কলেজ ছাত্র মোমিন হত্যা: দুই জনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয় জনের যাবজ্জীবন বহাল
ঢাকার কাফরুলের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। এ মামলায় প্রধান আসামি ওসি রফিক মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। মামলার বিবরণে জানা যায়, মতিঝিল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রফিকুল ইসলাম এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। এ কারণে মামলাটি বহুল আলোচিত। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হন কলেজছাত্র মোমিন। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন দিলে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া এ তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর এ অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। পরে একই আদালতেই মামলার শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।
মন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার রাতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সংসদ ভবনের অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নৌমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতিও। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গাও মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে আপিল ছাড়াও সরকারের আইন, শ্রম এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেতে ধারাবাহিক মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া হাইকোর্টের এ রায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আলাদা আলোচনা সভা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেলসহ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের কমবেশি ৩০ জন নেতা অংশ নেন। বৈঠক শেষে পরিবহন নেতারা পার্লামেন্ট ক্লাবে রাতের খাবার সারেন। বৈঠকে অংশ নেয়া পাঁচজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আইনিভাবে বিষয়টি লড়াই করব। এর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি, এর বেশি কিছু নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহন নেতা বলেন, এর আগে এক চালককে সাজা দেয়ার ঘটনায় সারা দেশে পরিবহন ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছিল মালিক ও শ্রমিকরা। ওই ঘটনার আগে নৌমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক করেছিলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকনেতারা। এবার তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায়ের পর শাজাহান খানের সংসদ ভবনের অফিসে বৈঠক করেন পরিবহন নেতারা। সেখানে আইনি ও কৌশলগত- উভয়ভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ তা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছি। উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করে এর বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার কোনো আন্দোলনে যাচ্ছি না। হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের পরিবারকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। বৈঠকে অংশ নেয়া শ্রমিকনেতা ওসমান আলী বলেন, আমরা চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেগুলো হচ্ছে- রায়ের কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। রায়ের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করব। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। চতুর্থত, রায়ের বিষয়টি নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই আলোচনা সভায় নিজ নিজ সংগঠনের নেতাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া নেয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেয়া এক পরিবহন নেতা বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকনেতারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা হয়েছে। একটিতেই ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় এসেছে। অপর মামলায় ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় এলে ওই টাকার জোগান কীভাবে করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পরিবহন নেতারা বলেন, যে কোনো দুর্ঘটনায় এ রায়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক মামলা দায়ের হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যবসা সংকটের মুখে পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান নিরাপত্তা ঝুঁকি ,শংকা আইসিজি
বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি বলে সতর্ক করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। বৃহস্পতিবার তারা এই সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। বলেছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে উগ্রবাদে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা থেকে মিয়ানমারে আন্তঃসীমান্তে হামলা বাড়তে পারে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। গত ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩০টি ক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এতে সেনা সদস্য সহ ১১ জন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধমুলক হামলা শুরু করে সেনারা। তাদের নৃশংসতা সব নীতিকে লঙ্ঘন করে। এতে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। আইসিজি এক রিপোর্টে বলেছে, আরসা নতুন করে পুনর্গঠিত হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই তারা ভবিষ্যতে অপারেশন চালানোর জন্য চোখ দিতে পারে আশ্রয় শিবিরগুলোতে। এখান থেকে সদস্য সংগ্রহ করতে পারে। এতে আরো বলা হয়, এক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে সদস্য সংগ্রহের ও প্রশিক্ষণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এভাবে পুনর্গঠিত হয়ে তারা আন্তঃসীমান্ত হামলা চালাতে পারে। এ থেকে সহিংসতা আরো গভীরে চলে যাওয়ার বাস্তব ও বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এমন হামলা হলে তাতে নেতিবাচক প্রচাভ পড়বে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কে। রোহিঙ্গাদের পরিণতি হবে আরো ভয়াবহ। ফলে আরো রোহিঙ্গা ফেরত আসতে পারে। ওদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ থাকলেও মিয়ানমারের ভিতরে নেয়া হয়েছে কড়া প্রতিরক্ষামুলক ব্যবস্থা। আরসার উত্থানের পর সেখানে রোহিঙ্গা বিরোধী অবস্থান আরো কড়া হয়েছে। আরো একটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে আইসিজি। তারা বলেছে, মুসলিম বিশ্বের কাছে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা একটি চাঞ্চল্যের কারণ হয়ে উঠেছে। ওদিকে মিয়ানারে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে আল কায়েদা, ইসলামিক স্টেট ও বিশ্বের বিভিন্ন জিহাদী গ্রুপ। অন্যদিকে সন্ত্রাসী ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অভিযানের বৈধতা দাবি করছে বার বার। তবে এসব গ্রুপের থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখছে আরসা। তারা বলেছে, তারা শুধুর রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। ওদিকে নৃশংসতার কারণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছেই। এ সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে তা গণহত্যা। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান। ওদিকে দুএক মাসের মধ্যে বৈধ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে এ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বলা হয়ছে, কত সংখ্যক রোহিঙ্গা নিজেদেরকে বৈধ প্রমাণ করতে পারবেন এবং ফিরে যেতে পারবেন রাখাইনে সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা যে এলাকাকে গ্রাস করেছে সেখানে কি তারা ফিরে যেতে চান কি না? এমন সব প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এসে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের মিত্র চীন। তবে মিয়ানমারের ওপর টার্গেটেড অবরোধ দেয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে ওয়াশিংটনে। বুধবারও সেখানকার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই :সিইসি
আগামী ২১শে ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে চলছে সব প্রস্তুতিও। নির্বাচন প্রার্থী ও কমিশন সবাই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছে নির্বাচনের জন্য। তবে এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর আছে।নির্বাচন ভালো হবে, সুষ্ঠু হবে। বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নূরুল হুদা বলেন, এখন ২২ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। কাল থেকে ৩৩ জনের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। এখন থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টাকা ছড়ানোর বিষয়টি নজরে আসলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা প্রয়োজন সেটাই করা হবে। নির্বাচনে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে : জয়
তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা প্রাথমিক স্তর থেকে বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ উপলক্ষে মিনেস্টিরিয়াল কনফারেন্সে তিনি একথা জানান। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আইটিতে দক্ষ হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে আইটি শিখবে। তারা মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষ হয়ে উঠবে। প্রাথমিক স্তরে আইসিটি শিক্ষার জন্য পাঠগুলো খুব বেশি কঠিন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে। শিল্পখাতে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে জানিয়ে জয় বলেন, আগামীতে প্রতিটি শিল্পখাত প্রযুক্তি নির্ভর হবে। তথ্য প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে সরকার নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করছে।
বিপুল আমদানী নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০ লাখ টাকা সমমূল্যের আমদানী নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ট্যাবলেট ও ইনজেকশন জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেন্টিভ টিম। বুধবার রাতে এসব ওষুধ জব্দ করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বিষয়টি জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস হাউজের প্রিভেন্টিভ টিমের সহকারী পরিচালক সাইদুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের হাবরা এলাকার বাসিন্দা সজল বনিক স্পাইসজেট এয়ারওয়েজের (কলকাতা-ঢাকা) একটি ফ্লাইটে (এসজি ৭১) শাহজালালে পৌছান। গোপন সংবাদ থাকায় তার উপর নজরদারী রাখা হয়। সজল বিমান বন্দরের গ্রীন চ্যানেল অতিক্রমের পর তার ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়। পরে ব্যাগ থেকে বিভিন্ন প্রকার আমদানী নিষিদ্ধ মূল্যবান ওষুধ (ট্যাবলেট ও ইনজেকশন) উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ বিষয়ে শুল্ক আইন ১৯৬৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাইদুল আরও জানান, আমদানি নীতি অনুযায়ী রোগীর ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত বা ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ বাংলাদেশে আমদানি করা যাবেনা।
নব্য জেএমবির চারজন গ্রেপ্তার
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫টি গুলি, ম্যাগাজিন, ১টি চাপাতি ও ৪টি বর্মিজ চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার, শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি মিজান, সক্রিয় সদস্য আলমগীর ওরফে আরিফ, সক্রিয় সদস্য আফজাল ওরফে লিমন।বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল আক্তার নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান। তাঁর সাংগঠনিক নাম বাবুল মাস্টার। বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়। ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের পর নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বাবুল। রাজীব গান্ধী গ্রেপ্তার আছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত
দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৪ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪০০, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩০, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৭৫ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
তৃতীয়বারের মতো মুলতবি নাইকো আপিল
কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সের সঙ্গে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি আবার মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।এর আগেও এ বিষয়ে দুই দফা শুনানি মুলতবি করে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নাইকোর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম।নাইকোর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলার করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নাইকোর বাংলাদেশের সব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। গ্যাসকূপের বিস্ফোরণে সরকারকে ক্ষতিপূরণ না দেয়া পর্যন্ত নাইকোর বকেয়া (অর্থ) টাকা পরিশোধ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেয় আদালত।এ সংক্রান্ত রিট আবেদনে দেওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ এ রায় দেন। এ রায়ের বিষয়ে আপিলে যায় নাইকো।জানা গেছে, বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা দুটি চুক্তি করে। এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের (জয়েন্ট ভেনচার) চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে অন্য চুক্তি হয়েছিল।কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন।রিট আবেদনে বলা হয়, ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার চুক্তি সঠিকভাবে হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে হয়েছে।এছাড়া ২০০৫ সালে ছাতকে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি নাইকো। ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ আদায়ের মামলা নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। এ কারণে বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পত্তি জব্দ করা প্রয়োজন বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে চুক্তি দুটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে তার জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের ওপর শুনানি ২৪ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট, যাতে চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে নাইকোর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর