স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব সংসদে
৩০জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব এসেছে জাতীয় সংসদে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান এ প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব করেন পীর ফজলুর রহমান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরে পীর ফজলুর রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দুরাবস্থার মধ্যে পড়ে আছে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকি মিনা কার্টুনের টিয়া পাখির দ্বারা চলছে। আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি। সেইসব গ্রামের মানুষ আমাকে বলেছেন যে, আপনি তো সংসদে কথা বলতে পারেন। আপনি প্র্রধানমন্ত্রীকে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে দেওয়ার কথা বলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে মানুষের এই কথাটি জানালাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। এদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে করোনা পরিস্থিতিতে উঠে আসা দেশের স্বাস্থ্য খাতের দুরাবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনলাইন শিক্ষণে শিশুদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান
৩০জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিকালে অনলাইন ও দূর-শিক্ষণে শিশুদের সার্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার (ইউনিসেফ) নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি রাবাব ফাতিমা। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতি থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ শিশুদের দূর-শিক্ষণ গ্রহণ একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেশে মাত্র ৩০ শতাংশ শিশুর এ সুযোগ রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে অনলাইন ও দূর-শিক্ষণে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি হওয়া উচিৎ বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ প্রাধিকারভুক্ত বিষয়। সোমবার (২৯ জুন) বোর্ডের বার্ষিক অধিবেশনের ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের প্রথম ভার্চ্যুয়াল আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে নিবেদিত ও সাহসী প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোভিড-১৯ সঙ্কট মোকাবিলায় বিশ্বশিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্বে দায়িত্বরত ইউনিসেফের কর্মীবাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান রাবাব ফাতিমা। বৈশ্বিক এই মহামারি মোকাবিলা ও উত্তরণে ইউনিসেফ গৃহীত কর্মসূচি যাতে সদস্য দেশগুলোর সরকার গৃহীত কর্মসূচিসমূহকে সমর্থন যোগাতে পারে এবং তা যেন সরকারি পদক্ষেপসমূহের পরিপূরক হয় সে আহ্বান জানান ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি। তিনি বলেন, সদস্য দেশসমূহে ইউনিসেফের নিয়মিত ও অবশ্য পালনীয় যেসব কর্মসূচি রয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ইউনিসেফের কর্মসূচিসমূহের পরিপূরক না হয়। বৈশ্বিক এই মহামারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের, স্বল্পোন্নত ও আফ্রিকার দেশসমূহ যে ভয়াবহ বাস্তবতা মোকাবিলা করছে তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, এমনকি সাধারণ হাত ধোয়ার মতো বিষয়টিও অনেক শিশুর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেননা পানি, পয়:নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে প্রবেশের সুযোগ থেকে এই শিশুরা বঞ্চিত। এছাড়া বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফের টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত বা হ্রাস হওয়ার ফলে কলেরা, পোলিও এবং হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। কোভিড-১৯ মহামারিকে জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি লিটমাস টেস্ট হিসেবে উল্লেখ করেন ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি। কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও উত্তরণে ইউনিসেফ গৃহীত কর্মসূচিসমূহ যাতে জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাগুলো গৃহীত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এক্ষেত্রে ইউনিসেফকে কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান এবং বৈশ্বিকভাবে সমর্থন জোগাতে সব ধরনের সহায়তা করতে নির্বাহী বোর্ড সদাপ্রস্তুত রয়েছে বলে পুনরুল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। সংস্থাটির মূল কাজগুলোকে সমুন্নত রাখতে ইউনিসেফের প্রতি উদার ও অব্যাহত সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসতে সবাইকে উৎসাহিত করেন তিনি। উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক মিস হেনরিয়েটা এইচ ফোর। তিনি ইউনিসেফের কর্মসূচিসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং ইউনিসেফ যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তাও উল্লেখ করেন। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত সদস্য দেশসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা স্ব-স্ব দেশের পক্ষে বক্তব্য দেন।
সৌদি আরবে নতুন রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পুলিশের সদ্য সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাবেদ পাটোয়ারী সৌদি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি আইজিপি নিয়োগ পেয়েছিলেন জাবেদ পাটোয়ারী। পরে তাকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদাও দেয় সরকার। জাবেদ পাটোয়ারী কর্মজীবনে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদরদপ্তর, সিআইডি ছাড়াও রাজশাহী ও খুলনার পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও পুলিশ স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট ও পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: নৌ প্রতিমন্ত্রী
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। সোমবার (২৯ জুন) সদরঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘটনার স্থান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে একথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএর নৌ দুর্যোগ তহবিল থেকে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এবং নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশব্যাপী ই-মিউটেশন বাস্তবায়নের স্বীকৃতি স্বরূপ ভূমি মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০ অর্জন করায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর/সংস্থায় কর্মরতসহ ই-মিউটেশন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে দেশব্যাপী নামজারির প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ই-নামজারি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ফলে জনগণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে নামজারি করতে পারছে। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মর্যাদা 'ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০' অর্জন করেছে। আমি আশা করি, সব মন্ত্রণালয় এটা অনুসরণ করবে। চলতি মাসের ৫ জুন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের (ডেসা) আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল লিউ ঝেনমিন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাকে একটি চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এ পুরস্কারের কথা জানান। এরপর ১৬ জুন জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ৭টি দেশের ৭টি প্রতিষ্ঠান কিংবা উদ্যোগের নাম ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদের স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমিসেবা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর সম্পন্ন করছে। ই-মিউটেশন এরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০ প্রাপ্তি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সবার সম্মিলিত অর্জন। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং ভূমিসচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারীর তত্ত্বাবধানে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে তিন পার্বত্য জেলা ব্যতিত সারাদেশে ই-মিউটেশন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কাজে কারিগরি সহায়তা করছে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প। ভূমি সংস্কার বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) মাধ্যমে ই-নামজারি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
যে সংকটই আসুক সরকার শক্তভাবে মোকাবিলা করবে: প্রধানমন্ত্রী
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামীতে দেশের সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ভাষণ দেওয়ার সময় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। এসময় করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে। দেশে কোনো সংকট হতে দেবে না। আমরা বাজেট বাস্তবায়নে অতীতে ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবো না। আমরা কখনও হতাশায় ভুগি না। যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হবো। বিশ্ব মানদণ্ডে আমাদের শক্তিশালী অবকাঠামো আছে। চলতি জুন মাসেও আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। তাই যত বাঁধাই আসুক, তা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, এগিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু আমরা না, সারা পৃথিবীতেই এই অবস্থা। এ পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদের বাজেট দিতে হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কিন্তু আশা করি ২০২১ সালে বিশ্ব ধীরে ধীরে করোনার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসবে। আমরা আশাবাদী যে, উত্তরণ ঘটবে। এ কারণেই উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়েছি। বক্তব্যকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ সরকারের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা করোনা মোকাবিলা করছি, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলা করেছি। আগামীতে বন্যা আসবে, সেটাও মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য প্রস্তুত আছি। আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায়। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এতে মৃত্যুহার কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়, গ্রহণযোগ্য নয়, আমরা এটা চাই না। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। মানুষও নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। করোনায় আমাদের মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ, যেখানে ভারতে তা ৩.০০ ও পাকিস্তানে ২.০৮ শতাংশ। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আমরা মৃত্যুর হার নিম্ন রাখতে সক্ষম হয়েছি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তেমন ক্ষতি হয়নি, যা প্রকৃতিক দুর্যোগে হয়। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে হয়তো করোনার প্রতিষেধক চলে আসবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমরা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ লাখ ৩ হাজার ১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। বাংলাদেশ আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দেড় হাজার সাংবাদিক ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন: তথ্যমন্ত্রী
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোভিড-১৯ সংকট পরিস্থিতিতে দেড় হাজার সাংবাদিককে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এই অনুদান দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। সোমবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। হাছান মাহমুদ বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসে দেশের সংবাদকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করছেন। তাদের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার ৫০০ সাংবাদিককে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও সাংবাদিককে এ অনুদান দেয়া হবে। এ ছাড়া এই ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের মাঝে তিন কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হবে। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, সাংবাদিকরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসাসেবা পান, এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সূত্র : যুগান্তর
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি, শিশুসহ ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার
২৯জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর শ্যামবাজার ফরাসগঞ্জে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, লঞ্চটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চে দেড়শরও বেশি যাত্রী ছিল। ফায়ার সার্ভিসের সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি ইউনিট অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিউজ একাত্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম। কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া উইং এর কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার হায়াৎ ইবনে সিদ্দিক জানান, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ জন নারী, ২৩ জন পুরুষ এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহ থাকবে এখনও মরদেহ থাকতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে। জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) সকাল নয়টার দিকে ময়ুর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। কেরানীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে মেরামত শেষে ময়ূর-২ নদীতে নামানোর সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন নিউজ একাত্তরকে জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। উদ্ধার তৎপরতা শেষে ফায়ার সার্ভিস আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নৌবাহিনী,ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ। এদিকে খবর পেয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রওনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর