বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
দক্ষিণখানে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূলহোতা গ্রেফতার
২২,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল আসামি চার্লস রূপম সরকারকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২১ জুন) দিনগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জানান, খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে ডিবি পুলিশ জানায়, রাজধানীর দক্ষিণ খানের মোল্লারটেকে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের (২৬) কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে খুন করা হয়। হেলালের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। ওইদিন গ্রেফতাররা হলেন- চার্লস রূপম সরকারের স্ত্রী শাহীনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (২৪) ও রূপমের শাশুড়ি রাশিদা আক্তার (৪৮)। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ডিসি মশিউর বলেন, এ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, গত ১৫ জুন হেলালের খণ্ডিত শরীর বস্তায় ভরে নিয়ে একটি অটোরিকশায় উঠছিল রূপম, এমন ভিডিও ফুটেজ আসে গোয়েন্দাদের হাতে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথম রূপমের স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশই সেবা নিয়ে জনগণের কাছে যাবে: আইজিপি
২২,জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশি সহায়তা পেতে জনগণকে এখন পুলিশের কাছে আসতে হয়। এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চাই, যাতে জনগণকে পুলিশের কাছে আসতে না হয়, বরং পুলিশই জনগণের কাছে সেবা নিয়ে যাবে। রোববার (২১ জুন) রাতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি ইউনিয়নকে একেকটি বিটে ভাগ করে প্রতিটি বিটের দায়িত্বে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করা হবে। তিনি নিয়মিত ওই ইউনিয়নের মানুষের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ইত্যাদির খোঁজ রাখবেন, প্রতিনিয়ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তাদের মতামত জানবেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধান করবেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা দেবেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিং এবং সিলেটে বিট পুলিশিংয়ের সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব এলাকায় বিট পুলিশিং সফল হয়েছে। আমরা সারাদেশে বিট পুলিশিং চালু করতে চাই, মানুষের কাছে যেতে চাই, মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই। বর্তমান করোনাকালে পুলিশের সেবার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনার সময় জনগণকে আমাদের কাছে আসতে হয়নি। আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, তাদের পাশে থেকেছি, তাদের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়েছি, জীবন বিলিয়ে দিয়েছি। তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছি, যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি, তাদের ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির আপনজনরা যখন কাছে আসেনি তখন আমরা তার দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছি। এসব আমাদের দায়িত্ব ছিল না, কিন্তু আমরা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজটি করেছি। প্রধানমন্ত্রী এ ভূমিকার জন্য আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশবাসী আমাদের প্রশংসা করছেন। দেশের জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিরা আমাদের পক্ষে কলম ধরেছেন। আমরা মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে পেরেছি। তিনি বলেন, একদিন করোনা থাকবে না, তখনও মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ধরে রাখার জন্য আমাদের নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে একযোগে কাজ করতে হবে। আইজিপি বলেন, মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সেরও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে কোনো পুলিশ সদস্য চাকরিরত অবস্থায় নিহত হলে অথবা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ও তার পরিবারকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। আমরা চাকরিরত অবস্থায়ই পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চাই। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ অন্য সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে তারা নির্বিঘ্নে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা শুধুমাত্র থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হিসেবে তৈরি হতে হবে। আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে আত্মদানকারী পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং যারা অসুস্থ রয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
করোনার সময় অনুমান নির্ভর ওষুধ মজুদ করবেন না : ওবায়দুল কাদের
২১,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনার এই উদ্বেগের সময় অনুমান নির্ভর কোন ওষুধ মজুদ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকে আতঙ্কে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসাবাড়িতে মজুত করছেন। অনুমান নির্ভর ওষুধ মজুদ করছেন। যে টা আপ্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ মজুদ এবং ব্যবহার হিতে বিপরিত হতে পরে। ওবায়দুল কাদের আজ রোববার তাঁর সংসদ ভবন এলাকাস্থ সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ আহবান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিনা প্রয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করে রেখে দেওয়ার ফলে অনেক মৃত্যুপথযাত্রী রোগী অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই ধরনের অনুমান নির্ভর সিলিন্ডার মজুদ করার মতো স্বার্থপর ভাবনার চেয়ে করোনা প্রতিরোধে মনোনিবেশ করুন। করোনা টেস্টের রিপোর্ট দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, করোনা টেস্ট করতে এবং রিপোর্ট পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছে, আবার কাউকে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে নমুনা গ্রহন স্বল্পসময়ে রিপোর্ট প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীদের সেবায় প্রশংসনীয় কাজ করলেও এখনও অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও ঠিক মতো হচ্ছে না বলেও রিপোর্ট আছে। এ সময়ে তিনি হাসপাতাল, মালিক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের এ কঠিন সময়ে ব্যবসার চাইতে মানবিকতাকে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনায় অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাণ হারিয়েছেন, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অধিক সংখ্যক মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশ ও জাতির এই কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগই ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো সংকটে মাটি ও মানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাহসী সৈনিক, মুজিবাদর্শের যোদ্ধারা শেখ হাসিনার নির্দেশে ঝাপিয়ে পড়ে আর্তমানবতার সেবায় এবারও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। করোনার এ সংকটে মিডিয়া তথা গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন ভাতা অব্যহত রাখার জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি দেশ ও জাতির এই কঠিন সময়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের সাধ্যমত উদারতা প্রদর্শনের আহবান জানান।
করোনার মধ্যেও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
২১,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার করোনা ভাইরাসের মধ্যেও উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তারপরেও অন্ততপক্ষে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে, ধারবাহিকতটা বজায় রেখে উন্নয়নের মূল গতিটা ধরে রাখার। যে কারণে আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির (একনেক) নিয়মিত সভার প্রারম্ভিক ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভার সঙ্গে সংযুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত ভাষণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশবাসীর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর ও পুণরায় গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশবাসীকে আমি এই অনুরোধ করবো যে, সবাই স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলবেন। কারণ, জীবন চলতে থাকবে, এটি স্থবির থাকতে পারে না। তারপরেও স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার জন্য সকলকে আমি আহ্বান জানাব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বেই আজ এই সমস্যাটা চলছে। কাজেই এর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ যাতে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেটাই আমরা চাই। তাঁর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সাংসদসহ দেশে এবং প্রবাসে করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি এবং এর কবল থেকে সকলের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা আমাদের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যসহ দেশে ও প্রবাসে অনেককে হারিয়েছি। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এই দোয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দেন।
২৮০ এমপির জন্য বরাদ্দ ৬৪৭৭ কোটি টাকা, ১০ প্রকল্প অনুমোদন
২১,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে দেশের ২৮০টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা (এমপি) বরাদ্দ পাবেন ৬ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৮০ এমপি বরাদ্দ পাবেন। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৯ হাজার ৪৬০ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক-এর চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রোববার (২১ জুন) গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত থাকবেন। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলেও আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমপিরা তৃতীয়বারের মতো বরাদ্দ পাচ্ছেন। এ দফায় বরাদ্দের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে তারা এলাকার রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, হাটবাজার ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারবেন। তবে একবারে নয়, চার ভাগে প্রতিবছর পাঁচ কোটি টাকা করে এই টাকা বরাদ্দ পাবেন তারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে করোনা সংকট মোকাবিলায় অবদান রাখবে। সাধারণত গ্রামীণ এলাকায় প্রকল্পের কাজ হবে। তৃতীয় দফায় এই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ৩০৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৩৬০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন, ৫ হাজার ৭৫ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক উন্নয়ন, এক হাজার ৯০ কিলামিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ৭ হাজার ৯৯২ মিটার গ্রামীণ সড়কে (১০০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের) সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এমপিদের জন্য এটি তৃতীয় ধাপের বরাদ্দ। এর আগে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রত্যেক এমপি নিজ আসনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এসময় ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এটি ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালে জুনে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে নিজ নিজ আসনের জন্য এমপিরা আরও ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পান। এসময় ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে ওই প্রকল্প চলমান। দেশে সংসদীয় আসন ৩০০টি হলেও এই প্রকল্পের আওতায় থাকছে ২৮০টি আসন। মূলত দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে, সেই আসনগুলোকে এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী এমপিদেরও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো- জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (দ্বিতীয় সংশোধিত), মনু নদীর ভাঙন থেকে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা, বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (পটুয়াখালী ও বরগুন জেলা) (দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং হাওড় অঞ্চলে টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। জামালপুর জেলা কারাগার পুনর্নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন) (প্রথম সংশোধিত) টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ (হরিদাসপুর)-মোল্লাহাট (ঘোনাপাড়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিএএফও বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং যশোর (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি
২১,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তিনি কিছুদিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার (২১ জুন) দুপুরে সাহারা খাতুনের ভাগ্নে মজিবর রহমান এ কথা জানান। তিনি বলেন, উনার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি এখনো আইসিইউতেই আছেন। শুক্রবার যখন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় তখনকার চেয়ে এখন তিনি ভালো আছেন। এখন তিনি কথা বলছেন। তার প্রেসার স্বাভাবিক আছে এবং ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২ জুন জ্বর-অ্যালার্জি ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থবোধ করলে সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। পরে তাকে বেডে দেওয়া হয়। ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) তার শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় আসছে আরও ৩ লাখ দরিদ্র পরিবার, বাড়ছে মেয়াদ
২১,জুন,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসচ্ছল পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে দেশব্যাপী চলছে একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প। করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রকল্পের আওতায় আরও ৩ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ৫২ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ লাখ পরিবারকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা। প্রকল্পের লক্ষ্য এখনো অর্জিত না হওয়ায় বাড়ানো হচ্ছে মেয়াদ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল নির্ধারিত ছিল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২ লাখ পরিবার ইতোমধ্যে সুফল পেয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদের বাকি ১০ দিনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। ফলে আবদার করা হয়েছে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর। পরিকল্পনা কমিশনে ব্যয় ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। প্রস্তাবনার ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি সভাও। জানা যায়, দ্রুত সময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে একনেক সভায়। একটি বাড়ি, একটি খামারের উপ-প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) নজির আহমেদ বলেন, প্রকল্পের টার্গেট ৫৫ লাখ পরিবারকে সুফলভোগী করা। কিন্তু এখনো তিন লাখ বাকি আছে অথচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। তাই আরও এক বছর সময় আমাদের লাগবে। বর্তমানে কোভিড-১৯ মোলাবিলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটি তৃতীয় বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। আর সংশোধনের সুযোগ নেই। অথচ লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য একই ধরনের আরও একটা প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে সংশ্লিষ্টরা। দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী তহবিলের ব্যবস্থা করা। ওই তহবিল আয়বর্ধক কাজে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করতেই আবারও এমন উদ্যোগ। প্রকল্পের আওতায় ৫৪ হাজার ভিক্ষুক পুনর্বাসন কাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পটি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, তৃণমূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা, তাদের সঞ্চয়ে উৎসাহ দেওয়া, সদস্য সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেওয়া, সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। এছাড়া রয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পুঁজি গঠনে সহায়তা করা ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প হাতে নেয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রকল্পটি ফের চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় ৪৮৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। ওয়ার্ডগুলোর অধীনে প্রতিটি গ্রামে ৬০টি গরিব পরিবারের সমন্বয়ে একটি গ্রাম-উন্নয়ন সমিতি গঠন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৫২ লাখ দরিদ্র পরিবার এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সমিতি থেকে একজন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। পূর্বের ঋণ পরিশোধ করার পর পুনরায় নেওয়া যাবে ঋণ।

জাতীয় পাতার আরো খবর