শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১
১০ ঘণ্টার চেষ্টায় ডেমরার আগুন নিয়ন্ত্রণে
০৬নভেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়ায় হাজি বাদশা মিয়া রোডের একটি ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে ভবনটির তিনতলা থেকে নয়তলা পর্যন্ত পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিটের ১০ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনাপাড়ায় হাজি বাদশা মিয়া রোডের পাশা লাইটের গোডাউনে বিকেলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মাহফুজ রিবেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৫০ জনবল এবং Rab, পুলিশ, রেডক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তলাবিশিষ্ট ভবনটির প্রায় পুরোটাতেই দাহ্য পদার্থ ভরপুর ছিল। আগুন নেভানোর জন্য কাজ করার কোনো পরিবেশ ছিল না। একটি মাত্র সরু রাস্তা। যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটির ষষ্ঠতলা এনার্জি লাইটের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে সেটা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
রাজধানীর কোনাপাড়ায় লাইটের গোডাউনে আগুন
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর ডেমরায় একটি লাইট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। ১০তলা ওই ভবনের ছয় তলায় আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। জানা যায়, ভবনটি ছিল একটি লাইট কারখানা। আগুন ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই সকল শ্রমিক ভবন থেকে নেমে যেতে সক্ষম হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট। ভবনের জানালার গ্লাসসহ বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। পুরো ভবনটি ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে। উৎসুক জনতার ভিড়ে দমকল কর্মীদের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের গণমাধ্যম শাখা এসব তথ্য নিশ্চিত করে। তবে হতাহতের কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়মে সরকারি ক্ষতির অর্থ আদায়ের সুপারিশ
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজে অনিয়মের কারণে সরকারের ক্ষতি হওয়া টাকা দুই মাসের মধ্যে সরকরি কোষাগারে জমা দেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ২০১০-১১ ও ১১-১২ অর্থবছরে ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অনিয়মের ফলে ক্ষতি হওয়া টাকা আদায়ের এই সুপারিশ করেছে কমিটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুস শহীদ, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, মনজুর হোসেন, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং মো. জাহিদুর রহমান অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তিনটি বিভাগের কাজে নির্দেশ উপেক্ষা করে লাইসেন্স নবায়ন ফি, তালিকাভুক্তি ফি, ফরম বিক্রি, টেন্ডার সিডিউল বিক্রি বাবদ আদায়কৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না করে অনিয়মিতভাবে বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখায় সরকার ৯ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৯ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, এ অডিট আপত্তি নিয়ে প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় বলেছে, বেসরকারি ব্যাংকে জমা হওয়া টাকা থেকে যে সুদ হয়েছে সেই টাকাও সরকারি কোষাগারে রাখতে হবে। এছাড়া নির্মাণ কাজ সম্পাদনে ব্যর্থ ঠিকাদারের কার্যাদেশ জরিমানার ভিত্তিতে বাতিল করা সত্ত্বেও জরিমানার অর্থ আদায় না করায় সরকারের ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৩ টাকা আর্থিক ক্ষতির অর্থ আদায় করে দুই মাসের মধ্যে জমা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই দুই অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনিয়মিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রদান করায় এবং অনিয়মিতভাবে অস্থায়ী রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের পূর্বেই প্রকল্পের কর্মচারীদের চাকরি বিরতিকালের বেতন ভাতা বাবদ ৬ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি-সংক্রান্ত অডিট আপত্তি পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ কাজে ৩৩% রড কম ব্যবহার করা সত্ত্বেও মেজারমেন্ট নিয়ে বিল পরিশোধে সরকারের দুই কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৫ টাকা আর্থিক ক্ষতির অর্থ দুই মাসে আদায় করতে এবং দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
আলীগ ছাড়া আর কেউই সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেয়নি: প্রধানমন্ত্রী
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউই সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় ভবিষ্যতে অন্য দেশের জন্যও বাংলাদেশ জাহাজ তৈরি করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ৩টি যুদ্ধজাহাজ ও ২টি জরিপ জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও সাথে শত্রুতা নয়; তবে আক্রান্ত হলে তা মোকাবেলা করার সার্মথ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। বিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষ্যেই আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময়, শীতকালে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সর্তক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আবারও আহ্বান শেখ হাসিনা।
অবাঞ্ছিত সেনাসদস্যরা বানোয়াট গল্প বলছেন: আইএসপিআর
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবাঞ্ছিত ঘোষিত কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিদেশ থেকে বানোয়াট ও মনগড়া গল্প বলার মাধ্যমে দেশ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বুধবার (০৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর এ কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকজন অবাঞ্ছিত ঘোষিত (PNG) অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিদেশ থেকে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য সম্বলিত গল্প এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া মান্যবর ব্যক্তিদের কথোপকথন সংগ্রহ করে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তা কাট-পেস্ট ও এডিট করে তাদের উদ্দেশ্য মাফিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপনের মাধ্যমে সেনাসদস্য ও দেশের সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়ে ক্রমাগত দেশ এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড তাদেরকে PNG করাটা যে যথার্থ ছিল, তাই প্রমাণ করে। তাদের এ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘৃণ্য অপকর্মে প্রতিটি সেনাসদস্য অত্যন্ত মর্মাহত। কাল্পনিক, বাস্তবতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত এসব গল্প বা বক্তব্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা এবং দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না বরং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর অবসর নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অবসর জীবনে যদি কোনো প্রাক্তন সেনাসদস্য শৃঙ্খলা বিবর্জিত জীবনযাপন করেন, যা সামরিক ও বেসামরিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে, তখন তাকে সংশোধনের জন্য দেশের সব সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত বা Persona Non Grata (PNG) ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও পেশাদার বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ৪৯ বছরের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এ সেনাবাহিনী বর্তমানে পেশাগতভাবে দক্ষ ও পরিপক্ক, যা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে হাসিমুখে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাসদস্যরা উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশে এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও তার উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধ গভীরভাবে ধারণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। দেশে বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অত্যন্ত সুসংহত করে চলেছে। চলমান করোনা মহামারিকে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করার পর, তাঁর নির্দেশে সেনাবাহিনী করোনাযুদ্ধে জনগণের পাশে থেকে অভূতপূর্ব সেবা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে সেনাবাহিনী।
সৌদি ও দুবাই থেকে কেনা হচ্ছে ১৩ লাখ ক্রুড অয়েল
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২১ সালে প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। এর মধ্যে আবুধাবি থেকে ছয় লাখ ও সৌদি আরব থেকে সাত লাখ টন। আমদানিতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ২০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন সার আমদানি করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব ছাড়াও আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০তম এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৬৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার ১৯৮ টাকা। মোট অর্থায়নে জিওবি হতে ব্যয় হবে ২২৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ১২ টাকা এবং ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন ও দেশীয় ব্যাংক হতে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪৪০ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার ১৮৬ টাকা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ? মোস্তফা কামাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব ছিল। তবে সেটি অধিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো হতে সপ্তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৬৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬২ টাকায় ক্রয়। কাতার হতে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৬৮৭ টাকায় ক্রয়। এছাড়া কাতার হতে পঞ্চম লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৭ টাকায় ক্রয়। সৌদি আরব হতে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৫৬ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন বিআরটিএর আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে ঢাকা মেট্রো-১ অফিসে ১২ লেনবিশিষ্ট ভিআইসি (ভেহিকল ইন্সপেকশন সেন্টার) স্থাপনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, হার্ডওয়্যার ইত্যাদি সরবরাহ, স্থাপন, পরিচালনা, মেইনটেন্যান্স ও মেয়াদ শেষে হস্তান্তরের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডারকে ১০৫ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৬ টাকায় নিয়োগের অনুমোদনও দেয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সিলেট জেলা পুলিশ লাইনস এলাকায় একটি আবাসিক ভবন নির্মাণকাজ সম্পাদনে ৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ টাকায় নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকা গুলশান এলাকায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৪তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পূর্তকাজ সম্পাদনে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৬ টাকায় অনুমোদন দেয়া হয়। সূত্র: বনিক বার্তা
Rab এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান হলেন লে. কর্নেল খায়রুল
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: Rab এর ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দা) উইংয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। বুধবার (৪ নভেম্বর) তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেমের স্থলাভিষিক্ত হলেন খায়রুল ইসলাম। Rab সদরদফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট। গোয়েন্দা সংস্থায় তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সুদানে জাতিসংঘ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেষণে Rab এ যোগদান করেন এবং একই বছরের ১৪ নভেম্বর Rab-12 এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে Rab-12 জঙ্গি, মাদক, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, অবৈধ অস্ত্রধারীসহ বিভিন্ন অপরাধী দমনে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছে। এছাড়াও সমাজের নানামুখী অপরাধ দমন সংক্রান্ত অভিযানে মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ভোগান্তিমুক্ত বিচার পাওয়া মানুষের অধিকার: প্রধানমন্ত্রী
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অল্প সময়ে, অল্প খরচে ভোগান্তিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি মানুষের অধিকার। বুধবার (০৪ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নবনির্মিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ঢাকা-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জুন ২০২০ পর্য্ন্ত দেশে বিভিন্ন আদালতে ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৮টি মামলা বিচারাধীন আছে। এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় দেওয়ার উপায় বের করার জন্য আমি সব বিচারক ও আইনজীবীদের অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এত মামলা যেন এভাবে জমে না থাকে। কিভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা যায় সে ব্যাপারে একটু আন্তরিক হবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। এর জন্য যদি কোনো রকম সহযোগিতা প্রয়োজন হয় সেটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে করবো। এতগুলো মামলা এভাবে পড়ে থাকুক সেটা আমরা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব অল্প সময়ে, অল্প খরচে ভোগান্তিমুক্ত বিচার প্রাপ্তিটা মানুষের অধিকার। যদি দ্রুত সময়ে, অল্প খরচে বিচারকাজ শেষ করতে পারেন তাহলে বিচার বিভাগের ওপরই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। যদিও আমাদের আস্থা-বিশ্বাস আছে, তারপরও আমি বলবো এ বিষয়ে সবাইকে একটু বিশেষ নজর দিতে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার সব সময় প্রস্তুত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে- আমরা যেহেতু আইন সভার সদস্য, সেখানে আইন প্রণয়ন বা আইন সংস্কার বা যেখানে যা করা দরকার সেগুলো সব আমরা করতে প্রস্তুত। সরকার হিসেবে আমাদের যা দায়িত্ব সে দায়িত্বও আমরা সব সময় পালন করতে প্রস্তুত। যেন বাংলাদেশের মানুষ ন্যায় বিচার পায়, দেশের মানুষ ভালো থাকে, স্বস্তিতে থাকে, শান্তিতে থাকে, নিরাপদে থাকে, উন্নত জীবন পায়। এসময় আদালতের রায় বাংলায় লেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ট্রান্সলেটর নিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মামলার রায়গুলো ইংরেজিতে দেওয়া হয়। অনেকে রায়টা বুঝতে না পারায় আইনজীবীরা যেভাবে বোঝান সেভাবে তাদের বুঝতে বা জানতে হয়। রায় যদি কেউ বাংলায় লিখতে না পারেন, ইংরেজিতে লেখেন কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেই রায়টা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে যেন প্রচার হয় সে ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজিতে লিখতে লিখতে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাই বাংলাতেই রায় লিখতে হবে, এ ধরনের চাপ প্রয়োগ ঠিক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি বলবো এগুলো ট্রান্সলেট করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়, অনেক প্রফেশনাল ট্রান্সলেটরও থাকেন। তাদেরও আপনারা প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে পারেন। তিনি বলেন, ট্রান্সলেটরদের কাজই হবে যেটাই লেখা হোক সব ট্রান্সলেশন করবে এবং সেটাই প্রচার হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ জানতে পারবে ফলে বিচারের ফলে কি রায়টা হলো সেটা নিজে দেখে বুঝতে পারবে, জানতে পারবে। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কিছু ব্যবস্থা নেন কারণ এটা জুডিসিয়াল ব্যাপার এর অনেক কথা, অনেক শব্দ, অনেক টার্মস যেগুলি আমাদের সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না সেগুলোর অনুবাদ যদি সহজভাবে করা যায়। এ ব্যাপারে যদি কোনো ফান্ড লাগে সেটারও ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আমি চাই এটা যেন হয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইতে না পারার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আবার ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে। কিন্তু আমি এবং আমার বোন (শেখ রেহানা) জাতির পিতা হত্যার বিচার চাইতে পারিনি। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়াউর রহমান সে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি মামলা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে অধঃস্তন আদালতে ১১২৬ জন বিচারক নিয়োগ, দরিদ্র-অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সরকারিভাবে আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলা সদরে এবং সুপ্রীম কোর্টে লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন, বিচারকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, বিচারকদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধির পাশাপাশি জুডিসিয়াল ভাতাও প্রদান, ৪২টি জেলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য ৮-১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ, সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৭টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, ৭টি বিভাগীয় শহরে সাইবার ট্রাইবুন্যাল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পর ২০২০ সালে আরও ৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০ প্রণয়ন এবং মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন, ৭টি মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনসহ সুশাসন নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৯ থেকে জুলাই ২০২০ পর্যন্ত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে সর্বমোট ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩০ জনকে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।
রোহিঙ্গাদের জন্য ৩ লাখ মার্কিন ডলার দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ডব্লিউএফপি বাংলাদেশকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ( ৪ নভেম্বর) ডব্লিউএফপি ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৩৪টি ক্যাম্পের প্রতিটিতেই শতভাগ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ডব্লিউএফপি থেকে সহায়তা দেওয়া হয়, যারা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ডব্লিউএফপি থেকে পুষ্টি সহায়তা, ইঞ্জিনিয়ারিং সহায়তা, স্কুল ফিডিং সহায়তা ও আত্ম-নির্ভরশীলতা বা জীবিকা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড রেগান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যারা পুরোপুরিভাবে বাহ্যিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদেরকে সহায়তা করতে আমাদের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দাতাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডব্লিউএফপিকে দেওয়া ৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের পর নতুন করে আবারও এই অনুদান দেওয়া হলো। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায়, বিশেষতঃ ডব্লিউএফপির মাধ্যমে কোরিয়া সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছে। তিনি আরও বলেন, কোরিয়া সরকার আশা করে, এই অনুদানের ফলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদেরকে আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে। ২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস-বিষয়ক কর্মসূচিতে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিকে সহায়তা দিয়ে আসছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কইকা) মাধ্যমে কোরিয়ার বহুবার্ষিক সহায়তায় ডব্লিউএফপি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে গ্রামাঞ্চলের জনগোষ্ঠী, যাদের জীবন ও জীবিকা চরম দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে, বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান, যা দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় একটি চার বছর মেয়াদী দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর এই প্রকল্পটির মাধ্যমে এই বছরে হওয়া স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ঝুঁকির সম্মুখীন পরিবারগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে উপকৃত হচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর