শুক্রবার, মার্চ ২২, ২০১৯
চারজনের প্রতীক পরিবর্তনের নির্দেশ,সাতজনের প্রার্থিতা বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পাঁচ এবং স্বতন্ত্র দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। হাইকোর্টে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাঁরা হলেন-জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন মো. মুসলিম উদ্দিন, ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ, জয়পুরহাট-১ আসনে মো. ফজলুর রহমান ও রাজশাহী-৬ আসনে মো. আবু সাইদ চাঁদ এবং স্বতন্ত্র রংপুর-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ও ময়মনসিংহ-৮ আসনে মাহমুদ হোসেন। এ ছাড়া চারটি আসনে প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক পরিবর্তন করে অন্য চারজনকে দেওয়া হয়েছে। এঁরা হলেন নওঁগা-১ আসনে খালেক চৌধুরীর পরিবর্তে মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনে আব্দুল মুহিত তালুকদারের পরিবর্তে মাসুদা মোমিন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এস এম জিন্নাহ কবিরের পরিবর্তে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুকে এবং নাটোর-১ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমলের পরিবর্তে কামরুন্নাহার শিরীনকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে বিএনপির সাত প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। পরে কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি শেষে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেন হাইকোর্ট।
হাবিবুল্লাহ সিরাজী বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক
অনলাইন ডেস্ক: বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মহাপরিচালক বৃহস্পতিবার সকালে তার দায়িত্ব বুঝে নেন। এরআগে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন শামসুজ্জামান খান। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন হলেন হাবিবুল্লাহ সিরাজী। দশ বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মে মাসে তার মেয়াদ শেষে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য ছিল। আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ২০১৬ সালে একুশে পদক পান। তার আগে ১৯৯১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া এই কবির কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথাও লিখেছেন তিনি। হাবিবুল্লাহ সিরাজীর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- দাও বৃক্ষ দাও দিন,মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি, মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ, স্বপ্নহীনতার পক্ষে, আমার একজনই বন্ধু, পোশাক বদলের পালা, প্রেমের কবিতা,কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা, সিংহদরজা, জয় বাংলা বলোরে ভাই, সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না, স্বনির্বাচিত প্রেমের কবিতা, কতো কাছে জলছত্র, কতোদূর চেরাপুঞ্জি ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই, ইতিহাস বদমাশ হলে মানুষ বড়ো কষ্ট পায়।
বৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক :আগামী ২৪শে ডিসেম্বরের মধ্যে বৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখায় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা তাদের বৈধ অস্ত্র রাখতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়ে থাকলেও এবার নির্বাচন কমিশন এতোদিন সে উদ্যোগ নেয়নি। বরং ইসি থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, ভোটের সময় বৈধ অস্ত্র জমা দেয়া লাগবে না, তবে তা কেউ বহন বা প্রদর্শন করতে পারবে না। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা আসায় শেষ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন অস্ত্র জমা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচনে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আছে :আইজিপি
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার প্রস্তুতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোত্তম ও চমৎকার বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ( আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আছে, সেরকম শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সাথে দেখা করার পর এসব কথা বলেন আইজিপি। সিইসির সাথে বৈঠকের পর আইজিপি বলেন, আমরা মূলত নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের পরিকল্পনা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে এসেছি। আমাদের সর্বশেষ অবস্থা-পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পুলিশের নিজস্ব পরিকল্পনার কথা কমিশনের সাথে বিনিময় করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাতকে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন আইজিপি। এ সময় পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নেই বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের এমন অভিযোগ অবাস্তব বলে সাংবাদিকদের জানান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, শুধু পুলিশ নয়, সমস্ত প্রশাসনই এখন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ঢালাও যে অভিযোগ এরকম কিছু আমাদের কাছে নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলা বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি আইজিপি। পুলিশের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ও স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপ-কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
নৌকার পক্ষে প্রচারণায় তারকারা চট্টগ্রামে
নিজেস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম :নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন একঝাঁক তারকা অভিনয়শিল্পী। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ট্রাকে চড়ে তারা প্রচারণা শুরু করেন। এসময় সেখানে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।তারাকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, রিয়াজ, সাকিব, মাহফুজ আহমেদ, সুইটি, তারিন আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।নগরের তিনটি সংসদীয় আসনে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে ওই তারকা শিল্পীদের।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার উপ-কমিটির ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একঝাঁক অভিনয় শিল্পী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার সাথে যুক্ত আছেন। ধারাবাহিক প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা চট্টগ্রামে এসেছেন। এখানে তারকা-শিল্পীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তারা গান, আবৃত্তি ও কথামালার মধ্যদিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং নৌকা প্রতীকে ভোট চাইবেন।
উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে পুনঃনির্বাচিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা এবং আবারো জনগণের সেবা করার সুযোগ দিতে তাঁর দলকে পুনঃনির্বাচিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেশে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। এছাড়া অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এজন্য আমি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা এবং জনগণকে আবারো সেবা করার সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই। তিনি আজ বিকেলে তাঁর ধানমন্ডির সুধাসদন বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী, জয়পুরহাট, নড়াইল ও গাইবান্ধায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতাকালে এ আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ সভাপতি বিশাল উৎসবের মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে তাঁর সরকারকে পুনঃনির্বাচিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা ২০২০-২০২১ কে ইতোমধ্যে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছি। এ জন্য আমরা বিশাল উৎসবের সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ চাই। প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য রাজশাহীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এজন্য আমি আপনাদের কাছে চাই যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেভাবে আমাদের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন একইভাবে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।বাসস
সারা দেশে সাধারণ ছুটি ভোটের দিন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম শাহীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ৩০ ডিসেম্বর রোববার সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানায়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বর রোববার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। এতে উল্লেখ করা হয়, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/ প্রতিষ্ঠান/ সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/ কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সব নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে : সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: ধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা বলেছেন, দেশব্যাপী মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, সমগ্র দেশে নির্বাচনের একটি সুবাতাস, একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনমুখী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এবং তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। তারা অনবরত সভা-মিছিল করে যাচ্ছেন এবং প্রার্থীরা তাদের ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। দেশব্যাপী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিইসি আজ আগারগাঁওস্থ ইটিআই ভবনে নির্বাচনের দিন সফটওয়্যার সংক্রান্ত ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস), ক্যানডিডেট ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) এবং রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। ভোট নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আমানত উল্লেখ করে খান মো. নূরুল হুদা বলেন, সেই আমানত, সেই ভোটের ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ এবং বিতরণ করার জন্য আপনাদের হাতে চলে যাবে। কোন রকমের ভুল-ত্রুটির মাধ্যমে প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, এটা অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটু ভুলের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সঠিকভাবে ফলাফল বিতরণ ও বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত কঠিন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সঠিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০ তারিখের পর একটা নতুন সরকার গঠন হবে, সেটার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটার নিয়ামক হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সিইসি বলেন, কমিশনের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে যে, যে সকল কর্মকর্তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, তারা সক্ষমতার সাথে, স্বার্থকতার সাথে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রশিক্ষণের এমন কোনো স্তর বাদ রাখিনি যে কারণে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কোন ঘাটতি থাকে। তিনি বলেন, ইভিএমসহ নতুন কতগুলো দিক নিয়ে এ বছর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম প্রার্থীদের যে এজেন্ট কেন্দ্রে থাকবেন সেই পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেব। তারা তাদের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবে। এটার উদ্দেশ্য ছিল, এর মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রমের যে নীতি, আচরণ-বিধি, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, পোলিং বুথের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক অবস্থা এসবগুলো ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পোলিং এজেন্টদের ধারণা দেয়া। যাতে পোলিং এজেন্ট বুঝতে পারে তার দায়িত্ব কী। সিইসি বলেন, কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা যার যার দায়িত্ব বুঝতে পারেন। যার ফলে আইনগত দিকগুলো পোলিং এজেন্টরা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু এবং স্বাভাবিক থাকবে। খান মো. নূরুল হুদা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ধীরে ধীরে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাই। ৩০ তারিখে সেটার শেষ দিন। সেদিন প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটাররা ভোট দেবেন। মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ জমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের যেটা অসুবিধা হয়, সেটি হলো অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে আসে। এই অভিযোগগুলো আমাদের কাছে না এসে রিটার্নিং অফিসার এবং ইলেকট্রোরাল ইনকুয়ারি কমিটির কাছে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান পাবেন। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মূল কাজ হলো নির্বাচনের রেজাল্ট পাঠানো। দায়িত্বশীলতার সাথে এই কাজটি করতে হবে। পরিসংখ্যানগত কোন ভুল যাতে না হয় এদিকে খেয়াল রাখতে হবে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তা নাহলে আপনার একটি ভুলের কারণে এলাকায় লঙ্কা কান্ড ঘটে যেতে পারে। তিনি বলেন,এখানে আপনারা যারা আছেন, তাদের প্রত্যেকেই কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ। নির্বাচনের ফলাফল যতটা সম্ভব দ্রুততার সাথে পাঠাবেন। তবে আবার দ্রুততার সাথে পাঠাতে গিয়ে যাতে ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রেজাল্ট পাঠানোর সময় ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে যে কোন ভুল আছে কি না। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন এবারই প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন সকলের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর