শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
মধ্যবাড্ডায় দোকানে অগ্নিকান্ড
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় আজ সকালে আগুন লেগে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। আগুন লাগার কিছুসময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রনে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার সকাল ১০টা ৪ মিনিটে রাজধানীর মধ্যবাড্ডার প্রাণ সেন্টারের বিপরীতে তিনটি দোকানে অগুন লাগে। বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি ভাবে নিভানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও জানান, আগুনে এলাকায় প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকাবাসিরা ঘটনাস্থলে এসে ভীড় জমায় এবং দোকানের আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। লিমা খানম জানান, আগুনে মুদি দোকানসহ তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্বার করছে।
মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা অপরিবর্তিত
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থা অপরিবর্তিত। তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটরে ৭২ ঘণ্টার নজরদারিতে রেখেছে মেডিকেল বোর্ড। আগামীকাল সোমবার এই ৭২ ঘন্টার নজরদারি শেষ হবে। আজ রোববার বিকেলে বাসসকে এ তথ্য জানান মোহাম্মদ নাসিমের ব্যক্তিগত সহকারী আশরাফুল আলম মিন্টু। তিনি বলেন, স্যারের অবস্থা অপরিবর্তিত। আগে শনিবার মোহাম্মদ নাসিমের চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াকে প্রধান করে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মোহাম্মদ নাসিম অচেতন অবস্থায় আছেন জানিয়ে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তার জ্ঞান কখন ফেরে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। এ অবস্থায়ই আরও অনেক সময় থাকতে পারেন। তিনি কোমায় আছেন। সিটিস্ক্যান করার মতো অবস্থায় তিনি নেই। সিটিস্ক্যান করতে গেলেও ঝুঁকি। অবস্থার উন্নতি হলে সিটিস্ক্যান করা হবে। তিনি জানান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাল্স গতকাল যে রকম ছিল এখনও সে রকম আছে। এখনও ভেন্টিলেশনে আছেন। শ্বাস-প্রশ্বাস আগে যে রকম ছিল এখনও সে রকমটাই আছে। নাসিমের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় গণমাধ্যমকে জানান, বাবার অবস্থার উন্নতি-অবনতি নেই। অবস্থা আগের মতোই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। গত বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শুক্রবার তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় স্ট্রোক করায় অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় এবং অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাজিউল হককে ফোন করে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
সিআরপিকে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা অনুদান
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি)-কে ১০ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সিআরপিকে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন, যাতে এটি ভালভাবে পরিচালিত হতে পারে এবং জনগণকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করতে পারে। পক্ষাঘাতগ্রস্থ মানুষের চিকিৎসা, সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনের জন্য দেশে ১৯৭৯ সালে সিআরপির যাত্রা শুরু হয়। সংস্থাটি পক্ষাঘাতগ্রস্থ মানুষের বিশেষ ধরণের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শারীরিক, মানসিক, সহায়তা প্রদান করে। সিআরপি দেশে স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনে দক্ষ কর্মী বিকাশে সহায়তা করছে। এটি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিবন্ধীদের জন্য পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেবা কেদ্র গড়ে তুলেছে।
স্বাধীনতার জন্য জাতির মনন তৈরির লক্ষ্যেই ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু : তথ্যমন্ত্রী
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য জাতির মনন তৈরির লক্ষ্যেই ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আজ ৬ দফা দিবস উপলক্ষে সকালে রাজধানীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দিবসটি উপলক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন,আজ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে যার লক্ষ্য ছিল ধাপে ধাপে যাতে জাতি স্বাধীনতার দিকে যায়, সেজন্য জাতির মনন তৈরি করা। এই ৬ দফার পক্ষে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন এবং ৬ দফার ভিত্তিতেই ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এদেশের মানুষের নিরঙ্কুশ সমর্থনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করেছিলেন। কয়েকটি বাদে পূর্ব বাংলার প্রায় সব ক টি আসনেই তিনি জয়লাভ করেন। তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৩তম জন্মদিনে ১৯৭২ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রখ্যাত রাজনীতিক কমরেড মনি সিংহ বক্তব্য উদ্ধৃত করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৫১ সালেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেসময়ই বঙ্গবন্ধু তাঁর চিঠিতে মনি সিংহকে লিখেছিলেন যে, তিনি স্বাধীনতার পরিকল্পনা করছেন। এতে তার সমর্থন আছে কি না, তাও জানতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বহু আগে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন যে, আসলে এই পাকিস্তানের মধ্যে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বাঙালিরা সবসময় নিষ্পেষিত হবে, নির্যাতিত হবে। সেজন্য বহু আগেই তিনি স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন। নানা আন্দোলন, সংগ্রাম পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন জাতির মনন তৈরি করার লক্ষ্যে, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে। কইসাথে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসময় আক্ষেপ করে বলেন, তবে স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও এটি দুঃখজনক যে, রাজনৈতিক দল বিএনপি এখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদের দলের মধ্যেও বহু স্বাধীনতাবিরোধী আছে এবং এখনো স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের শক্তি নিয়ে আমাদের কথা বলতে হয়। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিভেদের ভাইরাসে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভেদের ভাইরাসে জাতিকে বিভ্রান্ত না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ রোববার ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সড়কের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার বাসভবনে আয়োজিত আনলাইন ব্রিফিংকালে এ আহবান জানান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও সাখাওয়াত হোসেন শফিক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আ খ ম জাহাঙ্গীর, ও শাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা ৭ মার্চ ও ৭ জুন পালন করে না তাদের স্বাধীনতার চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস নেই। এটাই কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষে এবারের ৭ জুন হওয়ায় এর তাৎপর্য অনেক গভীর, তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবারকার ৬ দফা দিবস ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে। দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি করোনা মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদ বলেন, রাজনীতি করার সময় এখন নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি সংকটে সাহসী ও সফল এক রাষ্ট্রনায়ক। একদিকে মানুষকে বাঁচানো অন্যাদিকে করোনা প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক ৭ জুন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ। ৬ দফা ভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তি ঘটে, ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ সময়ে তিনি ৬ দফাকে স্বাধিকার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও আভিহিত করেন। এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রকৃত পক্ষে জাতির মনন তৈরি করার জন্য, ধীরে ধীরে যাতে জাতি স্বাধীনতার দিকে যায়, সেই লক্ষ্যেই ৬ দফা ঘোষনা করেছিলেন। তিনি বলেন, মনি সিংহ বঙ্গবন্ধুর ৫৩ তম জন্মদিনে তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, আসলে এই পাকিস্ততানের মাধ্যমে বাঙ্গালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সেজন্যই তিনি বহু আগেই স্বাধীনতার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং নানা আন্দোলন সংগ্রামের ধারা বাহিকতায় ১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষনা করেছিলেন জাতির মনন তৈরির লক্ষ্যে, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে। এর আগে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধু যাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পূষ্পস্তবক অর্পন করেন আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এছাড়াও কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৪৩
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮৮ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৭৪৩ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৯ জনে। রোববার (০৭ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৭৮ জন। মোট করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৯০৩ জন।
করোনা আক্রান্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে সিএমএইচে আনা হচ্ছে
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংকে ঢাকা সিএমএইচে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। রোববার (৭ জুন) পাবর্ত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বলেন, বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রীকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে আনা হবে। তিনি বলেন, গত বেশ কিছু দিন ধরে মন্ত্রী নির্বাচনী এলাকায় করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণ ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করছিলেন। এসময়ে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বান্দরবান থেকে ঢাকা সিএমএইচএ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। সরকারের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য আক্রান্ত হলেও মহামারি এ ভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত হয়েছেন এ মন্ত্রী। টানা ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বীর বাহাদুর। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন বীর বাহাদুর। ১৯৯১ সালে বান্দরবান (৩০০ নম্বর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি। চলতি মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থেকে তাকে ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে: রাষ্ট্রপতি
৭জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬-দফা দাবি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। ঐতিহাসিক ৬-দফা কেবল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারা-বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের অনুপ্রেরণারও উৎস এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬-দফা অন্যতম মাইলফলক। ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর সে-স্বপ্ন পূরণে তথা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে রাষ্ট্রপতি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ঐতিহাসিক এ দিনে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ৬-দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি জানান বিনীত শ্রদ্ধা। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। ১৯৪৮ সালে বাংলাভাষার দাবিতে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, ৫২র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি। এরপর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বায়ত্বশাসনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে লাহোরে সর্বদলীয় এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬-দফা প্রস্তাব পেশ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শাসনতান্ত্রিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রানীতি, রাজস্ব ও করনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক বাহিনী গঠন এই ৬-দফা প্রস্তাব পেশের মধ্যদিয়েই তিনি (বঙ্গবন্ধু) পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থকে তুলে ধরেন, যার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বায়ত্বশাসনের রূপরেখা। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৬-দফা ঘোষণার পর শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে বার বার গ্রেফতার করে এবং তাঁর উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। তা সত্ত্বেও তিনি (বঙ্গবন্ধু) ৬-দফার দাবি থেকে পিছপা হননি। তাঁর নেতৃত্বে দাবি আদায়ের আন্দোলন বেগবান হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে এ আন্দোলন সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। আবদুল হামিদ উল্লেখ করেন, ৬-দফার আন্দোলন স্তিমিত করতে শাসকগোষ্ঠি গ্রেফতার, নির্যাতনসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬-দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের আহ্বানে প্রদেশব্যাপি (তৎকালিন পূর্বপকিস্তান) সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর মদদে পুলিশের গুলিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১১ ব্যক্তি নিহত এবং অনেকে আহত ও গ্রেফতার হন।

জাতীয় পাতার আরো খবর