রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
আজ ৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
আজ ২৬ মার্চ। আজ দেশের ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পদার্পণের শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে একাত্তরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী ভাষণও ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি লাভ করে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ নয় মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তনি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের নির্বিচারে গণহত্যা করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্প কলা একাডেমি , শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিন রাজধানীর সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ নানা রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।
৩০ লাখ শহীদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার স্মারক: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন মূলত মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধার স্মারক এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণহত্যা দিবসে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানান এবং জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতনের শিকার মা-বোনকে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ প্রণয়ন করেছিলেন। সেই আইনের আওতায় অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেয় এবং বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অংশীদার করে। ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহর ও বন্দরে হত্যা করা হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। সেই রাত থেকে পরবর্তী ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্যরা সারাদেশে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যা করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে। এত কম সময় ও স্বল্প পরিসরে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ হত্যার নজির বিশ্বে আর নেই। শুধু মানুষ হত্যা নয়, একইসঙ্গে ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়। লাখ লাখ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়। বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয় প্রায় এক কোটি মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী এবং তার দোসরদের সেই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরুর দিন ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে একই বছরের ১১ মার্চ সংসদে এদিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গিনেস বুক অব রেকর্ডে বাংলাদেশের ১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে বিংশ শতাব্দীর ৫টি গণহত্যার অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
বিশিষ্ট ১৮ ব্যক্তি পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার
গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার সম্মাননা পেয়েছেন, প্রয়াত কাজী জাকির হাসান, শহীদ বুদ্ধিজীবী এম এম এ রাশীদুল হাসান, প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীরউত্তম, প্রয়াত এম আব্দুর রহিম, প্রয়াত ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী, শহীদ লেফটেন্যান্ট মো. আনোয়ারুল আজিম, প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক ও আমজাদুল হক। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং কৃষি সাংবাদিকতায় চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক ডা. এ কে এমডি আহসান আলী চিকিৎসাবিদ্যায়, অধ্যাপক এ কে আজাদ খান সমাজসেবায়, সেলিনা হোসেন সাহিত্যে এবং ড. মো. আব্দুল মজিদ খাদ্য নিরাপত্তায় এ পুরস্কার পান।
ইউএস-বাংলা বিমানের জরুরি অবতরণ ঢাকায়
উড্ডয়নের মাত্র ১৫ মিনিট পরেই ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। আজ সকালে বিমানটি উড্ডয়নের পর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটির পাইলট ফলস ইন্ডিকেশন পাওয়ায় জরুরি অবতরণ করেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম এ কথা বলেছেন অনলাইন ডেইলি স্টারকে। তিনি বলেন, বিমানটি আজ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। পরে বিমানের ভিতর থেকে তিনি ফলস ইন্ডিকেশন পান। তবে ফলস ইন্ডিকেশন বলতে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। বিমান অবতরণ করার পর চেকআপ করা হয়। এতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় নি। ফলে অল্প সময় পরেই তা গন্তব্যে উড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কামরুল ইসলাম। এর আগে ১২ই মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় একই সংস্থার একটি বিমান। তাতে ২৬ বাংলাদেশী সহ নিহত হন কমপক্ষে ৫১ জন।
স্বর্ণদ্বীপ যাচ্ছেন আজ রাষ্ট্রপতি
শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুর ১২টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি স্বর্ণদ্বীপে অবতরণ করবে। এরপর তিনি ১৭ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেনাবাহিনীর তৈরি বিদেশি নারকেল বাগান ও ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এবং মিলিটারি ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করবেন। পরে তার স্বর্ণদ্বীপের সাইক্লোন শেল্টারে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথাও রয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে স্বর্ণদ্বীপে ব্যাপক নিরপাত্তার পাশাপাশি সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্ণিল আয়োজন উদযাপন হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়ায়
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চলছে আতশবাজি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা বর্ণিল আয়োজন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে তারা মেতে ওঠেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজে আনন্দ শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরু হলো নতুন দিগন্তের পথচলা। ১৯৭১ এ যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের এই সাফল্য উদযাপনে যেন বর্ণিল এই মহানগর। ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি উদযাপনের দিনে রাজধানীর সব পথ যেন মিশে যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। উৎসবের এই দিনে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি আর দোয়েল চত্বরে একে একে জড়ো হতে থাকে সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তর ও সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা নাগাদ শুরু হয় মূল শোভাযাত্রা। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ এগিয়ে গেছে বহুদূর। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। তুলে ধরা হয় অদম্য বাংলাদেশকে। স্বপ্ন পূরণের এই উৎসব যেন কেবল শুরু। 'অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ' এ শ্লোগানে এগিয়ে চলা শোভাযাত্রায় সহযাত্রীদের লক্ষ্য এখন ২০৪১ এ। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সেদিনই হবে কাঙ্ক্ষিত এক বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সব স্কুল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন। দেশ এগিয়ে যাবে, পৌঁছবে তার লক্ষে, এ প্রত্যাশা এখন সবার।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আজকের যা কিছু অর্জন সবই জনগণের
জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ না দিলে দেশকে এগিয়ে নেবার সুযোগ হতো না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজের জন্য নয় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই তার লক্ষ্য। বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ৪৭ বছর পর এ সফলতা অর্জনের পথ সুগম ছিল না। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে আর থেমে না যায় সেজন্য নিঃশর্তভাবে দেশের কল্যাণে সর্বস্তরের জনতাকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ৪৭ এর বাংলাদেশ। গেল দশকে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তিখাতে শুধু বাংলাদেশের অভাবনীয় পরিবর্তনই ঘটেনি, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, পাল্টে গেছে এ তটের মানুষের জীবনযাত্রাও। গেল ৭ বছর ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি, সূচক উন্নয়নের এ ধারায় চলতি বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, মানববসম্পদ উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক ভঙ্গরুতা এমন নানা সূচকে এ সফলতা অর্জনের ফলে অর্ধশতকের স্বল্পোন্নত দেশের তকমা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির দোরগোড়ায়। তাই দারিদ্র মোচনের এ প্রাপ্তিকে উদযাপনের জন্য বাঙালির এই আনন্দ আয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে যে আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে স্থাপিত জাতির পিতার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের স্বলোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ-পত্র হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর সরকারপ্রধানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৩ বছরের মধ্যে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি এনেছিলেন জাতির জনক। এরপর দেশকে উন্নয়নশীল অভিযাত্রায় উন্নীত করার ৪৬ বছরের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকের যা কিছু অর্জন তা সবকিছুই জনগণের অর্জন। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত স্বাধীন একটা দেশ রেখে গিয়েছিলেন আর আমরা সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।' এসময় তিনি বলেন, আমরা বেসকারি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।' দেশকে এগিয়ে নিতে পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাঙালি জাতিকে যে দাবিয়ে রাখা যাবে না তা আবারো আমরা প্রমাণ হয়েছে। আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কে অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কে আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।' এর আগে অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকেট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নেপাল থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে বাকি ৩ মরদেহ
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। মরদেহ গ্রহণ করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। এর আগে দুপুর দেড়টায় নেপাল থেকে মরদেহবাহী বিমানটি ছাড়ার কথা থাকলেও তা দুই ঘণ্টা পরে ছাড়ে। মরদেহবাহী বিমানটি বিকেল পাঁচটায় এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে আলিফুজ্জামানের মরদেহ খুলনায়, নজরুলের মরদেহ রাজশাহী ও পিয়াসের মরদেহ বরিশাল নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগে সকাল ৯টার দিকে নেপালে, বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ই মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন মারা যান। এরমধ্যে সোমবার ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।