সারাদেশে লাখো কণ্ঠে পরিবেশিত হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে লাখো কণ্ঠে সারাদেশে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়েছে। সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান গোটা দেশ। সকাল ৮টার আগেই গোটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। সন্তানদের নিয়ে এসেছেন অভিভাবকরা। সঙ্গে শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা। ঘড়ির কাটায় ঠিক আটটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম মঞ্চে উঠে শিল্পীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কণ্ঠ মেলান,আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে শুদ্ধসুরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সবাইকে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আগেই আহ্বান জানানো হয়েছিল। জাতীয় সংগীতের পর প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন। সমাবেশ উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামের মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিসপ্লেতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। এই কর্মসূচি সফলে গত ২০ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ দেশব্যাপী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দলগত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৪টি জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার ৬২ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৩ জন ছাত্র, ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ২৯৫ জন ছাত্রী (মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৬৪৮ জন শিক্ষার্থী) অংশগ্রহণ করে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকাল ৬টায় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এর আগে রীতি অনুযায়ী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৪৭তম স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এরপর একে একে স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সর্বস্তরে মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এরপর স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের অভিনন্দন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পৃথক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের এই ঐতিহ্য ও ইতিহাস উদযাপনে তাঁর দেশের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়,আমরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং দেশটির গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রশ্নে আমাদের অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। বার্তায় ট্রাম্প বলেন,আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আমাদের দুই দেশের নিরাপত্তা সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানান। বার্তায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া পৃথক বার্তায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ট্রাম্প রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সব ধরনের সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। বার্তায় ট্রাম্প বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।
আজ ৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
আজ ২৬ মার্চ। আজ দেশের ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পদার্পণের শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে একাত্তরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী ভাষণও ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি লাভ করে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সারাদেশে ও বিদেশে একযোগে একই সময়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ নয় মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তনি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের নির্বিচারে গণহত্যা করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্প কলা একাডেমি , শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিন রাজধানীর সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ নানা রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।
৩০ লাখ শহীদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার স্মারক: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন মূলত মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধার স্মারক এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণহত্যা দিবসে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানান এবং জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতনের শিকার মা-বোনকে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ প্রণয়ন করেছিলেন। সেই আইনের আওতায় অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেয় এবং বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অংশীদার করে। ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহর ও বন্দরে হত্যা করা হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। সেই রাত থেকে পরবর্তী ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্যরা সারাদেশে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যা করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে। এত কম সময় ও স্বল্প পরিসরে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ হত্যার নজির বিশ্বে আর নেই। শুধু মানুষ হত্যা নয়, একইসঙ্গে ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়। লাখ লাখ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়। বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয় প্রায় এক কোটি মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী এবং তার দোসরদের সেই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরুর দিন ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে একই বছরের ১১ মার্চ সংসদে এদিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গিনেস বুক অব রেকর্ডে বাংলাদেশের ১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে বিংশ শতাব্দীর ৫টি গণহত্যার অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
বিশিষ্ট ১৮ ব্যক্তি পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার
গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার সম্মাননা পেয়েছেন, প্রয়াত কাজী জাকির হাসান, শহীদ বুদ্ধিজীবী এম এম এ রাশীদুল হাসান, প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীরউত্তম, প্রয়াত এম আব্দুর রহিম, প্রয়াত ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী, শহীদ লেফটেন্যান্ট মো. আনোয়ারুল আজিম, প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক, শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক ও আমজাদুল হক। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং কৃষি সাংবাদিকতায় চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজকে এ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক ডা. এ কে এমডি আহসান আলী চিকিৎসাবিদ্যায়, অধ্যাপক এ কে আজাদ খান সমাজসেবায়, সেলিনা হোসেন সাহিত্যে এবং ড. মো. আব্দুল মজিদ খাদ্য নিরাপত্তায় এ পুরস্কার পান।
ইউএস-বাংলা বিমানের জরুরি অবতরণ ঢাকায়
উড্ডয়নের মাত্র ১৫ মিনিট পরেই ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। আজ সকালে বিমানটি উড্ডয়নের পর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটির পাইলট ফলস ইন্ডিকেশন পাওয়ায় জরুরি অবতরণ করেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম এ কথা বলেছেন অনলাইন ডেইলি স্টারকে। তিনি বলেন, বিমানটি আজ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। পরে বিমানের ভিতর থেকে তিনি ফলস ইন্ডিকেশন পান। তবে ফলস ইন্ডিকেশন বলতে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। বিমান অবতরণ করার পর চেকআপ করা হয়। এতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় নি। ফলে অল্প সময় পরেই তা গন্তব্যে উড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কামরুল ইসলাম। এর আগে ১২ই মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় একই সংস্থার একটি বিমান। তাতে ২৬ বাংলাদেশী সহ নিহত হন কমপক্ষে ৫১ জন।
স্বর্ণদ্বীপ যাচ্ছেন আজ রাষ্ট্রপতি
শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুর ১২টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি স্বর্ণদ্বীপে অবতরণ করবে। এরপর তিনি ১৭ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেনাবাহিনীর তৈরি বিদেশি নারকেল বাগান ও ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এবং মিলিটারি ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করবেন। পরে তার স্বর্ণদ্বীপের সাইক্লোন শেল্টারে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথাও রয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে স্বর্ণদ্বীপে ব্যাপক নিরপাত্তার পাশাপাশি সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।