রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন উভয় দেশ ভবিষ্যতেও সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্বকে অপরাপর বিশ্বের জন্য ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি যে, উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।’ এখানে শুক্রবার বিকেলে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে এটি ছোট এক টুকরো বাংলাদেশ, যেখান থেকে বাংলাদেশের চেতনা প্রতিপালিত হবে। রবীন্দ্রনাথের এই প্রভাব নিজস্বভাবেই অনন্য হয়ে উঠবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ভবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক হয়ে উঠবে। তিনি শান্তিনিকেতনে আসার জন্য এবং তার সঙ্গে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের সুযোগ লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সবুজ কলি সেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, কবি, গায়ক এবং শিল্পীসহ উভয় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একত্রে চলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যকার সব সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে এখানে তা উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান করা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৯ বছরে বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি তাঁর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ভবন দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভবন হবে এমন একটি অনন্য কেন্দ্র যেখানে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে লেখাপড়া ও গবেষণা করতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত চত্বরে বাংলাদেশ ভবন স্থাপনে তিনি অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ভারতী চত্বরে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পশ্চিম বাংলা সরকার, ভারত সরকার ভারতের বন্ধুভাবাপূর্ণ জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দ্বিতল এই ভবনটি নির্মাণে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ২৫ কোটি রুপি ব্যয় করেছে এবং এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য তিনি ১০ কোটি রুপির এককালীন তহবিল দেয়ার ঘোষণা দেন। গবেষকদের সুবিধার জন্য এই ভবনে একটি লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডিজিটাল সরঞ্জামাদিসহ যাদুঘর, আর্কাইভ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বাংলাদেশকে তাঁর হৃদয়ে ঘনিষ্ঠভাবে ধারণ করে রেখেছিলেন। তিনি তার জীবনের কিছুদিন বাংলাদেশের পতিসার, শিলাইদহ এবং শাহাজাদপুরে কাটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এসব জায়গায় তাঁর জমিদারী পর্যবেক্ষণের জন্য সফর করেন। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকতেন এবং সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকতেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের পল্লী এলাকার প্রকৃতিকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন এবং পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তিনি কৃষিভিত্তিক সমাজ ও অসাধারণ গান, কবিতা, উপন্যাস ও ছোট গল্প রচনা করতেন। পতিসারে তিনি কৃষি সমবায় এবং ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব ভারতীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মাত্র কিছুদিন আগে। তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দেশীকুট্টুম’ পুরস্কার লাভের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁর সম্পর্ক। শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন তরুণ ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ধরে ১৯৬১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশত বার্ষিকীতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বন্ধের উপর নিকৃষ্ট পদক্ষেপ নেয় এবং রবীন্দ্রনাথে সব কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। আমাদের দেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রবীন্দ্রনাথের চেতনাকে আমাদের অন্তরে ধারণ করে রাখার জন্য সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রবীন্দ্রনাথের গান আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাটি জীবন ক্ষুধা দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বিশ্বাস করতেন সমাজে বৈষম্য দুর না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব কখনোই উন্নতি লাভ করবে না। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিপাদ্য ছিল ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতি প্রণয়ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই দু’দেশের জনগণের মধ্যে অভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার পর ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধি তাঁকে এবং তাঁর বোন শেখ রেহানাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতের জনগণের প্রতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণ এই সমর্থন কখনো ভুলবে না।
তথ্য মন্ত্রণালয় সব সময় সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য কাজ করছে
তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, নবম ওয়েজবোর্ডে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। তারানা হালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়নোর জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে তথ্য অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে অনলাইন পত্রিকার রেজিস্ট্রেশন কাজ সম্পন্ন করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় সব সময় সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশী চ্যানেলগুলো প্রতিবছর ১৪০ মিলিয়নের মতো খরচ করে। নিজস্ব স্যাটেলাইট হওয়ার কারণে এটি এখন থেকে সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণ খরচ উঠে আসবে, এরপর থেকে যা হবে তা লাভ। ইতোমধ্যেই যে সকল দেশে ফুট প্রিন্টিং আছে সে সকল দেশের সাথে ব্যবসায়ীক আলাপ চলছে। এটাতো দৃশ্যমান লাভ। সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা তার গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারে ভারতের কাছ থেকে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘মহকাশের নিজ কক্ষে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ভারতের কাছ থেকে সীমান্তে, সমুদ্রে, ছিটমহলে, গঙ্গা নদীতে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উড্ডয়ন হয়েছে। অর্থাৎ জলে, স্থলে, অন্তরিক্ষে শেখ হাসিনা তার গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় কেতন উড়িয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে সিমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে, যেভাবে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান হয়েছে, গঙ্গার পানির হিস্যা যেভাবে আদায় হয়েছে একইভাবে তিস্তার পানি সমস্যারও সমাধান হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দিল্লীতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলেন। যাদের নেত্রী গঙ্গার পানির কথা বলতে ভুলে যান তাদের নেতারাই আবার তিস্তার পানি নিয়ে কথা বলেন। আপনাদের সেই কথা বলার অধিকার নেই। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের একটি রাজ্যের রাজধানীতে গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রর্দশন করে রাজধানী থেকে কলকাতায় উড়ে এসেছেন শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার জন্যে। এখানেই বোঝা যায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কতো গভীর এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক কতো গভীর। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, তাঁতী লীগের কার্যকরি সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্তা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।
মাদক পাচারে যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা
সাভারে আশুলিয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বদির বিরুদ্ধে যদি মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে বদির বেয়াই যেমন ছাড় পায়নি, তেমনি বদিসহ আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা অন্যদলের যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা। আজ শনিবার দুপুরে আসন্ন ঈ উপলক্ষে মহাসড়কের পূর্ব প্রস্তুতি পরিদর্শণে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশেই ড্রাগস এর সঙ্গে অস্ত্র জড়িত। যারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করায় তারা অস্ত্র ছাড়া চলেনা। সেই অস্ত্র যখন র‌্যাব পুলিশকে প্রতিরোধ করতে আসে, তাদের উপর গুলি ছুড়ে তখন মাদক ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের মুখে র‌্যাব এবং পুলিশ কি বসে বসে জুই ফুলের গান গাইবে? এটাই এনকাউন্টার। মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে র‌্যাব এবং পুলিশ আজ সর্বাত্বক অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানের কারণে রাজনৈতিক মতলবি একটি মহল খুশি না হলেও সাধারন মানুষ খুশি হয়েছে। মাদকের কারণে দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমান থেকে রোহিঙ্গা স্রোতের মতো মাদকের স্রোতও আজ সোনামির মতো বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের পাড়া মহল্লায় ঢুকে পড়েছে। এরকম অবস্থায় দেশের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে এরকম একটি অভিযান চেয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী হওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি। তালিকা অনুযায়ী এখন তদন্ত হচ্ছে এবং খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে র‌্যাব এবং পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ুর্ভোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈ উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ূর্ভোগ কমাতে আমরা আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে গাজিপুর, কালিয়াকৈর আশুলিয়া এলাকায় ঈ পূর্ব প্রস্তুতির জন্য পরিদর্শন করেছি। এবার আশুলিয়ার রাস্তাগুলো আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর এখানকার রাস্তাগুলো ডুবে গেলেও রাস্তুা উঁচু করায় সেরকম কোন আশঙ্কা নাই। এছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে ডিইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ীর্ঘ মেয়াী পরিকল্পনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উপরে এলিভেটেড এবং নীচে ফোর লেন করার জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে সেটি চাইনিজ কোম্পানীর অনুমোদনের জন্য বেইজিংয়ে আছে। সেখানে এক্সিম ব্যাংক ফান্ডটি রিলিজ করলেই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফোর লেনের কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাননি। গিয়েছেন কলকাতায় শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার জন্য। সেখানে তিস্তা চুক্তি বলে কোন এজেন্ডা নেই। যারা ভারতে গিয়ে লাল কার্পেট রিসিপশন নিয়ে ঢাকা এয়ারপোর্টে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলো গঙ্গার পানি নিয়ে কথা বলতে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি। আমি নিজেও প্রতিনিধি ল নিয়ে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোরি সঙ্গে আলোচনা করেছি সেখানে রোহিঙ্গা এবং তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তি হলে সবাই জানতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু মাত্র দিল্লী সরকার কিংবা ভারতের ফেডারেল সরকার একমত হলেই হবেনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও সম্মতি লাগবে। আজকে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হচ্ছে, আমার বিশ্বাস চুক্তি যে কোন সময় হতে পারে।
আত্মগোপনে মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা
সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা। তারা ভয়ে এখন গাঢাকা দিয়েছে। অনেকে ঘরবাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা তালিকায় টেকনাফের ৬০ গডফাদারের অনেকে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সূএ, প্রতিদিনের সংবাদ,তারা তাদের পৃষ্ঠপোষক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছেন। তবে মাদকের প্রতি সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থার তদন্তে যেসব গডফাদার, প্রভাবশালী আশ্রয়দাতা, বিনিয়োগকারী ও পৃষ্ঠপোষকের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। তবে মাদক নির্মূলে গডফাদার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ঢাকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে টেকনাফের মাদকের ৬০ গডফাদারের তালিকা আছে। মাদকের গডফাদারদের তালিকায় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি ও তাদের নিকট আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির চার ভাই। তারা হলেন মো. আব্দুস শুক্কুর, আব্দুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান ও মো. সফিক। গডফাদারের ওই তালিকায় জনপ্রতিনিধির মধ্যে আছেন টেকনাফের উপজেলার চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ও তার পুত্র সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। এসব গডফাদারদের তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গডফাদারদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আট নম্বরে থাকা আকতার কামাল মারা গেছেন। গতকাল কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভ সড়কে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, আকতার কামাল উখিয়া টেকনাফের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এর বেয়াই। এছাড়া শীর্ষ ওই মাদক গডফাদার টেকনাফের বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদ এর শ্যালক। তিনি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। চেয়ারম্যান জাফর আহমদ নিজে এবং তার তিন ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান, মোস্তফা মিয়া, দিদার মিয়া মাদকের গডফাদারের ওই তালিকায় আছেন। অন্যদিকে গোয়েন্দাদের হাতে রাজধানী ঢাকায় ১০২ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তালিকা আছে। তারা রাজধানীকে মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার হয়ে সরাসরি মাদক চলে আসে ঢাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। এরপর তারা ঢাকার অলি-গলি থেকে শুরু করে সারাদেশে মাদক পাচার করে।
RAB এর অভিযানে দেড় শতাধিক আটক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পে (RAB) মাদকবিরোধী অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। RAB এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযানে ডগ স্কয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। মুফতি মাহমুদ জানান, আমরা আজ যে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছি সে এলাকায় প্রচুর মাদকসেবী রয়েছে। আমাদের কাছে কিছু তালিকা রয়েছে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। পাশাপাশি জনসচেতনা বৃদ্ধিতে আমরা লিফলেটও বিতরণ করছি। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছি। তাদেরকে যাচাইবাছাই করা হবে। যাদের সনাক্ত করা হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কি পরিমাণ মাদক আটক করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি মাহমুদ বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি টিম যৌথভাবে কাজ করছে। তাই কি পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। অভিযান শেষে পরিমাণ জানা যাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ঘোষণা করেন। তবে এর আগ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমনই মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গোপনে একটি তালিকা তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী দেশে অভিযান চলছে। এই তালিকা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডি লিট ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি লিট) ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। শেখ হাসিনাকে এই সম্মান জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সাধন চক্রবর্তী বলেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য এই ডিগ্রি দেওয়া হল শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর দিনে তার নামে প্রতিষ্ঠিত ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হল ডি-লিট ডিগ্রি। শেখ হাসিনা তাকে দেওয়া এ সম্মান সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন। শনিবার সকালে কলকাতা থেকে বিমানে রওনা হয়ে দুর্গাপুর থেকে সড়কপথে দুপুরে আসানসোলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান শেখ হাসিনা। বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।
৫ জেলার নামের বানান নিয়ে প্রজ্ঞাপন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নিকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণকরণ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম -এর ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে Chattogram, কুমিল্লার ক্ষেত্রে Comilla এর পরিবর্তে Cumilla, বরিশালের ক্ষেত্রে Barisal এর পরিবর্তে Barishal, যশোরের ক্ষেত্রে Jessore এর পরিবর্তে Jashore এবং বগুড়ার ক্ষেত্রে Bogra এর পরিবর্তে Bogura রূপে সংশোধন করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদফতর/দফতর/পরিদফতর, জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে এবং বাংলা ও ইংরেজি অভিধানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
আওয়ামীলীগ চার সিটিতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায়
জুলাইয়ের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। রোজার মধ্যে অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হচ্ছে এই তিন সিটিতেও। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব নির্বাচনের ফল দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগ বলছে, সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও দলীয় ঐক্য নিশ্চিত করতে পারলেই নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। এজন্য নির্বাচনী প্রচারণায় আনা হচ্ছে নানা কৌশল। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিটিতেই জয় হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক, বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান এবং গাজীপুরে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। এবার ৫ সিটিতে জয় ধরে রাখতে আওয়ামী লীগও বেশ সতর্ক। ইতোমধ্যে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজশাহী ও সিলেটে খায়রুজ্জামান লিটন এবং বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানকে দলের প্রার্থী হিসেবে আগেই সিগন্যাল দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। বরিশালে হিরণের মৃত্যুর ফলে এবার সেখানে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেবে আ.লীগ। আর গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খানের পরিবর্তে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের আশা, আজমত উল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করলে গাজীপুরে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর ও পরবর্তীতে বরিশাল, সিলেট এবং রাজশাহীতেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় তারা। সে জন্য মাঠ পর্যায়ে কোন্দল মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও চাঙ্গা রাখতে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপকহারে ভোটারদের কাছে তুলে ধরারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খুলনায় দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। গাজীপুরেও জয়ী হতে হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত গাজীপুরের দুই মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে যেন কোনো ঝামেলা না হয়। কোনো ধরনের অজুহাত আমি শুনতে চাই না। এদিকে গাজীপুরে বিজয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৮টি দল গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই ঘরোয়াভাবে সব কোন্দল মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ভোরের কাগজকে জানান, খুলনা সিটিতে জয়ের পর আমাদের এখন টার্গেট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়া। পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও জয় পেতে হবে। এজন্য দলের ভেতরকার বিভেদ দূরীকরণসহ সবদিকেই খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। ইতোপূর্বে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে আওয়ামী লীগের যারা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা প্রত্যেকেই ক্লিন ইমেজের। মেয়র থাকাকালীন তারা ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। ৫ বছর বিএনপির মেয়র থাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে এবার তালুকদার আবদুল খালেককে জনগণ ভোট দিয়ে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করেছেন। মানুষ বুঝেছে আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা বিশ^াস করি, প্রতিটি সিটিতেই মানুষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা ভালো লিডারশিপ চান। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী তারা প্রত্যেকেই পরীক্ষিত ও জনবান্ধব লিডার। এলাকার উন্নয়নে তারা ব্যাপক ভ‚মিকা রেখেছেন। ৫টি বছর তাদের অনুপস্থিতি মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তারা জানেন, বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।সূএ ভোরের কাগজ