ডাকসু ভিপি নুরুল হক, জিএস গোলাম রাব্বানী
১২মার্চ,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক বাদে বাকিগুলোতে ছাত্রলীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মো. নুরুল হক। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট। এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছেন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট। সোমবার (১১ মার্চ) দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক সাদ বিন কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্নি, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির নয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহামদ তানভীর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে শামস-ই-নোমান বিজয়ী হয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপর বিজয়ী প্রার্থী হলেন সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন। অন্যদিকে নির্বাচিত সদস্যরা হলেন চিবল সাংমা, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভীন, নিপু ইসলাম তন্বী, হায়দার মোহাম্মদ জিতু, তিলোত্তমা শিকদার, জুলফিকার আলম রাসেল ও মাহমুদুল হাসান।
ট্রেনের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক
১১মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: যাত্রী মতামত জরিপ না করেই সোমবার (১১ মার্চ) থেকে আন্তঃনগর ১৫টি ট্রেনের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ১৮ বছরের নিচের যাত্রীদের জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে টিকিট জালিয়াতি প্রতিরোধ সম্ভব বলা হলেও যাত্রীরা বলছেন, বিড়ম্বনা বাড়বে। অনেকেই এটাকে সাধুবাদ জানালেও খোদ রেল কর্মকর্তারাই বলছেন, লোকবলের অভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এর লক্ষ্য। টিকিটের দীর্ঘ লাইন, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুলতা, কাউন্টারের স্বল্পতা আর জালিয়াতি; এমন সব অভিযোগে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি রেল যাত্রীদের। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতে ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কিনতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করছে রেলওয়ে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে। টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতিতে টিকিট দিতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে। আর যাত্রীরা বলছেন, টিকিট চেকিং সিস্টেমটা বাড়ালে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কেনা যাবে ৪টি টিকিটি। প্রতিটি টিকিটেই লেখা থাকবে একজনের নাম। সে ক্ষেত্রে ঝামেলা বাড়ার পাশাপাশি, এক পরিচয়পত্রে কয়বার টিকিট নেয়া যাবে, স্ট্যান্ডিং টিকিট, ভ্রমণকারী ব্যক্তি আসল কি না, এমন সব প্রশ্ন যাত্রীদের মনে। টিকিট নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে যদি একজন ব্যক্তি তার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে বারবার ৪টি করে টিকিট করে বিক্রি করে তাহলে তার কী সমাধান হবে। এমন কি আছে যে সিস্টেমে ইনপুট থাকবে যে একটি এনআইডির বিপরীতে চারটির বেশি টিকিট কাটা যাবে না? এক যাত্রী বলেন, আপনি যখন এনআইডি কার্ডটি দেখাবেন ওনারা ভিতর থেকে বলবে টিকিট শেষ হয়ে গেছে। আর ভোক্তা অধিকার বলছেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে জাতীয় পরিচয়পত্র কোনো সমাধান হতে পারে না। উন্নত সার্ভার আর লোকবল সংকটের কারণে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা। টিকিট জালিয়াতি বা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হলে, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন জরুরি বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের
১০মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য আরও উন্নতি হয়েছে। তিনি চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলছেন। আগামীকাল সোমবার তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাদেরের চিকিৎসা-সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী রোববার (১০ মার্চ) সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে শনিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের শ্বাসনালীর নল খুলে দেয়া হয়। তখন থেকেই চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে ডা. আবু নাসার রিজভীর আলাপের সময় ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মিনী বেগম ইসরাতুন্নেসা কাদের, ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের(জিসিসি) মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের টিপুর পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওবায়দুল কাদের। এরপর দ্রুত তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর ৪ মার্চ ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি এসে তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুর নেয়ার পরামর্শ দিলে ওইদিনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখানে ডা. কোহ সিয়াম সুন ফিলিপের তত্ত্বাবধানে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলছে।
৭৮ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু
১০মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের ৭৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন(ইসি) ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন থেকে সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে কোনও রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এদিকে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। ৭৮ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের দুইদিন আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরের দিন মোট ৫দিন অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৪ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ পাঠানো হয়েছে। Rapid Action Battalion (Rab), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, আনসার এবং গ্রাম পুলিশের প্রায় ১ লাখ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার ইসি তিন উপজেলায় নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা তিনটি হলো-লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা। এছাড়া জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ ও নাটোর জেলার নাটোর সদর উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই তিন উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না এবং রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১৬ জন চেয়ারম্যানসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে: ডিএমপি কমিশনার
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে মিছিলে মিছিলে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শনিবার (৯ মার্চ) সকাল থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও একমুখী আচরণ এবং ছাত্রলীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল, বাম সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের প্রার্থীরা। এদিকে, দুপুরে জাতীয় ছাত্র সমাজের মিছিলে ধাওয়া দেয় বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে নির্বাচনের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সকালে ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র সিসি টিভির আওতায় থাকবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি এলাকাকে এরইমধ্যে আমরা তল্লাশি ও নজরদারির আওতায় এনেছি।
শুধু আইন করলে হবে না তার সাথে সচেতনতা বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু আইন করে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না, সচেতনতা সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৯ মার্চ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, নারী নির্যাতনকারীর পরিচয় সমাজের সর্বস্তরে উন্মোচন করে দিতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করলে নারীরা সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, নারী যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে তাহলে পরিবারে, সমাজে তার মতামতের গুরুত্ব থাকবে। এই গুরুত্ব পাওয়ার জন্য নারীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু আইন করলে হবে না তার সাথে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারীর মতামতের গুরুত্ব বাস্তবায়নে নারী পুরুষ সকলে এক হয়ে কাজ করা আহ্বান জানান তিনি।
কথা বলছেন কাদের
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এছাড়া শনিবার (৯ মার্চ) সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সকালে তার শ্বাসনালীর নল খুলে দেয়া হয়েছে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দলের সিনিয়র সদস্য ডা. সিবাস্টিন কুমার সামিকে উদ্ধৃত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, ওবায়দুল কাদেরের রক্তচাপ স্বাভাবিক, হৃদযন্ত্র ও কিডনি কার্যক্ষম রয়েছে। ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এছাড়া নিওরোলজিক্যাল কোনো সমস্যাও নেই। শরীরের দুর্বলতা কেটে গেলে দু একদিনের মধ্যে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে।
কোন বাধায় কাজ হবে না সাফ কথা প্রধানমন্ত্রীর
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: যত বাধাই আসুক পুরান ঢাকায় কোন রাসায়নিকের গুদাম থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও দুই সিটির নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ নেয়া শেষে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নতুন প্রতিনিধিদের শপথের মর্যাদা রক্ষা করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব আয় বাড়ানোরও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। উপনির্বাচনে জয়লাভের এক সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নবনির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বাকি থাকা মেয়াদ ১ বছরের জন্যসরকারপ্রধানের কাছে শপথ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে শপথ নেন দুই সিটি করপোরেশনে নবনির্বাচিত ৫০ জন কাউন্সিলর। জনপ্রতিনিধিদের এই শপথ অনুষ্ঠানে ঢাকাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। নগরের উন্নয়নে কাজ করতে স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। জানান, যে কোনো মূল্যে আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করা হবে অতি দাহ্য পদার্থের গোডাউন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে বসতি সেখানে গোডাউন রাখতে পারবে না। শো-রুম থাকতে পারে। পণ্য উৎপাদন যা করা হয় সেখানে বিক্রি করা যেতে পারে। কিন্তু গোডাউনের জন্যে আমরা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা করে দেব। যেখানে নিরাপদে দাহ্য পদার্থগুলি থাকতে পারে। যে যত বাধা দিক কোন বাধা মানবো না আমরা এটা নিয়ে যাব। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, 'উত্তর দক্ষিণের রাস্তাগুলি ছিল কিন্তু পূর্ব পশ্চিমের রাস্তা একেবারে ছিল না বললেই চলে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করেছি। নতুন যে ইউনিয়নগুলো যুক্ত হলো আমি নির্দেশ দিয়েছি একটা পরিকল্পনা নিতে সব ব্যবস্থার যেন সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন হয়। শপথের মর্যাদা রক্ষা করে নবনির্বাচিতদের কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোষহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের এই ভাষণকে ইতোমধ্যে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাক্সিক্ষত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এর আগে একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী শ্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। লক্ষ শপথের বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। পরের দিন প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জানা যায়, সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনো মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির কণ্ঠে তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এরপর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু বলেন, ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো। আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা।

জাতীয় পাতার আরো খবর