শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০
করোনাক্রান্ত আরও ১৪৫ পুলিশ সদস্য সুস্থ,
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাক্রান্ত আরও ১৪৫ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। তারা আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় তারা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা জানান, সরকারের আইইডিসিআর'র চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী এ ১৪৫ পুলিশ সদস্যের পরপর দুবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। দুবারই কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদেরকে করোনামুক্ত ও সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যদেরকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, করোনাক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত করোনাক্রান্ত ৪৩০ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন।
সুপার সাইক্লোন আম্ফান মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাসমূহে ব্যাপক প্রস্তুতি
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন আম্ফান মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাসসের খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা জেলা সংবাদাতাদের পাঠানো সর্বশেষ সংবাদে জানায়- আম্ফান মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা খুলনায় সর্বত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার ৩৬১টি আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৬০৮টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এদিকে, সাইক্লোন শেল্টারে মানুষকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার বাসসকে জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮টি, কয়রার ১১৬টি, পাইকগাছার ৪৫টি ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয় কেন্দ্রকে আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ ৩ হাজার ৫৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আরো ১ হাজার ১০০জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। সুন্দরবন উপকূল সংলগ্ন কয়রা উপজেলা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবির জানান, মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করার পরে তারা বিকেল থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। সকাল থেকেই মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং চলছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য ১১৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে বাসসকে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৪ উপকূলীয় উপজেলা কমিটি জরুরি সভা করেছে। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ আরো জানান, জেলায় ৮৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৮৪ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ১১ হাজার ৭০৮ জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আম্ফানের আগেই মাঠে থাকা অবশিষ্ট পাকা ধান যে কোন অবস্থায় দ্রুত কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে এলাকাবাসীকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ এবং রামপাল উপজেলার উপকূলবর্তী মানুষের। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বাগেরহাটে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য কুইক রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, সোমবার পর্যন্ত বন্দরে সার, ফ্লাইঅ্যাশ, কয়লাবাহীসহ মোট ১১টি দেশি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজ গুলোতে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে। জাহাজগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বন্দরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় বন্দরের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুরে ২০১টি সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার মজুদ করা হয়েছে। এছাড়াও, উপকূলীয় চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনের মাঝে সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিংসহ সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া বাসসকে জানান, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে কি-কি ব্যবস্থা নেয়া যায়, সেসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার আংশিক এলাকাসহ রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর ঝুঁকিপূণ। উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন ও গবাদি পশু গুলোকে নিকটবর্তী সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে আনা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে আগের ১০১টি সাইক্লোন শেল্টারের সঙ্গে আরও ১০০টিসহ মোট ২০১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার বাসসকে জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৬৬টি মেডিকেল টিম গঠন করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। সার্বিক যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখার জন্য ০১৭৩৫০০৩৫৫৫ ও ০১৮১৯৫২৪৮০২ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ বাসসকে জানান, বরগুনা সদর, বামনা, আমতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী মোট ৬ উপজেলায় প্রস্তুত ৫০৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৪২৪ জন মানুষ, প্রায় ১০ হাজার গবাদি পশু এবং ৩০ হাজার হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় নিতে পারবে। আশ্রয়কেন্দ্র পরিস্কার করে জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় ২২টি পোল্ডারে সাড়ে ৯০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণীসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সদরের নলটোনা, এম বালিয়াতলি, বদরখালি ও বুড়িরচর এবং আমতলী, তালতলি বামনা ও বেতাগী উপজেলার নদী তীরবর্তী ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দারা। ফেনী প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান আজ বাসসকে জানান, ইতোমধ্যে ফেনীর সোনাগাজীসহ উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র সমূহ প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন ও গবাদিপশু সরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড়- আম্ফান সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে বলে জানান সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব। ইউএনও বলেন, উপজেলার ৫৬টি সাইক্লোন শেল্টারের ব্যবহার উপযোগী ৫২টি আশ্রয়দানের প্রস্তুতি চলছে। উপকূলীয় ৪ ইউনিয়ন চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সদর ও আমিরাবাদে ২৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও ৩৩টি স্কুল ঘর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনার কারণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতে সোনাগাজী পৌর এলাকায় শেল্টারেও মানুষজন সরিয়ে আনতে হতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী সিপিপির টিম প্রস্তুত রয়েছে। ১১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ১০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে উপজেলা রেসপন্স কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সপ্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী আজ সকালে বাসসকে জানান, ইতোমধ্যে ফেনীতে ৯০ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ ধান দুর্যোগের পূর্বে ঘরে তোলা যাবে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের ৩২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৬ হাজার ৭০০ স্বেচ্ছাসেবক, ৩ শতাধিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মী ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারগুলোর চাবি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলো দেখাশুনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগী এবং লকডাউনকৃত বাড়ির লোকজনকে নিকটবর্তী আইসোলেশন কেন্দ্রে প্রেরণ এবং আশ্রায়ন কেন্দ্রে তাদের জন্য বিশেষ কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার লোকজন ও গবাদিপশুকে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলিফ রেজা জানান, আজ দুপুর দেড়টার পরে আকাশ মেঘলা হয় ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়তে থাকে। সকাল থেকে মাইকিং এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়েছে। বাকীদের সন্ধ্যার মধ্যে সাইক্লোন শেল্টারে নেয়ার চেষ্টা চলছে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবুজর গিফারি জানান, সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার ও রোদ উঠলেও দুপুরের দিকে মুন্সীগঞ্জ, গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে কিছুক্ষণ হয় বৃষ্টি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া গেছে। বর্তমানে নদীতে ভাটা চলছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে গত রোববার। সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট ও ফায়রা সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় তাদের স্ব-স্ব অফিসের স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলায় ৩৩০টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ এবং জেলার সকল হোটেল-মোটেল আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
করোনায় সংকটে পড়া সাংবাদিকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দিলেন তথ্যমন্ত্রী
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় সংকটে পড়া সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি আজ সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ১৬তম সভাশেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন। ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও তথ্যসচিব কামরুন নাহার, ট্রাস্টের সদস্য সচিব ও পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদসহ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের নানা পেশার মানুষের মতো বহু সাংবাদিকও অসুবিধায় পড়েছেন উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, তাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছিলাম। সে প্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতিতে যারা অসুবিধায় পড়েছে, তাদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য তাঁর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আমরা আজকে একটি বিশেষ তহবিল থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কারা এই তহবিল থেকে সহায়তা পাবে সেটি নিয়েও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। যারা স প্রতি চাকুরিচ্যুত হয়েছে, গত ৬ মাস ধরে যারা বেকার রয়েছে, আবার যাদের চাকুরি আছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না -তারা এই এককালীন জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা সহায়তার আওতায় আসবেন। মন্ত্রী বলেন,দলমত নির্বিশেষে সারাদেশে করোনা সংকটে পড়া সাংবাদিকরা এ সহায়তার আওতায় আসবেন। নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী কারা সহায়তা পাবেন সেটি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন ঠিক করবে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই ২০১৪ সালে এই কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১শ ৬৭জন সাংবাদিক এই কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছে। ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার আগেও ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের শেষ পর্যন্ত ৬২৩ জন সাংবাদিককে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছিল। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ সাংবাদিকদের যে সহায়তা দেয়া হয়, তা অব্যাহত আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গত বছর সেই খাতে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সাংবাদিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। আজকের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই খাতে এ বছর ২ কোটি টাকা দেয়া হবে। করোনা মহামারির এসময় বাংলাদেশের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে ও ইতোমধ্যেই শতাধিক সাংবাদিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৩ জন মারা গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি বলেন, সঠিক সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছার জন্য তারা এই দুর্যোগ, প্রতিকূলতা ও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও কাজ করছেন। এজন্য সব সাংবাদিককে আমি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) এস এম মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. কাশেম হুমায়ুন সভায় অংশ নেন।
ঈদের আগে-পরে ১০দিন কারফিউ জারির আহ্বান যাত্রী কল্যাণ সমিতির
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আসন্ন ঈদের আগে-পরে ১০দিন কারফিউ জারি করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ সড়ক-মহাসড়ক ও ফেরিঘাটগুলোতে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেশব্যাপী বিস্তার ঘটাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মহাসচিব বলেন, প্রিয়জনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটাতে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহর থেকে সাড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যায়। দীর্ঘদিন ধরে এটি চলমান থাকায় বর্তমানে তা ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে এবারের লকডাউনেও ঈদের ছুটি কাটাতে শহরের লোকজন গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। এতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেবে। লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও একাধিক দফায় শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষেরা নানা উপায়ে রাজধানীতে এসেছে এবং গ্রামের বাড়ি যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। একইভাবে গত কয়েকদিন যাবৎ সড়ক-মহাসড়ক ও ফেরিঘাটগুলোতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে যেখানে অবস্থান করে সেখানেই ঈদ উদযাপন করার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বিস্তার রোধে ঈদের আগে ও পরে ১০দিন কারফিউ জারি করার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের মহাসচিব ।
সব স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন আদায়ের কার্যক্রম স্থগিতে নোটিশ
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত সব স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন আদায়ের কার্যক্রম স্থগিতে পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে আজ মঙ্গলবার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট মো. সাইফুর রহমান এই নোটিশ পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়া নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), দেশের সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপালকে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও জানানো হয় নোটিশে। নোটিশে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক পেশাজীবী ও চাকরিজীবী। সরকারের সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফি আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিলে সুদ মওকুফ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেনিফিট গ্রহণ করা যাবে না। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের মাসিক বেতন পরিশোধে নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই সব সরকারি (এমপিওভুক্ত) স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে আদায়যোগ্য মাসিক বেতন স্থগিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এক দেশ পিটিয়ে ঘরে ঢুকিয়েছে, আমরা তো তা করতে পারি না: আইজিপি
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদের কেনাকাটা ও নামাজে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের মহাপরির্শক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কপি পেস্ট হবে না, এক দেশ পিটিয়ে পিটিয়ে ঘরে ঢুকিয়েছে, আমরাও তো তাই করতে পারি না। আমরা শারীরিকভাবে আঘাত না করেই মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবেই করতে চাই। জনগণের পাশে থেকেই করতে চাই। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বল প্রয়োগের সুযোগ নেই। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, যখন সামাজিক দূরত্ব দরকার তখন আমাদের মানতে হবে, এটা তো জোর করে মানানোর কিছু নেই। আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছে, তাই বলে কী আমরা বাংলাদেশকেই পুরো প্রান্তিক করে ফেলব? এজন্য লাইভ এবং লিভিং। তিনি বলেন, কপি পেস্ট হবে না, এক দেশ পিটিয়ে পিটিয়ে ঘরে ঢুকিয়েছে, আমরাও তো তাই করতে পারি না। আমরা শারীরিকভাবে আঘাত না করেই মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবেই করতে চাই। জনগণের পাশে থেকেই করতে চাই।
আজও শনাক্ত সহস্রাধিক, মৃত্যু ২১ জনের
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে শনাক্তকৃত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৫ হাজার ১২১ জনে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট ৩৭০ জন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় মোট ৯ হাজার ৯৯১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৯টি। এই নমুনা পরীক্ষা থেকেই নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২১ জন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ১২১ জন। এবং মোট মৃতের সংখ্যা ৩৭০ জন। তবে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৪০৮ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪ হাজার ৯৯৩ জনে। এছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, দেশে মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি, যা এখনও অব্যাহত আছে। এদিকে, পরিসংখ্যান ভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার ১৯২ জন। অন্যদিকে শনাক্তদের মধ্যে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪৩৩ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।
সিডরের মতো শক্তিশালী আম্ফান, আঘাতে হতে পারে ভয়ঙ্কর ক্ষতি
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুপার সাইক্লোন আম্ফানের শক্তি ২০০৭ সালে তাণ্ডব চালানো সিডরের মতো। এটি উপকূলে আঘাত হানলে হতে পারে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি। তার সঙ্গে শরীরিক দূরত্ব ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ছড়াতে পারে করোনার সংক্রমণও। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অতিসম্প্রতি দেশে আঘাত হানা ঘূণিঝড়গুলোর তুলনায় বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে আম্ফানকে। শক্তি ও গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করে এ সাইক্লোনকে সিডরের মতো শক্তিশালী বলে মনে করছেন তারা। তবে সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি হবে বলেও ধারণা তাদের। আবহাওয়াবিদ ড. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এটার শক্তিশালী সিডরের মতো। তবে দেখা যাচ্ছে সুন্দবনের ওপর দিয়ে গেলে কম বাতাস পাব। জলবায়ুবিদ ও বুয়েট শিক্ষক বজলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের সাইক্লোন আমরা দেখেছিলাম ভোলা বা ১৯৯১ বা সিডরে। ৪ থেকে ৬ মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এদিকে সুপার সাইক্লোন আম্ফান আরও এগিয়ে এসেছে, দুপুর নাগাদ গতিপথ কিছুটা স্পষ্ট হবে। এখনও পূর্বের সংকেতই অব্যাহত আছে, তবে শিগগিরই মহাবিপদ সংকেত আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সংক্রমণের করোনা কাউকে করুণা করবে না: ওবায়দুল কাদের
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সংক্রমণের করোনা কাউকে করুণা করবে না। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিং এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় ঐক্যই হবে আমাদের মূলশক্তি। করোনার এ সংকটে বিএনপিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সম্ভাব্য আঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি নিয়েছে উল্লেখ করে উপকূলীয় জেলার জনসাধারণকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করোনার এই সংকটকালে ঈদকে সামনে রেখে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে গ্রামমুখী হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপর্যয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তেমনি আশপাশের মানুষদের জীবনও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। মন্ত্রী কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও করোনাজনিত এ সংকটে ফ্রন্ট লাইনের যুদ্ধে অংশ নেয়া সাংবাদিকদের বেতন ভাতা ঈদের আগেই পরিশোধ করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবায় অতি উচ্চমূল্য না নিয়ে জনস্বার্থে এবং চলমান পরিস্থিতি ও মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসা, নমুনা পরীক্ষার খরচ সহনীয় পর্যায়ে রাখার অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক।

জাতীয় পাতার আরো খবর