ছয় দফা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে সভা
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বিশেষ সভা আজ বিকাল ৩টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আমন্ত্রিত সদস্যরা অনলাইন অ্যাপ্স জুম এর মাধ্যমে সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সূচনা করেন। গত ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী জনসমাগম এড়ানোর জন্য ধারণকৃত অনুষ্ঠান রেডিও-টেলিভিশন-অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি একইভাবে আগামী ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উদ্যাপনের প্রস্তাব করেন। করোনা ভাইরাসজনিত বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উদ্যাপনে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে উপস্থিত সবাই মতামত প্রদান করেন। সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম পরবর্তীতে অনুষ্ঠেয় অনলাইন সভায় সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি, আসাদুজ্জামান নূরএমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. কামাল হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়য়া, কবি তারিক সুজাত এবং বাস্তবায়ন কমিটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।বাসস
ডিআরইউতে করোনাভাইরাস সংক্রমনের নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমন পরীক্ষার লক্ষ্যে নমুনা (স্যাম্পল) সংগ্রহের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ডিআরইউর উদ্যোগে ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় স্থাপিত এই বুথে নমুনা সংগ্রহের কাজ আগামী সোমবার থেকে শুরু হবে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, এ বুথে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) এর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নাম এন্ট্রি করে করোনা সংক্রমন পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে পারবেন।এখানে প্রতিদিন ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা যাবে। সপ্তাহে ৫-৬দিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্তএ কার্যক্রম চলবে। যাদের করোনা উপসর্গ যেমন-জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা ও শাসকষ্ট রয়েছে তারা নমুনা দিতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনে সদস্যের নাম ও মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ডিআরইউ ও ক্রাবের যেসব সদস্য তাদের বা পরিবারের সদসদ্যদের নমুনা দিতে ইচ্ছুক তাদের অবিলম্বে নিন্মে উল্লেখিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে নাম এন্ট্রি করার জন্য অনুরোধ করা হয়। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে তারা হলেন,খালিদ সাইফুল্লহ-০১৭১৭-৮১৩০১২,কামরুজ্জামান বাবলু-০১৮১৮-০০৪৭৬৮,শহিদুল ইসলাম রাজী (ক্র্যাব)-০১৯১৩-১৫৩৯৩৯,মাইনুল হাসান সোহেল-০১৭১৯-০১৪৪৩১
বিদেশী কূটনীতিকরা তাদের প্রটোকল মেনে চলবেন
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বিদেশী কূটনীতিকদের তাদের প্রোটোকল মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের টুইটারে বিবৃতি দেয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মন্ত্রী আজ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাদের যদি কোন কথা থাকে তারা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। তারা সেটা না করে জটলা পাকিয়ে অভিন্ন বিবৃতি দিয়েছেন। তারা রাজনীতির মহড়ায় চলে গেছেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অপ্রত্যাশিত। বিরক্তি নিয়েই মোমেন প্রশ্ন রাখেন, এই কূটনীতিকরা কী এখানে রাজনীতি করবেন? তারা কী এদেশে ইলেকশন করবেন? আমি আশা করবো তারা তাদের প্রটোকল মেনে চলবেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ সাতজন বিদেশী রাষ্ট্রদূত প্রায় অভিন্ন ভাষায় করোনা ভাইরাস সংকট চলাকালে নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে পৃথক টুইট করেন। ড. মোমেন বলেন, আমি খুবই খুশি হতাম, তারা যদি যৌথভাবে বিবৃতি দিয়ে বলতেন, রাখাইনে যুদ্ধ হচ্ছে, মিয়ানমারের উচিৎ রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ করা। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রদূতগণ জ্ঞানী-গুণী মানুষ তারা কূটনৈতিক শিষ্টচার এবং তাদের প্রটোকল বজায় রেখে কাজ করবেন।
কুর্মিটোলায় ভর্তির পর অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কিডনির জটিলতায় অসুস্থ অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচ সরকারকে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও ভর্তি করানো যায়নি। এই অবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে সেখানেই গৌতম আইচের মৃত্যু হয়| তার মেয়ে সুস্মিতা আইচ এ কথা জানিয়েছেন। সুস্মিতা নিজেও একজন চিকিৎসক। সুস্মিতা বলেন, কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ না থাকলেও অন্য কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কষ্টে বাবাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হল না, তিনি মারা গেলেন। আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না। যে ৩৩৩ হটলাইন নম্বর থেকে সরকার স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সুম্মিতা।মানবজমিন। গৌতম আইচ দীর্ঘ দিন ধরে কিডনির নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। বাবার অবস্থার অবনতি হওয়ার পর কোন কোন হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সহায়তা পাননি সে কথাও জানিয়েছেন সুস্মিতা। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার বাবা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কি না, তা জানার চেষ্টাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করেনি।
করোনায় দুদকের আরো এক কর্মীর মৃত্যু
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবার প্রাণ গেলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান সহকারী খলিলুর রহমানের (৫৭)। আজ শনিবার দুপুর দেড়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য খলিলুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে খলিলুর রহমানের আরেক সহকর্মী জানান, খলিলুর রহমান গত ১০-১২ দিন যাবৎ সর্দি জ্বরে ভুগছিলেন। মুগদা পাড়ায় নিজ বাসার কাছে এক ডাক্তারকে দেখান। তিনি আরো জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী টাইফয়েড চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল (শুক্রবার) থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।মানবজমিন। কোভিড টেস্ট ছাড়া কোনো হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শিশু হাসপাতালে করোনা টেস্ট করান খলিলুর রহামান। তার ওই সহকর্মী আরো জানান, করোনা পজিটিভ হওয়ায় কাল রাতেই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। সেখানে আইসিইউর স্বল্পতায় অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া শুরু করে। তিনি দুপুর দেড়টায় মৃত্যুবরণ করেন। জানা যায়, খলিলুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ঝলকাঠি জেলায়। ঢাকায় মুগদায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
বিএফইউজে-ডিইউজের যৌথসভা,দাবি পুরণ না হলে ধর্মঘট
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের জরুরি সভায় দেশব্যাপি করোনা দূর্যোগের সময় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন নোয়াব ও এ্যাটকোর ভুমিকায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে তিনজন সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও আরো অন্তত ৮০ জন গণমাধ্যম কর্মি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও ঘরে-বাইরে চিকিৎসাধীন থাকার পরেও গণমাধ্যম মালিকদের এ দুটি সংগঠন এবং সম্পাদক পরিষদের মত দায়িত্বশীল সংগঠন, দুর্দশাগ্রস্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস যোগাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু, কার্যত তা দেখা যায়নি। এমনকি করোনায় নিহত সাংবাদিকের জন্য একটি শোক বিবৃতি/বার্তা পাঠানোর মত দায়িত্ববোধও এ সব সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়নি। আজ শনিবার, ৯ মে ২০২০ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সভায় উভয় সংগঠনের নেতারা গণমাধ্যমের অগ্রগতি ও সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন। করোনার এই ভয়াবহ দুযোর্গের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, এই কঠিন সময়ে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মি ছাটাই ও বকেয়াসহ বেতন ভাতাদি পরিশোধে গণমাধ্যম মালিকেরা ব্যর্থ হলে সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্ম বিরতি পালন ও ধর্মঘটের মত কঠিন কর্মসুচীতে যেতে বাধ্য হবে। ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সঞ্চালনায় যৌথ সভায় করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে সারাদেশের সংবাদ কর্মীদের সার্বিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ ও ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের সহ সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, যুগ্মমহাসচিব আব্দুল মজিদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য শেখ মামুনুর রশিদ, নুরে জান্নাত আকতার সীমা, ডিইউজে সহসভাপতি এম এ কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুলাল খান, জনকল্যাণ সম্পাদক সোহেলী চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল, শাহানাজ পারভীন এলিস, রাজু হামিদ, ইব্রাহিম খলিল খোকন, সলিম উল্লাহ সেলিম প্রমুখ। সভায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করায় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকন মাহমুদুল হাকিম অপু, আসলাম রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্মোক্ত অভিমত ব্যাক্ত করেন ঃ- সভার প্রস্তাব: ১. করোনা মহামারিতে ব্যাপক হারে সংবাদ কর্মী আক্রান্ত হওয়া এবং অনেকের মৃত্যুতে সারাদেশের সংবাদ কর্মীসহ তাদের পরিবারে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২. ইতিমধ্যে প্রথম আলো, ইত্তেফাক, সময়ের আলো, কালের কন্ঠ, আলোকিত বাংলাদেশ, ইনকিলাব, প্রতিদিনের সংবাদ, মানবজমিন, দেশ রূপান্তর, বাংলাদেশের খবর, এটিন বাংলা, এটিএন নিউজ, এনটিভি, আরটিভি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি, দীপ্ত টিভি, বাংলাভিশন টিভি, এসএটিভি, যমুনা টিভি, মাছরাঙা টিভি, বিটিভি, ডিভিসি নিউজ, দেশ টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শতাধিক সংবাদ কর্মী আক্রান্ত। ৩. বেশীরভাগ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও কোন প্রতিষ্ঠানে আক্রান্তদের চিকিৎসা হচ্ছে না। ৪. অপরদিকে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংবাদ কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য গণমাধ্যম মালিকদের প্রতি বারবার আহবান জানানো স্বত্ত্বেও মালিকরা কর্নপাত করছে না। ৫. বরং এই মহামারিকে সুযোগ হিসেবে মনে করে আলোকিত বাংলাদেশ, জিটিভি, এসএটিভি, ইউএনবি, এশিয়ান টিভিসহ একাধিক গণমাধ্যমে ছাঁটাই, বেতন কর্তনসহ বিভিন্নভাবে সংবাদ কর্মীদেরা হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বিপুল সংখ্যক সংবাদ কর্মীদের জীবিকা অনিশ্চিত করে অনলাইন ভার্সন চালু রেখে অসাধু ধান্ধাবাজির পাঁয়তারা শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আন্ডার গ্রাউন্ড অভার গ্রাউন্ড সব একাকার। ৬. বর্তমানের এই আপৎকালে সারাদেশের সংবাদ কর্মীদের আর্থিক সহায়তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত ১ এপ্রিল ২০২০ তারিখে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। ইতিমধ্যে দেড় মাস সময় অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীকে তাগিদ দেওয়া হলে তিনি কেবল আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় এই আপৎকালিন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যূত,কর্মহীন ও ন্যায্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত সংবাদ কর্মীদের মধ্যে চরম দুঃশ্চিন্তার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রাত্যহিক জীবন যাপনসহ ঈদের সময়ে কিভাবে কি করবে এই চিন্তায় তারা দিশেহারা। সভার সিদ্ধান্ত ও দাবি: ১. করোনা মহামারির এই সময়ে প্রত্যেক গণমাধ্যম মালিককে কর্মরত সংবাদ কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ২. কোন সংবাদ কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সম্পূর্ন ব্যয়ভার গণমাধ্যম মালিককে বহন করতে হবে। এবং একই সাথে করোনা আক্রান্ত সংবাদকর্মীর পরিবারের দেখভালও করতে হবে। ৩. করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোন সংবাদ কর্মী মৃত্যুবরন করলে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রয়াত সংবাদ কর্মীর পরিবারকে নগদে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। ৪. কোন গণমাধ্যম মালিক করোনা মহামারির এই সময়ে কর্মরত সংবাদ কর্মীদের সুরক্ষায় উপরোক্ত দায়িত্ব গ্রহন ও পালনে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষতিগ্রস্ত সংবাদকর্মীর পরিবারের সদস্যরা আদালতে মামলা দায়ের করলে ইউনিয়ন তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ৫. গণমাধ্যম মালিকদেও সভার এ সব সিদ্ধান্ত সমুহ জানিয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন পদক্ষেপ গ্রহন করবে। ৬. ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তের আলোকে গণমাধ্যম মালিকরা লিখিত নোটিশ জারি করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সংবাদ কর্মীদের সুরক্ষার উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যবস্থা না করলে সংবাদ কর্মীরা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে যতটা সম্ভব দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য কোন সংবাদ কর্মীর বেতন কর্তন, ছাঁটাই কিংবা হয়রানি করা যাবে না। ৭. সংবাদ কর্মীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে তা সংরক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. এ ব্যাপারে প্রত্যেক ইউনিয়ন তার প্রতিটি ইউনিটকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য বলবে। যে সব প্রতিষ্ঠানে ইউনিট নেই সেখানে ইউনিয়ন স্বীয় বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ৯. পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সংবাদ কর্মীদের বকেয়াসহ চলতি মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা প্রদান করতে হবে। ১০. কোন গণমাধ্যম মালিক এর ব্যতয় ঘটালে সরকারকে সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন ও টেলিভিশনের প্রদত্ত্ব লাইসেন্সের শর্তাবলীর আলোকে ডিক্লারেশন ও লাইসেন্স বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। ১১. অন্যথায় ইউনিয়ন মনে করবে, সারাদেশের মেহনতি সংবাদ কর্মীদের জীবন-জীবিকাকে চরম অনিশ্চিয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ায় সরকার গণমাধ্যম মালিকদের বহুমাত্রিক স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করছে। ১২. সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনের পর ঈদের পর উপযুক্ত সময়ে এফইসির সভা/ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা পর্যালোচনা মূল্যায়নেরর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
ঈদ শপিংয়ের টাকা কর্মহীনদের দান করেন: কাদের
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদে দলীয় নেতাকর্মীদের শপিং না করে গরিব অসহায় ও কর্মহীনদের মাঝে অর্থ বিতরণ করার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার (০৯ মে) সকালে তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের, সরকারের বিরুদ্ধে কথা না বলে, এ সংকটকালে মির্জা ফখরুল ও তার দল বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে করোনা প্রতিরোধে মানবিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। এদিকে, জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'এক শ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে। কোনো ঘটনা না ঘটলেও তা রটানো হচ্ছে। এসকল গুজব ও অপপ্রচার উদ্দেশ্যমূলক।' তিনি বলেন, গুজব ও অপপ্রচার ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর। করোনা যোদ্ধাদের প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আপনারা দেশ জাতির আশার আলো, সম্মুখ সারির যোদ্ধা, সাহসিকতার সাথে কাজ করুন, আপনাদের পরিবারের সুরক্ষায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পাশেই আছে।' এছাড়া, তিনি ঈদে কেনাকাটায় সংযম ও পরিমিতিবোধ বজায় রাখার জন্য বিত্তবান ও ধণাঢ্য ব্যক্তিবর্গের প্রতিও আহবান জানান।
করোনায় দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৬৩৬ জন, মৃত্যু ৮
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া মারা গেছেন আরও ৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১৪ । দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭৭০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪৬৫ টি। নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৫২৪৭ টি। আজ শনিবার দুপুরে করোনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এদিকে গত ১০ দিনে (২৯ এপ্রিল-৮ মে) দেশে ৬৬৭২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩১৩৪ জন। এছাড়া ৮ মার্চ প্রথম শনাক্তের একমাস পর ৮ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১৮ জন। পরবর্তী একমাস ৮ মে এসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৩৪। এতে দেখা যায় গত একমাসে আক্রান্ত হয়েছে ১% এর কিছুবেশি আর এই মাসেই আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯৯%। দেশে গত ২৮ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৫৪৯ জন। এরপর ২৯ এপ্রিল ৬৪১ জন, ৩০ এপ্রিল ৫৬৪ জন, ১ মে ৫৭১ জন, ২রা মে ৫৫২ জন, ৩রা মে ৬৬৫ জন, ৪ঠা মে ৬৮৮, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬জন , ৮ মে ৭০৯ জন।

জাতীয় পাতার আরো খবর