বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
স্বাস্থ্যখাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা অব্যাহত আছে। এখন স্বাস্থ্যখাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকেই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে যারা বা যে অশুভ চক্র প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বাইরে থেকে কেউ এসব অনিয়ম ধরিয়ে দেয়নি। সরকার নিজ উদ্যোগে অনিয়ম রুখতে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশেষ করে হাসপাতাল, নমুনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ, প্লাজমা ডোনেশন, সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ অন্যান্য খাতের সাথে স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,অপরাধী যত ক্ষমতাধর হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। যারা জনগণের অসহায়ত্ব নিয়ে অবৈধ ব্যবসা করছে, প্রতারণা করছে, শেখ হাসিনার সরকার তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে অটল। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাস সঙ্কটের শুরু থেকে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অসহায়, কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্থাপন করেছে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মাটি ও মানুষের দল হিসেবে দেশের যে কোনো দুর্যোগে সবার আগে ছুটে যায় আওয়ামী লীগ। অসহায় মানুষের পাশে থাকা আওয়ামী লীগের সাত দশকের ঐতিহ্য।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা নামে আরেকটি বই প্রকাশ হবে
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতো- বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা নামে আরেকটি বই প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তান কারাগারে থাকার সময়ের তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হন চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা একটা লেখা আছে। অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতোই ওনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু লেখা। সেই লেখাগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তা প্রায় তৈরি হয়ে আছে। ওটা আমরা ছাপতে দেবো। আমার ধারণা ছিল এটা একটি রাফ কাজ। প্রথমে তিনি ওটা করেন। তারপর অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রস্তুত করেন ছাপানোর জন্য। ওটার আরো কিছু বিষয় আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তিনি কিন্তু কখনো তার কারাজীবনের কোনো কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা কিচ্ছুই বলেননি। যেটুকু আমরা জানি এই বই পড়ে। তার লেখা পড়ে আমরা এটা জেনেছি। এর বাইরে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কোনোদিন তিনি মুখ ফুটে বলতেন না যে ওনার কষ্ট ছিল। কখনো বলেননি। আমি রেহানাকে জিজ্ঞাসা করেছি। ও ছোট ছিল তো ও মাঝেমধ্যে আব্বাকে এ সমস্ত জিজ্ঞাসা করতো। যা আমরা সাহস পেতাম না। আমি কয়েকদিন আগেও জিজ্ঞাসা করছি তুই কী কিছুই শুনিস নাই? জবাবে বললো আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেছিল তোর শোনা লাগবে না। শুনলে সহ্য করতে পারবি না। শেখ হাসিনা বলেন, এত কষ্ট একজন মানুষ একটা দেশের জন্য, জাতির জন্য করতে পারেন? তা ধারণার বাইরে। তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন সংগঠন করার জন্য। আওয়ামী লীগ করার জন্য। দেশের মানুষের জন্য তিনি সব কিছুই ছেড়েছেন। তিনি ইচ্ছা করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু ওনার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, একাত্তর সাল থেকে আমরা ওনার কোনো লেখা পাইনি। কারণ একাত্তর সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে) কীভাবে ছিলেন? কী অবস্থায় ছিলেন? আসলে তার কিছু আমরা জানি না। সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে আইয়ুব খানের ডায়েরি, অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত। সেখানে ওনার সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো; উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি জয় বাংলাদেশ বলতেন। বলতেন আমাকে যা খুশি তাই করো। আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি। অর্থাৎ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই। এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো আমার চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা? আর আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়েছিলাম। জেলখানা ভেঙে নতুনভাবে করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা দেয়ালের ছবি পেয়েছি। আর কিছু পাইনি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লাসিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি রয়েছে। সাউথ এশিয়ার কিছু বিষয় রয়েছে। অনেকগুলো কাগজ। বিশাল। এগুলো আমার অফিসে ছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে একটা সুবিধা হয়েছে। ঘরে থাকার কারণে সেগুলো সব ধীরে ধীরে দেখছি। সেখানে ওই সময়কার কিছু পাওয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করছি।
সাংবাদিক রাশীদ উন নবী বাবু আর নেই
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য রাশীদ উন নবী বাবু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ... রাজিউন)। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মেয়ে ফারাহ অনিকা অনন্যা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১২টায় হাতিরপুলের সার্কুলার রোডের বাসায় প্রথম নামাজে জানাজ শেষে মরদেহ বগুড়া নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভাই পাগলা মাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। বরেণ্য এই সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় কিছুদিন আগে তাকে বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাশীদ উন নবী বাবুর অগ্নাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে তিনি ভারতের ভোলোরের ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি হাসপাতাল (সিএমসি) এবং মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক। ৪৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী, দেশ বাংলা, আজকের কাগজ, ইত্তেফাক, সমকাল, যুগান্তর, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, ইনকিলাব ও সাপ্তাহিক পূর্ণিমায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দৈনিক সকালের খবরের সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ তিনি প্রকাশিতব্য দৈনিক আমার দিনে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন নিউজ একাত্তরের সম্পাদক ও সাংবাদের কাগজের সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
মাস্ক-পিপিই দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: দুদক
০৯,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। বুধবার (০৮ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার (০৮ জুলাই) সকাল থেকে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। সংস্থাটি একই অভিযোগে বুধবার তলব করে এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিনকে। তবে করোনায় আক্রান্তের কারণ দেখিয়ে হাজির না হয়ে সময় চান তিনি। সাংবাদিকদের দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিপিই-মাস্ক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যাদেরই নাম আসবে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ দুর্নীতির সঙ্গে কোন সরকার কর্মকর্তা জড়িত আছেন কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার মেডিটেক ইমেজিং লি. এর পরিচালক মো হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। এর আগে গত ১ জুলাই স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই পাঁচ ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হয়। তাদের নির্ধারিত দিনে দুদকে হাজির হয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য প্রদানের অনুরোধ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে। দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরিত অতীব জরুরি তলবি নোটিশে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
করোনা শনাক্তে প্রতারণায় কঠোর অবস্থানে সরকার : ওবায়দুল কাদের
০৮,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষা, সনদ দেওয়া ও প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। বুধবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা সংকটকালে অসাধু চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে, মানুষ ঠকাচ্ছে। সরকার এসব প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে। এ ধরনের প্রতারণা মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে নির্মম বাণিজ্য ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সংক্রমণের তথ্য লুকিয়ে, তথ্য গোপন করে চলাফেরা করছে। শুধু তাই নয়, করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে গিয়ে এয়ারপোর্টে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার এই তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সত্য গোপন রাখায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তারা লাখ লাখ প্রবাসীকে অবিশ্বাস আর অনিশ্চয়তার আঁধারে ঠেলে দিচ্ছে।
সংসদীয় কমিটিতে নাসিমের চেয়ারে দীপংকর
০৮,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হলেন দীপংকর তালুকদার। তিনি সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন মারা যান। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরই মধ্যে তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। করোনামুক্ত হলেও ব্রেন স্ট্রোকের কারণে কয়েকদিন কোমায় থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে নতুন সভাপতি মনোনয়ন ছাড়াও বুধবার শিল্প, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য পদে কিছু রদবদল হয়েছে। ঢাকা-১০ আসের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং সংরক্ষিত আসনের পারভীন হক শিকদারকে শিল্প মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে। বাগেরহাট-৪ আসনের আমিরুল আলম মিলনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংষদীয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
০৮,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত অন্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশিরা যাতে করোনা পরবর্তী সময়ে পুনরায় কর্মে নিয়োগ পেতে পারেন, সেজন্য বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে আমরা দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকার ওষুধ, ত্রাণ ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেছি। করোনার কারণে চাকরিচ্যুত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশ ফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে এরই মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের এবং প্রবাসে করোনায় মৃতদের পরিবারের উপযুক্ত সদস্যকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বিনিয়োগ ঋণ দিতে আমরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছি। এ সংক্রান্ত নীতিমালা এরই মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র বৈধ ও নিবন্ধিত অভিবাসী মৃত কর্মীর পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। করোনা মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নির্বিশেষে সব প্রবাসী কর্মীর পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আমরা তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে এ চাপ প্রশমিত করার জন্য আমাদের সরকার বিভিন্নমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, চলাচলের অনুমতির বিষয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং কুটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আমি কতিপয় রাষ্ট্র প্রধান/সরকার প্রধানের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি।

জাতীয় পাতার আরো খবর