রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮
বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না বলে দাবি করছে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সাথে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? -সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তৈরি করা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা কমন পড়ছে তাদের ধরা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। সে জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একরামের পরিবারের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আর র‌্যাব সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে বিদেশ চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারো কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছে খবর আসে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আইনমন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। সেখানে আমি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য। কে কোথায় সেসব দেশের আইন ও দেশীয় আইন মিলে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ যায় না। ভুলে যান কেন? কারা কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবনে হামলা করেছে। ভাঙচুর হয়েছে। ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরা হচ্ছে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, যে অন্যায় করবে তার বিচার হতেই হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেজন্য সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এ কথা বলতে পারি, তদন্তের রুট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যদি বিচারিক ব্যবস্থারও প্রয়োজন হয় খুব শিগগিরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে জোর গলায় বলতে পারি, কোউকে ছাড় দিচ্ছি না। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হয়েছে। এমন কোনো নতুন রোগে আক্রান্ত হননি যে জন্য তিনি গুরুতর অবস্থায় আছেন। জেলকোড অনুযায়ী যদি আরও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে তা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চাইলে সে ব্যবস্থা করা কঠিন। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আগের অসুস্থতার চিকিৎসা চলছে। তিনি নতুন কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন না। সুতরাং তিনি গুরুতর অসুস্থ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সে অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি আর সেখানে যাবেন না। পরে আমরা সিএমএইচে নেয়ার কথা বলেছি, তিনি সেখানেও যাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রীও অসুস্থবোধ করলে সিএমএইচে যান, সেখানেও (সিএমএইচ) যদি তিনি না যান, তবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নেয়াটা কঠিন। সরকারিভাবে তার জন্য যা যা করার আমরা তা গ্রহণ করেছি। তার যেসব ডাক্তারা সেবা দিয়ে থাকেন তারা সার্বক্ষণিক দেখছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার দেখবেন।’ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামনে নির্বাচন, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসব, নয়তো আসব না। এটা জনগণের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দেন। মানুষের সেবা করাই আমাদের কাজ, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফান্সের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন সুবিধাভোগীদের ভাতাসমূহ ইলেক্ট্রনিক উপায়ে বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি ভাতা দেওয়ার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। যাতে হতদরিদ্রদের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি ভাতার টাকা এখন আর কেউ মেরে খেতে পারবে না। এই ভাতার টাকা এখন আর কেউ মেরে খেতে পারবে না। মাঝখান থেকে কেউ আর টাকা নিতে পারবে না, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় সে জন্য আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। পুরো সংসারের দায়িত্ব আমরা নেব না। মানুষ যাতে পুরোপুরি ভাতার ওপর নিভর্রশীল না হয়, কর্মবিমুখ না হয়। সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে কর্মবিমুখ না হতে হতদরিদ্রদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির লক্ষ্য ছিল, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করা। মানুষের জন্যই কাজ করি আমরা। মানুষের জন্যই তো রাজনীতি আমাদের, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের আমলে দুঃস্থ মানুষ সেবার বদলে বারবার নিগৃহিত হয়েছে। তখন সামাজিক ভাতা ১০০ টাকা দিলে মাঝখান থেকে ৫/১০ টাকা নিয়ে নিতো। এখানেও দুর্নীতি ছিলো। এমন ব্যবস্থা চালু করে যাচ্ছি যাতে মানুষকে আর ভোগান্তি পোহাতে না হয়। নরসিংদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোপালগঞ্জের প্রান্তিক এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালে ১৩ শতাংশ হতদরিদ্র মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকলেও, ২০১৮ সালে তা বেড়ে ২৮ শতাংশ প্রান্তিক মানুষ এখন সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বয়স্ক-বিধবা-স্বামী নিগৃহিতা এবং প্রতিবন্ধীসহ অসহায় মানুষকে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার সহায়তা। বর্তমানে ৬৬ লাখ ১৬ হাজার প্রান্তিক মানুষ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সেবা পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ভাতাভোগী মানুষের মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে এসএমএস এর মাধ্যমে টাকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। মধুমতি, এনআরবি, ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে এই টাকা তোলা যাবে। সমাজের অবহেলিত-পশ্চাৎপদ মানুষের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা।
আবারও পেছালো সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন
অনলাইন ডেস্ক: মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে দিল আদালত। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল হক ফের তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৬ বছরে ৫৯ বার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি র‌্যাব। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পত্তি। ঘটনার ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়। ওইদিনই আরও দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা ছাড়া গত ৬ বছরে মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নাই। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় কয়েক আসামি ইতোমধ্যেই জামিনে পেয়েছেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর সাগর-রুনির মরদেহ কবরস্থান থেকে তোলার আবেদন করে র‌্যাব। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির মরদেহ তোলা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৭ জুন থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জব্দকৃত আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়ের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। মূলত এরপরই মামলার তদন্তে স্থবিরতা নেমে আসে।
মৌলভীবাজারের ৪ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৌলভীবাজারের রাজনগরের মো. আকমল আলী তালুকদারসহ (৭৬) চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগই সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরটিতে সবাইকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। গত ১৬ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করেছিলেন আদালত। ২৭ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামান রাখেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আব্দুর নুর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া (৬২), মো. আনিছ মিয়া (৭৬) ও মো. আব্দুল মোছাব্বির মিয়া। আকমল ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন- সৈয়দ হায়দার আলী, শেখ মুশফিক কবীর ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আসামি আকমল আলীর পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান ছিলেন। ২০১৬ সালের ৩০ মে এই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২৩ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে আনুমানিক ১০২টি পরিবারের ১৩২টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ছয়জনকে ধর্ষণ, সাতজনকে অপহরণ ও ৬১ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
২৭ জুলাইয়ের পর তিন সিটিতে বহিরাগতদের অবস্থান নয়
অনলাইন ডেস্ক: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বহিরাগতদের ভোটার এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে হবে। আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো এলাকার বাসিন্দা করপোরেশনের সীমানার ভেতরে অবস্থান নিতে পারবেন না। বহিরাগতদের ভোট এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা ইতিমধ্যে প্রচার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে বেশকিছু বিষয় নিশ্চিত করার জন্যও বলেছে সংস্থাটি। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বগিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও যারা কর্মজীবী তাদের এলাকায় অবস্থান করতে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে বাইরে চলাফেরার জন্য প্রয়োজন হলে তাদের কাজের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা শিথিলযোগ্য হবে। ইসির নির্দেশনাটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বহিরাগতরা ১ আগস্ট থেকে আবার নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচন আইন অনুযায়ী সকল নির্বাচনেই বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিশন শুধু সময় বেঁধে দেয়। ভোটের দিন ৩০ জুলাই (সোমবার) সাধারণ ছুটি থাকবে। আর ২৭ জুলাই শুক্রবার। এক্ষেত্রে ২৮ ও ২৯ জুলাই (শনিবার ও রোববার) অনেককেই ‍অফিস করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কর্মজীবীদের এলাকায় থাকতে অসুবিধা নেই। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও নির্বাচনী এলাকায় থাকতে অসুবিধা নেই। বহিরাগতদের অবস্থানের নির্দেশনা এজন্যই দেওয়া হয়, যেন অন্য এলাকার লোক এসে কোনো অনিয়মে জড়িয়ে যেতে না পারে। তার অর্থ এই নয় যে, মানুষ তার প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে না। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ এলে এবং তা নিয়ে অসন্তুষ্টি হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাতে যাওয়া-আসা করতে পারেন, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমগুলোকে সার্বক্ষণিক টহলে রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো যাতে যাতে কোনো প্রকার অনিয়ম না হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সদা সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে মোটরযান বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রচারের জন্যও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মটরসাইকেল চলাচল ২৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। অন্যান্য মটরযান বন্ধ থাকবে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। ইসি কর্তৃক নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত মেজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে অবশ্যই প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টকে খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে সিল করার পর ভোটগ্রহণ শুরু করতে হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিতরা মানসিক অসুস্থতা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সনদ দিলে তাদের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিধান রেখে মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (১৬ জুলাই) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ১৯১২ সালের একটি আইনকে হালনাগাদ করে নতুনভাবে বাংলায় রূপান্তর করে এ আইন করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সংক্রান্ত নাগরিকদের মর্যাদা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, সম্পত্তির অধিকার ও নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে আইনটি করা হচ্ছে। জিয়াউল বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সব কার্যক্রম পরিচালনা, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত সংক্ষুব্ধতায় প্রতিকারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিষয়ক হাসপাতাল স্থাপন, পরিচালনা ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার বিষয়েও খসড়া আইনে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাজীবী হিসেবে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি মানসিক অসুসস্থতা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সনদ দিলে তিন লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে অবহেলা বা আদালতের কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন না করলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি এ আইনের কোনো বিধান না মানলে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলেও জানান তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি অধিদপ্তর গঠনের বিধান রেখে গত ৩ জানুয়ারি মানসিক স্বাস্থ্য আইন এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু ৩১ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৩১ জুলাই (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হবে। আর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। সোমবার (১৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভর্তির অনলাইন কার্যক্রম ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে ২৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। এবছর ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। আর খ-ইউনিটের ২১ সেপ্টেম্বর, গ-ইউনিটের ১৪ সেপ্টেম্বর, ঘ-ইউনিটের ১২ অক্টোবর, চ-ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান) ১৫ সেপ্টেম্বর এবং চ-ইউনিটের (অংকন) ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সমুদ্রবন্দরে
অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ স্থলভাগে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকা উত্তাল রয়েছে। এজন্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। রোববার আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন- উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। আবহাওয়া অফিস সতর্কবার্তায় আরও জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। আজ রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সংলাপে আছে মিয়ানমার - তবে কাজ করছে না
অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে নেপিডো এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই সংকটের সমাধান চাই বলে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ চালাচ্ছি, কিন্তু মিয়ানমার সব কিছুতে রাজী থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা কোন কিছুই করছে না। রোববার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে সফররত রবার্ট এফ কেনেডি হিউমান রাইটস অ্যাডভোকেসী অরগানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, তারা মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েই আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। সাধারণ মানুষ তাদের চাষাবাদের জমি, গাছপালা, বনভূমি হারিয়ে ক্ষতির সন্মুখীন হলেও তারা স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জনগণও এমন দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদেরকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে আরো ভালো অবস্থায় বসবাস করতে পারে সেজন্য সরকার নতুন জায়গার ব্যবস্থা করছে। কেরি কেনেডি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রোহিঙ্গা জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করাই হচ্ছে তার বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য। কেরি বলেন, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যও পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু সেখানে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কোন অবকাঠামো বা কোন আশ্রয়ের ব্যবস্থা দেখেননি। তিনি বলেন, মিয়ানমার প্রত্যাবর্তনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি মনে করেন, তাদের নিরাপত্তা দেয়া এবং তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ করা উচিৎ। মিসেস কেরি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (এসএসএন) কর্মসূচি ও নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, এসব উদ্যোগ ব্যতিক্রমধর্মী। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বিশিষ্ট অটিজমকর্মী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর