শীতে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলছে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের টানা পঞ্চম দিনের আমরণ অনশন কর্মসূচি। এমপিওভুক্তির দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন থেকে সরে না আসার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন তারা। এদিকে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা। অনশনের পঞ্চম দিন। ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬তম অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষক-কর্মচারিদের যৌথ সংগঠন। এছাড়া প্রতিদিনই আন্দোলনে নতুন করে যোগ দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষক কর্মচারিরা। সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আন্দোলনের ১০ দিনেও তাদের অবস্থানে অনড় তারা। সুনির্দিষ্ট ঘোষনা না আসা পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা তাদের। দিন যাবার সাথে সাথে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকদের সংখ্যা। গতকাল ৪র্থ দিনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হাসপাতালে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতেও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সবশেষ, ২০১০ সালে ১ হাজার ৬শ ২৪টি নন-এমপিও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। বাকি ৫ হাজার ২শ ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি অধরাই থেকে যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন দেশের ৮০ হাজার শিক্ষক।
নতুন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি পুরনো চারজনের দায়িত্ব বদল
শপথ নেয়া নতুন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি পুরনো চারজনের দায়িত্ব বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় এসে মন্ত্রিসভার এই রদবদল আনা হল। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও অন্যদের দফতর বদল করে আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিং শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দফতর বণ্টন ও দফতর বদলের তথ্য জানান। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আনিসুল ইসলামকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আনিসুল ইসলাম জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। অন্যদিকে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঞ্জু জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। আগে নুরুজ্জামান আহমেদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকলেও এখন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ায় তাকে শুধু সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপির অংশগ্রহণবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। তখন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ ছাড়া অন্যরা নিয়োগ পেয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই তারানা হালিমকে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং নূরুজ্জামান আহমেদকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ
হালনাগাদে এবার নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৯ জন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩ জনে পৌঁছেছে বলে তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দেশের সব জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ইউনিয়ন পরিষদসহ গুরম্নত্বপূর্ণ স্থানে মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা দেখার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই তালিকা নিয়ে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশন আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত্ম ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৭ সালের হালনাগাদ এবং ২০১৫ সালে নেয়া পনের বছর বয়সীদের নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে (যারা ১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন) এই নতুন তালিকা হয়েছে। নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৩ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ জনের তথ্য গত বছর এবং ৯ লাখ ৬২ হাজার ২৯৬ জনের তথ্য ২০১৫ সালে সংগ্রহ করা হয়। হেলালুদ্দীন বলেন, হালনাগাদের আগে দেশে ভোটার ছিল ১০ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০১ জন। হালনাগাদে মৃত ভোটার বাদ পড়েছে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৪ জন। এবার হালনাগাদে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হলেও মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরম্নষের চেয়ে নয় লাখের মতো কম। বর্তমানে মোট ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৫ জন পুরম্নষ এবং ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৮ জন নারী। 'গরমিল' থাকছেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরম্নল হুদা ১৬ জুলাই নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার সময় বলেছিলেন, দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ১৮ লাখ। যা ইসি প্রকাশিত কর্মপরিকল্পনাতেও একই সংখ্যা দেখানো হয়। ২৫ জুলাই থেকে হালনাগাদ কার্যক্রম শুরম্নর সময় তৎকালীন ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুলস্নাহও জানান, বর্তমানে ভোটার রয়েছে ১০ কোটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭ জন। কিন্তু মঙ্গলবার ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, হালনাগাদের আগে ২০১৭ সালে দেশে ভোটার ছিল ১০ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০১ জন। সংখ্যায় এই গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ওই তালিকা থেকে মৃত কিছু ভোটার কর্তন হয়ে থাকতে পারে। কাগজপত্র দেখে ১০ কোটি ১৪ লাখের তথ্য পেয়েছি। আগের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
শপথ নিলেন তিন মন্ত্রী, এক প্রতিমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে ৫৪ সদস্যের হলো। আগে ছিল ৫১জন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন ৪ সদস্যের শপথ পড়ান। এর মধ্যে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই তিনজন মন্ত্রীর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ,লক্ষ্মীপুরের প্রবীণ সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। রাজবাড়ীর এমপি কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বিজয় বাংলা কিবোর্ডের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার (৬৮) যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাকে মন্ত্রিসভায় আনতে হবে টেকনোক্র্যাট হিসেবে। বাকিরা কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন তা শপথের পরই স্পষ্ট হবে। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বিকালে সচিবালয় থেকে পাঠানো হয় চারটি গাড়ি। শপথের জন্য বিকালে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তারা সবাই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তিন মন্ত্রীর শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। পরে প্রতিমন্ত্রী কেরামত আলীকে শপথ পড়ান। শপথ নেওয়ার পর তিন মন্ত্রী টেবিলে বসে শপথবাক্যে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ৭২ বছর বয়সী নারায়ন চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে নারায়ন চন্দ্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ৬৮ বছর বয়সী জব্বার ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করে নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার আরেক নতুন মুখ শাহজাহান কামাল (৭২) লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ। তিনি দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপাতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি। আর ৬৩ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই চারজনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হলো ৫৪ জন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান শিক্ষকদের, অনশন অব্যাহত
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস, অর্থমন্ত্রীর সম্মতি কোন কিছুই ফেরাতে পারেনি অনশনরত শিক্ষকদের। শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা না দেয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। আমরণ অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের খোঁজ খবর নেন তিনি। এমপিও ভুক্তির দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অসহায়ত্ব ও অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, 'রোজ আমরা চাপ দিয়ে যাচ্ছি, রোজ দেখা করছি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। নাছোড় বান্দা যাকে বলে, সেই অবস্থায় আমরা আছি। তিনি আমাদের এই সম্মতি দিয়েছেন যে, আমাদের এমপিওভুক্ত যারা হননি সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু কবে কবে করলে হবে না। আপনারা বিবেচনা করবেন। অর্থমন্ত্রণালয় কবে থেকে দিবে। তার টাকা পয়সার হিসেবের একটা ব্যাপার আছে।' মন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে সুনির্দিষ্ট ঘোষণার দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের ভাষায়, ২৬তম বারের মতো রাজপথের এই আন্দোলনে বহুবার আশ্বাসের বাণী শুনলেও, ২০১০ সালের পর বাস্তবায়ন হয় এমপিওভুক্তির দাবি। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, 'আমি আমার অনশনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মাননীয় মন্ত্রী যে কথা বলেছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা এই অনশন কর্মসূচী চালিয়ে যাবো।' এদিকে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১শ ভাগ সরকারের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। এছাড়া নামমাত্র পরিমাণে হলেও অন্যান্য ভাতা দেয়া হয় তাদের। অন্যদিকে বিনা বেতনে এক দশকেও বেশি সময় ধরে পাঠদান করে আসছেন প্রায় ৮০ হাজার নন-এমপি শিক্ষক।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক, বাবরসহ ৪৯ জনের মৃত্যুদন্ড- চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত্ম দুটি মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪৯ জন আসামির সর্বোচ্চ শাস্ত্মি মৃতু্যদ- দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনগত বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এ শাস্ত্মি দাবি করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ২৪৫ জনের সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণের আলোকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছিল। ১ জানুয়ারি (২০১৮) আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং রাষ্ট্রপক্ষে আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত্ম শুনানি মুলতবি করে। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার বিচারকাজ চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার যত চেষ্টা হয়, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হলো চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা। ওই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ শত শত নেতা-কর্মী। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ সে মামলা নেয়নি। তার আগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। তৎকালীন সরকার মামলার তদন্ত্ম ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করে। নোয়াখালীর গ্রাম থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে এসে আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে মামলাটির নতুন করে তদন্ত্ম শুরম্ন করে এবং একের পর এক সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অধিকতর তদন্ত্ম করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। এতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও অনেকের নাম আসে।
মন্ত্রিসভায় আবারো আসছে রদবদল
আবারও মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে। আর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এই পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে।। এদের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও লক্ষ্মীপুরের সাংসদ শাহজাহান কামালকে আগামীকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম তাদের ফোন করেন বলে জানা গেছে। তবে কেন তাদের বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে সে ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কিছু জানানো হয়নি। গত ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যান। প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত রয়েছেন।
বই উৎসবের মধ্য দিয়ে সারাদেশের স্কুলগুলোতে উদযাপিত হলো নতুন বছরের প্রথম দিন
বই উৎসবের মধ্য দিয়ে সারাদেশের স্কুলগুলোতে উদযাপিত হলো নতুন বছরের প্রথম দিনটি। সোমবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুলে শিক্ষামন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গণশিক্ষামন্ত্রী বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। এবার সারাদেশে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া হয়। এ যেন এক বইয়ের ভুবন। হাতে বই আর মুখে স্বপ্নের ঝিলিক। একটুকরো আগামীর বাংলাদেশ। শীতের পরশমাখা স্নিগ্ধ সকাল, আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনায় ভরা। বছরের প্রথম দিন রঙ্গিন বই পাওয়ার রীতি তো চিরচেনা। তবুও প্রাণের সজীবতার কমতি ছিলনা এতটুকু। হাতে যখন নতুন বই আনন্দ তখন বিহঙ্গের মতো উড়ছে আকাশে। শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ বই পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। এমন উৎসব প্রতিবছরই হওয়া উচিত। আমরা খুবই উপভোগ করেছি। উপচে পড়া এই আনন্দের ভাগীদার অভিভাবকরাও। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সম্ভাবনায় এগিয়ে যাবে তাদের সন্তানরা। অভিভাবকরা বলেন, বিশাল উৎসবের মাধ্যমে বই পাচ্ছে বাচ্চারা। বাচ্চাদের মতো আমরাও খুবই খুশি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই উৎসব শিক্ষকদের কাছেও সমান আনন্দের। তারা বলেন, আমরা যখন পুরাতন বই পেতাম তখন খুবই ভালো লাগত। বাচ্চারা এখন নতুন বই পাচ্ছে তাদের আনন্দের মাত্রাটা আরও অনেক বেশি। বছরের প্রথম দিন তাদের বই দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এবছর বই উৎসবের কেন্দ্রীয় আয়োজন ছিল দুটি। সোমবার সকালে আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক স্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গণশিক্ষামন্ত্রী উৎসবের উদ্বোধন করেন। তারা বলেন, কোমলমতি এই শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে উঠবে মানবিক বাংলাদেশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই বই প্রণয়ন করা হয়েছে। যাতে পড়ার পাশাপাশি তারা বিষয়গুলোকে উপভোগ করতে পারে। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই উৎসবে এবার প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হল। নির্ভুল বইয়ে গড়ে উঠবে স্বপ্নের আগামী, বিকশিত শিশু সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা
এমপিওভুক্তির দাবিতে পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। এই সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এই আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। ২০১০ সালের পর দেশের আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দেশের প্রায় ৮০ হাজার নন-এমপিও শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। গেল ২৬ ডিসেম্বর থেকে নন এমপিওভুক্ত এই শিক্ষক কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমস্যার বিষয়টি বুঝবেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের নন-এমপিও নামক অভিশাপ থেকে মুক্তি দিবেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর