আওয়ামী লীগ পেল নিজস্ব ভবন
স্বাধীনতা-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভবন পেলো। দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নতুন দশতলা ভবন হচ্ছে আওয়ামী লীগের স্থায়ী ঠিকানা। ৮ কাঠা জায়গার উপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বমানের দলীয় কার্যালয়টি। পুরো কার্যালয়টি ওয়াইফাই জোনের আওতায়। আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নতুন ভবনে দলীয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। দলের সভাপতির কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বিশ্রামাগার ও নামাজের জায়গা। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক লাউঞ্জ, ডরমিটরি ও ক্যান্টিন থাকছে। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। এছাড়াও দুটি স্বতন্ত্র কার পার্কিং, একাধিক লিফট, সিঁড়ি, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। জানা গেছে, ভবনটির ছয় বা সাততলা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলালীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস থাকবে। আওয়ামী লীগের পুরনো অফিস ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের চারতলা ভবনটি লিজ গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয় ২০১১ সালে। এর পর দলটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল নতুন কার্যালয়ের নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই পুরনো স্থাপনা ভাঙা শুরু হয়। রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ১০ তলা আধুনিক কার্যালয়টির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের ২৩ জুন। কার্যালয়ের সামনে স্টিলের বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। পাশেই দলীয় প্রতীক নৌকা। সবার উপরে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এরপর রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ম্যুরাল। দুই পাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ভবন উদ্বোধনের পর আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম চলবে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর এ কার্যালয় থেকে। আর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে দলের নির্বাচনী কার্যক্রম ও সিআরআইসহ দলের অন্যান্য সংস্থার গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ভবনটির সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’, চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা। ভবনের সামনে-পেছনে ছেড়ে দেয়া জায়গায় হবে বাগান। এ ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয়তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর ৪ হাজার ১০০ বর্গফুট। চতুর্থতলা থেকে উপরের সব ক’টি ৩ হাজার ১০০ বর্গফুটের। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আওয়ামী লীগের নতুন ভবন উদ্বোধন দলের নেতাকর্মীদের বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ খরচ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
চলে গেলেন নিউজ একাত্তর ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক নূরুল ইসলাম ভূইয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি,ঢাকা:দির্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর বার্ধক্যজনিত কারণে গত ২২ জুন শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিকেল ৫.৩০ মিনিটের সময় মৃত্যু বরণ করেন মো:নুরুল ইসলাম ভুইয়া (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বৎসর।তিনি দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার সাবেক সহ সম্পাদক ও পরবর্তীতে অনলাইন দৈনিক নিউজ একাত্তর ডট কম এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেছেন। তাহার মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন শোক জানিয়েছেন। তাহার অকাল মৃত্যুতে নিউজ একাত্তর ডট কম এর পক্ষ থেকে শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
এখানে কোনও একদলীয় শাসন নেই
দেশে বাকশাল পদ্ধতি হওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠে না। সাংবিধানিক ক্ষেত্রে তার বাস্তব রূপও নেই। গণতান্ত্রিকভাবে বিএনপিসহ সকল দল সুযোগ গ্রহণ করছে। এখানে কোনও একদলীয় শাসন নেই। বললেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে মতবিনিয়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সামরিক সরকারের আমদানি করা জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত, আগুন সন্ত্রাসী এবং তাদের বন্ধু বিএনপি এই পাঁচ দানব রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক বিপজ্জনক। এদেরকে কিভাবে রাজনীতি এবং ক্ষমতার রাইরে রাখা যায় সেটা নিয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে। নির্বাচনে আসা বা না আসা নিয়ে কোনও আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। কৌশল হিসেবে নির্বাচনের নামে ওই পাঁচ দানব গণতন্ত্রের টুপি পরে মিথ্যাচারকে বেছে নিয়েছে। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরানী ফেরদৌস দিশা, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী প্রমুখ।সুত্র আর টিভি
কৃষিবিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা বাড়াতে হবে
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী দেশীয় ফলজ উদ্ভিদের জাত সুরক্ষার পাশাপাশি বিদেশি উন্নত ফল চাষের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে আরও গবেষণা বাড়ানোর জন্য কৃষিবিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ (২২ জুন- ৬ জুলাই) এবং জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৮ এর (২২-২৪ জুন) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এই আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশীয় ফলের জাতের সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদেরকে বিদেশি উন্নত ফলের উৎপাদন বা চাষের ক্ষেত্রে খাপ খাওয়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া মে থেকে মধ্য আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে দেশে প্রায় যে ৬০ ভাগ ফল পাওয়া যায় তার সময়সীমা যাতে বাড়ানো যায়, সেজন্য কৃষিবিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা বাড়াতে হবে।’ ‘অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২২ জুন থেকে ৬ জুলাই দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী-২০১৮।
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি
ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারের চেহারাও দেখেননি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। অথচ খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাচ্ছেন, সঙ্গে কাজের মেয়েও পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন আমি কারাগারেই মারা যাই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ছিলেন। তার স্ত্রী হিসেবে তিনিও সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু উনি গোঁ ধরে বসে আছেন তার ইচ্ছে অনুযায়ী চিকিৎসা নেবেন। এটা কখনোই হতে পারে না। এ সময় মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ারকে সমর্থন করেন এরশাদ। বলেন, মাদক দমন করতে গিয়ে কিছু লোক যদি মারা যায় তা গ্রহণ করা উচিত। যদিও আমি বিনা বিচারে মৃত্যু সমর্থন করি না। তারপরেও যারা মাদক ব্যবসা করে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে তাদের মৃত্যুতে আমাদের কোনও শোক নেই। আসন্ন গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এরশাদ। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়ী।
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংলাপ নয়
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংলাপ নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে; কিন্তু বিএনপি কি চায় তা তারা নিজেও জানে না। আজ শুক্রবার সকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি কেউ অহেতুক রঙিন স্বপ্ন দেখতে চায় তা সফল হবে না। এসময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীকাল শনিবার দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বর্ধিত সভা করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিন সিটি নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ বর্ধিত সভার। এতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আপনারা নির্বাচন থেকে পালাবেন না,বিএনপিকে হাছান মাহমুদ
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির দেশ ছেড়ে পালাতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপিই বরং নিজেদের পরাজয়ের কথা বুঝতে পেরে নির্বাচন থেকে পালাতে চাচ্ছে। আপনারা নির্বাচন থেকে পালাবেন না। গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছেন এবার তা করবেন না। হয়তো আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির দেশ ছেড়ে পালাতে হতে পারে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে অনেকেই রাজনৈতিক কারণে কারাগারে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কারণে কারাগারে যাননি। বিএনপি নেত্রী দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের নেত্রী নন। তিনি হলেন সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর ঘৃণার নেত্রী।
বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত
ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও ত্রিশালে পুলিশের সাথে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মাদক ব্যবসায়ী ছিল। এসময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে। নিহতরা হলো- তারাকান্দা উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী আলী হোসেন (৪৩) ও ত্রিশাল উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া (৪০)। আলী হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি-ডাকাতি ও মাদকসহ কমপক্ষে ২৫টি মামলা এবং স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানায়, রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সদরের ফুলপুর সড়কের পাশে কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ী মাদকের চালান নিয়ে ভাগাভাগি করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল এবং তারাকান্দা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুঁলি ছুঁড়লে এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশীকালে আলী হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলী হোসেনের নামে ডাকাতি চুরি পুলিশের উপর আক্রমণসহ ২৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা, ২টি বড় ছোড়া উদ্ধার করে। অপরদিকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সড়কের একটি পরিত্যক্ত ঘরে কয়েকজন মাদক ব্যাবসায়ীর অবস্থান টের পেয়ে ঘেরাও করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্বপন মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউল ইসলাম জানান, নিহত স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে আহত জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই সেলিম এবং তারাকান্দা থানার এসআই খন্দকার মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরকারের আর মাত্র ৯৯ দিন, মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন শেখ হাসিনা
বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ৯৯ দিন। এরপর অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। সে মন্ত্রিসভার আকার খুব ছোট হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকালীন সরকার নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত বা উন্নয়নমূলক কাজেও হাত দেবে না। তারা নিয়মিত কাজ পরিচালনা করবেন। সে কারণে এই ৯৯ দিনের উন্নয়ন কাজ ও দলকে সুসংগঠিত করার মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিসাব মতে, আগামী ৩১ অক্টোবর থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যাবে। এ অবস্থায় সরকারি মহলে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২৭ ডিসেম্বরকে ভোট গ্রহণের দিন হিসেবেও বেছে নেওয়া হতে পারে। তফসিল ঘোষণা হতে পারে নভেম্বরে। গত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। গেলবারের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা হবে। তবে এ বিষয়ে সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেবে। সেভাবেই ঠিক হবে নির্বাচনী মূল স্লোগান। নির্বাচনী ইশতেহারও সেভাবে ঠিক করা হচ্ছে। দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে আবারও মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যেসব জেলায় তিনি এখনো যাননি, সেসব জেলাকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগ ও জেলা সফরের শিডিউল মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাস্টার প্ল্যানকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিন তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের কথা শুনবেন। এ জন্য আগামী শনিবার গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় তিনি জেলা-উপজেলা নেতাদের মতামত শুনবেন। সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এরপর ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে তৃণমূলকে উজ্জীবিত করতে কমপক্ষে ২০টি জেলায় নির্বাচনী জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তী ৩০ দিনে জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি এবং দলীয় প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে মাঠে নামানো হবে। তরুণ ও নারী ভোটারদের কাছে টানতে যুগোপযোগী ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। ১২ লাখ পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি এবং নির্বাচনী সব ধরনের প্রস্তুতি সারতে চায় এই সময়েই। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ২৩ জুন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেবেন। প্রার্থী যেই হোক, নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেবেন তিনি। এতে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতা যারা এমপি বা মন্ত্রী নন, তারা জুলাই মাসজুড়ে ব্যস্ত থাকবেন সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচন নিয়ে। আর যারা এমপি-মন্ত্রী রয়েছেন, তারা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় সাংগঠনিক সফরে ব্যস্ত সময় পার করবেন। অক্টোবরের আগেই জরিপ, মাঠ পর্যালোচনা ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে, এমন প্রার্থীদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। জানা গেছে, জুলাই থেকে শুরু হবে ১২ লাখ পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণের কাজ। এ কাজের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশব্যাপী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অক্টোবরের আগেই তা পূর্ণাঙ্গ করার টার্গেট রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যেই ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন বণ্টন শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন জেলা ও বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাতীয় পাতার আরো খবর