সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১
অবৈধ অস্ত্র-মাদকসহ গোল্ডেন মনির গ্রেফতার
২১নভেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। গাড়ি ও স্বর্ণের ব্যবসা রয়েছে মনিরের। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে অভিযান চলে রাতভর। শনিবার সকালে Rab সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানায় Rab। Rab সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ নিউজ একাত্তরকে বলেন,শনিবার সকাল ১‌১টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের ১১ নম্বর সড়কে গোল্ডেন মনিরের বাসার সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। গোল্ডেন মনিরের বাসায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন Rab এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়। Rab জানিয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। তার ছয়তলা ভবনের বাসায় প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি চালানো হয়।
আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস
২১নভেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উৎযাপিত হবে দিবসটি। শনিবার দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমুহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করবেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলে একযোগে প্রচার করা হবে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে তাঁদের সামরিক সচিবগণ আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আরসিডিএস, পিএসসি (অবঃ), তিন বাহিনী প্রধান ও প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বর্তমান করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সীমিত আকারে করা হবে। এ বছর ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে নৌবাহিনী জাহাজসমুহ সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।
সশস্ত্র বাহিনী আজ জাতির আস্থার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী
২০নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতার আদর্শে স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। সশস্ত্র বাহিনী আজ জাতির আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং জাতি গঠনমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে আজ দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সকল সদস্যকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এছাড়াও ঐতিহাসিক এ দিনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদ এবং মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য আর লাল সবুজের পতাকা। তিনি বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর একটি বিশেষ গৌরবময় দিন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের এ দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের সূচনা করেন। মুক্তিবাহিনী, বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যগণ ও দেশপ্রেমিক জনতা এই সমন্বিত আক্রমণে একতাবদ্ধ হন। দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেনা বাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরও অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈসা খাঁ উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লt;াভিয়া থেকে নৌ বাহিনীর জন্য দুটি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়। বিমান বাহিনীর জন্য তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সুপারসনিক মিগ-২১ জঙ্গি বিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও রাডার সংগ্রহ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে তার সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীকে দেশে ও বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করেছেন। জাতির পিতার নির্দেশে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের উপযোগী ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রবাসে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন
২০নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও নারী শ্রমিকদের হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। মানববন্ধনে প্রবাসে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অভিবাসী শ্রমিক ফোরামের উপদেষ্টা আবুল হোসাইন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অভিভাবক। দেশের ভেতরে এবং প্রবাসে যেসব বাঙালি আছে তাদের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা আপনার সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আজ দেখি জর্ডানে আমাদের শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে অথচ বাংলাদেশ সরকার টুঁ শব্দটিও করল না। জর্ডানসহ যেসব দেশে বাঙালি শ্রমিকরা নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে সেসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান এইচএম মনিরুজ্জামান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ যেসব দেশেই আমাদের প্রবাসী বন্ধুরা কাজ করছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা এই শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করছে। কিন্তু এই শ্রমিকরাই প্রবাসে ভালো নেই। এই মানববন্ধন থেকে প্রবাসে শ্রমিক নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে তিন দূতের পরিচয়পত্র পেশ
২০নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত একজন হাইকমিশনার ও দুজন রাষ্ট্রদূত তাদের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। দূতগণ হলেন- দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনার জোয়েল সিবুসিসো দেবেলে, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত তিজিতা মুলুগেতা এবং কাজাখস্তানের রাষ্ট্রদূত ইয়ারলান আলিমবেইভ। বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয় এ নীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ সকল দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। রাষ্ট্রপতি বর্তমান করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাজাখস্তানের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এবং বিশ্বকে করোনামুক্ত করতে সকল দেশ ও সংস্থা একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাজাখস্তান সরকারকে বাংলাদেশে স্থায়ী মিশন স্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বহুপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের জনগণ উপকৃত হবে। বাংলাদেশ ঔষধ, পোশাক, সিরামিকস, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন পণ্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়াতে রাষ্ট্রদূতদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া, বাংলাদেশে প্রচুর দক্ষ জনশক্তি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান। নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণ বলেন, তারা বাংলাদেশের সাথে স্ব স্ব দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদারে সার্বিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন। রাষ্ট্রদূতগণ তাদের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন, সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এসময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস
শেষ হলো সংসদের বিশেষ অধিবেশন
২০নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাদশ জাতীয় সংসদের দশম (মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ) অধিবেশন শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত ঘোষণা পাঠ করার মাধ্যমে এ অধিবেশন সমাপ্ত হয়। গত ৮ নভেম্বর শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবস এ অধিবেশনে চলে। এ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে গত ৯ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবস বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ অধিবেশনে মোট ৯টি সরকারি বিল পাস করা হয়। আইনপ্রণয়ন কার্যাবলী ছাড়াও বর্তমান অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে ৩৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সর্বমোট ৩১টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনি ১৭টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ৬৪২টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩০১টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। এ বিশেষ অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ মূল্যবান ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গত ৯ নভেম্বর উত্থাপিত কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় প্রস্তাবের (সাধারণ) ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্পিকার এ প্রস্তাব উত্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মোট ১৯ ঘণ্টা তিন মিনিটের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সরকার ও বিরোধীদলের ৭৯ জন সংসদ সদস্য। এসব আলোচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ অধিবেশনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রদত্ত ভাষণ, ৪ নভেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে প্রদত্ত ভাষণ, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ এ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রদত্ত ভাষণ শোনানো হয়। সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপাঠের আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এ বিশেষ অধিবেশন বাংলাদেশ ও দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এ অধিবেশনে আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়াসহ সংসদীয় অন্যান্য কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের সহনশীল আচরণ ও গঠনমূলক আলোচনা তাকে মুগ্ধ করেছে। এ সময় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় সঠিক দিকনির্দেশনা, গতিশীল নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনার জন্য সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানান। সংসদ পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের জন্য সংসদ উপনেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ এবং সকল সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদেরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া তিনি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হবে।
জনমুখী তথ্য প্রচারে নিউ মিডিয়া ব্যবহারে গুরুত্বারোপ
১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনমুখী এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নিউ মিডিয়া বা ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্যসচিব কামরুন নাহার। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচার কৌশল শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি মন্ত্রণালয়গুলোর জনসংযোগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুহ. সাইফুল্লাহ প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন। তথ্যসচিব বলেন, আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। মন্ত্রণালয়গুলোর জনসংযোগের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বিকল্প নেই। শুধু প্রেস রিলিজ বা হ্যান্ডআউট ই-মেইল বা ফ্যাক্স করলেই হবে না, জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছাতে ব্যবহার করতে হবে ৩৬০ ডিগ্রী পদ্ধতি, আর এজন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ বলেন সচিব। কামরুন নাহার বলেন, দক্ষ জনসংযোগের জন্য কর্মকর্তাদের নিজ কর্মক্ষেত্রের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সম্যক ধারণা অর্জন একান্ত জরুরি। আমরা এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করছি। সেই সাথে মন্ত্রণালয়গুলোতে জনসংযোগ শাখার সক্ষমতা বাড়াতে জনসংযোগ সেল এবং জনমুখী প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে তথ্য অধিদফতরে অডিও-ভিজ্যুয়াল শাখা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার তার বক্তৃতায় জানান, জনসাধারণের কাছে তথ্য পৌঁছার আধুনিক কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে সিটিজেন জার্নালিজম বিষয়ে শিগগিরই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভাশেষে তথ্যসচিব কামরুন নাহারকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ডের আলোকচিত্রের একটি স্মারক অ্যালবাম হস্তান্তর করেন প্রধান তথ্য অফিসার।
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের নায়কদের খুঁজতে কমিশন হচ্ছে
১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনের নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের খুঁজতে কমিশন গঠন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে এ তথ্য জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন করা হবে। ইতোমধ্যে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে- কমিশন কাদের নিয়ে কীভাবে গঠিত হবে। কমিশনের কাজের পরিধি কী হবে ইত্যাদি নির্ধারণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনিসুল হক বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রচলিত আইনে এবং প্রচলিত আদালতেই হত্যাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে হত্যাকারীদের সাজা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখনও যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে এবং আশ্রয় গ্রহণ করে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন
১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার এ রায় দেন। গত ১২ নভেম্বর এ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুর আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। গত ৫ নভেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৪ সাক্ষীর ২০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। চলতি বছর ১৬ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৬ আগস্ট আসামি মজনুর বিচার শুরু হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী ও ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবার সাক্ষ্যর মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরদিন ভুক্তভোগী সাক্ষ্যে মজনুকে ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেন। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর ওই ছাত্রীকে মুখ চেপে পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তি। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নির্জন স্থানে অবিষ্কার করেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নিজ গন্তব্যে পৌঁছালে রাত ১২টার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর