জাহাজে রোহিঙ্গাদের তোলা হয়। এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিতে এসব রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ২০টি বাসে করে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ভাসানচর যেতে আসা এসব রোহিঙ্গাকে বৃহস্পতিবার রাতে রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী রেডি রেসপন্স বার্থ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে অস্থায়ী- ট্রান্সজিট ক্যাম্পে।
পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যানটি বসানোয় সেতুর ৬ ছয় কিলোমিটার দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যান 'টু-ই' সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের। ৩৯তম স্প্যান বসানোর ৮ দিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যানটি। আর এখন ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানো হলেই ৬ হাজার ১৫০ মিটার সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে। গেল দুই মাসে সেতুতে ৮টি স্প্যান বসিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। বিজয়ের মাসে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিয়ান-ই নামের ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি নিয়ে রওনা দেয়। এরপর ৪০ মিনিট সময় নিয়ে ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের কাছে এসে পৌঁছায়। ওই দিনই ছয়টি ক্যাবলের (তার) মাধ্যমে নোঙর করা হয় ক্রেনটি। শুক্রবার শুধু পিলারের ওপরে স্প্যানটি বসানো হয়। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে ২ পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে স্প্যান বহনকারী ভাসমান ক্রেনটি পজিশনিং করে। এরপর স্প্যানটিকে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। পরে রাখা হয় ২টি পিলারের বেয়ারিংয়ের ওপর। স্প্যানটি বসানোর জন্য ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীদের বেগ পেতে হয়নি। কোনো রকম বাধা ছাড়াই স্প্যানটি বসাতে পেরে খুশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধাপে ধাপে স্প্যান বসতে থাকে। আমাজন নদীর পরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খরস্রোতা ও প্রমত্তা নদী পদ্মার বুকে দাঁড়িয়েছে পিলার। যাতে বসানো হয় স্প্যানগুলো। কাজের অগ্রগতি কতটা হচ্ছে, তা স্প্যান বসানোর ওপর নির্ভর করে। শুরুর দিকে একেকটি স্প্যান বসানো হতো কয়েক মাসের ব্যবধানে। এরপর কম সময়ের ব্যবধানে স্প্যান বসানোর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতাও বাড়তে থাকে প্রকৌশলীদের। আর এর জন্য স্প্যান বসাতে সময়ও কমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজের শুরুতে মাটির গঠনগত বৈচিত্র‍্য ও গভীরতার ভারসাম্যের তারতম্যের কারণে পিলারের নকশা জটিলতায় পড়েছিল প্রকল্পটি। সবশেষ করোনা পরিস্থিতি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে গতি কম হলেও একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি কাজ। পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ৪০টি স্প্যান। ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের আশেপাশে চলাচলকারী নৌযানগুলো যাতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর জন্য সেনাবাহিনীর বোট সারাক্ষণ সেখানে নজরদারি করেছে। নৌযাগুলোকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয় সেসময়। এখন ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসিয়ে দিলেই বিজয়ের মাসে পদ্মা জয় করবে পদ্মা সেতু। আর এ স্প্যানটিও প্রস্তুত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। আর তখন নদীর ওপর দেখা যাবে ৬ হাজার ১৫০ মিটার অর্থাৎ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অবকাঠামো। সেতুর কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকরাও শেষ স্প্যান বসানোর অপেক্ষায়। চলতি বছর করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে চার মাস স্প্যান বসানো হয়নি। কিন্তু গেল দুই মাসে ৮টি স্প্যান বসানো হয়ে। পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকে নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরাও কাজের গতি সচল রেখেছেন। সেতুর অনেকটাই দৃশ্যমান হওয়ায় পদ্মাপাড়ের সবার চোখে মুখে এখন আনন্দের হাসি। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্প্যান বসানোর কাজ এ মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা আনন্দিত। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হবো যখন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি থাকা স্প্যান বসানো হবে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন ক্ষেত্রে জোর দেয়ার আহ্বান
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মানসম্মত টিকার সার্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, টিকা উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তাসহ তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি আরও বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি) ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে রেকর্ড করা ব্ক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) বর্তমান চেয়ার আজারবাইজান এবং জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এ বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, কিছু অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগ এবং আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রথমত, আমাদের যথাসময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা সমতার নীতি দ্বারা পরিচালিত এসডিজি অর্জনে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কাভারেজের মৌলিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়। একইভাবে, যখন ভ্যাকসিন প্রাপ্তির কথা আসে, তখন কাউকে পেছনে রাখা সমীচীন হবে না। এটি মহামারি পরাস্ত করতে, জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আমাদের সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ডব্লিবউএইচওর অ্যাক্ট এবং কোভাক্স সুবিধার উদ্যোগ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর ট্রিপস চুক্তির আওতায় আইপি রাইটস ওয়েভার ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তৃতীয় ক্ষেত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় সরকারসমূহের পাশাপাশি জাতিসংঘ, আইএফআই, সুশীল সমাজকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং করোনা মোকাবিলায় একে অপরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, করোনা মহামারি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণে না আনলে এ ভাইরাসকে কখনোই কোনো একটি স্থানে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। আসুন, আমরা একটি টেকসই বিশ্বের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা সম্পাদনে নতুনভাবে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি, যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় সমর্থ হবে। জাতিসংঘের এই অধিবেশন করোনা মহামারি মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ, বৈশ্বিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ এ বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সবার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। করোনায় বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মহামারি অনেক মানুষকে আরও দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরও অনেকে ক্রমে দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সব দেশে অপুষ্টি, বৈষম্য ও ক্রমবর্ধমান অসমতা চেপে বসছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রবল ধস নামায় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি আমাদের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের এবং তা আরও উন্নত করতে এ সংকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। অনেক দেশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ করোনা মহামারির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতি, জীবন ও জীবিকা, অভিবাসী জনগোষ্ঠিকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে এবং আমাদের কষ্টার্জিত উন্নয়ন সাফল্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে আমরা শুরু থেকেই ও কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেছি। এছাড়া আমাদের অর্থনীতি ও জনগণকে মহামারি থেকে রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার সরকার আমাদের ব্যবসায়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব হ্রাস করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা জিডিপির ৪.৩ শতাংশের সমান।
বেকার যুবক-যুবতীদের ৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ দিবে বিসিক
০৩ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষে কর্মসংস্থান ব্যাংক গৃহিত বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের মাঝে ঋণ প্রদান করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এ লক্ষ্যে বিসিক এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মধ্যে বুধাবার (১৮ নভেম্বর) এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কর্মসংস্থান ব্যাংকের বোর্ড রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ মোশ্তাক হাসান এনডিসি এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ তাজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব কানিজ ফাতেমা এনডিসি প্রধান অতিথি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাকিয়া সুলতানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী- কর্মোদ্যোগ (Startup) হিসেবে বিসিক হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীদের (১৮-৩৫ বছর বয়সী) ৯ শতাংশ সরল সুদে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কর্মসংস্থান ব্যাংক বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বেকার যুবদের সহজশর্তে ও স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ দেয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি
০৩ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর রমনায় আজ এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য শুধু একটি প্রতিকৃতি নয় বরং এই ভাস্কর্য বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বক্তারা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে পাকিস্তানের হায়েনারদের কাছ থেকে আমাদের এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির পিতাকে অবমাননা করা মানে বাংলাদেশকে অবমাননা করা। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূতায় গাঁথা। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দফতরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে কূটক্তির প্রতিবাদে আইইবি, আইইবি ঢাকা কেন্দ্র এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ (বিপিপি) এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে আইইবির সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম হাজারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিপিপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী এসএম মনজুরুল হক মঞ্জু, অনারারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু) পিইঞ্জি,অনারারী সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও বিপিপি টেলিটক শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মো. রনক আহসান ও আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের অনারারী সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন পাকিস্তানের চেয়ে সব সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই ভাস্কর্য নিয়ে একটি ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে কিছু মৌলবাদী গুষ্টি। যারা ১৯৭১ সালে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল আজ তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতা করার মাধ্যমে আবারো মৌলবাদী গোষ্টি দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করছে। স্বাধীনতার ইতিহাসের স্বাক্ষী আইইবি। তাই আইইবির সামনে আমারা বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য তৈরী করবো। বক্তরা আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ইসলামীক দেশগুলোতে সে সব দেশের জাতির জনকের ভাস্কর্য রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু মৌলবাদী গোষ্টি ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশের শান্তি নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু তা হতে দেবো না আমরা প্রকৌশলীরা। দেশের শান্তি বজায় রেখে দেশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে হবে। মৌলবাদীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেই দিকে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩১৬
০৩ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৮ জনের।নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩১৬ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৭১ হাজার ৭৩৯ জনে। বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
প্রতিবন্ধী মানুষের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
০২নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী মানুষের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের জনগণ, সংশ্লিষ্ট সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সকল আর্থসামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। সকলের সম্মিলিত কর্মপ্রয়াসে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী ২৯তম আর্ন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২২তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে আজ এক বাণীতে এ আহবান জানান। তিনি বলেন, ২৯তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২২তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে এদেশের সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের জীবনমান উন্নয়নে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের প্রতিপাদ্য কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করি, নতুনভাবে টেকসই বিশ্ব গড়ি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথোপযুক্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীরা জাতির বোঝা নয়, সম্পদ। সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানাবিধ কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধশীল জাতি বিনির্মাণে সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ, ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধীবান্ধব গণস্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বহুবিধ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকান্ডের মাধ্যমে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছেন। সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের চারমেয়াদের শাসনামলে এদেশের প্রতিবন্ধী জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন আইন/বিধি/নীতিমালা/কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩; নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন, ২০১৩; বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৯; প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা, ২০১৯ এবং প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, ২০১৯ প্রণয়ন অন্যতম বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ২৯তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২২তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
আঙ্কারায় স্থাপিত হবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য : তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত
০২নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান, একইসাথে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও আধুনিক তুরস্কের পিতা কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া ও মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। তুর্কি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির অনেক মিল রয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং কোভিড পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি আসবেন বলে সম্মতিও দিয়েছেন। এছাড়া, তুরস্কের টেলিভিশন টিআরটির ইংরেজি চ্যানেলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং আগামী বছর আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দু দেশের মধ্যে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিনিময় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু ও ঢাকায় কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য স্থাপনের পাশাপাশি তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামেও অনুরূপ কিছু করা যায় কিনা সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে, জানান ড. হাছান। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি আমরা মুজিববর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেব। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাংলাদেশের প্রতীক আর কামাল আতাতুর্ক হচ্ছেন তুরস্কের প্রতীক। এই দুই নেতার ভাস্কর্য দুই দেশে স্থাপন করবো এ ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাষ্ট্রদূত বলেন, আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবং ঢাকার কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য স্থাপিত হবে। শিগগিরই এই কাজ শুরু করা হবে।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত অনুমোদন
০২নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (০২ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৪তম বৈঠকে প্রস্তাবটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্রয়ের নিমিত্ত পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২)-এ উল্লিখিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার ছাড়া কেন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার জন্য প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। প্রস্তাবটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি সেটা সুপারিশ করেছে। আর টাকা-পয়সার বিষয়ে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে যখন আসবে তখন আলোচনা হবে। তবে এককালীন কিনতে হলে ৫ কোটি টাকার বেশি হলে ক্রয় কমিটিতে আসে। এককালীন কিনতে গেলে এর দাম ৫ কোটি টাকার বেশি হবে। এজন্য ক্রয় কমিটিতে আনতে হবে। ৫ কোটি টাকার বেশি হবে দেখেই কি পিপিআর অব্যাহতি নেওয়ার জন্য প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল এমন প্রশ্নেন জবাবে তিনি বলেন, পিপিআর অব্যাহতি নিতে আসেনি। পিপিআরের মধ্যেই সব নিয়ম অনুসরণ করে পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২)-এ উল্লিখিত মূল্যসীমার ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হলেই এই কমিটি বিবেচনা করবে। পিপিআরের সেই ধারাটা ফলো করার জন্যই এই কমিটিতে আনা হয়েছে। এর আগে ৩০ নভেম্বর সচিবালয়ে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোভিড-১৯ সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের সবশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে জনানো হয়, গত ১৪ অক্টোবরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিন কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠালে বুধবার সেই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিন মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব বলেছিলেন, মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেওয়া হবে। টাকা সরকার পে করে দিচ্ছে। তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মেজর করাপশন কেউ করলে আমাদের জানাবেন, আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। ভ্যাকসিন কিনতে সরকারের খরচ কত হবে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয়ের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, আরও অনেকগুলো ভ্যাকসিনের বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেছে যোগাযোগ রাখছে। এখনই বলা যাচ্ছে না কোনটা বেশি ইফেকটিভ হবে। আমাদের এক নম্বর কন্ডিশন হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মানতে হবে। যার সঙ্গে চুক্তি করবেন, যদি মেজর কোনো সমস্যা হয় তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলের বাইরে গেলে ওই চুক্তির কোনো মূল্য থাকবে না। চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রিজেক্ট করেনি। ওরা একটা টাকা চাচ্ছে। সরকার এখনও দেয়নি বা অ্যাগ্রি করেনি। আমরা ওটা এখনও বাতিলও করিনি। প্রথমে টাকা চায়নি, এখন টাকা চাচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর