নুসরাতের খুনিরা কেউ ছাড় পাবে না
১২এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা বোরখা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার পথ দেখিয়েছে বিএনপি। শেখ হাসিনা সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন: নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউল রহমান, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল খালেদ, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস, অ্যাম্বাসেডর জমির, মশিউর রহমান, মহীউদ্দিন খান আলমগীরসহ অন্যরা।
হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখন ঢাকায়: প্রতিমন্ত্রী
১২এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য সুখবর। হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখন থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের পরিবর্তে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সম্পন্ন হবে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ তথ্য জানান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সফররত সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবের পরিবর্তে বাংলাদেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন, এখনকার নিয়মে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন করেন। আসন্ন হজেও একই নিয়মে তারা হজ ক্যাম্প ও শাহজালালে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন। এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি এক্সক্লুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় যে ইমিগ্রেশনের কাজ হতো তা ওই জোনেই হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম থাকবে সৌদি আরবের নিয়োজিত টেকনিক্যাল টিমের হাতে। দুই ধাপের ইমিগ্রেশন শেষে হজযাত্রীরা ফ্লাইটে উঠবেন। সৌদি আরবে ইমিগ্রেশনের ঝামেলা আর থাকবে না। ফলে হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা লাঘব হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঠিকমতো সম্পাদনের লক্ষ্যে এবার হজ ভিসার জন্য দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেয়ার আগেই দেশের আট বিভাগে প্রত্যেক হজযাত্রীর ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান ছাড়াও ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে: প্রধানমন্ত্রী
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। কিন্তু এই পানি অনেক সময় মানুষের জীবন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য যেন পানি আর্শীবাদ হয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস ২০১৯ উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন দেশের মানুষকে আর কখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতে না হয়। তিনি বলেন, চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই নদীর পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যেন শুকনো মৌসুমেও নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। আমাদের হাওড়-বাওড়-বিলগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে সারাবছর পানি থাকে। সেখান থেকে পানি নদীতে নেমে যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, অধিক ফসলের ফলনসহ বিভিন্ন ধরনের চিন্তা থেকে বাধ দিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করা হয় যে জলাধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বর্ষায় যখন পানি আসে, পানি নামার জায়গা পায় না। ভাঙন বেশি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজনে অনেক নদীতে ব্রিজ তৈরি করি। আমাদের প্রবণতা থাকে নদী শাসন করার। ব্রিজটা যেন ছোট হয়, সেজন্য নদীকে ছোট করা হয়। আমি এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতা পোষণ করছি। নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষাকালে যখন বেশি পানি আসে, সেই পানিকে ধারণ করার জন্য বাফার জোন রাখতে হবে। সেভাবে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। আমরা নদীকে বেঁধে ফেলি, কিন্তু নদী বাধ মানে না। সুনামি, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা দেখেছি, পানির তোড়ে সবকিছু ভেসে যায়। তাই পানিকে বেঁধে না রেখে এর চলাচলের সুব্যবস্থা করে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শতবর্ষের বদ্বীপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ডেল্টা প্ল্যানের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ২২ মার্চ পানি দিবস পালিত হলেও এবার ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় দিবসটি পালন করা যায়নি। তাই ১১ এপ্রিল দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড। পানি দিবসের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।
না ফেরার দেশে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগুনে ঝলসে দেয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে মারা যান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। লাইফ সাপোর্টও তেমন কাজ করছিল না। এরপর চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। গত মার্চে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার। মামলাটি তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষ তার অনুসারীদের দিয়ে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়া নুসরাত ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। সেখানে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে নুসরাত বলেছেন, গত শনিবার সকালে ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বোরখা পরা চার নারী তাকে মামলা তুলে নিতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় ওড়না দিয়ে তার হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মুখ ঢাকা থাকায় ওই চারজনকে চিনতে পারেননি। তবে এক পর্যায়ে তাদের একজন আরেকজনকে শম্পা নামে ডেকেছে, সেটা তার মনে আছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় ভাইয়ের করা করা মামলায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হলেন- পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এছাড়া ঘটনার সময় হাতমোজা, চশমা ও বোরকা পরিহিত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।
আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শেষ চিঠিতে বলেছিল নুসরাত
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের আগুনে ঝলসে যাওয়া ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পরে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে বাঁচতে চেয়েছিল ওই শিক্ষার্থী। সহপাঠী বান্ধবীদের উদ্দেশে হার না মেনে লড়াইয়ের কথা লিখেছিলে নুসরাত জাহান রাফি। তার লেখা শেষ চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গেল মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) রাফির বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারী সূত্র। চিঠিতে নুসরাত জাহান রাফি তার সহপাঠীদের কাছে যৌন হয়রানির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যক্ষের শাস্তি কামনা করেন। পুলিশ জানায়, তার পড়ার টেবিলের খাতায় দুই পাতার ওই চিঠি তামান্না ও সাথী নামে দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদ দৌলা গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবির মিছিলে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাফি। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও মর্মাহত হওয়ার কথা চিঠিতে লিখেছিল তিনি। চিঠিটিতে রাফি লিখেছেন, তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরও কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ ? ...আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে, তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।-আরটিভি
বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা পেছনে থাকবো না
১০এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনাদের গবেষণার ফলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে উৎকর্ষতার সুযোগ আছে তা খুঁজে বের করুন। তিনি বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, যুগের পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা পেছনে থাকতে চাই না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গবেষণার জন্য টাকা কোনো সমস্যা নয়। কারণ অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে এখন আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী। বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা অপরিহার্য। আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই গবেষণার ওপর। গবেষণার জন্য আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করতে পেরেছি। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতিকে টেকসই করতে হবে। আর একমাত্র গবেষণাই পারে তা করতে। তিনি বলেন, আমি প্রথমবার সরকারে এসে লক্ষ্য করলাম গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না, এতে কোনো বরাদ্দ দেয়া হতো না। গবেষণার জন্য বিশেষভাবে প্রণোদনা দেয়া দরকার, এটা তাদের মাথায় ঢোকেনি। আমি সরকারে এসেই তা করলাম। সে সময় আমাদের রিজার্ভ মানি ও সম্পদ কম থাকার পরও ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলাম গবেষণা খাতে। পরে এটি আরো বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন বলেই দেশের মানুষ বড় বড় বিজ্ঞানী ও গবেষক হতে পেরেছেন। নিজেদের মতো করে বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ পাচ্ছি। দেশে এক সময় এ সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবহেলিত মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়, ভালোভাবে বসবাস করতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
মাওয়ায় পদ্মা সেতুর দশম স্প্যান বসছে আজ
১০এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাওয়ায় দশম স্প্যান বসছে আজ বুধবার। সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১৩ ও ১৪ নং খুঁটির ওপর ৩নং মডিউলের ৩-এ নম্বর স্প্যানটি বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র জানায়, ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি (সুপার স্ট্রাকচার) নিয়ে রওনা হয়েছে। সকাল ৮টা ২০মিনিটের দিকে এটি রওনা হয়ে ৯টার দিকে ১৩ ও ১৪ নং খুঁটির সামনে চলে আসে। স্প্যানবাহী জাহাজটি যথাযথ স্থানে নোঙ্গর করা হচ্ছে। এরপরই স্প্যানটি খুঁটিতে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেতুর ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারের ওপর বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে দেড় কিলোমিটার। মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার তিয়ান ই ভাসমানক্রেনটি বহন করে নিয়ে যায়। ধুসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি দুপুরের মধ্যেই বসানো সম্ভব হবে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বহু প্রতিক্ষার পর অবশেষে মাওয়া প্রান্তে বসতে যাচ্ছে স্প্যানটি। যদিও পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল মাওয়া প্রান্তে। কিন্তু নদীর তলদেশের মাটি নরম থাকায় এ পারের কাজ পরে ধরা হয়। আগে তাই জাজিরায় কাজ শুরু হয়। একে একে জাজিরায় ৮টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এবার স্প্যান বসতে যাচ্ছে মাওয়ায়। তাই পদ্মার এ পারের মানুষ বেজায় খুশি। এর আগে অস্থায়ীভাবে মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটিতে একটি স্প্যান বসানো হয়। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে এটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু ৬ ও ৭ নং খুঁটি প্রস্তুত না থাকায় অস্থায়ীভাবে এটি ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয়েছে। পরবর্তীতে ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটি প্রস্তুত হবার পর এটি সরিয়ে নেয়া হবে। একই সাথে প্রথম পর্যায়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়া ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির পাইল অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার। ৭ নম্বর খুঁটিতে ৭টি পাইলই স্থাপন হয়ে গেছে। এর মধ্যে চারটি ট্যাম (খাঁজকাটা) পাইল। আর ৬ নম্বর খুঁটির ৬ ছয়টি পাইলই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি একটি পাইলও সম্পন্ন হওয়ার পথে। বাকি অংশটুকু কাল বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। এদিকে ১১ তম স্প্যান বসতে যাচ্ছে ২০ এপ্রিল জাজিরায় ৩৪ ও ৩৩ নম্বর খুঁটিতে। ৬সি নম্বর স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনাও এখন চূড়ান্ত। ৩৪ নম্বর খুঁটিতে লেফটিং ফ্রেম (স্প্যান ঝুলিয়ে রাখার যন্ত্র) বসানো হচ্ছে এখন। পদ্মা মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলে থাকবে মোট ৪২টি খুঁটি। যার মধ্যে নদীর মধ্যে ২৬২টি পাইল। মূল সেতুর ২৯৪ টি পাইলের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৪৭ টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে। এসব খুঁটির ওপরে ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। ইতোমধ্যেই ৯টি স্প্যান বসে গেছে। ৪২টি খুঁটির মধ্যে ২২টি খুঁটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে আরও ১০টি খুঁটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাই ক্রমশঃ সেতু দৃশ্যমান হতে চলেছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ
৯এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বন্দর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক আবেদনের শুনানিতে আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১৯ মে দিন নির্ধারণ করেছেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হাঠৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আমরা আজকে একটা আবেদন করেছিলাম। শুনানিতে আমরা প্রার্থনা করেছিলাম যে, আগে যে আদেশ দেয়া হয়েছিল সেখানে ডেপুটি কমিশনারসহ আরও পাঁচ বিবাদীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, যে জায়গাগুলোতে এখন অবৈধ স্থাপনা আছে সে জায়গাগুলো মূলত বন্দরের। বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটা নির্দেশ দেয়ার জন্য আমরা প্রার্থনা করেছিলাম। দীর্ঘ শুনানি শেষে বন্দরের চেয়ারম্যান ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো জরিপ প্রতিবেদন ও আরএস অনুসারে উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে আদালত।
উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালকদের যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
৯এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আবাদি জমি, ক্ষুদ্রচাষি ও বর্গাচাষিদের জমি পারত পক্ষে না নেওয়ার নির্দেশনাই ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যতটা সম্ভব জমি না অধিগ্রহণ করেই উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। যদি একান্তই না পারেন তবে ভূমির দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে এবং যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই অধিগ্রহণ করবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, শিল্পায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ান সম্ভব নয়। তবে শিল্পায়নের নামে অবাধে আবাদি জমি অধিগ্রহণ করবেন না। তবে জাতীয় স্বার্থে একান্ত বাধ্য হয়ে তা যদি করতে হয়, তাহলে জমির মালিককে কয়েকগুণ দাম এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই তবে নিতে হবে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ বিষয়ের (আবাদি জমি) উপর জোরালো নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় থেকে দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশ দেন। বৈঠকে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অথনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পসহ মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক। মোট ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলতি অর্থবছরের ২০তম একনেক সভায় এ প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে আখাউড়া সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন ও অডিটোরিয়াম নির্মাণ।

জাতীয় পাতার আরো খবর