কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই
সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে এখনও কোনো অগ্রগতি নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, কোটা বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোটা সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। গেল ৯ মে কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়। সেই সময় গণমাধ্যমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু এ প্রস্তাবের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসে নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে যে কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে তা অনুমোদন পায়নি। ফলে এখনো ঐ কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব হয়নি। এজন্য এ কমিটি এখন দৃশ্যত অকাযকর। ফলে কোটা নিয়ে কাজ করার মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফরমেট এখনো দাঁড়ায়নি। কতদিন নাগাদ কোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে কোটা সংস্কারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ) আরো বলেন, ধরে নিন আগামী দুই মাসেও কিছু হবে না। কারণ কমিটি করার ক্ষেত্রে কোটা বিষয়ে ভাল বোঝেন এমন অফিসারেরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কোটা সংস্কার বা বাতিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তাব দেওয়ার মতো যোগ্য লোক পেলেই হয়তো কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত। সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলন ঘিরে মাস দুয়েক আগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ইস্যু। তবে কোটা সংস্কার নিয়ে বতমানে কার্যত দায়িত্বশূণ্য অবস্থায় আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দেশের প্রায় সব কয়টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তারা কোটা সংস্কার চান (৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নামিয়ে আনা) তবে কোটা বাতিল নয়। বিশিষ্টজনরাও কোটা একেবারেই বাতিল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। সেসময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম একটি বৈঠকে কমিটির সদস্য কেউ কেউ কোটা সম্পূর্ণ বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে মত দেন। যদিও অনেকে সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন। কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিফুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক এবং জয়া সেন গুপ্তাসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও ওই কমিটি কোনো কাজে আসেনি। পরবর্তীতে সেই কমিটি বাতিল করে আবার নতুন কমিটির তালিকাসহ একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। বর্তমানে সেই কমিটির প্রজ্ঞাপন আজও জারি করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: দৌলতুজ্জামান খাঁন বলেন, এ বিষয়ে এখন আপাতত আমাদের আর কিছু করার নেই। আমরা কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে আমরা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারি। এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, কোটা বিষয়ে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ বসে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছিলাম। সেই আলোকে একটি কমিটির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে আমাদের সেই প্রস্তাবনায় কোটা বাতিল হবে নাকি সংস্কার হবে সেই বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।সূত্র:পরিবর্তন ডটকম
সরকারের দুই মেয়াদে ১৯১ নৌদুর্ঘটনা
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে (গত মেয়াদ থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত) মোট ১৯১টি নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় আকারে ৪৮টি নৌদুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে নৌযান পরিচালনাকারীদের অদক্ষতা, বিরূপ আবহাওয়া, নৌযানের ত্রুটি ইত্যাদি চিহ্নিত হয়েছে। চিহ্নিত বিষয় সমূহের মধ্যে যেসব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি যোগ্য সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিষয়সমূহ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা তদন্ত ও তদন্ত পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কমে গেছে। বিগত তিন বছর যাত্রীবাহী নৌযানে অবস্থান নিশ্চিত করা, নৌযানের কারিগরি মান নিশ্চিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে পরিদর্শন কার্যক্রম জোরাদার করায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নৌ নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি জনবল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ৩৫,অবসরে ৬৫ বছর করার সুপারিশ
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সুপারিশ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। বুধবার (২৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক ও মো. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন ছিল। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে এ সুপারিশ গ্রহণের পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বেশকিছু যুক্তিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০, শ্রীলংকায় ৪৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ইতালিতে ৩৫, ফ্রান্সে ৪০ এবং অনেক দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত। আর বাংলাদেশে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আরও দুই বছর বেশি। কিন্তু প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর হয়নি। প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে সাধারণ ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনেও বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। আর সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এর বিপক্ষে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে সংসদেও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দশটি প্রকল্পের বিপরীতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৬৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ১৮ জুন পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৩ ভাগ। আরও জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের বিশেষ অনুরোধে চারজন সচিব, ৩৬ অতিরিক্ত সচিব, ১১১ যুগ্ম সচিব এবং ২০০ উপ-সচিব তিন বছরের অধিককাল ধরে রয়েছেন।
গাজীপুরে ছিল নিবিড় ম্যাকানিজম
সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সাজানো ও পূর্বনির্ধারিত ফল গ্রহণযোগ্য নয়। এই নির্বাচন সরকারদলীয় ও প্রশাসনের নিবিড় ম্যাকানিজমের মাধ্যমে হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে না পারার ব্যর্থতা নির্বাচন কমিশনের। পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তারা বলেন, মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণের সময় সকাল থেকেই অনেক এলাকায় সরকারদলীয় ছাড়া অন্য দলের এজেন্টরা দাঁড়াতেই পারেননি। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে এলাকায় এলাকায় মহড়া, নানান কলাকৌশলে পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়। এরপর কয়েকটি এলাকায় বিরোধী দলগুলোর এজেন্টদের থাকতে না দেয়া, ভাঙচুর, ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে বেআইনিভাবে সিল মারার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষ ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের তুলনায় অনেক কম ছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কোথাও কোথাও নির্বাচন কমিশনকে অসহায় থেকে সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ক্রীড়নকে পরিণত হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর
২০১৬ সালের হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গড় আয়ু বেড়েছে ৭ মাস ২০ দিন। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ দশমিক ৬ বছর। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পোল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৭ প্রকল্পের রিপোর্ট এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, মহাপরিচালক আমির হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক একেএম অাশরাফুল হক সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করেন।
বিশ্ববাসী চমকপ্রদ এক মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন ২৭ জুলাই
বিশ্ববাসী চমকপ্রদ এক মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন। ২৭ জুলাই (কোনো কোনো দেশের জন্য ২৮ জুলাই) দেখা যাবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই বিশেষ মাহিন্দ্রক্ষণটির স্থায়িত্ব হবে ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এদিন লালচে রং ধারণ করবে চাঁদ যাকে বলা হয় ব্লাড মুন। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন একই সরল রেখায় অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া সরাসরি চাঁদকে ঢেকে ফেলে তখন চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। এবারের চন্দ্রগ্রহণটি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, কারণ এসময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাটি অতিক্রম করবে। একই কারণে চাঁদের পৃষ্ঠে লালচে আভার সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে আর্থস্কাই জানায়, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো থেকে দেখা যাবে এ মহাজাগতিক দৃশ্য। এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ থেকে ২৭ জুলাই দিনগত মধ্যরাতের পর অথবা ২৮ তারিখ ভোর থেকে চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করা যাবে। নিউজিল্যান্ড থেকে ২৮ জুলাই ভোরের দিকে চন্দ্রগ্রহণের কেবল শুরুর দৃশ্যটা দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে এ দৃশ্য সবচেয়ে ভাল উপভোগ করা যাবে এবং এসব অঞ্চলে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে সন্ধ্যায়। উত্তর আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও অ্যান্টার্কটিকের বেশিরভাগ অঞ্চল এ দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হবে।জুলাইয়ের শেষে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণশতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ ছাড়াও জুলাই মাসে আরেকটি বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন নক্ষত্র প্রেমীরা। ৩১ জুলাই ২০০৩ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করবে মঙ্গলগ্রহ। এদিন পৃথিবী থেকে ৩ কোটি ৫৮ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করবে লাল গ্রহটি এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা যাবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন সেনাপ্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদন
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। বুধবার (২৭ জুন) সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান নতুন সেনাপ্রধান। এ সময় তাকে বরণ করে নেন সাভার সেনানিবাসের ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. আকবর হোসেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি বীর শহীদদের সম্মানে সালাম প্রদর্শন করেন। এ সময় শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে সেনাপ্রধান জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করে বেলা সাড়ে ৯টার দিকে সৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের হাসান উদ্দিন সরকারকে। মঙ্গলবার (২৬ জুন) ভোটগ্রহণের পর রাতভর চলে গণনা। এরমধ্যেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফল আসতে থাকে। বুধবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় গাজীপুর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (ঢাকা অফিস) রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, জেসিসির মোট ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৬টিতে জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। তাছাড়া হাতপাখা প্রতীকধারী নাসির উদ্দিন ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট, মিনার প্রতীকধারী ফকলুর ১ হাজার ৬৫৯ ভোট, কাস্তে প্রতীকের রুহুল আমিন ৯৭৩ ভোট, মোমবাতি প্রতীকের জালাল উদ্দিন ১ হাজার ৮৬০ ভোট এবং ঘড়ি প্রতীকের ফরিদ আহমেদ ১ হাজার ৬১৭ ভোট পেয়েছেন। রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, নির্বাচনে মোট ৫৭ দশমিক ০২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ১১১। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৩৮। মোট ভোট দিয়েছেন ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৯ জন। অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে ৯ কেন্দ্রের ভোট। সেখানে ভোটার ২৩ হাজার ৯৫৯ জন। রিটার্নিং অফিসার বলেন, জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কোনো ধরনের অভিযে‍াগ আসেনি। যে ৯টি কেন্দ্রে অভিযোগ এসেছিল সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলো স্থগিত করা হয়। আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। ৯ কেন্দ্র ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে ফল আসতে থাকলে মধ্যরাত নাগাদই জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় জাহাঙ্গীর আলমের। তখন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, এ জয় গাজীপুরবাসীর, এ জয় গ্রিন সিটির। আমি এই শহরকে গ্রিন সিটি বানাতে চাই। একইসঙ্গে আমাদের দুর্ভোগ-যানজটকে ৯০ দিনের মধ্যে সমাধান করা হবে। ভোট অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়ায় গাজীপুরবাসী, নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। ভোট নিয়ে যারা অভিযোগ করছেন সেটা ভিত্তিহীন। এ অভিযোগ আগেও করা হয়েছিল।
৯টি কেন্দ্র ছাড়া সব জায়গায় ভোট সুষ্ঠু: ইসি সচিব
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রে স্বাভাবিক ভোট হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে বিন্দু পরিমাণ অভিযোগ ছিল সেগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বললেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গাজীপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ভোট প্রদান শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে যে তথ্য পেয়েছি তাতে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে বলে জেনেছি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আগেই কর্মকর্তাদের বলেছিল কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তাই ৯ কেন্দ্রে অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টায় ভোট দেয়া শেষে শুরু হয়েছে গণনা। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ৪২৫টি। কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। মোট সাত মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।সুত্র:আরটিভি

জাতীয় পাতার আরো খবর