রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকার ঈদ উপহার
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় লোকদের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ১০ কোটি টাকার ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন তিনি। এতে নগদ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ত্রাণ তহবিল থেকে পাঠানো এই উপহার আজ মঙ্গলবার (১২ জুন) থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের কারণে উখিয়া ও টেকনাফের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সংকোচনসহ স্থানীয়দের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য তার ব্যক্তিগত ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকার ঈদ উপহার বরাদ্দ দেন। এসব টাকা কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফসহ জেলার ৩৩ হাজার ৩৩৪টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ঈদ উপহার হিসেবে নগদ এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা, সুগন্ধি পোলাওর চাউল, চিনি, গুঁড়া দুধ, লাচ্ছা সেমাই, সয়াবিন তেল, সরবতের বোতল, লুঙ্গি, শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী রয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আব্দুর রহমান জানান,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী আমরা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ শুরু করেছি। বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকার মধ্যে উখিয়া উপজেলার ১২ হাজার ৫শ পরিবারের মধ্যে দুই কোটি ৫০ লাখ, টেকনাফ উপজেলার ছয় হাজার পরিবারের মধ্যে এক কোটি ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও চকরিয়া উপজেলার তিন হাজার ৫৮০ পরিবারের মধ্যে ৭১ লাখ ৬০ হাজার, পেকুয়া উপজেলার এক হাজার ৮৩৪ পরিবারের মধ্যে ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার, কুতুবদিয়া উপজেলার এক হাজার ৭৯০ পরিবারের মধ্যে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার, মহেশখালী উপজেলার দুই হাজার ৮৩০ পরিবারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার, রামু উপজেলার দুই হাজার ৬৩০ পরিবারের মধ্যে ৫২ লাখ ৬০ হাজার ও কক্সবাজার সদর উপজেলার দুই হাজার ১৭০ পরিবারের মধ্যে ৪৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ হিসাবে ধরা হয়েছে। এসব পরিবারকে দুই হাজার টাকা করে নগদ দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে প্রতিটি পরিবারের মাঝে দুই কেজি চাল, এক কেজি চিনি, ৫শ গ্রাম গুঁড়া দুধ, ২শ গ্রাম ওজনের ৪টি লাচ্ছা সেমাইর প্যাকেট, এক লিটার সয়াবিন তেল, ৭৫০ মিলিলিটারের একটি সরবতের বোতল, লুঙ্গি ও শাড়ি রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে জেলার ৭১টি ইউনিয়নে একযোগে এসব উপহার বিতরণ শুরু করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন,ধনীদের জন্য নয়, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। আজ (মঙ্গলবার) থেকে জেলার ৩৩ হাজার ৩৩৪টি পরিবারের মধ্যে এগুলো বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ১০ কোটি টাকার মধ্যে নগদ ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার নগদ বিতরণ হবে। এতে প্রত্যেকটি পরিবার এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহার বিতরণ করেন ত্রাণমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এসব উপহার সামগ্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা শোভিত খাম ও ব্যাগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে নব্বই দশক থেকেই সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কক্সবাজারে ঢুকেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তবে গত বছরের শেষ দিকে পাশবিকতার শিকার হয়ে এক সঙ্গে ঢুকেছে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ রোহিঙ্গা। আগের অবস্থানকারীসহ এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখে। এত সংখ্যক আশ্রিতদের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর আগেও উখিয়া-টেকনাফের চাষিদের জন্য সরকার আধুনিক ধানমাড়াই মেশিন সরবরাহ করেছে। এবার ঈদুল ফিতরে উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার সহায়তা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার জেলার ৩৩ হাজার পরিবারকে প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার সামগ্রী বিতরণ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এসময় ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান উপস্থিত
নূর চৌধুরীকে ফেরাতে সরকার কানাডার আদালতে লড়বে
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে ফেরত আনতে তাঁর সরকার কানাডার আদালতে লড়বে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে কানাডা প্রবাসী সকল বাংলাদেশীর সাহায্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, জাতির পিতাকে সরাসরি গুলী করে হত্যাকারী নূর চৌধুরী বর্তমানে গোপনে কানাডায় বসবাস করছে। খবর বাসসর প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের শাস্তি কার্যকর করতে চাই কেননা তারা বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ। তিনি আজ রাতে আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রদত্ত ভাষণে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক অন্য খুনীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। যাদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং রশিদ ও ডালিম পাকিস্তানে বসবাস করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করায় এবং যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে শুরু করেছে। মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আক্তার জানু, অন্টারিও প্রদেশ শাখা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম, ইরতাহাদ জুবেরী সেলিম, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মহমুদ মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্স অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন। শেখ হাসিনা বলেন,৭৫ পরবর্তী শাসকেরা আমাদের দেশের গনতন্ত্রই কেবল ধ্বংস করেনি উপরন্তু সমগ্র অর্থনীতিকেও ধ্বংস করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেশের মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে তাঁর গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে অব্যাহত রাখতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশে তাদের স্বজনদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আগামীর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে দেশের উন্নয়নের গতি বজায় থাকে। আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান তার তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং কারফিউ গণতন্ত্রের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রকে কলুষিত করেছিল। বিএনপি গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই এবং এটি ছিল তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তুু জনগণ কেন তাদের ভুলের খেসারত দেবে, কেন তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করবে, প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে দিন বদলের সনদ ঘোষণা করে তার বাস্তবায়ন শুরু করে, ২০১৪ সালে তাঁর দলের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন অব্যাহত রাখা। এখন তাঁর দল নতুন রূপকল্প নির্ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নির্দিষ্ট কোন দল বা গোষ্ঠী নয় বরং সমগ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পল্লীর মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। জনগণ উন্নয়নের এ সুফল ভোগ করছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে এবং অনেক আগে এই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারের নিরিখে তাঁর সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড ও বার্ষিক বাজেট তৈরি হয়। যা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় না। এ জন্য আমরা এখন বলতে পরি যে, আমরা লক্ষ্যের চেয়েও বেশি করেছি এবং সব খাতে এর প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগির দেশের সব এলাকা বিদ্যুতের আওতায় আসবে। ২০০৮ সালের ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বিগত ৯ বছরে ১৮ হাজার ৩শ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। দেশব্যাপী ১শ শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। শিল্পস্থাপনে প্রবাসীদের প্লট দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৯ মাসে স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে দেশ ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে উন্নত হতো। তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক খাতে ৯ বছরে বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে এবং পল্লীর জনগণ এর সুবিধা ভোগ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান এখন সমুদ্র থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণে বিশ্ব সম্প্রদায় এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখছে। ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণের জন্য জরীপ চলছে। ধ্বংসাত্মক রাজনীতির জন্য বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকান্ড কখনো চোখে দেখে না। কিন্তু তারা সব উন্নয়নের সুফল ভোগ করে। তারা এতিমদের নামে টাকা নেয়। কিন্তু এতিমরা এর কোন টাকা পায় না। দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজাকে আদালতের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সরকারের করার কিছুই নেই- কারণ তার বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালতে তাদের মক্কেলকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতি তাঁর দলের কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। তাঁর সরকার চাইলে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী বিএনপির নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অপতৎপরতার সময় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে পারতো।
যে পরিবর্তন করা হয়েছে সম্পূরক বাজেটে তা সামান্য: অর্থমন্ত্রী
এবারের সম্পূরক বাজেটে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আজ সংসদে সম্পূরক বাজেটের উপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি আরো বলেন বিভিন্ন বিভাগের জন্য সংসদ সরকারকে যে ক্ষমতা দিয়েছে সেটা যতদুর সম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটের একটি ভাল দিক হলো, যদিও বাজেট বাস্তবায়ন যথেষ্ট কম হয়েছে, কিন্ত গত কয়েক বছরে সরকার বৈদেশিক সাহায্যের যে পাহাড় গড়ে তুলেছে, সেই পাহাড়ে এবার কিছুটা ধস নেমেছে। এবার বৈদেশিক সাহায্য বেশ ভালভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার সেখান থেকে ৫২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চেয়েছিল, খরচ করেছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রী বলেন,সম্পূরক বাজেট যেভাবে পাস করা হয়, তা সংবিধান সম্মত। সংবিধান আমাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছে। এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে বলে কলকারখানার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করতে, গত বছর সুনামগঞ্জের হাওড়ে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে জননিরাপত্তা বিধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ জন্য অতিরিক্ত খরচ মেটাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন,সার্বিকভাবে সম্পূরক বাজেটে যে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তা যৌক্তিক। আমরা ঋণ করে ঘি খাইনি, মানুষের কল্যাণে তা খরচ করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সম্পূরক বাজেটে যে পরিবর্তন ও সংযোজন হয়েছে তা বাস্তব সম্মত। বাজেটের যে লক্ষ্য ছিল তা অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের লুটপাট হচ্ছে বলে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকার বসে নেই, বেসিক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়মে জড়িত ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাত একটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামী ব্যাংককে অ্যাগ্রেসিভ ঋণ দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং তাদের বলা হয়েছে,আমরা আরেকটি বেসিক