রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেডেল অব ডিসটিংকশন সম্মানে ভূষিত
দরিদ্র, অসহায়, বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেডেল অব ডিসটিংকশন সম্মানে ভূষিত করেছে লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকায় সফররত লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ড. নরেশ আগরওয়াল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই মেডেলে ভূষিত করেন তিনি। মানবিক গুণাবলি বিশেষ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট। তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আপনার এই গুণের জন্য ইতোমধ্যে আপনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপন্ন মানবতার সেবা হচ্ছে আমার দায়িত্ব। আপনারা (লায়ন্স সদস্যরা) সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, একইভাবে আমরা রাজনীতিবিদরা তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয়সহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ড. আগরওয়াল বলেন, তার সংস্থা বাংলাদেশে বিপন্ন মানবতার জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চ প্রশংসিত হচ্ছে। লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক পরিচালক শেখ কবির হোসেন, সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক এবং ক্লাবের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর মোসলেম আলী খান, ক্লাবের বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিচালক কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশের কাউন্সিল চেয়ারপারসন লায়ন্স এম কে বাসার এসময় উপস্থিত ছিলেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে-লেখাপড়ার পাশাপাশি
রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে। এতে সুস্থ দেহ যেমন গড়ে উঠবে, লেখাপড়াতেও অধিক মনোযোগ দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখনকার শিক্ষার্থীরাই আগামীতে দেশের নের্তৃত্বে আসবে। তাই লেখাপড়া শিখে সত্যিকার মানুষ হবার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আলোচক ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এসময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধান অতিথি। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন।
নতুন প্রজন্ম গড়তে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় :মোজাম্মেল হক
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়তে শিক্ষক সমাজকে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। বুধবার ঢাকায় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে(নায়েম) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে ১৫১তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রশিক্ষণার্থীদের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নায়েম- এর মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন,সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্মই পারবে দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দিতে। আর এ সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম গড়তে প্রয়োজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বর্তমান সরকার জাতির সামগ্রিক মুক্তির জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ কর্মপরিকল্পনা সফল করার জন্য প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্ম।
ঢাকা মেডিকেল থেকে বাসায় ফিরছেন মেহেদী-স্বর্ণা-রুয়াবেত
নেপালে ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে তারা বাসায় ফিরতে পারবেন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত তিনজনই বর্তমানে সুস্থ হওয়ায় তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পর নেপাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের গঠিত মেডিকেল টিম তাদেরকে (আহতদের) সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিয়েছেন। আজ সর্বশেষ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা সুস্থ আছেন। উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও শেখ রাশেদ রুবায়েদকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় ফেরত পাঠাতে পেরে তিনিসহ পুরো টিম খুশি বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি আরও বলেন, একই দুর্ঘটনায় আহত আলমুন নাহার এ্যানি ট্রামায় ভুগছেন এবং শেহরিনের পিঠের অস্ত্রোপচার করায় তাদেরকে এখনি ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না।
সাংবাদিক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এমজেএফ এর চেয়ারম্যান মনোনিত
২৮ মার্চ ২০১৮ ইং তালিখে মিলেনিয়াম হউিম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালস্ট ফাউন্ডেশন এমজেএফ এর প্রধান কার্য্যালয় পুরানা পল্টন ঢকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম,এতে আরো উপস্তিত ছিলেন কেন্দ্রিয় আওয়ামি লীগের নেতা জনাব,হাসান মনসুর,আবুল হোসেন,মানবাধিকার নেতা রহিসুল ইসলাম সাংবাদিক জনাব,আতাউর রহমান,দৈনিক আমার বাংলার সম্পাদক মোঃ মনিরুর জামান,একে ডাইং এর পরিচালক আব্দুল মান্নান মানিক,দৈনিক রূপ বাণী পত্রিকার সম্পাদক ফরুক আহমেদ স্কলার হোম স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক আজমা বেগম।উক্ত সভায় সকলের সম্মতিক্রমে সাংবাদিক মোঃ নাছির উদ্দিন রচৗধুরীকে চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক অধ্যাপক চৌধুরী সুজনকে মহাসচিব মনোনিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এমজেএফ কেন্দ্রিয় কার্য করি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটি ২০২১ সাল পর্যন্ত তাহাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন। সভায় নবগঠিত কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে উপস্থিত সকলে ফুলের শুভেচ্ছা প্রধান করেন।
ফেসবুকে পরিচয় প্রেম,বিয়ে অতঃপর !
ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। এরপর বিয়ে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই বিচ্ছেদ। যূথী আর হুমায়ূনের এমনই প্রেমকাহিনী। এখন হুমায়ুন সৌদি আরবে। যূথী বাংলাদেশে। যূথী বিষয়টির প্রতিকার চান নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে। সেখানেই কথা হয় তার সঙ্গে। যূথী জানান, ফেসবুকে তাকে প্রথম দেখে হুমায়ুন। সামনাসামনি না দেখেই যূথীর প্রেমে পড়ে যান তিনি। একাধিকবার যূথীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান হুমায়ুন। অনুরোধ করেন একবারের জন্য হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে। অচেনা কারো সঙ্গে কথা বলতে রাজি ছিলেন না যূথী। এ কারণে যূথী হুমায়ুনের বার্তার উত্তর দিতেন না। কিন্তু নাছোড়বান্দা হুমায়ুন সকাল-বিকাল বার্তা পাঠাতেই থাকেন। বিরক্ত হয়েই একদিন যূথী জানতে চায় হুমায়ুনের বাড়ি কোথায়? হুমায়ুন জানান, তার বাড়ি মাদারীপুর। যূথীর বাড়িও মাদারীপুর। এলাকার ছেলে জেনে যূথী হুমায়ুনের ওপর আস্থা রাখেন। এরপর থেকে তাদের নিয়মিত কথা হতো ভিডিও কল ও মেসেঞ্জারে। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ মাস। যূথী হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু যূথীকে না দেখেই সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন হুমায়ুন। শর্ত দেন তা পরিবারকে জানানো যাবে না। বিয়ের পর পরিবারকে জানানো হবে যূথীকে এমনটাই বলেছিলেন হুমায়ুন। বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখতে রাজি হলেও সামনে না দেখে বিয়ে করতে রাজি হয় না যূথী। এরপর গত বছরের ২৬শে জানুয়ারি প্রথম দেখা হয় যূথী ও হুমায়ুনের। দেখা হওয়ার তিনদিন পর ২৯শে জানুয়ারি পরিবারকে না জানিয়ে মাদারীপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গোপনে বিয়ে করেন যূথী ও হুমায়ুন। দেনমোহর ধার্য করা হয় তিন লাখ টাকা। বিয়ের পর দুজনে মাদারীপুর থেকে সোজা ঢাকায় যূথীর বোনের বাড়িতে এসে উঠেন। যূথী আর হুমায়ুনের দিন ভালোই কাটছিল। এর মধ্যে হুমায়ূনকে বিয়ের কথা তার বাড়িতে জানাতে চাপ দেন যূথী। বিয়ের দশদিন পর হুমায়ুন যূথীকে এসে হঠাৎ জানান পরের সপ্তাহে তিনি সৌদি আরব চলে যাচ্ছেন। বিদেশে গিয়ে তিনি তার পরিবারকে বিয়ের কথা জানাবেন। ১৭ই ফেব্রুয়ারি হুমায়ুন সৌদি আরব চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর মাসখানেক যূথীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো হুমায়ুনের। এরপরই ফোন করা কমিয়ে দেয় হমায়ুন। যূথী যখনই পরিবারের কাছে তাদের বিয়ের কথা জানাতে বলতেন হুমায়ুন বলতেন দেশে ফিরে এসে বলবেন। একসময় হুমায়ুন বলেন, যূথী তার চেয়ে ছয় বছরের বড়। ছেলের চেয়ে বয়সে বড় বউ তার পরিবার মেনে নেবে না। এরপর থেকে যূথীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যূথী বলেন, বার বার চেষ্টা করেও হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছি। বিদেশে যাবার আগে হুমায়ুনের মোবাইল ফোন থেকে তার মা ও ভাইয়ের মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছিলাম। কোনো পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে হুমায়ুনের মায়ের কাছে ফোন করে সব জানিয়েছি। হুমায়ুনের মা উল্টো আমাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দিয়েছেন। তার বাচ্চা ছেলেকে ফাঁসিয়েছি বলে গালিগালাজ করেন। আমি তো কিছু লুকাইনি। বিয়ের আগেই এ জন্য আমি ওর সঙ্গে বার বার দেখা করতে চেয়েছি। কিন্তু হুমায়ুন বলেছে, সে শুধু আমাকে ভালোবাসে আর কিছু জানতে চায় না। বিয়ের কাবিননামাতে আমার জন্ম সাল ১৯৮৮ আর হুমায়ুনের জন্ম সাল ১৯৯৪ দেয়া আছে। তাহলে তখন কেন সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলো। বিয়ের পর সে এসব কথা কেন বলছে? আমি যাকে ভালোবেসেছি তার সঙ্গেই সংসার করতে চাই। আমি এখনো অপেক্ষায় আছি হুমায়ুন আমার কাছে ফিরে আসবে।
রাজধানীর পল্লবীতে রিজার্ভ ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে দগ্ধ ৫
রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাড়িতে বাড়ির মালিকসহ ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। মিরপুর-১২ ডি ব্লকের ১৯ নম্বর রোডের ৪৩ নম্বর ইয়াকুব আলীর বাড়িতে মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধরা হলেন, বাড়ির মালিক ইয়াকুব আলী (৭০), তার স্ত্রী হাসিন আরা খানম (৩০), ভাড়াটিয়া ইয়াসমিন (৩৫), তার মেয়ে রুহি (৩) ও বাসার কেয়ার টেকার হাসান (৩০)। পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির জানান, ধারণা করা হচ্ছে ট্যাংকির ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ইয়াকুব আলী বলেন, সকালে আমার বাসার নিচ তলার রিজার্ভ ট্যাংকির ঢাকনা খুলে পরিষ্কার করতে যায় হাসান। ভেতরে অন্ধকার থাকায় কাগজে আগুন জ্বালানো হয়। সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে আমিসহ ৫ জন দগ্ধ হই। ঢামেক বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কবির জানান, আহতদের মধ্যে রুহির শরীরের ৯০ ভাগ, হাসিন খানমের ৯৫ ভাগ এবং হাসানের ৮৫ ভাগ বার্ন হয়েছে।
বিজিএমইএ মুচলেকা দিলেই সময় পাবে:আপিল বিভাগ
রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)ভবন ভাঙতে এক বছর সময় চাওয়ায় তাদেরকে মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে মুচলেকা পেলে বিজিএমইএ’র ভাবন ভাঙতে সময় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে ২৫ মার্চ বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বিজিএমইএ’র আবেদনের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দিন নির্ধারণ করেছিলেন। গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএ’র ভবনটি ভাঙতে কর্তৃপক্ষকে সাত মাস সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এরপরও বিজিএমইএ’র ফের আবেদন করায় পুনরায় ছয় মাস সময় দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের ওই সময় মঞ্জুরের পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ পুনরায় এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে ভবন কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুরনো রাডারে চলছে শাহজালালের কার্যক্রম
৩৫ বছরের পুরনো রাডার দিয়ে চলছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এ সময়ে রাডারটির সংস্কার করা হলেও এর কার্যক্ষমতা কমে গেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে অনেক বিমানেরই গতিপথ থেকে যাচ্ছে নজরদারির বাইরে। এ অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে নতুন রাডার কেনার পরামর্শ তাদের। উড়োজাহাজের মসৃণ অবতরণের জন্য ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম-আইএলএস আরো উন্নত করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা। নেপালে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আলোচনায় আসে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ অবতরণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতার চিত্র। এই প্রেক্ষাপটে শাহজালাল বিমান বন্দরে উড়োজাহাজের পরিচালন ব্যবস্থা কতটা আধুনিক, চলে আসে সে প্রশ্নও। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে রয়েছে নেভিগেশনাল নানা সুবিধা। তবে রাডারটি অনেক পুরনো হওয়ায় বিরূপ আবহাওয়ায় ব্যাহত হয় বিমান চলাচল। একই কারণে রাডারের দৃষ্টির বাইরে রয়ে যায় অনেক বিমান। তাই দ্রুত নতুন রাডার কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সিভিল এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, 'এই রাডারটা অনেক পুরনো। যদিও এটাকে কয়েকবার রিফার্বিশ করা হয়েছে তবুও এটা এখনকার সময়ের জন্য উপযোগী না। দক্ষিণ দিক দিয়ে অনেক এয়ারক্রাফট অনেক নিচে দিয়ে চয়ে যাচ্ছে আমাদের অজান্তেই কিন্তু আমরা সেগুলো দেখতে পাচ্ছি না। শীতের সময় কিন্তু ফ্লাইটগুলো দেরি হয় কারণ, রানওয়ে দেখতে পায় না।' এছাড়া শাহজালালে বিমান অবতরণ আরো সহজ করতে রানওয়ের লাইটিং এবং যান্ত্রিক অবতরণ পদ্ধতি বা আইএলএস ক্যাটাগরি- ২এ উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এতে পাইলট আরো দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে পারবেন বলেন মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গ্যালাক্সি ফ্লাইং ট্রেনিং একাডেমির সিইও উইং কমান্ডার নজরুল ইসলাম বলেন, 'লাইটং সিস্টেমটা আমরা এখনো সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি বলে আইএলএস ক্যাটাগরি-১ এ এখনো আছে। আরও বেশি ল্যন্ডিং সিস্টেম আমরা পাবো।' আইএলএস ক্যাটাগরি টু-তে উন্নীত করা এবং নতুন রাডার ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি এন্ড রেগুলেশনের পরিচালক উইং কমান্ডার চৌধুরী জিয়াউল কবির বলেন, 'একটা ফ্রেশ রাডার কেনার জন্য একটা প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এটিএম সিস্টেমটাও করা হচ্ছে বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক সিস্টেমে। ওইটা হয়ে গেলে আমরা বলতে পারবো যে, বিশ্বের যে কোন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো এটিএম সিস্টেম আমাদের আছে।' ২০০৫ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রাডার ক্রয়ের উদ্যোগ নিলেও অনিয়মসহ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৩ বছরেও সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি।