বাচ্চু দুদকে না আসায় ১৫ মে ফের তলব
অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে সোমবার হাজির হননি। তিনি সকাল ১০টার দিকে দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে লোক মারফত চিঠি পাঠিয়ে সময় আবেদন করেন। সময় মঞ্জুর করে বাচ্চুকে আগামী ১৫ মে দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন,সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে সোমবার জেরার জন্য তলব করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি না এসে চিঠি দিয়ে দুই মাসের সময় আবেদন করেছেন। তাকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে ১৫ মে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গতবছরের ৪ ও ৬ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ও ৫ মার্চ- চার দফায় দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ২৪টি মামলার বিষয়ে বাচ্চু তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী এবং ৮১ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ ১২৯ জনকে আসামি করা হয়। এরপর বংশাল ও মতিঝিল থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬২টি মামলা করেছে দুদক। তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়ন হয়। কিন্তু, ২০১৪ সালে ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে চাপের মুখে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করেছিল, বাচ্চুর নেতৃত্বেই ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
কারিগরি সহযোগিতা দেবে অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়নে
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় পারস্পরিক এ আবেদন ও আশ্বাস বিনিময় হয়। অস্ট্রেলিয়ার মনাস ইউনিভার্সিটি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের নিজস্ব সক্ষমতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়াকে আমরা পাশে চাই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এক হাজারের বেশি টেকনিশিয়ানকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে আরও বেশি শিক্ষিত ও সচেতন করে তুলতে চাই। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ খাতের উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা করেছে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত জুলিয়া নিবলেট বলেন,অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ কয়লা রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজি পণ্য ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া এ খাতে উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করছে। এসময় তিনি বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, মনাস অ্যান্ড দ্য বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রফেসর জুলি উলফার্ম কক্স ও সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর স্কট বাউম্যান।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছেলে,পাসে মেয়ে
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করেন। এতে দেখা গেছে, ১০টি বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ২ দশমিক ১৪ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা। এবার ছাত্রী ৭৮ দশমিক ৮৫ এবং ছাত্র ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পাস করেছে। আর ৫৪ হাজার ৯২৮ ছাত্রী এবং ৫৫ হাজার ৭০১ ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন। গতবছর ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,ফলাফলে এবার কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এজন্য আমরা খাতা পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছি। এর ফলাফল পরীক্ষার মোট ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন,শিক্ষার পরিবেশ মানসম্মত তৈরি করার চেষ্টা চলছে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ও মেয়েদের ৮০ দশমিক ৩০ শতাংশ। উভয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৯। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছেলেরা ১ হাজার ৯৮৮ ও মেয়েরা ১ হাজার ৩৮৩। মোট ৩ হাজার ৩৭১ জন। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়েরা ১ হাজার ৯১৪ জন ও ছেলেরা ২ হাজার ৪৯৯ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪১৩। এবার ১০ বোর্ডের মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডে মাধ্যমিকে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ছাত্র ৮৫ দশমিক ১৫। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বোর্ড, পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ছাত্র ৭৯ দশমিক ৭৯ ও ছাত্রী ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। তৃতীয় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০, ছাত্র ৮১ দশমিক ২৯ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। চতুর্থ দিনাজপুরে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬২, ছাত্র ৭৫ দশমিক ৮১ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৫১। পঞ্চম অবস্থানে বরিশাল বোর্ড, পাসের হার ৭৭ দশমিক ১১, ছাত্র ৭৫ দশমিক ২৩ ও ছাত্রী ৭৯ দশমিক ০২, ষষ্ঠ অবস্থানে যশোর বোর্ডে ৭৬ দশমিক ৬৪, ছাত্র ৭৪ দশমিক ৪৪ ও ছাত্রী ৭৮ দশমিক ৮৭। সপ্তম চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৫০, ছাত্র ৭৫ দশমিক ৮৬ ও ছাত্রী ৭৫ দশমিক ১৯, অষ্টম সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। ছাত্র ৮১ দশমিক ৩৩, ছাত্রী ৭৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার অনেক কম ছিল। আমরা এসব বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও অতিরিক্ত ক্লাসসহ নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফল ভালো করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদিকে, বিদেশি ৮টি কেন্দ্রে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০ জন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রমুখ। ১০৯ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৯টি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এ বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৩টি, যা গত বছর ছিল ৯৩টি। তবে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে বলে জানান তিনি। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৬৬টি। এবার তা কমে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টি। যে কারণে পাসের হারে এগিয়ে কুমিল্লা বোর্ড পরপর দু বার এসএসসির ফল বিপর্যয়ের পর এবার সবচেয়ে ভাল ফল হয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে। এবার ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। যেখানে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪০ শতাংশ। গতবছর কুমিল্লার পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে, অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ২০১৭ সালেই পাসের হার সবচেয়ে কম ছিল। আর ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। কুমিল্লায় পাসের হার হঠাৎ বাড়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন,কুমিল্লা বোর্ডের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। দেখেন আপনারাই কিন্তু বলেছিলেন গত দু বছরে তাদের ফলাফলে বিরাট ফারাকের কথা। আপনাদেরও তাগিদ ছিল এটা কেন হয়। এ বিষয়ে আমরা বোর্ডকে সজাগ করেছি। সার্বিকভাবে মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা একটা ব্যাপক প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি, যাতে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারে। তিনি বলেন,দু বছর ধরে কনটিনিউয়াসলি এই ধারাবাহিকতা বজায় যেন থাকে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কারণে হয়তো এবার সমতায় আসছে। হয়তো কেউ কম, কেউ একটু বেশি করেছে। তবে আগে যেমন কুমিল্লার বিষয়টি চোখে লাগতো। এবার সেটা হয়নি। এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার নিউজ একাত্তর ডটকম কে জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এবার ভালো ফলাফল হয়েছে। বোর্ড এবং মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টার ফল আমরা পেয়েছি।
পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে শতভাগ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। রোববার সকালে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৬৯২টি। এবার মোট ১ হাজার ৫৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৬টি। গতবছর ছিল ৯৩টি। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১০৯টি। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ বছর বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। নাহিদ জানান, সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১.৮১ শতাংশ। তবে গতবছরের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এসেছে।
পাহাড়ে শান্তি বজায় থাকুক আমার চাওয়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে বাঙালি, কে পাহাড়ি- আমার কাছে সেটি বিবেচ্য নয়। আমরা চাওয়া সারাদেশের মত পাহাড়েও শান্তি বজায় থাকুক। রোববার সকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি গ্রহণ করে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি একথা বলেন। খবর: বাসস। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন। এতে দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৬৮ জন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার পাসের হার কিছুটা কম। তবে এটি হতাশাজনক নয়। আমি ছাত্রছাত্রীদের বলব- এবার পাস করনি বলে হতাশ হওয়া চলবে না। আরও উৎসাহী হয়ে পড়াশোনায় মন দিতে হবে।’ তিনি অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও ছেলেমেয়েদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘কেউ অকৃতকার্য হলে বকাঝকা দিয়ে লাভ নেই। তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে, তারা যেন ভবিষ্যতে ভালো করতে পারে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এটি একটি সফলতা। আমি তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। যারা পাস করতে পারেনি, তাদেরও অভিনন্দন জানাই। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও তো চেষ্টা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলা ছাড়াও দুটি জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বান্দরবান জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারব। সরকার সারাদেশের মত পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।’ সুযোগ পেলে পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, বিগত দুই মাসে পার্বত্য জেলাগুলোতে হত্যা বেড়ে গেছে। এ সময়ে বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শক্তিমান চাকমাকে দুর্বৃত্তরা দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করে। পরের দিন শুক্রবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ইউপিডিএফ নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হন। এদিকে, বরিশাল জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালকে আবারও বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বরিশাল এক সময় বাংলার শস্য ভাণ্ডার ছিল, আবারও বরিশালকে বাংলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সিনহাকে ৪ কোটি টাকা দেয়া দু জনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার সকাল ১০টা থেকে তাদের দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,ফারমার্স ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মোহাম্মদ শাহজাহান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে একই দিনে ২ কোটি করে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ওইদিনই তারা টাকাগুলো পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে একই দিন টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করা হয়। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আরও বলেন,অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি আসলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তার অ্যাকাউন্টেই ৪ কোটি টাকা জমা দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে টাকাগুলো আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন,এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা না গেলেও তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, তার অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই দুই ব্যবসায়ীকে তলব করা হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় দুদক কার্যালয়ে আসেন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও মোহাম্মদ শাহজাহান।
মুসলিম বিশ্বের জন্য ৪ কর্মপন্থা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য মুসলিম দেশগুলোর জন্য চারটি কর্মকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এ কর্মকৌশল ঘোষণা করেন। স্থায়ী শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন,পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জনশক্তি, এক তৃতীয়াংশের বেশি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রচুর সম্ভাবনাময় কয়েকটি উদীয়মান শক্তিশালী অর্থনীতির দেশসহ অপার সম্ভবনা ও সম্পদশালী মুসলিম বিশ্বের পিছিয়ে পড়ে বা অমর্যাদাকর অবস্থায় থাকার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন,উন্নয়ন আমাদের অধিকার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমাদের নাগালের মধ্যে এবং সামাজিক অগ্রগতির উপায় আমাদের হাতে। আমাদের এখন প্রয়োজন যৌথ ইসলামী কর্মকৌশল ঢেলে সাজানো। এরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোর সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জনগোষ্ঠীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী কর্মকৌশল ঢেলে সাজাতে তার চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন। এগুলো হলো- প্রথমত, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর সকলকে আস্থাশীল হতে হবে। আমাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বর্জন করতে হবে এবং ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা বা সমাজের বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশে ধর্মকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সকল বিবাদের সমাধান করতে হবে। আমাদের নিন্দুকদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দিয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। ওআইসিতে আমাদের বিরোধ মীমাংসা প্রক্রিয়াসমূহকে শক্তিশালী করতে হবে এবং আমাদের নিজস্ব শক্তি ও সম্পদসমূহের আরও উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। তৃতীয়ত, আমাদের আত্মসচেতন ও আলোকিত জীবনযাপন করতে হবে। তাহলেই ইসলাম-সম্পর্কিত ভীতি দূর হবে। আমাদের মূল্যবোধভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লালন করে আলোকিত বিশ্ব ব্যবস্থার পথ দেখাতে হবে। চতুর্থত, দারিদ্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ এবং জরুরি মানবিক দুরবস্থা মোকাবিলার জন্য ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার বলিষ্ঠ কর্মসূচিসহ একটি দ্রুত কার্যকর উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা আবশ্যক। ওআইসি-২০২৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, প্রায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ ওআইসির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এমন সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট এই সংস্থার ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীসহ প্রায় সাড়ে ৫শ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য দেন- ওআইসির ৪৪তম সম্মেলনের চেয়ার ও আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেল আমন তানাহ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দেয়া কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস ক্রিসটিয়া ফ্রিল্যান্ড, ওআইসির সেক্রেটারি ড. ইউসেফ এ আল-ওথাইমেন প্রমুখ।
নাটকের অবদান অনস্বীকার্য স্বাধীনতা আন্দোলনে
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নাটকের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের ভাষা হলো নাটক। নাট্য চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। শুক্রবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে তার প্রতিফলন ঘটেছে নাট্য জগতে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীকার ও ভাষা অন্দোলনের ইতিহাসকে ধারণ করে রচিত হয়েছে অনেক কাব্য, উপন্যাস ও নাটক। সে কারণে এদেশের নাটকের আবেদন ফুরিয়ে যায় না— বরং নাটকে প্রতিফলিত হতে থাকে ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক ঘটনাবলি। এ কারণেই নাটক সমাজের দর্পন। তিনি বলেন, আগামী দিনে অনেক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সংবিধানে শোষণমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে সেটা বাস্তবায়নে নাট্যকর্মীরা ভূমিকা রাখবেন বলে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান খান, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আক্তারুজ্জামান প্রমূখ। এর আগে শিরীন শারমিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী ত্রয়োবিংশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
২৫ মে শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী,থাকবেন মোদিও
চলতি মাসের ২৫ তারিখ শান্তি নিকেতনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বভারতীতে গিয়ে তার বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওই অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবারই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সবুজকলি সেনকে শেখ হাসিনার সফরের দিনটি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক সেরে ওইদিনই ফিরে যান উপাচার্য। তার আগে তিনি বলেন, ওই সময়েই আমরা সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপাচার্য জানান, বিশ্বভারতীর আচার্য প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি বোলপুরে আসতে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপাচার্যকে এদিন জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ তারিখে এসে বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সাম্মানিক ডিগ্রি নেবেন। পরদিন শান্তি নিকেতনে যাবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল শান্তি নিকেতনে যাচ্ছে। ২৫ কোটি টাকা খরচ করে ভবনটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের দিনক্ষণ রাজ্যকে জানানো হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনাই শেষ বার ভারত সফরে এসেছিলেন। ফের আসবেন কিভাবে, প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনীতিকদের কথায়,বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর বলা যায় না। পর পর দুই বার কোনো দেশ সফরে প্রটোকলগত কোনো বাধা নেই।

জাতীয় পাতার আরো খবর