এসকে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলা
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। সোমবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় নাজমুল হুদা নিজে গিয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শামীম আহসান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলাটি নাজমুল হুদা করেছেন গত ২৭ সেপ্টেম্বর। মামলা নং ৪৯। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ একটি বই প্রকাশের জের ধরে সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। নিউইয়র্কে ওই বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সিনহাকে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নামার কথা জানিয়েছে। এরপরই জানা গেল বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়া নাজমুল হুদার মামলা করার কথা। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছাড়াও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। কয়েক বছর আগে বিএনপি ছেড়ে প্রথমে বিএনএফ গঠন করেন। সেটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল বিএনপি নামে দল গঠন করেন নাজমুল হুদা। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএ) নামে একটি জোট গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দেয়ার চেষ্টা করছেন। আলোকিত বাংলাদেশ
ভোটের রাজনীতিতে পারবে না যারা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: যারা ভোটের রাজনীতিতে পারেনি তাদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আছে। তাদের চক্রান্ত অনবরত চলছে। তারা জানে, তারা ভোটের রাজনীতি পারবে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আছে। তাই একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথেই হাত মেলায়, খুনি-ঘাতকদের সাথে হাত মিলিয়ে সারাক্ষণ আমাদের বিরুদ্ধে লেগে থাকে। তিনি বলেন, ২০০১ সালে গভীর চক্রান্ত করে আমাদের আসতে দেয়নি এবং ১৯৯১ সালে এই চক্রান্ত আমার দলের ভিতরেও ছিল বাইরেও ছিল। দলের ভিতর চক্রান্তটা কোথায়? যাই হোক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক আমি যেন কিছু না হতে পারি। ওটা করতে গিয়ে এমন এমন প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হল যারা জিতে আসতে পারেনি। আর যাদের আমরা মনোনয়ন দেই নাই। দিলে তারা জিততো তাদের তারা লুফে নিলো, এরকম বহু ঘটনা ও অভিজ্ঞতা আমি বলছি এবং বহু আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে শক্তি চক্রান্ত করে ১৫ আগস্ট ঘটাল এদেশে। যে শক্তি বারবার আঘাত হেনেছে। শুধু ২১ আগস্ট না, ৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি বা ৮১ সাল থেকে আমি বাংলাদেশে পা দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তার পেছনে তারা রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বোধহয় সেজন্য বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু ওই রকম বারবার মৃত্যুকে মুখোমুখি নিয়ে চলা, এটা অনেকেই চলতেও পারে না। সে সাহসও পায় না। সেভাবে করতেও পারে না। তারপর আবার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত মোকাবিলা করতে হয়েছে। কারণ আমাদের দেশে একটা শ্রেণি; ৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনঅর সাথে জড়িত তারা তো রয়ে গেছে। তাদের বংশধর তো রয়ে গেছে। তাদের চক্রান্ত তো অনবরত চলছে এবং তারা করেই যাচ্ছে। সেখান থেকে একটা শ্রেণি গড়ে উঠেছে, তারা জানেই যে তারা ভোটের রাজনীতি পারবে না। তারা জানে যে তারা দল করতে পারে না। তারা মাঠে যেতে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ তাদের। শেখ হাসিনা বলেন, এই ক্ষমতার লোভে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সাথেই তারা হাত মেলায়, খুনিদের সাথে ঘাতকের সাথে হাত মিলায় এবং তারা কিন্তু সারাক্ষণ আমাদের বিরুদ্ধে লেগেই থাকে। সেটা আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু পত্রিকা আছে আমি জানি তারা প্রস্তুত অনেকগুলি তথ্য নিয়ে বসে। তারা একটার পর একটা ছাড়বে। যেখানেই আমাদের কোন অর্জন, যেখানেই মানুষ একটা বাহবা দিচ্ছে, সেখানেই প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আর আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেই হোক বা দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেই হোক সেগুলোকে খুব গুরুত্ব দিয়েই আমাদের লোকগুলোর বিরুদ্ধে লেগে যায়। কাজেই এইসব ব্যাপারে আমাদের কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, যত অর্জন তা জনগণের দান। সুযোগ দিয়েছে বলেই বলেই এতো সাফল্য সাফল্য। ১৯৭৫ এর পর বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পিছিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সম্মান আজ ফিরে পেয়েছে। এর আগে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল ৯টার পর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলন আজ
অনলাইন ডেস্ক: আলটিমেটামে সাড়া না দেয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে নতুন কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। ঐক্য প্রক্রিয়ার নতুন কর্মসূচির জানান দিতে আজ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন। ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বেলা ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন থেকে পরবর্তী করণীয়সহ কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করা হবে। ২২ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে সময় বেঁধে দেন ড. কামাল হোসেন। এতে বলা হয়েছিল, দাবি আদায়ে ১ অক্টোবর থেকে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সারা দেশে সভা-সমাবেশ করবেন। একই সঙ্গে সারা দেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য নামে কমিটি গঠনের আহ্বানও জানানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে চিকিৎসা নিতে ব্যাংকক যান ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানান, চিকিৎসা শেষে ৬ বা ৭ অক্টোবর ড. কামাল দেশে ফিরবেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা রোববার বিকালে তাদের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে বৈঠক করেন। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জানান দিতে এ বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারকে দেয়া আলটিমেটাম মাত্র শেষ হল। আমরা বসে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন অসুস্থ। হাঁটুর চিকিৎসা নিতে তিনি এখন ব্যাংককে। তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বসে কর্মসূচি ঠিক করবেন। এক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্ট যৌথভাবেও বৈঠকে বসবে। এ বৈঠকে আলাপ আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের ধারা সৃষ্টি করেছি। এ ধারাকে এগিয়ে নেবই। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন বলেন, আগামী ৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা মানববন্ধন করব। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি আসতে পারে। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা আমাদের কথা জানান দেব।
অবকাশকালীন ছুটি শেষে সোমবার থেকে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ৪৬ দিন অবকাশকালীন ছুটি শেষে সোমবার (১ অক্টোবর) থেকে সুপ্রিমকোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সকল আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা চলমান অবকাশকালীন ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস কাল ১ অক্টোবর সোমবার সকালে সাড়ে দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মুল ভবনের ভেতরের লনে অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে প্রতি অবকাশের পর প্রধান বিচারপতি আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ সকল আইনজীবীদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ আগস্ট থেকে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঈদ-উল আযহার ছুটি, সরকার ঘোষিত অন্যান্য ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং কোর্টে অবকাশের কারণে প্রায় দেড় মাস সুপ্রিমকোর্টে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এ সময়ে জরুরি বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে অবকাশকালীন বেঞ্চ বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে অবকাশকালীন বিভিন্ন বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে দিয়ে আদালত নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এসব বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানটি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেয়। লন্ডন পৌঁছার পর শেখ হাসিনা সেখানে যাত্রাবিরতি করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। লন্ডনে ১০ ঘণ্টার বেশি যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশে সময় আজ রাত ১১টা ২০ মিনিটে) ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন। সোমবার সকালে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং ওই দিন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সতর্ক পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক: দুই দফা পিছিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে যোগ দিতে জড়ো হচ্ছেন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার সকালে রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও সমাবেশস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এরপরও কেউ যদি কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। পুলিশ জানায়, জনসমাগম ঘটিয়ে যাতে কোনো সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সার্বিক প্রস্তুতিও রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের শর্তগুলো মেনেই সমাবেশ হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, কর্মসূচির নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ৫ জানুয়ারি সমাবেশ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির ঢাকাসহ দেশব্যাপী নাশকতা চালিয়েছিল। সে কারণে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে। বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামিদের ওপর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ফকিরাপুল, মতিঝিল, খিলগাঁও, রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে। সমাবেশের প্রবেশের গেটগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ ইউনিটকে।
১০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ
অনলাইন ডেস্ক: ১০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম এবং সিলেটে নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বরগুনা, পিরোজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, নড়াইল, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক অতুল সরকারকে জয়পুরহাট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব সেবাস্টিন রেমাকে গাইবান্ধা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিনকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক করে পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী আবেদ হোসেন ঠাকুরগাঁও, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী পটুয়াখালী এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব কে এম কামরুজ্জামান সেলিম চাঁদপুরের ডিসির দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব মো. মাহমুদুল আলমকে দিনাজপুরে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত উপসচিব আতাউল গণিকে মেহেরপুর, ভূমি মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে কুড়িগ্রাম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম কাজী এমদাদুল ইসলামকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে ডিসি হিসেবে। আলাদা আদেশে ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি মো. আক্তারুজ্জামানকে রাজউকের পরিচালক, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খানকে জীবন বীমা করেপোরেশনের জিএম এবং দিনাজপুরের ডিসি আবু নাঈম মুহাম্মদ আব্দুস সবুরকে রাজউকের পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। মেহেরপুরের ডিসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক, জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মদ হোসেনকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব এবং গাইবান্ধার ডিসি গৌতম কুমার পালকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব করেছে সরকার। এছাড়া সিলেটের ডিসি নুমেরি জামানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভিনকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং পটুয়াখালীর ডিসি মো. মাছুমুর রহমানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে কি না সেটা সেই দলের স্বাধীনতার বিষয়। এটা নির্বাচন কমিশনের সমস্যা নয়। রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না এলে সেই দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। বৃহষ্পতিবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। সিইসি বলেন, তবে নির্বাচন কমিশন চায়, সবদলের অংশগ্রহনে দেশে প্রতিযোগীতামূলক, প্রতিদ্বন্দিতামূলক, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হোক। এ জন্য কমিশন সব প্রস্ততি গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির নিবন্ধন ঝুঁকির মুখে পড়বে। নির্বাচন কমিশন আশাবাদি, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ইভিএম ব্যবহারের চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার কমিশনও চাচ্ছে না। তবে ভোটকেন্দ্রে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সিইসি বলেন, ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আইনের পরিবর্তন করাতে হবে। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইন পাস হলে সীমিত আকারে যতটুকু সম্ভব হবে, ততটুকু ব্যবহার করার চেষ্টা করা হবে। তবে তার আগে ইভিএম নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে এ পদ্ধতি সর্ম্পকে সচেতন করা হবে। দেশজুড়ে উন্নয়ন মেলায় ইভিএম সর্ম্পকে প্রদর্শন থাকবে। সেই প্রদর্শনী দেখে রাজনৈতিক দল, জনগণ সন্তুষ্ট হলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সিইসি দাবি করেন, ইভিএম এমন এক পদ্ধতি যেখানে নির্বাচনে কোন অনিয়ম করা সম্ভব নয়। ইভিএম নিয়ে বিএনপিকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না প্রথম আলোর এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এখনো ঠিক হয়নি, এটা পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। সিইসি নুরুল হুদা আরও জানান, নির্বাচন কবে হবে সেটা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তবে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রস্ততি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ নূরে আলম সিদ্দিকী, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আশরাফ আলী ভূঞা, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার রাজশাহী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, র‌্যাব-১২ বগুড়া কমান্ডার মেজর এসএম মোর্শেদসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও সার্ভার ষ্টেশনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর