রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থে কানাডার আরো বিনিয়োগ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে আমাদের আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আমরা দেশে ১শ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি।এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে চায়। তাই আমরা বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আকারে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশে কানাডার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিনোইট প্রিফানটেইন রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার চায় দেশে গণতন্ত্র সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত থাকুক। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালু এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কথা উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। জবাবে কানাডার হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে একজন বিশেষ দূত পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দ্রুত সহায়তা প্রদান বিশেষ করে তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দুবার বৈঠকের কথাও স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অসামান্য সাফল্য ও অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি সরকার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করছে। তাদের বৃত্তির অর্থ সরাসরি মায়েদের সেলফোনে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিনোইট প্রিফানটেইন বলেন, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে কানাডা কাজ করে যাবে। বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে কানাডা খুবই আশাবাদী। হাইকমিশনার বলেন, টরেন্টো শহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কানাডা স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারীর আরো ক্ষমতায়নে কানাডা সহায়তা করতে চায়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ইজতেমার মোনাজাত দেখে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মোনাজাতে অংশ নেন
গণভবনে বসে কর্মীদের সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ইজতেমার মোনাজাত দেখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। তুরাগ নদীর তীরে লক্ষাধিক মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও তাবলিগের শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন। এ উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে টঙ্গীর তুরাগতীরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।
শেষ হচ্ছে এজতেমার প্রথম পর্ব আজ আখেরি মোনাজাত
বাংলায় মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা যোবায়ের হাসান এবার ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে ছাড়াই আজ রবিবার বিশ্ব এজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এলেও টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার ফিরে গেছেন। মাওলানা সাদ কয়েক বছর ধরে এজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তার পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হযরত মাওলানা যোবায়ের হাসান বাংলা ভাষায় আজ (রবিবার) আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বলে এজতেমা সূত্রে জানা গেছে। বেলা ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন এজতেমার শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বিরা। এদিকে নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। তাই অর্ধশতাধিক বিদেশী মুসল্লি এজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন। আগামী বছর বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ১১ জানুয়ারি হতে। এদিকে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির পদচারণায় কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগপারের বিশ্ব এজতেমাস্থল এখন মুখরিত। শিল্পনগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। এবারের এজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও রাসুল (সঃ) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির, আসকার, ইবাদত-বন্দেগী আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র কোরানের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। আজ (রবিবার) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিমবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত এবারের ৫৩তম বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্ব। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজতেমা ময়দানে বিদেশী নিবাসের পূর্বপার্শ্বে বিশেষভাবে স্থাপিত মঞ্চ থেকে এ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। এর আগে অনুষ্ঠিত হবে হেদায়তি বয়ান। রবিবার হেদায়তি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের বিশ্ব এজতেমার তিন দিনের প্রথম পর্ব। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের আসা ও যাওয়া নিরাপদ করতে শনিবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে মোনাজাত অনুষ্ঠান পর্যন্ত এজতেমা ময়দানগামী সড়কে যানবাহ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। এদিকে এবারও বিশ্ব এজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। মহান আল্লাহতাআলার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় দীনের দাওয়াতে মেহনত করার জন্য ইসলামের মর্মবাণী সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন টঙ্গীর তুরাগ তীর এজতেমা ময়দানে। শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। রবিবার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে এজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেছে। মূল প্যান্ডেলে স্থান না পেয়ে অনেক মুসল্লি নিজ উদ্যোগেই প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন সিট ও কাপড়ের শামিয়ানা টানিয়ে তাতেই অবস্থান নিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার বন্দনা, আরজ-গুজার, শোকরানা আর ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল মানুষের কলরব। সৃষ্টিকর্তার দিদার লাভের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হেঁটে, র্যা ব ও পুলিশ পাহারায় বাস ও ট্রেনে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব এজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এদিকে ২০১৫ সাল হতে দেশের মোট ৬৪টি জেলাকে দুবছরে চার পর্বে বিভক্ত করে এজতেমার আয়োজন করায় এবারের প্রথম পর্বের এজতেমায় আগত মুসল্লিরা স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে সময় কাটিয়েছেন। এলাকাবাসীও নানা ভোগান্তি থেকে অনেকটা মুক্ত ছিল। এদিকে এবারও তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিরা রেডিও-টিভিতে আখেরি মোনাজাত সরাসরি সম্প্রচারে অনুমতি দেননি। ক্যামেরাও মুরব্বিদের ছবি তোলাও বারণ করে দিয়েছে এজতেমা কর্তৃপক্ষ। তারপরও কিছু কিছু বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এজতেমা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আখেরি মোনাজাত সম্প্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার আখেরি মোনাজাত করবেন বাংলাদেশের মাওলানা যোবায়ের ॥ এবারে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি গত বুধবার বাংলাদেশে এলেও তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠায় টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়েই শনিবার দুপুরে জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে বাংলাদেশ থেকে ফিরে গেছেন। ভারতের মাওলানা জোবায়রুল হাসান মারা যাওয়ার পর তিনিই (মাওলানা সাদ) বিশ্ব এজতেমায় হাল ধরেছিলেন। বিশ্ব এজতেমায় উর্দূতে বয়ান করা ছাড়াও তিনি একই ভাষায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করতেন। কিন্তু এবার আখেরি মোনাজাত ও হেদায়তি বয়ান দুই-ই হবে বাংলায়। শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ মুরব্বিদের এক পরামর্শ সভায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনাকারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ব এজতেমা আগামী বছর শুরু হবে ১১ জানুয়ারি ॥ আগামী বছর বিশ্ব এজতেমা ১১ জানুয়ারি হতে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ মুরব্বিদের এক পরামর্শ সভায় ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব এজতেমার মুরব্বি মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্ব ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশী অর্ধশতাধিক মুসল্লি ফিরে গেছেন ॥ নানা বিতর্কের অবসান ঘটাতে মাওলানা সাদ এবারের বিশ্ব এজতেমায় অংশ না নিয়ে ফিরে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। তাই এবারের বিশ্ব এজতেমায় যোগ দিতে আসা ৫৮ বিদেশী মুসল্লি এজতেমার প্রথম পর্ব সম্পন্ন হওয়ার আগেই ময়দান থেকে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক মুসল্লি। গাজীপুর পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯টি দেশের ৪হাজার ৫৩১ বিদেশী নাগরিক টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানে এসে যোগ দেন। এদের মধ্যে শুক্রবার আমেরিকার ১১, মালয়েশিয়ার ১৫ ও ইন্দোনেশিয়ার ১২ মুসল্লি এবং শনিবার ইন্দোনেশিয়ার আরও ২০ মুসল্লি টঙ্গীর এজতেমা ময়দান থেকে ফিরে গেছেন। তবে তারা কেন চলে গেছেন তা জানা যায়নি। দ্বিতীয় দিন (শনিবার) যারা বয়ান করলেন ॥ নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার মুসল্লিদের উদ্দেশে বাদ ফজর বয়ান করেন কুয়েতের মুরব্বি ইব্রাহিম রেফা। তার বয়ান বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুর রহমান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কাকরাইলের মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। এছাড়াও বাদ যোহর সুদানের মাওলানা ড. জাহাদ, বাদ আসর বাংলাদেশের নূরুর রহমান ও বাদ মাগরিব মাওলানা ফারুক হোসেন বয়ান করেন। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি এজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ফজিলতপূর্ণ এ বয়ান শোনেন। বিদেশীসহ আরও দুই মুসল্লির মৃত্যু ॥ বিশ^ এজতেমা ময়দানে শুক্রবার রাতে এক বিদেশীসহ আরও দুই মুসল্লি মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে বিদেশী কামরায় মালেশিয়ার নাগরিক নূরহান বিন আব্দুর রহমান (৫৪) ওজু করতে গিয়ে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও রাত সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের রূহিতা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৪) নিজ খিত্তায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ নিয়ে গত দুই দিনে এজতেমা ময়দানে এ পর্যন্ত তিনজন মুসল্লি মারা গেছেন। এবারও যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়নি ॥ বিশ্ব জতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আছর এজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হতো। গত বছরের মতো এ বছরও ওই বিয়ের আয়োজন থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ব এজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মোঃ গিয়াস উদ্দিন।
সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে না যায়, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে' প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহিত্যের অন্বেষণকে মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং যৌক্তিকতাবোধকে শাণিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিশ্বজুড়ে আজ এক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য গ্রাস করে নিতে চাচ্ছে সকল শুভবোধকে। এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে লড়তে হলে আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে। আর এজন্য সাহিত্য চর্চার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন,সাহিত্য মানুষকে যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল করে তোলে। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর ওসামানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন-১৪২৪র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সভ্যতা বিকশিত হয়েছে মানুষের সৃজনশক্তিতে। আর এই সৃজনশীলতার বাহন হচ্ছে ভাষা। আর তাই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। সাহিত্যচর্চা মানুষের মধ্যে শুভবোধের বিকাশ ঘটায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অমিত সম্ভাবনার দ্বারকে উন্মোচিত করে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়। যে সমাজের সাহিত্য যত ঋদ্ধ, সেই সমাজ তত বেশি সভ্য। আমাদের বাংলা সাহিত্যের ভিত্তিও অনেক সুদৃঢ়। আর সে কারণেই বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহবায়ক এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, নিখিল ভারত বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত ঘোষ, সহ সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহ সভাপতি সত্যম রায় চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কবি শামসুর রাহমানের একটি কবিতা অনুষ্ঠানে আবৃতি করেন এবং আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ভারত, জাপান এবং জার্মানী থেকে আগত প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সাহিত্য সম্মেলনের যৌথ আয়োজত বাংলা একাডেমী, নিখলি ভারত বঙ্গ সাহিত্য কেন্দ্র এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ। বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ গুরুসদয় দত্তের এই অমিয় বাণীকে ধারণ করে আয়োজিত হচ্ছে এবারের আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন। শেখ হাসিনা সম্মেলনের এই মূল প্রতিপাদ্যের উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত সব বাঙালির মনে রাখতে হবে যে, আমাদের শেকড় হচ্ছে বাংলা। এই বাংলাভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়। তিনি বলেন, বাঙালিরা কারো কাছে কখনো মাথা নত করে না, মাথানত করতে জানে না। কাজেই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করেই আমাদের চলতে হবে। আমরা বাঙালি এটি ভুলে গেলে চলবে না। আজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাঙালির অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। আমাদের সাহিত্য আরও ঋদ্ধ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন একদিকে নতুন সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করবে, অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্যকে তুলে ধরবে । আজকে এই সম্মেলনে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমাদের এই ঋদ্ধ ভাষায় যাঁরা সাহিত্যচর্চা করছেন, তাঁদের একত্রিত করার এই যুগোপযোগী উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির সাহিত্য সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি দেন। আমি বিশ্বাস করি জনগণই সব সাহিত্য ও শিল্পের উৎস। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনদিন কোন মহৎ সাহিত্য বা উন্নত শিল্পকর্ম সৃষ্টি হতে পারে না। আমি সারাজীবন জনগণকে সাথে নিয়ে সংগ্রাম করেছি, এখনও করছি। ভবিষ্যতে যা কিছু করব জনগণকে নিয়েই করব। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে বলেন, মায়ের মুখের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে বিশ্বে বাঙালি জাতি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রস্তাবে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এদিন সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন। ১৫ মার্চ তাঁরা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতা। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। ১৯ এপ্রিল আবারও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জুলাই মাসের শেষে তিনি মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেফতার করা হয়। কারাগার থেকেই তাঁর দিকনির্দেশনায় আন্দোলন বেগবান হয়। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন ভাষা শহীদরা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরবী এবং রোমান হরফে বাংলা লেখা চাপিয়ে দেয়ায় পাকিস্তানি শাসকশ্রেণীর চক্রান্তেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২১-এর রক্তরাঙা পথ বেয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন এবং স্বাধীকারের চেতনা ধীরে ধীরে এক দুর্বার গতি লাভ করে। বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইউনেস্কো কতৃর্ক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় তাঁর সরকার এবং কানাডা প্রবাসী সালাম, রফিকদের মহৎ অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কানাডা প্রবাসী সালাম ও রফিকসহ কয়েকজন বাঙালি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারাবিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সরকার প্রধান বলেন, আসলে মাতৃভাষা ছাড়া মানুষ কখনো নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তারই পদাংক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী নিজেও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কারণ আমি গর্ববোধ করি মাতৃভাষায় ভাষণ দিতে পেরে। তবে, এটা ঠিক যে, যুগের পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে। সভ্যতা অগ্রসরমান হলেও তার চাপে মাতৃভাষা কখনো হারিয়ে যাক তা আমরা চাই না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আজকে বাংলা ভাষার ওপর এই সাহিত্য সম্মেলন আমি মনে করি আমাদের দেশের মানুষকে ভাষা সম্পর্কে আরো সচেতন করবে। এটি মাতৃভাষার জন্য আরো সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে অমর একুশের ভাষা শহীদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীম উদ্দীনসহ অন্যান্য সৃষ্টিশীল কবি-সাহিত্যিকদের; যাঁদের হাত ধরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আজ পত্রপল্লব মেলে মহীরূহে পরিণত হয়েছে, তাঁদেরও স্মরণ করেন। পরে প্রধানরমন্ত্রী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে না যায়, সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে'
দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার তাঁর সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। আমাদের অতীতের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভূল-ক্রুটিগুলো সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সকল বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে। শেখ হাসিনা ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কি ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে। সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোন পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না। তাঁর পুরো বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সন্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর দৃঢ় সংকল্প পুণর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। তিনি বলেন, যদি আপনাদের এটাই প্রত্যাশা হয় তাহলে সবসময়ই আমরা আপনাদের পাশে থাকবো। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকুন্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন। এমনি পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ বছর দুঃসহ যন্ত্রনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি । তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর- এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা। আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি'র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি। বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। জাতির পিতা হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির বলিষ্ঠ ভূমিকার উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। সরকার প্রধান বলেন, সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানবিক কারনে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংশিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল? তিনি বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক! প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ এক যোগে সম্প্রচার করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার। দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের চার বছর পূর্ণ হবে শুক্রবার। জানা গেছে, জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চার বছরের শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনামুলক বক্তৃতা করবেন তিনি। গত বছর এবং এর আগের বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তার সরকারের শাসনামলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেখানে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সব দলের অংশ গ্রহণের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে-সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক-এগারো থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিয়েছে। বিএনপির কারণে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকলেও এটা আর ঘটবে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভয়-আশঙ্কা আছে এই কারণে যে ওয়ান-ইলেভেন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি নেয়নি। বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। নির্বাচনের আগেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী।’ তিনি বলেন, বিএনপি ভোট পাওয়ার মতো কোনো কাজ করেনি। সে কারণে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সেই দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে দেবে না, বাংলাদেশে আর এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচন বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগে কেউ প্রার্থী নন। অনেকে নিজের মতো করে দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। অনেকে দেখা করছেন। এতে প্রমাণিত হয় না যে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়ে গেছে। তবে আতিকুল ইসলাম দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। সে সময় সভানেত্রী তাঁকে কাজ করার কথা বলেছেন, সিদ্ধান্ত জানাননি। আওয়ামী লীগ–মনোনীত মেয়র প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে ১৬ জানুয়ারি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ ক্রমে ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছে, এ বিষয়ে দল কী ভাবছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের প্রার্থী, দলীয় নেতা আর নির্বাচন এটার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স। নির্বাচনে স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স হয়।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ কি ব্যবসা করতে পারেন না? তাঁরা চাঁদাবাজি করে খাবেন?’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ–বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই- প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা খাতে টাকা দেয়া বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা খাতে দেয়া টাকাকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বরাদ্দ নয়, বিনিয়োগ। এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে এ খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন এই বিনিয়োগই দেশ ও জাতিকে চরম স্বস্তি এনে দিবে। দেশ ও জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ। এক্ষেত্রে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে। পুলিশের দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্ব আরও বাড়াতে হবে। বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও ৪৪ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটাই জানালেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব অপরিসীম। আপনারা নিজেদের জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনাদের প্রত্যেকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্য অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোলবোমা হামলা আর আগুন সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ পুলিশ সদস্য। আমি তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। এমন ভয়াল তা-বের পরও পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। যা খুবই বিরল। বিএনপি-জামায়াতের সেই তা-ব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ মোকাবেলা করেছে। সেই সাহসিকতার জোরেই দেশ থেকে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ চিরতরে নির্মূল করতে হবে। এজন্য পুলিশে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করতে পারে। ইতোমধ্যেই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ল্যাবরেটরি, ডিএনএ ল্যাব হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম হয়েছে। তারা কাজ করছেন। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য আসছে। ডিএনএ ল্যাব হওয়ার কারণে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছেন অনেকেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশ-বিদেশে আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধেই আমরা সেই নেতিবাচক ধারণার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা জঙ্গীবাদ বিষয়ে ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হতে পেরেছি। দেশে একের পর এক জঙ্গী আস্তানা আবিষ্কৃত হয়েছে। অভিযান হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গীরা। অভিযান চালাতে গিয়ে বীরত্বের সঙ্গে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক দোয়া। আর তাদের পরিবারের প্রতি রইল সর্বোচ্চ সহমর্মিতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে নস্যাৎ হয়ে গেছে বড় বড় সব নাশকতার পরিকল্পনা। গুঁড়িয়ে গেছে জঙ্গী আস্তানা, যা নিঃসন্দেহে যা প্রশংসার দাবিদার। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ পুলিশ চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে রয়েছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাঁবু বানানো, খাবার দেয়া, মেডিক্যাল সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক নানা কাজে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যা এককথায় অতুলনীয়। পুলিশ ইতোমধ্যেই জাতীয় জরুরী সেবা হিসেবে ৯৯৯ নম্বর চালু করেছে। যার সুফল পাচ্ছেন জনগণ। ভবিষ্যতে এই সেবার মান আরও বাড়ানো হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা। পর্যায়ক্রমে সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ভাল কাজ করবেন, তাদের অভিনন্দন জানানো হবে। যারা খারাপ কাজ করবেন তারা তিরস্কৃত হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যের উচিত তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাতেই জনগণ অনেক সুফল পাবে। ইতোমধ্যেই পুলিশ সদর দফতরের আইজিপি কমপ্লেইন সেল স্থাপন করা হয়েছে। যা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গীবাদ নির্মূলে দেশের সকলকে এক হতে হবে। কারণ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কারও বন্ধু হতে পারে না। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ইউনিট জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং এদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস ও মোবাইল এ্যাপ প্রবর্তনের উদ্যোগকেও প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলেন, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরজমান রাখার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কোন বিকল্প নেই। এজন্য এ খাতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। এ খাতে দেয়া অর্থকে অনেকেই বরাদ্দ বলে থাকেন। আমি বলি এটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগই উন্নয়ন। একদিন দেশ ও জাতিকে এই বিনিয়োগ স্বস্তিতে রাখবে। উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। এর আগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করে সালাম ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য ১৮২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন। ২০১৭ সালে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ৩০ জন বিপিএম এবং ৭১ জন পিপিএম পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পেয়েছেন বিপিএম সেবা পদক এবং ৫৩ জন পেয়েছেন পিপিএম সেবা পদক।

জাতীয় পাতার আরো খবর