সড়ক-মহাসড়ক দখলমুক্ত হবে,৭ দিনের মধ্যে: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, সাত দিনের নোটিশ দিয়ে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। আমি আজই এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা। এ সময় তিনি ওই ফ্লাইওভারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। নতুন মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সড়ক-মহাসড়কে শৃংখলা ফেরানোর বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে, কোন অবস্থায় অবৈধ পার্কিংয়ের অনুমতি দেয়া যাবে না। জনগণকে স্বস্তি দিতে সড়কে নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই বার্তাটিই আমি জনগণকে দিতে চাই। মানুষের জীবন আগে জীবিকা পরে- এ কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুর্ঘটনার হার কমে গেলেও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে, এ থেকে দেশবাসীকে পরিত্রাণ পেতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বা বধায়ক প্রকৌশলী মো: সবুজ উদ্দিন, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফুদ্দিনসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হাজীদের চোখের পানি দেখতে চাই না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: হজ পালনকারীদের যাতে কোন ধরনের সমস্যা পোহাতে না হয় তার সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে। আমি হাজীদের চোখের পানি দেখতে চাই না। তার মন্ত্রাণালয়ের কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। কথা নয়, কাজ দিয়েই তা প্রমাণ করার কথা বললেন নব-নিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে তার নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি নিজে কোন দুর্নীতি করব না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা থাকবে বলে তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কোটালীপাড়া শেখ রাসেল কলেজের শিক্ষকগণ ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গওহর ডাঙ্গা মাদ্রাসায় মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সদর সাব হুজুর শামছুল হক ফরিদপুরির কবর জিয়ারত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি জিয়ারত করেন। তিনি এই দুই মহান লোকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে তার মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু করলেন বলে জানান।
জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব দেশকে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আজ ১০ জানুয়ারি। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন দেশে ফিরেছিলেন। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বাংলার মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো। আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন একটি সদ্য স্বাধীন দেশ কীভাবে চলবে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি প্রশাসনিক অবকাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মহৎ কিছু অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন হয়। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য বঙ্গবন্ধুর মহৎ আত্মত্যাগ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশজুড়ে বঙ্গবন্ধু আছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নমিনেশন অকশনে করেছে, তারা জয়ী হবে কীভাবে? জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর শহীদের রক্তস্নাত বাংলার মাটি ও মানুষ এই দিন ফিরে পেয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কার্যপ্রণালি বিধি ও এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাদের এ অনুমতি দেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে রিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এতে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি এবং জোটসঙ্গীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি আসন পায়। জাতীয় সংসদে কারা বিরোধী দল হবে এ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই গতবার বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৪ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সংসদে এবার বিরোধী দল হওয়ার ঘোষণা দেন। এরশাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে জাতীয় পার্টি। তিনি হবেন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের কো-চেয়াম্যান জি এম কাদের হবেন উপনেতা।
ইভিএম, বিধি সংশোধন হবে উপজেলা নির্বাচনেও
অনলাইন ডেস্ক: এবারই প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাচনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় ইভিএমের ব্যবহার যুক্ত করে সংশোধন করবে ইসি। আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান এসব কথা বলেন। মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, নির্বাচন শেষ হলো মাত্র। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মার্চ মাসের দিকে অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকটি ধাপে এই নির্বাচন হবে। সুতরাং খুব বেশি সময় নেই হাতে। আগামী কমিশন সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন নিয়ে কথা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে। ইসির একটি সূত্র জানায়, আগামী রোববার কমিশন সভা হবে সম্ভবত। ওই কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ইভিএম নিয়ে। এ ছাড়া এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালায় দু-একটি সংশোধন আনা হতে পারে। সূত্রটি আরো জানায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের অনুমোদন দিয়ে এরপর এটি ভোটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দিলেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে কমিশন। সূত্র আরো জানায়, এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় সংযুক্ত করা হয়েছে আগেই। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ তিনটিতে দলীয়ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বতন্ত্র থেকেও প্রার্থী হওয়া যাবে।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক: স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সেখানে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং সংগঠনের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। জাতির পিতা পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোররাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। সকাল ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।
৪ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচকে
অনলাইন ডেস্ক: চটি মানদণ্ডে ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ উন্নীত হয়েছে। বুধবার ( ৯ জানুয়ারি) ১শ ৬৫টি দেশের ওপর করা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্সি'র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নতি, নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেই গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার- পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ধাপের সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। কোনো দেশের গড় ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে 'পূর্ণ গণতন্ত্র', ৬ থেকে ৮ হলে সেখানে 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র', ৪ থেকে ৬ 'মিশ্র শাসন' এবং ৪ এর নিচে হলে সে দেশে 'স্বৈরশাসন' রয়েছে বলে ধরা হয়। ১৮ সালে ৫ দশমিক সাতান্ন স্কোর নিয়ে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। স্থান পেয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়। যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ৯ দশমিক সাতাশি স্কোর নিয়ে গতবারের মতো তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। গতবছর এই সূচকে এক ধাক্কায় আট ধাপ পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। নেমে গিয়েছিল ৯২তম অবস্থানে। স্কোর ছিল ৫ দশমিক চার তিন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল সবচেয়ে বাজে অবস্থান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, '১৮ সালে এসে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। যার প্রভাব পড়েছে গণতন্ত্র সূচকে। অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ মনে করেন, ( উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ সামনে দিকে এগোচ্ছে। যেমন ২০১৮ সালের এই নির্বাচনটা হলো। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়েছে এবং ভোটারদের যে বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি সেটা আমরা দেখেছি। যেটুকু ত্রুটি রয়েছে সেটা আমাদের রাজনৈতিক দলের দুর্বলতার কারণে রয়েছে। এদিকে, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সরকার বিরোধী জোটের অভিযোগকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার উপায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক আবদুল মান্নান (চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন) বলেন, 'গণতন্ত্র নাই বলে যারা চিৎকার করে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে এরকম কথা বলে। আমার মনে হয় না দেশের মানুষের এসব নিয়ে মাথাব্যথা আছে।' সরকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
অনলাইন ডেস্ক: আজ ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় বাঙালির স্বাধীনতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। অবশেষে দেখা মিললো ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের কমেট বিমানটির। অপেক্ষায় তখন লাখো জনতা। উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে গগনবিদারী জয় বাংলা ধ্বনি। ২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিদশা থেকে ফিরে এসেছেন নেতা। বিজয় অর্জনের পরেও প্রিয় নেতার ফিরে আসার জন্য রনক্লান্ত বাঙালিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৫ দিন। বাহাত্তর সালের ৮ জানুয়ারি মুক্ত হবার পর ইংল্যান্ড ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। একুশবার তোপধ্বনি আর লাখো মানুষের আনন্দোল্লাসের মধ্য দিয়ে বরণ করা হলো বঙ্গবন্ধুকে। ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে লক্ষ জনতার ভালবাসায় সিক্ত জাতির পিতা। বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধুর গন্তব্য তখন রেসকোর্স ময়দান। পথে জনতার বিজয় উল্লাস, ব্যানার-ফেস্টুন আর শ্লোগানে মুখরিত। ইতিহাসের পরিক্রমা, যে ময়দানে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ডাক, সেখানেই আবারো তিনি জনতার মুখোমুখি। আবেগে আপ্লুত, আনন্দাশ্রুতে প্লাবিত বঙ্গবন্ধু। ক্লান্ত তবে অবিচল। স্বাধীন বাংলাদেশ কেমন হবে? কোন ভিত্তির উপর দাঁড়াবে বাংলাদেশ, আবেগে থরো থরো হয়েও বঙ্গবন্ধু সেই দিনই তা স্পষ্ট করেন। ইতিহাসবিদ ড. মেজবাহ কামাল বলেন, 'মিলিয়ন ওভার যে পিপল, সেই মানুষের সমাবেশে তিনি যে বক্তৃতা দিলেন। কোন লিখিত ছিল না। সেটা ছিল তার প্রাণের ভিতর থেকে উৎসারিত। তার রাজনৈতিক দিক-দর্শন যা বাংলাদেশের দিক-দর্শন হয়ে উঠবে সে কথা তিনি কিন্তু বলেছেন। দীর্ঘ কারাভোগের পরেও পরিবার নয়, বঙ্গবন্ধু ফিরেছিলেন তার প্রিয় জনতার কাছেই। মেজবাহ কামাল আরো বলেন, তিনি মুক্তি পেয়ে স্বজনের কাছে যেতে পারতেন, বাড়িতে যেতে পারতেন। অনেকে হলেই তাই করতেন। কিন্তু (বঙ্গবন্ধু) তিনি পরিবারের আগে স্থান দিলেন জনগণকে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন অব্যাহত
অনলাইন ডেস্ক: চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, নিকারাগুয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজ বাসসকে জানান, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। লী লুং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রেস সচিব জানান, নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। এছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রেস সচিব জানান, এছাড়া মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী গুঁয়েন চুয়ান ফাক পৃথক পৃথক বার্তায় চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর