বুধবার, মে ২৩, ২০১৮
১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৫ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। মনোনয়নপত্র দাখিল, পরীক্ষা, প্রত্যাহারসহ ভোটের আগের কার্যক্রম হবে নির্বাচন কমিশনে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচনে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সমান ভোট পেলে লটারি হবে। নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সিইসি জানান, এই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থক কেবল জাতীয় সংসদ সদস্যরাই হতে পারবেন। দুজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুর কারণে এ নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদের ৩৪৮ জন সদস্য। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ২৩ এপ্রিল। আইন অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণগণনা। ওই দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। আর সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসানে পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ হতে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তবে কোন দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে সিইসি তা নির্দিষ্ট করে না বললেও ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, ইসি থেকেই ভোটগ্রহণের দিন তাকে জানানো হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ইসি। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ সময় তাকে রাষ্ট্রপ্রতি নির্বাচনে ভোটারদের তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার তালিকা চেয়ে স্পীকারের কাছে চিঠি দেয় হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। সেই অনুযায়ী এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ৩৪৮ জন। তবে নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে একজন মাত্র প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে এখনও কারও নাম চূড়ান্ত করা না হলেও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদই যে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। অবশ্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি। মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হবে। এটা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারক যারা তারা নিশ্চয়ই বসবেন, মনোনয়ন দেবেন। এটার ব্যাপারেও কিন্তু একটা পদ্ধতি আছে। সে পদ্ধতি অনুসরণ করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। তাঁর ৫ বছরের মেয়াদের শেষ দিন আগামী ২৩ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ শেষে পূর্ববর্তী ৯০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যে ৩০ দিন এই ৩০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। এ হিসাবে বুধবার ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আইনী বাধ্যবাধকতা মেনে আজ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে ইসি। এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আইন অনুযায়ী তারা স্পীকারের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। নির্বাচনের জন্য কমিশন সংসদ সচিবালয় এবং সংসদের কী ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে তা নির্ধারিত আছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা এসেছিলেন উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগত বাধ্যবাধকতার একটা অংশ হিসেবে স্পীকারের সঙ্গে দেখা করেছি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনগতভাবে স্পীকারের কিছু নির্দেশনা থাকে, সেটা নিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজকে কমিশনের বৈঠকে শিডিউল চূড়ান্ত হবে। সেটা সংসদ সচিবালয়কে জানিয়ে দেয়া হবে। সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, তাহলে স্পীকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। এর জন্য মঙ্গলবার কমিশন থেকে আমাকে চিঠি দিয়ে সময় চাওয়া হয়েছিল। সে আলোকে বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ একটি প্রতিনিধি দল দেখা করেন। বৈঠকে ইসির প্রস্তাবিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনসহ এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। এই সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মোঃ আবদুল হামিদ। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সাংসদরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
জ্যাকব টাওয়ার পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ একুশ শতকের অগ্রসর ও উন্নত দেশ নির্মাণে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাসমূহ খুঁজে বের করে তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সকলকে বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে এখানে চরফ্যাসন সরকারি টি বি হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল তবে এই সম্ভাবনা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে,... দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই সম্ভাবনা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া এবং কেউ উন্নয়নের গতি এনে দিতে পারে না, বিভিন্ন উপায়ে তা অর্জন করতে হয়। তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এগিয়ে যেতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এই ছোট ভূখন্ডে দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যাকে বিপুল মানবসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এই বিপুল জনসংখ্যা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা না যায় তাহলে দেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে। আবদুল হামিদ স্থানীয় পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের জনস্বার্থের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তাদের উপদেশ দিয়ে বলেন, মনে রাখবেন সরকারের ভাবমূর্তি, সাফল্য এবং ব্যর্থতা সম্পূর্ণ আপনাদের আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করছে। এ জন্য জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি সরকারের সেবা কেন্দ্রগুলোকে জনগণের সমস্যা সমাধান কেন্দ্রে পরিণত করার নির্দেশ দেন। শিক্ষাকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের দক্ষ ও সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সময়োপযোগী শিক্ষাদানে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। চরফ্যাশনের চমৎকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবকাঠামো, সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নদী সংরক্ষণ, অফিস-আদালতসহ অনেক এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। এখানে পর্যটনের অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় লোকদের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি ১৮তলা বিশিষ্ট ২২০ ফুট উচ্চতার সমান টাওয়ার নির্মাণকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, টাওয়ারটি দেশী ও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু ও আধুনিক এই জ্যাকব টাওয়ার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল কায়সার আহমেদ দুলাল, নুরুননবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং চরফ্যাশন মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র শ্রী বাদল কৃষ্ণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এরআগে, রাষ্ট্রপতি এখানে ৪টি স্থাপনা- প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, বেগম রহিমা ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, নজরুল ইসলাম টিচারস ট্রেনিং কলেজ এবং রসুলপুর-আওয়াজপুর মৈত্রী সেতু উদ্বোধন করেন। রাষ্ট্রপতি দুদিনের ভোলা সফরে কাল দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এখানে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি আজ বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।
দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির
সুশীলসমাজের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির। তাই দেশের এত উন্নয়ন ও অগ্রগতি তাদের চোখে পড়ে না। তারা জনগণের কাছে যায় না, কারণ তারা ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা ক্ষমতায় যেতে বাঁকা পথ খোঁজে। তারা সব সময় অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় থাকে। তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে অবৈধ ক্ষমতা দখলের দিকে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-৩০ এর সাংসদ ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে এদিন প্রধানমন্ত্রী সরকারী ও বিরোধীদলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা এগিয়ে নিতে সবাইকে নিয়ে চলার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করে বলেছেন, একা নয়, সবাইকে নিয়েই চলতে চান তিনি। সবাইকে নিয়েই চলছেন। কারণ এদেশটা সবার। আজ যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি- সেটাকে তৃণমূল পর্যায় সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে এর সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশীলের ব্যাখ্যা কী? এর অর্থটা কী? কোন তত্ত্বে তারা সুশীল, সেটাই প্রশ্ন- যখন তারা চোখ থাকতেও দেখেন না, কান থাকতেও শোনেন না। এদের আসলে বলার কিছু নেই, বোঝাবারও কিছু নেই। আমার কেবল একটাই চিন্তা, দেশের মানুষ ভাল আছে কী-না, শান্তিতে আছে কী-না? মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের জীবনকে উন্নত হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তারা। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে নিয়েই চলতে চান তিনি। তবে হ্যাঁ, একজনকে কিন্তু হাল ধরতে হয়। দায়িত্ব নিয়ে সঠিকভাবে চালাতে হয়। যেমন গাড়িতে চালকের আসনে একজনই বসেন। যিনি সঠিকভাবে গাড়ি চালিয়ে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যান। তিনি সঠিকভাবে না চালালে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর কেউ এককভাবে চলতেও পারে না। যদিও কবি বলেছেন যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে, কিন্তু তিনি একলা চলতে চান না। এ প্রসঙ্গে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে সংসদ নেতা বলেন, আজ যে উন্নয়ন, বিশ্বে দেশ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত- তা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই হয়েছে। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানাই, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে এই উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে। অন্তত বিএনপি থাকতে সংসদে যে খিস্তিখেউর হতো, অশ্লীল গালিগালাজ হতো- সেগুলো এখন আর নেই। দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এই উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাদের একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশকে তারা উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন, সেখানে মানুষের সব মৌলিক অধিকার পূরণের কথা বলা হয়েছে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার এগিয়ে চলেছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের গতিধারায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্ব এর স্বীকৃতি দিচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল। কিন্তু এটাই বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে, এদেশের কিছু