ব্যাংক দেখতে চাইনা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষিতে তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তৃকির সুপারিশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এবারের বাজেটও বাস্তবায়ন হবে এবং দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, বাজেটে ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ রাখা এবং আড়াই শতাংশ কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, এটা ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য আরো বেড়ে যাবে। ব্যাংকিং খাতকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্থনীতিতে ধস নামবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মুক্ত বাজার অর্থনীতির সমালোচনা করে বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি বাধা। করের চেয়ে ভ্যাট বেশি আদায় করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্যদ্রব্য থেকে ভ্যাট আদায় ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে। কারণ, একজন ধনী ব্যক্তি একটি পানীয় কিনে যে পরিমাণ ভ্যাট দেয়, তেমনি একজন গরিব লোকও ওই একই পানীয়ের জন্য একই পরিমাণ ভ্যাট দেয়। এতে ধনী-গরিবের বৈষম্য তৈরি করে। জাতীয় পার্টির সদস্য রওশন আরা মান্নান ও সেলিম উদ্দিন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
আইন আসছে মাদকের গডফাদার নির্মূলে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান আইনে সরাসরি গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না জানিয়ে অতিদ্রুত নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সংসদকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বেগম পিনু খানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন,বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এ মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। তিনি বলেন,মাদকের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে, কর্তৃত্বে বা অধিকারে মাদকদ্রব্য না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে মাদক ব্যবসায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীরা সহজেই পার পেয়ে যায় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন,এই আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন,এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে।
নারী ক্রিকেট দলকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টি-২০ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে এই স্মরণীয় জয় ছিনিয়ে এনেছে। ভারত প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করে জয় তুলে নেয়। রাষ্ট্রপতি তার অভিনন্দন বার্তায়, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টি-২০ এশিয়া কাপ দলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহিলা ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। আমি তাদের টিম স্পিরিট এবং তাদের অসাধারণ সাফল্যে সত্যিই গর্বিত।’ রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এই ক্রিকেট দলটি আগামীতেও তাদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে। জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় অবস্থানরত শেখ হাসিনা টি২০ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়ায় জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়ার, কোচ এবং সকল কর্মকর্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক বার্তায় বলেন, সমগ্র জাতি বাংলাদেশ দলের টিম স্পিরিট ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপূণ্য দেখে গর্বিত। শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধূলায় বর্তমান সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন এই ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দলের বিজয়ের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
রেলে যাত্রী পরিবহন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে
বিগত চার বছরের বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৮ কোটি আট লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে বলে জানিযেছেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। আজ রোববার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী সেবা বৃদ্ধির ফলে রেলে যাত্রী পরিবহন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। রেলওয়ের ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যাত্রী সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৪৯ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছয় কোটি ৭৩ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাত কোটি আট লাখ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাত কোটি ৭৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে। তিনি বলেন, রেলওয়েতে এখন প্রতিদিন ৮৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ১২৬টি লোকাল ট্রেন, ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন এবং চারটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনসহ সর্বমোট ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় সাত শ’টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ই-টিকেটিং এবং অন-লাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয় সহজ করা হয়েছে।
বিআরটিসির বেতন-ভাতা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বিআরটি’র জন্য চার শ’ বাস, পাঁচ শ’ ট্রাক ক্রয়ের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আজ সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য সেলিম উদ্দিনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিগগিরই আরও দুই শ’ এসি বাস কেনার দরপত্র আহ্বান করা হবে। চালকসহ বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং ডিপোগুলোতে স্বচ্ছলতা আনার জন্য ডিজিটাইজড করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্কেল, ২০১৫ এর বাস্তবায়নের আগে বিআরটিসি অপারেটিং লাভে ছিল। কিন্তু পরিবর্তী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৭৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন. ‘সেবাই আদর্শ’ এ মুলমন্ত্র ধারণ করে বিআরটিসি জনগণকে স্বপ্লমূল্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা দেয়ার জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিআরটিসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পেনশন/গ্র্যাচুইটির যাবতীয় খরচ কর্পোরেশন নিজস্ব আয় থেকে বহন করে থাকে। সরকারের কাছ থেকে এ বাবদ কোন অর্থ গ্রহণ করে না। লোকসানের কারণসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, পে-স্কেল, ২০১৫ বাস্তবায়নের ফলে বিআরটিসির বেতন-ভাতা পূর্বের তুলনায় প্রতিমাসে ২.৮ কোটি টাকা বেড়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি পরিশোধ, গাড়ির ভাড়া বৃদ্ধি না করা, গাড়িগুলো ক্রমান্বয়ে পুরাতন হয়ে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণসহ পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি ও চালক, কারিগর ও কন্ডাক্টর পদে লোকবলের সংকট। মন্ত্রী বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকার থেকে বিআরটিসি বকেয়া বেতন-ভাতা এবং গ্র্যাচুইটি খাতে ২১ কোটি টাকা সুদ মুক্ত ঋণ হিসেবে পেয়েছে।
খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল
কারাবন্দি খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন বরে দাবি করে তার আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ায় উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল।’ রোববার কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা নাশকতার এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত। এরপর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে বক্তব্য আদালতে (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) রেখেছেন, আমি জানি এ বিষয়টি নিয়ে তারা মিডিয়াকে মাতাবেন, অনেক কিছু বলবেন। তাই আমি আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইজি প্রিজন যে তথ্য আমাকে দিয়েছেন, গত ৫ জুন ইফতারির ঠিক আগে আগে ওনার (খালেদার) সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পরে উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল। এ বয়সে যার ডায়াবেটিক আছে তার সুগার লেভেল তো সারাদিন পরে একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা আমার কাছে বিশেষ রকম ব্যাপার মনে হয়, আজ একটি মামলার তারিখ, আর তার আগের দিন গতকাল তার চিকিৎসকরা কারাগারে গেলেন। কারাগার থেকে এসেই এমন একটা প্রেস কনফারেন্স করে ফেললেন যে, তিনি অজ্ঞান ছিলেন। তিনি যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে নিশ্চই আইজি প্রিজনের কাছে রিপোর্ট থাকত, সিভিল সার্জন জানত। এগুলো নিয়ে তারা একটি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। উনি অজ্ঞান হননি, উনার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিলো। এই হলো আসল কথা।’ ডাক্তার বলছে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে এ সম্পর্কে অ্যাটর্নি বলেন, ‘এটাও ঠিক না। তিনি অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে স্ক্যান করা হতো। তার চিকিৎসায় সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, কোন আসামির ব্যাপারে আপনারা দেখেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চাইলে যেতে দেওয়া হয়? কিন্তু তারা যাতে কোনোরকম সরকারকে দোষারোপ করতে না পারে এ জন্যই সরকার বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে অনুমতি দিয়েছে।’ মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসকরাও যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান এবং এ ধরণের কথা বলেন তিনি অজ্ঞান হননি তারা বলছে সাত/আট মিনিট অজ্ঞান ছিলেন, এটা দুঃখজনক।’ ‘আজকে মামলার শুনানি অথচ ব্যাক্তিগত চিকিৎসকরা গতকাল গেল তার সঙ্গে দেখা করতে। ৫ জুন যদি তিনি অজ্ঞান হতেন তাহলে সেদিনই বিষয়টি মিডিয়াতে আসত। কিন্তু তা আসেনি। আজ ১০ জুন। এ বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। একটা বিভ্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’ আদালতের সহানূভুতি পাওয়ার জন্যেই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে না’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক এবং আদালত অবমাননাকর। আদালত কারো কথায় চলে না। আমার কথা বা সরকারের কথায় চলার তো প্রশ্নেই আসে না। কাজেই এ কথাগুলো বলছেন তাতে মনে হচ্ছে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।’ বিএনপির আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বলে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তারা তাদের নিজেদের বিবেক, বিচার, বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হবেন। খালেদা জিয়াকে তারা (হাইকোর্ট) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন দিয়েছেন। সুতরাং এ রকম কোনো অভিযোগ করা অহেতুক যে, অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া কোনো জামিন হবে না। বহু মামলায় তারা জামিন নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু
শুরু হলো ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। রোববার (১০ জুন) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঈদের প্রথম ট্রেন ছেড়ে গেছে। এদিন ভোর নাগাদ কমলাপুরে আসতে শুরু করেন ঘরমুখো যাত্রীরা। কিছুটা দেরিতে হলেও ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন যাত্রীরা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের এই যাত্রায় অনেকটাই রোমাঞ্চিত তারা। আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে দিনের প্রথম ট্রেন সুন্দরবনের যাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি ৫০ মিনিট দেরিতে যাত্রা করে। অগ্রিম টিকিট নেয়া যাত্রীদের এটাই প্রথম যাত্রা। গত ১ জুন এ দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট দেয়া হয়। এদিন কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত হন। ট্রেনের ভিতরে জায়গা না পেয়ে যাত্রীদের অনেকেই ছাদে চড়ে বসেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তারা ছাদে চড়ে গন্তব্যের দিকে যেতে পারেননি। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্টেশন ও সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।