মহান মে দিবস আজ
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার, মহান মে দিবস। প্রতি বছর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বর্ণাঢ্য Raily ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি এই দিনে পালন করা হতো। কিন্তু এ বছর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দিবসটির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া গণমাধ্যমগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা। কিন্তু আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমাতে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। এতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত ও গ্রেপ্তার হন আরো বহু শ্রমিক। পরে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ছয়জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভ আরো প্রকট আকার ধারণ করলে সারাবিশ্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১ মে কে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পহেলা মে- মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।
করোনায় আরও এক পুলিশের মৃত্যু
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আরও এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সুপার হাসান উল হায়দার। তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী পুলিশের নাম নাজের উদ্দীন। তার বয়স ৫৫ বছর। তিনি বিশেষ শাখায় (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্বরত করতেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া নাজের উদ্দীন অ্যাজমা ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন বলে জানান হাসপাতালের সুপার হাসান উল হায়দার।
আজ থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার (১ মে) থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কৃষি ও পচনশীল পণ্য পরিবহনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন অবস্থায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য, শাকসবজি ও পচনশীল সামগ্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা এবং খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে তিন জোড়া পার্সেল বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ১ মে থেকে কার্যকর হবে। চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সকাল ১০টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত সাড়ে ৮টায়। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটের ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় এবং ঢাকায় পৌঁছবে রাত সোয়া ৩টায়। খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে খুলনা থেকে ছাড়বে বিকেল ৫টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত সাড়ে ৩টায়। এটি সপ্তাহের শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার চলাচল করবে। অন্য দুটি রুটের ট্রেন সপ্তাহের ৭ দিনই চলাচল করবে বলে রেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কওমি মাদরাসার নেতৃবৃন্দ। কওমি মাদ্রাসার রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও আল জামিয়াতুল কারিমিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসার সহ-অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউনুস আলী অনুদান পাওয়ার পরে আজ বিকেলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আগের বারের মতো, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে এবারো দেশের মাদ্রাসাগুলোর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা আমাদের মনোবলকে চাঙ্গা করেছে। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের মোট ৭০৩ টি মাদ্রাসা ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অনুদান পেয়ে গেছে। আলী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘজীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি এবং প্রার্থনা করি যাতে দ্রুত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, তারা (কওমি মাদরাসা নেতারা) প্রার্থনা করছেন যাতে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতিটি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। কওমি মাদরাসাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও খুলনা কওমি উলামা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন কাসেমী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এটি প্রধানমন্ত্রীর এক মহৎ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেছেন উল্লেখ করে কাসেমী বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তাদের কেউই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মতো ইসলামের সেবা করেননি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ইসলামের সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। খুলনা মহানগরীর আল মাহাদ আস-সালাদী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ (আর্থিক সহায়তা প্রদান) কওমি মাদ্রাসায় জড়িত সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী স্টাডিজ ও আরবি স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মর্যাদার সঙ্গে কওমি মাদ্রাসায় দাওরা-ই হাদীস সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় বৈষম্যের অবসান করেছেন। মাওলানা মামুন আরও বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ইসলামের বিস্তারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বিপদের দিনে কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে রাজশাহীর জামেয়া ইসলামিয়া শাহ মুখদুমের অধ্যক্ষ মুফতি শাহাদাত আলী বলেন, এটি দেশের কোন সরকারের কওমি মাদরাসার জন্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। তিনি বলেন, এ কারণেই কওমি মাদ্রাসাগুলোর পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক ব্যক্তি। মুফতি আলী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আমার মাদ্রাসার জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি এবং যা আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করব। কেবল দরিদ্র ও অসহায় শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য কওমি মাদ্রাসায় আসে উল্লেখ করে মুফতি আলী বলেন, সুতরাং, এই সহায়তা তাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো উৎসাহিত করবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক বরকুল্লাহ বিন দুরুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৬,৯৫৯ টি কওমি মাদ্রাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে ৭০৩ টি রংপুর বিভাগে, রাজশাহী বিভাগে ৭০৪, খুলনা বিভাগে ১,০১১, বরিশাল বিভাগে ৪০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯৭, ঢাকা বিভাগে ১,৭৮০, চট্টগ্রাম বিভাগে ১,৪৮১ এবং ৪৮১ টি সিলেট বিভাগে অবস্থিত।
করোনা রোগী চিকিৎসায় ২০০০ চিকিৎসক, ৫০৫৪ জন নার্স নিয়োগ
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় জরুরি প্রয়োজনে দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পদ স্বল্পতায় ক্যাডার পদ না পাওয়াদের মধ্য থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে দুই হাজার জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। আর সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে পাঁচ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ কিন্তু সুপারিশ প্রাপ্ত নন এমন ৮১০৭ প্রার্থীর মধ্যে থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সাময়িক সুপারিশ করেছে। এছাড়াও সিনিয়র স্টাফ নার্স ৫০৫৪ প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলাফল পিএসসি ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd)-তে পাওয়া যাবে।
গৃহহীনদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে : ওবায়দুল কাদের
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশের গৃহহীনদের আবাসন ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা করতে দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে। ওবায়দুল কাদের আজ বৃস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অসহায় গরিব মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আগে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে নেতাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনা সঙ্কটে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ঢাকার আশপাশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো সীমিত আকারে চালু করা হয়েছে। এসব ফ্যাক্টরিগুলোতে ঢাকায় অবস্থানকারী শ্রমিকদের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মালিকরাও তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে অসংখ্য শ্রমিক ঢাকায় প্রবেশ করছে। তারা যাতে চাকরি না হারায় এ বিষয়ে মালিকদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে করোনা সঙ্কট মোকাবেলা করতে হবে। পরে তিনি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরিব অসহায় মানুষের জন্য ২২০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু উপস্থিত ছিলেন।
আশা জাগানিয়া সংবাদ প্রকাশ করুন : তথ্যমন্ত্রী
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দুর্যোগের মধ্যে আশা জাগানিয়া সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে জীবনসংগ্রামে টিকিয়ে রাখার মনোবল যোগতে সংবাদপত্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশাই মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবন সংগ্রামে টিকিয়ে রাখে। সেজন্যই আমি সেই সংবাদগুলো প্রকাশের অনুরোধ জানাবো, যেগুলো মানুষের মাঝে আশা জাগাবে। মানুষকে জানাবে যে, আগামীতে সমস্ত অন্ধকার কেটে গিয়ে সুদিন আসবে। হাছান মাহমুদ আজ দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। তথ্যসচিব কামরুন নাহার, নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ এবং এসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, তারিক সুজাত, শাহ হোসেন ইমাম, নঈম নিজাম, আলতামাশ কবির মিশু ও সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা চেষ্টা করবেন যাতে করে ইতিবাচক সংবাদগুলো বেশি করে আসে। এসময়ে ইতিবাচক সংবাদ খুব জরুরি। কারণ হতাশাগ্রস্ত ও শংকিত মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত। এই সময়ে মানুষকে আশাবাদী করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও অনেক সময় নেতিবাচক সংবাদ আসে, যেগুলো অনেকসময়ই বাস্তবচিত্রের পরিস্ফুটন নয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, আমি দেখেছি যে গতকাল বিদেশি গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ এসেছে, যেটি এখানে অনেক পত্রিকায়ই ছাপা হয় নাই। এইজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তথ্যমন্ত্রী বলেন সংবাদপত্র ও সরকার, আমরা আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। কারণ আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই আমরা সবাই একযোগে কাজ করবো। নোয়াব সভাপতি একে আজাদ সরকারি ক্রোড়পত্রসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল যাতে সংবাদপত্রগুলো দ্রুত পেতে পারে সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরো জোরালো ভূমিকা নেয়াার অনুরোধ করেন। একইসাথে সংবাদপত্রের জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও সংবাদপত্রের হকার, পরিবহন শ্রমিক ও এজেন্টদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিষয়গুলো সুবিবেচনার দাবি জানান। এপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংবাদপত্রের যে বকেয়াগুলো আছে, সেগুলো পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ থেকে চিঠি দিয়ে দেয়া হয়েছে, যাতে সব মন্ত্রণালয় সংবাদপত্রের বকেয়া পরিশোধ করে। তিনি বলেন,সে প্রেক্ষিতে আমরা আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটা তাগিদপত্র সব মন্ত্রণালয়ে দেব। ড. হাছান আরো বলেন, আপনারা সংবাদপত্র পরিচালনায় যে ঋণের কথা বলেছেন, সেবিষয়েও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলবো। কারণ আমার দৃষ্টিতে সংবাদপত্র একটি সার্ভিস সেক্টর। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প হিসেবেও আপনারা কিছু সুবিধা পান, পাশাপাশি সার্ভিস সেক্টর হিসেবেও আমি মনেকরি এখানে সুযোগ রয়েছে। এর পর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিনিধিবৃন্দ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও সদস্য মোতাহার হোসেন মন্ত্রীর সাথে মতবিনিময়কালে সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের পরিবারের জন্য সাহায্য কামনা করেন। সেইসাথে করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা ও ডিআরইউ সদস্যদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার আবেদন জানান প্রতিনিধিবৃন্দ।- বাসস
করোনায় জীবন দিলেন আরও দুই পুলিশ সদস্য
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আরও দুই সদস্য। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে মারা যান তারা। তাদের একজন হলেন ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণে কর্মরত এএসআই আব্দুল খালেক (৩৬)। আরেকজন ট্রাফিক উত্তরের এয়ারপোর্ট এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২)। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএমপির পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, প্রাথমিকভাবে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর এএসআই আব্দুল খালেককে আরামবাগে একটি হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হয়। বুধবার তার করোনার পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার করোনায় পজিটিভ আসে। এদিন বিকেল থেকে আব্দুল খালেকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন কোয়ারেন্টাইনে অবচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। সেখান থেকে হাসপাতালে নেবার পর রাত সোয়া ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল খালেকের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঝোপখালী গ্রামে। তার বাবার নাম আজিম উদ্দিন মৃধা। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, শান্ত, বিনয়ী, দায়িত্বপরায়ন ও কর্তব্য পালনে নিরলস, নিরহংকার, সদা হাস্যোজ্জল স্বভাবের ছিলেন এএসআই আব্দুল খালেক। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। অন্যদিকে ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরের সহকারী কমিশনার (এডমিন) বদরুল হাসান বলেন, ট্রাফিক উত্তরের এয়ারপোর্ট এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মারা যান। তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে সিদ্ধেশ্বরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুলিশ তত্ত্বাবধানের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টারে রাখা হয়। গত ২৬ এপ্রিল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ আসে। বুধবার তার অবস্থার অবনতি হলে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়। বাংলাদেশে করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী হলেন কনস্টেবল জসিম। তিনি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মারা যান। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমিপ) ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ে।
সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের মতো এমন মহাদুর্যোগে দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত সারাদেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী (২৯ এপ্রিল পর্যন্ত) চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৮৩ মেট্রিক টন। বিতরণকৃত চালে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৭৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩৫ টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ১৯ হাজার ৭২ জন। সারাদেশের ৬৪ জেলায় এ পর্যন্ত নগদ টাকা ৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে নগদ সাহায্য হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৩ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৪৪ লক্ষ ৭৮ হাজার এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা দুই কোটি ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার জন। এছাড়াও শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ১০ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৭১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা দুই লক্ষ ৫০ হাজার এবং লোক সংখ্যা পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ২২৮ জন।