শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, এর চেয়ে আরও বড় দূষণ রয়েছে মানুষের মনে ও চিন্তায় : প্রণব
মানুষের মনের ও চিন্তার দূষণ দূর করতে হবে : প্রণব বাংলাদেশ সফররত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, এর চেয়ে আরও বড় দূষণ রয়েছে মানুষের মনে ও চিন্তায়। এই দূষণ দূর করতে হবে। একমাত্র শিল্পী, স্রষ্টা, লেখক, কবি, সাহিত্যিকরাই চিন্তার ও মনের সেই দূষণ দূর করতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,ভয়াবহ এই দূষণের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব স্রষ্টাদের। সাহিত্যিক, কবি, লেখকরা নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে মানব সভ্যতার ইতিহাস এ কথা বলে গেছে যে হিটলার, মুসোলিনিরা নয়, সভ্যতার ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন প্রফেট, ক্রাইস্ট, বুদ্ধা। দিগ্বিজয়ী বীরেরা নয়, সভ্যতার ইতিহাসের দিক নির্মাণ করেছেন লেখক-কবি-সাহিত্যিক তথা শিল্পীরা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্ত্বরে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন-১৪২৪- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম এবং সম্মেলনের আহবায়ক এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আরও বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী যোগেন চৌধুরী ও সংসদ সদস্য সরজু রাই। ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেন, একটি বড় যুদ্ধে যত মানুষ মারা যায়, গত এক দশকে তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে শুধু সন্ত্রাসবাদের কারণে। বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ববাংলা) মানুষ রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি নয়, যারা আন্দোলন করে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেছেন তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। গর্বের বিষয় একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণব মুখার্জি বলেন, হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্যকে তারা লুট হয়ে যেতে দেননি। আগ্রাসকদের হাতে ধ্বংস হয়ে যেতে দেননি। সংস্কৃতিকে তারা রক্ষা করেছেন। মাতৃভাষার অধিকারকে প্রতিষ্ঠায় বুকের রক্ত ঢেলেছে বাঙালি। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা পাসের জন্য দিগিজয়ী বীরদের নিয়ে পড়াশোনা করা যায়, পাসের পর তা বেমালুম ভুলে যাই। কিন্তু শিল্পীর ছবি, কবিতা বা প্রিয় উপন্যাস কখনো ভোলা যায় কি? যে গান, সানাই বা সরোদের সুর আমাদের প্রিয়, তা কখনো ভুলতে পারি আমরা? ১৯৬৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রণব মুখার্জি বলেন, আমি পড়ুয়া, পড়তে ভালবাসি। তবে রাজনৈতিক জীবনে পড়তে পারিনি। তবে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে এত বই রয়েছে যে তিনবার রাষ্ট্রপতি হলেও তা পড়ে শেষ করা যাবে না। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে রাষ্ট্রপতি ভবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ভবনে আধুনিক ভারতবর্ষের প্রচুর কাগজপত্র, অনেক দুষ্প্রাপ্য গোপনীয় রেকর্ড, পড়বার জন্য প্রচুর উপাদান পেয়ে গেলাম। হিসাব করে দেখলাম এসব পড়তে গেলে তো এক প্রেসিডেন্সিয়াল টার্মে হবে না, তিনটা টার্ম লাগবে। তার আগেই ঈশ্বরের সমন এসে যাবে। আমি ভাবলাম, যতটা পারা যায়, আমি পড়ব।
আজ আদালতে হাজিরা খালেদা জিয়ার
দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আজ মঙ্গলবার (১৬ই জানুয়ারি) আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়া রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে যাবেন। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী হিসেবে যুক্তি উপস্থাপন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। এর আগে, গত বছর ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। গত ২০,২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩,৪,১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। গত ১১ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত পরবর্তী তারিখ হিসেবে ১৬, ১৭ ও ১৮ই জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রণব মুখার্জির সৌজন্য সাক্ষাৎ
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা বলে অভিহিত করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। গণভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানান, বেলা ১২ টার দিকে গণভবনে প্রবেশ করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসময় প্রণব মুখার্জির কাছে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে প্রণব মুখার্জি বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা। এছাড়াও রোহিঙ্গা সঙ্কট ও তাদের আশ্রয় দেওয়ার সার্বিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিজের অবসরকালীন সময় বই পড়ে কাটানোর ব্যাপারে জানিয়েছেন প্রণব মুখার্জি। তিনি বলেছেন, আগে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কারণে সময় পেতাম না। এখন অনেক সময় পাই, অবসরের পর বই পড়ছি। আমার জীবন কেমন কাটছে তা প্রধামন্ত্রীকে জানিয়েছি। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন ভারতের এ সাবেক রাষ্ট্রপতি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি। এর আগে সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্দা জানান প্রণব মুখার্জি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। উল্লেখ্য, ঢাকা আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের ব্যক্তিগত সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। ১৪ জানুয়ারি (রবিবার) বিকাল ৪টায় জেট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। আগামী ১৮ জানুয়ারি তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভোলা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
দ্বীপ জেলা ভোলায় নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বাধীনতা যাদুঘরটিও। আগামীকাল ২ দিনের সফরে ভোলায় পৌঁছে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ এ সকল স্থাপনার উদ্বোধন করবেন। জেলার এই উন্নয়ন কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতি অংশগ্রহণ করায় আনন্দিত ভোলাবাসী। নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। উদ্বোধনের অপক্ষোয় ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, জ্যাকব টাওয়ার। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ এটি উদ্বোধন করবেন। পরে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ভবনের উদ্বোধন শেষে বিকেলে টি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি। রাতে চরফ্যাশনের চর কুকরী মুকরীতে নবনির্মিত একটি রেস্ট হাউজে রাত্রি যাপন করবেন তিনি। পরদিন সকালে চর কুকরী মুকরীতে একটি ইকোপার্কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে সদর উপজেলায় নির্মিত স্বাধীনতা যাদুঘর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি।রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক মোহা. সেলিম উদ্দিন বলৈন, নিরাপত্তার ব্যপক প্রস্তুতি। প্রায় এক হাজারের উর্ধ্বে বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব জানান রাষ্ট্রপতির আসাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে তাকে সম্মান জানানোর জন্য, বরণ করার জন্য এখানে টি বি স্কুলের মাঠে গার্ড অফ অনার এবং টাওয়ার পরিদর্শনসহ ও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের সকল প্রস্তুতি আমরা এরইমধ্যে গ্রহণ করে ফেলেছি। রাষ্ট্রপতির সফরকালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থে কানাডার আরো বিনিয়োগ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে আমাদের আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আমরা দেশে ১শ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি।এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে চায়। তাই আমরা বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আকারে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশে কানাডার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিনোইট প্রিফানটেইন রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার চায় দেশে গণতন্ত্র সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত থাকুক। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালু এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কথা উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। জবাবে কানাডার হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে একজন বিশেষ দূত পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দ্রুত সহায়তা প্রদান বিশেষ করে তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দুবার বৈঠকের কথাও স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অসামান্য সাফল্য ও অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি সরকার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করছে। তাদের বৃত্তির অর্থ সরাসরি মায়েদের সেলফোনে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিনোইট প্রিফানটেইন বলেন, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে কানাডা কাজ করে যাবে। বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে কানাডা খুবই আশাবাদী। হাইকমিশনার বলেন, টরেন্টো শহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কানাডা স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীর আরো ক্ষমতায়নে কানাডা সহায়তা করতে চায়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ইজতেমার মোনাজাত দেখে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মোনাজাতে অংশ নেন
গণভবনে বসে কর্মীদের সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ইজতেমার মোনাজাত দেখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। তুরাগ নদীর তীরে লক্ষাধিক মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন। এ উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে টঙ্গীর তুরাগতীরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।
শেষ হচ্ছে এজতেমার প্রথম পর্ব আজ আখেরি মোনাজাত
বাংলায় মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা যোবায়ের হাসান এবার ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে ছাড়াই আজ রবিবার বিশ্ব এজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এলেও টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার ফিরে গেছেন। মাওলানা সাদ কয়েক বছর ধরে এজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তার পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা যোবায়ের হাসান বাংলা ভাষায় আজ (রবিবার) আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে এজতেমা সূত্রে জানা গেছে। বেলা ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন এজতেমার শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বিরা। এদিকে নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। তাই অর্ধশতাধিক বিদেশী মুসল্লি এজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন। আগামী বছর বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ১১ জানুয়ারি হতে। এদিকে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির পদচারণায় কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগপারের বিশ্ব এজতেমাস্থল এখন মুখরিত। শিল্পনগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। এবারের এজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও রাসুল (সঃ) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির, আসকার, ইবাদত-বন্দেগী আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র কোরানের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। আজ (রবিবার) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিমবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত এবারের ৫৩তম বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্ব। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজতেমা ময়দানে বিদেশী নিবাসের পূর্বপার্শ্বে বিশেষভাবে স্থাপিত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত হবে হেদায়তি বয়ান। রবিবার হেদায়তি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের বিশ্ব এজতেমার তিন দিনের প্রথম পর্ব। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের আসা ও যাওয়া নিরাপদ করতে শনিবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত এজতেমা ময়দানগামী সড়কে যানবাহ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। এদিকে এবারও বিশ্ব এজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। মহান আল্লাহতাআলার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় দীনের দাওয়াতে মেহনত করার জন্য ইসলামের মর্মবাণী সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন টঙ্গীর তুরাগ তীর এজতেমা ময়দানে। শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। রবিবার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে এজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেছে। মূল প্যান্ডেলে স্থান না পেয়ে অনেক মুসল্লি নিজ উদ্যোগেই প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন সিট ও কাপড়ের শামিয়ানা টানিয়ে তাতেই অবস্থান নিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার বন্দনা, আরজ-গুজার, শোকরানা আর ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল মানুষের কলরব। সৃষ্টিকর্তার দিদার লাভের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হেঁটে, র্যা ব ও পুলিশ পাহারায় বাস ও ট্রেনে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব এজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এদিকে ২০১৫ সাল হতে দেশের মোট ৬৪টি জেলাকে দুবছরে চার পর্বে বিভক্ত করে এজতেমার আয়োজন করায় এবারের প্রথম পর্বের এজতেমায় আগত মুসল্লিরা স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে সময় কাটিয়েছেন। এলাকাবাসীও নানা ভোগান্তি থেকে অনেকটা মুক্ত ছিল। এদিকে এবারও তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিরা রেডিও-টিভিতে আখেরি মোনাজাত সরাসরি সম্প্রচারে অনুমতি দেননি। ক্যামেরাও মুরব্বিদের ছবি তোলাও বারণ করে দিয়েছে এজতেমা কর্তৃপক্ষ। তারপরও কিছু কিছু বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এজতেমা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আখেরি মোনাজাত সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার আখেরি মোনাজাত করবেন বাংলাদেশের মাওলানা যোবায়ের ॥ এবারে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি গত বুধবার বাংলাদেশে এলেও তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠায় টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার দুপুরে জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে বাংলাদেশ থেকে ফিরে গেছেন। ভারতের মাওলানা জোবায়রুল হাসান মারা যাওয়ার পর তিনিই (মাওলানা সাদ) বিশ্ব এজতেমায় হাল ধরেছিলেন। বিশ্ব এজতেমায় উর্দূতে বয়ান করা ছাড়াও তিনি একই ভাষায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করতেন। কিন্তু এবার আখেরি মোনাজাত ও হেদায়তি বয়ান দুই-ই হবে বাংলায়। শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ মুরব্বিদের এক পরামর্শ সভায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনাকারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ব এজতেমা আগামী বছর শুরু হবে ১১ জানুয়ারি ॥ আগামী বছর বিশ্ব এজতেমা ১১ জানুয়ারি হতে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ মুরব্বিদের এক পরামর্শ সভায় ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব এজতেমার মুরব্বি মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্ব ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশী অর্ধশতাধিক মুসল্লি ফিরে গেছেন ॥ নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। তাই এবারের বিশ্ব এজতেমায় যোগ দিতে আসা ৫৮ বিদেশী মুসল্লি এজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক মুসল্লি। গাজীপুর পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯টি দেশের ৪হাজার ৫৩১ বিদেশী নাগরিক টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানে এসে যোগ দেন। এদের মধ্যে শুক্রবার আমেরিকার ১১, মালয়েশিয়ার ১৫ ও ইন্দোনেশিয়ার ১২ মুসল্লি এবং শনিবার ইন্দোনেশিয়ার আরও ২০ মুসল্লি টঙ্গীর এজতেমা ময়দান থেকে ফিরে গেছেন। তবে তারা কেন চলে গেছেন তা জানা যায়নি। দ্বিতীয় দিন (শনিবার) যারা বয়ান করলেন ॥ নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার মুসল্লিদের উদ্দেশে বাদ ফজর বয়ান করেন কুয়েতের মুরব্বি ইব্রাহিম রেফা। তার বয়ান বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুর রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কাকরাইলের মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। এছাড়াও বাদ যোহর সুদানের মাওলানা ড. জাহাদ, বাদ আসর বাংলাদেশের নূরুর রহমান ও বাদ মাগরিব মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করেন। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি এজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ফজিলতপূর্ণ এ বয়ান শোনেন। বিদেশীসহ আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু ॥ বিশ^ এজতেমা ময়দানে শুক্রবার রাতে এক বিদেশীসহ আরও দুই মুসল্লি মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে বিদেশী কামরায় মালেশিয়ার নাগরিক নূরহান বিন আব্দুর রহমান (৫৪) ওজু করতে গিয়ে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও রাত সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের রূহিতা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৪) নিজ খিত্তায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ নিয়ে গত দুই দিনে এজতেমা ময়দানে এ পর্যন্ত তিনজন মুসল্লি মারা গেছেন। এবারও যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়নি ॥ বিশ্ব জতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আছর এজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হতো। গত বছরের মতো এ বছরও ওই বিয়ের আয়োজন থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব এজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মোঃ গিয়াস উদ্দিন।
সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে না যায়, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে' প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহিত্যের অন্বেষণকে মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং যৌক্তিকতাবোধকে শাণিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিশ্বজুড়ে আজ এক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য গ্রাস করে নিতে চাচ্ছে সকল শুভবোধকে। এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে লড়তে হলে আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে। আর এজন্য সাহিত্য চর্চার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন,সাহিত্য মানুষকে যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল করে তোলে। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন-১৪২৪র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সভ্যতা বিকশিত হয়েছে মানুষের সৃজনশক্তিতে। আর এই সৃজনশীলতার বাহন হচ্ছে ভাষা। আর তাই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। সাহিত্যচর্চা মানুষের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অমিত সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়। যে সমাজের সাহিত্য যত ঋদ্ধ, সেই সমাজ তত বেশি সভ্য। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিও অনেক সুদৃঢ়। আর সে কারণেই বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহবায়ক এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত ঘোষ, সহ সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহ সভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কবি শামসুর রাহমানের একটি কবিতা অনুষ্ঠানে আবৃতি করেন এবং আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ভারত, জাপান এবং জার্মানী থেকে আগত প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সাহিত্য সম্মেলনের যৌথ আয়োজত বাংলা একাডেমী, নিখলি ভারত বঙ্গ সাহিত্য কেন্দ্র এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ। বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ গুরুসদয় দত্তের এই অমিয় বাণীকে ধারণ করে আয়োজিত হচ্ছে এবারের আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। শেখ হাসিনা সম্মেলনের এই মূল প্রতিপাদ্যের উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত সব বাঙালির মনে রাখতে হবে যে, আমাদের শেকড় হচ্ছে বাংলা। এই বাংলাভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়। তিনি বলেন, বাঙালিরা কারো কাছে কখনো মাথা নত করে না, মাথানত করতে জানে না। কাজেই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করেই আমাদের চলতে হবে। আমরা বাঙালি এটি ভুলে গেলে চলবে না। আজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাঙালির অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। আমাদের সাহিত্য আরও ঋদ্ধ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন একদিকে নতুন সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করবে, অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্যকে তুলে ধরবে । আজকে এই সম্মেলনে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমাদের এই ঋদ্ধ ভাষায় যাঁরা সাহিত্যচর্চা করছেন, তাঁদের একত্রিত করার এই যুগোপযোগী উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির সাহিত্য সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি দেন। আমি বিশ্বাস করি জনগণই সব সাহিত্য ও শিল্পের উৎস। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনদিন কোন মহৎ সাহিত্য বা উন্নত শিল্পকর্ম সৃষ্টি হতে পারে না। আমি সারাজীবন জনগণকে সাথে নিয়ে সংগ্রাম করেছি, এখনও করছি। ভবিষ্যতে যা কিছু করব জনগণকে নিয়েই করব। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে বলেন, মায়ের মুখের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে বিশ্বে বাঙালি জাতি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রস্তাবে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এদিন সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। ১৫ মার্চ তাঁরা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতা। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। ১৯ এপ্রিল আবারও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসের শেষে তিনি মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেফতার করা হয়। কারাগার থেকেই তাঁর দিকনির্দেশনায় আন্দোলন বেগবান হয়। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন ভাষা শহীদরা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরবী এবং রোমান হরফে বাংলা লেখা চাপিয়ে দেয়ায় পাকিস্তানি শাসকশ্রেণীর চক্রান্তেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২১-এর রক্তরাঙা পথ বেয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন এবং স্বাধীকারের চেতনা ধীরে ধীরে এক দুর্বার গতি লাভ করে। বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কো কতৃর্ক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় তাঁর সরকার এবং কানাডা প্রবাসী সালাম, রফিকদের মহৎ অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কানাডা প্রবাসী সালাম ও রফিকসহ কয়েকজন বাঙালি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারাবিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সরকার প্রধান বলেন, আসলে মাতৃভাষা ছাড়া মানুষ কখনো নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তারই পদাংক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী নিজেও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কারণ আমি গর্ববোধ করি মাতৃভাষায় ভাষণ দিতে পেরে। তবে, এটা ঠিক যে, যুগের পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে। সভ্যতা অগ্রসরমান হলেও তার চাপে মাতৃভাষা কখনো হারিয়ে যাক তা আমরা চাই না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আজকে বাংলা ভাষার ওপর এই সাহিত্য সম্মেলন আমি মনে করি আমাদের দেশের মানুষকে ভাষা সম্পর্কে আরো সচেতন করবে। এটি মাতৃভাষার জন্য আরো সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে অমর একুশের ভাষা শহীদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদ্দীনসহ অন্যান্য সৃষ্টিশীল কবি-সাহিত্যিকদের; যাঁদের হাত ধরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আজ পত্রপল্লব মেলে মহীরূহে পরিণত হয়েছে, তাঁদেরও স্মরণ করেন। পরে প্রধানরমন্ত্রী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে না যায়, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে'