আজ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক: মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে আজ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় উপকূল চিহ্নিত সাত হাজার বর্গ কিলোমিটার ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র ও অন্য এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কার্যক্রম সফল করতে দেশের ৩৭ জেলার নদ-নদী, হাট-বাজার এবং মৎস্য আড়তে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই আদেশ অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাসুদ আরা মমি জানিয়েছিলেন, ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য ২৭টি জেলার সব নদ-নদী, সমুদ্র উপকূল এবং মোহনায় এই রূপালী মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকা ২৭ জেলা হচ্ছে- বাগেরহাট, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, শরীয়তপুর, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী। একইসঙ্গে সমুদ্র উপকূল এবং মোহনায় ইলিশ ধরা যাবে না। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ। এজন্য এই সময়ে দেশের মাছঘাট, মৎস্য আড়ৎ, হাটবাজার, চেইনশপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে। একসময় যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি এবং বিশ্বের দরিদ্র দেশের মডেল বলেছেন, আজ তারাই বাংলাদেশকে উন্নয়ন বিষ্ময় বলছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ইনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডের নবনির্মিত অডিও ভিস্যুয়াল সেন্টার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে। বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপি জোট আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবারও সে রকম চেষ্টা করে লাভ হবে না। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে, এর ৯০ দিন আগে যে কোন দিন দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রচলিত পবিত্র সংবিধান মোতাবেক জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর বাইরে কিছুই হবে না। আগামী নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাণিজ্যবান্ধব এবং শ্রমিক বান্ধব। তার প্রতিফলন ঘটেছে এই ইনভয় টেক্সটাইলস ফ্যাক্টরিতে। এ অত্যাধুনিক ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা শ্রমবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। মাসের বেতন সে মাসেই পাচ্ছেন। শিক্ষা, স্বাস্থসহ সবধরনের সুবিধা পেয়ে শ্রমিকরা খুশি। এই বাংলাদেশই তো জাতির পিতা দেখতে চেয়েছিলেন। ইনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবুল কাশেম মো. শিরিন, ভোলা জেলার আওয়ামী লীগ নেতা মঈনুল হোসেন বিপ্লব এবং ইনভয় গ্রুপের পরিচালক তানভির আহমেদ।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের নতুন মেডিকেল বোর্ড
অনলাইন ডেস্ক: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিএসএমএমইউর মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ৫ সদস্যের বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুনেসা। বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বিকাল পৌনে চারটায় খালেদাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে আগের চিকিৎসা বোর্ড পরিবর্তন করে খালেদার জন্য ৫ সদস্যের নতুন বোর্ড প্রস্তুত করা হয়। আগের বোর্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ থাকায় নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আর এই বোর্ডে যারা আছেন তারা দেশের সেরা চিকিৎসক।
রাজনীতি এখন গরিবের বউ !
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, আমাদের গ্রামে প্রবাদ আছে গরিবের বউ নাকি সবারই ভাউজ (ভাবি)। রাজনীতিও হয়ে গেছে গরিবের বউয়ের মতো। যে কেউ যে কোনো সময় ঢুকে পড়তে পারে, বাধা নাই। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত আবদুল হামিদ সমাবর্তনে তার লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে একথা বলেন। এসময় সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীরা হাসিতে ফেটে পড়েন। শনিবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ সমাবর্তন হয়। সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, গরিবের বউ হচ্ছে সবার ভাবি। এখন রাজনীতিও তেমন। যে কেউ চাইলেই রাজনীতিতে আসতে পারছে। কিন্তু অন্য পেশায় কেউ চাইলেই যেতে পারে না। এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২১ হাজার ১১১ জন গ্র্যাজুয়েট সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন। যা ঢাবির ইতিহাসে সর্বাধিক গ্র্যাজুয়েট। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৬টি স্বর্ণপদক, ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেয়া হবে। কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষার টানে তিনি বলেন, আমি যদি বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের লেকচারার হইতাম চাই, নিশ্চয়ই ভিসি সাহেব আমারে নেবেন না। বা কোনো হাসপাতালে গিয়া বলি, এতদিন রাজনীতি করছি, হাসপাতালে ডাক্তারি করতে দেন। বোঝেন অবস্থাটা কী হবে? এগুলো বললে হাসির পাত্র হওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না। রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি বলি এত বছর রাজনীতি করছি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর পদ দিতে পার। সেখানে আমাকে দিবে? কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, সবাই... ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি ডাক্তারি পড়ি... ভিসি সাহেবও অবসরের পর রাজনীতি করবেন। যারা সরকারি চাকরি করেন... জজ সাহেব যারা আছেন ৬৭ বছর চাকরি করবেন। রিটায়ারের পর বলবেন, আমিও রাজনীতিবিদ। আর্মির জেনারেল হওয়া সেনাপ্রধান হওয়া, সরকারি সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, কেবিনেট সেক্রেটারি রিটায়ার কইরা বলেন, আমি রাজনীতি করবো। কোন রাখঢাক নাই। যার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা তখনই রাজনীতি ঢোকে... তিনি বলেন, চাকরি করে যা করার করছে। এরপর বলছে রাজনীতি করবো। আমার মনে হয় সকল রাজনৈতিক দলকে এটা চিন্তা করা উচিত। হ্যাঁ এক্সপার্টের দরকার আছে। অনেক সময় বলা হয় পেশাভিত্তিক পার্লামেন্ট। হ্যাঁ পেশাভিত্তিক করেন। এমবিবিএস পাস করে সরাসরি রাজনীতি করেন। কোনো অসুবিধা নেই। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চাকরিতে না ঢুকে সরাসরি রাজনীতিতে ঢোকেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ৫৯ বছর, ৬৫ বছর ৬৭ বছর পুলিশের ঊর্ধ্বতন ডিআইজি, আইজিরাও রাজনীতি করবেন। মনে মনে কই, রাজনীতি করার সময় এই পুলিশ তোমার বাহিনী দিয়ে পাছার মধ্যে বাড়ি দিছো। তুমি আবার আমার লগে আইছো রাজনীতি করতে। কই যামু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। এই যে রাজনীতিবিদদের সমস্যা এই সমস্যার কারণও এটা। বিজনেসম্যানরা তো আছেই... শিল্পপতি-ভগ্নিপতিদের আগমন এভাবে হয়ে যায়। এগুলো থামানো দরকার। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির শিক্ষা নেওয়ার উপর জোর দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, এক্সপার্টের প্রয়োজন আছে। এক্সপারটাইজ হিসেবে তাদের মতামত নেন। তাদের কমিটি করে দেন, উপদেষ্টা করে দেন। ডাইরেক্ট রাজনীতির মধ্যে আইসা তারা ইলেকশন করবে, মন্ত্রী হয়ে যাবে এটা যেন কেমন কেমন লাগে। যার জন্যেই আমার মনে হয় আমাদের দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে কথা বলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখছি। ছাত্র সমাজের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই। যখন তফসিল হয়, দেখা যাবে অনেক ক্যালকুলেশন হবে। ভেজাল সৃষ্টি করে দিতে পারে। অনেকে অনেক স্বার্থে করতে পারে। কিন্তু সমস্ত ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করা উচিত না। এ ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে। যাতে কোনোভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। যারা ব্যক্তি বা অন্য স্বার্থ দেখতে চায় এদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফলও উঠে আসে রাষ্ট্রপতির কথায়। কলেজে পড়ার সময় আমরা প্রেমপত্র লিখছি। ভালো কোটেশন কিভাবে চিঠিতে দিলে সুন্দর হবে। এখন তো চিঠি লেখাই একেবারে নাই। এখনতো মেসেজ পাঠায়। ইংরেজিতে বাংলা লেখে। কী লেখে? ফেইসবুক-টেইসবুক এসব আমি বুঝি না। আমি ব্যাকডেটেড। রসিকতা করে তিনি বলেন, আপনারা যে প্রেমপত্রকে বিসর্জন দিছেন। প্রেমের সাহিত্য তো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়ে যাচ্ছে। প্রেমপত্র লেখার চর্চাটা অন্তত রাখেন। তাহলে প্রেমপত্রে সাহিত্য বেঁচে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। ছোটবাচ্চাদের মোবাইল দিয়ে বসায়া রাখে। এইটাও চিন্তা-ভাবনার বিষয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কমানো প্রয়োজন।... ট্রেনে-বাসে উঠলে পাশের যাত্রীকে বলতাম কোথায় যাবে। এখন কোনো কথাই নেই। বইয়াই মোবাইল টিপ দিয়া দেয়। তুই ব্যাটা জাহান্নামে যা, আমি আছি মোবাইল আছে। এই যে অবস্থা। আমার মনে হয় সামাজিক বন্ধন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের মতো স্ত্রী রাশিদা খানমের সঙ্গে নিজের খুনসুটির কথাও তুলে ধরেন আবদুল হামিদ। সমাবর্তনের লিখিত বক্তব্যে গুণগত মান সমুন্নত রেখে দেশের চাহিদা ও বিশ্বের জনশক্তি বাজারের কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর সম্প্রসারণ করার পক্ষে মত দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোকে যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, এ সংযোজন, বিয়োজন বা সম্প্রসারণ যাতে কোনো ব্যক্তি বা কতিপয় লোকের স্বার্থে না হয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে হয়। দেশের প্রয়োজনে এবং জাতীয় স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান আবদুল হামিদ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্স লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত করছে কি না, তা ভেবে দেখতেও বলেন রাষ্ট্রপতি। ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা ভাবতে হবে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। মনে রাখতে হবে, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে রেজিস্ট্র্রেশন করেছেন ২১ হাজার ১১১জন গ্র্যাজুয়েট। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যা। কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬টি স্বর্ণ পদক, ৮১জনকে পিএইচডি ও ২৭ জনকে এম ফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আরও বক্তব্য দেন উপাচার্য মো. অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রো উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ। আলোকিত বাংলাদেশ
২০২১ সালে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ২০২১ সালে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়। ২০২১ সালে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। শনিবার বিকালে গণভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লায়ন্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোনিবেশ করি। কিন্তু ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুৎ উৎপাদন যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সেখান থেকে কমে গেছে। আমি বুঝলাম না কিভাবে সেটি কমে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে। আর মুদ্রাস্ফীতি করে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানুষের মাথাপিছু আয় ১৭৫১ মার্কিন ডলার। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট বোন শেখ রেহেনা আমাকে বলেছিল ১৭ কোটি মানুষকে তুমি ভাত খাওয়াতে পারছ, আর কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পারবে না? আমি বলেছিলাম অবশ্যই পারবো। তাঁদের আশ্রয় দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে জাতি দেশের জন্য জীবন দিতে পারে তাঁরা কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যাবে। আজকে সব দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা শুধু লুটপাট করতে জানে। তাঁরা জানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে, মানুষ মারতে। এদের হাতে রক্ত লেগে আছে।
ট্রাফিক আইন: ১৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায়
অনলাইন ডেস্ক: শেষ হলো সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক সচেতনতামূলক অভিযান। এ সময় ক্রুটিপূর্ণ যানবাহন চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। ১৪ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাস জুড়ে চালানো অভিযানে অনেক কিছু হয়েছে। ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এত বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সহযোগিতাও করতে হবে। এ কারণে অভিযানের পুরোপুরি টার্গেট এখনও শেষ হয়নি। তবে ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর আইন না মানলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। শুক্রবার ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অপরাধে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬০০টি মামলা করে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে ফিটনেস সংক্রান্ত ৭ হাজার ৬২৮টি, পারমিট না থাকায় ৬ হাজার ৪৯৫টি, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত ৩০ হাজার ৫৬৪টি, উল্টোপথে চলাচলের কারণে ১৩ হাজার ৮৮টি, মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে ৬৫ হাজার ৮০৩টি মামলা হয়। জরিমানা করা হয় ১৪ কোটি ১৯ লাখ ৪৭৯ টাকা। এ সময় বেশ কিছু যানবাহনকে ডাম্পিং করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়াকে সম্ভব সবধরনের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত শুক্রবার দেশটিতে প্রচণ্ড ভূমিকম্প ও সুনামিতে সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু এবং ব্যাপক সম্পদহানি হয়। আজ বিকালে সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলে তার সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা এই প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, ১০ মিনিটের টেলিফোন সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণ ও সম্পদহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জানান এবং এই ঘটনায় আহত লোকদের আশু সুস্থতা কামনা করেন। প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই কঠিন সময়ে ইন্দোনেশিয়া একা নয়, বাংলাদেশ আপনাদের পাশে থাকবে। সম্ভব সব ধরনের সহায়তা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই মুহূর্তে তার দেশের কি প্রয়োজন তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য জোকো উইদোদোকে অনুরোধ করেন। ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় সুলাবেসি দ্বীপে শুক্রবার ভূমিকম্প ও সুনামিতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বহিঃবিশ্বে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি বুধবার নেত্রকোনার মুক্তারপাড়া মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব-২০১৮ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব ২০১৮-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সংস্কৃতি ফোরাম বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট লোকগীতি গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক যতীন সরকার। খবর বাসসের। যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হোসেন, বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর সবুজ কলি সেন এবং বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট সচিবগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি শেখ কামাল আইটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, আকাশ সংস্কৃতির ডামাডোলে গা ভাসিয়ে দিলে চলবে না। বরং তা থেকে ভাল দিকগুলো গ্রহণ করে মন্দ দিকগুলো বর্জন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলার সংস্কৃতি দেশে-বিদেশে পৌঁছে দিতে কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, নির্মাতা, গবেষকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, জাতিসত্তা বিকাশে বৃহত্তর ময়মনসিংহের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। স্বাধিকার ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ তিনটি ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের জনগণের সাহসী ভূমিকা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। মনসা মঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাস, বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায়, সুকুমার রায়, বিখ্যাত ফারসি গ্রন্থ শাহনামা অনুবাদক মনির উদ্দীন ইউসুফ, সাহিত্যিক অধ্যাপক নিরোদ চন্দ্র চৌধুরী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়সহ বহু গুণী এ ভূখণ্ডে জন্মেছেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চল থেকেই মৈমনসিংহ গীতিকার মতো বিশ্বসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সাড়া জাগায়। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনালেখ্য হয়ে উঠে বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। বাংলার বিদগ্ধ জনসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও প্রাচ্যদেশীয় অনেক জ্ঞানী-পণ্ডিত মৈমনসিংহ গীতিকা;র বিভিন্ন পালা মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদিনা ও বীরাঙ্গনা সখিনার সাহিত্যিক সুষমায় মুগ্ধ হয়েছেন। ফরাসি সাহিত্যিক ডক্টর সিলভ্যাঁ লেভি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, মহুয়া পড়িয়া মনে হইলো এই শীতের দেশে থাকিয়াও যেন আমি ভারতবর্ষের বসন্ত ঋতু উপভোগ করিতেছি। শুধু পূর্ববঙ্গই নয়, দেশের রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলেও এখনো অনেক পালাগান অবিচল ধারায় গীত হয়ে আসছে। লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ড. মনসুরউদ্দীন ও কবি জসীমউদ্দীন এসব পালাগানের সংকলন প্রকাশ করেছেন। লোকগানের চলমান ধারা বহতা নদীর মতো, আজো বাংলার পথে প্রান্তরে ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, বাউলগীতি ও পালাগান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।' রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির বিশাল প্রান্তরে আমাদের অমূল্য গাঁথাগুলো জাতিসত্তার প্রয়োজনে সংরক্ষণ করা দরকার। বিশেষ করে বাংলার প্রাচীন লোকসাহিত্যসহ আধুনিক লোকগীতি ও লোকসংস্কৃতির গবেষণার জন্য একটি লোকসংস্কৃতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতি ফোরাম ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে তিন একর জমিতে একটি আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও এই উন্নয়নের ছোঁয়া আজ স্পষ্ট। এমনি যুগসন্ধিক্ষণে দেশি-বিদেশি লোকসংস্কৃতি গবেষক ও শিল্পীদের নিয়ে আজকের আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি উৎসব নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মাধ্যমে বাংলার মান, বাংলার জান ও বাংলার লোকসংস্কৃতি আবারো চাঙ্গা ও গতিশীল হবে। বিশ্ব সাংস্কৃতিক ধারায় সম্পৃক্ত হবে এদেশের সংস্কৃতির অনন্যগাঁথা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই
অনলাইন ডেস্ক: মিথ্যা তথ্য দিয়ে যারা সংবাদ প্রচার করবে না তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তবে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করবে তাদের শাস্তি পেতে হবে। কেউ তথ্য দিলে তার সত্যতা তাকে প্রমাণ করতে হবে। জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বুধবার বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। আগামী নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ পরামর্শও দেয়নি। বরং উৎসাহ পেয়েছি। যেসকল রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের সাথে কথা হয়েছে, তারা চায় আবার দেখা হবে। জনগণ ভোট দিলে আছি। না দিলে নাই। শেখ হাসিনা বলেন, ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমায়ের সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। শেখ হাসিনা গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালজুলেইদ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সোমবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর