চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চিন্তা থেকেই দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
২৬নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চিন্তা থেকেই তাঁর সরকার দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, এখন থেকেই উদ্যোগী না হলে দেশ পিছিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা আসছে। এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা মাথায় রেখেই আমাদের দক্ষ কর্মজ্ঞান সম্পন্ন লোকবল সৃষ্টি করতে হবে। সেটার জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ না নিলে আমরা পিছিয়ে যাব। সুতরাং আমরা পিছিয়ে যেতে চাইনা। এজন্য প্রশিক্ষণটা সাথে সাথে দরকার। কারণ আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। বিশ্ব প্রযুক্তিগতভাবে যতটুকু এগোবে আমরা তারসঙ্গে তাল মিলিয়েই আমরা চলবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় ফ্রিল্যান্সার আইডি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, সমাজের কমবেশি সকলে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি জানলেও ফ্রিল্যান্সার এতদিন তাঁদের পরিচয় নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত পরিচিত কার্ড বা ফ্রি ল্যান্সিং আইডির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। কর্মসংস্থান, উপার্জন বা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে এই কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে। যা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যাংকিং বা ভিসার আবেদন, বাসা বা অফিস ভাড়া এমনকি বাচ্চাদের স্কুল ভর্তি করার মত বিষয়গুলোতে সহজ করে দেবে। সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইটের মাধ্যমে (www.freelancer.com.bd) দেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার আইটি কর্মরত এখানে রেজিষ্ট্রেশন করে পরিচয় পত্র গ্রহণের সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন,আমি জানি আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক মেধাবী। অল্পতেই তাঁরা শিখতে পারে। সরকার হিসেবেই আমাদের কাজ হচ্ছে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া। সেটাই আমরা করে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ৩৯টি হাইটেক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণ শেষ হলে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যার মধ্যে যুব সমাজই সবথেকে বেশি কাজ পাবে। দেশ এবং বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে এবং দক্ষ কর্মীবাহিনীর সৃষ্টি হবে। তাঁর সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনসহ দক্ষ কর্মীবাহিনী সৃষ্টিতে নানারকম প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ওপর নির্মিত ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সংক্রান্ত পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক একটি এ্যানিমেটেড ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠানে।
ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় করোনার ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে এই টিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্যাভি কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে বাংলাদেশ এই ভ্যাকসিন পাবে। প্রতিজন দুই ডোজ করে এই ভ্যাকসিন পাবেন। বুধবার করোনা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান। ডা. শামসুল হক বলেন, সারা পৃথিবীতেই এখন ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু ভ্যাকসিন যেটাই আসুক আমরা যেন সেটা পেতে পারি সে লক্ষ্যেই কাজ হচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই বা গ্যাভি-টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট) কাজ করছে। যখনই করোনার ভ্যাকসিন আসুক না কেন, সারা পৃথিবীর মানুষ যেন একসঙ্গে পায় সে বিষয়ে গত ৪ জুন গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিট হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কো ভ্যাক্স ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে পৃথিবীর সবাই যেন সমহারে ভ্যাকসিন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, যারা আগে জাতীয় ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা জমা দেবে তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। গ্যাভি যখন থেকে পরিকল্পনা জমা নেয়া শুরু করবে, আশা করছি আমরা প্রথম দিনই আমাদের পরিকল্পনা জমা দিতে পারবো। গত জুলাই বাংলাদেশ কোভ্যাক্সে আবেদন করে এবং গ্যাভি সেটি গ্রহণ করে গত ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে ( দুই ডোজ) ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য। আর তাতে করে জনসংখ্যার হারে হয় ৩৪ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ আর এটা পাওয়া যাবে ২০২১ সালের মধ্যে। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না এর জন্য কো ফিন্যান্সিং এ যেতে হবে সরকারকে আর এটা এক দশমিক ছয় থেকে দুই ডলারের মধ্যে কিনতে পারবো। আর বাংলাদেশ এ নিয়ে কাজ করছে। তবে ভ্যাকসিন আসার আগে জরুরি হচ্ছে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়ে কাজ হচ্ছে যেটা একেবারেই শেষ পর্যায়ে বলে জানান ডা. শামসুল হক। গ্যাভি ভ্যাকসিন ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার সরাসরি ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে- এমন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কেনা যাবে চার ডলারের বিনিময়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে, এর সঙ্গে পরে যোগ হবে আরও এক ডলার। সেখান থেকে বাংলাদেশ কিনতে পারবে ৩০ মিলিয়ন ডোজ। এজন্য অর্থ বিভাগ প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এই ভ্যাকসিন অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রি কোয়ালিফায়েড হতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। জনগণের সেফটির (নিরাপত্তা) কথা চিন্তা করে সবকিছু করা হবে যদিও চুক্তি করা হয়েছে। এ দুটি ভ্যাকসিনের সোর্স ছাড়াও সিনোভ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে জানান শামসুল হক। তিনি বলেন, জেএসকে গ্রুপের সেনোফি এবং ফাইজারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং যদি সেরকম আর্জেন্সি হয়ে তাহলে কীভাবে তাদের ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে সে নিয়েও কথা হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ভ্যাকসিন আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খুবই কোয়েশ্চেনেবল এবং পৃথিবীর অনেক দেশেই এত লো টেম্পারেচার এর ব্যবস্থা না থাকায় তারাও এ নিয়ে চিন্তিত। এসব ভ্যাকসিন বিষয়ে কাজ করতে কোভিড ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এছাড়াও বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অব ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে, রয়েছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপায়ের্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
হ্যাচারি পরিচালনায় আবেদন নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বাড়ল
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হ্যাচারি পরিচালনায় আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বেড়েছে। ফি বাড়াতে মৎস্য হ্যাচারি বিধিমালা, ২০১১ সংশোধন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৯ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালার গেজেট জারি করা হয়েছে। কার্প মাছের রেণু উৎপাদন হ্যাচারির আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ছিল যথাক্রমে একশ, দুই হাজার ও এক হাজার টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, সেটা এখন বেড়ে হয়েছে দুইশত, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা। গলদা ও বাগদা চিংড়ি পিএল (পোস্ট লার্ভি) উৎপাদন হ্যাচারির ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি যথাক্রমে দুইশ, সাড়ে সাত হাজার ও ছয় হাজার টাকা। আগে ছিল একশ, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা। দেশীয় অন্যান্য মাছ ও মনোসেক্স তেলাপিয়া হ্যাচারির ক্ষেত্রে আবেদন, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি ছিল যথাক্রমে একশ, দুই হাজার ও এক হাজার টাকা। সেটা এখন বেড়ে হয়েছে দুইশ, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা। বাহারী মাছের হ্যাচারির আবেদন ফি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা থেকে বেড়ে দেড় হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণীর হ্যাচারির আবেদন ফি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নবায়ন ফি আগের মতোই এক হাজার টাকা রাখা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় ভাইরাসের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ভাইরাস অর্থ পোনা, রেণু, নপ্লি (লার্ভার প্রথম পর্যায়) ও পিএলের (লার্ভা পরবর্তী পর্যায়) রোগ সৃষ্টিকারী আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় অণুজীব। সরকার সময় সময় গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে পোনা, রেণু, নপ্লি ও পিএলের জন্য ক্ষতিকর ভাইরাসের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করবে বলেও সংশোধিত বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যাচারি পরিচালনাকারী পোনা, রেণু, নপ্লি বা পিএল বিক্রি বা সরবরাহ করার আগে এতে ক্ষতিকর ভাইরাসের উপস্থিতি সরকার-স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাবেন এবং এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তা ভাইরাসমুক্ত বলে লিখিতভাবে ঘোষণা করবেন- বলে বিধিমালায় নতুন একটি বিধি যুক্ত করা হয়েছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হলেন ফরিদুল হক
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলালকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করে বুধবার (২৫ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদুল হক খান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। নতুন একজন যুক্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় এখন ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী। ফরিদুল হক খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত জামালপুর জেলার ইসলামপুরের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফরিদুল হক। ফরিদুল হক ১৯৫৬ সালের ২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার উত্তর সিরাজাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. হবিবর রহমান খান ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ ফাতেমা খানম। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
মিরপুরে বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মিরপুরের কালশী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বাউনিয়াবাদের সি ব্লকে একটি বস্তিতে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ৩ টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দিনগত রাত ২ টা ১০ মিনিটে ওই বস্তিতে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১২টি ইউনিট কাজ করে। পরে ৩ টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, একই বস্তিতে ২০১৯ সালের গত ২৬ ডিসেম্বরে রাত ১২ টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট টানা এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ১ টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ওই আগুনে বস্তির শতাধিক ঘর ভস্মীভূত হয়েছিল। বস্তির পাশে একটি ভাঙ্গারির দোকান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছিলো। বস্তির বাসিন্দারা তখন জানিয়েছিলো, ষড়যন্ত্র করে তাদের বস্তিতে আগুন দেওয়া হয়েছিলো সে সময়।
চলমান কাজ শেষ করে পরের কাজ পাবে ঠিকাদার: প্রধানমন্ত্রী
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান কাজ শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী কাজ পাবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের অনেক প্রকল্পে বিশেষত নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ হলো এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজ সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছে এসবের একটা তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এর দুটি উদ্দেশ্য; একটা হলো আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণ কাজের জন্য, মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। দ্বিতীয়ত সময়মতো আমাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব আরও বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লং ড্রাইভ করেন বা দীর্ঘসময় ধরে রাস্তায় থাকেন তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের- খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্যান্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়) প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। এনআইডি রেজিস্ট্রেশন, সবার আইডেন্টিটি যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোটার তালিকা নয়। যেখানে এ কাজটা সমন্বিত হয়, সবার জন্য সুবিধার হয় এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সেরকম একটা প্রতিষ্ঠানে এটা ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন।
বেগম পাড়ার সাহেবদের ধরা হবে: কাদের
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কানাডার বহুল আলোচিত- বেগমপাড়ার. সাহেবদের ধরা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বেগমপাড়ার সাহেবদের ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদককে এ ব্যাপারে সার্বিক তদন্ত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। গত কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থপাচার করেছেন, তাদের মধ্যে সরকারি আমলার সংখ্যা বেশি। ওবায়দুল কাদের বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নজরে আনার পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে সরকার। দুদকের তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা অর্থপাচার করেছেন, তাদের পরিচয় অর্থপাচারকারী। এর মধ্যে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, সরকারের কাছের লোক থাকেন, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। সম্প্রতি ডিআরইউয়ের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, কানাডার বেগমপাড়ায় বেশ কিছু বাংলাদেশি বাড়ি গাড়ি করেছেন। তারা অর্থপাচারকারী। এদের বেশিরভাগই সরকারি আমলা। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর উচ্চ আদালত তাদের নাম জানতে চেয়েছেন।
দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক সংবাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খন্দকার মুনীরুজ্জামান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি করোনায় সংক্রমিত হয়ে গত ৩১ অক্টোবর রাতে তাকে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে। করোনা থেকে তিনি সেরেও উঠেছিলেন। কিন্তু করোনা পরবর্তী নানা জটিলতায় তিনি মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ডা. রোকেয়া এবং একমাত্র পুত্রও খ্যাতিমান চিকিৎসক।
পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাততলা বস্তির ৬০-৭০টি ঘর
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে লাগা আগুনে ৬০-৭০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ার ও বস্তির বাসিন্দারা কাজ করছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম। প্রথম রেসপন্স করে ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও স্টেশন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত কাজ শুরু করেন তারা। সর্বমোট ২০০ ফায়ার কর্মী ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গ্যাস লিকেজ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ বস্তিতে ছোট ছোট প্রচুর ঘর রয়েছে এখনই নির্দিষ্টভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, নানাবিধ কারণে বস্তিতে আগুন লাগতে পারে। রাজধানীর প্রায় বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ থাকে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, গ্যাস লাইন লিকেজ বা সিলিন্ডার লিকেজ, সিগারেটের আগুন থেকে অথবা মশার কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৫ মে সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। ওই আগুনে বস্তির ২০টি ঘর পুড়ে যায়। এর পরের বছর আবারও ১১ ডিসেম্বর রাতে আগুন লাগে এ বস্তিতে।

জাতীয় পাতার আরো খবর