মানুষ এই উন্নয়ন চোখে দেখে না। একটা কথায় আছে, হায় রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ। যারা চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির- তারা হাজার উন্নয়ন করলেও, হাজার বার বললেও দেখবে না, শুনবে না। এই না দেখাটাও তাদের অসুস্থতা। তাই তাদের বিষয়ে কোন কথা বলেও লাভ নেই। সুশীলসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা শ্রেণী আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ও একটি পতাকা পাওয়ার আকাক্সক্ষা আছে। কিন্তু তারা জনগণের কাছে যেতে পারেন না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটের রাজনীতিতে দাঁড়াতে হলে জনগণের কাছে যেতে হয়, জনগণের কাছে ভোট চাইতে হয়। যদি গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু তারা জনগণের কাছে না গিয়ে, ক্ষমতায় যাওয়ার একটা বাঁকা পথ খোঁজেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর এদেশে হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। সেই ষড়যন্ত্রের পথ ধরে অনেকেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে কিছু লোক খুঁজে নেয়। এই লোকগুলো অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পথে ব্যবহৃত হয়। যেমন রাস্তার পাশে ডাস্টবিন থাকে- যেখানে লেখা থাকে ইউজ মি। তারাও কিন্তু বসে থাকে আমাকে ব্যবহার করুন- এমন মনোভাব নিয়ে। তারা বসে থাকেন, অবৈধভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে কেউ যদি ক্ষমতায় যেতে পারেন- তাহলে তারাও একটি পতাকা পাবেন। ক্ষমতা পাবেন। তারা অশুভ শক্তির কাছে বিক্রি হতে সব সময় প্রস্তুত থাকে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সার্কাসের গাধার গল্প তুলে ধরে আরও বলেন, ওই গাধাটি অপেক্ষায় বসে ছিল কখন সার্কাসের মেয়েটি দড়ি ছিঁড়ে পড়ে যাবে, আর তার (গাধা) সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হবে। এভাবে বসে থাকতে থাকতে অথর্ব হয়ে পড়লেও গাধাটি কিন্তু সুন্দরী মেয়েটির সঙ্গে বিয়ের আশা ছাড়েনি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কাউকে গাধা বলছেন না। তারা (সুশীলসমাজ) দেশের জ্ঞানী-গুণী, উচ্চশিক্ষিত মানুষ। অনেক খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে এসেছেন। অনেকে বড় বড় গবেষণার কাজও করেন। তবে যখন তাদের এমন আচরণ দেখা যায়, আর তারা যখন ওই রকম আশা নিয়ে বসে থাকেন- তখন কিন্তু গাধার কথাটাই মনে পড়ে যায়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে কারিগরি শিক্ষা ও কম্পিউটার শিক্ষার বিস্তার, শিল্পায়ন ও জনশক্তি রফতানি এবং ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে বিশাল জনসংখ্যা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তবে এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে চান তারা। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। সেভাবেই সবাই এর সুফল পাচ্ছে। ময়মনসিংহ-৮ আসনের সাংসদ ফখরুল ইমামের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের চেয়ে তিন গুণ। সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। যা গত বছর ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৪৫ ডলার। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৪৩ ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ২০০৯-১৬ সময়কালে গড়ে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিনি জানান, জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ২৯ দশমিক ৬৪ শতাংশে। মোট বিনিযোগ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ২০০৬ সালে ছিল ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে রাজস্ব অর্জিত হয়েছে জিডিপির ১১ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০০৬ সালে ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে কর রাজস্ব জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায়, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০১৭ সালে আমদানি ও রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৭ দশমিক ১ ও ৩৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০০৬ সালে ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৭ ও ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৯ দশমিক ৬ গুণের বেশি। ২০১৭ এর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৪৮ মার্কিন ডলার। সরকারের দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে ২০১৭ সালে মুদ্রাস্ফীতি নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের মধ্যে স্থাপিত গ্রিড ভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদনের ক্যাপাসিটি ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ কিলোওয়াট থেকে ৪৩৩ কিলোওয়াটে। বিদ্যুত সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ২০১০ সালে ছিল ৪৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি জানান, দেশে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ। এ ছাড়া গমের উৎপাদন দ্বিগুণ, সবিজর উৎপাদন ৫ গুণ ও ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ। মহিলা আসন-৩০ এর সাংসদ ফজিলাতুন নেছা বাপ্পির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের যৌথ আমন্ত্রণে আমি ২০১৭ সালের ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর ফ্রান্স সফরকালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়ান প্লানেট সামিট- এ অংশগ্রহণ করি। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও মিলিত হই। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আমাদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সঙ্কট, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমন এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যত রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করি। এই সফরের ফলে বন্ধুপ্রতিম ফ্রান্সের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি অধিকতর মজবুত ও গভীরতর হয়েছে। মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ আব্দুল মতিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পশ্চাৎপদ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। হাওর-বন্যাদুর্গত এলাকাসহ পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদের ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান মেয়াদের এ পর্যন্ত গৃহীত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। খুলনা-৬ আসনের সাংসদ শেখ মোঃ নুরুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এই যে, কেউ গৃহহীন থাকবে না। আর এ লক্ষ্যে আমরা আশ্রায়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, খাস জমি বিতরণ, গৃহায়ণ তহবিল ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ভোলা-২ আসনের সাংসদ আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। দেশের নদী ভাঙ্গন অন্যতম সমস্যা। দেশের বড় নদীগুলো ক্রমাগত তার চ্যানেল পরিবর্তন করে। ফলে নদী তীরের অবস্থান পরিবর্তন হয় এবং নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদী ভাঙ্গন এলাকায় মানুষের দুর্দশা দূর করার লক্ষ্যে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। মহিলা আসন-৪২ এর সাংসদ নুরজাহান বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি টেকনিকেল শিক্ষা প্রদানে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কুমিল্লা-১ আসনের সাংসদ সুবিদ আলী ভূইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাংসদ মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অসহায় শিশু ও মহিলাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সিলেট-৫ আসনের সাংসদ সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি, কুটির শিল্প, এসএমই, ও পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়ন বাড়িয়েছে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ রয়েছে। মহিলা আসন-৪৭ এর সাংসদ রওশন আরা মান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের যান চলাচল নির্বিঘ করতে ফেনীতে একটি ৬ লেইন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ৬ লেইন বিশিষ্ট আরও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সারাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম এর ব্যতিক্রম নয়।
আজ আবারও আদালতে খালেদা জিয়া
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আজ বৃহস্পতিবারও আদালতে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছাবেন বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। মামলা দুটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে। এর আগে বুধবার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ১ দিনের অব্যাহতি পাওয়ার পরও আদালতে হাজির ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১ দিনের জন্য আদালতের কার্যক্রম মুলতবি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আদালত শুধু তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা চাননি, তিনি মামলার পুরো কার্যক্রম শুনতে আগ্রহী হওয়ায় ব্যক্তিগত অব্যাহতি গ্রহণ করেননি। গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এরপর মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তিনি। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত। শরফুদ্দিননের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয় ১৬ জানুয়ারি। এরপর যুক্তি শেষ না হওয়ায় ১৭, ১৮, ২২, ২৩ ও ২৪ যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এরপর ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১৬ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (বুধবার)। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বনানী কবরস্থানে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ছেলের কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার কবর জিয়ারত করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আরও বলেন, দিনভর কোকোর কবরে কোরআন খতম করা হবে। কোরআন খতম শেষে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতে এবং গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়েও কোরআন খতম ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান সংসদ কার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক। সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নূরজাহান বেগমের প্রশ্নে তিনি বাহিনীগুলো নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিন বাহিনীতে এরই মধ্যে যেসব আধুনিক সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করেন। সেনাবাহিনী নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, আগামী দুই অর্থবছরে সিলেট সেনানিবাসে ১১টি ইউনিট গঠন করা হবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে রামু সেনানিবাসে গঠন করা হবে ১৪টি ইউনিট। ২০২৫ সাল নাগাদ মোট ৫৬টি ইউনিট গঠন করার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন উপজেলায় সেনানিবাস গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে একটি আরই ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র আর্মস হিসেবে স্পেশাল ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে একটি সদর দফতর প্যারা-কমান্ডো ব্রিগেড এবং একটি প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বিওএফ এর অধীনে চীন থেকে টেকনোলজি ট্রান্সফার এর মাধ্যমে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির জন্য ভিসোরাদ মিসাইল উৎপাদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রশ্নোত্তরে নৌবাহিনীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এ বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ফ্রিগেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশাল সমুদ্র এলাকা টহলের জন্য ৬টি ফ্রিগেট নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক নজরদারির জন্য দুটি এমপিএ কেনা প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি দুটি হেলিকপ্টার কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, নৌবাহিনীর ভবিষ্যত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও দুটি ফ্রিগেট, এমসিএমভি, সাবমেরিন রেসকিউ ভেসেল, লজিস্টিক শিপ, প্যাট্রোল ক্রাফট, ওশান টাগ, ফ্লোটিং ডক ইত্যাদি কেনা পরিকল্পনাধীন রয়েছে। বিমানবাহিনীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার, জহুরুল হক, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এবং অগ্রবর্তী ঘাঁটি কক্সবাজারে চারটি এটিএস র্যাডার স্কোয়াড্রন স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব র্যাডার স্কোয়াড্রনের সংস্থাপন প্রস্তাবগুলো ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল অনুমোদিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি যুক্তি
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বরাবরের মতো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করে আসছে বিএনপি, দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেবেনা দলটি। তবে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন তত্ত্বাবধায়ক কিংবা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নয়, সংবিধান অনুযায়ীই হবে আগামী নির্বাচন। এক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোন প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন দলটির নেতারা। গতকাল আলাদা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০১ তম জন্মবার্ষীকি উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। এ সময় বক্তব্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন সংলাপের নামে আগামী নির্বাচন নিয়ে ঝড়যন্ত্র করছে বিএনপি। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সংবিধান অনুযায়ী হবে আগামী নির্বাচন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, '১৯৯৫ সালে সংলাপ করেছি বিএনপির সঙ্গে, সংলাপ ব্যর্থ হয়ে গেছে। যতবার সংলাপ করা হয়েছে ব্যর্থ হয়ে গেছে। এই দেশের কোনো সংলাপ সফল হয়নি। সংলাপের নামে শুধু নাটক করা হয়েছে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হয়েছে।' প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন ৭৫ এর মত আবারো ঝড়যন্ত্র করছে বঙ্গবন্ধ হত্যাকারীর দোষররা। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এরআগে দুপুরে, জাতীয় প্রেসক্লাবে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময়, বর্তমান সরকারের সমলোচনা করে, সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান রিজভী। এছাড়া, দুর্নীতির দায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা আটককে সরকার সাজানো নাটক বলে মন্তব্য রিজভী।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সাংবিধানিকভাবে যৌক্তিক বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। যদিও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এরিমধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়কে চিঠিও দিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার কমিশনের ১৮ তম সভায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এডভোকেট আবদুল হামিদ। সেই হিসেবে আসছে ২৩ এপ্রিল শেষ হচ্ছে তার মেয়াদকাল। আর সংবিধান বলছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু বর্তমানে, সংসদের একটি অধিবেশন চলমান রয়েছে, পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই পার হয়ে যেতে পারে নির্বাচনের সময়কাল। তাই আসছে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সাংবিধানিকভাবে যৌক্তিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদিন মালিক বলেন, '৯০ থেকে ৬০ দিনের হিসেবে হলো ২৩ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি। ২১ ফেব্রুয়ারি আবার সরকারি ছুটির দিন। তার আগেই ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন করতে হবে। সংসদের দু অধিবেশনের মধ্যে দু'দিন বা পাঁচ'দিন বিরতি থাকতে পারে। তবে যৌক্তিক হবে এ অধিবেশনে নির্বাচন করে ফেলা।' রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর ভোট দিতে পারবেন শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরা। সংবিধান বলছে, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে অধিবেশন কক্ষেই অনুষ্ঠিত হতে হবে রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন। তাই এরিমধ্যে ভোটার তালিকা চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেকোনো সময় নির্বাচন করার প্রস্তুতির কথাও জানালেন এই কমিশনার। আসছে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।' নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, 'বিধিবিধান গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। ভোটার তালিকা অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০ মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছেন ১৭ জন। নির্বাচন যখনই হোক, ২১ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন, শপথের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে আসছে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। আর মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় পাতার আরো খবর