বাজেটে স্বচ্ছতার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে:সুজন
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাজেট এখন ছক বাঁধা বাজেটে পরিণত হয়েছে। কাঠামোগত সংষ্কারের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে বাজেট নতুন করে সাজানো দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাজেট ২০১৯-২০ ও নাগরিক ভাবনা গোলটেবিল শীর্ষক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যাদের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন হয়ে থাকে, দেশের উন্নয়নের জন্য বাজেট দেয়া হবে আর সেই বাজেটে সাধারণ জনগনের জন্য কিছু থাকবে না এটা হতে পারে না। বাজেট শুধু দিলেই হবে না সেই বাজেটে সাধারণ জনগণের জন্য কি আছে সেটা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি বলেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব পেলেও বাজেটে স্বচ্ছতার প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। দরকার মানুষের অবস্থান ও অবস্থানের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো। বিশেষ করে দরকার দরিদ্র মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো। বর্তমানে আমাদের বাজেট হয়ে গেছে অনেকটা ছকবাধা, তাই বাজেটের কাঠামোগত সংস্কার দরকার বলে আমি মনে করি। সুজন সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বাজেট নিয়ে সংসদে এত আলোচনা হয় না। কিন্তু বাজেট আলোচনায় প্রান্তিক মানুষের সমস্যা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না। আমরা দেখেছি, বাজেটে কৃষকের সমস্যা দেখা হয়নি। ধানের উৎপাদন মূল্য কম হওয়ার জন্য ভর্তুকি দেয়ার দরকার ছিল, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ বাজেটে নেয়া হয়নি। অর্থনীতিবীদ ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, জুন-জুলাই অর্থবছরের সময়সীমা হওয়ায় নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। জুনে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় প্রকল্প খরচ বাড়ে। পাকিস্তানসহ দু তিনটা দেশ ছাড়াও কোথাও জুন-জুলাই অর্থবছর নেই। তাই এর পরিবর্তন করা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সামর্থ্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া দরকার।বৈঠকে সাবেক সচিব আব্দুল লতিফ মণ্ডল, জুনাইদ সাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বক্তব্য রাখেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ঘটনা বাড়ছে
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ৯ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ১৯১টি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তথ্য বলছে, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, অপহরণ, খুন, ছিনতাই, নির্যাতন, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গড় হিসাবে বছরে ১৩ হাজার ৩৫৪টি ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তি নামমাত্র। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের এক শতাংশেরও চাকরি যায় না।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন । পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, বিভাগীয় শাস্তির ক্ষেত্রে সাধারণত দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ আদেশ অমান্য করা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপেশাদার আচরণ, উৎকোচ গ্রহণ ইত্যাদি গুরুত্ব পায়। পিআরবি-১৮৬১ (পুলিশ প্রবিধান) অনুযায়ী, কোনও পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ২ ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও বিভাগীয় মামলা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন নূর খান লিটন। পুলিশের বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে তার পর্যবেক্ষণও আছে। বিভাগীয় শাস্তির বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি শাস্তি হলেও এক ভাগ ক্ষেত্রেও চাকরি যায় না। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পর সাধারণত তাদের ক্লোজড বা সংযুক্তি করা হয়। এবং পরবর্তীতে বলা হয়, তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনও কোনও ক্ষেত্রে কিছু সময়ের জন্য তাদের হয়তো অন্যত্র সংযুক্ত করে রাখা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বাহিনীতেই থেকে যায়। খুব কমসংখ্যক ঘটনায় পদাবনতি হয়, ইনক্রিমেন্ট কাটা পড়ে অথবা পুলিশ বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হয়। নূর খান লিটন বলেন, লঘু ও গুরুদণ্ডের মাঝখানে তদন্তের যে ব্যাপারটা থাকে সেখানে নরম আর গরম বলে দুটি বিষয় আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও কম গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ফলে দেখা যায়, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা খালাস পেয়ে যায়। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ঘটনা বাড়ছে। এর কারণ জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, শাস্তি হওয়াটা ভালো দিক। তার মানে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আছে। শাস্তি হওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শৃঙ্খলা মেনে চলা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শাস্তি দেওয়া হয় যথাযথ কারণেই। লঘুদণ্ড দেওয়া হয় ছোটখাটো অপরাধের জন্য। গুরুদণ্ডও খুব বেশি হয়নি।তিনি বলেন, লোকজন রাতারাতি সব ভালো হয়ে যাবে তা-ও মনে করার কারণ নেই।
অবৈধ ভবন মালিকদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে:গণপূর্তমন্ত্রী
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজধানীতে এক হাজার ১৮টি অবৈধ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, অবৈধ ভবন মালিকদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়ম করে রাজধানীতে আর কেউ ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। শুক্রবার (২১ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্য রিপোর্টার অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, বিজিএমইএ ভবন কোন পদ্ধতিতে ভাঙ্গা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস এবং পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না। কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি দুটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলা। বিজিএমইএ ব্যবহার করে চারটি তলা। বাকি জায়গা দুটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাদের মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনের ওপরের দুটি তলা নিয়ে বিলাসবহুল অ্যাপারেল ক্লাব করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের সদস্যদের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগার, রেস্তোরাঁ ও সভাকক্ষ রয়েছে। বড় আকারের একটি মিলনায়তনও আছে।
রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেল সংযোগ করা হবে:রেলপথ মন্ত্রী
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:চলতি বছরই যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, রেলপথকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি নতুন আরও ১৫টি জেলাকে রেলে সম্পৃক্ত করা হবে। শুক্রবার রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ওয়ার্ল্ডে বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বাংলাদেশ) প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়েজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর এখন এক লাইনে রেল চলাচল করছে। আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন আরও একটি রেল সেতু বানাতে চাই। ডুয়েল গেজ বিশিষ্ট ডাবল রেল লাইনের এ সেতুর নির্মাণে সব সমীক্ষা শেষ হয়েছে। জাপানি অর্থায়নে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৪৪টি জেলায় সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের অনেক প্রকল্প রয়েছে, নতুন করে আরও কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। আমরা নতুন করে আরও ১৫টি জেলাকে রেলে সম্পৃক্ত করতে চাই। তাছাড়া ঢাকা টু চট্টগ্রাম ৩০০ কিলোমিটার হাইস্পিড গতির ট্রেন চালুর সমীক্ষা চলছে। চট্টগ্রামের সব রেল ডাবল লাইনে রূপান্তর করা হবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন মেগা প্রকল্পেরর অধীনে ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ হবে। পাশাপাশি ফরিদপুর থেকে হয়ে পায়রা বন্দর এবং ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর রেলপথে সম্পৃক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকেও সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেল সংযোগ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পায়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা মানে সবার অধিকার বাস্তাবায়ন হওয়া। সরকার এ নীতিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে সকাল ৯টায় বাড্ডায় বুদ্ধিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভবনের উদ্বোধন করা হয়। এটির উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। লায়ন রিংকু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনোয়েট প্রিফনটেইন, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ত্রান ভান খোয়া। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশ গুপ্ত, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাসসহ ভিক্ষু সংঘরা।
তিন নম্বর সতর্ক সংকেত
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরী হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সঞ্চালণশীল মেঘমালা তৈরী হচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নৌকাডুবির ঘটনায় দুই ভাই বোনের লাশ উদ্ধার
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় দুই ভাই বোনের লাশ উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দল। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সদরঘাট নৌ থানার ওসি মো. রেজাউল জানান বেলা সোয়া ১১টার পর দশ মিনিটের ব্যবধানে কাছাকাছি এলাকা থেকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের নাম মিশকাত (১২) ও নুসরাত (৫)। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সদরঘাটের এক নম্বর পল্টুন বরাবর মাঝ নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাসেল শিকদার জানান। এর পরপর ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা নদীতে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কোস্ট গার্ড ও আইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকর্মীরাও তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। ডুবে যাওয়া দুই ভাই-বোনের বাবা বাবুল ফরাজী কেরানীগঞ্জ এলাকায় ব্যবসা করেন এবং তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। তারা বরিশালে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। বাবুল ফরাজী কেরানীগঞ্জেই ছিলেন। রাতে লঞ্চে বরিশাল থেকে মামা শামীম হাওলাদারের সঙ্গে ঢাকায় ফেরে মিশকাতরা। ভোরে ঢাকা সদরঘাটে পৌঁছানোর পর নৌকায় করে কেরানীগঞ্জের বাসায় যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনায় পড়ে। শামীম হাওলাদার জানান, তার বোন জোসনা, তাদের তিন সন্তান মিশকাত, নুসরাত ও এক বছর বয়সী নুসাইবা ছিল ওই নৌকায়। মাঝ নদীতে এমভি পুবালী-৫ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। নুসাইবা ছিল আমার কোলে। ধাক্কা লাগার পর দেখলাম আমরা লঞ্চের নিচে, পানির মধ্যে। কোনো রকমে সাঁতরে বের হই। জোসনাও বের হয়। কিন্তু মিশকাত আর নুসরাতকে পাওয়া গেল না। খবর পেয়ে নিখোঁজদের বাবা বাবুল ফরাজী কেরানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে ছুটে আসেন। পুলিশ ও ঘাটে থাকা নৌকাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নদীতে নেমে তল্লাশিতে যোগ দেন। বিআইডব্লিউটিয়ের পরিবহন পরিদর্শক মো. সেলিম বলেন, পুবালী লঞ্চটি সদরঘাটে যাত্রী নামিয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। নৌকাটি লঞ্চের পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝি দেখেশুনে চালালে এ দুর্ঘটনা হত না।
নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ
২০জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত সাঁঝের মায়ার কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারে ১৯১১ সালের ২০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহীয়ষী এই নারীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি বেগম সুফিয়া কামালের সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে। সুফিয়া কামাল শৈশবে নানার বাড়ীতে থাকায় বহুভাষায় পন্ডিত বড় মামার সান্নিধ্য এবং তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরীর সংস্পর্শে জ্ঞানচর্চার প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন। সাহিত্য পাঠের পাশাপাশি সুফিয়া কামাল সাহিত্য রচনা করেন। ১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা বাসন্ত সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তার গল্পের সংকলন কেয়ার কাঁটা। ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়ার মুখবন্ধ লিখেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কোলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন। পাকিস্তন সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন। এ বছর তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ। সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশী পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক। মহীয়ষী এই নারী ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সম্মান লাভ করেন।
বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
২০জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৯ এবং 'জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যোগ দেন তিনি। এ অনুষ্ঠানেই পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বায়ুদূষণ। প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। তবে এ বছর ৫ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ায় দিবসটি পিছিয়ে আজ উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ বীর শহীদের স্মৃতির সম্মানে সারাদেশে একযোগে ৩০ লাখ গাছের চারা লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।
বন্দুকযুদ্ধে ১৫ মামলার আসামি নিহত
২০জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে লিপু নামে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ডাকাত নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত লিপু অস্ত্র, মাদক, নারী নির্যাতন, হত্যার চেষ্টা, ডাকাতিসহ অন্যান্য মামলা নিয়ে মোট ১৫টি মামলার আসামি। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিপু উপজেলার পিলকুনি এলাকার শামসুল হকের ছেলে। বন্দুকযুদ্ধে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর এনামুল হক, এসআই কামরুল ইসলাম ও কনস্টেবল নাদিম। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর এনামুল হক বলেন, বুধবার রাতে লিপুকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। ফতুল্লার দাপা বালুর মাঠের কাছে পৌঁছলে লিপুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সহযোগীরা। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় লিপুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।