ইউটিউব চ্যানেল-আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না
১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে। অনেক ইউটিউব চ্যানেল আছে যারা অনলাইনে কার্যক্রম চালাচ্ছে- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউটিউব চ্যানেল এবং আইপি টিভি নিবন্ধনের জন্য আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছি। সেগুলো তদন্তের কাজ চলছে। প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। সেটি হওয়ার পর আমরা নিবন্ধন দেয়ার কাজ শুরু করব। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইপি টিভিগুলো শুধু এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। সব বিষয় নরমাল টেলিভিশন চ্যানেলের মতো করার কথা নয়, এ রকম সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, ইউটিউব চ্যানেল ও আইপি টিভি নিয়মিত সংবাদ পরিবেশ করতে পারবে না। এমনিতেই কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যখন অনুমতি পায় শুরুতে তারা সংবাদ পরিবেশনের অনুমতি পায় না। সেজন্য তাদের কিছু প্যারামিটার পূরণ করতে হয়, আবার দরখাস্ত করতে হয়। তারপর তারা সংবাদ প্রকাশের অনুমতি পায়। সুতরাং আইপি টিভির ক্ষেত্রেও অন্যান্য সবকিছু করতে পারবে- কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের কাজটি তারা আপাতত করতে পারবে না- এটি আমাদের মন্ত্রণালয় নয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত। অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধন কবে শেষ হবে- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, অনলাইন নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি অনলাইনকে নিবন্ধনের জন্য অনুমতি প্রদান করেছি। বাকিগুলো আমরা ধীরে ধীরে দেব। যেহেতু কয়েক হাজার অনলাইন, এগুলো সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। কারণ বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার পরই কিন্তু আমরা দিতে পারছি। এর আগে তো দিতে পারছি না। সে কারণেই একটু সময় লাগছে। বেশিরভাগকে নিবন্ধন দেয়ার কাজ এই বছরের মধ্যে আমরা শেষ করার চেষ্টা করব। অনলাইন নিবন্ধনের কাজ এ বছর শেষ হলেই শেষ হয়ে যাবে তা নয়। কারণ অনলাইন তো ভবিষ্যতেও অনেকগুলো প্রকাশিত হবে। পত্রিকা প্রকাশ করতে হলে অনুমতি লাগে, টেলিভিশন চ্যানেল খুলতে হলে লাইসেন্স লাগে। ভবিষ্যতে যখন অনলাইন নিবন্ধনের কাজটি শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব তখন আমরা ভবিষ্যতে অনলাইন খোলার ক্ষেত্রেও অনুমতির বিষয়টি সংযুক্ত করব যোগ করেন মন্ত্রী। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।- জাগো নিউজ
পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার করছে বাংলাদেশ
১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা খাতে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চলমান ৭৫তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম কমিটির (নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক) সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদাহরণ টেনে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সুবিধাই কাজে লাগিয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সর্বোচ্চ মান মেনে চলার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পারমাণবিকসহ পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এ নীতি-আদর্শ উৎসারিত হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে, যে ভাষণে জাতির পিতা বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাস, অস্ত্র প্রতিযোগিতা সীমিত করা এবং পৃথিবীর প্রত্যেক স্থানে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান নীতি জোরদার করা বিষয়ে সবাইকে সমবেত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি, পরমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি, রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক সমঝোতা, জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক সমঝোতা, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা, ব্যাপক-ভিত্তিক পরমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি, অস্ত্র-বাণিজ্য চুক্তিসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব প্রধান নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক চুক্তি ও পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ, একথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব চুক্তি ও পদক্ষেপ স্বাক্ষর ও অনুমোদনের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষের দ্বারা হিংসাত্মক কাজে তথ্য-প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এর ফলে উন্নত এ ডিজিটাল পৃথিবীর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে। তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। যোগাযোগ ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু সাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, মহাকাশে এখন বাংলাদেশ আরও বেশি অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রবেশ করেছে। তিনি মহাকাশকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, টেকসই, উন্মুক্ত, প্রবেশযোগ্য ও অস্ত্রমুক্ত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক প্রদক্ষেপগুলো আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করবে। কোভিড-১৯ জনিত কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে সদস্য দেশগুলোর সর্বনিম্ন উপস্থিতির মাধ্যমে স্বল্প-পরিসরে এবারের সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের ঘটনাটি এখন তদন্তে রয়েছে। সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। কোতোয়ালি থানাধীন কাস্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল। হঠাৎ করে সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তার ময়নাতদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে- সেই অনুযায়ী এবং তার স্ত্রী যে মামলা করেছেন সবগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পিবিআই যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পারে। মঙ্গলবার ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা হাজতের টয়লেট থেকে হত্যা মামলার আসামি মো. মামুন হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এটা ভালো করে তদন্তের মাধ্যমে আমরা দেখব। হাজতখানার ভেতরে সে কীভাবে মারা গেল সেটা দেখার বিষয়। দেখার বিষয় কেন সে আত্মহত্যা করল, তাকে কেউ প্ররোচিত করেছে কিনা! সবগুলোই আমরা দেখব। ৩৫ বছর বয়স্ক এক নারীর লাশ পাওয়া গেছে, যিনি আত্মহত্যা করেছেন, এর মধ্যে পারিবারিক গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমরা কিছু বলার আগে তদন্তটা শেষ হোক তারপর সব কিছু জানানো হবে। আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্ত, চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা হয়- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আপনারা বলছিলেন ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আমরা কয়েকটি ঘটনাও দেখেছি। কয়েকটি দুর্ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যে এটা সবার চোখে পড়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। বিচারের ব্যবস্থাটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সঠিক তদন্ত, সেটা আমাদের। আমাদের যেটা করার আমরা করছি। তিনি বলেন, পুলিশ তদন্তের পর আমরা নানাভাবে এগুলো দেখি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মনে করি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দেয়া উচিত, আমরা সেই কাজটিও করছি। মোট কথা তদন্ত যতখানি নিরপেক্ষভাবে করা যায়, সে কাজটিই আমরা করছি, সেই কাজটিই আমরা করব। তাড়াতাড়ি বিচার হওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নয়। আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। তারাও আপনাদের জানিয়েছেন, এসব ক্ষেত্রে তারা বিচারের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসিড নিক্ষেপ একটা রেগুলার প্র্যাকটিসের মতো হয়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলাম। একটি দুটি রায়ও যখন ঘোষিত হলো, সেই জায়গাটিতে কিন্তু কমে গেছে। আমরা সেটাই মনে করি সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড হোক এবং এটা কমে যাক। এ নির্যাতন থেকে নারীরা যাতে মুক্ত হয় সেজন্য এ ব্যবস্থাটা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-মাস্কাট রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট চালাবে ইউএস-বাংলা
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বুধবার থেকে চট্টগ্রাম-মাস্কাট রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বর্তমানে ইউএস-বাংলা প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে মাস্কাট দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার রাত ৮.৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করবে এবং স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটে অবতরণ করবে। প্রতি বৃহস্পতিবার মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে উড্ডয়ন করে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করবে। এছাড়া ইউএস-বাংলা সোম ও বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং পরের দিন মঙ্গল ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টায় মাস্কাটে অবতরণ করবে। অপরদিকে মাস্কাট থেকে মঙ্গল ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টায় মাস্কাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বর্তমানে মাস্কাট ছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক রুট গুয়াংজু, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দোহায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। খুব শিগগিরই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল রুটে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অ্যাসিড সন্ত্রাসের মতো ধর্ষণ নামের পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণেই সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযুক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ধর্ষণ একটা পাশবিকতা, মানুষ পশু হয়ে যায়। ফলে আমাদের মেয়েরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা আইনটি সংশোধন করে ধর্ষণ করলে যাবজ্জীবনের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মন্ত্রিসভায় সেই আইন পাস করেছি। গতকাল আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন। এছাড়া গাইবান্ধা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসিড নিক্ষেপকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কারণ সেখানে আমরা আইন সংশোধন করেছিলাম। যেহেতু পার্লামেন্ট সেশনে নেই, তাই আমরা এক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে দিচ্ছি। একটা সমস্যা দেখা দিলে তাকে মোকাবেলা করা ও দূর করাই আমাদের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত সংশোধনীর খসড়া গতকাল অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সই করা অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি আন্তর্জাতিকভাবে। শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না, বাংলাদেশ পথ দেখাতে পারছে কীভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে করতে হবে, সেটাও আমরা করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো যেখানে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়কবলিত সেখানে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ সবুজবেষ্টনী তৈরি করা এবং সেই এলাকার মানুষের বসতগুলো যেন দুর্যোগ সহনীয় হয়, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি যারা গৃহহারা যাদের ঘরবাড়ি নেই, তাদের ঘর করে দিচ্ছি এবং সেগুলো দুর্যোগ সহনীয় করে তৈরি করে দিচ্ছি। সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু বদ্বীপ কাজেই বন্যা আমাদের মাটিকে উর্বর করে। যে মাটি সারা বছর বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, সেটা আবার পুনর্বহন করে। আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভালো রাখে। আমরা ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছি। অর্থাৎ ২১০০ সাল পর্যন্ত এই বদ্বীপটাকে কীভাবে উন্নত করব, সেই পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নও শুরু করেছি। সব নদীকে ড্রেজিং করে নব্যতা ও গভীরত ফেরানো, আমাদের খাল-বিল, জলাধার আবার পুনঃখনন করে সেখানে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকতে পারে তার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ করোনাভাইরাসের কারণে যেভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করার কথা ছিল, সেভাবে পারিনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ থেকে শুরু করে সব সহযোগী সংগঠন মিলে এতদিন আমরা এক কোটির ওপরে গাছ লাগানোর সফলতা অর্জন করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ তৈরি করে দিয়ে জলোচ্ছ্বাস থেকে দেশকে রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে, সেদিকে লক্ষ রেখেই বৃক্ষরোপণের পদক্ষেপ নিচ্ছি। এবারে যখন আম্পান ঘূর্ণিঝড় এল আমরা ২৪ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিয়ে আমরা সেখানে শেল্টার দিয়েছি। এত মানুষকে আশ্রয় দিতে মনে হয় কোনো দেশ পারবে না। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জিজিটাল পদ্ধতিতে বিনা মূল্যে ১৭ হাজার ৫টি দুর্যোগসহনীয় গৃহ প্রদান এবং ১৮ হাজার ৫০৫ জন নারী কর্মী সংবলিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) নতুন একটি মহিলা ইউনিটও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪২ জন পুরুষ এবং ৪২ জন নারীকে পদক দেয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন।
আলুর দাম বেঁধে দিয়ে ডিসিদের নজরদারির নির্দেশ
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রতি কেজি আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৮ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রির বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। তাই ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ ৯ হাজার টন। এতে দেখা যায় যে, গত বছর উৎপাদিত আলু থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৯১ হাজার টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আলু রফতানি হলেও ঘাটতির সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আলুর মৌসুমে যখন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে তখন প্রতি কেজি আলুর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা। প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার ভাড়া বাবদ তিন টাকা ৬৬ পয়সা, বাছাই খরচ ৪৬ পয়সা, ওয়েট লস ৮৮ পয়সা, মূলধনের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ এক কেজি আলুর কোল্ড ষ্টোরেজ পর্যায়ের সর্বোচ্চ ২১ টাকা খরচ পড়ে। চিঠিতে বলা হয়, সংরক্ষিত আলুর কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে বিক্রয় মূল্যের ওপর সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ যোগ করে ভোক্তার কাছে আলু বিক্রয় করা যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা মূল্যে বিক্রি করলে আলু সংরক্ষণকারীর ২ টাকা মুনাফা হয় বলে প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে আড়তদারী, খাজনা ও লেবার খরচ বাবদ ৭৬ পয়সা খরচ হয়। সেই অনুযায়ী পাইকারি মূল্য (আড়ৎ পর্যায়) ২৩ টাকা ৭৭ পয়সার সঙ্গে মুনাফা যোগ করে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা দেয়া যেতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একজন চাষীর প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলুর মূল্য ২৩ টাকা, পাইকারি/আড়তের এর মূল্য ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতি কেজি আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৮ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা অযৌক্তিক ও কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা মূল্যে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করবেন। এই মূল্যে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি বিক্রেতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাসহ তিনপক্ষই যাতে আলু বিক্রয় করেন, এজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিসিদের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশনের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের সালমা
১৪,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশনের সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি প্রাণিচিকিৎসা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মডেল লাইভস্টক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ডা. সালমা সুলতানা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাদের ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের নরম্যান বোরলগ অ্যাওয়ার্ড ফর ফিল্ড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন এর বিজয়ী হিসেবে বাংলাদেশের এই তরুণ ভেটেরিনারিয়ানের নাম ঘোষণা করে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে হাজারো ক্ষুদ্র খামারিকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে, তাদের গবাদিপশুর জন্য চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা পৌঁছে দিতে যে ব্যতিক্রমী মডেল সালমা গড়ে তুলেছেন, তার স্বীকৃতিতেই এবারের পুরস্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে সালমা শুরু করেন তার স্বপ্নের প্রকল্প মডেল লাইভস্টক ইনস্টিটিউট ঢাকা। মাঠপর্যায়ে প্রাণিচিকিৎসায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে তার এ ইনস্টিটিউটে ১৪ মাস মেয়াদি অ্যানিমেল হেলথ অ্যান্ড প্রোডাকশন ও পোলট্রি ফার্মিং কোর্স করানো হয়। খামারিদের সচেতন করতে কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি প্রাণীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালও চালিয়ে আসছে মডেল লাইভস্টক। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) বিষয়ে স্নাতক শেষ করে ভারতের তামিলনাড়ুতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন সালমা সুলতানা। এরপর দেশে ২০১৪ সালে ফার্মাকোলজিতে মাস্টার্স করেন। ২০১৪ সালে মাস্টার্স শেষ করে সালমা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইনস্টিটিউটের অনুমোদনের জন্য। চাকরিজীবী বাবার জমানো টাকায় তার মডেল লাইভস্টক ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের জন্য খাদ্য সহজলভ্য করতে এবং এর মান উন্নয়নে যারা কাজ করছেন, তাদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এ পুরস্কার দেয়। ১৯৮৬ সালে নোবেলজয়ী নরম্যান বর্লুগ বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার প্রবর্তন করেন।
নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা-উপজেলায় ডিসি
১৩,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের পর ক্ষমতা অর্পণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ এর ২(গ) বিধি এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০ এর ২(গ) বিধি অনুযায়ী এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৮ জুন বিধিমালা দুটি জারি করা হয়। দুটি বিধিমালারই ২(গ) বিধিতে বলা হয়েছে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অর্থ সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোনো কর্মকর্তা।
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি
১৩,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০ জারি করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অধ্যাদেশে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবির মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নিল। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তা হলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৯(১) উপধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড শব্দগুলোর পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। আইনের ৯(৪)(ক) উপধারায় ছিল, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। এখানেও সংশোধন করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড করা হয়েছে। ৯(৫) উপধারায় ছিল, যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন কোনো নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। এখানে দায়ী শব্দ পরিবর্তন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ষণ ছাড়া সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবে শিশু আইন, ২০১৩। আগের আইনের ৩২(১) বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিক্যাল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে। এতে আরও বলা হয়, কোনো হাসপাতালে এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির চিকিত্সার জন্য উপস্থিত করা হইলে, উক্ত হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক তাহার মেডিকেল পরীক্ষা অতিদ্রুত সম্পন্ন করিবে এবং উক্ত মেডিকেল পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করিবে এবং এইরূপ অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি স্থানীয় থানাকে অবহিত করিবে। ৩২ ধরায় সংশোধন এনে বলা হয়েছে, অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষার পরিবর্তে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষাকরা হয়েছে। অপরাধের শিকার ব্যক্তির পরিবর্তে করা হয়েছে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া। সংশোধিত আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা শিরোনামে ৩২(ক) নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন সংঘঠিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের শিকার ব্যক্তি মেডিকেল পরীক্ষা (ধারা-৩২ এর অধীন) ছাড়াও ওই ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর নোয়াখালীতে এক নারীকে (৩৭) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। জড়িতদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী মহাসমাবেশ থেকে সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে লংমার্চের ঘোষণা দেয়া হয়। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে আয়োজিত মহাসমাবেশে দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিচার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর