একজন মহান নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু
অনলাইন ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পত্নী আকিয়ে আবে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন মহান নেতা। জাপানে গ্রাফিক নোভেল মুজিব গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর ভিত্তি করে জাপানী ভাষায় গ্রাফিক নোভেল মুজিব গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম জাপানী শিশু-কিশোরদের সামনে তুলে ধরতে এ গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি ভাষায় অনূদিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে এবং গেস্ট অফ অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাপানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, জাপানের সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং উপস্থিত সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবনকে জাপানী শিশু-কিশোর ও জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী সন্তানদের কাছে তুলে ধরার অভিপ্রায় নিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ইংরেজি ছাড়া প্রথম অন্য কোন বিদেশী ভাষা হিসাবে জাপানিতে গ্রাফিক নভেল মুজিব অনুবাদ করা হলো। আকিয়ে আবে বলেন, যেহেতু গ্রাফিক্স নভেল জাপানিদের খুব প্রিয় তাই জাপানি ভাষায় অনুদিত গ্রাফিক নভেল মুজিব তাঁর সম্পর্কে জাপানের শিশু-কিশোরদের অবহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, অনুদিত গ্রাফিক্স নভেল এই মহান নেতার জীবন সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে। বইটির প্রকাশক রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, গ্রফিক মুজিব জাপানি ভাষায় অনুবাদ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও এবং অনুবাদকদ্বয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি জাপানি অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে প্রকাশনাটি জাপানি শিশুদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতির পিতা সম্পর্কে জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বক্তব্য পর্ব শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যগণ, রাষ্ট্রদূত এবং বইটির অনুবাদকদ্বয় বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন-সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি টাইম-লাইন ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এসময় বইটির অনুবাদকদ্বয় প্রফেসর মাসাকি ওহাসি এবং ইমরান শরিফকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়া জাপানি ভাষায় প্রকাশিত গ্রাফিক নভেল মুজিব গ্রন্থটি টোকিওর সেক্রেড হার্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠ করে শুনানো হয়। বইপাঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং বইটির অনুবাদকদ্বয়, শিল্পী রাশাদ ইমাম তন্ময়, শিবু কুমার শীল। গ্রাফিক্স নভেল মুজিব গ্রন্থটি পর্যায়ক্রমে জাপানের বিভিন্ন স্কুলে পাঠ করা হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিওর উদ্যোগে গ্রাফিক নভেল মুজিব জাপানি ভাষায় অনুবাদ ও প্রকাশনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। সবশেষে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে অত্যন্ত সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র: এইচটি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সন্তুষ্ট। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এইচ টি ইমাম বলেন, এটাই হচ্ছে ওদের কাছে সবচেয়ে সন্তোষজনক। এমন কোনো দল নেই, যারা অংশগ্রহণ করছে না। ওরা বরঞ্চ খুব অবাক এতগুলো দল, এতগুলো জোট তোমরা ম্যানেজ করছো কীভাবে। ওরা ভাবতেই পারে না, আমরা এগুলো করতে পারি। আমরা বলেছি, এগুলো আমরা করছি। আমাদের সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব থেকে আনন্দের কথা এই যে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সমস্ত কথা বলেন, আমরা চাই একটি অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনে সকলে অংশগ্রহণ করুক। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অত্যন্ত স্পষ্ট একটি নির্বাচন যেটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই আদর্শগুলো আমেরিকানরাও ধারণ করে। তাদের সঙ্গে আমাদের মতের যথেষ্ট মিল আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন পাঠাবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবজারভার পাঠাবে। ওরা সব জায়গাতেই পাঠায়। ওরা বলছে, নির্বাচন কেমন হয় দেখব? সত্যিকার সুষ্ঠ হয় কি না? ওদের তো কতগুলো থিঙ্ক ট্যাংক আছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক নয়। তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে অনেক অবজারভার আসবেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, অবজারভার যেখানে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব। কাজেই আপনারা তালিকা দিয়েন। আগে থেকেই জানাবে কোথায় তারা যাবেন কী কী কাজ করবেন এগুলো জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আমরা সকলেই একসঙ্গে কাজ করবো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক অবজারভার আসবেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, অবজারভার যেখানে যাবেন, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। কাজেই আপনারা তালিকা দিয়েন। আগে থেকেই জানাবেন কোথায় তারা যাবেন কি কি কাজ করবেন, এগুলো জানা দরকার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমাম, ড. মসিউর রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ।
নির্বাচনে থাকছে না ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পর্যবেক্ষক
অনলাইন ডেস্ক: যথেষ্ট সময় ও প্রস্তুতি না থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল আসবে না বলে জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনিজ টেরিংকে। বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ইইউ ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এসময় রেনিজ টেরিংকে বলেন, পর্যবেক্ষকের মতো বড় মিশন পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ছয় মাসের মতো সময় প্রয়োজন হয়। তাই ইইউয়ের সদস্য দেশগুলো এই নির্বাচনে (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা কেবল ছোট আকারে একটি এক্সপার্ট টিম পাঠাব। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নির্বাচনটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ১০ কোটিরও বেশি ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এতগুলো কেন্দ্র ও ভোটারদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, ভালো ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়, আমাদের শুভকামনা থাকবে। বৈঠকে ইইউয়ের ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের প্রধান ডেভিড ওয়াড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংকেসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সে তিরিঙ্ক, ইইউর ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের প্রধান ডেভিট ওয়ার্ডসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ দিন বুধবার (২৮ নভেম্বর)। ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন বাছাই, ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ভোট ৩০ ডিসেম্বর।
সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় এ কথা বলেন সুব্রত চৌধুরী। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণে মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি।
হাইকোর্টের আদেশ বহাল: নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না দণ্ডিতরা
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানসহ পাঁচ নেতার দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এ জেড এম জাহিদ হোসেনের আবেদনে নো অর্ডার দিয়ে এই আদেশ দেন। আদালতে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। গতকাল দুর্নীতির অভিযোগে প্রাপ্ত সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানসহ পাঁচ নেতার দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সেইসঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত ও জামিন হলেই কেবল অংশ নিতে পারবে। অন্য চার নেতা হলেন- বিএনপি নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, আব্দুল ওহাব ও মশিউর রহমান। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করায় ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল ২০০৯ সালে জামিন লাভ করেন। এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করে মো. আবদুল ওহাবকে যশোর স্পেশাল জজ গত বছরের ৩০ অক্টোবর ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ত্রিশ হাজার টাকার জরিমানা দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ৬ ডিসেম্বর জামিন নিয়েছেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকার অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোশরফ হোসেন মৃধা মামলা করেন। এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তীতে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। ২০০৮ সালের ২৫ মে দুর্নীতির মামলায় মোট ১৩ বছরের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্ট থেকে পরে তিনি জামিন নেন। আমান উল্লাহ আমানকে দুর্নীতির মামলায় ২০০৭ সালের ২১ জুন বিচারিক আদালত ১৩ বছরের সাজ দেন। পরে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন বলে জানান আমিন উদ্দিন মানিক।
বিএনপি প্রধান নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিকল্প প্রার্থী ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বিএনপি প্রধান নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিকল্প প্রার্থী হবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদের কাছে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এছাড়া একই আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাধারণত নির্বাচন করেন দলটির প্রধান খালেদা জিয়া। এর আগে আসনটি থেকে খালেদা জিয়া টানা তিনবার (৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তার নামে দলীয় মনোনয়ন কেনা হয়েছিল এই আসনসহ ফেনী-১ ও বগুড়া-৭ আসনে। তবে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত কারও পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে গতকাল উচ্চ আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার বদলে অন্য কাউকে বিকল্প প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। সে অনুযায়ী মির্জা ফখরুল বগুড়া-৬ আসনে এবং দলের সিনিয়র নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-১ আসনে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। পরে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি প্রধানের সাত বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি প্রধান।
ইজারা দুর্নীতির একটি মামলায় খোকাসহ চার জনের ১০ বছরের জেল
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কারপার্কিং ইজারায় দুর্নীতির একটি মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ চার আসামির দশ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকাকে ২০ লাখ টাকা ও অপর তিন আসামিকে দশ লাখ করে টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে অপর একটি মামলায় সাদেক হোসেন খোকার কারাদণ্ড হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। মামলার অপর তিন আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তারা হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মামলার অপর তিন আসামি হলেন, বনানীর ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকি, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলার্ক কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খান সকাল ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। গত ১২ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন রায় প্রস্তুত করা সম্ভব না হওয়ায় তা পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ধার্য করা হয়। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর মামলাটিতে বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা চার্জগঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়। ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সর বেজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র আহ্বান করেন। অংশগ্রহণ করা ৪টি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা অপর আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সাল হতে ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ঢাকা সিটি করপোরেশনের ক্ষতি করেছেন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যানের ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১ লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে আদালত।
আ.লীগ-জাপায় টানাটানি ১৮ আসন নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তার ১৭টি চাইছে জোটের আলোচনায় থাকা শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা)। ফাঁকা রাখা আরেকটি আসন আওয়ামী লীগ অন্য একটি দলকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানেও প্রার্থী দিতে চাইছে জাপা। আসন নিয়ে মতভেদের অবসান না হওয়ায় জোটের প্রার্থী তালিকা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য সুনীল শুভ রায় ঢাকা টাইমসকে বলেন, মহাজোটের কাছে আমরা আমাদের মতো আসন দাবি করেছি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই আসন নিয়ে মতভেদের অবসান হবে। জাতীয় পার্টি প্রথমে ১০০টি আসন চেয়েছিল। পরে সেটি কমিয়ে ৭৬টি করা হয়, এরপর নামে ৫১টিতে। পরে সেখান থেকেও ছাড় দিয়ে ৪৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারা। তবে এই ৪৭টি আসনের ১৭টিতে আওয়ামী লীগও প্রার্থী দিয়েছে। আবার একটি আসন ইসলামী ঐক্যজোটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রার্থিতা নিয়ে এই মতভেদে ক্ষোভ আছে খোদ জাতীয় পার্টিতে। আর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তোপের মুখে জবাব দিতে না পেরে দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তালিকা ঘোষণা করতে পারেননি সংবাদ সম্মেলন করেও। পরে গণমাধ্যমকে মেইল করে দেওয়া হয় সেই তালিকা। গত রবিবার আওয়ামী লীগ যেসব আসনে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে তার মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এবং মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের আসনও রয়েছে। ঢাকা-১৭ আসন চাইছেন এরশাদ। ২০০৮ সালে এখানে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হয়ে জেতেন। তবে এবার আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রার্থী করেছে আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক)-কে। রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্র তুলেছেন ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে। ২০১৪ সালে আসনটি আওয়ামী লীগ দেয় জাতীয় পার্টিকে। জেতেন এম এ হান্নান। আসনটি রবিবার ফাঁকা রাখলেও পরদিন রুহুল আমিন মাদানীকে দেয় আওয়ামী লীগ। একই দিন রওশনের নামে কেনা হয় মনোনয়নের চিঠি। জাপার মহাসচিব হাওলাদারের পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে শাহজাহান মিয়াকে। ২০১৪ সালে এখানে নৌকার প্রার্থী ছিল না, যদিও আগের নির্বাচনে জেতেন শাহজাহান। জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। এবার সেখানে দলটি প্রার্থী করেছে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে। এই আসনটির বদলে বাবলুকে কক্সবাজার-৩ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা হয়েছে দুই দলের আলোচনায়। তবে সেখানেও বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া ময়মনসিংহ-৫ আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে ২০০৮ সালে জয়ী কে এম খালেদ বাবুকে। তবে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদকে এখানে প্রার্থী করেছে। কুমিল্লা-২ আসনে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূঁইয়াকে প্রার্থী করেছে। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জেতেন। তবে এবার ক্ষমতাসীন দল সেখানে মনোনয়ন দিয়েছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিনা আহম্মেদ মেরীকে। খুলনা-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেখানে এবার নৌকা পেয়েছেন গত দুই নির্বাচনের বিজয়ী পঞ্চানন বিশ্বাস। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে লাঙ্গল প্রতীক দিয়েছে সুনীল শুভ রায়কে। আওয়ামী লীগের দখলে থাকা বরিশাল-২ এবার নিজেদের করতে চাইছে জাতীয় পার্টি। বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস সেখানে নৌকা পেলেও লাঙ্গল নিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা)-কে। রবিবার আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী না দিয়ে ফাঁকা রাখে। ধারণা করা হচ্ছিল এটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সোমবার সেখানে মনোনয়নের চিঠি পান গাজী মো. শাহনেওয়াজ মিল্লাত। তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে। তবে জাতীয় পার্টি এখানে প্রার্থী করেছে আতিকুর রহমানকে। জাতীয় পার্টি গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রার্থী করেছে দিলারা খন্দকারকে। যদিও সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন ইউনুস আলী সরকার। তিনি সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্য। গাইবান্ধা-৫ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়াকেই নৌকা দেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে দাঁড় করিয়েছে এইচ এম গোলাম শহীদকে। রাজশাহী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রতীক দিয়েছে মনসুর রহমানকে। সেখানে জাতীয় পার্টি দাঁড় করাতে চাইছে আবুল হোসেনকে। সাতক্ষীরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত, সেখানে ভোটে লড়বেন বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। তবে জাতীয় পার্টি সেখানে দাঁড় করিয়েছে আজাহার হোসেনকে। কুষ্টিয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে সরোয়ার জাহান বাদশাকে। সেখানে দলটির আরেক নেতা আফাজ উদ্দিন সরকারের সমর্থকেরা মনোনয়ন পাল্টানোর দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি আবার সেখানে প্রার্থী করতে চাইছে শাহরিয়ার জামিলকে। নাটোর-১ আসনে নৌকা পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম বকুল। সেখানে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি প্রার্থী করতে চাইছে আবু তালহাকে। দিনাজপুর-৬ আসন আওয়ামী লীগ রেখেছে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের জন্য। সেখানে জাতীয় পার্টি দেলোয়ার হোসেনকে প্রার্থী করেছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগ জাকির হোসেনকে প্রার্থী করে বাকি তিনটি জাতীয় পার্টির জন্য ফাঁকা রেখেছে। তবে জাকিরের বদলে সেখানে আশরাফ উদ দৌলাকে প্রার্থী করতে চায় এরশাদের দল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি আওয়ামী লীগ দিতে চাইছে ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল হাসানাত আমিনীকে। এই আসনে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ছাড় দেওয়া হয় জাতীয় পার্টিকে। দলটি সেখানে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নোয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে এইচ এম ইব্রাহীমকে। তবে জাতীয় পার্টি তার জোটের শরিক আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুককে (ইসলামি জোট) সেখানে প্রার্থী করতে চায়। যেসব আসন নিয়ে মতভেদ নেই তবে ২৯টি আসন জাতীয় পার্টির পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের আসনগুলো হলো: রংপুর-১ মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কুড়িগ্রাম-১ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, কুড়িগ্রাম-৩ আক্কাস আলী সরকার, নীলফামারী-৩ রানা মোহাম্মদ সোহেল/ফারুক কাদের, নীলফামারী-৪ শওকত চৌধুরী বা আদেলুর আদেল, লালমনিরহাট-৩ জি এম কাদের। রাজশাহী বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬ নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আলতাফ আলী। ঢাকা বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু। ময়মনসিংহ বিভাগে জাতীয় পর্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: ময়মনসিংহ-৪ রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম। বরিশাল বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান, পিরোজপুর-৩ রুস্তম আলী ফরাজী। সিলেট বিভাগে জাতীয় পার্টির নিশ্চিত আসনগুলো হলো: সিলেট-২ ইয়াহহিয়া চৌধুরী, সিলেট-৫ সেলিম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ। চট্টগ্রাম বিভাগে জাতীয় পার্টির যেসব আসন নিয়ে সংশয় নেই, সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কুমিল্লা-৮ নুরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-২ মো. নোমান, ফেনী-৩ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। আ.লীগের ফাঁকা রাখা এক আসনে প্রার্থী দেয়নি জাপা আওয়ামী লীগ যে কয়টি আসন ফাঁকা রেখেছে তার একটি জামালপুর-২। সেখানে জাতীয় পার্টি এবার প্রার্থী দিতে চায় বলে প্রচার ছিল। কিন্তু দলটির প্রার্থী তালিকায় সেখানে কাউকে রাখা হয়নি। জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, জামালপুর-২ আসনে মোস্তফা আল মাহমুদের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামীকাল বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও তা পুরণ করে জমা দেয়া যাবে। সরাসরি ছাড়াও এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রতিপালন করতে হবে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার সময় প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না। ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দেয়ার সময় ৫ জনের বেশি লোক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় করতে পারবেন না। প্রার্থীদের পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের অনুকূলে এ টাকা জমা দিতে হবে। প্রার্থীরা ইউনিয়নভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি প্রতিটি ৫শ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবেন। আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে কোনো প্রার্থী জনসভা, মিছিল, মিটিং করতে পারবেন না। কেবল পথসভা করতে পারবেন। প্রার্থীদের পোস্টার হতে হবে সাদাকালো। প্রতিটি পোস্টারের নিচে পোস্টারের সংখ্যা, প্রেসের ঠিকানা, প্রকাশকের নাম দেয়া বাধ্যতামূলক। না হলে সেসব পোস্টার নির্বাচন কমিশনের কাছে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। পোস্টারের সাইজ হতে পারবে সর্বোচ্চ ২৩ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার ছাড়া কাউকে পোলিং এজেন্ট করা যাবে না। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে পোলিং এজেন্টদের দুই কপি ছবি এবং নামের তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় হলফনামা আকারে ৮টি তথ্য দিতে হবে। ব্যয়ের উৎসের বিবরণী, আয়কর রিটার্নের কপি জমা দিতে হবে। মনোনয়ন ফরমে কোনো ভুল হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীকে সতর্কতার সঙ্গে মনোনয়নপত্র পূরণ করতে হবে। মনোনয়ন দাখিলের আগে প্রার্থীকে অবশ্যই যে কোনো তফসিলী ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনের সমুদয় ব্যয় এ একাউন্ট থেকেই করতে হবে। এই একাউন্টের নম্বর, ব্যাংক ও শাখার নাম মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং অফিসার এবং কমিশনে জমা দিতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত খরচের হিসাব ফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। লিখিত ছাড়া কোন এজেন্টের অভিযোগ কমিশন আমলে নেবে না। কোনো ভোটার ব্যালট পেপার ব্যালট বাক্সে না ফেলে বাইরে নিয়ে এলে কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যালট পেপার বাইরে চলে এলে ওই ব্যালট পেপার যে প্রদর্শন করবেন কমিশন তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, এপিবিএন এবং ব্যাটালিয়ান আনসার মোতায়েন করা হবে। তারা মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি মোবাইল বা স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে ১ জন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনী অপরাধসমূহ বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেয়া হবে। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা যে কোনো অনিয়মের জন্য ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ব্যতিত কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

জাতীয় পাতার আরো খবর