প্রতারণার অভিযোগে ১৫ বিদেশি আটক
অনলাইন ডেস্ক: ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহার করে অভিনব কায়দায় প্রতারণায় জড়িত ১৫ বিদেশিকে আটক করেছে র‌্যাব-১। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে এদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণা করে আসছিল আন্তর্জাতিক চক্রটি। ভার্চুয়াল জগতে নজরদারির মাধ্যমে এই চক্রটি চিহ্নিত করার পর বিশেষ অভিযানে ১৫ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এএসপি মিজানুর রহমান।
সমান আচরণ করবেন সবার প্রতি: কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, আপনারা সবার প্রতি সমান আচরণ করবেন। কেননা, যারা প্রার্থী তাদের পরিচয়, তারা শুধুই প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও গাজীপুরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। সিইসি বলেন, এখন বিশ্বাস করার সুযোগ ও সময় এসেছে যে এ দেশে যারা রাজনীতি করেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তারা নির্বাচনের আইন, আচরণবিধি মেনে করেবন। আপনারা মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করবেন তাদের সাহায্য, সহযোগিতা করার মাধ্যমে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবং আস্থা রাখি, সে রকম একটা পরিবেশ দেশে সৃষ্টি হয়েছে। সেটাকে সামনে রেখে আপনাদের কারণে তাদের আশা এবং প্রত্যাশা যাতে কখনো ব্যাহত না হয়। সেই দিকটা লক্ষ্য রেখে আপনাদের দায়িত্ব হবে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের জানানো এবং বোঝানো। সিইসি আরো বলেন, আমরা যেটা আশা করেছিলাম যে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে, আমাদের সে আশা পূর্ণ হয়েছে। আশা করেছিলাম প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে, সে প্রত্যাশা পূর্ণ হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে, সেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি অনেক প্রভাবশালী প্রার্থী তারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রার্থীর সঙ্গে পাঁচজনের বেশি লোক ভেতরে গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়, কেউ সেটি লঙ্ঘন করেনি। তারা প্রত্যেকেই চারজন, পাঁচজন, ছয়জন, সাতজনের বেশি লোক নিয়ে ভেতরে ঢোকেনি। বাইরে হয়তো তাদের কিছু সমর্থক এসেছিল। সেটা অফিসের বাইরে। একজন প্রার্থীর সমর্থক থাকতেই পারে। সেগুলো মোটর শোভাযাত্র, গাড়িসহ যাত্রা বা শোডাউনের পর্যায়ে পড়ে না। তিনি বলেন, যারা প্রার্থী তাদের পরিচয়, তারা শুধুই প্রার্থী। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তি পরিচয় থাকবে না। সে একটি প্রতীকের প্রার্থী হবে। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ রাখার জন্য নিশ্চিত করবেন। প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সিইসি বলেন, আমাদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করা হবে। এখন প্রশিক্ষণ পাওয়ারা মাঠে গিয়ে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বপালন করলে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে, অবশ্যই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, অবশ্যই নির্বাচনে ভোটারদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি, আশা করি।
৩০০ সংসদীয় আসনে এমপি হতে চান ৩০৯৫ জন
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩ হাজার ৯৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা হয়েছে ৩ হাজার ৫৬টি। আর অনলাইনে জমা দেয়া হয়েছে ৩৯টি। তবে অনলাইনে মাত্র ২৩টি মনোনয়নপত্র ঠিকঠাকভাবে জমা দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মত অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল ইসি। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারাদেশের রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ছিল। পরে এ বিষয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ইসি সচিব হেলাল্দ্দুীন আহমদ প্রেসবিফ্রিংয়ে মনোনয়নপত্র জমার হিসাব জানান। তার দেয়া তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৩৬১টি, রাজশাহীতে ৩৫৩, খুলনায় ৩৫১, বরিশালে ১৮২টি, ময়মনসিংহে ২৩৬, ঢাকা-৭০৮, সিলেটে ১৭৭ ও চট্টগ্রামে ৬৮৮ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সর্বোচ্চ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ঢাকা-৮ আসনে ২২জন। আর সর্বনিম্ন মনোনয়ন পড়েছে মাগুরা-২ আসনে ৪জন। সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোথাও কোনো আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোন দল থেকে কতজন, কোন জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কতজন তা বৃহস্পতিবার জানা যাবে। এবার নির্বাচন সামনে রেখে ইসিতে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১১ দল আর মহাজোটের ১১ দল জোটবন্ধ হয়ে নির্বাচন করছে। করে নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, তাতে দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টিই নির্বাচন করতে চায় নৌকা অথবা শীষ প্রতীক নিয়ে। এরমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের ১১টি দল নৌকা প্রতীক এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ১১টি দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বস্দ্বিতার কথা জানিয়েছে। এরমধ্যে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা আটটি এগুলো হলো-আওয়ামী লীগ, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্ট-ন্যাপ, তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি-জেপি, মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাপ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিএনপি, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, খেলাফত মজলিশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে।
নারায়ণগঞ্জের এসপি আনিসুর রহমান প্রত্যাহার
অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির সহকারী সচিব নুরুন নাহার। তিনি এ প্রত্যাহার আদেশে স্বাক্ষর করে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর এসপি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করে ২০ দলীয় জোট। অভিযোগের পর জোটের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের এসপির স্ত্রী বেগম ফাতেমাতুজ্জহুরা আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি। সম্প্রতি সন্তানসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তারা। এ অবস্থায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। চলতি বছরের আগস্টে নারায়ণগঞ্জে এসপি হিসেবে যোগ দেন আনিসুর রহমান। ফাতেমা তুজ্জহুরা সংরক্ষিত মহিলা-২১ আসনের বর্তমান এমপি।
একজন মহান নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু
অনলাইন ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পত্নী আকিয়ে আবে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন মহান নেতা। জাপানে গ্রাফিক নোভেল মুজিব গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর ভিত্তি করে জাপানী ভাষায় গ্রাফিক নোভেল মুজিব গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম জাপানী শিশু-কিশোরদের সামনে তুলে ধরতে এ গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানি ভাষায় অনূদিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে এবং গেস্ট অফ অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাপানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, জাপানের সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং উপস্থিত সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবনকে জাপানী শিশু-কিশোর ও জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী সন্তানদের কাছে তুলে ধরার অভিপ্রায় নিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ইংরেজি ছাড়া প্রথম অন্য কোন বিদেশী ভাষা হিসাবে জাপানিতে গ্রাফিক নভেল মুজিব অনুবাদ করা হলো। আকিয়ে আবে বলেন, যেহেতু গ্রাফিক্স নভেল জাপানিদের খুব প্রিয় তাই জাপানি ভাষায় অনুদিত গ্রাফিক নভেল মুজিব তাঁর সম্পর্কে জাপানের শিশু-কিশোরদের অবহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, অনুদিত গ্রাফিক্স নভেল এই মহান নেতার জীবন সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে। বইটির প্রকাশক রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, গ্রফিক মুজিব জাপানি ভাষায় অনুবাদ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও এবং অনুবাদকদ্বয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি জাপানি অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে প্রকাশনাটি জাপানি শিশুদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতির পিতা সম্পর্কে জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বক্তব্য পর্ব শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যগণ, রাষ্ট্রদূত এবং বইটির অনুবাদকদ্বয় বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন-সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি টাইম-লাইন ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এসময় বইটির অনুবাদকদ্বয় প্রফেসর মাসাকি ওহাসি এবং ইমরান শরিফকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। এছাড়া জাপানি ভাষায় প্রকাশিত গ্রাফিক নভেল মুজিব গ্রন্থটি টোকিওর সেক্রেড হার্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠ করে শুনানো হয়। বইপাঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং বইটির অনুবাদকদ্বয়, শিল্পী রাশাদ ইমাম তন্ময়, শিবু কুমার শীল। গ্রাফিক্স নভেল মুজিব গ্রন্থটি পর্যায়ক্রমে জাপানের বিভিন্ন স্কুলে পাঠ করা হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিওর উদ্যোগে গ্রাফিক নভেল মুজিব জাপানি ভাষায় অনুবাদ ও প্রকাশনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। সবশেষে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে অত্যন্ত সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র: এইচটি ইমাম
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সন্তুষ্ট। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এইচ টি ইমাম বলেন, এটাই হচ্ছে ওদের কাছে সবচেয়ে সন্তোষজনক। এমন কোনো দল নেই, যারা অংশগ্রহণ করছে না। ওরা বরঞ্চ খুব অবাক এতগুলো দল, এতগুলো জোট তোমরা ম্যানেজ করছো কীভাবে। ওরা ভাবতেই পারে না, আমরা এগুলো করতে পারি। আমরা বলেছি, এগুলো আমরা করছি। আমাদের সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব থেকে আনন্দের কথা এই যে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সমস্ত কথা বলেন, আমরা চাই একটি অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনে সকলে অংশগ্রহণ করুক। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অত্যন্ত স্পষ্ট একটি নির্বাচন যেটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই আদর্শগুলো আমেরিকানরাও ধারণ করে। তাদের সঙ্গে আমাদের মতের যথেষ্ট মিল আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন পাঠাবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবজারভার পাঠাবে। ওরা সব জায়গাতেই পাঠায়। ওরা বলছে, নির্বাচন কেমন হয় দেখব? সত্যিকার সুষ্ঠ হয় কি না? ওদের তো কতগুলো থিঙ্ক ট্যাংক আছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক নয়। তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে অনেক অবজারভার আসবেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, অবজারভার যেখানে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব। কাজেই আপনারা তালিকা দিয়েন। আগে থেকেই জানাবে কোথায় তারা যাবেন কী কী কাজ করবেন এগুলো জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আমরা সকলেই একসঙ্গে কাজ করবো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক অবজারভার আসবেন। আমরা তাদেরকে বলেছি, অবজারভার যেখানে যাবেন, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। কাজেই আপনারা তালিকা দিয়েন। আগে থেকেই জানাবেন কোথায় তারা যাবেন কি কি কাজ করবেন, এগুলো জানা দরকার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমাম, ড. মসিউর রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ।
নির্বাচনে থাকছে না ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পর্যবেক্ষক
অনলাইন ডেস্ক: যথেষ্ট সময় ও প্রস্তুতি না থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল আসবে না বলে জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনিজ টেরিংকে। বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ইইউ ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এসময় রেনিজ টেরিংকে বলেন, পর্যবেক্ষকের মতো বড় মিশন পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ছয় মাসের মতো সময় প্রয়োজন হয়। তাই ইইউয়ের সদস্য দেশগুলো এই নির্বাচনে (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা কেবল ছোট আকারে একটি এক্সপার্ট টিম পাঠাব। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এ নির্বাচনটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ১০ কোটিরও বেশি ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এতগুলো কেন্দ্র ও ভোটারদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, ভালো ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়, আমাদের শুভকামনা থাকবে। বৈঠকে ইইউয়ের ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের প্রধান ডেভিড ওয়াড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংকেসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সে তিরিঙ্ক, ইইউর ইলেকশন এক্সপার্ট মিশনের প্রধান ডেভিট ওয়ার্ডসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ দিন বুধবার (২৮ নভেম্বর)। ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন বাছাই, ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ভোট ৩০ ডিসেম্বর।
সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় এ কথা বলেন সুব্রত চৌধুরী। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণে মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি।
হাইকোর্টের আদেশ বহাল: নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না দণ্ডিতরা
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানসহ পাঁচ নেতার দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে সাজাপ্রাপ্তরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এ জেড এম জাহিদ হোসেনের আবেদনে নো অর্ডার দিয়ে এই আদেশ দেন। আদালতে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। গতকাল দুর্নীতির অভিযোগে প্রাপ্ত সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানসহ পাঁচ নেতার দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সেইসঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত ও জামিন হলেই কেবল অংশ নিতে পারবে। অন্য চার নেতা হলেন- বিএনপি নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, আব্দুল ওহাব ও মশিউর রহমান। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করায় ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল ২০০৯ সালে জামিন লাভ করেন। এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করে মো. আবদুল ওহাবকে যশোর স্পেশাল জজ গত বছরের ৩০ অক্টোবর ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ত্রিশ হাজার টাকার জরিমানা দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ৬ ডিসেম্বর জামিন নিয়েছেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকার অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোশরফ হোসেন মৃধা মামলা করেন। এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তীতে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। ২০০৮ সালের ২৫ মে দুর্নীতির মামলায় মোট ১৩ বছরের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্ট থেকে পরে তিনি জামিন নেন। আমান উল্লাহ আমানকে দুর্নীতির মামলায় ২০০৭ সালের ২১ জুন বিচারিক আদালত ১৩ বছরের সাজ দেন। পরে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন বলে জানান আমিন উদ্দিন মানিক।

জাতীয় পাতার আরো খবর