রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকরা
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় সচিবালয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জাব্বার এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক উপস্থিত আছেন। সম্পাদকদের মধ্যে আছেন নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজের নূরুল কবির, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, ইনকিলাবের এ এফ এম বাহাউদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন। যুগান্তরের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম, সংবাদের খন্দকার মনিরুজ্জামান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন এবং নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা প্রস্তাবিত আইনটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। এই আইনটি পাস হলে বহুল আলোচিত তথ্য প্রযুক্তি আইনটির পাশাপাশি এর সমালোচিত ৫৭ ধারাও বিলোপ হবে। ৫৭ ধারা অনেক বেশি ব্যাপক এবং বিস্তৃত বলে অনলাইনে যে কোনো সমালোচনামূলক লেখনির বিরুদ্ধেই এই ধারা ব্যবহারের সুযোগ আছে বলে সমালোচনা আছে। প্রস্তাবিত আইনে ৫৭ ধারাকে আরও সুনির্দিষ্ট করে বিভিন্ন ধারায় সংযোগজ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত আইনের বিশেষ করে ৩২ ধারা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সমালোচনা করে আসছেন সাংবাদিকরা। এই ধারায় বলা আছে,যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোন গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। এই গুপ্তচরবৃত্তির সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য নানা সময় এই ধারার কারণে সাংবাদিকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবেন না বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি চূড়ান্ত নয়। এখানে সাংবাদিকদেরকে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আদালত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের সংগঠন 'ল রিপোর্টার ফোরাম এর সঙ্গে এর আলোচনায় আইনমন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন, ৩২ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা হবে না। এই ধারায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে বিনা পয়সায় মামলা লড়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
আরও দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেল
অনুমোদন পেল আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন দুই বিশ্ববিদ্যালয় হলো খুলনায় খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মহিউদ্দীন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় দুটি অনুমোদনের প্রস্তাব আগেই পাঠানো হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার এই দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৯টিতে। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমোদন পাওয়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। তিনি আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অনুমোদন নিয়ে ঢাকায় সেটি পরিচালনা করছেন। ২৩ শর্তে নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি জেড এন আর এফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি স্থাপন করা হবে রাজধানীর গুলশানে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ড. এম. জুবায়দুর রহমান। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে খুলনা খানবাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ১৪০ কেডিএ, খানবাহাদুর আহছানউল্লা সড়ক, ছোট বয়রা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা। আর আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দেখানো হয়েছে ২১৬/১ তালাইমারি, পোস্ট- কাজলা, রাজশাহী। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতিতে একই আইনের ৭-এর ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী ২৩টি শর্তে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দেয়।
১ ঘণ্টা সময় বাঁচবে হবিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলভদ্র নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। সবার দাবির মুখে অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ কমে যায় ৩৫ কিলোমিটার। ব্রিজটি ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। কিন্তু সড়কের অবস্থা ভাল না হওয়ায় সেই ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন এই এলাকার মানুষ। শুধু ছোট গাড়ি চলাচল করত এই সড়কে। অবশেষে এই আঞ্চলিক সড়কের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়কের হবিগঞ্জ অংশের উন্নয়নে ১৪৬ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ সদর-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এতে ঢাকা-সিলেট সড়ক যোগাযোগে সময় বাঁচবে ১ ঘণ্টা। এলাকাবাসী জানান, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বলভদ্র নদীর উপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে এনেছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এবার শুরু হয়েছে রাস্তা উন্নয়নের কাজ। রাস্তাটি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ তথা লাখাইবাসী ঢাকা গিয়ে দিনের কাজ দিনে শেষ করে ফিরতে পারবেন। হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজসহ এ রাস্তা ব্যবহারে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাবে হবিগঞ্জ-লাখাই। হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জ অংশে ২৬.৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ হবে। কাজ শেষ হবে ২০২০ সালে। এ কাজে সড়কের প্রস্থ হবে ১৮ মিটার। এ সময় ৪টি ব্রিজও নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এই ব্রিজগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৬২ মিটার। হবিগঞ্জ অংশের চেয়ে সামান্য কম অর্থাৎ ২৫.১২৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অংশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখনও ওই রাস্তার জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ জানান, এখনও প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। এর আগে ১শ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন করা হয়েছিল। এখনও যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন তাহলে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, হবিগঞ্জ-লাখাইর জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বলভদ্র সেতু এনে দিয়েছি। এখন রাস্তাও নির্মাণ হচ্ছে। সেতুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে এক সময় জটিলতা সৃষ্টি হলেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই জটিলতা দূর করে সেতু নির্মাণ হয়েছে। অবশ্যই রাস্তাটি জনগণের ব্যবহারের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশেরও কাজ হবে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চাপ কমবে এবং হবিগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার সড়ক দূরত্ব হ্রাস পাবে।
২ মরদেহ উদ্ধার আশুলিয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে
রাজধানীর আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিরানি বাজার এলাকার হাজী আনোয়ার মডার্ণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার থেকে মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, জিরানী বাজারের এলাকার হাজি আনোয়ার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী ছিলেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন রাজীব
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে দুই বাসের রেষারেষিতে গত ৩ এপ্রিল গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন বাসের চিপায় পড়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আঘাত পান মাথায়। এরপর তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকারি তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। রাজীব সুস্থ হলে তার সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শৈশবে বাবা মা হারানো পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব ঢাকার মতিঝিলে খালা জাহানারা বেগমের বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। মহাখালীর তিতুমীর কলেজে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীতে মেসে থেকে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি একটি কম্পিউটারের দোকানেও কাজ করছিলেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতে হতো তাকে। রাজীবের হাত বিছিন্ন করে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদকে (৫০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ এপ্রিল দুজনকে আদালতে তোলা হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ৮ এপ্রিল দুজনকে পাঠানো হয় কারাগারে। সোমবার দুই আসামির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করেন আদালত।
মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি শুরু জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৬টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। অনুষ্ঠানে এ সময় পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, ডিডি এলজি খাইরুল হাসান, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা অাক্তারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের স্মরণ করবেন প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারসহ বেশ কজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গার্ড অব অনার দেবেন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি এবং গার্লস গাইড সদস্যরা। সকাল ১০টায় রয়েছে গীতিনাট্য জল, মাটি ও মানুষ। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শেখ হাসিনা মঞ্চে হবে আলোচন সভা। বিকেল ৫টায় হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার নির্দেশিত পথ অনুযায়ী এই মুজিবনগর সরকার সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ দখলদার মুক্ত হয় এবং বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত আওয়ামী লীগের
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার (১৬ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হোসেন তওফিক ইমাম (এইচটি ইমাম) কো-চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপদেষ্টা পরিষদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা।