শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১
কলকাতা-দিল্লির সঙ্গে চেন্নাই ফ্লাইটের ঘোষণা করলো বিমান
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি নতুন রুট হিসেবে চেন্নাইয়ে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ এয়ারলাইন্স। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা রুটে, ১ নভেম্বর ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা এবং ১৫ নভেম্বর ঢাকা-চেন্নাই-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। যাত্রীরা বিমান সেলস সেন্টার, মোবাইল অ্যাপ, ওয়েব সাইট এবং ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। করোনা সংক্রান্ত শর্ত/নির্দেশনা এবং ফ্লাইট শিডিউল বিমানের ওয়েবসাইটে এ পাওয়া যাবে। ভ্রমণের সময় যাত্রীদের ভারতে গমনের পর নিজ খরচে সাত দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তবে কারো যদি করোনার লক্ষণ-উপসর্গ থাকে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এছাড়া সবাইকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে।
করোনামুক্ত হলেন তথ্যমন্ত্রী
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) তার করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মকবুল হোসেন। এপিএস মকবুল জানান, মন্ত্রী মহোদয় হয়তো আজকের মধ্যেই বাসায় ফিরবেন। করোনাকালীন প্রায় প্রতিদিনই সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ও মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র স্বাক্ষর অব্যাহত রেখেছেন। তথ্যমন্ত্রীর স্ত্রীরও করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে বলে জানান মকবুল। তবে তিনি আক্রান্ত ছিলেন না। তথ্যমন্ত্রীর অসুস্থতার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রতিদিনই হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই সময়ে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাণকালের মেয়াদ বৃদ্ধি, চলচ্চিত্রের কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকারদের সম্মানী, রাশপ্রিন্ট অবলোকন, বিদেশি শিল্পী-কলাকুশলীদের আগমন, তাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানো, তথ্য অধিদফতর ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পদ সৃজন ও মঞ্জুরি, অধিদফতরগুলোর টিও অ্যান্ড ই-তে যানবাহন অন্তর্ভুক্তিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তথ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবরের পরীক্ষায় পজিটিভ আসে তথ্যমন্ত্রীর। এরপর তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর হন। তবে তার শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না।
সাংবাদিকদের অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
২৫,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল থেকে দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নীতিহীন সাংবাদিকতাটা যেন না হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করে যে হলুদ সাংবাদিকতাটা, সেটা যেন না থাকে। রোববার (২৫ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনারা কাজ করবেন। সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই, দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্যবোধ থাকে। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনো দেশের কল্যাণ আনতে পারে না, বরং ক্ষতি করে। নীতিহীন সাংবাদিকতাটা যেন না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে একটা দায়িত্ববোধ নিয়ে চলতে হবে। দায়িত্ববোধটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। অহেতুক সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে সেই হলুদ সাংবাদিকতাটা যেন না থাকে। আর অনলাইনে সমাজভিত্তিক, মানবিক, মানুষের কল্যাণ, উন্নয়নের দিকে যেন মানুষের দৃষ্টি থাকে। সেই ধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্য উদ্বৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছেন- নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোনো কল্যাণ করতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাংবাদিকতারও একটা নীতিমালা আছে সেই নীতিমালাটা সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আপনারা কাজ করবেন। আপনাদের রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে, আপনাদের রিপোর্ট পড়ে পড়ে বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেই রিপোর্ট দেখেই কিন্তু অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই। আবার অনেক অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকার করতে পারি, অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি। অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন, সে জন্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এইটুকু অনুরোধ করবো আপনারা যেমন ধন্যবাদযোগ্য কাজও করেন আবার এমন রিপোর্ট কইরেন না যেটা মানুষকে বিভ্রান্ত করে বা মানুষ বিভ্রান্তির পথে যায়। শেখ হাসিনা বলেন, আসলে সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ। সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে সেটা যেন মানুষের চিন্তা চেতনাটা যেন অন্তত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। তাদের ভেতরে মানবতাবোধটা যেন থাকে। তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে। করোনার মহামারীতে সাংবাদিকদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই নানা রকম সমস্যায় ভুগছে। দুস্থ, অসহায় সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আমরা সেখানে প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা ৩শ ৫০ জন সাংবাদিকের মাঝে বিতরণ করেছি। সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটু মামলা হলেই সাংবাদিকদের চট করে গ্রেফতার করা হতো। আমরা কিন্তু সেটাও সংশোধন করে দিয়েছি। সেদিক থেকেও আমরা সাংবাদিকদের জন্য নানা রকম সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি। যাতে হয়রানির সম্মুখীন না হতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সন্তান হিসেবে আমিও সাংবাদিক পরিবারেরই সদস্য। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমরা চাই দেশকে সেভাবে এগিয়ে নিতে। জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্য সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে মানুষের জীবনটাকে আরও উন্নত করা। গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে থেকে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি, উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, উদযাপন কমিটির কো-চেয়ারম্যান, ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ, উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডিআরইউর সহ-সভাপতি নজরুল কবির, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান।
যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়-তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদের
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান ধারা যাদের গাত্রদাহ সৃষ্টি করছে তারা নানা অপকৌশলে দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়। আজ শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে সনতন সমাজকল্যাণ সংঘ আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মহাঅষ্টমীর শূভেচ্ছা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যেমে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের অপকৌশল হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান বৈরিতা সৃষ্টি করা। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়-তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সংগঠনের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং চিত্র নায়ক ফেরদৌস এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, দেশে প্রবাহমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আজ চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলার পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন । শিক্ষামন্ত্রী বলেন,জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো নিজ এলাকার জনসাধারণের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে এগিয়ে আসা। দেশ ও মানুষের কল্যাণে সেবা-ই তাদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিৎ। মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,নির্বাচনের পূর্বে নব-নির্বাচিত পৌর পরিষদ সাধারণ জনগণের জন্য যে ইশতেহার দিয়েছেন,তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলাপ্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।
বনানীতে স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রফিক-উল হক
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বনানী কবরস্থানে স্ত্রী ডা. ফরিদা হকের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর তিনটায় তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর দুইটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা আদ-দ্বীন হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন আদ-দ্বীন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ সাইদুল ইসলাম। এরপর বায়তুল মোকাররমে হয় দ্বিতীয় জানাজা।
দুঃসময়ে আমাকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিক: প্রধানমন্ত্রী
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রফিক-উল হক এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আমলে মিথ্যা মামলায় যখন আমাকে কারাগারে বন্দি ছিলাম, তখন আমাকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে। সেই দুঃসময়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন। শেখ হাসিনা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সে কথা স্মরণ করেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল হক নানা পরামর্শ দিতেন বলেও শোক বার্তায় উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৪,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘকে আরো সুনিশ্চিত ও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বার্তায় আজ বলেছেন, এখনো এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো আজকের অনেক জটিল চ্যালেঞ্জ সমাধানে জাতিসংঘ আরো সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব এখনো দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন এসব সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার প্রতিটির সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং বৃহত্তর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি যোগ করেন, আমরা জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকীর ঘোষণায় যেমন সম্মত হয়েছিলাম, আজ আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং কেবল পুনরুজ্জীবিত বহুপক্ষীয়তার মাধ্যমেই এর সমাধান করা যেতে পারে। আমরা কেবল একসাথে কাজ করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের মহামারী এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করতে পারি। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকীতে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে জাতিসংঘের সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতি ও লক্ষ্যগুলোর প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বছরটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির প্রতি তাঁর দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন; বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংহতির ওপর জোর দেন; বহুপক্ষীয়তার পক্ষে কথা বলেন এবং জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন উন্নয়নের আহ্বান জানান। তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা তাঁর প্রাজ্ঞ দর্শন এবং দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ একটি চ্যালেঞ্জিং বছর এবং ২০২০ সালের প্রথম দিক থেকে মহামারীটি সারা বিশ্বকে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত করে চলেছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জীবন ও জীবিকা, ব্যবসায় এবং রফতানি আয়ের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল একসঙ্গে এবং সংহতি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই আমরা এ মহামারীর অবসান ঘটাতে পারি এবং এর পরবর্তী প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭৫ বছরে জাতিসংঘের অনেক অর্জন রয়েছে এবং এটি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের রীতিনীতি রূপদান করেছে, সংঘাত নিরসনে সহায়তা করেছে এবং মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এটি নারী-পুরুষের সমান অধিকারসহ সকলের জন্য মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সুরক্ষায় কাজ করেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি সক্রিয়, অবদানকারী ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখার প্রয়াসে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের শান্তির সংস্কৃতি’র প্রতি অনুগত থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারে অ্যাক্সেস বৃদ্ধি, খাদ্য সুরক্ষা অর্জন এবং বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে আমাদের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ এবং ২০০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ বদ্বীপে পরিণত হওয়ার অভিযাত্রায় আমরা সঠিক পথে রয়েছি। আজকের বিশ্ব ৭৫ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময়ের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাতিসংঘ সকল দেশের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, ভবিষ্যত গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও অর্থবহ রোডম্যাপের সাহায্যে জাতিসংঘ আমাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যত গড়ার প্রয়াসে আমাদের পথনির্দেশক হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়বিচারের বিশ্ব গঠনের জন্য সকল অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একসঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার: চীন
২৩,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে কাজ করবে বলে চীনকে জানিয়েছে মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই টেলিফোনে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে এ কথা জানান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়াং ই বলেন, চীন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। সম্প্রতি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে চীনকে আশ্বস্ত করেছে। ওয়াং ই আরও বলেন, চীনকে মিয়ানমার জানিয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবে। মিয়ানমারের নির্বাচনের পর প্রথমত রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে, পরবর্তীতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি ড. মোমেনকে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঢাকায় প্রস্তুতিমূলক সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দ্রুত শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীনের করোনার ভ‌্যাকসিন বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে বলে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। করোনা পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন ওয়াং ই। মহামারি করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। করোনার কারণে চীনের যেসব প্রকল্প স্থগিত বা ধীরগতি হয়েছে সেগুলো করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানান ওয়াং ই। পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, এ হত্যার দ্রুত বিচারের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের ওপর চীন সরকার আস্থাশীল। এ সময় ড. মোমেন উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। করোনায় আটকে পড়া চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে ওয়াং ইকে অনুরোধ জানান ড. মোমেন। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আমার দেখা নয়াচীন বইটি চীনা ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগের বিষয়ে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর