রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
সিলেটে মা-ছেলেকে হত্যা যে কারণে করে তানিয়া দম্পতি !
কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার হওয়া তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউসুফ মামুন সিলেটের মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেন। এর আগে পরিবারের সবাইকে রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় গলা টিপে শিশু রাইসাকে মৃত ভেবে ফেলে যান তারা। গত ৩০ মার্চ রাত ৩টায় হত্যাকাণ্ড শেষে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সিলেটের আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে দাবি করে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নগরীর উপশহরস্থ তাদের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ব্রিফিংয়ে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, সিলেট নগরীর মিরা বাজারের খারপাড়ায় মা রোকেয়া বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তানিয়া আক্তারকে (২২) গ্রেফতার করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ইউসুফ মামুনের (২৪) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ঘোষহাটা গ্রাম থেকে সোমবার ভোরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে সিলেট আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন। এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা বসবাস করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তানিয়া রোকেয়ার বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি তানিয়াকে অসামাজিক কাজে নামাতে চান রোকেয়া। অনেক সময় রোকেয়া বেগম জোর করতেন। আর একথা স্বামী মামুনকে জানালে রোকেয়া বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তানিয়া, মামুন, রিপন, শিপন ছাড়াও আরো ৪/৫ জন রোকেয়ার বাসায় যান। রাত ৯টার দিকে লোডশেডিং হলে তানিয়া ও মামুন ছাড়া বাকিরা চলে যান। অন্য সময়ের মতো স্ত্রী তানিয়ার সাথে মামুন থেকে যান রোকেয়ার বাসায়। রাতের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করা হয়। রাত ১টার দিকে স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রথমে রোকেয়া বেগমের কক্ষে যান। ঘুমে অচেতন রোকেয়া বেগমের মুখে কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধ করার জন্য চেপে ধরেন তানিয়া আর ছুরি দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে রোকেয়াকে হত্যা করেন মামুন। এ সময় রাইসা জেগে উঠলে তার গলায় চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান মামুন। এতে রাইসা অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত হতে তানিয়া শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী রুমে ঘুমে অচেতন রোকেয়ার ছেলে রোকনকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তারা। রাত ৩টার দিকে স্বামী-স্ত্রী বাসা থেকে বের হন। ভোরে তানিয়াকে কুমিল্লার গাড়িতে তুলে দেন মামুন। এ সময় সে সিলেট নগরীতে অবস্থান করেন। পিবিআইর কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, তানিয়া ও মামুন দাবি করেছেন, রোকেয়ার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। নিয়মিত খদ্দেরের আনাগোনা ছিল। আর ছেলে রোকন সবকিছু জানতো ও মাকে সহায়তা করতো। রোকেয়ার বাসায় নিয়মিত মাদকের আসর বসতো। তারা আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে রোকেয়া ও তার ছেলে-মেয়ে এবং তানিয়া-মামুন দম্পতিসহ আরো ৪/৫ জন কক্সবাজারে ভ্রমণ করেন। ওই ভ্রমণে আর কারা সঙ্গী ছিল, তাদের নাম জানাতে পারেননি তানিয়া। তারা আরো বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের কথা রোকেয়ার মুখে শুনলেও কোনো দিন তাদের দেখা হয়নি। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টায় নগরীর উপশহরস্থ সিলেট পিবিআইর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে তানিয়ার কথিত দ্বিতীয় স্বামী মামুনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে অভিযান চালিয়ে পিত্রালয় থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর পরই সন্দেহভাজনদের মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ওই দিনই সিলেট ছাড়ে তানিয়া। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাকে ট্রেস করা যায়। এর পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসায় রোকেয়া বেগম (৪০), তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। গত এক বছর ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা। এ ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর গত বুধবার শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
বিশ্বব্যাংক কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না :পরিকল্পনামন্ত্রী
প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না। তারা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তথ্য দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেয়া মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এতে চলতি বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়। সোমবার বিশ্বব্যাংক বিবিএসের এই প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি বলছে, প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় আছে, যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন। বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ অথবা ৬.৬ শতাংশ হবে বলেও জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। পরিকল্পনামন্ত্রীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন কামাল। শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ফরমাল ইকোনোমি নিয়ে কাজ করে। কোনো সার্ভে নাই, তারা ঢাকা অফিসে বসে প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকার বাইরে যায় না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ফিগার সঠিক নয়, আমাদের (বিবিএস) ফিগার সঠিক। বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্যে আমি হতভম্ব। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা ঢাকা অফিসে বসে বসে প্রতিবেদন তৈরি করেন। তারা (বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা) ঢাকার বাইরে যায় না। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব। এটা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হয়। বিশ্বব্যাংকের ভারত অফিসের কর্মকর্তারা যদি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফিগার দিতো তবে এটা ৮ শতাংশ হতে পারতো। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক কেনই আমাদের তথ্য নিয়ে মাতামাতি করে। বিশ্বব্যাংক বিবিএস-এ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তারাই (বিশ্বব্যাংক) আবার বিবিএস নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্বব্যাংক আমাদের গ্রহণ কেন করে না আমরা জানি না।
কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন স্থগিত
আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছেন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এ ঘোষণা দেন। সোমবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় ৬টা ১৮ মিনিটে। ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণরা এই কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন। তারা আমাদের রাজনীতির অপরিহার্য অংশ, তারাই নতুন প্রজন্ম। আমরা এই পরবর্তী প্রজন্মের জন্যই রাজনীতি করি। তাই শেখ হাসিনার সরকার কখনও তরুণদের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করেনি। সেই ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। আমার সঙ্গে আমার সহকর্মীরা আছেন। আন্দোলনকারীদের ২০ জনের প্রতিনিধি এখানে এসেছেন। তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি নিয়ে একটা সমাধান খুঁজে পাওয়ার জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েক মিনিট আগেও প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়টিতে সরকার রিজিড অবস্থানে নেই। আমি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেছি, তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখবো। আগামী ৭ মে’র মধ্যে সরকার কোটা পদ্ধতি রিভিউ বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে জানিয়ে সরকারের এই প্রতিনিধি বলেন, সরকার মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করবে। এর ফল কী হবে, সেটা আমরা জানাবো। সে পর্যন্ত কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন স্থগিত থাকবে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা এখানে রয়েছেন। তারাও ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখাতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধিও সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করার চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করছি, তিনি আমাদের দাবি মেনে নেবেন। মামুনের নেতৃত্বে বৈঠকে প্রতিনিধিদের ১৯ সদস্যের মধ্যে কানিজ ফাতেমা, আফসানা সাফা, একরামুল হক, লীনা মিত্র, আরজিনা হাসান, লুবনা জাহান প্রমুখ ছিলেন।
দৃশ্যমান হলো মেট্রোরেলের উড়ালপথ
বহুকাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে। থামবে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে। স্বপ্নের এই মেট্রোরেলের প্রথম কোনো কাঠামো এখন দৃশ্যমান। উত্তরায় তৃতীয় ফেজে মাটি থেকে ১০ মিটার উঁচুতে দুটি খুঁটিতে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৩৭৭টি পিলারে ওপর এরকম ৩৭৬টি স্প্যান বসে বিস্তৃত হবে ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল। ২০১৯ সালে পাঁচ সেট ট্রেন দিয়ে উত্তরা-আগারগাঁও রুটে যাত্রা শুরু করবে এই যানজটহীন দ্রুততম যান। মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, ৮টি প্যাকেজের মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পের উত্তরা অংশে যে কাজ হচ্ছে এটি ৩ নম্বর প্যাকেজ। এর অধীনে উত্তরা থেকে পল্লবী পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারের কাজ চলছে। প্রথম কাজ হিসেবে উত্তরায় দু’টি পিলারের সম্পূর্ণ কাজ শেষে একটি স্প্যান তোলা হয়েছে। এখান থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৪টি স্টেশন পড়বে। এগুলো হলো- উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ এবং পল্লবী। পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আরও ৬ কিলোমিটারে ৫টি স্টেশন থাকবে। এখানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। রাস্তার মাঝ বরাবর ব্যারিয়ার দিয়ে পাইল ড্রাইভ কাজ চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের পরিচালক আফতাব আহমেদ জানান, পিলার ও গাডার তৈরি চলছে। একটি স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত করে মেট্রোরেলের পুরো অবকাঠামোর একটি ধারণা উপস্থাপন করা হবে। ডিএমটিসিএল প্রকল্প অনুযায়ী, প্যাকেজ ৩ ও ৪ এর কাজ করছে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইটাল-থাই) এবং চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। প্যাকেজ-২ এর আওতায় উত্তরায় ডিপো নির্মাণ করছে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো। আর প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপো এলাকায় ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ করা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের প্যাকেজ-৫ ও ৬ এর কাজ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। প্যাকেজ ৭ এ হলো- মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক সব কাজ। এর মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। প্যাকেজ ৮ রেলকোচ ও ট্র্যাক পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ সেট ট্রেন উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চালানো শুরু হবে। ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে বাকি ১৯ সেট ট্রেন এবং ডিপো যন্ত্রাংশ সরবরাহ শেষ হবে। কোচ আমদানি করা হবে জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি-মিৎসুবিশি থেকে। ডিএটিসিএল এর চেয়ারম্যান এম এ এন ছিদ্দিক জানান, ২০১৯-এ মেট্রোরেলের প্রথম ধাপ উত্তরা আগারগাঁও-এর কাজ শেষ হবে। তখনই ৫ সেট ট্রেন দিয়ে মেট্রোরেলের এ রুট চালু হবে। মেট্রোরেলের এ পুরো পথটাই হবে এলিভেটেড। উড়ালপথে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল।
লাঠিপেটা-কাঁদানে গ্যাস শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের ওপর
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষে শাহবাগ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এ সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায় নি। আন্দোলনকারীরা শাহবাগের বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেন। রোববার দুপুর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরীপ্রার্থীদের এ আন্দোলন। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। ফলে শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকাসহ সারা দেশে গণপদযাত্রার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে কমাতে হবে। এই চাকরিতে কোটা সব মিলিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অগ্রাধিকার কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। এ জন্য এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের দাবি হল- কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ দেওয়া; নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা; কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।
শঙ্কায় পড়া অর্ধশত হজযাত্রী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন
লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন ৪৮ হজযাত্রী। তারা এবার হজে যেতে অন্য একটি এজেন্সির অনুকূলে নিবন্ধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এজন্য রোববার প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ৪৮ জনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের পক্ষে রহমাতুল বারী এই স্মারকলিপিটি দেন। একই সঙ্গে তারা অবৈধ হজ এজেন্সির সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ এনে হজ পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন। স্মারকলিপি থেকে জানা গেছে, এ ৪৮ জন হজে যেতে আল-বারী ট্রাভেলস নামে একটি এজেন্সি থেকে প্রাক নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনিয়মের জন্য এই এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এ হজযাত্রীরা প্রাক-নিবন্ধন আরব-বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যান্ড হজ গ্রুপে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আল-বারী ট্রাভেলসের মালিক ওবাইদুল্লাহ হজযাত্রীদের না জানিয়ে তাদের প্রথমে আনসারি ওভারসিজে এবং পরে ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালের সেবা ভালো না হওয়ায় হজযাত্রীরা এই এজেন্সির মাধ্যমে হজে যেতে রাজি নন। পরে ফার্স্ট ওয়ান ইন্টারন্যাশনালের মালিক মুফতি তোফায়েল আহমেদ হজযাত্রী স্থানান্তরে রাজি হলেও হজ পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্থানান্তর অনুমোদন দেননি। হজযাত্রীদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হজ অফিসে প্রস্তাব পাঠানো হলে পরিচালক তা অনুমোদন দেননি। তাই তারা এবার হজে যেতে এখনও নিবন্ধন করতে পারেননি বলে স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন। এই হজযাত্রীদের অভিযোগ, আল-বারী ট্রাভেলসের মালিক ওবাইদুল্লাহর সঙ্গে যোগসাজশ করে হজ পরিচালক হজযাত্রী স্থানান্তর অনুমোদন করছেন না। এজন্য এই প্রায় অর্ধশত হজযাত্রী আরব-বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যান্ড হজ গ্রুপের নামে হজের নিবন্ধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গ্রেফতার জমি দখলের অভিযোগে
জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের ১০ কাঠা জমি দখলের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে দুদক। রোববার দুপুরে গুলশান থানায় মামলার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-১ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর প্লটটি বহুদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন কুতুবউদ্দিন। ১০ কাঠার ওই প্লটে নাজমুল ইসলাম সাঈদের নামে একজনকে জমির একটি পক্ষ বানিয়ে তা নিজের নামে করে নেয়ার জন্য গুলশান সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করেন কুতুবউদ্দিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম ভূমিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিন ও নাজমুল ইসলাম সাঈদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া
চিকিৎসার জন্য কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়েছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি বহর শনিবার বেলা বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শাহবাগের বিএসএমএমইউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। বিএসএমএমইউ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আলী আসগর মোড়ল জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখবেন। এরপর কী হবে সেটা মেডিকেল বোর্ড ঠিক করবে। মেডিকেল বোর্ড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে খালেদা জিয়াকে একটি কেবিনে রাখা হবে। এ জন্য কেবিনটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান আলী আসগর মোড়ল। খালেদা জিয়া দুই মাস ধরে পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে। রায় ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেত্রী বন্দি রয়েছেন।
স্নিগ্ধা যা বলেছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন স্নিগ্ধা ভৌমিক। পরকীয়া প্রেমিক কামরুলের সঙ্গে মিলে হত্যার নির্মম বর্ণনা দিয়েছেন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে। স্নিগ্ধা বলেন, রথীশকে হত্যা করলে সবাই ভাববে জঙ্গিরাই তাকে মেরেছে- এ ভাবনা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। এর কারণ হিসাবে জানায়, রথীশ ছিল জেএমবির হামলায় নিহত জাপানি নাগরিক ও মাজার খাদেম হত্যা মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী। আর এ কারণেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে- এমনটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার খাস কামরায় স্নিগ্ধা ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দেয়া জবানবন্দিতে স্নিগ্ধা জানায়, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। ওদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা তার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে স্নিগ্ধা ভৌমিকের পাশাপাশি দুই স্কুলছাত্র সবুজ ইসলাম (১৭) ও রোকনুজ্জামানের (১৭) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে স্কুলের দুই ছাত্রকে গতকাল সকালে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে দীপা তার স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং কামরুলের ইসলামের পরকীয়ার কথাও স্বীকার করেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুই কিশোর তাদের জবানবন্দিতে শিক্ষক কামরুলের নির্দেশে তার নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির একটি কক্ষে গর্ত খোঁড়ার কথা স্বীকার করে। ওই গর্তেই রথীশের মাটিচাপা দেয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। আলাদাভাবে জবানবন্দি নেয়ার পর স্নিগ্ধা ও দুই কিশোরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক মুক্তা। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অ্যাডভোকেট রথীশ ভৌমিককে হত্যা করার পর লাশ ঘরের মেঝেতে রেখে তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ও কামরুল শারীরিক মেলামেশা করে রাতভর। তাদের পরকীয়া প্রেমের কাহিনী জানতো অ্যাডভোকেট রথীশের ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্ত। আর এ কারনে খুনের সঙ্গে জড়িত বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে এই মামলায় বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। ওদিকে সূত্র জানায়, স্নিগ্ধা ও কামরুল গোপনে দেশ ছাড়তে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা পালাতে পারেননি। উল্লেখ্য, আইনজীবী রথীশ ভৌমিক বাবু সোনা ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে র‌্যাব-পুলিশ তার রহস্য উদঘাটন করে। ২৯শে মার্চ রাত ১০টার দিকে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাসাতেই ঘুমের বড়ি খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। ৪ঠা এপ্রিল দিনগত রাতে তার তাজহাট মোল্লাপাড়ার কামরুলের নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাসা থেকে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। বাবু সোনা জাপানি নাগরিক ও খাদেম হত্যা মামলার বিশেষ পিপি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলামের সাক্ষী ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্র্যাস্টেও ট্র্যাস্টি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এদিকে অ্যাডভোকেট রথীশের হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিকের প্রেম কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। রথীশ ও স্নিগ্ধার বিয়ে প্রায় ২ যুগ পার হলেও স্নিগ্ধার স্বামী অ্যাডভোকেট রথীশ এখনও বেশ সুদর্শন। পাশাপাশি কামরুল ইসলাম বিয়ের প্রায় দেড় যুগ হলেও তার ঘরে রয়েছে সুন্দরী স্ত্রী রোজ।