কম্বোডিয়ায় তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আসিয়ানের সদস্য দেশ কম্বোডিয়ায় তিন দিনের জন্য সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত হওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যু এখানে গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে আগামী ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী সফর করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বৌদ্ধপ্রধান ও আসিয়ানের সদস্য দেশে আমরা সফর করছি, এর একটা গুরুত্ব আছে। ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে যাবেন, জাতিসংঘের থার্ড কমিটির ভোটাভুটিতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয় কম্বোডিয়া। এই সফরের পরে মিয়ানমারের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে কিনা, এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখা যাক কী হয়। আশা করছি সফরের পর আমাদের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। তিনি আরো বলেন, এই সফরে দেশ দুইটি তাদের জাতির পিতার সম্মানে নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করবে। বাড়িধারা কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত পার্ক রোড রাস্তাটি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরদোম সিহানুকের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইভাবে কম্বোডিয়া সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে তাদের দেশের রাজধানী নমপেনের একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করবে। এই সফরে মোট ১১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকায় এসেছেন ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস
বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অভ্যর্থনা জানান পোপ ফ্রান্সিসকে। এ সময় পোপকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পোপ বিমান থেকে নেমে আসার সময় ২১বার তোপধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। দুটি শিশু ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ৮৮ বছর বয়সী খ্রিস্টান ধর্মগুরুকে। সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস, জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সাভার থেকে ঢাকার ধানমণ্ডিতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন পোপ। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বঙ্গভবনে যাবেন পোপ, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেবেন। রাতে বারিধারার ভ্যাটিকান দূতাবাসে থাকবেন পোপ ফ্রান্সিস। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে প্রার্থনা করবেন পোপ ফ্রান্সিস। এরপর ভ্যাটিকান দূতাবাসে সাক্ষাৎ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বিকালে তিনি যাবেন কাকরাইলের রমনা ক্যাথেড্রালে, সেখানে আর্চবিশপ হাউজে বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। শান্তি কামনায় আন্তঃধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্য বিষয়ক সভায় অংশ নেবেন। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে মাদার টেরিজা হাউজ পরিদর্শনে যাবেন পোপ। এরপর তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে খ্রিস্টান যাজক, ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চার্চের কবরস্থান পরিদর্শন করবেন। দুপুরের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন। ওই দিন বিকাল ৫টায় শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়বেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
পাবনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মাতীরের রূপপুরে পৌঁছান। প্রকল্প এলাকায় যে জায়গায় নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর তৈরি হবে, সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কর্ণিক দিয়ে নিজে হাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে শুরু হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রকল্প প্রধান প্রকৌশলী ইউরিক মিখাইল খোসলেভ বলেন, ২০১৭ সালটি রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে সাববেইজ তৈরি করা হয়েছে। আর এ বছরই শুরু হল রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির কাজ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পারমাণবিক চুল্লির জন্য ভিত্তি তৈরির কংক্রিট ঢালাই শুরু হল। এ কাজের প্রস্তুতির জন্য যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত সিমেন্ট মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে চুল্লির নিচে মাটির কাঠামোতে কোনো সমস্যা না হয়। বৃহস্পতিবার মূল স্থাপনা নির্মাণ শুরুর পর কাজ শেষ করতে ৬৮ মাস সময় পাবে এ কাজের দায়িত্ব পাওয়া রাশিয়ার কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় এক হাজার ৬২ একর জমির ওপর চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। প্রথম পর্যায়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন। দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যয়ের এই প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। মূল পর্বের কাজ বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ৪ শতাংশ হারে সুদে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে বাকি ২২ হাজার কোটি টাকা। ১৯৬১ সালে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রকল্পের চেহারা নিতে অর্ধশতক পার হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পে গতি আসে; চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরী গবেষণার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার একটি চুক্তি হয়। ওই বছরই অক্টোবরে রূপপুরে হয় ভিত্তিস্থাপন।
গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে পেট্রলবোমা হামলা
নিজেস্ব সংবাদদাতা :ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে পেট্রলবোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারের বাসভবনে এ হামলা চালানো হয়। ইউএনওর বাসার কাজের মহিলা সাতুতী গ্রামের নূর ইসলামের স্ত্রী জোহরা খাতুন জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাসার পেছনের দিক থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এর পর আগুন ধরে যায়। ইউএনও মর্জিনা আক্তার জানান, ঘটনাস্থল থেকে বোমার বিস্ফোরণে কাচ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন ও তদন্তকাজ চালাচ্ছেন।
জঙ্গি আস্তানা , অভিযানে ৩ জন নিহত, আটক ৩
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে জঙ্গিদের একটি আস্তানায় অভিযানের সময় তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে বাড়িটির মালিকসহ তিনজনকে। সোমবার রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহবান জানানো হয়। কিন্তু তাতে সাড়া না দিয়ে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। গোপন সংবাদের ভিত্ততে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে সোমবার রাত থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি বাড়ি ঘিরে রাখে । অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্থণ করতে বলা হলে তারা উল্টো গুলি ছোড়ে। জবাবে, পাল্টা গুলি চালায় ও আবারো তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। পরে, বাড়িটির ভেতরে অভিযান চালায় । এসময় বাড়িটিতে বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাজশাহী থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঢাকা থেকে যাওয়া ১২ সদস্যর বোমা নিস্ক্রিয়কারী একটি দল বাড়িটিতে তল্লাশি শুরু করে। এসময় ৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মিডিয়া উইংয়ের প্রধান মুফতি মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও আরো একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে। এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন
ভাসানচরে ১ লাখে ৩ হাজার ২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আবাসন নিশ্চিতে আশ্রয়ন-৩ নামে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। চলতি সময় থেকে নভেম্বর ২০১৯ মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছে একনেক সূত্র। একনেক সভায় রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসন প্রকল্পসহ ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৯ কোটি ২৮লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আশ্রয়ন-৩ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
সরকার গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নের জন্য পল্লী উন্নয়নের দিকে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, তার সরকার সব সময়ই এ খাতের উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে আসছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীতার্ত জনগণের জন্য কম্বল প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রায় ১৮ লাখ পিস কম্বল প্রদান করে। অনুদান প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সব সময়ই এই ব্যাংকগুলো তাদের সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করে থাকে। এসব কম্বল দেশের উত্তর জনপদের শীতার্ত জনগণ, রেহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং কক্সবাজার জেলার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নের জন্য পল্লী উন্নয়নের দিকে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বর্গাচাষীদের জন্য জমানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান এবং ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হলে দেশের জনগণ আরও উপকৃত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের নানা বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দেশের জিডিপি এখন ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে এবং জনগণের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি)র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের পেট্রোল বোমা ও জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের অনুকূলে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিকের হাতে তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অনুদানের চেক তুলে দেন।বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও টিউলিপকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
বিশ্বের সৎ ও পরিশ্রমী সরকার প্রধানের তালিকায় স্থান লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের প্যাচওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের লেবার নিউকামার এমপি অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা তাকেও অভিনন্দন জানিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে দুটি অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস পরিচালিত গবেষণায় বিশ্বের সৎ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় এবং কর্মঠ ও পরিশ্রমী সরকার প্রধানের তালিকায় চতুর্থ স্থান লাভ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে মন্ত্রিসভা। জাতীয় সংসদেও এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এছাড়া যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি বঙ্গবন্ধুর নাতনী ও প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের প্যাচওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের লেবার নিউকামার এমপি অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৫ নভেম্বর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে হাউস অব কমেন্সের স্পিকারের কাছ থেকে তিনি এ সম্মানসূচক পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ জন্য মন্ত্রিসভা অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে একত্রে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে মেরিটাইম ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সোমবার কক্সবাজারে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের (আইওএনএস) মাল্টিল্যাটারাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সসারসাইজের (ইমসারেক্স) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। মহড়ায় আইওএনএস এর ৩২টি দেশের মধ্যে ২৩টি সদস্য ও ৯টি পর্যবেক্ষক দেশসমূহের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং নৌপ্রধান, ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের নৌবাহিনীর মধ্যকার আঞ্চলিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এই আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়ার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নিজামউদ্দীন আহমেদ এ জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান। আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে এই মহড়া চলবে। সশ্রস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ বলেন, সাগরের সম্পদ উত্তোলন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই সমৃদ্ধ এই মেরিটাইম ইকোনোমির উন্নতি হতে পারে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সুনামি ও সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি রাষ্ট্রের একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আঞ্চলিক দায়িত্ব হয়ে পড়ে। যৌথ উদ্যোগ ছাড়া আমরা আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব না। এজন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মতপার্থক্য দূর করতে মতামতের স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত আদান-প্রদানই একমাত্র পথ। স্থলভাগের সীমান্ত দেশগুলোকে আলাদা করে রাখলেও সাগরের বন্ধুত্বের বন্ধন আমাদের একসাথে রাখতে পারে। আইওএনএস শুধুমাত্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নয়, বরং এশিয়া-প্যাসেফিক ও সংলগ্ন অঞ্চলের আশার প্রতীক। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, পদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর