যশোরে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত-দুই পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার
যশোরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত দুই পাইলটের খণ্ডিত দেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানটির ৩৫ শতাংশের মত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-পরিচালক পরিমল কুন্ডু প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এর আগে সকালে দ্বিতীয় দিনের মত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রোববার রাত নয়টা ২০ মিনিটে যশোরের মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন করে। এর কিছুক্ষণ পর সেটি যশোর সদর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বুকভরা বাওড়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কে-৮ ডব্লিউ নামের একটি বিমান যশোর সদর উপজেলার বুকভরা বাওড়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সিরাজুল ইসলাম এবং স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত কবির পলাশ নিহত হন। এদের মধ্যে পলাশ জামালপুরের সরিষাবাড়িয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর শফিউদ্দিনের ছেলে। তার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। আর সিরাজুল ইসলামের বাড়ি রাজবাড়ী। তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
পাঁচ দিনের রিমান্ডে রাশেদ
তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি মামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রাশেদ খানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম এই রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে রাশেদকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রোববার রাশেদকে রাজধানীর মিরপুর ১৪ তে নিজ বাসা থেকে আরও তিনজনসহ গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। পরে শাহবাগ থানায় রাশেদের নামে এই মামলটি করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়। ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ জুলাই দিন ধার্য করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন যা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়াধীন। এরপরও গত ২৭ জুন রাশেদ খান কোটা সংস্কার চাই নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে ভিডিও লাইভে এসে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর বক্তব্য ও মিথ্যা তথ্য দেন।
কোটা সংস্কারের বিষয়টি জটিল
কোটা সংস্কারের বিষয়টি সহজ নয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, এটি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্য়ায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিষয়টি জটিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার (০২ জুলাই) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এটা সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। আমাদের নিচের লেভেলে এখনো ট্রান্সমিটেড হয়নি, তবে এটা সরকারের…। আসলে বিষয়টি আপনারা যতো সহজভাবে বিশ্লেষণ করছেন এতো সহজ নয়, জটিল আছে। এটি অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত আসবে, তার আলোকে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবো। সম্ভাব্য সময়সীমা দেওয়া সম্ভব কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমাদের পক্ষে অনুমান করা খুব কঠিন, একটু সময় লাগবে মনে হচ্ছে। কোটা সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা সেটির এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করিনি, হবে আশা করি খুব দ্রুত হবে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে রোববার (০১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যমান কোটা সংস্কারের আন্দোলনের বিরোধিতাও করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্টরা।
আনিস আহমেদ আর নেই
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি অবজারভার’র নির্বাহী সম্পাদক আনিস আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। সোমবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি। আনিস আহমেদের ছেলে কৌশিক আহমেদ জানান, সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে তার বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রথম নামাজে জানাজা জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে দুপুর দেড়টায় সম্পন্ন হবে। এরপর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সাবেক ঢাকা ব্যুরো প্রধান ও চিফ অব করেসপন্ডেন্টস আনিস আহমেদ মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঋণ কেলেঙ্কারি তদন্তে দুদক
জামানতবিহীন ও অস্বিত্বহীন জামানত রেখে অযোগ্য ব্যক্তি ও ভূঁইফোর কিছু প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক ড. মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরেই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এরই মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র তলব করে পৃথক ৩টি চিঠি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। যা আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূলকপি সংরক্ষণর্পূবক সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য ব্যাংকটির বর্তমান এমডিকে অনুরোধ করা হয়েছে। তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক এম এম ভেজিটেবলের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৫ ও ৬৬তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশনপত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। উক্ত ঋণ ও এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানত, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে ১২ কোটি টাকার এফডিআরসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। এছাড়া, ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি (২০১৩, ২০১৪) এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সপাল শাখার উক্ত গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি। দ্বিতীয় চিঠিতে তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক ঢাকা ট্রেডিং হাউজের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৩তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশনপত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। ওই ঋণ ও এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানত সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। উক্ত শাখায় ওই গ্রাহকের ২০১২ সালের ৪ মার্চের এলটিআরের আবেদন, শাখার প্রস্তাব, বোর্ড অনুমোদনপত্র, এসব বিষয়ক স্থানীয় এলসিসংক্রান্ত শাখার প্রস্তাব থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন। একই বছরের ২৯ এপ্রিলে গ্রাহকের ৩০ কোটি টাকার এলসিসংক্রান্ত আবেদন, শাখার নোটিং থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন (বিশষত ৩২ পৃষ্ঠার নোটিংসহ), এলসিসংক্রান্ত সেট অব ডকুমেন্টস (শিপিং ডকুমেন্টস, ইনভয়েস, ট্রাক চালান, মালামাল গ্রহণের রিসিপ্ট) শাখার এলসি বিপরীতে একসেপটেন্স লেটারের সত্যায়িত কপি। গ্রাহক মেসার্স ঢাকা ট্রেডিং হাউজের সঙ্গে ডিরেক্টর জেনারেল অব ফুডস, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত এমওইউ (স্থানীয় বাজার থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের) এর সত্যায়িত কপি, উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহকের উপর অডিট ফার্ম জি. কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানির ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অডিট প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি। গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি। (২০১৪, ২০১৫) এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সপাল শাখার উক্ত গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি (২০১৪, ২০১৫)। সর্বশেষ চিঠিতে তলবকৃত নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক টাটকা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফর্ম, ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, এমও ইউ, উক্ত গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৪৫তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজ্যুলেশন পত্র এবং শাখায় প্রেরিত সেংশন অর্ডার। উক্ত ঋণ বা এলটিআর বিপরীতে শাখায় সংগৃহীত জামানতসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। প্রস্তাবিত ঋনের বিপরীতে জামানত হিসেবে বন্ধকী সম্পত্তির ওপর ব্যাংক আল-ফালাহর গুলশান শাখার ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বরের অসম্মতিবিষয়ক কপি। এ এইচ জেড এগ্রো ইন্ড্রাট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের অনুকূলে গ্রাহকের ক্যাশ ক্রেডিট বাবদ আবেদন, শাখার প্রস্তাব, ক্রেডিট কমিটির সুপারিশসংক্রান্ত প্রস্তাব বা অনুমোদন, ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বরের পরিচালনা পষর্দে উপস্থাপিত বোর্ড মেমো, বোর্ড রেজ্যুলেশন, একইভাবে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বরের পরিচালনা পষর্দে উপস্থাপিত বোর্ড মেমো, বোর্ড রেজ্যুলেশন, শাখার প্রেরিত সেংশান অর্ডার, ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা উত্তোলন এবং কীভাবে বিতরণ হলো এর তথ্যাদি, লেনদেনসংক্রান্ত তথ্যাদি ও প্রতিবেদন। এছাড়া ওই শাখার গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনাল তদন্ত প্রতিবেদন এর সত্যায়িত কপি।
বিদেশিদের নিরাপত্তা ভীতি এখন আর নেই হলি আর্টিজানে
আলোচিত রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারির ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের মধ্যে যে নিরাপত্তা ভীতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। সরকারের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থাও প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরা। এছাড়া হলি আর্টিজান বেকারির ভয়াবহ হামলার দুই বছরের ব্যবধানে কূটনৈতিক জোনে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতেও সক্ষমও হয়েছে সরকার। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এছাড়া সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। পরে অবশ্য যৌথবাহিনীর অভিযানে হামলাকারী ছয় জঙ্গিও নিহত হয়। হলি ‍আর্টিজানে হামলার পরে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ভীতি তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদেশি নাগরিকই আরো হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনৈতিকও ঢাকার মিশন থেকে বদলি হয়ে অন্যান্য দেশে চলে যান। ফলে এ নিয়ে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। হামলার পরে বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি ওঠে। কূটনীতিকদের দাবি, অনুযায়ী রাজধানীর কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা ঢেলে সাজিয়েছে সরকার। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে পৃথক ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। তাছাড়া সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ি ও সাদা নম্বর প্লেট ব্যবহারেরও নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র আনসারদেরও ভাড়া নিতে পারছেন এখন ঢাকার দূতাবাসগুলো। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় ইতালি ও জাপানের ১৬ জন নাগরিক নিহত হন। সে কারণে এই দেশ দুইটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে হামলার পরে গত বছর ২৪ মে ঢাকা সফর করেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা । তিনি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেছেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রেক্ষিতে বিদেশিদের আস্থা ফিরে এসেছে বলেও মনে করেন তিনি ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ গ্রেপ্তার
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার প্রধান (ডিসি) কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান জানান, রোববার সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। আগে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাশেদকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়ন না করায় শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগ মুহূর্তে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল্লাহ নূরসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন।

জাতীয় পাতার আরো খবর