হিজড়াদের পুর্নবাসনের জন্য কর্মসুচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে
অনলাইন ডেস্ক :হিজড়াদের জোর করে টাকা আদায় এবং দৌরাত্ব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা এমপি কাজী রোজী ও নুর জাহান বেগমের পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যান মন্ত্রীর পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদ বক্তব্য দানকালে এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকালে এ অধিবেশন শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে বলবো তারা যেনো এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। পাশাপাশি ওই সম্প্রদায়কে এ ধরণের ঘটনা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমাজের অসহায় মানুষদের সাহয্যে ও পুর্নবাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। হিজড়াদের জন্যও কর্মসুচি নেওয়া হয়েছে। তবে, রাস্তায় হিজড়ারা টাকা দাবি করে এটা আমার জানা নেই। তবে হিজড়াও মানুষ তাদের সহযোগীতার জন্য আমাদের সবাইকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। প্রত্যেক সংসদকে দেখতে হবে তাদের এলাকায় কোনো হিজড়া পুর্নবাসন কর্মসুচির আওতার বাইরে থাকলে তাদেরকে পুর্নবাসনের জন্য কর্মসুচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হিজড়াদের মুল ধারায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা আছে। সে অনুয়ায়ি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হলে আবার অনেকে চলে যায়। তারা যাতে চলে না যায় সে জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। দেশে সরকারী ৫ টি বৃদ্ধাশ্রম ও ৮৫ টি শিশু পরিবার এমপি সাধন চন্দ্র মজুমদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সারা দেশে বৃদ্ধাশ্রমের (শান্তি নিবাস) সংখ্যা ৬টি। প্রতিটি বৃদ্ধাশ্রমে ৫০ জন করে মোট ৩০০ জন প্রবীণ ব্যক্তির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর অবস্থান যথাক্রমে- ঢাকা (ফরিদপুর), খুলনা (বাগেরহাট), চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল এবং রাজশাহী জেলায়। মেনন জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সারা দেশে ৮৫ টি শিশু পরিবার রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১০ জন করে প্রবীণ ব্যক্তির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ সরকারী শিশু পরিবারটি বালিকাদের জন্য। এমপি বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ৮৫ টি শিশু পরিবারে ১০ হাজার ৩০০ জন এতিম ও অনাথ শিশু অধিকার সুরক্ষা ও আদর যত্নে লালন-পালনসহ তাদের সাধারণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, চিত্ত বিনোদন এবং পূনবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মেনন জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘প্রতিবন্ধীতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯’ এর আওতায় বর্তমানে সারা দেশে ৬২ টি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল চালু করা হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম চালু করা হয়। পরবর্তিতে ঢাকার মিরপুরে, লালবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এবং রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট এবং গাইবান্ধা জেলায় ১ টি সহ মোট ১১ টি স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অর্টিজম চলমান রয়েছে।
ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক :আগামী ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে অবশেষে ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিযে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের অর্থাৎ ফাস্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি কাজের উদ্বোধন করতে পাবনার ঈশ্বরদীতে যাবেন। পরে পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে দুপুর ২টার দিকে জনসভার পূর্বে পাবনার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানেই ঈশ্বরদী-পাবনা রুটে রেলপথের উদ্বোধন করবেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক ঈশ্বরদী-পাবনা রেলপথ উদ্বোধনের বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় নবাগত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) নাজমুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম হতে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা রেল সেকশনে ২৫ কিলোমিটারে রেলপথের নির্মাণ প্রক্রিয়া, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, রেলগেট, রেলক্রসিং, ট্রেন চলাচলের সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন। অবশিষ্ঠ ৫৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হবে । পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী (ডিএন-২) আরিফ আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধনের পর প্রথম ট্রেনটি পাবনা এক্সপ্রেস নামে চলবে। উদ্বোধনের সময় ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি নিয়ে পাবনা হতে ঈশ্বরদী পর্যন্ত চলাচল করবে। এছাড়াও পরবর্তীতে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচল করবে।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট বোঝার সৃাষ্টি করছে
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন যে, চলতি বছরের শেষের দিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ থাকার সময় আওয়ামী লীগকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষায় আন্দোলন করতে হয়েছে। ইইউ’র নতুন রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তিরিঙ্ক আজ প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইইউ প্রতিনিধির আশাবাদের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিদ্যমান পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা ও ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করতে সহায়তার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যেই সব উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাঁর প্রথম মেয়াদে ইইউ সদর দপ্তর পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশকে ইইউ’র অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট বোঝার সৃাষ্টি করছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয় জনসাধারণের চাষের জমি দখল করেছে। এতে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শরণার্থী ইস্যুতে ইইউ’র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ প্রতিবেশী মিয়ানমার ও মিয়ানমারের অন্যান্য সীমান্তবর্তী দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারে আমলে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মিল-কারখানায় সংকট তৈরিতে বাইরের অপেশাদার কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা সত্ত্বেও এ খাতের উন্নয়নে গার্মেন্ট শ্রমিকরা সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা গার্মেন্টস পণ্যে মূল্য নির্ধারণে বায়ারদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে ইইউ রাষ্ট্রদূতও সম্মতি জানান। ইইউ দূত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের বিশাল অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ায় একটি অসাধারণ সাফল্য। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে ৩০ মিলিয়ন ইউরো প্রদান এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর অভিযান পরিচালনার দায়ে মিয়ানমারের ৭ জন জেনারেলের ওপর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। তিরিঙ্কস আশা প্রকাশ করেন যে, জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর রোহিঙ্গাদের প্রতি আরো জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থনে সহায়তা করবে। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মাদ জয়নুল আবেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাসস
আমরা জনগণের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করি
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘বাংলাদেশের জনগণই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জনগণের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। খুলনার উন্নয়ন নিয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া রাস্তাঘাট তৈরি, জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রূপসা সেতুর কাজ করার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এই কাজ পুরো দেশব্যাপী করা হচ্ছে। আমি চাই যেসব প্রকল্প পাস হয়েছে, সেগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং মানুষ যেন এর সুফল ভোগ করতে পারেন।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে। এখানে সব দলের প্রতিনিধি আছেন। আপনারা যখন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন, অবশ্যই জনগণের কল্যাণ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু জনগণ ভোট দিয়েছে, সেহেতু তাদের সেবা অবশ্যই করতে হবে। আমরা সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আমার কাছে জনগণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করায় খুলনাবাসীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেন তার সব নাগরিক সুবিধা পায় সেটিই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের লক্ষ্য- প্রত্যেকটা জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করে দেয়া। যেন ঘরে বসেই ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে।’ দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়নে, জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে উপস্থিত মেয়র-কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাইকে ধন্যবাদ ও নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানান তিনি।
যানজটে দিনে নষ্ট ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা
অনলাইন ডেস্ক :যানজটের কারণে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বিগত ১০ বছরে যান চলাচলের গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে ৭ কিলোমিটারে পর্যন্ত নেমে এসেছে; যেখানে পায়ে হেঁটে চলার গড় গতি হচ্ছে ৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার এমন চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। গ্লোবাল সিটির অংশ হিসেবে ঢাকাকে কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই গবেষণা করেছে সংস্থাটি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অতিরিক্ত ৫০ লাখ লোকের জন্য বসবাসের ব্যবস্থা করা যাবে। একই সঙ্গে ১৮ লাখ মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান করা সম্ভব। যেটা করতে হলে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেগুলো হলো- বন্যার হাত থেকে বাঁচতে ও পানির গতি ঘোরাতে বালু নদীর তীরে একটি বাঁধ দিতে হবে, ক্রমবর্ধমান সাধারণ ট্রান্সপোর্ট ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের চলাচলের উন্নয়নে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এর বাইরে ঢাকার পূর্বে একটি ‘বিজনেজ ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি ডলার। আর এই টাকা ব্যয়ের ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্ভব হবে। সংস্থাটি বলছে, এই অর্থনৈতিক কার্যক্রম রাজধানীবাসীর আয় বাড়িয়ে দেবে। এখন যেখানে মাথাপিছু আয় ৮ হাজার ডলারের নিচে সেটা ২০৩৫ সাল নাগাদ ৯ হাজার ২০০ ডলারে উন্নীত করবে।বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয়বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, অক্সফোর্ডের প্রফেসর এনথনি ভেনাবল।বিশ্বব্যাংক বলছে, ঢাকা মহানগরীর দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে ঢাকার নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। ফলে একটি বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ বস্তিবাসীসহ অনেক অধিবাসী মৌলিক সেবা, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এনথনি ভেনাবল বলেন, গড় হারে প্রতিদিন ঢাকায় মানুষ বাড়ছে। বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে সাড়ে ৩ কোটি। ঢাকা এখন প্রচুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সেটা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর প্রচেষ্টা অাছে
অনলাইন ডেস্ক :কোটাবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে ও বিপক্ষে দুইটাতেই অবস্থান আছে, তাই বুঝে শুনে কোটা সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির কার্যক্রম পরিচালনার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।হাছান মাহমুদ বলেন, কোটার পক্ষে যেমন লোকজন অাছে তেমন কোটার বিপক্ষেও লোকজন অাছে। দুই পক্ষের সাথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হলে সেখানে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই যে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো তার দায়ভার ছাত্রলীগের ওপর চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।তিনি বলেন, কোটার অান্দোলনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানো প্রচেষ্টা রয়েছে। ১৬টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট একাউন্ট থেকে টাকা অাসছে। এটার সাথে রাজনীতি যুক্ত হয়ে গেছে। এটি নিছক কোটার অান্দোলন না রাজনীতি যুক্ত হয়ে গেছে। এদের উদ্দেশ্য কী? এরা কারা? সরকার সুরাহা করার ব্যাপারে অত্যন্ত যন্তশীল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য রেখেছেন। ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপরও অামরা যা দেখতে পারছি, রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর প্রচেষ্টা অাছে। বিএনপির নেতাদের সাথে কোটা অান্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কথোপকথন প্রকাশ হয়েছে।পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে তখন কোন লোক সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়নি উল্লেখ করে বলেন, প্রেস ক্লাবের সামনে সাধারণ নাগরিকের ব্যানারে একটি সমাবেশ করার হয়েছে। এসমস্ত সাধারণ নাগরিকরা যখন বাংলাদেশে প্রেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিলো তাদের তখন দেখিনি। তখন তারা কোথায় ছিলো। কোটা সংস্কার অান্দোলনে যখন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো তথন তারা ঘর থেকে বের হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে হাজির হলো। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পৃতি নষ্ট করলো তখন তারা কোথায় ছিলো? তখন তাদের দেখা যায়নি?এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের উপকমিটির প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।
জয়ের পেছনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ব্যাপক নির্বাচনি প্রস্তুতি ছিল
অনলাইন ডেস্ক :সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও খুলনা মডেলে নির্বাচন হয়েছে, যা ছিল নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন।আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেমন জনপ্রতিনিধি পেলাম’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের তারা এ মন্তব্য করেন।সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। তিনি বলেন, খুলনা মডেলের কিছু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রধান প্রতিপক্ষকে মাঠ ছাড়া করা, বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, নির্বাচনের দিন জোর জবরদস্তি করা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার ভূমিকা গাজীপুরেও পালন করতে দেখা গেছে।তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ব্যাপক নির্বাচনি প্রস্তুতিও তার জয়ের পেছনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কেননা আগে থেকেই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাপক নির্বাচনি প্রস্তুতি ছিল। একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে সবগুলো এলাকা চষে বেরিয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনের আগে, বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রচারণার সময় বেশিরভাগ এলাকায় বিএনপির কর্মী স্বল্পতা এবং প্রচারণার ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে।সুজনের পক্ষ বলা হয়, ‘হঠাৎ করে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে রোজার আগে এক মাসের বেশি সময়ের জন্য নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ইফতার অনুষ্ঠানের নামে প্রার্থীরা বা তাদের পরে লোকজন বিরাট অংকের অর্থ ব্যয় করে। যার লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ধরনের টাকার খেলা বিত্তবান প্রার্থীদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সুবিধা সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। যেহেতু বিগত পাঁচ বছরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত গাজীপুরের মেয়র বিভিন্নভাবে মামলা, গ্রেফতার, বরখাস্ত এবং জেল জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। তাই গাজীপুরবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলেন। তাই ভোটারদের সামনে অঘোষিত কিছু সুস্পষ্ট বার্তা ছিল যে উন্নয়ন চাইলে সরকারি দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন প্রমুখ।
এমপিও দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক :বিভিন্ন জেলার ৪৩ জন শিক্ষিককে এমপিও দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, এসব শিক্ষকদের এমপিও পাওয়ার পথ সুগম হলো বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।এ সংক্রান্ত চারটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আজ রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।রিটকারীর আইনজীবী বলেন, বেসরকারি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকরি করলেও তারা সরকারি বেতনের অংশ (এমপিও) পাচ্ছিল না। তাই শিক্ষকগণ এমপিও পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে শিক্ষকরা পৃথক পৃথক চারটি রিট করেন। ওই রিটের শুনানিতে রুল জারি করেন আদালত। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আদালত আজ নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রায় ঘোষণা করেন।আইনজীবী জানান, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রদান ও জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা অনুযায়ী বেতন প্রদান করে থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী এমপিও প্রদানে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে এমপিও প্রদান করা হয়নি। ভুক্তভোগী বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও এমপিও না পেয়ে এসব রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর