বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
ঘূর্ণিঝড় আম্পান: প্রধানমন্ত্রীকে প্রিন্স চার্লসের চিঠি
২৯মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লস বাংলাদেশে সুপার সাইক্লোন আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রিন্স চার্লস তার ও পত্নী ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই দুঃখ প্রকাশ করেন। চার্লস চিঠিতে লিখেছেন, প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাংলাদেশে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে আমি এবং আমার স্ত্রী যে কি পরিমাণ দুঃখিত হয়েছি তা আপনাকে জানাতে চাই। প্রিন্স চার্লস বলেন, যারা হতাহত হয়েছে বা ঘূর্ণিঝড়ে যাদের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে তাদের জন্য তার এবং ক্যামিলিয়ার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। আমরা বুঝতে পারি এটা আপনার জনগণের কাছে কতটা ভয়ানক কঠিন ছিল, কেননা, এ সময় তারা একটি আনন্দঘন ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, লিখেন তিনি। চার্লস যোগ করেন, আমাদের সম্ভব সবচেয়ে বড় সমবেদনা এবং বিশেষ প্রার্থনা, আপনার কোভিড-১৯ মহামারী এবং এই ভয়াবহ তীব্র ঝড়ের ক্ষতি, উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এমন নিদারুন উদ্বেগের সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে রয়েছে। সুপার সাইক্লোন আম্পান ২০ মে বিকেলে ভারত এবং বাংলাদেশে আঘাত হানে, ফলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সূত্র: বাসস
করোনাভাইরাস: বিশ্বে মৃত্যু ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯১
২৯মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মহামারিতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯১ জনে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ লাখ ৩ হাজার ৪১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। জন হপকিন্স করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৫৭৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬১৩ জনে। গত ২১ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। জন হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী- যুক্তরাষ্ট্রে পর সংক্রমণের দিকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দেশটিতে আক্রান্ত ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৬ হাজার ৭৫৪ জন। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৯১৯ জন। এরপরেই ইতালিতে ৩৩ হাজার ১৪২, ফ্রান্সে ২৮ হাজার ৬৬৫ এবং স্পেনে ২৭ হাজার ১১৯ জন মারা গেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ২১৩টিরও বেশি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
লকডাউন শিথিলের সময় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন : সেতুমন্ত্রী
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অফিস-আদালত ও গণ পরিবহন চালুসহ লকডাউন শিথিলের সময় সরকারের দেয়া সকল শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,ইতিমধ্যে সরকার সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পালনীয় কিছু শর্ত থাকছে যেমন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জরুরী কিছু নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশবাসীকে বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি খাতসহ সকলকে শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি নিজেদের স্বার্থে। ওবায়দুল কাদের আজ বৃহষ্পতিবার তার সংসদ ভবনস্থ সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান। নিজেদের স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের দেয়া এ ছাড়ে, ফ্রি স্টাইলে চালাচল করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ক্ষতিগ্রস্থ দশটি দেশের তালিকায় থেকেও অর্থনীতির স্বার্থে লকডাউন শিথিল করেছে। জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরি, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার স্বার্থে এই লক ডাউন শিথিল করা দরকার। সরকার এজন্যই লকডাউন শিথিল করেছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জীবন-জীবিকার মাঝে সাযুজ্যবিধানের যে প্রয়াস চলছে তার থেকে বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে আমরা ইতোপূর্বে অনেক সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করেছি। ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে তার দক্ষতার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আপনারা মনোবল না হারিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন। করোনা সংকটকালে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এখন আমাদের উচিত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অদৃশ্য শত্রু করোনা মোকাবিলা করা। করোনা আমাদের কারও বন্ধু নয়, কাজেই এ সংকটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কৌশল অবলম্বন হবে আত্মঘাতী। গণপরিবহন চালু প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএ সহ বসে আলাপ-আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ করছি। গণপরিবহন পরিচালনায় যাত্রী, চালক ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। যাত্রী-মালিক শ্রমিক সকলের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মনে রাখতে হবে করোনার সংক্রমণের বিস্তার যেন না ঘটে এবং সংকটকে আরও ঘনীভূত না করে। জনস্বার্থে সরকারের দেয়া এ ছাড় ফ্রি-স্টাইলে অপপ্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণপরিবহন চালু প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, গণপরিবহন চালুতে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি সামনে এসে যায়। বেড়ে যায় উদ্বেগ। পরিবহন চালক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনও যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি। করোনার মৃৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় যাতে মৃত্যুর মিছিল দেখতে না হয় এজন্য সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
এমন বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম ও মোবাইলে টাকা পৌঁছানোর কথা কেউ কখনো ভাবেনি : তথ্যমন্ত্রী
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, মানুষ সরকারের কাছে চায়নি, কোথাও যেতে হয়নি, একটাকাও খরচ ছাড়া, কোন দেন দরবার ছাড়া, মানুষের মোবাইল ফোনে আড়াই হাজার করে টাকা চলে এসেছে। এটি কখনো কেউ ভাবেনি। ড. হাছান বলেন, ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নানাভাবে সরকারি সাহায্য-সহায়তার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। দেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় ঈদের আগে দু দফায় টাকা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে টাকা দেয়া হয়েছে। এইভাবে ত্রাণ তৎপরতা আশেপাশের কোন দেশে হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। তিনি আজ দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ হলে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া খেলোয়াড়দের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বণিক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার। হাছান মাহমুদ বলেন, এটি একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে কোটি কোটি মানুষ খেটে খায়। করোনা ভাইরাসের কারণে আজকে দুই মাসের বেশি সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় সমস্ত কর্মকান্ড বন্ধ। অনেকে অনেক শঙ্কা-আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, সেই শঙ্কা-আশঙ্কাগুলোকে মিথ্যে প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন বৃহত্তম ও সুপরিকল্পিত ত্রাণ কার্যক্রমের কারণে দেশের একজন মানুষও আল্লাহর রহমতে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি বলেন তিনি। করোনা ভাইরাস খুব সহসা পৃথিবী থেকে যাবে না বলে মনে হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন মাসের পর মাস বন্ধ করে একটি দেশ চলতে পারে না। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মাসের পর মাস বন্ধ রেখে কোন দেশ ঠিকে থাকতে পারে না। সেই কারণে উন্নত দেশ গুলোতেও আস্তে আস্তে নানা কর্মকান্ড শুরু করা হয়েছে। মানুষ কাজে ফিরে গেছে। আমাদেরকেও ধীরে ধীরে সেই কাজটি করতে হবে। তবে, মাথায় রাখতে হবে সেই কাজটি করতে গিয়ে আমরা যেন আবার জনসমাগম না করি এবং শারিরীক দুরত্বটা বজায় রাখি। হাছান মাহমুদ বলেন, কর্মকান্ড শুরু হলেও আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন থেকে শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে কাজকর্মগুলো করতে হবে। না হয় আমরা নিজেদেরকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পারবো না। মনে রাখতে হবে, আমার সুরক্ষা আমার হাতে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রায় ১ কোটি বিশ লক্ষ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যেকটি উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ছুটি শুরু হবার প্রথম সপ্তাহ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালি আংশিক এলাকায় আমার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বেছে বেছে সিএনজি, রিক্সা, জীপ ড্রাইভার, নৌকার মাঝিসহ সকল খেটে খাওয়া পেশাজীবিদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। ঈদের আগে প্রত্যেকটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে সেটি অব্যাহত থাকবে বলেন তিনি। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৬০ হাজারের বেশি মানুষের পরিবারে ত্রাণ পৌঁছে গেছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার আহ্বানে দলের নেতাকর্মীরাও অসহায় ও কর্মহীনদের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। এটি একটি অভাবনীয় ব্যাপার। আল্লাহর রহমতে রাঙ্গুগুনিয়ায় কোন হাহাকার নাই। অনেকে একাধিকবারও ত্রাণ পেয়েছেন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে খেলাধুলা বন্ধ থাকায় খেলাধুলার ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা চলে তারাও অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য শরীরচর্চাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার। সেটি এলাকার মানুষদের উদ্বুদ্ধ করবেন খেলোয়াড়রা। কিছুদিন পরে খেলাধুলোও আমাদের সীমিত আকারে চালু করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গ্গুুনিয়া খেলোয়াড় সৃষ্টি করার একটি কারখানা। এখান থেকে জাতীয় ফুটবল দলে বেশ কয়েকজন খেলেছেন এবং এখনো খেলছেন। বহু বছর ধরে রাঙ্গ্গুুনিয়ার ছেলেরা জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন। শুধুমাত্র ফুটবল নয় অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রেও রাঙ্গ্গুুনিয়ার ছেলেরা ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য তিনি এলাকার খেলোয়াড় সমিতি ও খেলোয়াড়রেদর অভিনন্দন জানাই।
দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ১৫, আক্রান্ত আরও ২০২৯ জন
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আরও আক্রান্ত হয়েছে ২০২৯ জন এবং মারা গেছে ১৫ জন। দেশে এই পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ৫৫৯ জন। আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৯ জন। এটি একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বর্তমানে এ ভাইরাসে শনাক্ত ৪০ হাজার ৩২১ জন রোগী রয়েছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪২৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন সুস্থ হয়েছে ৫০০ জন। গতকালের চেয়ে আজ ৪৮৮ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৫৪১ জন। আজ আক্রান্তে হার ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বলে তিনি জানান। নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ২৬৭টি। আগের দিন নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল ৭ হাজার ৮৪৩টি।আগের দিনের চেয়ে আজ ১ হাজার ৪২৪টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুনভাবে সিরাজগঞ্জের এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজসহ ৪৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৩১০টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৮ হাজার ১৫টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ২৯৫টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৬টি। তিনি জানান, মৃত্যুবরণকারী ১৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ জন ও নারী ৪ জন। বিভাগ বিশ্লেষণে ৭ জন ঢাকার এবং ৮ জন চট্টগ্রামের। বয়স বিশ্লেষণে ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন। এলাকাভিত্তিক হিসাবে ঢাকা সিটিতে ৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন, চট্টগ্রাম সিটিতে ২ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ২ জন, কক্সবাজারে ২ জন এবং কুমিল্লায় ২ জনসহ মোট ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ২৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪ হাজার ৯৮৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩৮ জন। এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৭০০ শয্যা। ঢাকার ভেতরে রয়েছে ৭ হাজার ২৫০টি। ঢাকা সিটির বাইরে ৬ হাজার ৩৪টি শয্যা রয়েছে। আইসিইউ সংখ্যা রয়েছে ৩৯৯টি, ডায়ালাসিস ইউনিট রয়েছে ১০৬টি। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪ হাজার ১ জন। ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৪ জন। মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ২৯৩ জন। মোট কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ১০৫ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩৭টি। ২৪ ঘন্টায় বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৬শ টি এবং এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৯২৪টি। বর্তমানে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮০৩টি পিপিই মজুদ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৮টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৬টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২০১ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ১৪ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ারর হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ১৬৯ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৫০ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫২৩ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২১৯ জন এবং এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৫৯ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৭ মে পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩১৪ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৫৮১-জন এবং এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫ জন। আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।
ট্রেন চলবে রোববার থেকে
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার (৩১ মে) থেকে ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতিটি স্টেশন ও ট্রেনে থাকবে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা। প্রথমে চলবে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন। এসব ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে, প্রতিটি ট্রেনের মোট আসনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি হবে। তবে বন্ধ থাকবে মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন। দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ৩১ তারিখ থেকে চালু হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এক্ষেত্রে প্রতিটি স্টেশনে থাকবে জীবানুনাশকের ব্যবস্থা, ট্রেনগুলোতে জীবানুনাশক স্প্রে করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। ট্রেনে যাত্রী বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার। এছাড়া আন্তঃনগর ট্রেন সমূহের টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। আসনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ৮টি রুট ছাড়া চলবে না ট্রেন। বিভিন্ন রুটে কমানো হবে ট্রেনের সংখ্যা। শুরুতে চলবে অল্প কিছু আন্তঃনগর ট্রেন। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় রেল লাইন বগি ও ইঞ্জিন ট্রেন চালানোর আগে ভালোভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য আরেকটু সময় দেয়া দরকার ছিলো বলে মন্তব্য করেন অনেক রেলকর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার নেয়া প্রাথমিক সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ৩১ মে থেকে তিনটি ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ। তিনি বলেন, শনিবার ট্রেন চলাচলের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ মে রোববার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে বনলতাসহ খুলনা এবং লালমনিরহাটগামী চিত্রা ও লালমনি ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়াও ৩ জুন বুধবার থেকে মধুমতি, কপোতাক্ষ, রুপসা, নীলসাগর ও বেনাপোল মোট ৫টি ট্রেন চলাচল করবে। এসব ট্রেন চলাচল করলে পরিস্থিতি যদি ভালো হয় তবে ১৫ জুন থেকে সকল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আর্ন্তজাতিক বিমানে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বাড়ল
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে ফের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক রুটে শিডিউল পেসেঞ্জার ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্লেন চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগের মতো বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান প্লেন চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই আদেশে সব স্বাস্থ্যবিধি ও বেবিচকের নীতিমালা অনুসরণ করে আগামী ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর এ চারটি অভ্যন্তরীণ রুটে প্লেন চলাচল করবে। তবে কার্গো, ত্রাণ-সাহায্য, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় করোনার থাবা, আক্রান্ত ৪
২৮মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) থাবা থেকে বাঁচলো না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িও। তার বাসায় কর্মরত চারজন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তবে তার পরিবারের সবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ২০০০ সালে ডেঙ্গু হয়েছিল আমার, রোজার মাসে। তখন ডেঙ্গু মানে অবধারিত মৃত্যু। সেই সাথে হলো পক্স। এমন অবস্থা মনে হলো হাতে আর দুই একদিন সময় আছে! টানা একমাস অসুস্থতার পর সুস্থ হয়ে ওঠার একদিন আগে একজন ডাক্তার বাসায় এসে বললেন ডেঙ্গু হয়নি। কে জানে কি হয়েছিলো! আরেকবার ডেঙ্গু হয়েছিল কয়েক বছর আগে, সম্ভবত ২০১৪ সালে। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো, রক্ত দিলো। আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে সুস্থ হলাম। এর মাঝে ছোট, বড়, মাঝারি আরও অসুখ-বিসুখ হয়েছে। প্রতিবার আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ হয়েছি। তিনি আরও লেখেন,করোনাকালে যতটা সম্ভব সাবধানে থাকার চেষ্টা করেছি। যদিও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম দিকে মাদ্রিদ আর জেনেভা যেতে হয়েছিলো। বিশ্ব তখনও এর ভয়াবহতা বুঝে ওঠেনি। অনেকদিন থেকেই শুনছি পরিচিত মানুষেরা পরীক্ষা করাচ্ছেন। কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি। মৃত্যুবরণ করেছেন একাধিক পরিচিত ব্যক্তি। তাই আমার বাসার সহকারী মিঠু যখন বললো বাবুর্চি মুসা আর চারজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে একজনের জ্বর তখন দেরি না করে পরীক্ষা করালাম, নিজেরসহ মোট ৯ জনের। ফলাফল এসেছে মুসা ও সেই নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ৪ জন পজেটিভ। মানে বাকি দুইজন পজেটিভ হয়েও কোনো লক্ষণ নেই। আমরা বাকিরা নেগেটিভ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লেখেন, গতকাল রাত থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাড়িতে রোগী রেখেই চিকিৎসা করাতে হবে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে হবে। কাজটা মোটেই সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমাদের সবার জন্য দোয়া করার জন্য। অসুস্থরা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠেন এবং নতুন কেউ যেন সংক্রমিত না হন। তিনি লেখেন, গত দুইমাস যেভাবে কাজ করেছি অবশ্যই চেষ্টা করবো সেভাবে বাসায় থেকে কাজ করতে। অজস্র মানুষের বিভিন্ন অনুরোধ আসে আমার কাছে প্রতিদিন, এই সময় মূলত সেটা প্রবাসীদের কাছ থেকে আর অন্যদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশেদের নাগরিকদের কাছ থেকে। এলাকার দেখভালতো আছেই। এখন আর কথা না বাড়াই। সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন। ভালো থাকুন সবাই। (একটা ছোট্ট অনুরোধ, আমার বাসার কাউকে দয়া করে শুধু খোঁজ নেবার জন্য ফোন দিবেন না। তারা সবাই মানসিকভাবে কিছুটা হলেও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য ব্যস্ত আছেন। আপনার কোনো বার্তা থাকলে তা নিচে লিখে দিতে পারেন অথবা যেকোনো মাধ্যমে সরাসরি আমার কাছে।) আল্লাহ তাআলা রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের প্রতি সদয় হউন।
শনাক্ত দেড় সহস্রাধিক, মৃত্যু ২২ জনের
২৭মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫৪১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২২ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে বুধবার (২৭ মে) এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে মঙ্গলবার ১ হাজার ১৬৬ জন শনাক্ত ও ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয় অধিদপ্তর। অবশ্য ওইদিন পরীক্ষাও তুলনামূলক কম হয়েছিল। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৬ জন। এছাড়া সেখানে মারা গেছেন ৪ হাজার ৩৪৬ জন। শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় দেশটি এখন ১০ নম্বরে অবস্থান করলেও একদিনের শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় অবস্থান করছে চার নম্বরে। এদিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৪০ জনের শরীরে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৬০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৯ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। করোনায় সবচেয়ে টালমাটাল যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৭৫ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশটিতে মারা গেছেন ১ লাখ ৫৭২ জন। তবে সেখানে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৬ জন।

জাতীয় পাতার আরো খবর