ভূমির মালিকানা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীরই থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমির মালিকানা স্থানীয়দের কাছেই থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জমি-জমার মালিকানা নিয়ে ঔপনিবেশিক আইন সংশোধন করে নতুন আইনের উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমাদের সব জায়গার মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা পায়। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন তার ভূমির মালিকানটা সেইভাবে নিতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থাই করতে চাই। কাজেই ওই মালিকানা তাদের নিজস্ব থাকবে এবং সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যে শান্তিচুক্তি আমরা করেছি তার সিংগভাগ বাস্তবায়ন করেছি। যেটুকু বাকি আছে সেটা আমরা করব। ভূমি কমিশন আমরা গঠন করে দিয়েছি। ভূমি কমিশন যাতে নিয়মিত বসতে পারে সেই সমস্যাটারও সমাধান হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে (সিএইচটি) বসবাসকারী মানুষের জন্য মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধন করায় সংঘাত-পরবর্তী এই এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়ন সম্ভাবনার একটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিনগাছড়ি এলাকায় চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়িতে স্থানীয় সুবিধাভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এক সময় রক্তক্ষয়ী-সংঘাত ছিল। এই সংঘাতের কারণ-সমস্যা চিহ্নিত করেই আওয়ামী লীগ শান্তি চুক্তি করে। চুক্তিতে বাধা এলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। এ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। আগের সরকারগুলো সমতল ভূমি থেকে মানুষদের সেখানে নিয়ে সংঘাত উস্কে দিয়েছিল। কিন্তু শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাতের পথ বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। পাহাড়ে অশান্তি প্রতিরোধে পার্বত্যবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ শান্তিপূর্ণ পবিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেটা মাথায় রেখেই আমি সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সমতল ভূমি থেকে বিভিন্ন লোককে নিয়ে ওখানে বসতি করা শুরু করে দেয়। তাদের ক্যাম্পে রাখা হয় এবং সেখানে সংঘাতটা আরও উস্কে দেয়া হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তৃতীয় শক্তির সাহায্য ছাড়া শান্তি চুক্তি করে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে তাদের জন্য প্রশাসনিক ভবন ডরমেটরিসহ সব করা হবে। ঢাকায় কাজে আসলে সেখানে পার্বত্য এলাকার লোকজন স্বল্পখরচে থাকতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেমন ঘরবাড়ি হয় তেমন দৃষ্টিনন্দন হবে এই কমপ্লেক্স। এছাড়া আমরা চাকমা, মারমা ত্রিপুরা ভাষায় যে অক্ষর আছে, আমরা সেই অক্ষরে তাদের নিজস্ব ভাষায় বই ছাপিয়ে দিয়েছি। পাহাড়ে শিক্ষাকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। পার্বত্য অঞ্চলে যেন মাদক উৎপাদন না হয়। সেইসঙ্গে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ীদের পাহাড়ী ফলের চাষ করার আহ্বান জানান। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) আওতায় ইউনিসেফ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে পাড়া কেন্দ্র নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করছে, যা বর্তমানে তিন পাহাড়ী জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্র চালুর এই মাইলফলকের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করা ১৬ লাখ মানুষ ও ১১টি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীর মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক হবে এবং এটি এখানকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় নিপীড়ন-নির্যাতনে জুম্মদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বলে সম্প্রতি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা উদ্বেগ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রায় আড়াই শর মতো সেনা ক্যাম্প আমরা প্রত্যাহার করেছি। সেখানে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্ডার গার্ডের বিওপি তৈরি করেছি, যা আগে কখনও ছিল না। চার হাজারতম পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমেই শেষ হতে যাওয়া এ প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন আরেকটি প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলমান প্রকল্পের জনবলকে নতুন প্রকল্পে নিয়ে যাওয়াসহ আরও কর্মসংস্থানের আশ্বাসও দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে তার সরকারের এই উন্নয়নের ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্যই এই নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২৫ বছরের অস্থিরতা নিরসনে এবং সেখানে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি এই অঞ্চলে ইউনিসেফের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনের মতো ন্যায়সঙ্গত সামাজিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে এখনও অনেক কাজ বাকি, বিশেষ করে, দুর্গম পাহাড়ী এলাকায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাড়া কেন্দ্রগুলো ইসিডি কেন্দ্রের সর্বোত্তম উদাহরণ এবং শৈশবকালীন প্রারম্ভিক উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় পাড়া কেন্দ্রগুলোকে বিশেষায়িত ইসিডি কেন্দ্রে রূপান্তর করা যেতে পারে এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়ান স্টপ মৌলিক সামাজিক সেবা প্রদানে পাড়া কেন্দ্র পদ্ধতি এর মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। স্বতন্ত্র জনসংখ্যাতাত্ত্বিক, ভূমি, সামাজিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রদায়গুলো বহুবিধ বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় এই অর্জনের সমান প্রতিফলন নেই এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর জন্য এই জেলাগুলো পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নয়নের মূলধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রচারণা চালাতে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জীবনচক্র পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে পাড়া/ গ্রাম কেন্দ্র পদ্ধতি প্রণয়ন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল পাড়া কর্মীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিত মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, শিক্ষা, ওয়াশ ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর জন্য মৌলিক সামাজিক সেবাগুলো প্রাপ্তি ও ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি
আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে মিয়ানমারে। রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ব্রিফিংয়ে যোগ দিয়ে এমন তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। এসময় নির্ধারিত ২৩ জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত নয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ভারত, চীন ও জাপানকে সম্পৃক্ত করতে মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। ২৫শে আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরুর পর কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ। গত বছরের ৯ অক্টোবর ৩২ দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিংয়ের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। শুরুতে পশ্চিমা এবং অ- মুসলিম প্রধান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশকে তাগিদ দেন কূটনীতিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বলেন, 'আমরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এ মুহূর্তে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা ফিরতে চায় না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।' ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, 'যেকোনভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ার পক্ষে আমরা। এখন নিরাপত্তা নেই বলা ঠিক হবে না, তবে এ পরিস্থিতি উন্নয়নে আমাদের সবাইকে অনেক কাজ কাজ করতে হবে।' যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, 'রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তাদের মানবিক দিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।' পরে ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, 'যেতে না চাইলে তো আর জোরে ধাক্কা দিয়ে পাঠানো সম্ভব নয়। যখন তারা দেখবে তাদের অবস্থান ভালো হচ্ছে তখন তারাও যেতে রাজি হবে।' তিনি আরো বলেন, 'আমাদের সাইডে আমরা ইউএন হাইকমিশনার ফর রেফুজি অফিসকে আমরা যুক্ত করবো। তো তারা একটা বুঝের গ্রাফ দিয়েছে। ইন্ডিয়া, চায়না ও জাপানকে তারা যুক্ত করতে রাজি হয়েছে।' তবে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বঙ্গভবন থেকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের শেষ পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন। টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে তিন দিনব্যাপী ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রপতি দরবার হলে বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরাসরি সম্প্রচারকৃত আখেরি মোনাজাতে যোগ দেন। এ সময় ঢাকার কাকরাইল মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের দেশ ও জাতিসহ মুসলিম উম্মার শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করে পরম করুনাময়ের কাছে মোনাজাত করেন। এরআগে গত ১২ জানুয়ারি থেকে দেশের ১৭ টি জেলার মুসল্লিদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লী ভিত্তিক তাবলিগ-ই-জামাত ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। গত ২০১১ সাল থেকে মুসল্লিদের যাতায়াত ও স্থান সঙ্কলানের অসুবিধা হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেনে-বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সঠিকভাবে জেনে-বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকেই পুঁজি বাজার সম্পর্কে কিছু না জেনেই বিনিয়োগ করেন, তারা মনে করেন এটা ভাগ্যের ব্যাপার, কিন্তু বিনিয়োগ করতে হলে এ সম্পর্কে কিছুটা লেখা পড়ারও দরকার। অর্থমন্ত্রী শনিবার সকাল ১১টায় সিলেট শহরের একটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা-২০১৮র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। পুজিবাজার নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য দেশব্যাপি বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা আয়োজনের অংশ হিসেবে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুঁজি বাজার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে হবে উল্লেখ করে এএমএ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের ক্ষমতায়নে কাজ করছে, আর মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়নে গুরত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে পুঁজি বাজার। তিনি বলেন, সরকার মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিরাপদ ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বিগত ৭ বছরে আমরা একটি ভিত্তি দাঁড় করাতে পেরেছি, এখন পুঁজি বাজার বিকাশের সময়। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারের কোনো নিয়ম নীতি ছিল না। মানুষ হুজুগে বিনিয়োগ করেছিলো। এর ফলে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে স্বল্প সময়ের মধ্যে দুটি বড় ধস নেমেছিল। আমাদের সরকার এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন মিলে প্রাণান্ত চেষ্টা করে পুঁজি বাজারকে বর্তমান অবস্থায় এনেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজি বাজার একটি অত্যধুনিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রথম শ্রেণীর পুঁজি বাজার। বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় প্রচুর বিনিয়োগ দরকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,আমরা যদি সঠিকভাবে জেনে বুঝে পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করি তবেই দেশের উন্নয়নে সবার প্রত্যক্ষ ভুমিকা পালন করা হবে। তিনি বলেন সামনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আমাদের সবার অংশগ্রহনেই একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শিক্ষা মেলার স্টল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুঁজিবাজারে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। সচেতন বিনিয়োগ সমৃদ্ধ আগামী- এই স্লোগানে শুরু হওয়া বিনিয়োগ শিক্ষা মেলায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বিষয়ক বক্তব্য রাখেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বিএসইসির কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন ও খন্দকার কামালুজ্জামান।
প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনীতে রাষ্ট্রপতি
জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, প্রাণী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি)-২০৩০ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। শনিবার বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) এর অডিটরিয়ামে রাষ্ট্রপতি প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত মেলার শুভ উদ্বোধনকালে এ আহ্বান করেন। বাড়াবো প্রাণিজ আমিষ গড়বো দেশ, স্বাস্থ্য মেধা সমৃদ্ধির বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ উদযাপন শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, মৎস্য ও গবাদিপশু পালন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের জন্য একটি বড় ও সম্ভাবনাময় খাত।রফতানি প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনের গুণগতমান নিশ্চিত করুন। রাষ্ট্রপতি সকল স্তরে উৎপাদনের যথাযথ মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরীক্ষাগার গড়ে তোলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনী কাঠামো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পণ্যের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের কারণে ভোক্তারা এখন বাজারে যৌক্তিক দামে ডিম, দুধ, মাংস পাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন,শুধু ভোক্তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাববেন না। একই সঙ্গে উৎপাদকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। পণ্যের ন্যায্যমূল্য বজায় রাখার পাশাপাশি এই খাতের রফতানি আয়ের ব্যাপারেও নজর দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী যারা অতীতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের কর্মকা- দেশের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে এবং বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বৈশ্বিক রফতানি বাজারকে খুবই প্রতিযোগিতামূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের পণ্যকে অবশ্যই সেরা হতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও রাষ্ট্রপতি সতর্ক করে দেন। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনকারী বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ২০৩০ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রাণিসম্পদ খাতে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনে আরও উন্নত সেবা দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ সামগ্রিক কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে প্রাণিসম্পদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রাণিজ আমিষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকেই তরল দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ ও পণ্য পরিবহন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অত্যধিক বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে প্রাণী থেকে প্রাণী এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগব্যাধির বিস্তার ঘটছে। রাষ্ট্রপতি এ সময় বিজ্ঞানসম্মত পশুপালন ব্যবস্থা অনুসরণের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ নির্ভর কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। এ খাত এখন আর শুধু বেকারত্ব রোধের খাত নয়, বরং ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি এ খাতকে শিল্পেরও মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আশা করেন, গুণগত সেবা, ই-সার্ভিস, নিরাপদ প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আরও উন্নত প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এসডিজি অভীষ্ট লক্ষ্য ২০৩০ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নিরাপদ প্রাণিজাত আমিষ উৎপাদন, বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণসহ জনগণকে সার্বিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আয়োজিত প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন। এর আগে সকাল ৯টায় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি, হাতি, ব্যান্ড ও বাউল দলের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে শুরু হয় ৬ দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০১৮। রেলিটি শনিবার সকাল ৯টায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ প্রদক্ষিণ করে অধিদফতর প্রাঙ্গণে শেষ হয়। রেলি শেষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আইনুল হক জানান, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গড়তে প্রোটিনের প্রয়োজন, আর এ প্রোটিনের প্রধান উৎস হলো প্রাণিসম্পদ। প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়ন তুলে ধরা, উন্নত জাতের পশু প্রদর্শন এবং জনগণকে প্রাণিজ আমিষের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানোই হলো প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ। এ উপলক্ষে ২০-২২ জানুয়ারি রাজধানীর কৃষি খামার সড়ক সংলগ্ন কেআইবি চত্বরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি। এছাড়াও ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে খামারি সমাবেশ। ২৫ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সেবা সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে সমাপনী অনুষ্ঠানে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ ও এতিমখানাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস খাওয়ানো হবে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মাকসুদুল হাসান খান, প্রাণিসম্পদ সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আইনুল হকও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, উর্ধতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শেষ হচ্ছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রোববার শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব, তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমা। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। আর এই মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে আজ সকাল থেকেই। ১০টার দিকে হেদায়েতি বয়ান শুরু হবে। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজ বলেন, এবারের মোনাজাত হবে বাংলায়। পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম বাংলাদেশের মাওলানা মো. জোবায়ের। এর আগে বাদ ফজর মজমা জোড়ানো বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুর রহিম নকিব। পরে হেদায়েতি বয়ান করবেন মাওলানা আবদুল মতিন। আখেরি মোনাজাতের আগের দিন গতকাল শনিবারও বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে মুসল্লিদের টঙ্গীমুখী স্রোত অব্যাহত ছিল। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস, ট্রাক, ট্রেন, নৌকা-লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে হাজার হাজার মুসল্লি টঙ্গীতে জমায়েত হন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এই আগমন অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ইমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আমবয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরুব্বিরা তাবলিগের ছয় উছুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বীনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করেন। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের কাকরাইলের মাওলানা মো. জোবায়ের বাংলায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। আখেরি মোনাজাতের আগে যে হেদায়েতি বয়ান হয়, তা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশি মাওলানা আবদুল মতিন। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ইজতেমা। পরে জামাতের লোকেরা দেশ-বিদেশে ইসলামের দাওয়াতি কাজে ছড়িয়ে পড়বেন। ইজতেমার ময়দানের বাইরে অবস্থানকারী মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে মোনাজাতে শরিক হতে গাজীপুর ও ঢাকা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শতাধিক মাইকের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা এস এম রাহাত হাসনাত বলেন, ভিড়ের কারণে যাঁরা মূল ময়দানে যেতে পারবেন না, আখেরি মোনাজাতে তাঁদের শরিক হতে টঙ্গীর মধুমিতা রোড, টঙ্গী বিসিক এলাকা, নোয়াগাঁও এবং চেরাগআলীর বিভিন্ন শাখা সড়কে মোনাজাতের মাইকের সঙ্গে আরও ৮০টি মাইকের সংযোগ দেওয়া হবে। একইসংখ্যক মাইক ঢাকা অংশেও থাকবে। তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের পরিবহনের জন্য বিআরটিসির দুই শতাধিক বাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করবে। শনিবার মধ্যরাত থেকে আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ইজতেমাস্থলমুখী বিভিন্ন সড়েক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় ইজতেমায় মুসুল্লিদের জন্য কিছু শ্যাটল বাস চলবে। এ ছাড়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৯টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। সব আন্তনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। বিআরটিসি দুই শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ২০১৯ সালে ইজতেমার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইজতেমার মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. মাহফুজ বলেন, ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমার পূর্বঘোষিত তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১২ জানুয়ারি কাকরাইল মসজিদে বৈঠকে আগামী বছর ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সরকারের অনুরোধে তা এক সপ্তাহ পেছাতে শুক্রবার রাতে ইজতেমা ময়দানে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আগামী বছর ইজতেমার প্রথম পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও দুজন মুসল্লির মৃত্যু টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বে থাকা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ইজতেমায় আসা আরও দুজন মুসল্লি বার্ধক্য ও শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে বার্ধক্যের কারণে জামালপুরের ইসলামপুরের মোবারক হোসেন ওরফে মোহর আলী (৬৫) এবং গতকাল ভোরে শ্বাসকষ্টের কারণে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মো. শহীদুল ইসলাম (৫৬) মারা গেছেন।
আজ 20 জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস
আজ শনিবার শহীদ আসাদ দিবস । ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১-দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেট সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিনদিনের শোক পালন শেষে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয়-দফা ও ছাত্রদের ১১-দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারাবাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মাত্র নয় মাস যুদ্ধের পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাঙ্গালি। বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশের।
সব টাকা ব্যাংকে আছে
মাননীয় আদালত, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাৎ। কিন্তু কোনো টাকা তো খরচই হয়নি। সব টাকা ব্যাংকে আছে। সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। তাহলে আত্মসাৎ হলো কীভাবে? হোয়াট ইজ আত্মসাৎ? আর আত্মসাৎ যদি না হয়, তাহলে মামলা কিসের? জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ গতকাল বুধবার আদালতে এ যুক্তি তুলে ধরেছেন। বকশীবাজারের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলছে। আইনজীবী আদালতে বলেন, এখন যদি ঘোষণা করা হয় জিয়ার নামে একটা ট্রাস্ট করা হবে, ৫০০ কোটি টাকা এখনই চলে আসবে। যদি বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো ট্রাস্ট করার ঘোষণা দেওয়া হয়, এখনই হাজার কোটি টাকা চলে আসবে। এদের কি টাকা চুরি করতে হয় নাকি? তাই বলছি মাননীয় আদালত, এখানে মামলা কোথায়? আত্মসাৎটা কোথায়? এটা একটা সেমিনার টাইপ মামলা। একটা কাল্পনিক মামলা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মন্তব্য করেন, আপনি এত দিন কোথায় ছিলেন?জবাবে আহসান উল্লাহ্ বলেন, যেখানেই থাকি, এখন তো এসে পড়েছি। আর এসেই যখন পড়েছি, তখন বিলম্বে হলেও তো বিচার। আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ গতকাল সকাল থেকেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যতম সাক্ষী দুদকের হারুন-অর রশিদের তদন্ত প্রতিবেদন ও জবানবন্দি পাঠ করে বিভিন্ন অসংগতি, পরস্পর সাংঘর্ষিক বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ট্রাস্টের কোনো টাকা ব্যয় করা হয়নি। একটা অফিস করেনি। ব্যাংক থেকে সুদও তোলেনি। মাননীয় আদালত, এটাই কি অপরাধ হয়ে গেছে? অবশ্য হতে পারে। কারণ, কখনো কখনো বিধির বিধানও উল্টে যায়। আইনজীবী বলেন, ট্রাস্টের অফিস না নেওয়ায় কী সমস্যা হয়েছে? অফিস নিলে তো কিছু টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন তো অনেক জায়গায় পড়াশোনাও হচ্ছে গাছতলায়। তবে মাই লর্ড, কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের অফিস থাকে বেশ গোছানো। ভেতরে কী থাকে তা বোঝা যায় না। তাঁর মক্কেল শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করার জন্য বিস্ময় প্রকাশ করে আহসান উল্লাহ্ বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট আশুলিয়ায় তাঁর মালিকানাধীন ৭৬ শতাংশ জমি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল। সেই টাকায় তিনি কিছু দোকান-ফ্ল্যাট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু যখন শুনলেন এই টাকা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে, তখন সুদসহ তা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। আইনজীবী বলেন, যখন মামলা হয় তখন শরফুদ্দিন সাহেব তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। পরে ২৬ বছরের সেই ছেলে মারা যায়। দেশে এসে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এর সবই জানতেন। প্রতিবেদনে তিনি শরফুদ্দিনের টাকার উৎস এবং ফেরত দেওয়ার ঘটনা সবই বলেছেন। তারপরও তাঁকে আসামি করা হলো কেন? এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে উল্লেখ করে আইনজীবী বলেন, দুদক নির্দেশ দিয়েছে। তাই তদন্ত কর্মকর্তা সব প্রমাণপত্র পেয়েও, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করার পরও তাঁকে আসামির তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কারণ, কাউকে না কাউকে আসামি করতে হবে। এই পর্যায়ে আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ একটু থেমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আই বেগ, মাননীয় আদালত, একটা কথা পরে ভুলে যেতে পারি, তাই এই ফাঁকে বলে নিই। আদালতকক্ষে প্রচুর মশা। কামড়াচ্ছে। এগুলো ডেঙ্গুর মশা হতে পারে। ইওর অনার, যদি একটু স্প্রে করা হয়। এরপর আবার এই আইনজীবী শরফুদ্দিনকে আসামি করার অযৌক্তিকতা ও তাঁর ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,মাননীয় আদালত, যার সন্তান মারা যায় তিনিই বোঝেন এর কষ্ট। সেই কষ্ট চেপে রেখে শরফুদ্দিন সাহেবকে এই মামলায় হাজতবাস করতে হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, তাঁর পিতা যখন মারা যান তখন তিনি নিতান্তই একটি বালক। সুতরাং সে এতিম। সেই এতিমকে ধরে নিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে কোমর ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতকক্ষে স্তব্ধতা নেমে আসে। খালেদা জিয়া, শরফুদ্দিন আহমেদসহ অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আইনজীবী নিজেও কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, মাননীয় আদালত, আমি আর পড়ব না। মামলার পরের তারিখে যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আর্গুমেন্ট করব। এ সময় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে উপস্থাপিত একটি আবেদনের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছ থেকে শুনতে চান। আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান দাঁড়িয়ে বলেন, মাননীয় আদালত, আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। সে জন্য উনি থাকতে পারবেন না। তাই আমরা আগামীকাল আদালতের কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার আবেদন করেছি। কারণ, ম্যাডাম আদালতের কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে চান। এ বিষয়ে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ম্যাডামের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে ওনাদের আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আদালত বলেন, কাল ম্যাডাম অনুপস্থিত থাকবেন। মামলার আগামী তারিখ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। কিন্তু অন্য আসামিদের শুনানি চলবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসামিপক্ষ কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়। বিচারক এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া আইনজীবীদের ডেকে বলেন, কাল (আজ) তিনি আদালতে আসবেন। তিনি আইনজীবী আহসান উল্লাহ্কে শুনানি করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। আজ সাড়ে ১০টায় আবার আদালত বসবে। আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ প্রথমে শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে বক্তব্য শেষ করবেন। তারপর কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে উপস্থাপনা শুরু করবেন।
কাল শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু
বাংলাদেশের আকাশে গতকাল বুধবার ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়য়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান। সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, তথ্য মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব এস. এম. মাহফুজুল হক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ওয়াক্ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (অর্থ) মো. ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর