ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুন আর নেই
ভাষাসৈনিক ও সাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুন আর নেই। মঙ্গলবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে হালিমা খাতুনের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।জানা গেছে, তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণের মতো নানা জটিলতা নিয়ে গত শনিবার এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার নাতনী অন্তরা বিনতে আরিফ প্রপা সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।ভাষা আন্দোলনে তার অনন্য অবদানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি তাকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করে। হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে দেশের অন্যতম আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী।
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ
সোমবার রাত থেকে ভারি বর্ষণে রাঙ্গামাটির পাহাড়ের খাদে থাকা মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের রাঙ্গাপানি, মানিকছড়ি, সাপছড়ি, শিমুলতলীসহ বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ের মাটি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে সকাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর পায়নি বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস। এদিকে ভারি বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে পানির উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি বৃষ্টির ফলে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের মগাছড়ি, ঠাণ্ডাছড়ি, রাউজান, ধামরাইহাট, পারুয়াসহ রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তায় পানি উঠে গেছে। যাত্রীদেরকে পায়ে হেটে ভেলায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, গতরাত থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙ্গামাটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা রাঙ্গামাটির সর্বত্র মাইকিং করছি। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে। জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙ্গামাটির আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা আছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা নিজেদের মতো করে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য তিনি মাইকিংকে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান জানান, বৃষ্টি বাড়লে আমাদের ভীতি বাড়তে শুরু করে। রাঙ্গামাটির পাহাড়ের মাটিগুলো খুবই নরম হয়ে গেছে। তবে সকাল থেকে আমরা বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। নানিয়ারচর সংবাদদাতা জানান, নানিয়ারচর উপজেলার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, মহালছড়িতে গত রাত থেকে প্রবল বর্ষণ হওয়ায় চেঙ্গী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে।
বান্দরবানে পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু
ভারি বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মঙ্গলবার পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক প্লাবিত হয়ে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে।সদর থানার ভারপ্রাপ্ত গোলাম সারোয়ার কর্মকর্তা বলেন, গত দুই দিনের টানা বর্ষণের ফলে দুপুরে জেলা শহরের কালাঘাটা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাটি চাপা পড়ে প্রতিমা রানী নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। এদিকে, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়ার বৈদ্যপাড়ায় সড়কে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।এছাড়াও জেলার পলুপাড়ায় বেইলি ব্রিজ পানিতে প্লাবিত হওয়ে বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ব্রিজের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়েছে।
গাজীপুরে ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরের টঙ্গীর বড়বাড়ি জয়বাংলা রোড এলাকায় ফোম কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মী দগ্ধ হয়েছেন। জামান নামে আহত ওই কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, জয়দেবপুর, টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিটের কর্মীরা ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ভেতরে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। টিনশেড ওই কারখানা ও সংলগ্ন গুদামে প্রচুর ফোম ও সিনথেটিক কাপড়ের মজুদ থাকায় আগুন নেভাতে সময় লাগে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা এখনো জানতে পারেননি বলেও জানান তিনি। কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিমুল আলম চৌধুরীর দাবি, আগুনে ৬০-৭০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
মার্কিন দূতাবাস বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে: জয়
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ‘বিএনপির মুখপাত্রে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের উদ্বেগ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে জয় এই মন্তব্য করেন। গাজীপুরের ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে দু’লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র হন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম। বিএনপি ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। জয় লিখেছেন, বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপি'র মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি'র মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপি'র সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না। জয় বলেন, নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহন বাতিল ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র বলেন, আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুন ভোট, পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরী করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল। জয় তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের বক্তব্যে এই বিষয়টিকে কিন্তু এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করুন
নীতিমালার শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে স্বাধীনতা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। একই সঙ্গে যোগদানের দিন থেকে চাকরির বয়স গণনার দাবি সংগঠনটির। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে স্বাধীনতা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. এশারত আলী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, দেশে আজ শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধন হলেও পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পাঠদানকারী এক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও বেদনাদায়ক। এছাড়া নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা আদায়ের লক্ষ্যে ১০-১৫ বছরের অধিক সময় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম পালন করতে গিয়ে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী হতাহতও হয়েছে। তাই আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এমপিওভুক্তি না করলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু।
১০টি বিশেষ উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে ক্রমেই দারিদ্র্যের হার কমে আসছে। আর এক্ষেত্রে আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উল্লেখ্য, এই বিশেষ উদ্যোগুলো হলো একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা। মূলত গ্রামীণ সমাজের মানুষের কথা চিন্তা করেই এমন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগগুলো যে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে, গ্রামের মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে কার্যত তার প্রমাণও মিলছে। কয়েক বছর আগেও মঙ্গার কারণে রংপুর বিভাগের মানুষ দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু উদ্যোগগুলোর অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভাগের কয়েক লাখ দরিদ্র, অতিদরিদ্র মানুষকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা করায় এ অঞ্চল থেকে মঙ্গা উধাও হয়েছে। বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৫৮ উপজেলার নিভৃত পল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত বিশেষ এ কর্মসূচির উপকারভোগী প্রায় ২৫ লাখ হতদরিদ্র নারী-পুরুষ। বলা যায়, এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে ঘটে গেছে নীরব বিপ্লব। এ বিভাগে বয়স্কভাতার সুবিধা ভোগ করছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬ জন, বিধবাভাতা পাচ্ছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৭ জন। এছাড়াও ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস), ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি), ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ফিজিএফ), টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য এবং প্রোগ্রাম ফর ফ্রেন্ডলি ফুডসহ অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত রয়েছে সাড়ে ১৯ লাখ মানুষ। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এমন সফলতা যে শুধু রংপুর বিভাগেই তা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঘটেছে। ফলে একদিকে যেমন দারিদ্র্যের হার কমছে, অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত বিশেষ উদ্যোগগুলো যদি যথাযথভাবে কার্যকর হতে থাকে, আক্ষরিক অর্থেই দারিদ্র্য জাদুঘরের দর্শনীয় বস্তুতে পরিণত হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোকএটাই প্রত্যাশা। সূএ:অালােকিত বাংলবদেশ
৭ সদস্যের কমিটি কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনায়
সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করবে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোটা পর্যালোচনা সংক্রান্ত এই কমিটি বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার, বাতিলের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব। কমিটি প্রয়োজনে যে কোন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবেন।
ভারত সফরে যাচ্ছেন এইচটি ইমাম?
বিএনপির দুই নেতার পর এবার ভারত সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। আগামী ৫ জুলাই দিল্লি এসে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করবেন তিনি। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারত সফর করে গিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপির দুই নেতা। তার ঠিক পরেই এইচটি ইমামের ভারত সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ভারতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা তত বাড়ছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘অন্য দেশের ভোটের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। তা সম্পূর্ণভাবেই সেই দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’ তবে কূটনীতিকরা বলছেন, গোটা উপমহাদেশই নজর রাখছে বাংলাদেশের দিকে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সে দেশের সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট সম্পন্ন হোক, এটাই কাম্য নয়াদিল্লির। শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই স্বস্তিজনক জায়গায় পৌঁছেছে ভারত। সে দেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের হিংসাত্মক আন্দোলনের সমালোচনাও করেছে সাউথ ব্লক। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিএনপির তরফ থেকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে পৌঁছনোর একটা চেষ্টা শুরু হয়েছে। সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা রাম মাধবের সঙ্গে বিএনপির দুই নেতা আলোচনা করে গিয়েছেন বলেও সূত্রের খবর। এমন একটা প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ভারত সফরে আসছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে তার। এছাড়া ‘অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (ওআরএফ) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আগামী ৭ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা দেবেন এইচটি ইমাম। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তিস্তা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। কিন্তু, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, পরিকাঠামো তৈরিতে অর্থ সাহায্য, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়ে সাহায্য, কম সুদে ঋণ দেয়ার মতো সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ভারতের পক্ষ থেকে হাসিনা সরকারকে দেয়া হয়েছে। একদিকে যেমন নতুন কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় ঋণের টাকায় শুরু হওয়া পুরনো প্রকল্পগুলো কী অবস্থায় রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। সূত্রের খবর, এইচটি ইমাম তার সফরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করবেন ভারতীয় নেতাদের সামনে।

জাতীয় পাতার আরো খবর