এ মাসেই নুসরাত হত্যার চার্জশিট
৫মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছু কাগজপত্র তৈরি করে চলতি মাসে যত দ্রুত সম্ভব ঘটনায় জড়িত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হবে। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যে মোবাইল ফোন দিয়ে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেছিলেন, সেই ফোনসহ এক এসআইয়ের একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান। বিএফডিসিতে গতকাল শনিবার দুপুরে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে এ তথ্য জানান পিবিআইপ্রধান। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারই নারীর প্রতি নিপীড়ন বৃদ্ধির প্রধান কারণ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিবিআইপ্রধান। নুসরাতের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা প্রসঙ্গে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার তদন্ত শেষ হতে কিছু সময় লাগবে। আদালতে তারা সময়ের আবেদন করেছেন। আমরা এই মাসটা (মে) টার্গেট করেছি, যত দ্রুত সম্ভব আমরা চার্জশিট দিয়ে দেব। তদন্তকালে কারও সঙ্গেই আপস করা হবে না। এ রকম একটি জঘন্যতম হত্যাকা-ের দায় জড়িত সবাইকেই নিতে হবে, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন পিবিআইপ্রধান। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরিকল্পনা, হত্যা মিশন বাস্তবায়ন, খুনের মিশনে অর্থ ব্যয়সহ নানাভাবে এ পর্যন্ত সোনাগাজী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এসএম সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এ ১৬ জনের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও অনেকের নাম এসেছে মামলায়, আমরা তাদেরও জবানবন্দি নেব। তিনি বলেন, চার্জশিটে যাদের নাম আসবে, আদালতের কাছে সে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের সুপারিশ করা হবে। এ ঘটনার আগে-পরে যারা মদদ জুগিয়েছেন, তারাও যেন শাস্তি পান, সে লক্ষ্যে পুলিশের অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে বলে জানান বনজ কুমার মজুমদার। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আরেকটি বোরকা উদ্ধার নুসরাত হত্যামামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার পুকুরে তার দেখানো স্থান থেকে একটি বোরকা উদ্ধার করা হয়। এটি হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি পরিধান করে ছিলেন। এ ছাড়া কিলিং মিশন শেষে শামীম যে পথ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সেই পথটিও শনাক্ত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেনকে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিন বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পাল এ দুজনকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ইতিপূর্বে শামীম ও জাবেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ৯ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিরাজউদ্দৌলা ছাড়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া অন্যরা হলেন নূরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ। উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে। এখন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী ১৬ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে। এটি এখন দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। সুতরাং দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ১৬ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ বিকাল ৪টার পর বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার ভোর ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গে হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উপকূল এলাকায় আঘাত হানে। সেখান থেকে দুপুরে উত্তরবঙ্গের নাটোর-সিরাজগঞ্জ হয়ে জামালপুর দিকে ধাবিত হয়। প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে আঘাত হানে। সেখানে পুরী, গোপালপুর উপকূল এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এটি। এতে নিহত হয় কমপক্ষে ৮ জন। পরে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হয় ফণী।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ফণীর ক্ষতি কমিয়ে এনেছে দাবি হানিফের
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কারণে আগাম তথ্য পাওয়ার ফলে সরকার ও দলীয়ভাবে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি দাবি করেন, এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফণী নিয়ে দলীয় মনিটরিং সেলের কর্মকাণ্ড ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে হানিফ বলেন, গত ১০ বছর তার শাসনামলে সবদিক থেকে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নের একটি বড় অংশ হচ্ছে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের দুই হাজার কিলোমিটার দূরে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের খবর আমাদের দেশের আবহাওয়া অধিদফতর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কারণে আগাম তথ্য পেয়েছিলাম বিধায় আমাদের সরকার ও দলীয়ভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে’ বলে দাবি করেন হানিফ। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জারিত বিএনপি নিজেদের সমস্যা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা নানা কথাবার্তা বলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের ব্যর্থতা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। হানিফ আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। সরকার এবং দলের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে বলেও তিনি জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত নন্দী রায় প্রমুখ।
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিপদ কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো.এনামুর রহমান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৪ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। ফণীর বিপদ কেটে গেছে। তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না।ঘূর্ণিঝড়ে চার জন নিহত হয়েছে জানিয়ে এবং প্রাণহানির এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণেই তাদের প্রাণহানি ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে না থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা, নগদ টাকা কোনও কিছুরই অভাব ছিল না। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ তথ্য পেতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সামর্থবান এবং ধনী সরকার। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কোনও সমস্যা হবে না। বিদেশিদের কাছেও হাত পাততে হবে না।আবহাওয়া অধিদপ্ততরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ কেটে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেজন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন বিকাল ৪টা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট খুবই মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় ফণী দুর্বল হয়ে আজ (শনিবার) সকালে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করে। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ঘূর্ণিঝড়টি স্থলপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। যার ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এজন্য লন্ডন সফররত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন। এর আগে ফণীর আঘাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সভায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলায় গৃহীত প্রস্তুতি বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।এ সময় দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ এসব এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো, বিশেষ করে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতার প্রশংসা করা হয়। এ ছাড়া সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপিস আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রমেরও সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।বিশ্ব পরিমণ্ডলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল হিসেবে খ্যাত যেকোনো দুর্যোগকালে বাংলাদেশ সরকারের সকল সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার যে কৃষ্টি তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।আজকের সভায় মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে জাতির যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফণী দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণী দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সমুদ্র বন্দরগুলোর বিপদ সংকেত নামিয়ে নিতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝড়ের আগে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে যারা উঠেছিলেন, শনিবার বিকেল থেকে তারা ঘরে ফিরতে পারবেন।প্রবল ঘুর্ণিঝড় ফণী শনিবার সকালে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। দুপুরে এটি গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে টাঙ্গাইল-মংমনসিংহ অঞ্চলে অবস্থান করছিল বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়। মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোর বিপদ সংকেত নামিয়ে শনিবার দুপুর থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়ের কারণে বায়ুচাপের তারম্য এবং অমাবশ্যা সমাগত বলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুই থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া কয়েক লাখ মানুষের বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানিয়ে তাদের ঘরে ফেরার বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানায়।দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা ১৬ লাখের বেশি মানুষ বিকেল নাগাদ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে।
কিছুটা শঙ্কামুক্ত ফণী
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর তেজ কিছুটা কমে আজ শনিবার সকাল ৬টায় খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ঝড়টি ক্রমশ দুর্বল হয়ে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।ফণী নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ সকাল ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন। প্রতি ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে এখান থেকে আপডেট দেওয়া হচ্ছে।শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, এখন ফণী খুলনা-সাতক্ষীরা ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে সরে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার এবং এটি উত্তর উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে অগ্রসর হয়ে চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এটি অবস্থান করবে আরো পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। এই সময়ে এসব অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। তারপর এটি ভারতের দিকে চলে যাবে।গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ভারতের ওডিশা রাজ্যে ফণীর তাণ্ডব শুরু হয়। সেখানকার পুরি উপকূলে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে। সেখানে আটজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।এরপর সেটি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত আনে। মধ্যরাতের পর ভারতের এই রাজ্যে প্রবেশ করে ফণী। ৯০ কিলোমিটার বেগে খড়গপুরে এটি আঘাত হানে। পরে আরামবাগ, কাটোয়া, নদীয়া হয়ে গেছে মুর্শিদাবাদে। তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে আলিপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের স্থলভাগ দিয়ে প্রবেশ করায় তা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। সংশ্লিষ্ট এলাকার সাগর ও নদী উত্তাল রয়েছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘরচাপা পড়ে বরগুনার পাথরঘাটায় দুইজন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুজন ও বাগেরহাটে গাছচাপায় একজন নিহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে।ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা থেকে কিছুটা শঙ্কামুক্ত বলেও জানান আবাহওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ। তিনি আরো বলেন, তবে আমরা মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি। ট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং কক্সবাজারকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি।ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে বরিশালে বাতাসের একটানা গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার এবং চাঁদপুরে ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী ও রংপুরে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ময়মনসিংহ, সিলেট অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ফণী এখন ঢাকায়
৪মে,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:ফণী এখন বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের স্থলভাগে (চুয়াডাঙা, রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, ঢাকা অঞ্চলে) অবস্থান করছে। এটি আরো ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক হয়ে ভারতের আসাম মেঘালয়ে প্রবেশ করবে। ফণীর গতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। রোববার (৫ মে) বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়ে থাকতে অনুরোধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

জাতীয় পাতার আরো খবর