সাবেক ডিআইজি বজলুর রশিদের জামিন আবেদন খারিজ
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতির মামলায় কারা অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে ভিডিও কনফারেন্সে বজলুর রশিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মেসবাউল ইসলাম আসিফ। অপরদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। পরে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলেন,দুর্নীতির মামলায় কারা অধিদপ্তরের বরখাস্তকৃত ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এর আগে গত ৬ই ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় কারা অধিদপ্তর থেকে বরখাস্তকৃত ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদের জামিন নামঞ্জুর করেন নিম্ন আদালত। গত বছরের ২০শে অক্টোবর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে দুদক। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এ ২৭(১) ধারায় দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
করোনায় পারিবারিক উপার্জন কমেছে ৭৪ শতাংশ
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন একটি সংকটময় মুহুর্তে উপনীত হয়েছে। এই মহামাারির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করেছে। এতে দেশের প্রায় ১০ কোটি ২২ লাখ (১০০.২২ মিলিয়ন) মানুষ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমে গেছে। আর ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন বা ফিরে আসছেন। ব্র্যাক, ডেটা সেন্স এবং উন্নয়ন সমন্বয়-এর এক যৌথ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার কোভিড-১৯ এবং জাতীয় বাজেট ২০২০-২০২১ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনা শীর্ষক এই সমীক্ষার ফলাফল এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইসোশ্যাল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. অনন্য রায়হান। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন। সমীক্ষাটিতে ব্র্যাক, বিআইজিডি, পিপিআরসি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত গবেষণা-সমীক্ষার পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি জরিপও পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত ফলাফল সমন্বয় করে মূল প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জরিপটি দেশের ২৫ জেলায় দৈবচয়নে নির্বাচিত ৯৬২ জন উত্তরদাতার অংশগ্রহণে মে মাসের ১৫-১৮ তারিখের মধ্যে সম্পাদন করা হয়। গবেষণা ফলাফলে দেখানো হয়েছে, দেশে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ কোটি ৩৬ লাখ (৫৩.৬৪ মিলিয়ন) মানুষ চরম দরিদ্র (দৈনিক আয় ১.৯ ডলার)। এদের মধ্যে নতুন করে চরম দরিদ্র হয়ে পড়া পরিবারগুলোও রয়েছে। উচ্চ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা চরম দরিদ্রের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ (৪৭.৩৩ মিলিয়ন) এবং উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ (৩৬.৩৩ মিলিয়ন) মানুষ। জরিপ বলছে, কোভিড-১৯-এর কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের উপর বহুবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যেসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩৪.৮% পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্য চাকরি হারিয়েছেন। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে গড় পারিবারিক উপার্জন প্রায় ৭৪% কমে গেছে। দিনমজুরসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরতরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উৎপাদন খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। উদাহরণ হিসেবে, তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি এপ্রিল ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে ৮৪% হ্রাস পেয়েছে। এ বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৭ই এপ্রিলের মধ্যে ১,১১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষিত হয়েছে এবং চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক (২.১৯ মিলিয়ন) শ্রমিক। সমীক্ষায় আরো জানানো হয়, নিম্ন আয়ের মানুষের এই রোগের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এসব পরিবারের উপার্জনশীল সদস্যের মৃত্যু হলে নারী ও শিশুদের মধ্যে অনাহার এবং অপুষ্টির শিকার হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। দেশব্যাপী সমন্বয়ের অভাবের কারণে দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের কাছে সরকারের দেয়া খাদ্য এবং নগদ সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও গবেষণা-সমীক্ষা থেকে প্রতীয়মান হয়। কোভিড-১৯ নতুন অর্থনৈতিক বিভাজন, সামাজিক বিভাজন এবং ডিজিটাল বিভাজন সৃষ্টি করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ৩৪% পরিবারের স্মার্টফোন রয়েছে এবং ৫৪% পরিবারের টিভি দেখার সুযোগ রয়েছে। অতএব এর নিচের অংশে বসবাসকারী শিশুরা ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর কারণে ফিরে এসেছেন বা দেশে ফিরে আসছেন। বিদেশে থাকা অভিবাসীরাও এখন ঋণচক্র ও সামাজিক কলঙ্কের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। কোভিড-১৯ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারগুলোকে আরো বেশি অসুবিধার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ড. আতিউর রহমান বলেন, মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে, তারপর স্বপ্নপূরণ আর সুখে থাকার চিন্তা। তাই এবারের বাজেট হোক বেঁচে থাকার বা টিকে থাকার বাজেট। কোভিড-১৯ এর এই মহামারিতে সবচেয়ে হুমকির মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। মধ্যবিত্তরাই চিকিতসাসেবা পাবেন কি না সেই আতঙ্কে আছেন, দরিদ্রদের অবস্থা তো আরো করুণ। স্বাস্থ্যখাত ঠিক না করলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, আমাদের অর্থনীতিও আগাবে না। ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে বটম অফ দি পিরামিডে শুধু শ্রমিকেরা নয়, অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও আছেন। প্রণোদনা দেয়ার পরেও শ্রমিকদের ৬০% বেতন দেয়া হয়েছে। তাদের বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তো কমেনি। তাই এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য যাদের প্রয়োজন বেশি তাদের প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এখন নতুন তালিকা তৈরির সময়ক্ষেপনের দিকে না গিয়ে আগের তালিকা ধরেই কাজ করা শ্রেয়। ৭৮ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে যে ১০০ টাকা করে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে, তা এখনই ৫০০ টাকায় উন্নীত করা দরকার। এতে করে সঠিক জায়গায় সহায়তা পৌঁছানো অনেকটা নিশ্চিত হবে। শুধু বরাদ্দ করলেই হয় না, সবার কথা, সুবিধা-অসুবিধা শুনে দক্ষতাপূর্ণ, কার্যকর ও কৌশলী বাজেট করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে হাঁটতে হবে। এই গবেষণার আলোকে জাতীয় বাজেট ২০২০-২০২১-এ অন্তর্ভুক্তির জন্য কিছু প্রস্তাব পেশ করা হয়।
গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ করে ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিট
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ূন কবির পল্লব। রিটটি হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রিটের বিবাদীরা হলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব (সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব জানান, গণপরিবহনে দেশের সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে। যাদের প্রাইভেটকার নেই। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা গণপরিবহনে যাতায়াত করে। দেশের এই পরিস্থিতিতে কোন যুক্তিতে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষের আয় রোজগার বন্ধ। আইনজীবী বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় আমাদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের অধিকাংশ কর্মহীন হয়ে বেকার এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি অসহায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে আরও বেশি বিপর্যস্ত ও হতাশাগ্রস্ত করেছে। এ কারণে প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত চাওয়া হয়েছে। এদিকে প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন।
আয়েশার ফেসবুকে এমপি এনামুলকে স্বামী দাবি করে পোস্ট, তোলপাড় চলছে
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এমানুল হককে স্বামী দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এক নারী। লিজা আকতার আয়েশা নামের ওই নারী নিজেকে এমপির স্ত্রী দাবি করছেন। তার বাড়ি নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। এর আগে তার সঙ্গে এমপি এনামুলের একাধিক ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। এমপি এনামুল হক অবশ্য দাবি করেছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। আইনগতভাবে ডিভোর্সও হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানিয়েছে। শনিবার লিজা আক্তার আয়েশা নামের ওই নারী প্রথম ফেসবুকে লিখেন, এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই দ্বিতীয় বউ আমি। আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেন, এমপি সাহেব আমার এই কথাটা যদি কারো কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়, তারা বিয়ের কাগজ দেখতে পারেন। আরেকটি পোস্টে লিখেন, একজন সংসদ সদস্য অনেক বড় অবস্থানের মানুষ। তার বিরুদ্ধে চাইলেই কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না। আমার কথাগুলো যদি মিথ্যা হইতো তাহলে এতক্ষণে পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যেতো। আমি যা কিছু বলছি এবং বলবো সব সত্যি। আপনারা আমাকে বিরক্ত না করে ধৈর্য্য ধরে পাশে থাকুন। এরপর এমপি এনামুলের সঙ্গে একাধিক ছবিও পোস্ট করেন লিজা। ফেসবুকেই ওই নারী জানান, ২০১৮ সালের ১১ই মে তাদের বিয়ে হয়। প্রথমে আট বছর আগে বিয়ে হয় মৌখিকভাবে। লিখিত বিয়ের পর গত দুই বছর ধরে তিনি আমাকে গোপনে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আসছেন। এখন তিনি একটি ভুয়া কাগজ করে আমাকে তালাক দিয়েছেন। সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ কারণে আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফেসবুকে এসব কথা বলেছি। আমি আমার সংসার করতে চাই আমার স্বামীর সঙ্গে।
বিজিবির অভিযানে ২২ কোটি টাকার চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ২২ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৩ হাজার ৯৩৩ বোতল ফেনসিডিল, ১ হাজার ৬৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ৪৪২ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ২৮৭ কেজি গাঁজা, ১ কেজি ৩৮৩ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৬৭টি উত্তেজক ইনজেকশন, ৩ হাজার ৬৩৩টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ৫৭ হাজার ৯৩০টি অন্যান্য ট্যাবলেট। জব্দকৃত অন্যান্য চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৫২০টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৭০০টি ইমিটেশন গহনা, ৭৪টি শাড়ি, ১৩০টি তৈরি পোশাক, ৪২ মিটার থান কাপড়, ২৪টি থ্রিপিস/শার্টপিস ২৬৬ ঘনফুট কাঠ, ১৭৫ কেজি চা পাতা, ৬ হাজার কেজি কয়লা, ৪টি প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস, ৩টি পিকআপ, ২টি ট্রাক, ১২টি সিএনজি/ইঞ্জিন চালিত অটোরিকশা এবং ৭০টি মোটরসাইকেল। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি বন্দুক, ১টি পাইপ গান এবং ৩ রাউন্ড গুলি। এছাড়াও সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬১ জন চোরাচালানীকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ২১ জন বাংলাদেশী নাগরিক ও ১ জন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা,মানবপাচার চক্রের হোতা হাজী কামাল গ্রেপ্তার
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা ও দেশটিতে মানবপাচার চক্রের অন্যতম সদস্য কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে Rapid Action Battalion 3। আজ সোমবার (১ জুন) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন RAB এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার। এএসপি সুজয় বলেন, মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে ২৬ জন বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, হাজী কামাল মানবপাচার চক্রের অন্যতম সদস্য। তাকে নিয়ে আজ বেলা দেড়টায় রাজধানীর টিকাটুলিতে অবস্থিত RAB-3 কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
স্বাস্থ্যবিধি না মানা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যাত্রী সাধারণকে অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আপনারা অতিরিক্ত যাত্রী হবেন না। অর্ধেক আসন খালি রাখুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সংক্রমণ থেকে বাঁচুন অপরকে বাঁচান। হুড়োহুড়ি, বাড়তি যাত্রী হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। সোমবার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। গণপরিবহন চালু ও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সড়ক ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রেখে গাড়ি চালানো শুরু হয়েছে। সরকার বাস্তবতার প্রয়োজনে ভাড়া সমন্বয় করেছে। শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত মেনে গাড়ি চালানোয় অনুরোধ করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ভিজিল্যান্স টিম, মোবাইল কোর্টসহ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষকে অর্ধেক আসন খালি রাখা ও বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরার বিষয় তদারকি করার আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী। দেশবাসীকে সতর্ক করে সেতুমন্ত্রী বলেন, জনগণের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি অবনতি হলে সরকার আরও কঠোর হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকলেও লকডাউন শিথিল করছে। কোথাও কোথাও তুলে নিয়েছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জীবনের গতিপথে থেমে আসবে। অর্থনীতিও হয়ে পড়বে স্থবির। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বেছে নিতে হবে। সরকারের অর্থ ও খাদ্য সহায়তার কারণে করোনা সংকটকালে একজন মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি বলেও দাবি করেন সেতুমন্ত্রী।
দেশে করোনায় আরও ২২ জনের মৃত্যু,শনাক্ত দুই হাজার ৩৮১ জন
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৭২ জনে। এছাড়া একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩৮১ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৯ হাজার ৫৩৪ জনে। সোমবার (১ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুলেটিন উপস্থাপন করেন।
মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক,না মানলে ৬ মাসের জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর পর সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কেউ বাইরে বের হলে ৬ মাসের জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। বাইরে লোকজনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিলো সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন- করোনা থেকে নিরাপদ থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এখন নাগরিক দায়িত্ব। ঈদের পর সরকার সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোয় সাধারণ ছন্দে ফেরে দেশ। কাজে যোগ দেয়ায় বাইরে লোকজনের চলাচলও বেড়েছে। করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি থাকলেও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হয়েছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও, অনেককে দেখা গেছে মাস্ক ছাড়াই বাইরে চলাফেরা করতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। তবে সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায়, স্বাস্থ্যবিধি মানতে নতুন করে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের জেল হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছু খুলে দেয়ায় সংক্রমণ ঝুকি বেড়ে গেছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর মনিটরিং দরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় পাতার আরো খবর