১৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুই দিনব্যাপী জাতীয় মৌ মেলা-২০১৮
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, স্বাস্থ্য, মেধার উন্নতি ও বিকাশে নিয়মিত মধু সেবনসহ পুষ্টি যোগানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। জাতীয় মৌ মেলা, ২০১৮ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল থেকে তিন দিনের জাতীয় মৌ মেলা শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ দুই দিনব্যাপী জাতীয় মৌ মেলা-২০১৮এর আয়োজন একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। মৌ মেলার প্রতিপাদ্য ফসলের মাঠে মৌ পালন, অর্থ পুষ্টি বাড়বে ফলনঅত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি ফসলের মাঠে মৌ চাষিকে উৎসাহিত করছে। চিরায়ত বাংলার মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই মধুকে পথ্য হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তখন থেকেই মধুর পুষ্টি ও ভেষজগুণ সকলেরই জানা। শারীরিক শক্তি ও মেধা বিকাশে মধুর গুণ অপরিসীম। আবদুল হামিদ বলেন, পতঙ্গ বিজ্ঞানীদের মতে, এক কেজি মধু উৎপাদনের জন্য মৌমাছিকে প্রায় একলক্ষ কিলোমিটার উড়তে হয়। সেই সাথে সংগৃহীত মধুর মূল্যের চেয়ে মৌমাছি পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে ৭০ গুণ বেশি অবদান রাখে। এক সময় মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির হুল সহ্য করতে হতো। প্রযুক্তির উন্নয়নে সেই মৌমাছি আজ মধুসহ খাদ্যের যোগান দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের এই চমৎকার উদ্ভাবনটি খাদ্য উৎপাদনে কাজে লাগানোর ফলে দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। মৌমাছি আপন মনে নীরবে জীববৈচিত্র রক্ষায় যে কাজ করে যাচ্ছে তা মানবসভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান মানবসভ্যতার অকৃত্রিম বন্ধু মৌমাছি যেন আর কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে সমাজের সকলকে নজর দিতে হবে। একই সাথে মৌমাছি এবং মানবসমাজ একে অপরের পরিপূরক এই সত্যটি সবাইকে মনে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
ইতালির রোম এবং ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারী সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে তাঁকে বহনকারী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট শনিবার রাত ৮টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগসহ সরকার দলীয় জোটের রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন বাহিনী প্রধান এবং সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাতে রোম থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারী সফর শেষ করে স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা) আবুধাবির উদ্দেশে রোমের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (ইফাদ)-এর প্রেসিডেন্ট গিলভার্ড হুয়াংবো’র আমন্ত্রণে ইফাদের পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক বৈঠকে যোগদান করেন। পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা হলি সি (ভ্যাটিকান সিটি) সফর করেন এবং পোপ ও সেক্রেটারি স্টেট অব ভ্যাটিকান সিটি কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখলেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়াসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের জীবনমান, থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্য,চিকিৎসাসেবা, পয়োনিষ্কাশন ও খাবার পানি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সাপ্লাই সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংকট,সমস্যা আছে কিনা তা জানতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিক্যাল ইকোনমিক সেন্টারের টিম লিডার উইলিয়াম মমলারের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে কিনা জানতে চান। এ সময় রোহিঙ্গারা প্রতিনিধিদলকে বলেন, তাদের নাগরিক অধিকারসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রত্যাবাসনের পরপরই নিজ বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। তাছাড়া মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখাসহ তাদের যেসব ক্ষয়ক্ষতি মিয়ানমার সামরিক জান্তারা করেছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে তারা যেন বিরত থাকে তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করে বলেন, মিয়ানমারে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উদ্দেশে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
চলতি বছরের শেষেই অবসর নেবেন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
বছরের শেষেই অবসর নেবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শুক্রবার করা এক মন্তব্যের জবাবে একথা জানান তিনি। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি একথা জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, প্রকল্প এবং ঋণ গ্রহীতার ব্যাপারে সঠিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করেই কেবল ঋণ দেয়া উচিৎ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, 'খবরে দেখলাম এদেশের একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দিয়েছেন। দু'জন ব্যক্তিকে, যেখানে কাজ কম সে মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দিতে বলেছেন। তবে তাঁদের পদচ্যুত করা নিয়ে তিনি কোনো দাবি করেন নি। সে দুজন ব্যক্তির মধ্যে আমার বন্ধু, আমাদের সুযোগ্য বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আর দুই নম্বর ব্যক্তি হচ্ছে আমি, আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী।' এসময় তিনি জানান, 'আমি সত্যিকার অর্থে জানি, আমি অবসর নিতে যাচ্ছি। এ বছরে অবসরে যাবো। ডিসেম্বর মাসে।' সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হয়তো অবসর নিয়ে কোনো ধারণা নেই (এসময় অর্থমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হেসে পড়েন)। এজন্য তাঁকে উপদেশ দিতে চেয়েছিলাম, জীবনে একটা সময় আসে বোধ হয়, তখন অবসর নেয়াটাই আমাদের জন্য ভালো।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান, ব্যাংকের এমডি শাসমুল ইসলামসহ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অন্য কর্মকর্তারা।
রোহিঙ্গাদের প্রথম তালিকা হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ
মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রথম তালিকা হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য ৮০০০ রোহিঙ্গার একটি তালিকা বার্মার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে। ঢাকায় দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই তালিকা হস্তান্তর করা হয়। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল চ সোয়ের সাথে বৈঠকের পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সীমান্তের জিরো-লাইনে যে ৬৫০০-এর মতো রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসার জন্যে অপেক্ষা করছে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ সময় বৈঠকের পর গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা হস্তান্তরের প্রশ্নে মি. খান জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন এবং পুরনো মিলিয়ে এপর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় মিয়ানমারকে দেওয়া হলো ১৬৭৩টি পরিবারের ৮০৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা। 'মিয়ানমার পরিবার এলাকা ভিত্তিক তালিকা চেয়েছিল। আমরা সেভাবেই তালিকাটি তৈরি করে তা হস্তান্তর করেছি। তারা বলেছে, এই তালিকা তারা যাচাই করে রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।' রোহিঙ্গা গ্রামে হামলা করে ফিরে আসছেন অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারিরা। দেশে ফেরত যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তের জিরো-লাইনে মিয়ানমার অংশে এখনও যে ৬৫০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে, তাদেরও ফেরত নেওয়ার কথা বাংলাদেশ বৈঠকে তুলেছে বলে মি. খান জানান। তিনি বলেন, 'সীমান্তের জিরো-লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আমি তাদের বলেছি, এরাতো আমাদের দেশে প্রবেশ করেনি। তোমাদের দেশেই আছে। সেটা তারা স্বীকার করেছেন এবং এদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেছেন। মি. খান আরো এলন, জিরো-লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে ২০শে ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের একটি জেলায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই বৈঠকে জিরো-লাইনের ৬৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করা হবে। মিয়ানমারে নির্যাতন এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫শে অগাস্ট থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে যে আশ্রয় নেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করছে। সংখ্যায় কম হলেও এখনও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। কিন্তু এখনও সংখ্যায় কম হলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বন্ধ হয়নি। এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ মিয়ানমারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ করার ব্যাপারে মিয়ানমার আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করাসহ মৌলিক অধিকারগুলোর ব্যাপারে মিয়ানমার কতটা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. খান বলেছেন, গত অক্টোবরে তিনি যখন মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, তখন কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে দুই দেশ দশটি পয়েন্টে একমত হয়েছিল। সে অনুযায়ীই এখন আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মি. খান উল্লেখ করেন। 'তারা তিনটি ধাপে প্রক্রিয়া চালানোর কথা বলেছে। প্রথমে তাদের যাওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করা, দ্বিতীয় তাদের থাকার ব্যবস্থা এবং তৃতীয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ সৃষ্টি করা, এসব তারা ধাপে ধাপে করছে।আমাদের যেটা নিশ্চিত করেছে।' মিয়ানমার আলোচনা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ কতটুকু নিচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে তাদের ইচ্ছাই বা কতটা আছে, এসব প্রশ্নও রয়েছে। আসাদুজ্জামান খানের বক্তব্য হচ্ছে, এখন মিয়ানমারের সাথে আলোচনার ওপর তারা বিশ্বাস রাখতে চান। আজকের বৈঠকেও তারা যেভাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যেভাবে তারা আমাদের সাথে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন। যদি এগুলো পর্যালোচনা করেন, তাহলে আস্থা তৈরি হচ্ছে যে হয়তো তারা নিয়ে যাবে। দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে বৈঠকের পর সেখানে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের পাশ দিয়েই মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চ শোয়ে চলে যান। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্নও করেছিলেন। কিন্তু তিনি কোন কথা বলেননি।
ধীরে ধীরে সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে ধীরে ধীরে মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ২০ ফেব্রুয়ারি বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। সচিবালয়ে দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। শুক্রবার বেলা ৩ টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুদেশের সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আর মিয়ানমারের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও শোয়ে। তিন ঘণ্টা ব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি বৈঠকে প্রাধান্য পায়। অপরদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে দেয়া তালিকা অনুযায়ী আরাকান স্যালভেশন আর্মি-আরসা সদস্যদের আটক ও হস্তান্তরের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মিয়ানমার সফরকালীন চুক্তি ছাড়াও যে ১০ টি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়েছিল সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষিবান্ধব নীতির প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রপতি
সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বর্তমানে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিশনে কৃষি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিগত দুই বছরে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য দুইটি প্রতিষ্ঠান ও ৯ জন ব্যক্তির হাতে কৃষি পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এসময় তিনি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে-কৃষিবিদদের নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগাদা দেন। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করতে সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
আজ রাতে দেশের পথে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ইতালী ও ভ্যাটিকান সিটিতে তাঁর ৪ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ রাতে দেশের উদ্দেশ্যে রোম ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা) রোমের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ফিউমিসিনো বিমানবন্দর থেকে আবুধাবীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। ইতালীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাবেন। দেশে ফেরার পথে শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে একদিনের যাত্রাবিরতি করবেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় তিনি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবেন । প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) ৪১তম পরিচালনা পর্ষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার রোম পৌঁছেন। শেখ হাসিনা পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে পোপের সঙ্গে বৈঠক করতে হলি সি (ভ্যাটিকান সিটি) সফর করেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো : আইজি
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বক্তব্য দিচ্ছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। জঙ্গিবাদ নির্মূলে নানা পদক্ষেপ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি আরও বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো। তাই বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আজ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, দেশের নিরাপদ ব্যবস্থা বিদেশিদের আকৃষ্ট করেছে। এ জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ছুটে আসছেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে, তাতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান, চাঁদপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটোয়ারী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নইম পাটোয়ারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এ সময় সাংবাদিকেরা জেলার থানা পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের অনিয়ম ও জটিলতা তুলে ধরেন। এর জবাবে আইজিপি বলেন, আমি আইজিপির দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে সারা দেশের থানাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছি। যাতে করে থানা থেকে সাধারণ মানুষ সেবা নিয়ে খুশি মনে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। পরে আইজিপি চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশের সমাবেশে যোগ দেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর