সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০
২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ৫,৯৪৫
২৬ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৬৭ জন রোগী। সেই সাথে ২,০৫৯ জন ডায়রিয়া এবং ২,৯১৯ জন জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ ও জ্বরের মতো অন্যান্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। শীতজনিত রোগের কারণে ১ নভেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশব্যাপী ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১০ জন করে মারা গেছেন খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়ে। খাগড়াছড়ির সবাই মারা গেছেন তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে, আর পঞ্চগড়ের মৃত্যুগুলো হয়েছে অন্যান্য রোগে।
ধর্মকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ কেউ যেন যুবকদের বিভ্রান্ত করে সমাজে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্ম আমাদের আলোর পথ দেখায় এবং অন্যায়, পাপ, অন্ধকার থেকে দূরে রাখে। তাই ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ যেন নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাই সজাগ থাকবেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বড়দিন উপলক্ষে আজ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন। যুবকদের যেন কেউ ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য বিশেষ নজর রাখতে রাষ্ট্রপতি অভিভাবকদের আরো ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির জনপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের এই অর্জন সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফসল। তিনি ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। আব্দুল হামিদ খ্রিষ্টানদের পবিত্র উৎসবে তাদের সুখ, সমৃদ্ধি ও আনন্দময় ভবিষ্যৎ কামনা করেন। যিশু খ্রিষ্টকে আলো ও মুক্তির দূত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যিশু খ্রিষ্ট বিশ্বের শান্তির পথ দেখিয়ে গেছেন। তার দর্শন ছিল ভালবাসা, সেবা, ক্ষমা ও ন্যায় বিচারে পরিপূর্ণ একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা। তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি বর্তমানে এই সমস্যা সংকুল ও সংকটময় বিশ্বে জাতিতে-জাতিতে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যিশুর শিক্ষার একান্ত প্রয়োজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্র প্রধান বঙ্গভবনে বড়দিন উপলক্ষে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ উপলক্ষে সেখানে একটি ক্রিসমাস গাছ রোপণ ও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ্, কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডিরোজারিও, কূটনৈতিক কোরের ডীন আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মিশনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় একদল সঙ্গীত শিল্পী বড়দিনের গান পরিবেশন করেন। পরে, রাষ্ট্রপতি বড়দিনের কেক কাটেন ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন।বাসস
আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো:তথ্যমন্ত্রী
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি তথ্যসন্ত্রাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি তথ্যসন্ত্রাস করছে। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার যে শারীরিক সমস্যাগুলো আছে সেগুলো বহু পুরনো। তার হাঁটুর ব্যথা, কোমরের ব্যথা নতুন নয়। এগুলো নিয়েই তিনি দুবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুবার বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির মতো একটি দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পুরনো শারীরিক সমস্যাকে বড় করে দেখিয়ে বিএনপি প্রতিনিয়ত তথ্যসন্ত্রাস করছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রিজভী আহমেদের গতকালের বক্তব্য তথ্যসন্ত্রাস ছাড়া আর কিছুই নয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। সেই কাজে আমি যাতে সফল হই সেজন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা করবো। আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বদলে গেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছবে। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা ও ডাকসু ভবন ভাঙচুরের ঘটনার গায়েব হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। আজ রাজধানীর বনানীতে হোলি স্পিরিট চার্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভিপি নূরের মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাছাড়া মারমুখী অবস্থায় দেখা যাওয়া আর মারামারিতে অংশ নেয়া দুটো এক বিষয় নয়। এদিকে বড়দিন উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরণের নাশকতার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন এই ডিএমপি কমিশনার।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিও অংশগ্রহণ করবে:ওবায়দুল কাদের
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনে বিএনপিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, ঢাকা সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হবে। গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাই করতে চান। আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভা, পুনর্মিলনী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হেরে গেলে সরকারের ওপর আকাশ ভেঙে পড়বে না। আমরা সুন্দর একটা ইলেকশন দিতে চাই। আমরা ইলেকশন কমিশনকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন ভূমিকা পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিও অংশগ্রহণ করবে। এই নির্বাচনটা প্রতিযোগিতামূলক হোক এটাই আশা করি। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচন ফ্রি, ফেয়ার, সুষ্ঠু, অ্যাকসেপ্টেবল এবং ক্রেডিবল করতে চান। নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না।
সবাই চাইলে ইভিএমে নির্বাচন করব না: সিইসি
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, সবাই যদি বলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন করা যাবে না, তাহলে সেটা করব না। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। নূরুল হুদা বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন পরিচালনায় কোনও অসুবিধা দেখিনি। আমরা সুফল পেয়েছি, তাই এ ব্যবস্থা ধরে রেখেছি। তিনি বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমরা ইভিএমে টিকে আছি। আপনারা যারা এখানে আছেন, কয়েক বছরে ইভিএমের ওপরে নানাভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কর্মদক্ষতা অর্জন করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ইভিএমের মাধ্যমে সহজে এবং নির্বাচনে যারা ভোট দিবে তাদের ভোটাধিকার সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। আপনারা যারা মাঠে-ময়দানে দেখবেন, যারা প্রয়োগ করবেন, তাদের কাছে যদি সন্দেহ থাকে আমাদের বলবেন। যদি সবাই বলেন, এটা দিয়ে নির্বাচন ভালোভাবে পরিচালনা করা যায় না, তাহলে আমরা ইভিএম ব্যবহার করব না। সিইসি বলেন, আমরা ইভিএম দিয়ে অনেকগুলো নির্বাচন করলাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করলাম, সেখানে আমরা সফলতা পেয়েছি। প্রসঙ্গত, বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে আওয়ামী লীগসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল ইভিএমে ভোটের পক্ষে রয়েছে। এই পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থানের মাঝে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আসছে ইসি। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
আনন্দমুখর পরিবেশে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
২৫ ডিসেম্বর,বুধবার,ষ্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেরিয়ে আসা দীর্ঘ ছয় দশকের মতো আগামী দিনগুলিতেও সত্য, ন্যায় ও গণমুখী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে পালিত হলো দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অতিথিবৃন্দ শুভেচ্ছা জানাতে এসে প্রত্যাশা করলেন, ইত্তেফাক কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঐতিহ্যের পথ ধরে তারুণ্যের উদ্দীপনায় এগিয়ে যেতে আরেকবার প্রেরণাদীপ্ত হলো মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই দৈনিক। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ইত্তেফাক কার্যালয়সহ দেশের সব জেলায় উত্সবমুখর পরিবেশে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। গণমানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে সব আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত। অগণিত পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত হলো ইত্তেফাক পরিবার। ৬৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে কাওরান বাজারের নিজস্ব ভবনে ইত্তেফাক অফিস ভরে উঠেছিল পত্রিকার শুভার্থী, বন্ধু ও বিজ্ঞাপনদাতাদের পদচারণায়। সকাল থেকে রাত অবধি ইত্তেফাক ভবনে এসে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছেন মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, ইত্তেফাকের নিয়মিত লেখক, বিজ্ঞাপনদাতাসহ আরো অনেকে। দিনভর উত্সবমুখর পরিবেশে সবাই উদ্যাপন করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি। কেক কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা দুপুর সাড়ে ১২টায় কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এ সময় ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের সূচনা করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানকে নিয়ে কেক কাটেন তারা। পরে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে নিয়েও কেক কাটেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী ফুলের তোড়া ইত্তেফাক সম্পাদকের হাতে তুলে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। এরপর সাবেক মন্ত্রী, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়েও কেক কাটেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও তাসমিমা হোসেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, জাতীয় পার্টি-জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ। ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আরো শুভেচ্ছা জানাতে আসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, লেবার পার্টির সভাপতি ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ। অতিথিরা যা বললেন শুভেচ্ছা বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন-লালিত যে বাংলাদেশ, দৈনিক ইত্তেফাক সেই জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উত্সর্গ করেছিল। সেই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সত্ সাংবাদিকতা ছিল সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার মন্ত্র। সত্ সাংবাদিকতার সেই মন্ত্র ইত্তেফাক আজও হূদয়ে ধারণ করে চলেছে। আমার প্রত্যাশা, আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সত্য, ন্যায় ও বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ইত্তেফাকের অবস্থান প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো বদলায়নি। ইত্তেফাক সব সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে। বিগত কয়েক দশকের ধারাবাহিকতায় আগামীতেও ইত্তেফাক দিকনির্দেশনামূলক সংবাদ পরিবেশন করে যাবে এটাই প্রত্যশা। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৬ দফা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মানিক মিয়া ছিলেন একসূত্রে গাঁথা। ইত্তেফাক এখনো মানুষের মন জয় করে আছে, মানুষের হূদয়ে আছে। ইত্তেফাকে সংবাদের আলোচনা-সমালোচনা সবই আছে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, মানিক মিয়া এভিনিউ নামকরণ করা হয়েছে যেহেতু তার অবদান আমরা মনে রেখেছি। ইত্তেফাক ৬৭ বছরে পা দিল। আশা করি, তারা তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে পত্রিকাটিকে আরো সামনে এগিয়ে নেবে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, তাকে স্মরণ করছি। আমরা ইত্তেফাক ও জাতিয়তাবাদী সংগ্রামকে আলাদা করে দেখিনি। ইত্তেফাক বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে, স্বাধীনতা আন্দোলনে যে ভূমিকা পালন করেছে তা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, থাকবে। রাশেদ খান মেনন বলেন, ইত্তেফাকের সংবাদ খুব বস্তুনিষ্ঠ। এখন আমরা অনেক পত্রিকা পড়ি, কিন্তু খবরের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য আমি ইত্তেফাক পড়ি। ইত্তেফাকের ওপর আমরা আস্থা রাখি। অতীতের মতো এখনো দেশের স্বার্থে ইত্তেফাক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই পরিবেশন করে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ইত্তেফাক জনগণের কথা বলে, সাধারণ মানুষের কথা বলে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলে। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও ইত্তেফাক সাধারণ মানুষের কথা বলবে। সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ইত্তেফাক প্রাচীন পত্রিকা। ঐতিহাসিক সময়ে এর সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রেখেছিল ইত্তেফাক। ইত্তেফাকের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। তারপরেও ইত্তেফাক তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের মানুষের মনে বাংলাদেশের ইতিহাসে ইত্তেফাক বেঁচে থাকবে চিরদিন। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে যে সংবাদগুলো আসে তা বস্তুনিষ্ঠ আকারে এবং নির্ভরযোগ্য উপস্থাপন করে, সে জন্য আমরা বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইত্তেফাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ইত্তেফাকের জন্মই হয়েছিল, এদেশের মানুষকে শোষণ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কেবল একজন সম্পাদকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। জেপি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় এই মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করে। জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইত্তেফাক পাশে থেকেছে, ভবিষ্যতেও সবসময় পাশে থাকবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানান ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক মুহিবুল আহসান, বার্তা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক অশোক কুমার সিংহ, প্রধান প্রতিবেদক আবুল খায়ের প্রমুখ। শুভেচ্ছার ঢল ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আরো শুভেচ্ছা জানাতে আসেন চিত্রনায়িকা শাহনূর, পদ্মা ব্যাংকের মিডিয়া কর্মকর্তা সামিনা রোশনি, ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হুমায়ুন কবির, অলিম্পিকের মিডিয়া ম্যানেজার রবিউল হাসান, বসুন্ধরা গ্রুপ, বিকাশ, প্রাণ-আরএফএল, মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সিনিয়র ম্যানেজার অজিত সুরেকা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, অ্যাকশন এইড, নারীপক্ষ, কর্মজীবী নারী, রক্সি পেইন্টসের মার্কেটিং ম্যানেজার সাইফুল্লাহ মামুদ দুলাল ও ম্যানেজার (ইন্টারনাল অডিট) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড কোম্পানি, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ও বাংলাদেশ হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ। আরো শুভেচ্ছা জানান ডিইউজে ইত্তেফাক ইউনিট চিফ আবুল খায়ের, ডেপুটি চিফ মোহাম্মদ শাহযাদা, ইত্তেফাক (এনএনপিপি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন সভাপতি মো. তাজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি গোলাম আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন খান, সহ-সভাপতি মো. আতাউর রহমান, প্রচার সম্পাদক মো. মোমিনুল হক, সিনিয়র সদস্য গোলাম সরওয়ার আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রামসহ ৫ দেশের বন্দরকে গ্রিন পোর্ট করার পরিকল্পনা এডিবির
২৫ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বায়ুদূষণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ বন্ধে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি দেশের বন্দরগুলোকে গ্রিন পোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির। বিশেষ করে বন্দরগুলোতে সোলার এনার্জি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চায় তারা। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে বসানো হবে ১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের সোলার প্যানেল। ব্যাপক হারে জ্বালানি তেল ব্যবহারের ফলে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে বন্দরগুলোকে অন্যতম বলে চিহ্নিত করে আসছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। বন্দরে অবস্থানরত জাহাজগুলো সার্বক্ষণিক জেনারেটর চালু রাখার পাশাপাশি পণ্য ওঠানামায় যন্ত্রগুলো জ্বালানি তেল ব্যবহার করছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে ৪ হাজারের বেশি জাহাজ আসছে। সেই সঙ্গে বর্তমানে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং এ ২১৪টি যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। চট্টগ্রাম বাপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান বলেন, তেল যখন পোড়ে তখন সেখান থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হয়। আর এর মাধ্যমে প্রচুর কার্বণ নিঃস্বরণ করে। জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৫০ লাখ টন কার্বন নির্গমন হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমন হয় বন্দরে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ৩০ হাজারের বেশি ট্রাক, কাভার্ড এবং কন্টেইনারবাহী লরি থেকে। যার পরিমাণ ৩০ লাখ টন। এরপর রয়েছে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ এবং যন্ত্রপাতি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, অনেক লম্বা যানবান ব্যবহার করা যেতে পারে। তাহলে এ কার্বন নিঃস্বরণের পরিমাণ কমে আসবে। পরিবেশবান্ধব করতে বন্দরে স্থাপন করা হবে ১৫ মেগাওয়াটের একটি সোলার এনার্জি প্যানেল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, দিনের বেলাতে কিন্তু পোর্ট সোলার দিয়ে চলতে পারে। এবং অনেকগুলো জাহাজের যখন কাজ থাকে না তখনও ইঞ্জিন চালু থাকে। কিন্তু পোর্ট থেকে সোলার পাওয়ার দেওয়া হলে তেলও পুড়বে না আবার পরিবেশও দূষণ হবে না। দূষণ প্রতিরোধে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, মালদ্বীপ এবং শ্রীলংকার বন্দরগুলোকে গ্রিন পোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক।-amadershomoy.com
পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তাদের তদবিরের পেছনে কি স্বার্থ রয়েছে?
২৫ ডিসেম্বর,বুধবার,ষ্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারা দেশে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি না। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে চার সহস্রাধিক পুলিশ। নানা সমস্যা, সংকট নিয়েই সড়কে শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। জনবল স্বল্পতার কারণে দীর্ঘ সময় ডিউটি করতে হয়। নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নেও বেগ পেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের। এরমধ্যেই দিন দিন একটি বিষয় প্রকট সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। রহস্যময় কারণে কোনো কোনো কর্মস্থলে দিনের পর দিন থাকছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। পুলিশ সূত্র জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পুলিশের কোনো সদস্যই কোনো একটি ইউনিটে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না উল্লেখ থাকলেও কিছু কর্মস্থলের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। সূত্র বলছে, সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) ও সার্জেন্টরা সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের ম্যানেজ করে তিন থেকে সাত বছর ধরে একই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ তারও বেশি। পুলিশেরই একটি মহলে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একই ইউনিটে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তাদের তদবিরের পেছনে কি স্বার্থ রয়েছে? সূত্রমতে, ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্য গণপরিবহণে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মে জড়িত রয়েছেন। এসব কারণেই সুবিধাজনক স্থানে বছরের পর বছর থাকতে নানাভাবে তদবির করেন তারা।সূত্র-মানবজমিন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই সড়ক কেন্দ্রিক পুলিশের ট্রাফিক ও হাইওয়ে বিভাগ সদস্যদের অসাধু কর্মকর্তার সংখ্যাও বেশি। বাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের ট্রাফিক ইউনিটের টিআই, সার্জেন্ট, এটিএসআই ও কনস্টেবলরা চার বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত এসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এসব এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, ট্রাফিক পুলিশের টিআই নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে সাড়ে চার বছর ধরে, টিআই সাখাওয়াত নোয়াখালীতে রয়েছেন আট বছর ধরে, টিআই সালাউদ্দিন বান্দরবানে রয়েছেন চার বছর ধরে, টিআই বিনয় বড়ুয়া কক্সাবাজারে রয়েছেন সাড়ে তিন বছর ধরে, ফেনীতে টিআই আলাউদ্দিন রয়েছেন সাড়ে তিন বছর ও ফেনীতে আরও এক টিআই মেহেদীও দায়িত্ব পালন করছেন তিন বছর ধরে। একই অবস্থা রয়েছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ (পূর্ব)র উপ-কমিশনার (ডিসি) সাহেদ আল মাসুদ জানান, সাধারণত একটি জোনে একজন টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) বা সার্জেন্টের সময়কাল দুই বছর। এটা সত্য যে একস্থানে দীর্ঘ সময় থাকলে শৃঙ্খলা রক্ষায় তার বিরুপ প্রভাব পড়ে। এজন্য প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বদলি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে যাদের বদলি করা হয়নি তাদেরও করা হবে বলে জানান তিনি। একই ইউনিটে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করায় অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগ পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু পুলিশেরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একই ইউনিটে দীর্ঘ দিন ধরে থাকায় সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। একইস্থানে দায়িত্ব পালন করার কারণে গাড়ির মালিক, চালকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে তাদের। এতে অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফিটনেসবিহীন ও অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের গাড়ি চালাতে সহযোগিতা করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এতে নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নেও বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কোনো সার্জেন্ট মামলা না দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলে এবং তা নিয়ে অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা সার্জেন্টদের ক্যামেরা দেব। দায়িত্ব পালনকালে কোনো সার্জেন্টের ক্যামেরা বন্ধ থাকলে আমরা ধরে নেব অবৈধ কাজের উদ্দেশ্যেই তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর