হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার-রাষ্ট্রপতি
হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদানে পুলিশের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান। রাষ্ট্রপতি এম আব্দুল হামিদ সেবা প্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হয়রানি মুক্ত সেবা পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ কথা বিবেচনায় রেখে জনগণের জন্য হয়রানি মুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নৈশ ভোজসভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ সাধারণত থানা অথবা পুলিশের কাছে যেতে চায় না। তারা খুব অসহায় হয়ে পড়লেই তখন বাধ্য হয়ে পুলিশের সাহায্য নেয়। সারাদেশে তৃণমূল পযার্য়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশের ওপর যখন জনগণের পূর্ণ আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তাদের দুঃসময়ে কাংক্ষিত সেবা পাবে, তখনি তারা মনে করবে পুলিশ তাদের বন্ধু। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে, অপরাধীদের আটক করতে এবং স্পর্শকাতর মামলার চার্জ শিট দ্রুত প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিঘিত হলে উন্নয়ন থেমে যাবে, মানুষ অনিরাপদ বোধ করবে, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে সাইবার অপরাধ বাড়ছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার তরুণদের অপরাধের দিকে ধাবিত করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে যে, দেশ ও দেশের মানুষের আকাংখা পূরণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নৃশংসভাবে নিহত পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগী লোকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এমপি, জননিরাপত্তা বিভাগের সচি মোস্তফা কামার উদ্দিন, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫এর আয়োজক দেশ হতে সমর্থন চেয়েছে ফ্রা
ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক দেশ হতে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে ফ্রান্স। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই সমর্থন চান ফ্রান্স সরকারের বিশেষ দূত ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লামি। এ সময় তাঁকে এ বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম। এ সময় কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন প্যাসকেল লামি। আর ফ্রান্স সফরের সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার করে ব্লু ইকোনমিতেও অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছে। এ জন্য ফ্রান্সের সহায়তাও চান প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক হতে চায় আরো তিনটি দেশ। এগুলো হলো জাপান, রাশিয়া ও আজারবাইজান। চলতি বছরের নভেম্বরে ব্যুরো ইন্টারন্যাশনাল দেস এক্সপজিশনসের ১৬৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়োজন দেশ নির্বাচনে ভোট দেবে সংস্থার ১৭০ সদস্য রাষ্ট্র। আর এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোন দেশ ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক হবে, সে বিষয়টি।
১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু রাষ্ট্রপতির সূচনা ভাষণের মধ্যদিয়ে
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালী জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদানদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষে এবং দলমতপথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরাম্বিত করার মধ্য দিয়ে আসুন আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার ১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা দিনে প্রদত্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী- সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় কালো হাল্কা এ্যাশ কালারের স্যুট-প্যান্ট ও লাল টাই পরিহিত রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের সময় বিউগলে তার আগমনী বার্তা বাজানো হয়। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ সময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অধিবেশনে প্রবেশ করেই রাষ্ট্রপতি স্পীকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ৬টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ১৫৭ পৃষ্ঠাব্যাপী ভাষণের সংক্ষিপ্তসার তাঁর ভাষণে উত্থাপন করেন। টানা প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের ভাষণের সময় মাঝে মাঝেই সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তুমুল টেবিল চাপড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে উজ্জীবিত রাখেন। ভিভিআইপি লাউঞ্জেও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং ও সামরিক- বেসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গত চার বছরের উন্নয়ন-সফলতাগুলো বিস্তারিতভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। টেবিলে উত্থাপিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি সংসদীয় কার্যক্রমে পঠিত বলে গণ্য করা হয়। ভাষণ শেষে বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। এরপর স্পীকার সংসদ অধিবেশন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালিনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রূপকল্প- ২০২১দিন বদলের সনদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে- বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সফল হবে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দারিদ্র্যনিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় গড়ে বার্ষিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশে পৌঁছবে। সহরাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)র অনর্জিত লক্ষ্যসমূহ শনাক্তকরণসহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে তা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সকল পরিকল্পনার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণ। সরকার কর্তৃক এ সকল কার্যক্রম গ্রহণের ফলে জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে এবং বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। সংসদ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অর্ভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, প্রগতি এবং মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশকে নিরপেক্ষতার মূর্ত প্রতীক হতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সর্বোত্তম আইনগত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্য স্বীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সেবা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট হবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন। আগামীকাল ৮ জানুয়ারি থেকে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। বাণীতে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতিশ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযোজন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত নতুন নতুন ইউনিট গঠনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা পুলিশ এন্টি টেররিজম ইউনিটগঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিনিয়ত নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে ধারণ করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশবাহনীর সদস্যগণ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে: পলক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শনিবার দুপুরে সিংড়া উপজেলার নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শিক্ষা আর প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের কার্যকরি উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের কৃষি এখন অনেক সমৃদ্ধ। কৃষকেরা এখন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। গ্রামীণ জনপদ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। মন্ত্রী বলেন, এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া দমদমা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আশরফুল ইসলাম তারা, রবীন্দ্র গবেষক ড. আশরাফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন।
বুলেটের মাধ্যমে নয়, ব্যালটে ক্ষমতা বদল হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন বলে অভিযোগ উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনভাবেই ভোটারবিহীন ছিল না। শত বাধা ও খালেদা জিয়ার জ্বালাও-পোড়াও এবং আগুনে শত শত মানুষ হত্যার মধ্যেও শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে বলেই আমরা আজ সরকারের চতুর্থ বছর পূর্ণ করছি। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই নির্বাচিত। খালেদা জিয়া ওই সময় দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই যেন না থাকে সেই চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রই করেছিল। কিন্তু জনগণ তা সফল হতে দেয়নি। নির্বাচন হয়েছে বলেই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে আরও বলেন, বিএনপি এখন কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। অনেকে বলে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে। তারা জনগণকে গণতন্ত্র দেয়নি। গণতন্ত্র দিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, আলবদর, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে? কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেব তার লেখা বইতেই সবকিছু লিখে গেছেন। যে দলটির জন্মই অবৈধভাবে সেই দলটির নেতারা গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান কীভাবে? ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা যেনতেনভাবেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলার চেষ্টা করেন। এই নির্বাচনকে বানচাল করার নামে খালেদা জিয়ারা নির্বিচারে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, শত শত ভোট কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারকে পর্যন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু এত বাধার মধ্যেও জনগণ সবকিছু প্রতিহত করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ চার বছর ক্ষমতায় আছে। এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কই ৮৮ সালে এরশাদ তো ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। জনগণের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানসিক সমস্যা দেখা দিল কি-না, সেটাও বলতে পারছি না। পরীক্ষা করে দেখা দরকার, তার মাথা ঠিক আছে কি-না। পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। খালেদা বলেছেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। তিনি মানুষকে পদ্মা সেতুতে উঠতে মানা করেছেন। আমরা দেখব, খালেদা এবং বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠেন কি-না। খালেদা জিয়া অনবরত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মহিলা কত মিথ্যা কথা বলে। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব কিছু মিথ্যাতে ভরা। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সব কিছু নকল। মিথ্যা কথা বলে, সবকিছু মিথ্যা ও জালিয়াতি করে। এখন আবার বলছেন, আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আনা সাবমেরিন ফুটো হয়ে গেছে। এটা পানির নিচে ডুবে গেছে! সেনাবাহিনীর বউ (খালেদা জিয়া) হয়েও এটা বোঝেন না যে, সাবমেরিন ডুবে যায় না, এটা পানির নিচে যায়। জানি না এই কথা শোনার পর আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা কী বলবেন। আর দেশের জনগণই বা কী বলবে। বুঝতেছি না, তার মাথায় কিছু আছে কি না। তিনি বলেন, খালেদা শুধু একটা বিষয়ই ভাল বোঝেন তা হলো লুটপাট, অর্থ বানানো, ধ্বংস, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা। তিনি এগুলোই কেবল বোঝেন, আর কিছু বোঝেন না। খালেদা জিয়ার টুইট বার্তার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া টুইট করেছেন, আওয়ামী লীগ বুলেটে বিশ্বাস করে, আর তিনি ব্যালটে বিশ্বাস করেন! আমি ৮১ সালে দেশে ফিরে বলেছিলাম, ক্ষমতা বদল হবে বুলেটে নয়, ব্যালটে। বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তার স্ত্রী তার থেকে আরও একধাপ এগিয়ে দেশ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বুলেটে-বন্দুকের নলে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের মুখে এ কথা শোভা পায় না। আর জানি না, টুইট তিনি নিজে লিখেছেন, নাকি কাউকে দিয়ে লেখিয়েছেন, সন্দেহ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে এনে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনী হুদা যার ফাঁসি হয়েছে, সেই হুদাকে পর্যন্ত এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। ভোটারবিহীন নির্বাচন জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাই করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেয়া উকিল নোটিসের জবাব দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার গোটা পরিবারের সম্পদের হিসাব বের করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। আর এটা বললাম কেন, এজন্য আমাকে নোটিস দেন। এ রকম নোটিস বহু দেখেছি। সময়মতো এই নোটিসের জবাব দেব। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি সৎসাহস থাকে, সত্যি কোন অপরাধ করে না থাকেন, যেসব মিডিয়া খবর দিয়েছে, তাদের নোটিস দিন। তাদের প্রতিবাদ জানান। তাহলে বোঝা যাবে, সততার একটা শক্তি আছে। তিনি সেটাও পারেননি। এ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার গোটা পরিবারের সম্পদের যে হিসাব এসেছে, তা তো বাংলাদেশের কেউ বের করেনি। এটা তো আন্তর্জাতিকভাবে বেরিয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া বের করেছে। সেখান থেকে খবর এসেছে। সেই কথাটি বললাম কেন, এজন্য আমাকে আবার নোটিস দেন। নোটিস আমাকে দেবেন কেন? যেসব মিডিয়া এগুলো বের করেছে, যেসব দেশের সরকার এই তথ্যগুলো দিয়েছে, সেখানে তো নোটিস দিতে যাননি। সেখানে নোটিস দিয়ে বা তাদের কাছে প্রতিবাদ জানালে না হয় সত্যতা বুঝতাম। সব অন্তর্জ্বালা আমাকে দিয়ে মেটাতে চান বিএনপি নেত্রী। কারণ তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে যতগুলো ভাষণ রয়েছে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক জ্যাকব এফ ফিল্ড বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ ভাষণ নিয়ে গবেষণা করে একটি বই বের করেছেন। ওই বইয়ে আড়াই হাজার ভাষণের মধ্যে মাত্র ৪১টি ভাষণ স্থান পেয়েছে। আর ওই ৪১ ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই শ্রেষ্ঠ ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজহিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও মর্যাদার বিষয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন। দেশকে গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই বাঙালীর জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে। তিনি বলেন, পরাজিত পাকিস্তানসহ আমাদের স্বাধীনতার যারা বিরোধী ছিল সেসব বড় বড় দেশের পাশাপাশি একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় শত্রুরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে আবার পিছিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা যদি বেইমানী, মোনাফেকী ও গাদ্দারি না করত তবে পাক হানাদারদের পক্ষে এতো শহর-বন্দর-গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া বা গণহত্যা চালানো সম্ভব ছিল না। সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী নির্বাচন, সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে দলকে শক্ত সাংগঠনিক শক্তির ওপর দাঁড় করানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের মেয়াদের চতুর্থ বর্ষ পূর্তির দিনটি জাঁকজমকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
দশম জাতীয়সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিবেন রাষ্ট্রপতি
দশম জাতীয় সংসদের উনবিংশতম এবং বছরের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী রবিবার। বিকাল ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণের পর সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এর পর অধিবেশন শুরু হলে প্রধান হুইপ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনবেন। পরে সংসদ সদস্যরা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন। সাধারণত বছরের শুরুর অধিবেশনে দিন এরকম ঘটলেও গত বছরের মতো এবারও কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। প্রতিবারের মত এবারও মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়বেন রাষ্ট্রপতি। এই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদে বছরের শুরুর অধিবেশনে শেষ ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি হয়। সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদের মৃত্যুতে অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাংবিধানিক নিয়ম। তাই শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় সংসদে ভাষণ দেবেন আবদুল হামিদ। ২০১৬ সালে গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুর কারণে অধিবেশন কিছুক্ষণ মুলতবি করা হয়। পরে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে বিএনপিবিহীন দশম সংসদ। রবিবার অধিবেশন শুরুর আগে বিকাল ৩টায় সংসদের কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বসবে কার্য উপদেষ্টা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশ নেবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের উত্তর প্লাজা দিয়ে আইন সভায় প্রবেশ করবেন, যা প্রেসিডেন্ট প্লাজানামেও পরিচিত। ৬৫ হাজার বর্গফুটের এই জায়গা মূলত রাষ্ট্রপতির প্রবেশের জন্য তৈরি করা। প্রায় ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এখান দিয়ে সংসদে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ জানুযারি এই জায়গা দিয়ে সংসদে ঢোকেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ওই দিন নবম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সংসদ সচিবালয়ের ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস স্কোয়াড্রন লিডার সাদরুল আহমেদ খান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবার নর্থ প্লাজা দিয়ে সংসদে ঢুকতে পারেন। একারণে পুরো নর্থ প্লাজায় সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি সংসদে ঢোকার সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদ্যদল রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষন জানাবে। উত্তর প্লাজার ফ্ল্যাগ স্টান্ড থেকে তিনতলার বিশেষ লিফটপর্যন্ত বিছানো থাকবে লাল গালিচা। বিশেষ লিফটে করেই সংসদ ভবনে সাত তলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবেন আবদুল হামিদ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবার স্পিকারের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়েই তার ভাষণ দিতে পারেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে শনিবার দুপুরের কুষ্টিয়া যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রবিবার সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে সংসদে যাবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ড এই তিন দেশের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন, চলছে প্রস্তুতি
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন। এই তিন দেশের প্রেসিডেন্টের সফর নিয়ে এখন প্রস্তুতি চলছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন। আর ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রং তান সাং ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এ্যালেন বার্সেট আগামী মাসে আসছেন। তিন দেশের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর হবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। আর আগামী মাসে ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সফরটি হতে পারে। শীর্ষ পর্যায়ের এসব সফর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায়ও যেতে পারেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এল মারসুদি। তখন তিনি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তার দেশের প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো তাকে তিনটি বার্তাসহ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শরণার্থী সমস্যার কারণে বাংলাদেশের ওপর যে বোঝা চেপেছে তার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে সহমর্মিতা জানানো, বাংলাদেশের জন্য সহায়তা করতে ইন্দোনেশিয়া যে তৈরি আছে সেটা জানানো এবং বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা। এর আগে ২০১২ সালের নবেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিয়েতনাম সফর করেন। সে সময় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রং তান সাংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন। এদিকে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে তৎকালীন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় তিনি সুইস প্রেসিডেন্টকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান। তবে নানা কারণে তিনি আসতে পারেননি। এখন চলতি বছর নতুন সুইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এ্যালেন বার্সেট। তারই সফরের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে চলতি বছরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশ কিভাবে মোকাবেলা করবে এবং বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান কি হবে সেটা নিয়েও ব্যাপক তৎপর রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, জনশক্তি রফতানির অগ্রগতিসহ সার্বিক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশী কূটনীতিকদের চলমান ও সম্ভাব্য তৎপরতার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে চলতি বছর বাংলাদেশে এসব শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
দাবি মেনে নেয়ায় নন-এমপিও শিক্ষকদের উচ্ছ্বাস
এমপিওভুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পর অবশেষে ছয়দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া আমরণ অনশন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষকরা। নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান নিয়ে ছয়দিন ধরে অনশন করছিলেন তারা। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সম্মতি ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাস পেলেও আন্দোলন প্রত্যাহার না করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন শিক্ষকরা। এ অবস্থায় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, মাউশির মনিটরিং বিভাগের পরিচালক প্রফেসর সেলিম মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেন, নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আপনাদের কাছে তারবার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য। তিনি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অনশন ভেঙ্গে যার যার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য। শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন নন-এমপিও শিক্ষকদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। পরে শিক্ষা সচিব জানান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় শিক্ষকরা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে নানা সেøাগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান শুক্রবার বিকেলে অনশনস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিষয়টি জানালে তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে উনার একান্ত সচিব সাজ্জাদ সাহেবকে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সাজ্জাদ সাহেব আমাদেরকে মেসেজ দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আমরা অনশন ভঙ্গ করে কর্মসূচী প্রতাহার করেছি। ছয়দিনের অনশনে অর্ধশতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসাও দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙ্গার পর আনন্দে মেতে ওঠেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আন্দোলন আমরা প্রত্যাহার করেছি। সকলে কাজে ফিরে যাচ্ছেন। গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশনস্থল ছাড়িনি। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচী প্রত্যাহার করিনি। আমরা এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চেয়েছিলাম সেটি পেলাম। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা শনিবার (আজ) থেকেই ক্লাসে ফিরব, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনব। আশা করি, নন-এমপিও সব স্কুল এবার এমপিওভুক্ত হয়ে যাবে। আমরা জানতে পেরছি, ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরুও হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলে আসছিলেন সরকারের কাছ থেকে অর্থ পেলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের কোন অসুবিধা নেই। ২ জানুয়ারি শিক্ষকদের অনশন ভাঙাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, অনেক চেষ্টার পর তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পেরেছেন। এবার নীতিমালা করে এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সোয়া পাঁচ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মতি অনুসারে ইতোমধ্যেই নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত এমপিও নীতিমালার খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন চাওয়া হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করা হবে। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিও প্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি)। এ মুহূর্তে থোক বরাদ্দ পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। ছয় মাস পর ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেটে আরও আড়াই হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী ভাল ফল, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচন করা হবে। ২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর আর কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে আছে। এমপিও সংক্রান্ত মাউশির করা প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সারাদেশের এমপিওবিহীন সাত হাজার ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা লাগবে। তবে জাতীয়করণে অযোগ্য-মানহীন প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ যেমন আছে তেমনি যেনতেনভাবে গজিয়ে ওঠা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা নিয়েও আছে অনেক অভিযোগ। অভিযোগের অন্যতম কারণ; অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান এবং এর অযোগ্য-মানহীন শিক্ষক। যাদের প্রায় প্রত্যেকের নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করার মাধ্যমে শিক্ষার স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হবে তা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আজকের এ অবস্থানের জন্য দায়ী যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান অনুমোদন। তাই যেখানেসেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর