পুলিশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে রাজু আহম্মেদ নামে আরো এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে। রাজু আহম্মেদ পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২ মে অসুস্থবোধ করায় করোনার পরীক্ষা করান পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ। পরদিন পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এলে ৪ মে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকা পুলিশের এ কর্মকর্তা রোববার সকালে মারা যান। রাজু আহম্মেদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। এ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মরহুমের মরদেহ পুলিশের উদ্যোগে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। করোনাকালে জনগণকে সেবা ও সুরক্ষা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। করোনা প্রতিরোধের ফ্রন্ট ফাইটার ছিলেন তিনি। করোনাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা বাকি ১২ সদস্য হলেন-ডিএমপির কনস্টেবল জালাল উদ্দিন খোকা (৪৭), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্রী রঘুনাথ রায় (৪৮), কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আব্দুল খালেক (৩৬), কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুল আরেফিন (৪৪), এসবির এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫), এসআই মো. মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল মো. নঈমুল হক (৩৮), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কনস্টেবল মোখলেসুর রহমান, ডিএমপির নায়েক মো. আল মামুনুর রশিদ ও রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে এসআই আল মোশাররফ হোসেন।
দেশে আরও ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত,মারা গেছেন ২৮ জন
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে আরও ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে রোববার (২৪ মে) এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিনে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ১৮৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ হাজার ৯০৮টি নমুনা। এর মাঝে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। এ নিয়ে মোট ৪৮০ জন মারা গেলেন। এছাড়া এই সময়ে ৪১৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ফোন
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। গতকাল তিনি প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানান এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন ও প্রাণহানিতে সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রেস সচিব জানান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন। ১৫ মিনিটের কথোপকথনের সময় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রেস সচিব আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। ফোন করা এবং আম্ফানের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমবেদনা জানানোর কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, চলমান করোন ভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয়টিও দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য উঠে এসেছে।
আজ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওগুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করবে। রোববার ৩০ রোজা পূর্ণ করে সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ। শনিবার মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ জানান, দেশের ৮টি বিভাগীয় এবং ৬৪টি জেলা কার্যালয় থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকেও পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও চাঁদ দেখার খবর মেলেনি।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আওয়ামী লীগের শুভেচ্ছা
২৩মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসী এবং মুসলিম জাহানের সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরে তিনি বিশ্ববাসীর নিরাময় ও সুস্বাস্থ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম জাহানের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, স.প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। তিনি বলেন, এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর এমন একটি সময়ে সমাগত যখন বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সমগ্র বিশ্বের মানবসমাজ। আমাদের পরিবার-পরিজন বন্ধু-বান্ধব পরিচিতজন অনেকেই আক্রান্ত। আমরা অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আপনজনকে হারিয়েছি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ঘরবন্দি থেকে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। এমনই সময় পবিত্র ঈদ এসেছে আনন্দের বার্তা নিয়ে। তাই, জনসমাগম এড়িয়ে সচেতনতার সাথে ঘরে অবস্থান করেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সব মানুষকে। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল ফিতরে আমাদের মাঝে গড়ে উঠুক বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসসহ সকল সংকট জয়ের সুসংহত-বন্ধন। পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ববোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অনুশীলন এবং করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হোক পবিত্র ঈদুল ফিতর। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের মহিমান্বিত আহ্বানে শান্তি-সুধায় ভরে উঠুক বিশ্বসমাজ। দেশপ্রেম আর মানবতাবোধের বহ্নিশিখায় জেগে উঠুক প্রতিটি মানব হৃদয়। আসুন, সমাজের ধনী-গরিব ধর্ম-বর্ণ-গোত্র জাতি-গোষ্ঠী-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলে পারস্পারিক সহযোগিতা ও সহর্মিমতার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের খুশি ভাগাভাগি করে নিই। পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি-মানুষের জীবন থেকে দূরীভূত হোক সকল মহামারি, দুঃখ-জরা; সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির ধারায় প্রবাহিত হোক বিশ্বলোক। ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে অতীতে বাংলাদেশ যেভাবে সকল সংকট উত্তরণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে ঠিক একইভাবে করোনা সংকট জয় করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় নব-উদ্যোমে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু যেন নতুন ট্রাজেডি বয়ে নিয়ে না আসে
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঈদ করতে যারা ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পুলিশকে ফাঁকি দিলেও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুকে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই। আজ শনিবার তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন কাদের। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আন্তঃজেলা বাস বন্ধ প্রায় দুই মাস ধরে। লকডাউনের মধ্যেও গত দুই মাসে অন্তত দুই দফা মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকদের স্রোত দেখেছে বাংলাদেশ। কেউ ট্রাকে বা পিকআপে, কেউবা অন্য বাহনে ভেঙে ভেঙে গ্রামের বাড়ি থেকে পৌঁছেছেন ঢাকা, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের কোনো পোশাক কারখানায়। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবার সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে রোজার ঈদ করতে বলেছে সরকার। কিন্তু সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাওয়া বা শিমুলিয়া ফেরি ঘাট কিংবা বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পৌঁছে পরে বিকল্প বাহন খুঁজে বাড়ি পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টা করছে মানুষ। পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। এর ফলে সারাদেশে করোনার বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যারা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে স্থানান্তর হচ্ছে নানা কৌশলে, তাদের মনে রাখা উচিত পুলিশকে ফাঁকি দিলেও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুকে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই। সংক্রমণ ও মৃত্যু যেন নতুন ট্রাজেডি বয়ে নিয়ে না আসে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানান তিনি। করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার এমন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানামুখী পদক্ষেপ প্রসংশার দাবিদার। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
সশস্ত্র বাহিনীর ১,৩৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত, সুস্থ ৪২১
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত ১,০২০ জন, পরিবারবর্গ ৯২ জন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেসামরিক ও অন্যান্য ২৫২ জনসহ মোট ১,৩৬৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন ও ৪২১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্ব-স্ব আবাসস্থলে চলে গেছেন এবং ভর্তিরত অপর সকল রোগী সুস্থ আছেন। এই পর্যন্ত ১০ জন রোগী মৃত্যু বরণ করেন। তন্মধ্যে ৬০ বছর উৰ্দ্ধ অবসরপ্রাপ্ত ০৮ জন এবং ০২ জন কর্মরত সেনাসদস্য যারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন যাবত অনিরাময়যোগ্য বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে মৃত্যুকালে কভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত সকল সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের কভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য আর্মড ফোর্সেস ইন্সটিটিউট অব প্যাথলজি (এএফআইপি) সহ সকল সিএমএইচ-এ মোট ১৩ (তের) টি ‘আরটি-পিসিআর' মেশিন প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। এছাড়া সকল সিএমএইচ-এ পর্যাপ্ত পরিমান পিপিই, মাস্ক, গ্লোভস এবং প্রয়োজনীয় ঔষধাদিসহ আনুষাঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি মজুদ আছে। এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর পিসিআর ল্যাবরেটরিতে সশস্ত্র বাহিনীর ৪,৩৭৫ জন, পরিবারবর্গ ৭৭৪ জন এবং বেসামরিকসহ অন্যান্য ২,২৬১ জন সদস্যের মোট ৭,৪১০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে কভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দ্বারা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৮৭৩, মৃত্যু ২০
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২০ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ১ হাজার ৮৩৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৮ জন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫২ জনের। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ৪৭টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৭টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৩৪টি। পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ১ হাজার ৮৩৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৮ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরো ২০ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ৪ জন নারী। মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ২ জন, রাজশাহী বিভাগের ২ জন, রংপুর বিভাগের ২ জন, খুলনা বিভাগের ১ জন ও সিলেট বিভাগে ১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, ৪ জন মারা গেছেন বাড়িতে। আর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানান নাসিমা সুলাতানা। এ নিয়ে মোট ৬ হাজার ৪৮৬ জন সুস্থ হয়েছেন। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৮৬ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন চার হাজার ৩০৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪১ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৬৯ জন। নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৩২২ জনকে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৬০ হাজার ৪১৬ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৮৮ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৫৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ জন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। করোনায় মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষেও রয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (প্রতিবেদন লেখার সময়) ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৩২ জন । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ২১ লাখ ৬৯ হাজার ২২৩ জন।

জাতীয় পাতার আরো খবর