মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাসিখুশি পরিবারটিতে এখন বিরাজ করছে বিষাদের ছায়া। পিতার কোলে আর যেতে পারবে না ছোট্ট শিশুটি। শিশুটি জানেও না তার পুলিশ অফিসার বাবা কখনো ফিরবে না। তিনি নিথর হয়ে গেছেন। পৃথিবীর নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে বাবা। সোমবার সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে টেনে-হিঁচড়ে ও ধস্তাধস্তি করে একটি কক্ষে নিয়ে যান হাসপাতালের ছয় কর্মী। দ্বিতীয়তলার ওই কক্ষে নেওয়ার পর তাকে মেঝেতে উপুড় করে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরা হয়। ধস্তাধস্তির সময় তাকে মারধরও করা হয়। একজন কনুই দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাতও করেন। ধস্তাধস্তির ঠিক ৪ মিনিটের মাথায় একেবারে নিস্তেজ হয়ে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাজীপুর মহানগরীর রাজবাড়ী মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর শহরের কেন্দ্রীয় কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দিন আহমেদ রাজধানীর আদাবর থানায় মামলা করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম জানান, আনিসুল পারিবারিক ঝামেলার কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তারা ভর্তির ফরম পূরণ করছিলেন। ওই সময় কাউন্টার থেকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী তাকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা জানান যে আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। তাকে দ্রুত হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত সমস্যা থাকলেও তা তেমন প্রকট ছিল না। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিটুনিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে আনিসুল করিম বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম শারমিন সুলতানা। এ দম্পতির চার বছর বয়সী সাফরান নামে একটি ছেলে রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১ বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারে দায়িত্বে ছিলেন। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মিয়া বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আনিসুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৮-৯ জন লোক মিলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। কেউ মাথায়, কেউ বুকে আঘাত করেছেন। কাউকে আবার এএসপি আনিসুল করিমের হাত বাঁধতে দেখা গেছে। তারা সবাই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, এখানে কেউ চিকিৎসক ছিলেন না। তাই আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। সূত্র: দেশ বিদেশ
সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়: প্রধানমন্ত্রী
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোভিড-১৯ মহামারি স্মরণ করিয়ে দেয়, সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নয়। এজন্য বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে আমাদের গ্রহকে সুরক্ষিত করতে হবে। আরো জোরদার করতে হবে আমাদের বহুপাক্ষিক প্রয়াস। স্পেন সরকার আয়োজিত বহুপাক্ষিকতা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে আগে ধারণ করা ভিডিও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজকের গ্লোবালাইজড বিশ্বে গঠনমূলক বহুপাক্ষিকতার কোনো বিকল্প নেই। মানবজাতির অভিন্ন অগ্রগতি ও আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক নির্দেশনার এটিই একমাত্র পথ। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে, সম্মিলিত কার্যক্রম, একতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরই বৈশ্বিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা থেকে যে কোনো বিচ্যুতি মানবজাতির জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসবে। মহামারির কারণে সংকটের মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগণের জীবিকার সুরক্ষায় আমরা ইতোমধ্যেই ১৪.১৪ বিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছি, যা আমাদের জিডিপির ৪.৩ শতাংশ। মহামারির প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ৫.২৪ শতাংশ জিডিপি অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টা না নিলে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার হবে না এবং কখনোই সেটি টেকসই হবে না। আমাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক শান্তি, সুরক্ষা ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। বাংলাদেশ বহুপক্ষীয়তার পতাকা বাহক এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি-সুরক্ষার পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করছে। আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে গোটা সমাজ এই নীতি অবলম্বন করেছি, আমরা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিতীয়বারের মতো ৪৮ সদস্যের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত বোধ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এলডিসি অবস্থান থেকে উন্নয়ন ঘটিয়েছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশে ২১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘোষণায় আমরা আমাদের একীভূত সমৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্বের দায়িত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর জোর দিয়েছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের জন্য ২০৩০ সালের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। যদিও এসব আন্তর্জাতিক উপাদান ও বোঝাপাড়া থেকে সুবিধাগুলো অর্জনে বলিষ্ঠ বহুপক্ষীয়তা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার চেতনা বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত। এতে বলা হয়েছে, আমরা স্বাধীনতায় উন্নতি করতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আকাঙ্ক্ষাগুলো বজায় রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার প্রতি আমাদের পূর্ণ অবদান রাখতে পারি। তিনি আরো বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) তার ভাষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব এবং জাতিসংঘের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ দুঃখ, দুর্দশা ও সংঘাতের এই পৃথিবীতে ভবিষ্যৎ মানুষের আশার কেন্দ্র হয়ে থাকবে। তার মন্তব্য এখনও আমাদের বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি হয়ে আছে। অনুষ্ঠানে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেন এবং কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, কানাডার প্রধানমন্ত্রী, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, জর্ডানের উপপ্রধানমন্ত্রী, সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কেরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের আগে ধারণ করা ভিডিও ভাষণ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের ভিডিও এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মন্তব্যের একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয় এসময়।
৩ লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছর বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি সরকার। চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে চাল সরবরাহ করেননি মিলমালিকরা। উল্টো করোনা দুর্যোগের মধ্যেও বাজারে চালের দাম আরো বাড়িয়ে দেন তারা। যার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরু, মাঝারি ও মোটা সব চালের দাম বাড়তির দিকে। সামনে আমনের ফলনে কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে চালের বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জিটুজি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এসব চাল আমদানি করা হবে। অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় চাল আমদানির এ সিদ্ধান্ত হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে ওই সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিতরণ চাহিদা মিটিয়ে চলতি অর্থবছর শেষে সমাপনী সরকারি মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা, বর্তমানে মোটা চালের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর এবং সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলতি অর্থবছর দুই-তিন লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বণিক বার্তাকে বলেন, চাল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই আমদানি করা হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে সরকারি পর্যায়ে সেভাবে চাল আমদানি হয়নি। এখন কোন প্রেক্ষাপটে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত ছিল, চার-পাঁচবার বন্যা হয়েছে। তাই আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হওয়ার একটা শঙ্কা রয়েছে। তবে অতি বন্যায় যে পরিমাণ আমন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা হবে না। তার পরও যদি আমন উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হয়, তাহলে আমরা হয়তো চাল আমদানি করব। তবে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হবে না। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাকে আমদানি পরিস্থিতির বিষয়ে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২ লাখ ১৬ হাজার টন গম সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করা হয়নি। একই সময়ে বেসরকারিভাবে মাত্র ৬০ টন চাল ও ১৬ লাখ ৯১ হাজার টন গম আমদানি করা হয়েছে। সরকারিভাবে চাল আমদানির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয় চাল আমদানির সিদ্ধান্তটা সঠিক। কারণ বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় চালের বাজারে একটু ঘাটতি দেখা দিলে সেটা বড় প্রভাব ফেলে। সরকারের গুদামে যদি কিছুটা শর্ট দেখা দেয়, তাহলে বাইরেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে চালের সংকট তৈরি করে। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আবার তখন তড়িঘড়ি করে দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও আমদানি সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়। তাই আমদানি করে হলেও সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি গুদামে মজুদ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি সরকারি গুদামে খাদ্যপণ্য কমে যায়, তাহলে বেসরকারি খাতে ব্যবসায়ীরাও সিন্ডিকেট করে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, যা অতীতে তারা করেছে। তাই সময় থাকতেই আমদানি করে হলেও গুদামে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তোলা উচিত। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর দেশে খাদ্যশস্যের মোট মজুদের পরিমাণ ১০ লাখ ৩ হাজার মেট্টিক টন। এর মধ্যে চাল ৭ লাখ ২৫ হাজার টন এবং গম ২ লাখ ৭৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে সরকারের গম ও চাল মিলিয়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। তার মানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর খাদ্য মজুদের ঘাটতি প্রায় ছয় লাখ টন। আবার গত এক মাসের ব্যবধানে মজুদ কমেছে প্রায় তিন লাখ টন। তার মানে মজুদ কমছে খুব দ্রুত।
পুলিশের সিনিয়র এএসপিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি সিনিয়র এএসপিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ঐ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাদের জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে মানসিক সমস্যায় ভুগে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল হক। ভর্তির কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি। পরিবারের অভিযোগ ভর্তির পরপর হাসপাতালে কর্মচারিরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশের কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। আনিসুল করিম ৩১ তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। তার বাড়ি গাজিপুরের কাপাসিয়ায়।
নূর হোসেনের শরীর ছিল জীবন্ত রাজনৈতিক পোস্টার : কাদের
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নূর হোসেনের শরীর ছিল জীবন্ত রাজনৈতিক পোস্টার। সে বাঙালির মনে সংগ্রামের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) শহীদ নূর হোসেন দিবসে রাজধানীর গুলিস্তানে নুর হোসেন চত্বরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নূর হোসেন সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একজন সাহসী বীরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নূর হোসেন নিজের বুকে পিঠে লিখেছিলেন, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। তার শরীর ছিল জীবন্ত রাজনৈতিক পোস্টার। তিনি আরও বলেন, আজ গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারলে, ৩০ লাখ শহীদের আকাঙ্ক্ষার অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে, সত্যিকারের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। এ সময় বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ভাবাআদর্শকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক দলের জন্ম তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। তাদের কাছে গণতন্ত্র ছিল, হা এবং না ভোটের গণতন্ত্র। যে ভোটে না বাক্স ছিলই না। সেদিন কোনো কোনো কেন্দ্রে ১১০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তাদের গণতন্ত্র কারফিউ গণতন্ত্র। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে বিএনপি প্রধান অন্তরায়। তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে আহ্বান জানাই, গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন। রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসুন।
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পুলিশের ৬ কর্মকর্তা
১০নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদায়ন করা হয়েছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা-১ এর উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতির এই আদেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী, পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) এস এম রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মল্লিক ফখরুল ইসলা, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মো. কামরুল আহসান, বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. মাজহারুল ইসলাম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী রাজশাহীর ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।
বিমানের কলকাতা ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
০৯নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কলকাতা ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ১২ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে বিমানের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) থেকে বিমানের কলকাতা রুটের ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে। এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে এয়ার বাবল প্যাকেজ চুক্তির আওতায় ভারতের তিনটি রুটে ফ্লাইট চালু করে বিমান। রুটগুলো হলো ঢাকা থেকে কলকাতা, দিল্লি ও চেন্নাই। এই তিন রুটে সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট। এছাড়া, ঢাকা থেকে কলকাতা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে চেন্নাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপির
০৯নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পোলট্রি ও হিমায়িত মৎস্য রফতানি শিল্পের উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। গতকাল সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তর কক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় পোলট্রি শিল্প এবং হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রফতানি শিল্পে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপিত কাজী বেলায়েত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফ হোসেন মাসুদ, সহসভাপতি দেবব্রত বড়ুয়া, পরিচালক শ্যামল দাস ও দোদুল কুমার দত্ত, বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী ইমাম, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রাকিবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সচল রাখার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গতিশীল নীতি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ খাতকে আরো গতিশীল করার জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে যাচ্ছি। বেকারত্ব দূর করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা এবং জনগণের পুষ্টি-আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্রমোন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের নেতারা। এ সময় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্স, সহসভাপতি ডা. মো. মাহবুব আলম, দপ্তর সম্পাদক এমএম মিজানুর রহমান কার্যনির্বাহী সদস্য সাইদুল হক চৌধুরী, নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ, সমীর চন্দ ও ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর