ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে
একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।
অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলো উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত করেছে
তথ্য নেটওয়ার্কের বিস্তার এদিকে চীনের রাজধানীতে একটি উচ্চ-প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা বিশেষ করে জোংগুয়ানকুন সমর্থিত চীনা কোম্পানিগুলো, অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি দক্ষতা বিনিময়ের চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে, চীনের দাতাং টেলিকম ইকুয়েডোরের ইয়াচায় সিটি অব নলেজে সঙ্গে একটি ফোর জি টিডি-এলটিই ল্যাবরেটরি নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফোর জি টিডি-এলটিই চীনের নিজস্ব তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি। সর্বশেষ জিএসএমএ ইনটেলিজেন্স ডাটায় দেখা যায় যে যে ল্যাটিন আমেরিকাতে ২০১৪ সালে ফোর জি সংযোগের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে, আগের বছরে যার সংখ্যা ছিল ৫১ মিলিয়ন, এটি বাজারের দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ডেটং ইকোডোরিয়ানদের ফোর জি টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের জন্য প্রস্ত্তত করতে দেশটির পেশাদার দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে যাচ্ছে। এছাড়াও, টেলিযোগাযোগ বাহক, বিক্রেতারা, পরিষেবা সরবরাহকারীদের এবং কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের জন্য কাস্টমাইজড সমাধান দেয়ায় নিয়োজিত বেইজিং জিনবেই টেকনোলোজি গ্রুপ সামপ্রতিক বছরগুলিতে কম্বোডিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং তানজানিয়ায় পাবলিক নেটওয়ার্কে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদানকারী হিসেবে টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরদের সাথে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও, বেইজিংভিত্তিক টিভি নেটওয়ার্ক প্রদানকারী সিদা টাইমস-এখন আফ্রিকাতে দ্রুত ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল টিভি অপারেটর হয়ে উঠেছে। এটি এখন কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আফ্রিকার ২০টি দেশে ব্যবসা করছে এবং এর গ্রাহক সংখ্যা আট মিলিয়নেরও বেশি। ই-কমার্স ও ফিন্যান্সের জন্য নতুন ভোর মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে, ইলেক্ট্রনিক বাণিজ্যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে এবং কিছু চীনা সংস্থা এক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা, এ বছরের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রস্তাব করেছেন। পরিকল্পনা অনুসারে আলিবাবা দেশীয় ক্ষদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এবং আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দেশে একটি ডিজিটাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল উন্নয়নে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে কাজ করতে চায়। এটি ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) নির্মাণের ধারণা প্রচারের জন্য মা-এর প্রচেষ্টার অংশ। তাং জু শেন হলেন মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মেলাকায় অবস্থিত একটি তাৎক্ষণিক কফি উৎপাদন ফার্মের বিক্রয় পরিচালক, যার নাম আক চেং কফি। এই ব্যবসাটির শুরু হয় ১৯৫৫ সালে, এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডের একটি। আইক চেয়ং কফির চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় এবং এশীয় ডজনখানেক দেশে এর পণ্য বিক্রি করে। তাং অভিযোগ করেছেন যে সামপ্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য প্রতিরক্ষাবাদ তার কোম্পানির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কিছু দেশে কফি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) ইন্টারনেটের এই যুগোপযোগী ট্রেডিং সিস্টেম বিশ্বব্যাপী চালু করতে পারে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতি এবং ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এর জন্য বিশ্ব বাজার সহজতর করে তুলতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বেইজিং-এর জোনগুয়ানকান, ইন্টারনেট আন্তঃসীমান্ত-সীমান্ত বাণিজ্য এবং বড় ডাটা সংস্থা আইজেডপি টেকনোলজিস, আধুনিক যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউরোপ থেকে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদেরকে আরও চৌকষ সেবা দানের জন্য ব্যবহার করছে। কোম্পানি খুব কম ফি’র প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে প্রধানত চীনা ইউয়ান ও স্থানীয় মদ্রায় এবং ভিসা পেমেন্ট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট প্রদানের উপর জোর দিয়ে থাকে। আইজেডপি ডাটা মাইনিংএ সক্ষম একটি বিগ ডাটা পস্নাটফর্মও স্থাপন করেছে। অভিন্ন উন্নয়নের পথে প্রাচীন সিল্ক রোড রুটে এশিয়া ও ইউরোপের সাথে সংযুক্ত একটি বাণিজ্য ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর ২০১৩ সালে গৃহীত সিল্ক রোড অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২১ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোড নিয়ে গঠিত অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ নেন। এ পর্যন্ত, চীন এই কর্মসূচিতে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এটি ১০০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন লাভ করেছে এবং ৪০টিরও বেশি সদস্য চীনের সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উচ্চ প্রযুক্তির হাব উন্নয়ন ও পরিচালনার নিয়োজিত সরকারের প্রশাসনিক অঙ্গ জোনগুয়ানকুন প্রশাসনিক কমিটি বছরের পর বছর ধরে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগের আওতায় বিদেশি বাজারে প্রবেশ উৎসাহিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কমিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালক জেং জিয়াডং, সিনহুয়াকে বলেন, সুষম বিজয় অর্জনের জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা তার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অগ্রাধিকার। জিয়োমি ইন্দোনেশিয়ার সেল ফোন বিক্রি করতো, কোম্পানিটি এখন সেখানে একটি কারখানা নির্মাণ করছে। এটি ২০১৭ সালের হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির স্মার্টফোন পণ্যের ১০০ শতাংশ স্থানীয়করণের পরিকল্পনা করেছে। এর বিনিয়োগের পদক্ষেপ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচুর কাজের সুযোগ করে দেবে। ইকুয়েডোরে, ডাটং কোম্পানির গৃহীত কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটিকে সহায়তা করবে এবং এর শিল্পের উন্নয়নে সাহাঘ্য করবে। পরিশেষে, এই প্রকল্পটি দেশটির এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের টেলিযোগাযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসের স্কিইং রিসর্টে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তার বক্তৃতায়, জি বলেন, এটি চীনের নেয়া উদ্যোগ হলেও এর সুফল সীমান্ত অতিক্রম করে বিস্তার লাভ করেছে। বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি)-র চেয়ারম্যান হান্স-পল বুয়ের্কনার চলতি বছরের শুরুতে এই ফোরামে বলেন, আন্তঃ সংযোগের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে, অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ অনেক দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করেছে। বুয়ের্কনার বলেন, বিশেষ করে, পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসবে এবং আরো বেশি সংখ্যক চাকরির আরও সুযোগ করে দেবে।
অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ: একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলন সফল হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে। সুনির্দিষ্ট ফলাফল নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক গোরিশন ইকিয়ারা বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ (একটি অঞ্চল একটি সড়ক) বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ ইস্তেহারে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ জোরদারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্যে এ সম্মেলন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্মেলনের অর্জনগুলোর অন্যতম হলো অংশ্রগহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বৃহৎ পরিসরে চুক্তি স্বাক্ষর। এতে বলা হয়, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ প্রকল্প বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পস্নাটফরম। এখানে বিশ্বের সকল দেশ অংশগ্রহণ করে ও অবদান রেখে সমান সুবিধা নিতে পারে। সম্মেলনে নীতিনির্ধারণ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জনসংযোগ— এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়। এসব বিষয়ে চীন সরকার মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, নেপাল ও ক্রোয়েশিয়া, মান্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলবেনিয়া, তিমোরল্যাস্তে (পূর্ব তিমুর), সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া সরকারের সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এ ছাড়াও চীন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব মেধাস্বত্বে সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে। নিয়ম অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প সহযোগিতা জোরদারে চীন উজবেকিস্তান, তুরস্ক ও বেলারুশের সাথে আন্তর্জাতিক পরিবহন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শিল্প বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে চীন পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, মঙ্গোলিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবাননসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের সাথে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সাধুবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। গ্রিক প্রেসিডেন্ট প্রকোপিস পাভলোপলোস এ সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য চীনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় পাভলোপলোস বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের গুরুত্ব সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রস্তাবিত অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাচীন সিল্ক রোড (রেশম সড়ক) ও নৌ-বাণিজ্যিক রুট বরাবর এশিয়াকে ইউরোপ ও আফ্রিকার সাথে যুক্ত করে বাণিজ্য ও পরিকাঠামো নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এর ফলে এ মেগা প্রকল্পে যুক্ত প্রতিটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে। গ্রিক নেতা বলেন, এ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়াকে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের সাথে যুক্ত করা। পাভলোপলোস বলেন, এ প্রেক্ষাপটে সম্মেলন চীনের অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের সফলতা সুনিশ্চিত এবং বিশ্ববাসীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবে। ইউক্রেনের ফার্স্ট উপ-প্রধানমন্ত্রী স্টি পান কুবিভ জোর দিয়ে বলেন, এ সম্মেলন সফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নতুন নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ইউক্রেনের যুক্ত থাকা এবং ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন প্রতিনিধিদল অবকাঠামো, পরিবহন, বেসামরিক বিমান পরিবহন শিল্প, লজিস্টিক ও যন্ত্র তৈরিতে সহযোগিতা জোরদারে চীনের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এদিকে পোল্যান্ডে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ান কংগ্রেসের চতুর্থ সংস্করণ শীর্ষক আলোচনা সভার ডেপুটি জিগনিউ অস্ট্রোস্কি বলেন, ‘নিউ সিল্ক রোড ধারণায় আমরা সকলে অনুপ্রাণিত।’ তিনি আরও বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ পোল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হতে পারে। সুতরাং, এ পদক্ষেপে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। তার প্রমাণ হচ্ছে বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বায়েতা জিদলোর উপস্থিতি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীন বিভাগের প্রধান রদোসলো ফ্লিসিউক বলেন, পোল্যান্ড অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া সকল দেশের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য এটি ইতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ ধারণা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।’
দেশের মতো আমেরিকায়ও উদ্যোক্তা শাহ নেওয়াজ
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা জেবিবিএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ নেওয়াজ। শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশে। আমেরিকায় এসেও একই পথ অনুসরণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কমিউনিটি সেবায় কাজ করছেন। ২০০৫ সালে আমেরিকায় আসেন শাহ নেওয়াজ। এখানে শুরু হয় নতুন জীবনসংগ্রাম। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স, আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যয়ন শেষে বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিসহ একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে ঢাকায় তৈরি করেন তৈরি পোশাক কারখানা ভেনাস গ্রুপ ইউএসএ মোড লিমিটেড। ক্রেতাদের হাতে উন্নতমানের পণ্য সহজে পৌঁছানোর জন্য সাদিয়া শপিং মল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সাল থেকে কমিউনিটি সেবায় ভিন্ন কমিউনিটি ও বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চালু করেন এনওয়াই ইনস্যুরেন্স। পাশাপাশি চালু করেন হোমকেয়ার ও বেইজ সার্ভিস সেবা। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন ১৪ জন কর্মচারী । এদিকে শাহ নেওয়াজ একাধিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি একাধারে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, একাধিক পথ মেলার উদ্যোক্তা, এ ছাড়া অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসায়ীদের জনপ্রিয় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেবিবিএর নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী। গতবারের নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
দেবহাটায় ট্রাকচাপায় নিহত ১
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ট্রাকচাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (২২)। তিনি একটি ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কাছ করতেন। রফিকুল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া গ্রামের রজব আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোরে পারুলিয়া এলাকায় ট্রাক রেখে রফিকুল ইসলামকে রাস্তার ওপার থেকে পানি আনতে পাঠান ট্রাকচালক। পানি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় কালিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী অন্য একটি ট্রাক রফিকুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেন বলেন, সুরতহাল শেষে রফিকুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা দুইটা নাগাদ তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান। প্রক্টর বলেন, ঢাকা পুলিশের সহায়তায় রাজশাহী পুলিশের একটি দল তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামীও রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের রাজশাহীতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। অপহৃত ওই ছাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আজ বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা দুইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে তারা। এর মধ্যে পাওয়া না গেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে আন্দোলনরত ছাত্রীরা হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি জানান। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই ছাত্রীর সন্ধান পুলিশ পেয়েছে। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অপহৃত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী। একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রীর ‘সাবেক স্বামী’ সোহেল রানাসহ তিন-চারজন যুবক তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় নগরের মতিহার থানায় অপহরণ মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।

জাতীয় পাতার আরো খবর